আশুরার রোজার তাৎপর্য ও ফযিলত




আশুরার দিনের রোজা আবশ্যক না হলেও এটি অনেক ফযিলতপূর্ণ, এমনকি সাহাবায়ে কেরাম উনাদের ছোট বাচ্চাদেরকেও এই রোজা রাখাতেন।

যে বছর মু‘আবিয়া (রঃ) হজ্জ করেন সে বছর ‘আশুরার দিনে (মসজিদে নববীর) মিম্বরে হুমাইদ রঃ তাঁকে বলতে শুনেছেন যে, হে মদীনা বাসিগণ! তোমাদের ‘আলিমগণ কোথায়? আমি রসূলুল্লাহ্ ﷺ কে বলতে শুনেছি যে, আজকে ‘আশুরার দিন, আল্লাহ তা‘আলা এর রোজা তোমাদের উপর ফরজ করেননি বটে, তবে আমি (আজ) রোজা পালন করছি। যার ইচ্ছা সে সওম পালন করুক, যার ইচ্ছা সে পালন না করুক। (সহীহ বুখারী ২০০৩)

রসূলুল্লাহ্ ﷺ-কে আশুরার দিনে রোজা রাখা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে উত্তরে তিনি বলেন, “তা বিগত এক বছরের গুনাহ মোচন করে দেয়।” (সহীহ মুসলিম ১১৬২, মুসনাদে আহমাদ ২২০২৪)

রুবায়্যি‘ বিনতু মু‘আব্বিয রঃ বলেন, ‘আশুরার সকালে রসূলুল্লাহ্ ﷺ আনসারদের সকল পল্লীতে এ নির্দেশ দিলেনঃ যে ব্যক্তি রোজা পালন করেনি সে যেন দিনের বাকি অংশ না খেয়ে থাকে, আর যার রোজা অবস্থায় সকাল হয়েছে, সে যেন রোজা পূর্ণ করে। তিনি (রুবায়্যি রঃ) বলেন, পরবর্তীতে আমরা ঐ দিন রোজা পালন করতাম এবং আমাদের শিশুদের রোজা পালন করাতাম। আমরা তাদের জন্য পশমের খেলনা তৈরি করে দিতাম। তাদের কেউ খাবারের জন্য কাঁদলে তাকে ঐ খেলনা দিয়ে ভুলিয়ে রাখতাম। আর এভাবেই ইফতারের সময় হয়ে যেত। (সহীহ বুখারী ১৯৬০)

সূনান আত তিরমিজির ৭৫৫ নং হাদিসে মুবারকায় রয়েছে, ইবনু আব্বাস (রঃ) বলেন, তোমরা নয় ও দশ (এই দুই দিন) রোযা পালন কর এবং (এই ক্ষেত্রে) ইয়াহুদীদের বিপরীত কর (অথবা দশ ও এগার)।

আশুরার রোজার তাৎপর্যঃ

প্রিয় নবী ﷺ মদিনায় এসে দেখতে পেলেন ইয়াহূদীরা ‘আশুরা দিবসে রোজা পালন করে। তাদেরকে রোজা পালনের কারণ জিজ্ঞেস করলে তারা বলল, এদিনই আল্লাহ্ তাআ'লা মূসা (আলায়হিস সালাম) ও বনী ইসরাঈলকে ফিরাউনের উপর বিজয় দিয়েছিলেন। তাই আমরা ঐ দিনের সম্মানে রোজা পালন করি। রাসূলুল্লাহ্ ﷺ বললেন, তোমাদের চেয়ে আমরা মূসা (আলায়হিস সালাম)-এঁর বেশি নিকটবর্তী/ হকদার। এরপর তিনি রোজা পালনের নির্দেশ দিলেন। (সহীহ বুখারী ৩৯৪৩)

অন্য বর্ণনায় রয়েছে, তারা বলল, এটি (আশুরা) একটি মহান দিবস। এ এমন দিন যে দিনে আল্লাহ্ মূসা (আঃ)-কে নাজাত দিয়েছেন এবং ফির‘আউনের সম্প্রদায়কে ডুবিয়ে দিয়েছেন। অতঃপর মূসা (আঃ) শুকরিয়া হিসেবে এদিন রোজা পালন করেছেন। তখন নবী ﷺ বললেন, তাদের তুলনায় আমি হলাম মূসা (আঃ)-এঁর অধিক নিকটবর্তী। কাজেই তিনি নিজেও এদিন রোজা পালন করেছেন এবং এদিন রোজা পালনের নির্দেশ দিয়েছেন। (সহীহ বুখারী ৩৩৯৭)

মুসলিমের বর্ণনায় রয়েছে,

আবূ মূসা রঃ বলেন, ইয়াহুদী সম্প্রদায় আশুরা দিবসের সম্মান প্রদর্শন করত এবং তারা এ দিনকে ঈদ বলে গণ্য করত। অতঃপর রসূলুল্লাহ্ ﷺ বলেন, তোমরাও এ দিনে রোজা পালন কর। (সহীহ মুসলিম ২৫৫০)
Previous Next

نموذج الاتصال