কিতাবঃ আহকাম-ই-শরীয়ত ২য় খন্ড [মূলঃ আ'লা হযরত রহ.]
💠 মাসআলা-১: মাগরিবের সময় কতটুকু থাকে আর কত সময় পর্যন্ত দেরী করা যায়। যায়দ ও আমরের কথার সত্যায়িতা কতটুকু? লালিমার পর যে শুভ্রতা থাকে সে সময় কোন ব্যক্তি মাগরিবের নামায আদায় করলে জায়েয হবে কি না? মাকরূহ ব্যতীত কতক্ষণ পর্যন্ত পড়া জায়েয?
এ মাসআলার ব্যাপারে আলেমে দ্বীনগণ কী বলেছেন? যায়দের উক্তি মাগরিবের সময় খুবই কম, তাই মাগরিবের নামাযে ছোট সূরা পড়া হয় আর পরে দু'রাকাআত সুন্নাত এবং নফল পড়ার সময় থাকে না অথবা পাঁচ ছয় মিনিট বাকী থাকে।
আমর বলল- মাগরিবের নামায প্রথম ওয়াক্তে পড়া এবং ছোট সূরার মাধ্যমে পড়া মুস্তাহাব।
মাগরিবের সময় যতক্ষণ পর্যন্ত না আকাশে লালিমা থাকে এবং আধ ঘন্টার চেয়ে সময় বেশি থাকে। কাজেই আবেদন হল-মাগরিবের সময় কতটুকু থাকে আর কত সময় পর্যন্ত দেরী করা যায়। যায়দ ও আমরের কথার সত্যায়িতা কতটুকু? লালিমার পর যে শুভ্রতা থাকে সে সময় কোন ব্যক্তি মাগরিবের নামায আদায় করলে জায়েয হবে কি না? মাকরূহ ব্যতীত কতক্ষণ পর্যন্ত পড়া জায়েয? বিস্তারিত বর্ণনা করুন, প্রতিদান দেয়া হবে।
জাওয়াবঃ যায়দের মূল কথাই ভুল। সে তার স্বভাব অনুযায়ী এ কথা বলেছে। সে সন্দেহ প্রবণ হয়ে বলছে পাঁচ অথবা ছয় মিনিট আরো অবশিষ্ট থাকে, এ সব তার ধারণাপ্রসূত মাত্র, যেগুলো শরীআতের কর্মকান্ডে ব্যবহার করা হারাম। বরং মাগরিবের সময় শুভ্রতা ডুবে যাওয়া পর্যন্ত থাকবে। যা পশ্চিম দিকে উত্তর দক্ষিণে লম্বালম্বিভাবে প্রভাতের ন্যায় উদ্ভাসিত হয়। এরূপ না হয়ে বরং উপরে আসমানের দিকে লম্বাভাবে সূবহি কাযিবের মত অবশিষ্ট থাকলে তা ধর্তব্য হবে না। সূর্য ডুবে যাওয়া থেকে এ আলোকিত সূভ্রতা এ শহরে কম পক্ষে এক ঘন্টা আটার মিনিট সময় থাকে। বেশি হলে ১ ঘন্টা পঁয়ত্রিশ মিনিট। আটার থেকে পঁয়ত্রিশ মিনিট পর্যন্ত সময় পরিবর্তন হয়ে থাকে। কোন কোন দিনে সূভ্রতা ১ ঘন্টা আটার মিনিট আবার কোন কোন দিনে ১ ঘন্টা ঊনিশ মিনিট, কোন সময় পঁয়ত্রিশ মিনিট পরে ডুবে যায়।
রাদ্দুল মুখতার কিতাবে আছে,
الشَّفَقَ هُوَ الْحَمْرَةُ عِنْدَهُما وَبِهِ قَالَت الثلثةَ وَإِلَيْهِ رَجَعُ الامامَ والمَحقَّقُ في الفتح بانه لا يساعده رواية ولادراية الخ وقال تلميذه العلامة قاسم في تصحيح القدوري أن رجوعه لم يثبت لما نقله الكافة مِنْ لَدُنْ الائمة الثلثة الى الْيَوْمِ مِنْ حِكَايَةِ القُولِين ودعوى عمل عامة الصحابة بخلافه خلاف المنقول قال فى اختيار الشفق البِيَاضُ وَهُوَ مُذْهَبَ الصِّدِّيقِ الخ.
হ্যাঁ, মাগরিবের নামায তাড়াতাড়ি পড়া মুস্তাহাব আর কোন ওযর ব্যতিত দু'রাকাআত পরিমাণ সময় দেরি করা মাকরুহে তানযীহ হবে। অর্থাৎ উত্তমতার বিপরীত, দুররুল মুখতার কিতাবে আছে-
نمر والْمُسْتَحَب التعجيل في المغرب مطلقا وتاخير قدر ركعتين يُكْرَهُ تَنْزِيها.
আর কোন ওযর ছাড়া এতটুকু দেরি করা যার কারণে তারকারাজি প্রকাশিত হয়ে যায়, তাহলে মাকরুহে তাহরিমী এবং গুনাহ হবে। উক্ত কিতাবে আরো আছে,
وَالْمَغْرِبَ إِلَى اشْتِبَاكِ النَّجَوْمِ أَمِي كَثْرَتِهَا كَرِهَ تَحْرِيمًا إِلَّا بِعَشْرِ
💠 মাসআলা-২: যাকাতের ব্যাপারে
ওলামায়ে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের মতে নিম্নলিখিত মাসআলা সমূহের হুকুম কি?
(ক) স্বর্ণালংকার অথবা রৌপ্যালংকার যা প্রতিদিন ব্যবহৃত হয় অথবা রেখে দেওয়া উভয়ের উপর যাকাত দিতে হবে কি?
(খ) যে সময় অলংকার বানায় ওই সময়ের মূল্য নাকি বর্তমান বাজারের মূল্য অনুপাতে যাকাত দিতে হবে?
(গ) যে টাকা ব্যবসায় তথা সঞ্চয়পত্র বা ভাড়ার কাজে খাটানো হয় তার উপর যাকাত কি হিসাবে দেবে?
(ঘ) শতে কি পরিমাণ যাকাত প্রদান করা হবে?
(ঙ) যাকাতের টাকা কোন কাজে মুশরিক, ওহাবী, রাফেযী, কাদিয়ানী প্রমুখকে দেয়া যাবে কি না?
(চ) যাকাত কাকে দেওয়া উত্তম? ভাই-বোন, পিতা-মাতা, যে সাহেবে নিসাব নয় তাদেরকে দেওয়া যাবে কিনা?
(ছ) ছাপ্পান্ন রূপিয়া যে ব্যক্তির নিকট থাকে সে সাহেবে নিসাব হয়, সে যাকাত হিসেবে কি দেবে?
(জ) কোরবানী কার উপর আবশ্যক, কোরবানী করা ওয়াজিব নাকি ফরয?
(ঝ) কতেক মুসলমান ইদানিং ভারতের মধ্যে গাভী দ্বারা কোরবানী করাকে মুশরিকদের সন্তুষ্টার্থে নিষেধ করে বলে যে, ছাগল দিয়ে কোরবানী কর। কোন ধরনের পশু কোরবানী করা হবে? বিস্তারিত বর্ণনা করুন, প্রতিদান দেয়া হবে।
জাওয়াবঃ
(ক) অলংকারের যাকাত দিতে হবে, সর্বদা তা ব্যবহার করুক বা না করুক। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(খ) স্বর্ণের পরিবর্তে স্বর্ণ এবং রৌপ্যের পরিবর্তে রৌপ্য যাকাত দেওয়া হবে। তখন বাজার দরের কোন প্রয়োজন থাকে না, পরিমাপ করে চল্লিশ ভাগের এক ভাগ যাকাত দিবে। হ্যা যদি স্বর্ণের পরিবর্তে রৌপ্য এবং রৌপ্যের পরিবর্তে স্বর্ণ দেওয়া প্রয়োজন হয় তাহলে বাজার দরের প্রয়োজন হবে। বানানোর সময়ের দর ধৈর্তব্য হবে। আদায় করার মুহুর্তে নয়। আদায় করাটা বৎসরের শুরুতে হোক বা পরে হোক। বরং যে সময় সেই ইহার মালিকে নিসাব হয়েছিল ওই আরবী মাস, তারিখ এবং সময় আসবে ইহার যাকাত দেওয়া বছর পরিপূর্ণহবে। সেই সময়ের বাজার দর ধরা হবে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(গ) বছর পরিপূর্ণ হলে বাজারের নিয়মানুযায়ী তার এই ব্যবসায়ী মালের মূল্য হিসাব করে তার চল্লিশ ভাগের এক ভাগ যাকাত দিতে হবে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(ঘ) শতে আড়াইয়াংশানুপাতে দেয়া সহজতর। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(ঙ) তাদেরকে যাকাত দেওয়া হারাম, আর যদি তাদেরকে দেওয়া হয় তাহলে যাকাত আদায় হবে না। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(চ) যাকাত দাতার উর্ধতন পুরুষ তথা মা, বাপ, দাদা, দাদি, নানা, নানি এবং অধস্তন পুরুষ তথা নাতি-নাতনি ও পতিদেরকে যাকাত প্রদান করবে না, আর যদি ভাই বোন যাকাত খাওয়ার মত হয়, তাহলে তাদেরকে যাকাত দেওয়া উত্তম। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(ছ) ছাপ্পান্ন রূপীয়ার চল্লিশ ভাগের এক ভাগ। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(জ) মালিকে নিসাব যে প্রয়োজনীয় চাহিদা ব্যতিত ছাপ্পান্না রূপিয়া সম্পদের মালিক হয় তার উপর কোরবানী ওয়াজিব। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(ঞ) মুশরিকদের খুশির জন্য গাভী দ্বারা কোরবানী করা বন্ধ করে দেওয়া হারাম, একেবারে হারাম। যে ব্যক্তি তা করবে সে জাহান্নামের কটিন শাস্তিযোগ্য হবে এবং কিয়ামতের ময়দানে মুশরিকদের সাথে তাকে এক রশিতে বাধা হবে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলা-৩: যে ব্যক্তির যিম্মায় দশ বা বার অথবা চৌদ্দ বছরের নামায কাযা হয়েছে সে কিভাবে পূর্ণ করবে? সহজ পদ্ধতি বলে দিন। নিয়্যাত কিরূপ? বিতরের নামায কাযা পড়তে হবে কি না?
হে আলেমে দ্বীনগন এবং ফকীহগন এ মাসআলার ব্যাপারে কি বলেন? যে ব্যক্তির যিম্মায় দশ বা বার অথবা চৌদ্দ বছরের নামায কাযা হয়েছে সে কিভাবে পূর্ণ করবে? সহজ পদ্ধতি বলে দিন। নিয়্যাত কিরূপ? বিতরের নামায কাযা পড়তে হবে কি না? বিস্তারিত বর্ণনা করুন, প্রতিদান দেয়া হবে।
জাওয়াবঃ কাযা নামায দিনে বিশ রাকাআত হয়ে থাকে। দু'রাকাআত ফযরের ফরয, চার রাকাআত যোহরের ফরয, চার রাকাআত আসরের ফরয, তিন রাকাআত মাগরিবের ফরয, চার রাকাআত এশার ফরয এবং বিতরের তিন রাকাআত। কাযা নামায আদায় করার সময় এ নিয়্যত করা আবশ্যক যে, আমি সর্ব প্রথম অথবা সর্ব শেষে ফযরের নামায, যা আমার উপর কাযা হযেছে। অথবা যা আমি সর্ব প্রথম বা সর্বশেষ যোহরের নামায যা আমি আদায় করি নি। এভাবে প্রত্যেক নামাযের নিয়্যত করবে। আর যাদের কাছে কাযা নামায বেশি হয় সহজের জন্য যদি এভাবে আদায় করে যে, প্রত্যেক রুকু এবং সিজদার মধ্যে তিন বার সুবহানাকা রাব্বিআলা আ'লা, সুবহানা রাব্বীয়াল আযীম এর স্থানে শুধু এক বার বলবে। কিন্তু এটা সর্বদায় প্রত্যেক নামাযের মধ্যে স্বরণ রাখতে হবে যে, যখন মানুষ রুকুর মধ্যে পুরাপুরি চলে যাবে, তখন সুবহানা'র সীনকে আরম্ভ করবে আর যখন আজীম'র মীম শেষ করবে সেই সময় রুকু থেকে মাথা উঠাবে। তেমনিভাবে সিজদার মধ্যেও করবে। একজন অধিক কাযাকারী ব্যক্তির জন্য সহজতর পদ্ধতি এটাই। দ্বিতীয় সহজতর পদ্ধতি হল যে, প্রত্যেক তিন রাকাআত এবং চার রাকাআত বিশিষ্ট ফরয নামাযের তৃতীয় এবং চতুর্থ রাকাআতে আলহামদু শরীফ পড়ার স্থানে শুধু সুবহানাল্লা তিনবার পড়ে রুকুতে চলে যাবে। কিন্তু বিতরের তিনো রাকাআতে 'আলহামদু' এবং সূরা উভয়টি পড়তে হবে। তৃতীয় সহজতর পদ্ধতি হল এ যে, পরিশেষে التحيات এর পরে দরুদের এবং দোয়ার উভয় স্থানে শুধুমাত্র
اللهم صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَ آلِهِ
পড়ে সালাম ফিরায়ে ফেলবে। চতুর্থ সহজতর পদ্ধতি হল এ যে, বিতর নামাযের মধ্যে দোআ কুনুতের স্থানে الله اكبر বলে শুধু একবার বা তিন বার رَبِّ اغْفرلی বলবে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলা-৪: ইদ্দতের ব্যাপারে
এ মাসআলায় পবিত্র শরীআতের কি হুকুম যে, তিন হাকিকী ভাই এক জায়গায় বসবাস করে। কিছু দিন পর তিন ভাই পৃথক হয়ে গেল। দুই ঘরের দরজা একস্থানে রইল, তৃতীয় জনের দরজা পৃথক করে অন্য দিকে বানায়েছে। কিন্তু সেস্থানে আসা যাওয়া করার পথ রয়েছে একটি- যার কারণে তিন ভাইয়ের স্থান এক মনে হয়। এ জানালা যুক্ত ঘরের বাসিন্দা ইন্তিকাল হয়ে গেল। অতপর মরহুমের স্ত্রী ইদ্দত পালনের সময়ে ঐ জানালা দিয়ে পিছনস্থ উভয় ঘরের মধ্যে যেতে পারবে কিনা আর পিছনস্থ উভয় ঘরের মালিকেরও মৃত্যু হয়ে গিয়েছিল। বিস্তারিত বর্ণনা করুন, প্রতিদান দেয়া হবে।
জাওয়াবঃ মৃত ব্যক্তির বসবাসের স্থান ওটাই ছিল বিধায় স্ত্রী সেই ঘরের মধ্যেই ইদ্দত পূর্ণ করবে। জানালা উভয় ঘরকে এক করতে পারবে না। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলা-৫: যায়েদের পিছনে নামায পড়া জায়েয হবে নাকি হবে না?
এ মাসআলার ব্যপারে আলেমে দ্বীনগণ কি মন্তব্য করেছেন যে, যায়েদ এক মেয়েকে বিবাহ করার পর জানতে পারল যে, মেয়েটি কঠিন রোগে আক্রান্ত আর সন্তান ধারণ করা একেবারে সাধ্যের বাইরে আর কাজ কর্ম সম্পাদন করতে একেবারে অক্ষম। দু'বৎসর পর্যন্ত যায়েদ নিজের স্ত্রীর চিকিৎসা করল, কিন্তু কোন ধরনের পরিবর্তন হয়নি। অপারগ হয়ে যায়েদ আরেকটি বিবাহ করল। প্রথম স্ত্রীর পিতা-মাতা তাদের মেয়েকে তাদের ঘরে নিয়ে গেল আর যায়েদ ওখানে যেতে অস্বীকার করতঃ অনেক বার যায়েদ তার স্ত্রীকে আনার জন্য গিয়ে বহু অনুরোধ করলো। প্রথম স্ত্রীর পিতা-মাতারা কিছুতেই রাজি হলনা। যায়েদ তাকে আনার জন্য চেষ্টার মধ্যে ছিল। এমতাবস্থায় যায়েদের পিছনে নামায পড়া জায়েয হবে নাকি হবে না? বিস্তারিত বর্ণনা করুন, প্রতিদান দেয়া হবে।
জাওয়াবঃ যদি ও বা এই ঘটনা বাস্তব সত্য। তারপরও যায়েদের অপরাধ কি? তার পিছনে নামায পড়া নির্ঘাত জায়েয। যদি ইমামতের শর্তসমূহ পাওয়া যায়। আল্লাহ তাআলা বলেন,
لا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْر اخرى
কোন বোঝা বহনকারী আত্মা অপর আত্মার বোঝাকে বহন করবে না। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলা-৬: পিতৃপরিচয় হীন ব্যক্তির পেছনে নামায জায়েয হবে কি না?
আলেমে দ্বীনগণ এ মাসআলার ব্যাপারে কি বলেন যে, যায়েদ এক বাজারী নষ্ঠা মহিলার ছেলে। ছোট বেলা থেকে যায়েদের জোঁক আলেম হওয়ার প্রতি ছিল। পরিশেষে সে আলেমেও হলেন, এখন কথা হলো তার পেছনে নামায জায়েয হবে কি না? কেননা তার পিতার কোন পরিচয় নেই, কে তার পিতা কোন পাত্তা নেই? বিস্তারিত বর্ণনা করুন, প্রতিদান দেয়া হবে।
জাওয়াবঃ নামায জায়েয হওয়ার ব্যাপারে কোন কথা নেই বরং সে যদি আলেম হয় এবং সুন্নী আকীদাধারী হয় তাহলে তার পিছনে নামায নিষেধ হবার কোন কারণ নেই। সে ইমামতি করার হকদার, যখন উপস্থিতির মধ্যে তার চাইতে বেশি কারো কাছে শরয়ী মাসআলার জ্ঞান না থাকে। যেমন দুররুল মুখতার ও অন্যান্য গ্রন্থে রয়েছে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলা-৭: কোন খাবারের দাওয়াত সুন্নাত, আর কার খাবারের দাওয়াত বাদ দিতে হয়। আর কোন দাওয়াত গ্রহণ না করা গুনাহ?
এব্যাপরে শরীআতের কি হুকুম? কোন খাবারের দাওয়াত সুন্নাত, আর কার খাবারের দাওয়াত বাদ দিতে হয়। আর কোন দাওয়াত গ্রহণ না করা গুনাহ? বিস্তারিত বর্ণনা করুন, প্রতিদান দেয়া হবে।
জাওয়াবঃ অলীমা (বৌভাতা)'র দাওয়াত কবুল করা সুন্নাতে মুয়াক্কাদা। যখন সেখানে গুনাহের কাজ না হয় আর অপরাধমূলক কাজ না হয় আর শরীআতের কোন বাঁধা না থাকে। ওখানে গিয়ে আহার গ্রহণ করা না করার স্বাধীনতা রয়েছে। সাধারণ দাওয়াত কবুল করা উত্তম, যখন সেখানে কোন শরীআতের বাঁধা না থাকে আর সেটার চাইতে বেশি গুরুত্বপূর্ণ কাজ না থাকে। বিশেষকরে কেউ দাওয়াত করলে কবুল করা না করার স্বাধীনতা রয়েছে। রাদ্দুল মুখতারে আছে,
دعى الى وليمة هى طعامُ العُرْسِ وقيل الوليمة إسم لكل طعام وفي الهندية عن التمرتاشي اختلف في إجابة الدعوى قال بعضهم واجبة لا يسع تركها وقال العامة هي سنة والافضل ان يُجِيبُ اذا كانت وليمة والآفهو مخير و الاجابة أفضل لأن فيها ادخال السرور في قلب المؤمن واذا اجاب فعل ما عليه اكل اولا والافضل ان ياكل لو غير صائم وفي البناية اجابته الدعوة سنة وليمة أو غيرها واما دعوة يقعد بها التطاول او انشاء الحمد اوما اشبَهَهُ فَلا يَنْبَغِى إجابتها لاسيما اهل العلم ان ملخصا وفي الاختيار وليمة العرس سنة قديمة أن لم يجبها أثم وجفا لأنه استهزاء بالمضيف اه ومقتضاه انها سنة مؤكدة بخلاف غيرها وصرح شراحالهدية بانها قريبة من الواجب وفي التاتارخانية عَنِ الْيُنابِع لَوْدُعى الى دعوته فالواجب الاجابة إن لم يكن هناك معصية ولا بدعة والامتناع اسلم فى زماننا الا إذا علم يقيناً ان لا بدعة ولا معصية اه والظاهر حمله على غير الوليمة لما مرتامل اه
'অলীমা তথা শাদীর খাদ্যের দিকে দাওয়াত দেয়া যায়। কেউ কেউ বলেন- যে কোন খাদ্যকে বলা হয়। তামারতাসী থেকে হিন্দিয়াতে রয়েছে, এদাওয়াত গ্রহণের ব্যাপারে মতানৈক্য আছে। কতেক আলেম বলেছেন-তা ওয়াজিব, ত্যাগ করার সুযোগ নেই। অধিকাংশ ওলামায়ে কেরাম বলেছেন, তা সুন্নাত। অলীমা হলে কবুল করা উত্তম, অন্যথায় ইখতিয়ার রয়েছে। তবে মুমিনের অন্তরে আনন্দ যোগায় বিধায় তা কবুল করা উত্তম। কবুল করার পর খানা গ্রহণ করা না করা ইচ্ছাধীন বিষয়। রোযাদার না হলে খানা গ্রহণ করা উত্তম। বেনায়া গ্রন্থে রয়েছে-অলীমা বা অন্য অনুষ্ঠানে দাওয়াত কবুল করা সুন্নাত। যে অনুষ্ঠানে অহংকার, খোদপ্রশংসা বা ইত্যাদি থাকে তাতে হাজির হওয়া বিশেষ করে আলেম সমাজের জন্য উচিত নয়। শাদীর অলীমা গ্রহণ করা সুন্নাতে ক্বাদীমা। মেযবানের প্রতি অবজ্ঞা হওয়ার কারণে দাওয়াত কবুল না করলে গুনাহগার ও তার প্রতি জুলুম হবে। মূলতঃ তা সুন্নাতে মুয়াককাদা, অন্যান্য অনুষ্ঠান তার বিপরীত। হেদায়ার ব্যাখ্যাকারগণ উহাকে ওয়াজিবের নিকটবর্তী বলেছেন। তা-তারখানীয়াতে রয়েছে-এরূপ দীওয়াতে সাড়া দেওয়া ওয়াজিব; যদি কোন পাপ ও বিদয়াত কর্ম না চলে। বর্তমানে তা থেকে বিরত থাকাই নিরাপদ; তবে যদি বিদয়াত ও পাপ কর্ম থেকে মুক্ত হলে অসুবিধা নেই। এটা অলীমা ব্যতিত অন্যান্য অনুষ্ঠানের উপর প্রযোজ্য। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলা-৮:
আলেমেদ্বীনগন এবং শরীআতের মুফতীগণ! কি বলেন, নিম্মলিখিত মাসআলার ব্যাপারে-
(الف) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মে'রাজের রাতে বুরাকে আরোহন করার সময় আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে এই ওয়াদা নিলেন যে, কিয়ামতের দিন যখন লোকেরা নিজ নিজ কবর সমূহ থেকে উঠবে তখন প্রত্যেক মুসলমানদের কবরে এক একটি বুরাক পাঠাবেন। যেমনি ভাবে আজকে আমার জন্য পাঠানো হয়েছে, এই বিষয়টা ঠিক নাকি বেঠিক? কেননা তা থাকেন। معارج النبوة কিতাব থেকে লোকেরা বর্ণনা করে
(مُعارج النبوة (ب কিতাবটি কোন ধরনের কিতাব এবং তার মুসান্নিফ (রাঃ) আহলে সুন্নাতের মুহাক্কিক আলেম ছিলেন কিনা?
(ج) বেশ্যা মহিলা- যার আয় শুধু হারামের উপর তার ঘরে মিলাদ শরীফ পড়া এবং তার হারাম আয় থেকে পাকানো শিরনীতে ফাতিহা দেওয়া জায়েয কিনা?
(د) মিলাদ শরীফের মজলিসে মিলাদ শরীফের বর্ণনার পর ইমাম হুসাইন রাদ্বি আল্লাহ তাআলা আনহু'র আলোচনা এবং কারবালার ঘটনা বলা জায়েয আছে কিনা?
(ه) খাতুনে জান্নাত বতুলে যোহরা রাদ্বি আল্লাহ তাআলা আনহা সম্পর্কে এরূপ বর্ণনা করা যে, রোজ হাসরে তিনি আপাদ মস্তক বিবস্ত্র প্রকাশিত হবে। আর ইমাম হুসাইন এবং ইমাম হাসান রাদ্বি আল্লাহ তাআলা আনহুমার রক্তমাখা বিষযুক্ত পোষাক কাঁধের উপর নিয়ে এবং নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া ওয়াসাল্লামের দাঁত মোবারক- যেটা উহুদের ময়দানে শহীদ হয়েছিল তা হাতে নিয়ে আল্লাহ তাআলার দরবারে উপস্থিত হবেন এবং আরশের পা ধরে নাড়া দিয়ে রক্তের বদলায় গুনাহগার উম্মতের গুনাহ ক্ষমা করাবেন।
(و) মিলাদ শরীফ পড়ার পূর্বে নির্ধারণ করে দেওয়া যে, এক টাকা দিলে পড়াব; এর চেয়ে কম দিলে পড়াব না। ব্যবসায়িক নিয়তে এরূপ বলা জায়েয কিনা?
(ز) হুযুর আকদাস সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মে'রাজ রাত্রিতে আল্লাহর আরশের উপর জুতা মোবারকসহ নিয়ে যাওয়ার কথাটা সহীহ কিনা?
(ح) রাফেজীরা মহররম মাসে শাহাদতের আলোচনা, কারবালার শহীদগণের মুসীবতসমূহ স্মরণ করতঃ মর্জিয়া, শোকগাঁথা- বিরহের কবিতা আবৃতি করা জায়েয কিনা?
(ط) বর্ণনা করা হয় যে, মে'রাজের বাত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সম্মানিত পিতা-মাতা রাদ্বি আল্লাহু আনহুমাকে শাস্তিরত দেখানো হলো। আল্লাহ তাআলা আহবান করেন- হে আমার হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আপনার পিতা-মাতা অথবা আপনার উম্মত ব্যাপারে ক্ষমা চান। তিনি আপন মাতা-পিতাকে ছেড়ে উম্মতকে ইখতিয়ার করলেন, এই কথা শুদ্ধ কিনা?
(ى) যায়দ উল্লেখিত প্রশ্নোত্তর জেনে যদি নিজে উপরে উল্লেখিত কথা ও কর্মসমূহ থেকে ফিরে না আসে এবং তাওবা না করে বরং সে উত্তরগুলোকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে। যদি এ আলোচনা-সমালোচনা চালু রাখে তার মাধ্যমে মিলাদ পড়ানো জায়েয হবে কিনা? বিস্তারিত বর্ণনা করুন, প্রতিদান দেয়া হবে।
জাওয়াবঃ
(الف) ঘটনাটির ভিত্তি নেই।
(ب) সুন্নী ওয়ায়েজ ছিল। কিতাবে ভাল-মন্দ সব কিছুর সংমিশ্রণ হয়েছে।
(ج) এরূপ সম্পদের শিরনীর উপর ফাতিহা করা হারাম। যতক্ষণ না সম্পদ পরিবর্তন করতঃ মজলিসের আয়োজন করে। এই ব্যক্তি কোন ভাল খেয়ালে কাজ করতে চাইলে সে করতে পারবে আর তার জন্য কোন স্বাক্ষীর প্রয়োজন নেই। যদি সে বলে যে, আমি কর্জ করে এই মাহফিল করেছি এবং সেই কর্জ আমার হারাম সম্পদ থেকে আদায় করেছি। তাহলে তার কথা গ্রহণযোগ্য হবে। যেমনিভাবে রয়েছে হিন্দিয়া ইত্যাদি গ্রন্থে। যদি শিরনী নিজের হারাম সম্পদ থেকেই ক্রয় করে। আর কেনার সময় অদল-বদল করে দেয় অর্থাৎ হারাম টাকা দেখায়ে তার বিনিময় বস্তু দিয়ে ক্রয় করে তাহলে এ শিরনী গ্রহণযোগ্য অভিমতানুসারে হারাম হবে না। যে শিরনী যেনা বা গান-বাজনার বিনিময় দ্বারা ক্রীত অথবা সে অবৈধ কাজের হোতাদের নিকট তুহফা হিসেবে প্রেরিত অথবা ক্রয় করার চুক্তি নগদ হারাম সম্পদের উপর হয়েছে। ওই শিরনী হারাম এবং এর উপর ফাতিহা দেওয়া হারাম। এই হুকুম তো শিরনী এবং ফাতিহার উপর হয়েছে, কিন্তু তার সেখানে যাওয়া যদিও বা মিলাদ শরীফ পড়ার জন্যও হয় তবু গুনাহ, পাপের অপবাদ অথবা তোহমত থেকে মুক্ত নয়। আর এই সব থেকে বাচাঁর নিদের্শ হাদীস শরীফে আছে,
مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلَا يُقِفَ مَوَاقِعَ اللَّهُم
যে আল্লাহ তাআলা এবং কিয়ামতের দিনের উপর ঈমান রাখে, সে কখনো অপবাদের স্থানে দন্ডয়মান হবে না। প্রথমতঃ তার খাট, বিছানা এবং তার প্রত্যেক ব্যবহারের জিনিস সন্দেহ এবং নাপাকসমূহের উপরই আছে-যা আহলে তাকওয়ার অর্ন্তভুক্ত নয়। তাদেরকে উহাদের সাথে আগুন এবং বারুদের নিকটবর্তী করে দেওয়া হবে। আর যারা আহলে তাকওয়া তাদের বেলায় কামারের ভাটির তুল্য হবে; কাপড় না জললেও কালো ধোঁয়া অবশ্যই হবে। অতপর নিজের আত্মার উপর ভরসা করা এবং শয়তানকে দুরে মনে করা আহমকের কাজ হবে।
وَمَنْ وَقَعَ حولَ الْحَيِّ أَوْشَكَ أَنْ يَقَعُ فِيهِ
যে কূপের পার্শ্বে সে উহাতে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হবে।
(د) ওলামায়ে কিরামগণ মিলাদ শরীফের মজলিসে শাহাদাতের আলোচনা করতে নিষেধ করেছেন। ওই মজলিস হলো আনন্দের; চিন্তার আলোচনা করা উচিত হবে না।
(ه) এই সব কথা মিথ্যা, বানোয়াট, বিয়াদবি ও অপবাদমূলক। পূর্ব ও উত্তরসূরি সকলের সমাবেশে তিনি উলঙ্গ অবস্থায় তাশরীফ নেওয়া কিভাবে সভব- যার খালি মাথা কখনও আসমানও দেখতে পাইনি! তিনি যখন পুলসিরাত অতিক্রম করবেন আরশের নিচ থেকে একজন আহবানকারী আহবান করবে- হে আহলে মাহশর! নিজেদের মাথা ঝুকিয়ে নাও এবং নিজেদের চোখ বন্ধ করে নাও। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র কন্যা পুলসিরাত অতিক্রম করবে। তারপর ওই নুর এক বুরাকের মত সত্তর হাজার হরের সমাবেশ নিয়ে অতিক্রম করবেন। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(و) আল্লাহ আযযা ওয়াজাল্লা এরশাদ করেন, لا تشتروا بايتي ثمنا قليلا
"তোমরা আমার আয়াতকে অল্প দামে বিক্রি করো না। এটা নিষিদ্ধ। বড় ধরনের ছাওয়াব থেকে বঞ্চিত। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(ز) ইহা মুলে মিথ্যা এবং জাল কথা।
(ح) হারাম, প্রকৃত নাপাক বা সেই জাতীয়। হাদীস শরীফের মধ্যে ইরশাদ হয়েছে لا تجالسوهم তাদের নিকট তোমরা উপবেশন করো না। অন্য হাদীসে নবীজি ইরশাদ করেছেন من كثرُ سُوْدَ قَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ ইরশাদ করেছেন করল, সে তাদের দলের অন্তর্ভুক্ত হবে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(ط) মূলকথা হল তা মিথ্যা, বানোওয়াট আর মস্তবড় অপবাদ। আল্লাহ এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মিথ্যা প্রতিপন্নকারী ব্যক্তি নাজাত পাবে না। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(ى) যে ব্যক্তি অবগত হওয়ার পর শরীআতের হুকুম-আহকাম না মানে আর তা বারংবার করে এবং শরীআতের ফাতওয়াকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে তারা পথভ্রষ্ট গুমরাহ। তার মাধ্যমে মিলাদ মাহফিল পড়ানো, তা শুনে তার থেকে ছাওয়াবের আশা করা, তাকে সম্মান করা সবই না-জায়েয। যতক্ষণ পর্যন্ত তাওবাকারী হবে না। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলা-৯: বায়তুল্লাহ শরীফ ও মদিনা মুনাওয়ারা হিজরতের ব্যাপারে
ওলামায়ে দ্বীন এবং শরীআতের ফাতওয়া দানকারী! এই মাসআলার ব্যাপারে কি বলেছেন? যায়েদ বলে যে, যদি হিজরত করতেই হয় তাহলে কাবুলের পরিবর্তে মদিনা মুনাওয়ারায় হিজরত করবো, কমপক্ষে এটা তো হবে যে, মসজিদে নববী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম'র মধ্যে এক রাকাআত নামায পড়ার বিনিময়ে পঞ্চাশ হাজার নামাযের ছাওয়াব পাওয়া যাবে। আরো বলে যে, ধর্ম মদিনা মুনাওয়ারা থেকে বের হয়েছে এবং পরিশেষে তার দিকে পূনরায় ফিরে যাবে। সুতরাং এ স্থান থেকে কোন স্থান উত্তম হবে? অথচ সে সময় নাসারাদের হাতে এই স্থান। কাবুল থেকে এই জায়গায় হিজরত করাকে হাজার মরতবা উত্তম বলেছে। নিজের জন্য ধর্মীয় নিরাপত্তা এবং শাফাআত লাভের কারণ মনে করে। যায়েদের এই ধারণা ঠিক হবে নাকি হবে না? এই হিজরত তার জন্য জায়েয হবে কিনা? যদি হিজরত করার সময় এই নিয়্যাত করে যে, যতক্ষণ পর্যন্ত বায়তুল্লাহ শরীফ এবং মদীনা মুনাওয়ারা কাফিরের হাতে থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত স্বীয় দেশে আসবে না। এ ধরনের নিয়্যাত তার জন্য জায়েয হবে কিনা? বিস্তারিত বর্ণনা করুন, প্রতিদান দেয়া হবে।
জাওয়াবঃ যায়দের সব ভাল ধারণা শুদ্ধ। নিশ্চয় মদীনা মুনাওয়ারার সাথে কোন শহরের তুলনা হতে পারে না। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন-
والمدينة خير لهم لو كانوا يعلمون
মদীনা মুনাওয়ারা তাদের জন্য সবার চাইতে উত্তম যদি সে অবগত হয়। কিন্তু মদীনা তাইয়্যাবার মধ্যে প্রতিবেশী হওয়া আমাদের ইমামের নিকট মাকরুহ। হয়ত আদব রক্ষা করা যাবে না। আর কাফিরের হাতে মদীনা এ কথা ভুল। যদিও তাদের অধীনে হয় তাহলে তাদের করতলগত যতদিন থাকবে উল্টা নিয়্যাত হবে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলা-১০: দুটি বিষয়ের সংশয় নিরসন
আপনার খেদমতে আরজ যে, মেহেরবাণী করে নিম্ন লিখিত বিষয়াদির সমাধান প্রদান করতঃ এ সেবককে প্রশান্তি দান করবেন।
১। ইসলামী খেলাফতের মাসআলাসমূহ এবং হিন্দুস্থানে হিজরত করা সম্পর্কে মৌলভী আবদুল বারী ফরংগী মহল্লী, আবুল কালাম আযাদ প্রমুখ যে সমস্ত কথাবার্তা বলেছে তা ইসলামী শরীআতের সীমা রেখা অনুযায়ী হয়েছে, না কি খেলাপ হয়েছে?
২। আপন মহানুভবতায় চুপ থাকাটা যে কোন প্রকার উপকারিতার ভিত্তিতে হয়। যদি তাতে আপনার সমর্থন থাকে তাহলে আপনি তাদের সাথে সুর মিলাননি কেন? যদি খেলাপ হয় তাহলে অন্যান্য মুসলমানদেরকে ভয়ানক ধবংস থেকে কেন বাঁধা দেননি। আপনারা কোন পথে চলেছেন? বিস্তারিত বর্ণনা করুন, প্রতিদান দেয়া হবে।
জাওয়াবঃ উদ্দেশ্য হল সম্মানিত স্থানসমূহের হেফাযত করা। তাদের মধ্যে কোন মুসলমান আছে এর বিপরীত করবে? মুশরিকদের সাথে ঐক্য হওয়ার অর্থ হল সে সকল নেতাদের দাসত্ব গ্রহণ করতঃ কোরান শরীফ ও হাদীস শরীফের মর্যাদাকে প্রতিমার কাছে উৎসর্গ করে দেয়া। মুসলমানরা পৈতা পরা, কাফির জয় হোক বলা, রাম চন্দ্রের উপর ফুল ছিটানো, রামায়ন পূজায় শরীক হওয়া, মুশরিকদের কফিন নিজের কাধে নিয়ে জিন্দাবাদ দিয়ে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সেরে শশ্বানে নিয়ে যাওয়া, মুশরিকদেরকে মসজিদে ওয়ায়েজ বানানো, ইসলামের নিদর্শন গাভি কুরবানীকে কাফিরের সন্তুষ্টির জন্য বন্ধ করা এবং এমন এক মাযহাবের চিন্তায় মাশগুল হওয়া-যা ইসলাম এবং কুফুরীর মধ্যে পার্থক্য তুলে দেয় তা বৃতের উপসনালয়ে আগুনকে কুর্নিশ করা। এভাবে আরো অনেক কাজ-কর্ম যা তাদের মাথায় ডুকেছে, যারা ইসলামের গোড়ায় বিষের পানি ঢেলে দিয়েছে। কোন মুসলমান তা সমর্থন করতে পারে? এই দুষ্ঠদের ব্যাপারে ফাতওয়া লেখা হয়েছে আরো লিখা হচ্ছে। এর চেয়ে বেশি কি বলব? অন্তরযামী ও অন্তদৃষ্টি সম্পন্ন আল্লাহ তাআলার নিকট তাদের বিষয়টি সোপর্দ।
حسبنا الله ونعم الوكيل - ولا حول ولاقوة الا بالله على العظيم .
আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলা-১১: যে পাতা বা গাছ অলসতার কারণে তাসবীহ পড়া থেকে বাদ পড়ে অথবা প্রাণী যবেহ করা হয়। অতপর অলসতার শাস্তির পরে তাদের তাসবীহ'র মধ্যে রত হওয়ার প্রমাণ আছে কিনা?
আলেমে দ্বীনগন এই মাসআলার ব্যাপারে কি বলেন? যে পাতা বা গাছ অলসতার কারণে তাসবীহ পড়া থেকে বাদ পড়ে অথবা প্রাণী যবেহ করা হয়। অতপর অলসতার শাস্তির পরে তাদের তাসবীহ'র মধ্যে রত হওয়ার প্রমাণ আছে কিনা? বিস্তারিত বর্ণনা করুন, প্রতিদান দেয়া হবে।
জাওয়াবঃ রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেন,
تَسَبِّحُ لَهُ السَّمُوْتَ وَالْأَرْضَ وَمَن فِيهِنَّ وَإِنْ مِنْ شَنِي الَّا يُسَبِّحُ بِحَمْدِهِ وَلَكِنْ لَا تَفْقَهُونَ تَسْبِيحَهُمْ
অর্থাৎ তাঁর তাসবীহ তথা পবিত্রতা বর্ণনা করতেছে আসমান, যমীন এবং আসমান-যমীনের মধ্যে যা মওজুদ আছে সকলেই। আর কোন জিনিস এমন নেই যে, যা প্রশংসাসহ তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা করতেছে না। কিন্তু তোমরা তাদের তাসবীহ পাঠ বুঝতেছ না। এটা ব্যাপক অর্থে, বিশ্বের সমস্ত কিছুকে অন্তর্ভুক্ত করে। প্রাণী হোক বা প্রাণহীন হোক। গঠনগতভাবে প্রাণ না থাকলেও সর্বদা তাসবীহ রত। কোরানের আয়াত إِنْ مِن شئى এর মর্ম থেকে তা বাইরে নয়। কিন্তু তাদের তাসবীহ না বোধগম্য, না শ্রবণযোগ্য, না বুঝা য়ায়। যে দেহ-মানবীয় রুহ অথবা জ্যোতিময় রুহ বা জ্বিনের রুহ অথবা প্রাণীর রুহ বা উদ্ভিদের সতেজতার সাথে সম্পর্ক আছে। তাদের দু'ধরনের তাসবীহ। শরীরের যে তাসবীহ তা রুহের সাথে সম্পর্কিত ও তার ইখতিয়ারী নয় সেটা ওই إِنْ مِن شئی এর ব্যাপকতার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। এটা তাদের সত্ত্বাগত তাসবীহ। দ্বিতীয় হল রূহের তাসবীহ, এটা ইখতিয়ারী এবং আলমে বরযখের মধ্যে প্রত্যেক মুসলমানের শ্রোত এবং বোধগম্য হবে। এপ্রকার তাসবীহের ব্যাপারে অমনযোগীর শাস্তি প্রাণী এবং জীব বধকারীদেরকে নিশ্চিতভাবে দেওয়া হবে। ইহার পরে যখন প্রাণী মরে যায়, গাছপালা শুকিয়ে যায় সে তাসবীহ বন্ধ হয়ে যায়। এ জন্য ধর্মীয় গুরুগণ বলেছেন কবরস্থান থেকে কাঁচা ঘাস উপড়ে ফেলো না।
فَإِنَّهُ مادام رطبا يُسَبِّحُ لله تعالى فَيُؤنس الميت
যতক্ষন পর্যন্ত তা ভিজা থাকবে ততক্ষণ তাসবীহ পাঠ করবে। কিন্তু হত্যা, ছিন্ন হওয়া, মৃত্যুর পরে ও তাসবীহ পড়া অবস্থায় শরীর বলবৎ থাকে। যতক্ষণ পর্যন্ত তার একটি অংশ অবশিষ্ট থাকে, বন্ধ হয়ে যায় না। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলা-১২: আল্লাহ তায়ালাকে ডাকার ব্যাপারে
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের সম্মানিত আলেমগণ কি বলেন? এ মসআলা সম্পর্কে যে, এক মৌলভী সাহেব ওয়াযের মধ্যে এমনভাবে বললেন যে, আল্লাহ তাআলা فرماتی (স্ত্রী-লিঙ্গ শব্দ ব্যবহার) ইরশাদ করেন, আর কখন ও এভাবে বলতেন فرماتا (পুঃলিঙ্গ) ইরশাদ করেন। এই ধরনের কথা বলার কারণে মানুষের উপর কুফুরী শিরকের বিধান আরোপিত না হলেও এতে গুনাহগার হবে কিনা? কিতাবের মধ্যে মুসান্নিফরা আল্লাহ তা'আলা ফরমাতেহে কেন লিখেননি আর ফরমাতাহে লিখেছেন। ইহার কী কারণ হতে পারে? বিস্তারিত বর্ণনা করুন, প্রতিদান দেয়া হবে।
জাওয়াবঃ আল্লাহ আযযা ওয়াজাল্লাকে এক বচনের সর্বনাম (যমীরসমূহ) দিয়ে স্বরণ করা উচিত। ওই খোদা এক আর সম্মানার্থে বহু বচনের সর্বনাম (যমীর) ব্যবহার করাতে কোন অসুবিধা নেই। তার উত্তম পুরুষ বহু বচন ব্যবহারের নযীর কোরআনে করীমের মধ্যে শতশত স্থানে পাওয়া যায়। যেমন- إنا نحن نزلنا الذِّكْرُ وَإِنَّا لَهُ لَحُفِظُونَ আর মধ্যম পুরুষ শুধু মাত্র একটি স্থানে আছে সেটাও কাফিরেরা কিয়ামত দিবসে বলবে। رَبِّ ارْجِعُونَ اعْمَلْ صَالِحًا ওলামা-ই কেরাম তাবীল করেছেন যে, إرجع -এর বহু বচন পুনর্বার অর্থাৎ - ارجع - ارجع ارجع হ্যাঁ, নাম পুরুষের মধ্যে বহু বচনের রুপ বহুবার ফার্সি এবং উর্দু ভাষায় ব্যবহৃত হয়েছে।
اسمان بار امانت نتوانست کشید قر عنه فال بنام من دیوانه زوند
আসমান আমানতের বোঝা বহন করতে পারে। ফালনামার লটারী আমাকে দেওয়ানায় ঢেলে দিয়েছে।
سعد یار و زازل جنگ بترکان دادند
হে সাঈদী! আযলের দিনে যুদ্ধকে তরকা হিসেবে রেখেছো।
زرویت ماہ تاباں آفریدند - زقدت سرو بستان آفریدن
আপনার চেহারা থেকে চন্দ্র-সূর্য সৃষ্টি করা হয়েছে। আপনার দেহ মোবারক থেকে বাগানে সরু গাছ সৃষ্টি করা হয়েছে।
এধরনের স্থানে লোকেরা তাকদীরের প্রতি নির্দেশ হয়ে থাকে, সর্বাবস্থায় এভাবে বলা মুনাফিক হবে। তবে পুঃলিঙ্গ শব্দ ব্যবহার করতঃ এভাবে বলা সমাচীন হবে যে, আল্লাহ তা'আলা ফরমাতাহে। কিন্তু স্ত্রী লিঙ্গ ব্যবহারের মধ্যে কুফর ও শিরকের হুকুম কিভাবে হবে? গুনাহও বলা যাবে না। বরং খেলাফে আউলা (উত্তমতার বিপরীত) হবে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলা-১৩: বাচ্চার বয়স কত হলে কি করবে?
আলেম দ্বীন এবং শরীআতের মুফতীগণ কি বলেন? এ মাসআলার ব্যপারে যে, অধিকাংশ কায়দা বা নিয়ম হল যখন ছেলের বয়স চার বছর, চার মাস চার দিন হবে তাহলে তাকে বিছমিল্লাহ শরীফ পড়া এবং খুশী হয়ে মিষ্টি ইত্যাদি বিতরণ করা হয়, তার কি হুকুম? এটা জায়েয হবে কিনা? সুন্নাত না মুস্তাহাব? ছেলের বযস উপরে উল্লেখিত অনুযায়ী হলে তাকে পড়ানো হয়-না কম বা বেশি বয়স হলেও পড়াতে পারবে কিনা? আর কোন আলেমের নিকট নিয়ে যাবে না বিশুদ্ধ আকীদাধারী সুন্নী প্রত্যেক ব্যক্তি পড়াতে পারবে? সুন্নাতী পন্থা কি লিখে জানাবেন। বিস্তারিত বর্ণনা করুন, প্রতিদান দেয়া হবে।
জাওয়াবঃ উল্লেখিত পদ্ধতি জায়েয আছে আর এত বয়স প্রয়োজন নেই। এর চাইতে কম এবং এর চাইতে বেশিও হতে পারবে। আলোমের মাধ্যমে পড়ানো ভাল। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলা-১৪: যায়দ একজন সুন্নী বুযর্গ পীরের মুরীদ, এখন ও অল্প সময় অতিবাহিত হয়েছে এ বুযর্গ পীরের ইন্তিকাল হযেছে। এখন যায়দ কোন আলেম পীরের হাতে বায়আত হতে পারবে নাকি পারবে না?
হযরাতে কিরাম আহলে সুন্নাত শরীআতের ইলমের অধিকারীগণ কি বলেন? যায়দ একজন সুন্নী বুযর্গ পীরের মুরীদ, এখন ও অল্প সময় অতিবাহিত হয়েছে এ বুযর্গ পীরের ইন্তিকাল হযেছে। এখন যায়দ কোন আলেম পীরের হাতে বায়আত হতে পারবে নাকি পারবে না? বিস্তারিত বর্ণনা করুন, প্রতিদান দেয়া হবে।
জাওয়াবঃ শরীআতের দৃষ্টিতে কোন কারণ ব্যতীত বায়আত পরিবর্তন করা নিষেধ। আর নবায়ন জায়েয আছে। বরং মুস্তাহাব আর যে ব্যক্তি সিলসিলা-ই কাদেরীয়ার অর্ন্তভুক্ত নয় এবং নিজের শায়খের অনুমতি ব্যতিরেকে সিলসিলা-ই আলীয়ার মধ্যে বায়আত গ্রহণ করে সেটা বায়আত পরিবর্তন বলা যাবে না বরং নতুন বায়আত। সে সব সিলসিলা থেকে উঁচু মানের এবং উত্তমতার দিকে প্রত্যাবর্তনকারী। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলা-১৫: জুমার নামায পড়ার পর যোহরের নামায পড়তে হবে কিনা?
বর্তমান শতাব্দীর মুজাদ্দিদ আ'লা হযরত ফাযেলে বেরলভী মাওলানা আহমদ রেযা খান সাহেব (আল্লাহ বরকত দান করুক) কি বলেন? এ মাসআলার ব্যাপারে যে, জুমার নামায পড়ার পর যোহরের নামায পড়তে হবে কিনা? বিস্তারিত বর্ণনা করুন, প্রতিদান দেয়া হবে।
জাওয়াবঃ হিন্দুস্থান আল্লাহর রহমতে দারুল ইসলাম। সেই দেশের শহরগুলোর মধ্যে জুমার নামায শুদ্ধ হবে। এর পরে যোহরের নামাযের প্রয়োজন নেই। হ্যাঁ মুর্খরা যে গ্রামের মধ্যে জুমার নামায চালু করেছে, ওখানে যদি কেউ জুমার নামায আদায় করে তাহলে তার উপর যোহরের নামায পড়া অবশ্যই জরুরি। গ্রামের মধ্যে জুমা হবে না। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলা-১৬: যদি কোন দাঁড়ি মুন্ডানো ব্যক্তির সাথে মুলাকাত হয় আর তাকে চেনা যাচ্ছে না যে, সে মুসলমান নাকি হিন্দু, এমতাবস্থায় তাকে সালাম করা যাবে কিনা এবং তার সাথে সালাম বিনিময় করার কি পদ্ধতি?
ওলামা-ই দ্বীন কি বলেন? এ মাসআলার ব্যাপারে যে, যদি কোন দাঁড়ি মুন্ডানো ব্যক্তির সাথে মুলাকাত হয় আর তাকে চেনা যাচ্ছে না যে, সে মুসলমান নাকি হিন্দু, এমতাবস্থায় তাকে সালাম করা যাবে কিনা এবং তার সাথে সালাম বিনিময় করার কি পদ্ধতি? বিস্তারিত বর্ণনা করুন, প্রতিদান দেয়া হবে।
জাওয়াবঃ যে ব্যক্তিকে চেনা যায় না যে, এ ব্যক্তি মুসলমান নাকি কাফির, তাকে প্রথমে সালাম দেওয়া জায়েয নেই। মুসলমানকে প্রথমে সালাম দেওয়া সুন্নাত আর কাফিরকে সালাম দেওয়া হারাম। সুন্নাত এবং হারামের মধ্যে দ্বন্ধ হলে না-জায়েয হয়ে যায়। যেমনি ভাবে খোলাসা এবং দুররুল মুখতার ইত্যাদি কিতাবের মধ্যে রয়েছে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলা-১৭: হযরত আবদুল্লাহ বিন মুত্তালিব বিন হাশিম বিন আবদে মোনাফ এই চার নসবের উপর ফাতিহা দূরুদ পড়া যাবে নাকি যাবে না?
ওলামা-ই দ্বীন এই মাসআলার ব্যাপারে কি বলেন যে, হযরত আবদুল্লাহ বিন মুত্তালিব বিন হাশিম বিন আবদে মোনাফ এই চার নসবের উপর ফাতিহা দূরুদ পড়া যাবে নাকি যাবে না? বিস্তারিত বর্ণনা করুন, প্রতিদান দেয়া হবে।
জাওয়াবঃ আমাদের নিকট সহীহ পদ্ধতি এটা যে, হুযুর আকদাস সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পিতা এবং মাতা হযরত আবদুল্লাহ, হযরত আমেনা রাদিআল্লাহু আনহুমা থেকে হযরত আদম এবং হাওয়া আলাইহিমাস সালাম পর্যন্ত তাওহীদপন্থী এবং আহলে ইসলাম ছিলেন। তাঁদের উপর ঈসালে ছাওয়াব পৌঁছাতে কোন ধরনের অসুবিধা নেই। অবশ্যই ওলামা-ই কেরামের মতানৈক্য থেকে বাঁচার জন্য সমুচিত হল যে, ছাওয়াব, নযর-নেওয়ায হুযুর আকদাস সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম'র দরবারে সোপর্দ করত হুযুরের মাধ্যমে হুযুরের আওলাদদেরকে ছাওয়াব পৌঁছানো। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলা-১৮: আল্লাহ ও রাসূলের দৃষ্টিতে ইয়াযিদকে ক্ষমা করা হবে কিনা?
ওলামা-ই আহলে সুন্নাত কি বলেন, এ মাসআলার ব্যপারে যে আল্লাহ ও রাসূলের দৃষ্টিতে ইয়াযিদকে ক্ষমা করা হবে কিনা? বিস্তারিত বর্ণনা করুন, প্রতিদান দেয়া হবে।.
জাওয়াবঃ দুষ্ঠ ইয়াযিদের ব্যাপারে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের তিনটি উক্তি রয়েছে- ইমাম আহমদ এবং অন্যান্য পূর্বসূরীদের মতে ইয়াযিদ কাফির। তাকে কোন দিন ক্ষমা করা হবে না। আর ইমাম গাযযালী ও অন্যান্যরা ইয়াযিদকে মুসলমান বলেন। তাকে বহু শাস্তি দেওয়ার পর অবশেষ ক্ষমা করা হবে। আর আমাদের ইমাম নিরবতা অবলম্বন করেছেন। আমরা তাকে মুসলমান নাকি কাফির কিছু বলতে পারছিনা। এ জন্য এখানে ও নিরবতা পালন করব। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলা-১৯: যে জিনিষ খালিছভাবে আল্লাহর ওয়াস্তে দেওয়া হয়। সেগুলো ধনীরা খাওয়া কিরুপ হবে?
ওলামা-ই দ্বীন কি বলেন- এ মাসআলার ব্যাপারে, যে জিনিষ খালিছভাবে আল্লাহর ওয়াস্তে দেওয়া হয়। সেগুলো ধনীরা খাওয়া কিরুপ হবে? বিস্তারিত বর্ণনা করুন, প্রতিদান দেয়া হবে।
জাওয়াবঃ ওয়াজিব সদকা যেমন যাকাত, সদকাতুল ফিতর' ধনীদের জন্য খাওয়া হারাম আর নফল সদকা যেমন হাউজ, ঝর্নার পানি অথবা মুসাফিরের ঘর ব্যবহার করা ধনীদের জন্যও জায়েয আছে। কিন্তু মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে যে সদকা দেবে ধনীরা তা গ্রহণ করতে পারবে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলা-২০: ফিরিশতাদের উপর ফাতিহা দরুদ পড়া যাবে নাকি যাবে না?
ওলামা-ই দ্বীন কি বলেন-এ মাসআলার ব্যাপারে যে, ফিরিশতাদের উপর ফাতিহা দরুদ পড়া যাবে নাকি যাবে না? বিস্তারিত বর্ণনা করুন, প্রতিদান দেয়া হবে।
জাওয়াবঃ দরুদ যেমন আলাইহিস সালাম এটাতো ফিরিশতাদের জন্য হয়। এভাবে ইসালে ছাওয়াবও পৌছাতে পারবে।
لأَنَّ الْمُلْئِكَةُ أَهْلُ الثَّوابِ كما ذكره امام الرازي وفي رد المحتار الملائكة فَضَائِلَ عَلَيْنَا فِي الثَّوَابِ
ফিরিশতারা ছাওয়াব পাওয়ার যোগ্য। যা ইমাম ফখরুদ্দীন রাযী বর্ণনা করেছেন। রাদ্দুল মুহতারে রয়েছে-ফিরিশতারা আমাদের উপর ছাওয়াব পাওয়ার অধিক হক রাখে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলা-২১: মান্নত বা হাজতের ব্যাপারে
ওলামা-ই দ্বীন কি বলেন-এ মাসআলার ব্যাপারে যে, কেউ মান্নত
করে যে, প্রাণের বদলা হিসেবে সদকা মসজিদে নিয়ে যাব। কেউ কেউ এরূপ বলে যে, প্রাণ বেছে গেলে অথবা অমুক কাজ হয়ে গেলে মান্নত মুসল্লীদেরকে খাওয়াবো। কেউ বলে-আমাদের হাজত পুরা হলে মসজিদে শিরনী নিয়ে মুসল্লীদেরকে খাওয়াবো। অতএব এই জিনিস যে কাউকে খাওয়ানো যাবে নাকি যাবে না? হ্যাঁ ধনী হোক বা গরীব হোক? বিস্তারিত বর্ণনা করুন, প্রতিদান দেয়া হবে।
জাওয়াবঃ মসজিদে শিরনী নিয়ে মুসল্লীদেরকে খাওয়ালে এটা কোন শরীআতের মান্নত নয়। যতক্ষণ পর্যন্ত খাস করে ফকীরদের জন্য বলা হবে না। তা রাজা-ফকীর যাকে দেবে সবাই খেতে পারবে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলা-২২:
ওলামা-ই দ্বীন কি বলেন-এ মাসআলার ব্যাপারে যে, মৃত ব্যক্তির কুলখানি যা ধনী-গরীবদেরকে খাওয়ানো হয়, এটা কাকে খাওয়ানো যাবে এবং কাকে খাওয়ানো যাবে না? কুলখানি মুসল্লী ধনী-গরীব সবাইকে খাওয়ানো জায়েয হবে কিনা? বিস্তারিত বর্ণনা করুন, প্রতিদান দেয়া হবে।
জাওয়াবঃ মূদারের খাবার শুধু মাত্র ফকীরদের জন্য। সাধারণ দাওয়াতের ভিত্তিতে যা করে এটা নিষেধ; ধনীরা তা খাবে না। যেরূপ ফতহুল কাদীরও মাজমাউল বারকা-ত গ্রন্থে রয়েছে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলা-২৩: চাল কুমড়া খাওয়া জায়েয আছে কিনা?
ওলামায়ে দ্বীন কি বলেন-এ মাসআলার ব্যাপারে যে, চাল কুমড়া খাওয়া জায়েয আছে কিনা? বিস্তারিত বর্ণনা করুন, প্রতিদান দেয়া হবে।
জাওয়াবঃ চাল কুমড়া হল হালাল। আল্লাহ বলেছেন- خُلِقَ لَكُمْ مَا فِي الأَرْضِ জমিতে যা রয়েছে সব তোমাদের জন্য তিনি সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলা-২৪: খতনা করার সময় যে খানা খাওয়ানো হয় তা জায়েয আছে কিনা?
আলেম দ্বীনগণ কি বলেন-এ মাসআলার ব্যাপারে যে, খতনা করার সময় যে খানা খাওয়ানো হয় তা জায়েয আছে কিনা? বিস্তারিত বর্ণনা করুন, প্রতিদান দেয়া হবে।
জাওয়াবঃ দুরস্ত আছে, এটা হলো খুশীর অনুষ্ঠান, খুশীর অনুষ্ঠানে দাওয়াত করা সুন্নাত। কিন্তু মৃত্য ব্যক্তির ব্যাপারে আয়োজিত খাবার উহার বিপরীত। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলা-২৫: যদি কোন ব্যক্তি যে কোন প্রকারের নামায, রোযা, হজ্ব, সদকা দেওয়ার মান্নত করে এবং এসব আদায় করার নিয়ম কি?
ওলামা-ই দ্বীন এ মাসআলার ব্যাপারে কি বলেন যে, যদি কোন ব্যক্তি যে কোন প্রকারের নামায, রোযা, হজ্ব, সদকা দেওয়ার মান্নত করে এবং এসব আদায় করার নিয়ম কি? বিস্তারিত বর্ণনা করুন, প্রতিদান দেয়া হবে।
জাওয়াবঃ যদি মৃত ব্যক্তি অসীয়ত করে যায়, তাহলে আদায় করা ওয়াজিব। উত্তারাধিকার মালের তিন ভাগের এক ভাগ সম্পদে অসীয়ত বাস্তবায়িত হবে। তা থেকে হজ্ব করা, সদকা প্রদান করা, নামায এবং রোযার ফিদয়া দিতে পারবে। যদি অসীয়ত করে না যায় আর বালেগ ওয়ারিছ তার পক্ষ থেকে হজ্ব আদায় করে অথবা কারো মাধ্যমে আদায় করায় বা নিজের অংশ থেকে সদকা ফিদয়া প্রদান করে তাহলে তার জন্য উত্তম ছাওয়াবও প্রতিদান রয়েছে। আর না হয় দাবী নেই। মৃত ব্যক্তি যদি কর্তব্য আদায়ে গড়িমসি করে তাহলে সেটার উপর দাবী থাকবে। আর না হয় তার উপরও দাবী থাকবে না। জাওহারাতুন নায়রা ও দুররুল মুখতার কিতাবে আছে-
إِذَا مَاتَ مَنْ عَليهِ زَكوة أو فطر او كفارة او نذركم تَؤْخَذْ مِنْ تُركته عندنا الا يَتَبَرَّعَ ورثته بذلك وَهَمْ مِنْ اهْلِ التَّبْرعِ وَلَمْ يَجْبَرُوا عَلَيْهِ وَإِنْ أَوْصى تَنْفَذ مَنْ ثَلث
যখন কোন ব্যক্তি তার উপর যাকাত, ফিত্রা, কাফফারা বা মান্নত রেখে মারা যায় আমাদের হানাফী মাযহাব মতে তার তর্কা থেকে তা দেয়া হবে না। তবে নফল হিসেবে আদায় করতে পারবে। তাদেরকে জোর করা যাবে না। যদি অসীয়ত করে যায় তবে তা মূল সম্পদের এক তৃতীয়াংশ থেকে দেয়া যাবে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলা-২৬: দুই ভাই কাফির তাদের মধ্যে এক ভাই মুসলমান হয়ে যায়। অতপর তার ওই কাফির ভাই সম্পদের অংশ দিচ্ছে না। বরং বলতেছে তুমি আমাদের মাযহাব থেকে বের হয়ে গেছ, তোমার কিসের অধিকার? সে মুসলমান ভাইয়ের হক থাকবে কি থাকবে না?
আলেমে দ্বীনগণ কি বলেন-এ মাসআলার ব্যাপারে যে, দুই ভাই কাফির তাদের মধ্যে এক ভাই মুসলমান হয়ে যায়। অতপর তার ওই কাফির ভাই সম্পদের অংশ দিচ্ছে না। বরং বলতেছে তুমি আমাদের মাযহাব থেকে বের হয়ে গেছ, তোমার কিসের অধিকার? সে মুসলমান ভাইয়ের হক থাকবে কি থাকবে না? বিস্তারিত বর্ণনা করুন, প্রতিদান দেয়া হবে।
জাওয়াবঃ পিতার সম্পদ উভয় ভাই পেয়েছিল, এখন এক ভাই মুসলমান হয়ে গেল, তাহলে সে নিজের অংশের মালিক হবে। মুসলমান হওয়ার কারণে তার মালিকানা দূর হয়ে যায়নি। হ্যাঁ মুসলমান হওয়ার পর তার বংশীয় সম্পদের মালিক হবে না দ্বীন পরিবর্তন হওয়ার কারণে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলা-২৭: বুযর্গদের মাযারে ওরশের সময় অথবা ওরশ ছাড়া মহিলারা এবং অপবিত্র অবস্থায় নিজেদের কল্যান কামনা ও হাজত পুরণের জন্য যাওয়া, ওখানে উঠা বসা ও কবরস্থানে দাঁড়ানো যাবে কিনা? যদি একথা মন্দ হয় তাহলে বাঁধা দেওয়া যাবে কি না?
আলেমে দ্বীনগণ কি বলেন-এ মাসআলার ব্যাপারে যে, বুযর্গদের মাযারে ওরশের সময় অথবা ওরশ ছাড়া মহিলারা এবং অপবিত্র অবস্থায় নিজেদের কল্যান কামনা ও হাজত পুরণের জন্য যাওয়া, ওখানে উঠা বসা ও কবরস্থানে দাঁড়ানো যাবে কিনা? যদি একথা মন্দ হয় তাহলে বাঁধা দেওয়া যাবে কি না? আর এটা বলা হয় যে, বুযর্গদের দরবারে আগন্তুকরা সাহেবে মাযারের মেহমান এ কথাটা শুদ্ধ নাকি শুদ্ধ নয়? আর কিছু লোক বলে যে, বুযর্গ ব্যক্তিরা স্বীয় মাযার থেকে তাছাররুপ তথা নড়াচড়া করতে পারে না। এ দলীল গ্রহণ করে যে, যদি তাঁরা নড়াচড়া করতে পারতেন তাহলে সেখানে তাঁরা গান বাজনা, নাচ-গান, মহিলারা মুহরিম ব্যতিত অবাধে ঘুরফেরা এবং তাদের শিশুরা প্রস্রাব করে অপবিত্র করা থেকে কোন বাঁধা দেয় না কেন? ওই দলীল বা ধারণা কতটুকু সত্য এবং তার কি জওয়াব? বিস্তারিত বর্ণনা করুন, প্রতিদান দেয়া হবে।
জাওয়াবঃ মহিলাদেরকে ওলীগণের মাযারে পাকে এবং সাধারণ মানুষের কবরে যাওয়া নিষেধ। আউলীয়া কিরাম স্বীয় মাযারে পাক থেকে তাছাররুপ তথা নড়াচড়া অবশ্যই করতে পারেন এটা সত্য। আর সাহেবে মাযারগণ শরীআতের হুকুম আহকামের গণ্ডির অর্ন্তভূক্ত নয়, তারা সেই সময়সত্বাগত বিধানের অনুসারী। মসজিদ আল্লাহর ঘর সেখানে হাজারো গণ্ডগোল হয়, আল্লাহ আযযা ওয়াজাল্লা অসীম ক্ষমতার অধিকারী, কেন তিনি বাঁধা দেন না? আর মাযারে পাকের সকল উপস্থিতি তথা যিয়ারতকারীরা তাঁদের মেহমান; কিন্তু মহিলাগণ নাখান্দা মেহমান। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলা-২৮: ওরশের মধ্যে অথবা ওরশ ব্যতিত বিভিন্ন না'ত এবং গযলসমূহ মোহে পড়ে বাদ্যযন্ত্রের মাধ্যমে করা হয়। এটা জায়েয আছে কিনা?
ওলামা-ই দ্বীন কি বলেন-এ মাসআলার ব্যাপারে যে, ওরশের মধ্যে অথবা ওরশ ব্যতিত বিভিন্ন না'ত এবং গযলসমূহ মোহে পড়ে বাদ্যযন্ত্রের মাধ্যমে করা হয়। এটা জায়েয আছে কিনা? সম্মানিত লোকেরা যারা ওখানে শরিক শামিল হয় তাদের মধ্যে কিছু লোকের মৃত্যু হয়েছে বলেও শুনা যায়। তাদের এই কাজ কেমন হবে? যদি এটা মন্দ হয়, তাহলে গদীসমূহে অর্থাৎ খানকাসমূহের মধ্যে প্রকাশ্যভাবে তা কিভাবে জাওক শওকের সাথে চালু প্রচলিত হয়ে আসতেছে! এটা শরীআতের খিলাপ নাকি খিলাপ নয়? এই ধরনের খানকার মধ্যে যাওয়া, মাকসূদ পেশ করা, সেগুলোকে ভাল মনে করা এবং এগুলোর সামনে মাথা নুয়ে দেওয়া কেমন করে জায়েয হতে পারে? আসলে বৈধ কিনা? বিস্তারিত বর্ণনা করুন, প্রতিদান দেয়া হবে।
জাওয়াবঃ সাধারণতঃ কাওয়ালী জায়েয। মাযামীর তথা বাদ্যযন্ত্র হারাম। বেশি বাড়াবাড়ি হয়েছে সিলসিলা-ই আলীয়া ছিশতীয়া পন্থীদের মধ্যে। অথচ হযরত সুলতানুল মাশায়েখ মাহবূবে ইলাহী রাদ্বি আল্লাহু তা'আলা আনহু 'ফাওয়ায়েদুল ফুয়াদ শরীফ' এ বলেছেন- মাযামীর তথা বাদ্যযন্ত্র হারাম مزامیر حرام است হযরত শরফুল মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন ইয়াহিয়া মুনিরী কুদ্দিসা ছিররুহ বাদ্যযন্ত্রকে সেনার সাথে তুলনা করেছেন। আউলিয়াগণ সর্বদা বলেন- শরীয়তকে বাদ দিয়ে
যশ-খ্যাতির উপর প্রতিষ্ঠিত থেকো না। পীর হওয়ার জন্য যে চারটি শর্ত আবশ্যক তার মধ্যে একটা হল যে, শরীআতের খেলাপ কোন কাজ যেন নিজেই ইখতিয়ার না করে। নাজায়েয কাজকে নাজাযেযই যেন মনে করে। এমন সব স্থানে যেন কোন নিদিষ্ট ব্যক্তিত্ব নিয়ে আলোচনা না করে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলা-২৯: বুযর্গদের মাযার থেকে যেই প্রদীপের আলো অদৃশ্য হয়ে যায় এটা কেমন করে হয় এবং এর থেকে সাহেবে মাযারের বুযর্গী প্রমাণিত হয় কি না?
ওলামা-ই দ্বীন কি বলেন-এ মাসআলার ব্যাপারে যে, বুযর্গদের মাযার থেকে যেই প্রদীপের আলো অদৃশ্য হয়ে যায় এটা কেমন করে হয় এবং এর থেকে সাহেবে মাযারের বুযর্গী প্রমাণিত হয় কি না? বিস্তারিত বর্ণনা করুন, প্রতিদান দেয়া হবে।
জাওয়াবঃ যদি আল্লাহর পক্ষ থেকেই হয়। আর না হয় এটা অসম্ভব কাজ, শয়তান এভাবে করে দেখায়। হযরত গাইছুল আযম রাদ্বি আল্লাহু তাআলা আনহু'র পবিত্র স্ত্রীগণের একজন স্ত্রী যখন অন্ধকারের মধ্যে যেতেন এক প্রদীপের মত আলোকিত হয়ে যেতো, একদিন হুযুরের দৃষ্টিগোচর হলে তা নিবিয়ে দিলেন এবং বললেন- এটা শয়তানের পক্ষ থেকে হয়েছে। তারপর একটি খোদায়ী নূর তার সাথে দিলেন। যেমনিভাবে রয়েছে-বাহজাতুল আসরার ওয়া মা'দানুল আনওয়ার কিতাবে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলা-৩০: কবরের উপর গাছ লাগানো, দেওয়াল দেওয়া অথবা কবরস্থানের সংরক্ষণের জন্য তার চারদিকে দেওয়াল দেওয়া যার মধ্যে নতুন পুরাতন কবরসমূহ রয়েছে। এতে চতুর্দিকে বেষ্টনী দেওয়া জায়েয আছে কি না?
ওলামা-ই কেরাম কি বলেন-এ মাসআলার ব্যাপারে যে, কবরের উপর গাছ লাগানো, দেওয়াল দেওয়া অথবা কবরস্থানের সংরক্ষণের জন্য তার চারদিকে দেওয়াল দেওয়া যার মধ্যে নতুন পুরাতন কবরসমূহ রয়েছে। এতে চতুর্দিকে বেষ্টনী দেওয়া জায়েয আছে কি না? বিস্তারিত বর্ণনা করুন, প্রতিদান দেয়া হবে।
জাওয়াবঃ কবরস্থান সংরক্ষণ করার জন্য চতুদিকে দেওয়াল তথা বেষ্টনী দেওয়াতে কোন অসুবিধা নেই। আর যিয়ারতকারীর জন্য ছায়ার ব্যবস্থা হলে ভাল কিন্তু কবর থেকে পৃথক থাকতে হবে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলা-৩১: প্রকাশ্য আল্লাহর ওলী অর্থাৎ জীবিত ও সাহেবে মাযার ওলী আল্লাহর মধ্যে প্রকাশ্য নীতি অনুযায়ী পরস্পর কথাবার্তা বলার খবর আছে নাকি নেই?
ওলামা-ই দ্বীনগণ কি বলেন-এ মাসআলার ব্যাপারে যে, প্রকাশ্য আল্লাহর ওলী অর্থাৎ জীবিত ও সাহেবে মাযার ওলী আল্লাহর মধ্যে প্রকাশ্য নীতি অনুযায়ী পরস্পর কথাবার্তা বলার খবর আছে নাকি নেই? বিস্তারিত বর্ণনা করুন, প্রতিদান দেয়া হবে।
জাওয়াবঃ হযরত ইমাম জালাল উদ্দীন সূযূতী রহমতুল্লাহি আলাইহির কিতাব "শরহুস সুদূর” ইত্যাদি কিতাবের মধ্যে ব্যাপকভাবে আলোচনা করা হয়েছে।
আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলা-৩২: আল্লাহ আযযা ওয়াজাল্লাহ'র কয়টি নাম আছে ও শাহিনশাহে দু'জাহা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কয়টি নাম আছে?
ওলামা-ই দ্বীন কি বলেন-এ মাসআলার ব্যাপারে যে, আল্লাহ আযযা ওয়াজাল্লাহ'র কয়টি নাম আছে ও শাহিনশাহে দু'জাহা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কয়টি নাম আছে? বিস্তারিত বর্ণনা করুন, প্রতিদান দেয়া হবে।
জাওয়াবঃ আল্লাহ আযযা ওয়াজাল্লা'র নামের কোন পরিসংখ্যান নেই, তাঁর শান অসীম। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র নাম মোবারক ও শান এত অসীম যে, তা হিসেব করা যায় না। আটশ থেকে অধিক "মাওয়াহেব” এবং "শরহে মাওয়াহেব" এর মধ্যে তাঁর নাম উল্লেখ আছে। এ অধম চৌদ্দশ পেয়েছি তাঁর নামের সংখ্যাকে সীমাবদ্ধ করা অসম্ভব। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলা-৩৩: সূরা ফাতিহা এবং সূরা ইখলাসের মধ্যে শুধু আল্লাহ তাআলারই প্রশংসা রয়েছে না রাসূলুল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রশংসাও আছে?
ওলামাই-কেরামগণ কি বলেন-এ মাসআলার ব্যাপারে যে, সূরা ফাতিহা এবং সূরা ইখলাসের মধ্যে শুধু আল্লাহ তাআলারই প্রশংসা রয়েছে না রাসূলুল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রশংসাও আছে? বিস্তারিত বর্ণনা করুন, প্রতিদান দেয়া হবে।
জাওয়াবঃ সূরা ফাতিহা'র মধ্যে হুযুর সরওয়ারে আলম সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লামের প্রকাশ্য প্রশংসা নিহিত। الصراط المستقيم হল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সম্মানিত সাহাবী হযরত আবু বকর এবং হযরত ওমর রাদ্ধি আল্লাহু আনহুমা। أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ হল সকল দলের সরদার তথা নবীগণ আর নবীগণের সরদার হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। শেখ মুহাক্কিক أخبار الاخيار কিতাবের মধ্যে লিখেছেন কতেক আউলিয়ার জীবনী বর্ণনা করতঃ প্রত্যেক আয়াতে করীমাকে না'তে রাসূল সাব্যস্ত করেছেন। সে গুলোর মধ্যে সূরা ইখলাসও অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলা-৩৪: স্বপ্নের কথার উপর শরীআতের দৃষ্টিতে কিভাবে চলবে?
ওলামা-ই দ্বীন কি বলেন-এ মাসআলার ব্যাপারে যে, বুযুর্গ ব্যক্তি পৃথিবীতে নিজের অনুসারীদেরকে শিক্ষা দেয়। যদি মৃত্যুর পরে ও তাকে স্বপ্নে শিক্ষা দিতে আসে তাহলে স্বপ্নের কথার উপর শরীআতের দৃষ্টিতে কিভাবে চলবে? বিস্তারিত বর্ণনা করুন, প্রতিদান দেয়া হবে।
জাওয়াবঃ ভালো স্বপ্নের উপর অবশ্যই আমল করার বিধান আছে। ভাল স্বপ্ন হল ওটা যা শরীআত অনুযায়ী হবে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলা-৩৫: হযরত মাওলা আলী (রাদ্বিয়াল্লাহ তায়ালা অনহু) স্বীয় কাফির সন্তানকে প্রহার করলে সে পালিয়ে চলে গেল। এখনো জিন্দা। এই সংবাদ হাদীসে পাকের বর্ণনায় এসেছে? আর কখন পর্যন্ত জিন্দা থাকবে? তারপর ঈমান আনবে কি না?
ওলামা-ই দ্বীন কি বলেন-এ মাসআলার ব্যাপারে যে, হযরত মাওলা আলী (রাদ্বিয়াল্লাহ তায়ালা অনহু) স্বীয় কাফির সন্তানকে প্রহার করলে সে পালিয়ে চলে গেল। এখনো জিন্দা। এই সংবাদ হাদীসে পাকের বর্ণনায় এসেছে? আর কখন পর্যন্ত জিন্দা থাকবে? তারপর ঈমান আনবে কি না? বিস্তারিত বর্ণনা করুন, প্রতিদান দেয়া হবে।
জাওয়াবঃ এটা ভিত্তিহীন। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
মাসআলা-৩৬ঃ ওলামা-ই কেরামগণ কি বলেন-এ মাসআলার ব্যাপারে যে, হান্নানাহ খুঁটি যেটা নবী করীম সাল্লাহু আলাইহি ওলাসাল্লামের বিচ্ছেদে কেঁদে ছিল। কিয়ামতের দিনে তাঁর কি অবস্থা হবে? বিস্তারিত বর্ণনা করুন, প্রতিদান দেয়া হবে।
জাওয়াবঃ সেটা জান্নাতের একটি বৃক্ষে পরিণত হবে। যেমনিভাবে হাদীসে পাকে এসেছে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলা-৩৭: হযরত মানসূর, তিবরীয এবং সারমদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি এ ধরনের শব্দ বলছে যা দ্বারা সাব্যস্ত হয় যে, তাঁরা খোদা দাবীদার। অতঃপর তাঁদের উপর আক্রমনসহ চামড়া খসে নেয়া হয়েছে কিন্তু তারপরও তাঁরা আল্লাহর ওলীদের অন্তর্ভুক্ত।
পক্ষান্তরে ফেরাউন, শাদ্দাদ, হামান, নমরুদ তারা খোদা দাবী করেছিল। ফলে তারা স্থায়ী জাহান্নামী হল, এর কি কারণ হতে পারে?
ওলামা-ই কেরামগণ কি বলেন-এ মাসআলার ব্যাপারে যে, হযরত মানসূর, তিবরীয এবং সারমদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি এ ধরনের শব্দ বলছে যা দ্বারা সাব্যস্ত হয় যে, তাঁরা খোদা দাবীদার। অতঃপর তাঁদের উপর আক্রমনসহ চামড়া খসে নেয়া হয়েছে কিন্তু তারপরও তাঁরা আল্লাহর ওলীদের অন্তর্ভুক্ত।
পক্ষান্তরে ফেরাউন, শাদ্দাদ, হামান, নমরুদ তারা খোদা দাবী করেছিল। ফলে তারা স্থায়ী জাহান্নামী হল, এর কি কারণ হতে পারে? বিস্তারিত বর্ণনা করুন, প্রতিদান দেয়া হবে।
জাওয়াবঃ এ কাফিরগণ নিজেই খোদা দাবী করেছিল এবং অভিশপ্ত হলো। পক্ষান্তরে তাঁরা নিজেরাই ওই ধরনের শব্দ বলেননি বরং আল্লাহ যেমন চাইলেন সেরূপ বলেছেন, শব্দ তাঁদের থেকে শ্রুত হয়েছিল। যেমনিভাবে হযরত মূসা আলাইহিস সালাম বৃক্ষ থেকে শুনেছিলেন إنى أنا الله "আমিই আল্লাহ, সমস্ত জাহানের পালনকর্তা" এটা কি গাছে বলেছিল? কখন ও নহে বরং আল্লাহই এটা বলার জন্য বাধ্য করেছিল। ওই হযরাতে কেরাম তখন মূসা আলাইহিস সালামের বৃক্ষের মত হয়ে থাকে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলা-৩৮: যমীনের মধ্যে যদি পানি জমে এবং মাছও জমে যায়, তাহলে মালিক বলে যে, এই মাছ আমাদের যদি তা জন সাধারণদেরকে না দেয় তাহলে গুনাহগার হবে কিনা?
ওলামা-ই কেরামগণ কি বলেন-এ মাসআলার ব্যাপারে যে, যমীনের উপর দিয়ে সম্পদ অতিবাহিত হয় তা মালিক গ্রহণ করে। ওই যমীনের মধ্যে যদি পানি জমে এবং মাছও জমে যায়, তাহলে মালিক বলে যে, এই মাছ আমাদের যদি তা জন সাধারণদেরকে না দেয় তাহলে গুনাহগার হবে কিনা? বিস্তারিত বর্ণনা করুন, প্রতিদান দেয়া হবে।
জাওয়াবঃ বৈধ মাছ যে ধরে তা তারই হবে। মালিকের কোন দাবী থাকবে না। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলা-৩৯: ওলামা-ই দ্বীনগণ কি বলেন-এ মাসআলার ব্যাপারে যে,
(الف) লম্বা কিয়াম দীর্ঘক্ষণ রুকু ও সিজদা থেকে উত্তম কিনা?
(ب) নামাযের ভিতর যদি টুপি পড়ে যায়, তাহলে উঠনো যাবে কি না?
(ج) ইমাম সাহেব কিরাত অথবা রুকুকে কোন মুক্তাদির জন্য আল্লাহর ওয়াস্তে লম্বা করতে পারবে, নাকি পারবে না? যখন মুক্তাদী ওযু করতেছে বা মসজিদে চলে এসে আর ইমাম সাহেবের জানা হল যে, কোন ব্যক্তি বিদ্যমান, অচিরেই নামাযে শরীক হওয়ার জন্য ইচ্ছা পোষন করেছে। এমতাবস্থায় রুকুর মধ্যে কিছুক্ষণ দেরী করলে জায়েয হবে নাকি হবে না?
(ه) নামায জায়েয হওয়ার জন্য এক আয়াতের পরিমাণ কতটুকু হতে হবে? বিস্তারিত ব্যাখ্যা করুন, প্রতিদান দেয়া হবে।
জাওয়াব : (الف) হ্যাঁ, দ্বীর্ঘ কিয়াম অধিক প্রিয়। 'রাদ্দুল মুহতার'র মধ্যে আছে, পছন্দনীয় অভিমত হল দীর্ঘ কিয়াম উত্তম। উহার মধ্যে আরো আছে- قَوْلَ الْإِمَامِ هُوَ الْمُصَحَحُ بَلْ هَوَ قَوْلُ الْكُلِّ
(ب) টুপি উঠিয়ে নেওয়া উত্তম। খেয়াল রাখতে হবে বার বার যেন পড়ে না যায়। নিজকে অপদস্ত ও ছোট্ট মনে করে মাথা খালি রাখতে চাই তাহলে না উঠানো উত্তম। দুররুল মুখতারের মধ্যে আছে-
سَقَطَتْ قلنسوته فإعادتها افضل إلَّا اذا احتاجت بتكرير او عمل كثيررد المحتار الظاهر ان افضليته اعادتها حيث لم يقصد بتركها التذلل
কারো টুপি পড়ে গেলে তা তুলে নেওয়া উত্তম। তবে পূণর্বার বা অধিক আমলের প্রয়োজন হলে তখন নয়। রাদ্দুল মুহতারে রয়েছে-প্রকাশ থাকে যে, উহা পরিত্যাগ করা দ্বারা নিজকে ছোট্ট মনে করা উদ্দেশ্য না হলে উহা উঠিয়ে নেওয়া উত্তম।
(ج) যদি কোন নিদিষ্ট ব্যক্তির জন্য নিজের কোন বিশেষ সম্পর্কের কারণে অথবা তোষামোদের উদ্দেশ্যে হয় তাহলে একবার তাসবীহ পড়ার পরিমাণ বৃদ্ধি করারও মোটেই অনুমতি নেই বরং আমাদের ইমামে আ'যম আবু হানিফা রাদ্বি আল্লাহ আনহু বলেন يُخْشَى عَلَيْهِ أَمَّرَّ عَظِيمٍ অর্থাৎ ইহার মধ্যে শিরক হওয়ার আশংবা আছে যে, নামাযের মধ্যে সামান্যটুকু আমল সে খোদা ব্যতীত অন্য কারো জন্য করেছে। যদি তোষামোদের জন্য না হয় বরং উত্তম কাজে মুসলমানদের সাহায্য করার উদ্দেশ্যে হয়। আর এটা তখনই প্রকাশিত হবে যে, এটা আগন্তুকের জানা ছিল না অথবা জানে; তার সাথে কোন বিশেষ সম্পর্কও নেই না অন্য কোন উদ্দেশ্য নিহিত আছে। তখন ককর মধ্যে দই এক তাসবীহ বাড়িয়ে পড়া জায়েয। বরং যদি অবস্থা এই রকম হয় যে, এখন মাথা তুলে ফেলবে, তাহলে রুকুর মধ্যে শামিল হবে কি হবে না এই ব্যাপারে সন্দেহের মধ্যে পড়ে। তখন বৃদ্ধি করা যায়। আর যার এখনও নামাযের মধ্যে শরীক হয়নি মসজিদের মধ্যে এসেছে, ওযু ইত্যাদি কর অথবা ওযু করতেছে, তার জন্য সুন্নাত নিয়মের চেয়ে বৃদ্ধ করবেনা। বরং যদি করাটা উপস্থিত নামাযীদের জন্য ভারী বলে প্রমাণ হয় তাহলে তা কঠোরবে নিষিদ্ধ।
المية واردة في الكتب وبسطها الشامي في صفة الصلوة وماقلته على التحق
মাসআলাটি অনেক কিতাবে এসেছে। আল্লামা শামী নামাযের ফরয অধ উহাকে বিশ্লেষণ করেছেন। আমি তার নির্যাষটুকু বলেছি।
(و) তাসবীহ পড়া হয়ে গেছে অথবা কিছু এখন পড়া অবস্থায় এছে তাকে দোয়া কুনুত পড়ার জন্য রুকূ ছেড়ে দেওয়া জায়েয হবে না। যদিও এর জন্য কিয়ামের দিকে ফিরে আসে, তাহলে গুনাহ হবে। তারপর কুনূত পড়ুক বা না পড়ুক তার উপর সাহু সিজদা দিতে হবে। দুররুল মুখতার-
لونسي القنوت ثم تذكره في الركوع لا يقنتُ فِيهِ لِفَوَاتِ مَحَلَةٍ وَلَا يَعُودَ ويسجد الى القيام فإن أعاد وقنت ولم يعد الركوع لَمْ تَفْسد صلاة ويسجد للسهوقنت اولا لزواله عن محله اه اقول وقوله ولم يعد الركوع اى ولولم يعده لانه لم يرتفض بالعود للقنوت لكان الواعاده فسدت لان زيادة مادون ركعته لا تفسد نعم لا يكفيه اذن بِسَجَوْدِ السهولانه اخر السجدة بهذا الركوع عمدا فعليه الاعادة سجد للسهوا ولم يسجد
যদি কুনুত পড়তে ভুলে যায়, রুকুতে স্বরণ হলেও স্থান ফওত হয়ে যাওয়ার কারণে কুনুত পড়বে না। কিয়ামের দিকে ফিরে যাবে না। ফিরে গিয়ে কুনুত পড়তঃ রুকু না করলে নামায নষ্ট হবে না। যথাস্থানে না হওয়ার কারণে কুনুত পড়ুক বা না পড়ুক সাহু সাজদা দিতে হবে। যদি রুকু করে বসে নামায নষ্ট হয়ে যাবে। কেননা রাকাতের বাইরে কোন কাজ বৃদ্ধি করলে, তবে সিজদা-ই সাহু তখন যথেষ্ট হবে না। কেননা এটাতো ইচ্ছাপূর্বক রুকু করার কারণে সিজদা-ই সাহু। তাই সাহুর সাজদা করুক বা না করুক পূনরায় পড়তে হবে।
(ه) ওই আয়াত ছয়টি হরফ থেকে কম যেন না হয় আর অনেকেই ইহার সাথে আরো শর্ত দিয়েছেন যে, শুধুমাত্র একটি শব্দ হতে পারবে না। অতপর তাদের নিকট مَذهَا مَتَانِ যদিও বা পূর্ণ আয়াত এবং ছয় হরফ থেকে বেশি তা নামায পরিপূর্ণতায় যথেষ্ট নয়। উহাকে মুনিয়া, যহরিয়া, সিরাজ ওহহাজ, ফাতহুল কাদীর, বাহরুর রাইক, দুররুল মুখতার ও অন্যান্য গ্রন্থে অধিক শুদ্ধ বলা হয়েছে। ইমামূল আযল ইস্তিযাবী, ইমাম মালেকুল ওলামা আবু বকর মাসউদ কাশানী বলেছেন-আমাদের ইমামে আযম রাদ্বি আল্লাহু তাআলা আনহু'র নিকট শুধু মাত্র مدهامتان দ্বারা ও জায়েয হবে এবং ইহাতে একেবারে খেলাপ বলেননি। দুররুল মুখতারের মধ্যে আছে-
اقلها ستة أحرف ولو تقديرًا كَلَمْ يُلِدُ إِذا كانت كلمة فالأصح عدم الصحة
এক শব্দ হলেও কমপক্ষে ছয় অক্ষর হতে হবে, যদিও উহ্য থাকে। যেমন- لم يلد শুদ্ধ না হওয়াটা বিশুদ্ধতম অভিমত।
হিন্দিয়ার মধ্যে আছে-
الْأَصْحَ أَنَّهَ لا يجوز كَذا في شرح الجمع لابن ملك وهكذا في الظهيرية والسراج الوهاج وفتح القدير
বিশুদ্ধতম অভিমত হল-তা জায়েয হবে না। যেরূপ ইবনে মালেকের শরহুল জমআ' কিতাবে রয়েছে। অনুরূপভাবে যহীরিয়া, সিরাজ ওয়াহহাজ, ফতহুল কাদীর গ্রন্থে বিবৃত।
ফাতহুল কদীরের মধ্যে আছে-
لوْ كَانَتْ كَلِمَةً نَحْوَ مُدها متان، ص، ق، ن، فان هذه أَيَاتُ عِنْدَ بَعْضٍ القَرَاءِ الْأَصْحَ أَنَّهُ لَا يَجوزُ لِأَنَّهُ يُسَمَّى عاد الاقارما
বাহরুর রায়েকের মধ্যে সে ব্যাপারে আলোচনা করতঃ বলেছেন-
كذا ذكره الشار حَوْنَ وَهُوَ مسلم ان فى ص و نحوه امافی مدهامتن ه، فذكر الاسبيجابي وصاحب البدائع انه يجوز على قول أبي حنيفة من غير ذكر خلاف بين المشائخ
বাদায়ে 'কিতাবে আছে-
في ظاهر الرواية قدرادنى المفروض بالاية التامة كقوله تعالى مدهامتن وما قاله ابو حنيفة أقيس اقول
যাহের রেওয়ায়াত এ আছে যে, ফরয কেরাতের সর্বনিম্ন পরিমাণ পূর্ণ এক আয়াত। যেমন আল্লাহর বাণী-مدهامتان ইমাম আবু হানিফা (রহ) যা বলেছেন ওটাই প্রনিধানযোগ্য। প্রকাশ্য হল-এক দল আলেমের মতে-এটা গ্রহণযোগ্য। বর্জন করাই শ্রেয় যদি বিশেষ অবস্থায় ইহার প্রয়োজন না হয়। তবে উদাহরণ স্বরুপ-ফজরের নামাযের মধ্যে যখন সময় কম হয়, সেই সময়- ثم فجر সর্ব সম্মতিক্রমে আমাদের ইমামের নিকট ফরজ আদায়ের জন্য যথেষ্ট। مدها متن এর দ্বারা তাড়াতাড়ি আদায় হয়ে যাবে। এর মধ্যে অক্ষরও বেশি আছে আবার এতে মদ্দে মুত্তাসিল- যা বাদ দেওয়া হারাম। হ্যাঁ, এ নিয়ম যার জানা আছে তার সম্পর্কে এ বক্তব্য। পূণরায় পড়ে নেওয়াই সতর্কতা। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলা-৪০: যদি মহিলা হজ্বে যেতে চাই আর তার স্বামী তাকে কোন কারণে নিষেধ করে তাহলে সে স্বামীর অনুমতি ব্যতিত যেতে পারবে কিনা?
ওলামা-ই দ্বীন কি বলেন- এ মাসআলার ব্যাপারে যে, যদি মহিলা হজ্বে যেতে চাই আর তার স্বামী তাকে কোন কারণে নিষেধ করে তাহলে সে স্বামীর অনুমতি ব্যতিত যেতে পারবে কিনা? বিস্তারিত বর্ণনা করুন, প্রতিদান দেয়া হবে।
জাওয়াবঃ যদি তার সাথে মহরম ব্যক্তি থাকে এবং তার উপর হজ্জও ফরয হয় তাহলে সে করতে পারবে। অন্যথায় যেতে পারবে না। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলা-৪১: যদি স্বামী তার স্ত্রীকে কোন কাজ করার আদেশ দেয় অতপর সময় এত কম যে, তার আদেশ পালন করতে গেলে নামাযের সময় থাকে না, তখন স্ত্রী, নামায পড়ে নেবে নাকি স্বামীর আদেশ পালন করবে?
ওলামা-ই দ্বীন কি বলেন-এ মাসআলার ব্যাপারে যে, যদি স্বামী তার স্ত্রীকে কোন কাজ করার আদেশ দেয় অতপর সময় এত কম যে, তার আদেশ পালন করতে গেলে নামাযের সময় থাকে না, তখন স্ত্রী, নামায পড়ে নেবে নাকি স্বামীর আদেশ পালন করবে? বিস্তারিত বর্ণনা করুন, প্রতিদান দেয়া হবে।
জাওয়াবঃ স্ত্রী নামায পড়ে নেবে। আর স্বামীর এধরনের হুকুম মানা হারাম। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলা-৪২: মিলাদ কিয়ামের ব্যাপারে
ওলামা-ই দ্বীন কি বলেন- এ মাসআলার ব্যাপারে যে, যায়েদ বলে
যে, যদি কিয়াম, মিলাদ শরীফ সাধারণত উত্তম ইবাদত হিসেবে করা হয় তাহলে প্রথমে কেন করা হয় না। প্রথমে উত্তম ইবাদতই করা হয়। যদি এ ধারণা রেখে করা হয় যে, হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাওনক বা তাশরীফ ফরমা আছেন তাহলে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথমে রাওনক বা আলোকিত হয় না। যদি হতো তাহলে মাহফিলের প্রথমে কিয়াম কেন করা হয় না? যদি করা না হয় তাহলে যখনই রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জালওয়া আফরোজ (উদ্ভাসিত) হতো এবং কিয়াম চলা পর্যন্ত তিনি তাশরীফ রাখতেন এবং লোকেরা মাহফিলে বসার সাথে সাথে তাড়াতাড়ি তিনি তাশরীফ নিয়ে যেতেন। তাহলে এর থেকে জানা যায় যে, হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তাশরীফ আনায়ন লোকদের কিয়াম এবং মিলাদ শরীফের উপর নির্ভরশীল। যায়দের এটা বলা অনর্থক হয়েছে নাকি হয়নি আর এর পূর্ণ সমাধান কি? বিস্তারিত বর্ণনা করুন, প্রতিদান দেয়া হবে।
জাওয়াবঃ যায়দের এই সব কথা বেওকুপের, মুর্খের কথা, জ্ঞানহীন লোকদের কথা। অর্থহীন ও মনগড়া কথা- যার প্রকৃত কারণ হল সে বদ-নসীব। যিকরে রাসুলের সম্মান মূলতঃ যাতে আকদাসের তা'যিম। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম'র সত্ত্বার তা'যীম বিভিন্ন অবস্থার পরিপেক্ষিতে বিভিন্নভাবে হয়। তাঁর উপস্থিতির সময় আদব সহকারে তাঁর সামনে বসাও তা'যীম। মহান সত্ত্বার শুভাগমনে দাঁড়ানোই সম্মান। আলোচনাকালে শুভাগমনের তা'যীম হয় কিয়াম বা দাঁড়ানোর মাধ্যমে। আর বাকী সময়ের তা'যীম আদব সহকারে উপবেসন করার ولكن الوهابية قَوْمَ لا يَعْقِلُونَ কিন্তু ওহাবী সম্প্রদায়রা বুঝে না। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলা-৪৩: গাইরে মুকাল্লিদ হওয়ার জন্য আশা করছি, এই উক্তি কেমন হবে? যদিও বা কোন ব্যক্তি রসিকতা করার উদ্দেশ্য তা বলে?
ওলামা-ই কিরাম কি বলেন-এই মাসআলার ব্যাপারে, যায়দ মা'আযাল্লাহ এটা বলে যে, আমি ঈসায়ী অথবা ওহাবী বা কাফির হয়ে যাব। এক ফেরকার নাম নিয়ে এসেছে, সে তাদের অন্তর্ভুক্ত হবে নাকি হবে না? অথবা এটা বলে যে, হ্যাঁ আমি চাই যে, গাইরে মুকাল্লিদ হয়ে যাব। অথবা এটা বলে যে, গাইরে মুকাল্লিদ হওয়ার জন্য আশা করছি, এই উক্তি কেমন হবে? যদিও বা কোন ব্যক্তি রসিকতা করার উদ্দেশ্য তা বলে? বিস্তারিত বর্ণনা করুন, প্রতিদান দেয়া হবে।
জাওয়াবঃ সে ব্যক্তি যে ফিরকার নাম গ্রহণ করেছে, ওই ফিরকার হয়ে যাবে। এটা রসিকতা করে বলুক অথবা অন্য কোন কারণে বলুক। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
টীকা-১ঃ (ক) কেউ এটা বলে যে, আমরা বলছি যে, মিঠা খাব, তাহলে বলার কারণে আমরা মিঠা খাইনি। একইভাবে কেউ যদি কোন বাতিল দলের নাম নেয় যে, আমি ওই দলের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব তাহলে সে ওই দলের অন্তর্ভুক্ত না হওয়া উচিত।
উত্তরঃ শুধুমাত্র মানুষ বল্লেই খেয়ে ফেলে না আর কাফির, ইসলাম-ধর্ম এসব বলার কারণে হয়ে যায়।
(খ) এর থেকে আপত্তি হয় যে, যদি কোন কাফির বলে যে, মুসলমান হয়ে যাব তাহলে সেকি মুসলমান হয়ে যাবে? অথচ সেই মুসলমান হয়ে যায়নি।
উত্তরঃ কাফিরের এ উক্তির কারণে শুধুমাত্র ইসলামকে পছন্দ করা বুঝা যায়। পছন্দ করলে মুসলমান হয়ে যায় না। যতক্ষণ পর্যন্ত ইসলাম কবুল করবে না আর মুসলমান অন্য বাতিল দল পছন্দ করলে নিজেই কাফির হয়ে যাবে। এই জন্য এখানে কুফুরী পাওয়া গেল ওখানে ইসলাম পাওয়া যায়নি যতক্ষণ পর্যন্ত ইসলাম ধর্ম কবুল করবে না। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলা-৪৪: কোন
ব্যক্তি নামাযে তা'দীলে আরকান আদায় করেনি অর্থাৎ রুকু করার পর সোজা উঠে দন্ডায়মান হয় নি, দু'সাজদার মাঝখানে না বসে দ্বিতীয় সাজদায় চলে যায়; বরং এমন দেখা গেল যে, প্রথম সাজদা থেকে এক বা দু'আঙ্গুল মাথা উঠালো তারপরে দ্বিতীয় সাজদা করে ফেলল ওই ধরনের ব্যক্তির নামায হবে নাকি হবে না?
ওলামা-ই কিরাম কি বলেন-এ মাসআলার ব্যাপারে যে, কোন
ব্যক্তি নামাযে তা'দীলে আরকান আদায় করেনি অর্থাৎ রুকু করার পর সোজা উঠে দন্ডায়মান হয় নি, দু'সাজদার মাঝখানে না বসে দ্বিতীয় সাজদায় চলে যায়; বরং এমন দেখা গেল যে, প্রথম সাজদা থেকে এক বা দু'আঙ্গুল মাথা উঠালো তারপরে দ্বিতীয় সাজদা করে ফেলল ওই ধরনের ব্যক্তির নামায হবে নাকি হবে না?
বিস্তারিত বর্ণনা করুন, প্রতিদান দেয়া হবে।
জাওয়াবঃ এধরনের নামায মোটেই হবে না এবং তা দ্বিতীয় বার পড়া ওয়াজিব। এভাবে পড়া গুনাহ, নবীজি হাদীস শরীফের মধ্যে ইরশাদ করেন- যদি কোন ব্যক্তি ষাট বছর এভাবে নামায পড়ে তবু তা কবুল হবে না। অন্য হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে-
أنا نَخَافَ لَوْمَت على ذلِكَ لَمَت على غير الفِطْرَةِ اى غيرِ دِيْنِ مَحَمَّدٍ صلى
الله تعالى عليه وسلم
অর্থাৎ আমি ভয় করতেছি যে, যদি সে ব্যক্তি এই অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে, তাহলে সে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ধর্মের উপর মৃত্যুবরণ করবে না। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলা-৪৫: স্ত্রী স্বামীর অনুমতি ছাড়া মুরীদ হতে পারবে নাকি পারবে না? যদি স্বামীর অনুমতি ছাড়া মুরীদ হয়ে যায় তাহলে তার কি হুকুম?
ওলামা-ই দ্বীন কি বলেন-এ মাসআলার ব্যাপারে, স্ত্রী স্বামীর অনুমতি ছাড়া মুরীদ হতে পারবে নাকি পারবে না? যদি স্বামীর অনুমতি ছাড়া মুরীদ হয়ে যায় তাহলে তার কি হুকুম? বিস্তারিত বর্ণনা করুন, প্রতিদান দেয়া হবে।
জাওয়াবঃ স্বামীর অনুমতি ছাড়া স্ত্রী মুরীদ হতে পারবে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলা-৪৬: ছেলে পক্ষের বাপ দাদারা ভাল ছিলেন কিন্তু তাদের স্ত্রীরা নর্তকী বা বেশ্যা ছিল বিবাহের পরে তার থেকে এই ছেলেটি জম্ম লাভ করল? উভয়ের মধ্যে বিবাহ হওয়া ভাল হবে নাকি কুফু-এর জন্য অপেক্ষা করবে?
ওলামা-ই দ্বীন কি বলেন-এ মাসআলার ব্যাপারে যে, মেয়ে বয়সপ্রাপ্তা হয়েছে এমতাবস্থায় তার কোন 'কুফু' (সমমর্যাদাবান স্বামী) পাওয়া যাচ্ছে না। অথবা কুফু ব্যতীত পাওয়া যায় অর্থাৎ কম মর্যাদাবান ছেলে পাওয়া যায় অথবা মেয়ে থেকে বেশি ধনাট্য ছেলে পাওয়া যায়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সত্ত্বাগতভাবে পূর্ণ ভাল নয়। যেমন ছেলে পক্ষের বাপ দাদারা ভাল ছিলেন কিন্তু তাদের স্ত্রীরা নর্তকী বা বেশ্যা ছিল বিবাহের পরে তার থেকে এই ছেলেটি জম্ম লাভ করল? উভয়ের মধ্যে বিবাহ হওয়া ভাল হবে নাকি কুফু-এর জন্য অপেক্ষা করবে? বিস্তারিত বর্ণনা করুন, প্রতিদান দেয়া হবে।
জাওয়াবঃ শুধুমাত্র সম্পদের দিক থেকে কম হওয়া কুফু'র প্রতিবন্ধক নয়। বাস্তব কুফু না হলে যার সাথে সেই মেয়ের বিবাহ হবে তার অবিভাবকের জন্য লজ্জার কারণ হবে। পিতা যদি সম্ভ্রান্ত বংশের হয়, নর্তকী বা বেশ্যাগিরি থেকে ফিরে আসার পরে তাকে বিবাহ করলে তার ছেলেদের বংশের উপর কোন অপবাদ আসবে না। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলা-৪৭: প্রথম রাকআতে কোন এক সূরা পড়ে দ্বিতীয় রাকআতে যদি আগের সূরা অথবা রুকু ভুলবশতঃ মূখ দিয়ে চলে আসে তাহলে সেই সূরা পড়বে না শেষের সূরা? পূর্বের সুরা পড়ে নামায শেষ করে দিলে নামায হবে নাকি হবে না?
ওলামা-ই দ্বীন কি বলেন-এ মাসআলার ব্যাপারে যে, প্রথম রাকআতে কোন এক সূরা পড়ে দ্বিতীয় রাকআতে যদি আগের সূরা অথবা রুকু ভুলবশতঃ মূখ দিয়ে চলে আসে তাহলে সেই সূরা পড়বে না শেষের সূরা? পূর্বের সুরা পড়ে নামায শেষ করে দিলে নামায হবে নাকি হবে না? বিস্তারিত বর্ণনা করুন, প্রতিদান দেয়া হবে।
জাওয়াবঃ ভুলবশতঃ মুখ দিয়ে যে সূরার এক কালিমা বের হয়ে গেছে সেটা পড়া আবশ্যক হয়ে যাবে; এটা আগে হোক বা পরে হোক। হ্যাঁ! ইচ্ছা করে বার বার তারতীর পরিবর্তন করা গুনাহ হবে। যদিও বা নামায হয়ে যায়। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলা-৪৮: (ক) আযানে ছানী'র প্রথমে উর্দু শে'র পড়ে নিয়েছে। তারপর খুতবা আরম্ভ করে দিলো। (খ) খুতবা পড়ার পর পর উর্দু শে'র পড়ার পরে নামাযের জন্য দন্ডায়মান হয়ে গেলো।
ওলামা-ই কিরাম কি বলেন- এ মাসআলার ব্যাপারে যে, (ক) আযানে ছানী'র প্রথমে উর্দু শে'র পড়ে নিয়েছে। তারপর খুতবা আরম্ভ করে দিলো। (খ) খুতবা পড়ার পর পর উর্দু শে'র পড়ার পরে নামাযের জন্য দন্ডায়মান হয়ে গেলো। বিস্তারিত বর্ণনা করুন, প্রতিদান দেয়া হবে।
জাওয়াবঃ উভয় পদ্ধতি হল সুন্নাতের পরিপন্থী। আরবী ছাড়া অন্য ভাষা খুতবায় মিলানো সুন্নাতে মুতাওয়াতেরাকে পরিত্যাগ করার নামান্তর। ওয়াজিব পরিত্যাগ হয়নি। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলা-৪৯: রোযা নামায কসর করার জন্য কতটুকু পর্যন্ত সীমা নিধারণ করা হয়েছে। রেল গাড়ীর মাধ্যমে দুই রাত দুই দিন সফরের দূরত্ব হলে রোযা নামায কসর করা যাবে কি না? আর যদি কসর করা না যায় তাহলে কত দিন সফর করলে কসর পড়তে হবে?
ওলামা-ই দ্বীন কি বলেন-এ মাসআলার ব্যাপারে, রোযা নামায কসর করার জন্য কতটুকু পর্যন্ত সীমা নিধারণ করা হয়েছে। রেল গাড়ীর মাধ্যমে দুই রাত দুই দিন সফরের দূরত্ব হলে রোযা নামায কসর করা যাবে কি না? আর যদি কসর করা না যায় তাহলে কত দিন সফর করলে কসর পড়তে হবে? বিস্তারিত বর্ণনা করুন, প্রতিদান দেয়া হবে।
জাওয়াবঃ সাড়ে সাতান্ন মাইল দুরত্ব সফর করলে রেল গাড়ির মাধ্যমে হোক বা পায়ে হেঁটে হোক তাহলে কসর পড়তে পারবে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলা-৫০: সূর্য ডুবার সময় কোরান শরীফ পড়তে পারবে নাকি পারবে না?
ওলামা-ই দ্বীন এবং শরীআতের নির্ভরযোগ্য মুফতীগণ কি বলেন এ মাসআলার ব্যাপারে যে, সূর্য ডুবার সময় কোরান শরীফ পড়তে পারবে নাকি পারবে না? বিস্তারিত বর্ণনা করুন, প্রতিদান দেয়া হবে।
জাওয়াবঃ সূর্য উঠতে এবং ডুবতে আর ঠিক দুপুর হওয়ার সময় কোরআন মজীদ তেলাওয়াত করার পরিবর্তে আল্লাহ তা'আলার যিকর, দরুদ শরীফ ইত্যাদি পড়তে পারবে। ওই তিনটি সময় কোরান মজীদ তেলাওয়াতের সময় নয়। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলা-৫১: 'لا' চিহ্নের
স্থানে অবস্থান করা অথবা রুকু বা ওয়াকফ করা কেমন? অথবা কোন ধরনের অসুবিধা আছে কি? যদি যে সমস্ত আয়াতের মধ্যে 'لا' চিহ্ন থাকে সেখানে রুকু শেষ করলে জায়েয হবে নাকি হবে না?
ওলামা-ই দ্বীন কি বলেন-এ মাসআলার ব্যাপারে যে, 'لا' চিহ্নের
স্থানে অবস্থান করা অথবা রুকু বা ওয়াকফ করা কেমন? অথবা কোন ধরনের অসুবিধা আছে কি? যদি যে সমস্ত আয়াতের মধ্যে 'لا' চিহ্ন থাকে সেখানে রুকু শেষ করলে জায়েয হবে নাকি হবে না? যেমন উপর থেকে পড়ে এসেছে আর صم بكْمٌ عُمْيٌ فَهُمْ لَا يَرْجِعُونَ এর উপর রুকু করে দেয়া জায়েয আছে নাকি কোন অসুবিধা আছে? বিস্তারিত বর্ণনা করুন, প্রতিদান দেয়া হবে।
জাওয়াবঃ সাধারণত প্রত্যেক আয়াতের উপর ওয়াকফ করা অপছন্দনীয় ব্যতীত জায়েয বরং তা হাদীসে বর্ণিত আছে। রুকু যদি অর্থ পরিপূর্ণ হয় যেমন উল্লেখিত আয়াতের মধ্যে আর অন্য উদহরণেও যদি কথা সম্পূর্ণ হয়ে যায় তখন প্রকৃতভাবে অসুবিধা নেই আর যদি অর্থ অসম্পূর্ণ হয় সামনের আয়াত ছাড়া, তাহলে বিশেষ করে উদাহরণ স্বরূপ فَوَيْلَ لِلْمَصَلَيْنَ মধ্যে অবশ্যই মন্দ হবে আর ثم رددناه أَسْفَلَ سَافِلِينَ এর মধ্যে খারাবি উহার থেকে কম। তবে সর্বাবস্থায় নামায হয়ে যাবে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলা-৫২: কোন ব্যক্তি গাজা, আফীম ও মাদক দ্রব্য এত পরিমাণ পান করে যে, এর দ্বারা নেশা আসেনি। তাহলে এব্যক্তি হারাম গুনাহয় লিপ্ত হবে কিনা?
ওলামা-ই দ্বীন এবং শরীআতের নির্ভরযোগ্য মুফতীগণ কি বলেন-এ মাসআলার ব্যাপারে যে, কোন ব্যক্তি গাজা, আফীম ও মাদক দ্রব্য এত পরিমাণ পান করে যে, এর দ্বারা নেশা আসেনি। তাহলে এব্যক্তি হারাম গুনাহয় লিপ্ত হবে কিনা? বিস্তারিত বর্ণনা করুন, প্রতিদান দেয়া হবে।
জাওয়াবঃ নেশা প্রকৃতভাবে হারাম। নেশা জাতীয় জিনিস পান করা নেশাখোরদের সাদৃশ্য হয় যদিও বা নেশার সীমা পর্যন্ত পৌছেনি। এটাও পান করা গুনাহ; এমনকি আলেমরা ইহাও বলেছেন যে, শুধুমাত্র নরমাল পানি মদের মত করে পান করাও হারাম। হ্যাঁ! যদি ঔষধের জন্য কোন কিছু মিশ্রিত করে আফীম বা মাদক বা সরস এতটুকু অংশ মিশ্রিত করা হয়-যার কারণে মস্তিষ্কে প্রভাব না পড়ে তাহলে কোন অসুবিধা নেই। বরং আফীম সামান্যতম খাওয়া থেকেও বিরত থাকা উচিত। সে দূর্গন্ধ জিনিসের প্রভাব তা নাড়ি ছিদ্র করে দেয়। যে ব্যক্তি আফীম ছাড়া কোন মছীবত খেকে সুস্থ হওয়ার আশা করা যায় না অগত্যা সে পান করতে পারবে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলা-৫৩: নামাযের ব্যাপারে কোন কিছু বলা
ওলামা-ই কিরাম কি বলেন-এ মাসআলার ব্যাপারে যে, এক ব্যক্তি সামনে দিয়ে চলে যাচ্ছে অন্য ব্যক্তিকে বলতেছে নামায হয়ে গেছে এবং জামাআত প্রস্তুত। সে বলল নামায পড়ুয়াদের উপর অভিশাপ দিচ্ছি যখন এ উক্তি অন্য তৃতীয় জনের সামনে হয় আর লোকেরা বলল এ উক্তি কুফুরী উক্তি। অতপর সে বলল এ ধরনের কথা দ্বারা কুফুরী হয় না। অথচ সেই ব্যক্তি বিবেকবান এবং বালেগ। সে ব্যক্তির ব্যাপারে শরীআতের কি হুকুম?
জাওয়াবঃ এ ভাবে বলার কারণে সে ব্যক্তি কাফির হয়ে যাবে। তার স্ত্রী বিবাহ বন্ধন থেকে বের হয়ে যাবে। তৃতীয় ব্যক্তিও নতুন করে কালিমা পড়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে হবে এবং এর পরে তার স্ত্রীকে আবার বিবাহ করতে হবে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলা-৫৪: যায়দ ঘর থেকে চলে যাওয়ার দু'বছর পর শুধুমাত্র নিজে স্ত্রীর ওয়ারিছের নিকট এ বিষয়ে লিখল যে, আমি আমার স্ত্রীকে তালাক দিচ্ছি। এখন আমার তার প্রয়োজন নেই। আমার ঘর থেকে চলে যেতে পারবে। এখন আমার আসা হবে না। আর তার কোন নাম-নিশানা ও পাত্তা নেই যে, কোথায় চলে গেল। এ চিঠির আক্ষরিক ধরণ অন্য চিঠি গুলোর সাথে মিলে গেছে। সন্দেহের কোন অবকাশ নেই। এখন তালাক হবে নাকি হবে না?
ওলামা-ই দ্বীন এবং শরীআতের নির্ভরযোগ্য মুফতীগণ কিবলেন- এ মাসআলার ব্যাপারে যে, যায়দ ঘর থেকে চলে যাওয়ার দু'বছর পর শুধুমাত্র নিজে স্ত্রীর ওয়ারিছের নিকট এ বিষয়ে লিখল যে, আমি আমার স্ত্রীকে তালাক দিচ্ছি। এখন আমার তার প্রয়োজন নেই। আমার ঘর থেকে চলে যেতে পারবে। এখন আমার আসা হবে না। আর তার কোন নাম-নিশানা ও পাত্তা নেই যে, কোথায় চলে গেল। এ চিঠির আক্ষরিক ধরণ অন্য চিঠি গুলোর সাথে মিলে গেছে। সন্দেহের কোন অবকাশ নেই। এখন তালাক হবে নাকি হবে না?
জাওয়াবঃ যদি স্ত্রী বিশ্বাস করে যে, এ পত্র তার স্বামীরই। তাহলে তার স্বাধীনতা থাকবে যে, ইদ্দতের পরে যাকে ইচ্ছা স্বামী হিসেবে বরণ করে নিতে পারবে। যেমন ফাতওয়া-ই হিন্দিয়া'র মধ্যে সারখসী'র মুহীত্ব থেকে এরূপ বর্ণিত রয়েছে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলা-৫৫: গর্ভবর্তী অবস্থায় স্ত্রীকে তালাক দেওয়া জায়েয আছে নাকি নেই? যদি জায়েয হয় তাহলে তার ইদ্দত কি হবে?
ওলামা-ই দ্বীন কি বলেন-এই মাসআলার ব্যাপারে যে, গর্ভবর্তী অবস্থায় স্ত্রীকে তালাক দেওয়া জায়েয আছে নাকি নেই? যদি জায়েয হয় তাহলে তার ইদ্দত কি হবে?
জাওয়াবঃ গর্ভবতী অবস্থায় স্ত্রীকে তালাক দেওয়া যায় না। যদি তালাক দিয়ে দেয় তাহলে তালাক হয়ে যাবে। আর তার ইদ্দত হবে সন্তান প্রসব হওয়া পর্যন্ত। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলা-৫৬: নামাযের কিরাত অসম্পূর্ণ পড়লে কি নামায হবে?
ওলামা-ই দ্বীন এবং শরীআতের নির্ভরযোগ্য মুফতীগণ কি বলেন-
এ মাসআলার ব্যাপারে যে, ইমাম সাহেব সূরা আলিফ লাম, মীম الم পূরা রুকু অর্থাৎ وَلَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ পর্যন্ত পড়লেন- যার মধ্যে-
الم ذالك الكِتَابَ لَا رَيْبَ فِيهِ هُدى للمتقين الذينَ يُؤْمِنُونَ بِالغَيْبِ وَيُقِيمُونَ الصَّلوةُ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ ينفقون
পর্যন্ত ঠিকভাবে পড়লেন, তারপর والذين يؤمنون بما انزل اليك এর স্থানে والذين يومنون بالغيب পড়ে আগে চলে গেল আর আগে ان الذين এর স্থানে والذين পড়ে ফেলেছে এবং সাহু সাজদা দিয়েছে। এখন তার নামায হবে নাকি হবে না? শুধুমাত্র অতটুকু আয়াত পড়াতে নামায হবে নাকি হবে না?
জাওয়াবঃ নামায হয়ে গেছে। সাহু সাজদা দেওয়ার কোন প্রয়োজন নেই। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলা-৫৭: পান ব্যবসায়ী অথবা সুরমা বিক্রেতাকে কোন ব্যক্তি দশ বা পাঁচ রুপিয়া দিয়ে তাকে বলল যে, যতক্ষণ পর্যন্ত আমার টাকা তোমার কাছে থাকবে আমাকে প্রতিদিন প্রয়োজন মত পান-সুপারী দেবে। যখন টাকা ফিরিয়ে দেবে তখন আমাকে আর পান দিবে না, এ পদ্ধতি জায়েয না হলে জায়েয হওয়ার জন্য কোন পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে?
ওলামা-ই দ্বীন কি বলেন-এ মাসআলার ব্যাপারে যে, পান ব্যবসায়ী অথবা সুরমা বিক্রেতাকে কোন ব্যক্তি দশ বা পাঁচ রুপিয়া দিয়ে তাকে বলল যে, যতক্ষণ পর্যন্ত আমার টাকা তোমার কাছে থাকবে আমাকে প্রতিদিন প্রয়োজন মত পান-সুপারী দেবে। যখন টাকা ফিরিয়ে দেবে তখন আমাকে আর পান দিবে না, এ পদ্ধতি জায়েয না হলে জায়েয হওয়ার জন্য কোন পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে? বিস্তারিত বর্ণনা করুন, প্রতিদান দেয়া হবে।
জাওয়াবঃ এ পদ্ধতি সরাসরি সুদ এবং তা হারাম। সুদ খাওয়ার কোন জায়েয পন্থা নেই। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলা-৫৮: নিসাব হওয়ার জন্য শর্ত এটাও আছে যে, সাড়ে বায়ান্ন তোলা চাঁদী অথবা সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ'র পরিমাণ টাকা মওজুদ থাকে, যখন কোরবানী ওয়াজিব হয় অথবা ততটুকু পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়া। চাই তা ক্ষেত-খামার অথবা চতুষ্পদ প্রাণী হোক। যদি কোন ব্যক্তির নিকট ষাট রূপিয়া দামের মহিষ অথবা বলদ থাকে তাহলে তার উপর কোরবানী ওয়াজিব হবে কি না?
শরীআতের নির্ভরযোগ্য মুফতীগণ কি বলেন-এ মাসআলার ব্যাপারে যে, নিসাব হওয়ার জন্য শর্ত এটাও আছে যে, সাড়ে বায়ান্ন তোলা চাঁদী অথবা সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ'র পরিমাণ টাকা মওজুদ থাকে, যখন কোরবানী ওয়াজিব হয় অথবা ততটুকু পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়া। চাই তা ক্ষেত-খামার অথবা চতুষ্পদ প্রাণী হোক। যদি কোন ব্যক্তির নিকট ষাট রূপিয়া দামের মহিষ অথবা বলদ থাকে তাহলে তার উপর কোরবানী ওয়াজিব হবে কি না? কারো কাছে মাসিক কয়েক হাজার রূপিয়া আমদানী রয়েছে। কিন্তু কোরবানীর দিন তার নিকট এক টাকাও মওজুদ নেই তাহলে সে কর্জ নিয়ে কোরবানী করবে কি না? ইহার উপর অনুমান করতঃ শষ্য বেচা-কেনা করে কোরবানী করবে নাকি করবে না? বিস্তারিত বর্ণনা করুন, প্রতিদান দেয়া হবে।
জাওয়াবঃ কোরবানী করার জন্য শুধুমাত্র এতটুকু সম্পদের প্রয়োজন যে, সেই কোরবানীর দিন সমূহের মধ্যে সকল মুল প্রয়োজন ছাড়া ছাপপান্ন রূপিয়ার মালিক হওয়া। চাই সেই সম্পদ নগদ হোক কিংবা গরু-মহিষ অথবা ক্ষেত-খামার হোক। কৃষি জমির হালের বলদ তার মূল প্রয়োজনের অর্ন্তভূক্ত; তা গণনা করা যাবে না।
মাসিক হাজার রূপিয়ার ইনকামকারীর কাছে কোরবানীর দিনসমূহে ছাপ্পান্ন রূপিয়া না থাকা বাস্তবের বিপরীত। যদি এভাবে মেনে নেয়া হয় যে, সে সময় সে বাস্তবে ফকির; অবশ্যই তার উপর কোরবানী ওয়াজিব নয়। যার উপর কোরবানী ওয়াজিব তার কাছে নগদ টাকা না থাকলে সে যদি চাই কর্জ নিয়ে কোরবানী করতে পারবে। অথবা তার কিছু মাল বিক্রি করবে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলা-৫৯: ইমাম সাহেব তিন আয়াত পড়ার পর অর্থের মধ্যে ফাসাদ সৃষ্টি হল। যেমন সূরা ইউছুপের শুরুতে চার আয়াত পড়ার পর رَأَيْتُهُمُ এর স্থানে رَأَيْتَهُم পড়ে ফেললেন। এ অবস্থায় নামায হবে নাকি হবে না?
ওলামা-ই আহনাফগণ কি বলেন-এ মাসআলার ব্যাপারে যে, ইমাম সাহেব তিন আয়াত পড়ার পর অর্থের মধ্যে ফাসাদ সৃষ্টি হল। যেমন সূরা ইউছুপের শুরুতে চার আয়াত পড়ার পর رَأَيْتُهُمُ এর স্থানে رَأَيْتَهُم পড়ে ফেললেন। এ অবস্থায় নামায হবে নাকি হবে না? বিস্তারিত বর্ণনা করুন, প্রতিদান দেয়া হবে।
জাওয়াবঃ অর্থ পরিবর্তন হাজার আয়াতের পর হলেও নামায নষ্ট হয়ে যাবে। কিন্তু এখানে رَأَيْتَهُم এর মধ্যে 'ت' এর উপর যবর পড়াটা নষ্টকারী হবে না নামায হয়ে যাবে।।
💠 মাসআলা-৬০: যদি আযান না হয় অথবা আযান হয়েছে কিন্তু ভুল হয়েছে তাহলে এমতাবস্থায় নামায পড়লে ক্ষতি হবে কিনা? তারাবীহ'র নামায নাবালেগ হাফেজ পড়াতে পারবে নাকি পারবে না? নাবালেগ ছেলে আযান দিতে পারবে নাকি পারবে না? যদি আযান দিয়ে ফেলে তাহলে পুনরায় আবার দিতে হবে কি না?
ওলামা-ই দ্বীন কি বলেন-এ মাসআলার ব্যাপারে যে, যদি আযান না হয় অথবা আযান হয়েছে কিন্তু ভুল হয়েছে তাহলে এমতাবস্থায় নামায পড়লে ক্ষতি হবে কিনা? তারাবীহ'র নামায নাবালেগ হাফেজ পড়াতে পারবে নাকি পারবে না? নাবালেগ ছেলে আযান দিতে পারবে নাকি পারবে না? যদি আযান দিয়ে ফেলে তাহলে পুনরায় আবার দিতে হবে কি না? বিস্তারিত বর্ণনা করুন, প্রতিদান দেয়া হবে।
জাওয়াবঃ (১) আযান ব্যতিত জামাত পড়া মাকরুহ এবং নামাযও মাকরূহ। আযানে এভাবে ভুল হয় যে, শরীআতে তা আযান বলে স্বাকীর করে না তাহলে ওটা আযান ব্যতিত ধরে নেয়া হবে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(২) নাবলেগ ছেলের পেছনে বালেগের কোন নামায হবে না। যদিও তা তারাবীহর নামায অথবা নফল নামায হয়।
(৩) নাবালেগ ছেলে যদি বুদ্ধিমান হয় তার আযানকে শরয়ী আযান ধরা হবে। আর যদি তার আযানকে আযান হিসেবে বুঝা না যায় তবে পুনরায় দিতে হবে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলা-৬১: এক ব্যক্তি সাহরীর সময় শেষ হয়ে যাওযার পর রাত আছে মনে করে হুক্কা পান করলো অর্থাৎ সাহরীর সময় আছে মনে করলে তার রোযা হবে কি না?
ওলামা-ই দ্বীন এবং শরীআতের নির্ভরযোগ্য মুফতীগণ কি বলেন-এ মাসআলার ব্যাপারে যে, এক ব্যক্তি সাহরীর সময় শেষ হয়ে যাওযার পর রাত আছে মনে করে হুক্কা পান করলো অর্থাৎ সাহরীর সময় আছে মনে করলে তার রোযা হবে কি না?
জাওয়াবঃ যদি সুবহি সাদিক উদিত হওয়ার পর পান করে রোযা হবে না। তাকে পুরা করতে হবে এবং কাযা দিতে হবে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলা-৬২: স্বর্ণ, রৌপ্যও পিতল ইত্যাদির আংটি অথবা বোতাম অথবা ঘড়ির ব্যাল্ট পুরুষদের জন্য জায়েয হবে কিনা? আর তা পরিধান করে নামায পড়া বা পড়ানো ঠিক হবে কি না?
ওলামা-ই দ্বীন কি বলেন-এ মাসআলার ব্যাপারে যে, স্বর্ণ, রৌপ্যও পিতল ইত্যাদির আংটি অথবা বোতাম অথবা ঘড়ির ব্যাল্ট পুরুষদের জন্য জায়েয হবে কিনা? আর তা পরিধান করে নামায পড়া বা পড়ানো ঠিক হবে কি না? বিস্তারিত বর্ণনা করুন, প্রতিদান দেয়া হবে।
জাওয়াবঃ চাঁদির একটি আংটি এক পাথর বিশিষ্ট সাড়ে চার মাশা (এক মাশা সমান
আট রত্তি) এর চেয়ে কম ওজনের হলে পুরুষের জন্য জায়েয। চাদীর দু'টি আংটি বা কয়েক পাথর বিশিষ্ট একটি আংটি সাড়ে চার মাশার চেয়ে বেশি হলে এবং স্বর্ণ, কাঁসা, পিতল, তামা ও লোহার তৈরী আংটি সাধারণত নাজায়েয। ঘড়ির চেইন সোনা বা চাঁদীর হলে তা ব্যবহার করা পুরুষের জন্য হারাম এবং ধাতুর হলেও নিষিদ্ধ। আর যে সকল জিনিস ব্যবহার করা নিষেধ করা হয়েছে তা পরিধান করে নামায এবং ইমামতি করা মাকরুহে তাহরিমী। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলা-৬৩: সোনা-চাঁদীর বোতাম শিকল ব্যতিত পুরুষের জন্য ব্যবহার করা জায়েয আছে কি নেই?
ওলামা-ই দ্বীন কি বলেন-এ মাসআলার ব্যাপারে যে, সোনা-চাঁদীর বোতাম শিকল ব্যতিত পুরুষের জন্য ব্যবহার করা জায়েয আছে কি নেই? বিস্তারিত 'বর্ণনা করুন, প্রতিদান দেয়া হবে।
জাওয়াবঃ শিকল ছাড়া সোনা- চাঁদীর বোতাম পুরুষের জন্য ব্যবহার করা জায়েয তবে শিকলওয়ালা নিষেধ। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলা-৬৪: যদি কোন ব্যক্তি চাঁদীর শিকলওয়ালা বোতাম সাজের নিয়তে পরিধান করে না বরং এ মনে করে পরিধান করে যে, অন্য প্রকারের বোতাম নষ্ট হয়ে যায়। এ নিয়তে পরিধান করা দুরস্ত আছে কিনা?
ওলামা-ই কিরাম কি বলেন- এ মাসআলার ব্যাপারে যে, যদি কোন ব্যক্তি চাঁদীর শিকলওয়ালা বোতাম সাজের নিয়তে পরিধান করে না বরং এ মনে করে পরিধান করে যে, অন্য প্রকারের বোতাম নষ্ট হয়ে যায়। এ নিয়তে পরিধান করা দুরস্ত আছে কিনা? বিস্তারিত বর্ণনা করুন, প্রতিদান দেয়া হবে।
জাওয়াবঃ এই নিয়তে পরিধান করলেও নাজায়েয, জায়েয হবে না। আল্লাহই
সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলা-৬৫: যে ব্যক্তি ফজরের সুন্নাত পড়েনি আর দশ বার মিনিট বাকী আছে সূর্য উদয় হওয়ার তাহলে সে নামায পড়তে পারবে কিনা? এভাবে যোহরের সুন্নাত না পড়ে ইমামতি করতে পারবে কিনা?
ওলামা-ই দ্বীন কি বলেন-এ মাসআলার ব্যাপারে যে, যে ব্যক্তি ফজরের সুন্নাত পড়েনি আর দশ বার মিনিট বাকী আছে সূর্য উদয় হওয়ার তাহলে সে নামায পড়তে পারবে কিনা? এভাবে যোহরের সুন্নাত না পড়ে ইমামতি করতে পারবে কিনা? বিস্তারিত বর্ণনা করুন, প্রতিদান দেয়া হবে।
জাওয়াবঃ যদি ফরজ নামায পড়ার সময়ই অবশিষ্ট থাকে তাহলে সুন্নাত বাদ রাখবে। অতপর যদি এক দলের মধ্যে কোন ব্যক্তি এখনও সুন্নাত না পড়ে অথবা যিনি সুন্নাত পড়েছে সে ইমামতি করার যোগ্য নয় তখন যিনি সুন্নাত পড়েনি তিনি ইমামতি করবেন। আর যদি সময় থাকে তাহলে পূর্বের সুন্নাতকে বাদ দেওয়া গুনাহ এবং তার ইমামতি করা মাকরূহ হবে। দশ বার মিনিটের মধ্যে সুন্নাত এবং ফরয সবগুলো পড়তে পারে। সুন্নাত পড়ে নামায পড়াবে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলা-৬৬: নামায পড়ার জন্য ঘুমন্ত ব্যক্তিকে জাগানো যাবে কিনা?
ওলামা-ই দ্বীন কি বলেন-এ মাসআলার ব্যাপারে যে, নামায পড়ার জন্য ঘুমন্ত ব্যক্তিকে জাগানো যাবে কিনা? বিস্তারিত বর্ণনা করুন, প্রতিদান দেয়া হবে।
জাওয়াবঃ অবশ্যই নামাযের জন্য জাগ্রত করতে পারবে।
💠 মাসআলা-৬৭: ইকামাতের তাকবীর দাঁড়িয়ে শ্রবন করা সুন্নাত নাকি বসে?
ওলামা-ই আহনাফগণ কি বলেন-এ মাসআলার ব্যাপারে যে, ইকামাতের তাকবীর দাঁড়িয়ে শ্রবন করা সুন্নাত নাকি বসে? বিস্তারিত বর্ণনা করুন, প্রতিদান দেয়া হবে।
জাওয়াবঃ বসে শুনবে। দন্ডায়মান হয়ে শুনা মাকরূহ। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলা-৬৮: ওলামা-ই দ্বীন কি বলেন-এ মাসআলার ব্যাপারে যে, ইমাম সাহেব রুকবু মধ্যে আছে। এক ব্যক্তি একটি মাত্র তাকবীর বলে জামাতে শামিল হল। তাহলে এটা তাকবীরে তাহরীমা তথা প্রথম তাকবীর হল না রুকুর সুন্নাত তাকবীর? এই পদ্ধতিতে নামায পড়লে ওই মুক্তাদীর নামায হবে কিনা? বিস্তারিত বর্ণনা করুন, প্রতিদান দেয়া হবে।
জাওয়াবঃ যদি সে তাকবীরে তাহরীমা বলে অর্থাৎ সোজা দাঁড়ায়ে তাকবীর বলে। হাত ছেড়ে দিলে হাঁটু পর্যন্ত না গেলে নামায হয়ে গেছে। আর যদি তাকবীরে ইন্তিকাল অর্থাৎ ঝকে যাওয়ার সময় যদি তাকবীর বলে তাহলে নামায হবে না। তাকে দু'তাকবীর বলার জন্য হুকুম রয়েছে-একটি হলো তাকবীরে তাহরীমা আরেকটা হলো তাকবীরে ইন্তিকাল তথা রুকুর তাকবীর। প্রথম তাকবীর হলো তাকবীরে তাহরীমা, যা দন্ডায়মান অবস্থায় বলতে হয়। দ্বিতীয় তাকবীর হল তাকবীরে ইন্তিকাল-যা রুকুতে যাওয়ার সময় বলতে হয়। "দুররুল মুখতার” কিতাবে রয়েছে-ছে-
وَلَوْ وُجِدَ الْإِمَامُ رَاكِعًا فَكَبَّرَ مُنْخَسِيًّا ان الى القِيَامِ أَقْرَبُ صَحَ وَلَعْتُ بَيْتُهُ لا تكبيرة الركوع .
মাসআলা-৬৯ঃ ওলামা-ই দ্বীন কি বলেন-এ মাসআলা প্রসংগে যে, এক ব্যক্তির গোসলের প্রয়োজন হয়েছে, যদি সে গোসল করতে যায় তাহলে ফজরের নামায কাযা হয়ে যাবে। সে এই অবস্থায় কি করবে? বিস্তারিত বর্ণনা করুন, প্রতিদান দেয়া হবে।
জাওয়াবঃ সে ব্যক্তি তায়াম্মুম করে নামায পড়ে নেবে এবং তারপর গোসল করে ওই নামায পূনরায় আদায় করবে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলা-৭০: দাড়ি মুন্ডানো, লোম নাশক ব্যবহারকারী এবং শরীআতের সীমা থেকে কম দাড়ি রাখা ব্যক্তি ফাসিক হবে কিনা?
ওলামা-ই দ্বীন কি বলেন-এ মাসআলার ব্যাপারে দাড়ি মুন্ডানো, লোম নাশক ব্যবহারকারী এবং শরীআতের সীমা থেকে কম দাড়ি রাখা ব্যক্তি ফাসিক হবে কিনা? আর তার পিছনে ফরয নামায অথবা তারাবীহর নামায পড়া যাবে কিনা? আর হাদীসে পাকে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ব্যাপারে কি ইরশাদ করেছেন এবং তার হাশর কোন সম্প্রদায়ের সাথে হবে? বিস্তারিত বর্ণনা করুন, প্রতিদান দেয়া হবে।
জাওয়াবঃ দাড়ি মুন্ডানো এবং ছোট করা ব্যক্তি অভিশপ্ত ফাসিক। তাকে ইমাম বানানো গুনাহ। ফরয নামায অথবা তারাবীহর নামাযে তাকে ইমাম বানানো জায়েয নেই। হাদীস পাকে তার উপর গযব নাযিল এবং হত্যা করা ইত্যাদি শাস্তির কথা বলা হয়েছে। আর কোরআনে আযীমের মধ্যে তার উপর লা'নতের কথা রয়েছে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দুশমনদের সাথে তার হাশর হবে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলা-৭১: শরীআতের মধ্যে দাড়ি কতটুকু রাখার কথা বলা হয়েছে?
ওলামা-ই কিরাম কি বলেন-এ মাসআলার ব্যাপারে যে, শরীআতের মধ্যে দাড়ি কতটুকু রাখার কথা বলা হয়েছে? বিস্তারিত বর্ণনা করুন, প্রতিদান দেয়া হবে।
জাওয়াবঃ তুথনি বা চিবুকের নিচ থেকে চার আঙ্গুল পরিমাণ পর্যন্ত দাড়ি রাখতে হবে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলা-৭২: সূর্য উঠার কতটুকু সময়ের পর নামায পড়ার হুকুম আছে?
ওলামা-ই দ্বীন কি বলেন-এ মাসআলার ব্যাপারে যে, সূর্য উঠার কতটুকু সময়ের পর নামায পড়ার হুকুম আছে? বিস্তারিত বর্ণনা করুন, প্রতিদান দেয়া হবে।
জাওয়াবঃ সূর্য উঠার পর থেকে কমপক্ষে বিশ মিনিট সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করা ওয়াজিব। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলা-৭৩: কবরসমূহ পাকা করা বৈধ কিনা?
ওলামা-ই দ্বীন কি বলেন-এ মাসআলার ব্যাপারে যে, কবরসমূহ পাকা করা বৈধ কিনা? বিস্তারিত বর্ণনা করুন, প্রতিদান দেয়া হবে।
জাওয়াবঃ মৃত ব্যক্তির চারপাশ পাকা না হলে কবরের উপরের অংশ পাকা করে দিলে কোন অসুবিধা নেই।
💠 মাসআলা-৭৪: যদি কোন সুন্নী মুসলমান কোন ওহাবী অথবা ইহুদী বা নাসারা অথবা কোন কাফিরের সাথে কথাবার্তা বলে অথবা কারো সাথে বসে অথবা কারো সাথে চাকরী করে তাহলে সেই মুসলমান কাফির হয়ে যাবে কিনা? আর যদি কাফির না হয় তাহলে অন্য ব্যক্তি তাকে কাফির বললে তার হুকুম কি?
ওলামা-ই দ্বীন কি বলেন-এ মাসআলার ব্যাপারে যে, যদি কোন সুন্নী মুসলমান কোন ওহাবী অথবা ইহুদী বা নাসারা অথবা কোন কাফিরের সাথে কথাবার্তা বলে অথবা কারো সাথে বসে অথবা কারো সাথে চাকরী করে তাহলে সেই মুসলমান কাফির হয়ে যাবে কিনা? আর যদি কাফির না হয় তাহলে অন্য ব্যক্তি তাকে কাফির বললে তার হুকুম কি? বিস্তারিত বর্ণনা করুন, প্রতিদান দেয়া হবে।
জাওয়াবঃ প্রকৃত কাফির গায়রে মুরতাদ'র চাকরীতে যদি কোন কাজ শরীআতের
বরখেলাপ করতে না হয় তাহলে জায়েয হবে। আর দুনিয়াবী কাজ, কথাবার্তা তাদের সাথে করা এবং কিছু সময় তাদের সাথে বসা নিষেধ নেই। এতটুকু সংস্রবে কাফিরতো দূরের কথা ফাসিকও বলা যাবে না। হ্যাঁ! মুরতাদের সাথে এ সব কিছু নিষেধ করা হয়েছে। ততক্ষণ পর্যন্ত কাফির হবে না যতক্ষণ তার কুফরি আকীদা সম্পর্কে অবগত হওয়ার পর তাকে কুফরের প্রতি সন্দেহ করা না হয়। সন্দেহ করলে অবশ্যই কাফির হয়ে যাবে। কুফুরী প্রমাণিত হওয়া পর্যন্ত মুসলমানদেরকে কাফির বলা কবীরা গুনাহ হবে। এমনকি হাদীসে পাকে ইরশাদ হয়েছে, ওটা বলার কারণে যে ব্যক্তি কাফির বলেছে তার দিকে তা পূনরায় ফিরবে। আল্লাহর কাছে পানাহ চাই। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলা-৭৫: যায়দ নিজের স্ত্রীকে তার পিতা-মাতার নিকট এই জন্য যেতে নিষেধ করে যে, তাদের উভয়ের ঘর এক। যার দরজা এবং বারান্দা এক। যেখানে তার শ্বশুর-শ্বাশুরী ব্যতিত অন্য দুই ব্যক্তি ভাড়া থাকে। এমতাবস্থায় যায়দ স্বীয় স্ত্রীকে শরীআতের দৃষ্টিতে বাঁধা দেওয়ার হুকুম আছে কিনা? যদি অনুমতি ছাড়া যায়দের স্ত্রী চলে যায় তখন যায়দ কি শাস্তি করতে পারবে?
ওলামা-ই দ্বীন কি বলেন-এ মাসআলার ব্যাপারে যে, যায়দ নিজের স্ত্রীকে তার পিতা-মাতার নিকট এই জন্য যেতে নিষেধ করে যে, তাদের উভয়ের ঘর এক। যার দরজা এবং বারান্দা এক। যেখানে তার শ্বশুর-শ্বাশুরী ব্যতিত অন্য দুই ব্যক্তি ভাড়া থাকে। এমতাবস্থায় যায়দ স্বীয় স্ত্রীকে শরীআতের দৃষ্টিতে বাঁধা দেওয়ার হুকুম আছে কিনা? যদি অনুমতি ছাড়া যায়দের স্ত্রী চলে যায় তখন যায়দ কি শাস্তি করতে পারবে? বিস্তারিত বর্ণনা করুন, প্রতিদান দেয়া হবে।
জাওয়াবঃ যদি সেখানে শরীয়আতের পর্দার সুব্যবস্থা থাকে তাহলে যায়দ সেটার ব্যবস্থা করবে। আর স্ত্রীকে অষ্টম দিনে পিতা-মাতার নিকট শুধুমাত্র দিনের বেলায় যাওয়ার অনুমতি প্রদান করবে। রাতে ওখানে থাকবে না। এতটুকু যেতে বাঁধা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। এতেও বাঁধা প্রদান করলে স্ত্রী অষ্টম দিনে অনুমতি ছাড়া পর্দার ভিতরে দিনে গিয়ে দিনে চলে আসতে পারে। যায়দ এতটুকুতে শাস্তি প্রদান করলে যালেমের অন্তর্ভূক্ত হবে। যদি সেখানে শরীআত অনুযায়ী পর্দার ব্যবস্থা না থাকে তাহলে নিঃসন্দেহে যায়দ বাঁধা দিতে পারবে। বরং বাঁধা দেওয়ার হুকুম দেওয়া হয়েছে। আর যদি এমতাবস্থায় স্ত্রী অনুমতি ছাড়া চলে যায়, তাহলে যতক্ষণ পর্যন্ত সেখান থেকে ফিরে আসবে না ততক্ষণ পর্যন্ত তার খোর-পোষ বন্ধ থাকবে। আর যায়দ তাকে শরীআত অনুযায়ী শাস্তি প্রদান করতে পারবে। প্রথমে বুঝাবে, যদি না বুঝে তাহলে বিছানা আলাদা করবে আর যদি তাও না মানে তাহলে মারবে; কিন্তু মুখের উপর মারা যাবে না এবং বেশিও মারা যাবে না। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলা-৭৬: যিকরে জলী (প্রকাশ্য যিকির) করা জায়েয আছে কিনা? আওয়াজ কতটুকু উঁচু করতে পারবে। কোন নির্দিষ্ট সীমা আছে নাকি নেই। গোলাকৃতিতে যিকির করতে করতে দাঁড়িয়ে যাওয়া, সীনার উপর হাত মারা এবং একজন আরেকজনের উপর গড়িয়ে পড়া, শুয়ে যাওয়া এবং কান্নাকাটি শোরগোল করা কেমন?
ওলামা-ই দ্বীন এবং শরীআতের নির্ভরযোগ্য মুক্তীগণ কি বলেন-এ মাসআলার ব্যাপারে যে, যিকরে জলী (প্রকাশ্য যিকির) করা জায়েয আছে কিনা? আওয়াজ কতটুকু উঁচু করতে পারবে। কোন নির্দিষ্ট সীমা আছে নাকি নেই। গোলাকৃতিতে যিকির করতে করতে দাঁড়িয়ে যাওয়া, সীনার উপর হাত মারা এবং একজন আরেকজনের উপর গড়িয়ে পড়া, শুয়ে যাওয়া এবং কান্নাকাটি শোরগোল করা কেমন? বিস্তারিত বর্ণনা করুন, প্রতিদান দেয়া হবে।
জাওয়াবঃ যিকরে জলী জায়েয। তার নির্দিষ্ট সীমা হল- এতটুকু আওয়াজ যেন না হয়-যার কারণে নিজের ক্ষতি হয় অথবা কোন নামাযী অথবা রোগী অথবা শয়নকারীর কষ্ট হয়। যিকির করতে করতে দাঁড়িয়ে যাওয়া ইত্যাদি উল্লেখিত কাজসমূহ যদি ওজদ'র অবস্থায় হয় তাহলে জায়েয আছে; কোন অসুবিধা নেই। আর মা'যাল্লাহ! লোক দেখানো হয় তাহলে হারাম। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
মাসআলা-৭৭ঃ ওলামা-ই দ্বীন কি বলেন-এ মাসআলার ব্যাপারে যে, এক ব্যক্তি
নামায এবং কালিমা জানে না। তাকে বলা হল যে, কালিমা স্বরণ কর এবং নামায শিখ। তখন সে বলল, আমি শিখতে পারি না আর আমার স্বরণও থাকে না। তা আমার দ্বারা হবে না। এ ব্যাপারে শরীআতের হুকুম কি? সে এক ইংরেজের চাটুকার। এ বিষয়ে বিস্তারিত লিখে জানাবেন। বিস্তারিত বর্ণনা করুন, প্রতিদান দেয়া হবে।
জাওয়াবঃ তাকে নতুন করে মুসলমান হওয়া উচিত। তাকে কালিমা-ই তাইয়্যিবা পড়ার জন্য বলা হবে। আর সে অস্বীকার করলে তার বিধানের ব্যাপারে আলেমগণ কুফরী লিখেছেন। যে কালিমা শিখতে অস্বীকার করে তার ব্যাপার ভিন্ন। আল্লাহর কাছে পানাহ চাই। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলা-৭৮: শিক্ষার জন্য দু' সুন্নী মুনাযেরা করে। একজন সুন্নী আরেকজন ওহাবী সেজে। একজন ওহাবীর আপত্তিসমূহ অথবা তাদের পক্ষ থেকে জবাব পেশ করবে। দ্বিতীয়জন সুন্নীদের পক্ষ থেকে জবাব দেবে। তাহলে জায়েয এবং ভাল হবে কি না?
ওলামা-ই দ্বীন কি বলেন-এ মাসআলার ব্যাপারে যে, শিক্ষার জন্য দু' সুন্নী মুনাযেরা করে। একজন সুন্নী আরেকজন ওহাবী সেজে। একজন ওহাবীর আপত্তিসমূহ অথবা তাদের পক্ষ থেকে জবাব পেশ করবে। দ্বিতীয়জন সুন্নীদের পক্ষ থেকে জবাব দেবে। তাহলে জায়েয এবং ভাল হবে কি না? এরই উপর কিয়াস করতঃ অন্যান্য বদমাযহাবের আলোচনা সাধারণত মজলিসে করা যাবে না; প্রাথমিক স্তরের ছাত্র হলেও। বিস্তারিত বর্ণনা করুন, প্রতিদান দেয়া হবে।
জাওয়াবঃ জবরদস্তি ছাড়া ওহাবী বেশে অভিনয় করলে ওহাবী হয়ে যায়। কাফিরের অভিনয় করলে কাফির হয়ে যাবে। মুনাযেরার প্রশিক্ষণ ওহাবী সেজে করা শর্ত নয়। হ্যাঁ! যদি ওহাবী না হয়ে প্রশিক্ষণের জন্য ওহাবীর আপত্তিগুলো একজন অন্য জনের নিকট পেশ করতঃ জবাব শুনে এবং বহছ করা হয় তাহলে তিনটি শর্তের ভিত্তিতে জায়েয হবে।
(১) এই আপত্তিগুলো উপস্থাপনকারী অবিচল সুন্নী হতে হবে। সংশয়ের কারণে যদি দোদ্যুল্লমান হয় তাহলে উপরোল্লেখিত আপত্তির কারণে ঈমানও চলে যায়।
(২) যখন জবাব যথাযোগ্য হয়; তবে যদি বিরুদ্ধাচরণমূলক হয় তাহলে সাধারণভাবে হারাম।
(৩) ওখানে শিক্ষার্থী ব্যতিত এমন কেউ হতে পারবে না যার দ্বারা ফেতনা ফ্যাসাদের আশংকা হবে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলা-৭৯:
ওলামা-ই কিরাম এবং শরীআতের নির্ভরযোগ্য মুফতীগণ কি বলেন-এ মাসআলার ব্যপারে, অধিকাংশ মুসলমান অজ্ঞতার কারণে মুশরিকদের অনুরূপ বলে থাকে। অমুক মুশরিক অমুক কাজে অথবা চরিত্রে ভাল; একথা বলা মুসলমানদের জন্য কতটুকু জায়েয এবং কি গুনাহ তার যিম্মায় আবর্তিত হবে? বিস্তারিত বর্ণনা করুন, প্রতিদান দেয়া হবে।
জাওয়াবঃ আখলাকের ব্যাপারে ভাল এটা বলা গুনাহ। কোন দুনিয়াবী কাজের মধ্যে বলা যেমন সাঁতার কাটা ভাল অথবা ঘোড়ার উপর চড়তে ভাল পারদর্শী অথবা সে ভাল বহন করতে পারে; এভাবে বললে কোন অসুবিধা নেই। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসাআলা-৮০: কোন তালেবে ইলমের ইন্তেকালের পরে তাহার আসবাব-পত্রগুলো অন্য তালেবে ইলমের জন্য দেওয়া জায়েয হবে কি না?
ওলামা-ই দ্বীন কি বলেন-এ মাসআলার ব্যাপারে যে, একজন তালেবে ইলম যার ইন্তিকালের পর তিন বছর অতিবাহিত হয়েছে। তার কাফন দাফন মহল্লাবাসীর পক্ষ থেকে হয়েছে। তার কিছু প্রয়োজনীয় সামান তালা চাবি, বিছানা পত্র, কিছু কিতাব এবং চার রূপিয়া মুদ্রা পাওয়া গেল যা মহল্লাবাসীর মধ্যে এক ব্যক্তির নিকট আমানত হিসেবে এখনও পর্যন্ত জমা আছে। এই সামান পত্রের ব্যাপারে তার উত্তরসূরীকে মানযারুল ইসলাম মাদরাসার এক ছাত্র দ্বারা সংবাদ দেওয়া হল। কিন্তু এখনো পর্যন্ত তার পক্ষ থেকে কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। এই আসবাব-পত্রগুলো অন্য তালেবে ইলমের জন্য দেওয়া জায়েয হবে কি না? বিস্তারিত বর্ণনা করুন, প্রতিদান দেয়া হবে।
জাওয়াবঃ ওয়ারিছের সন্ধানে চেষ্টা করতে হবে। যখন না পাওয়ার আশা হয় তথা নৈরাশ হয়ে যায়। তাহলে কোন গরীব সুন্নী তালেবে ইলমকে দেওয়া যাবে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলা-৮১: কাদিয়ানী প্রতিবেশীর ব্যাপারে
ওলামা-ই দ্বীন কি বলেন-এ মাসআলার ব্যাপারে যে, এক সুন্নী মহল্লার মধ্যে বকর নামক এক কাদিয়ানী এসে বসতি স্থাপন করলো। যায়দ নামক একজন সুন্নী নর-নারী সবাইকে তার ঘরে যাওয়া থেকে তার সাথে মেলামেশা করা থেকে নিষেধ করে। হিন্দা নাম্মী মহিলা যার ছেলেমেয়েরা ছিলছিলা-ই আলিয়া কাদেরীয়ায় বায়াত গ্রহণ করেছে সে বলল যে, ভালভাবে মেলামেশা করতে পারবে। আমরা শাস্তিকে হালকা করে দিব। এই অসহায় কাদিয়ানীকে অপদস্ত করে রেখেছে। তাহলে এখন হিন্দার ব্যাপারে কি হুকুম? বিস্তারিত বর্ণনা করুন, প্রতিদান দেয়া হবে।
জাওয়াবঃ হিন্দা নামাযকে তুচ্ছ এবং আল্লাহর শাস্তিকে হালকা মনে করাতে এবং কাদিয়ানীকে মুসলমানের নির্যাতনের শিকার জেনেছে। তার সাথে মেলামেশা ত্যাগ করাতে জুলম এবং না হক বুঝানোর কারণে ইসলামের গন্ডি থেকে বের হয়ে গেছে। নিজের ওই সমস্ত কথা থেকে তাওবা না করা পর্যন্ত ইসলাম বহির্ভুত এবং তার স্বামী তার জন্য হারাম হয়ে যাবে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলা-৮২: যে সকল মুসলমান কাদিয়ানী প্রতিবেশীর সাথে সালাম-কালাম বিনিময় করেছে তজ্জন্য শরীআতের দৃষ্টিতে প্রতিদান স্বরুপ কি পাবে? আর পানি বহনকারীর প্রতিবেশীর ব্যাপারে শরীআতের কি হুকুম?
ওলামা-ই দ্বীন কি বলেন-এ মাসআলার ব্যপারে যে, এক কাদিয়ানী মাযহাবের লোক এমন স্থানে বসতি স্থাপন করলো যেখানে শুধুমাত্র মুসলমানই থাকে। ওই কাদেয়ানী ব্যক্তি মুসলমানদেরকে উচ্ছেদ করার জন্য চেষ্টায় রত। অনুরুপভাবে সে লোকদের নীতি হচ্ছে এটাই যে, অবুঝ মুসলমানদেরকে সচ্চরিত্র এবং নরম ভাষা দিয়ে নিজেদের কাছে ভিড়ায়ে নিতো। ওই ভয়ে সমস্ত মুসলমান তার থেকে পৃথক থাকাটা গ্রহণ করলো। কেউ তার সাথে সম্পর্ক রাখেনি। কিন্তু সেই মহল্লার এক পানি বহনকারী এই কাদিয়ানীর সাথে অন্তরঙ্গ হয়ে গেল। স্ত্রী তার স্বামীকে মেলামেশা করতে নিষেধ করে বললো আমাদেরক আল্লাহ এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামা'র কাছে জবাবদিহি করতে হবে। এই ধরনের বদ-মাযহাব থেকে পৃথক থাকো এবং তার কাছে পানি দিও না। মাসিক এক টাকাও নিও না। ওই পানি বহনকারী নিজের স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে যায়। স্ত্রীকে বলল-বেরিয়ে যাও, তুমি আমার ঘর থেকে বেরিয়ে যাও, আমি তো এই কাদিয়ানীর সাথে মিশবো এবং পানি ভর্তি করবো। প্রয়োজনে আমি আমার সকল ঠিকানা ত্যাগ করবো। কিন্তু আমি তাকে ত্যাগ করবো না। হ্যাঁ! যদি শহরের সকল বস্তিওয়ালারা এইভাবে ত্যাগ করে তাহলে আমি তাকে ছেড়ে দেবো। আর না হয় আমি তাকে ত্যাগ করবো না বরং যদি ওই কাদিয়ানী শুকর খায় তাহলে আমিও খাব। প্রশ্ন হলো-যে সকল মুসলমান তার সাথে সালাম-কালাম বিনিময় করেছে তজ্জন্য শরীআতের দৃষ্টিতে প্রতিদান স্বরুপ কি পাবে? আর পানি বহনকারীর ব্যাপারে শরীআতের কি হুকুম? বিস্তারিত বর্ণনা করুন, প্রতিদান দেয়া হবে।
জাওয়াবঃ মুসলমানদের জন্য রয়েছে বিরাট ছাওয়াব এবং এই কর্ম কান্ডের জন্য আল্লাহ তাআলা এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সন্তুষ্ট হবেন। ওই পানি বহনকারী বড় ধরনের গুনাহগার হবে এবং জাহান্নামের শাস্তিযোগ্য। পানি বহনকারীসহ সকল অনুসারীদের উচিত তাওবা। অন্যথা ইসলামী ভ্রাতৃত্ব থেকে বের করে দিতে হবে। আল্লাহ আযযা ওয়াজাল্লা ইরশাদ করেন-
وَلَا تَرْكَنُوا إِلَى الَّذِينَ ظَلَمُوا فَتَمْشِكُمُ النَّارَ
তোমরা জালিমদের সাথে মিশো-ফলে আগুন গ্রাস করবে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলা-৮৩: যায়দ বদ মাযহাবীদের খানা-পিনা সদা সর্বদা খেয়ে থাকে এবং বদ মাযহাবীদের সাথে মেলামেশা করে কিন্তু নিজে সুন্নী। তার পিছনে নামায পড়া কেমন হবে আর তারাবীহ-তে তার পড়া শোনার হুকুম কি?
পবিত্র শরীআতের কি ফয়সালা এ মাসআলার ব্যাপারে যে, যায়দ বদ মাযহাবীদের খানা-পিনা সদা সর্বদা খেয়ে থাকে এবং বদ মাযহাবীদের সাথে মেলামেশা করে কিন্তু নিজে সুন্নী। তার পিছনে নামায পড়া কেমন হবে আর তারাবীহ-তে তার পড়া শোনার হুকুম কি? বিস্তারিত বর্ণনা করুন, প্রতিদান দেয়া হবে।
জাওয়াবঃ এ অবস্থায় সেই ব্যক্তি অভিশপ্ত ফাসিক হবে। সে ইমামতি করার উপযুক্ততা রাখে না। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলা-৮৪: যৌতুক কার অধিকারে থাকবে-কন্যা পক্ষের হাতে নাকি ছেলে পক্ষের হাতে? স্ত্রী মৃত্যু বরণ করার পর তার যৌতুকের মধ্যে ফরায়েজ অনুযায়ী বন্টন হবে নাকি হবে না? সালিমার স্বামী যায়দ তার মৃত্যুর পর বলল যে, আমি তাকে খানা-পিনা দিয়েছি বিধায় যৌতুক আমার অধিকারে থাকবে। যায়দের এই উক্তি শুদ্ধ নাকি বাতিল?
ওলামা-ই দ্বীন ও শরীআতের নির্ভরযোগ্য মুফতীগণ! নিম্নলিখিত মাসআলার ব্যাপারে কি বলেন? যৌতুক কার অধিকারে থাকবে-কন্যা পক্ষের হাতে নাকি ছেলে পক্ষের হাতে? স্ত্রী মৃত্যু বরণ করার পর তার যৌতুকের মধ্যে ফরায়েজ অনুযায়ী বন্টন হবে নাকি হবে না? সালিমার স্বামী যায়দ তার মৃত্যুর পর বলল যে, আমি তাকে খানা-পিনা দিয়েছি বিধায় যৌতুক আমার অধিকারে থাকবে। যায়দের এই উক্তি শুদ্ধ নাকি বাতিল? যদি যৌতুকের মধ্যে ফরায়েজ অনুযায়ী বন্টন না হয় তাহলে আগত জিনিস-পত্র পিতা-মাতার হবে না অন্য কারো হবে? বিস্তারিত বর্ণনা করুন, প্রতিদান দেয়া হবে।
জাওয়াবঃ যৌতুকের মালিক হল স্ত্রী। তার মৃত্যুর পর ফরায়েজেব শর্তানুযায়ী ওয়ারিছদের মধ্যে বন্টন হবে। যায়দের দাবী বাতিল। খোর-পোষের বিনিময়ে কোন কিছু নিতে পারবে না। খোর-পোষ তার উপর শরীআতের নিয়মানুযায়ী ওয়াজিব ছিল। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলা-৮৫: 'খ' স্থান থেকে 'ক' স্থান পর্যন্ত হাতের মধ্যে ঢিলা নিয়ে ওড়না, কাপড় ইত্যাদি উল্টিয়ে পানি নিতে পারবে নাকি পারবে না?
ওলামা-ই আহলে সুন্নাত কি বলেন যে, একটি মসজিদের হাওজ এমন ভাবে আছে যে, হাওজের অর্ধেক মসজিদের অঙ্গিনার ডানে বামে পড়েছে আর চার পাশের অর্ধেক যমীন। 'ক' স্থানের মধ্যে তার সিঁড়ি রয়েছে। যায়দ রোগ্ন, যদি ঢিলা নিয়ে সাথে সাথে পানি দ্বারা ইস্তিনজা করতঃ নাপাক দূর না করে তাহলে প্রস্রাবের ফোটা এসে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এখন সে ইস্তিনজার হালতে এসে দেখল, হওজের মধ্যে পানি খুব নিচে নেমে গেছে আর এদিকে সেদিকে বদনার মধ্যে ওযুর অবশিষ্ট পানি রয়েছে। 'খ' স্থান থেকে 'ক' স্থান পর্যন্ত হাতের মধ্যে ঢিলা নিয়ে ওড়না, কাপড় ইত্যাদি উল্টিয়ে পানি নিতে পারবে নাকি পারবে না?
জাওয়াবঃ যেহেতু হাওজের দেয়ালের উপর দিয়ে চড়ে ছাদর উল্টিয়ে মসজিদের আঙ্গিনায় কদম না রেখে পানি নিয়ে এসেছে এবং গোসল খানায় ইস্তিঞ্জা করেছে সেহেতু বাস্তবিক কোন অসুবিধা হবে না। হাওজের দেয়াল মসজিদের হুকুমের বাইরে। সুতরাং এর উপর ওযু, আযান মাকরূহবিহীন জায়েয। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলা-৮৬: আত্মীয়-স্বজনদের কোন কোন মহিলাকে বিবাহ করতে পারবে আর কোন কোন মহিলাকে বিবাহ করা নাজায়েয?
ওলামা-ই দ্বীন কি বলেন এ মাসআলার ব্যাপারে যে, আত্মীয়-স্বজনদের কোন কোন মহিলাকে বিবাহ করতে পারবে আর কোন কোন মহিলাকে বিবাহ করা নাজায়েয? বিস্তারিত বর্ণনা করুন, প্রতিদান দেয়া হবে।
জাওয়াবঃ এক ব্যক্তি যাদের সন্তান তথা বাপ, দাদা, নানা এবং যারা তাদের সন্তানের অর্ন্তভুক্ত যেমন ছেলে, নাতি-পতিদের স্ত্রীকে বিবাহ করা হারাম। আর শ্বশুরের স্ত্রীর সাথে বিবাহ করাও হারাম। যখন সে নিজের স্ত্রীর প্রকৃত মাতা হয়। অবশিষ্ট আত্বীয় স্বজনদের স্ত্রীদের সাথে বিবাহ করা জায়েয তাদের স্বামীর মৃত্যুর পরে বা তালাকের পরে ইদ্দত পালন শেষে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলা-৮৭: রাফেজীদের সাথে চলা-ফেরা, মেলা-মিশা, খানা-পিনা করা এবং রাফেজীদের সাথে ব্যবসা-বাণিজ্য করা। আর তাদের থেকে কিছু ক্রয়-বিক্রয় করা জায়েয আছে নাকি জায়েয নেই? যে ব্যক্তি সুন্নী হয়ে এ ধরনের করবে তার সম্পর্কে শরীআতের কি হুকুম?
ওলামা-ই দ্বীন কি বলেন-এ মাসআলার ব্যাপারে, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের অনুসারীদেরকে, রাফেজীদের সাথে চলা-ফেরা, মেলা-মিশা, খানা-পিনা করা এবং রাফেজীদের সাথে ব্যবসা-বাণিজ্য করা। আর তাদের থেকে কিছু ক্রয়-বিক্রয় করা জায়েয আছে নাকি জায়েয নেই? যে ব্যক্তি সুন্নী হয়ে এ ধরনের করবে তার সম্পর্কে শরীআতের কি হুকুম? ওই ব্যক্তি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের গণ্ডিভুক্ত আছে নাকি বেরিয়ে গেছে। আর উপরে উল্লেখিত ব্যক্তির সাথে সকল মুসলমান বা দ্বীনি এবং দুনিয়াবী সম্পর্ক ছিন্ন করবে নাকি করবে না? বিস্তারিত বর্ণনা করুন, প্রতিদান দেয়া হবে।
জাওয়াবঃ রাফেজীরা সাধারণভাবে মুরতাদ। যেমনিভাবে উল্লেখ করেছি 'রাদ্দুর রাফজা' গ্রন্থে। তাদের সাথে কোন মুয়ামেলা মুসলমানদের জন্য হালাল হবে না। তাদের সাথে মেলামেশা, সালাম-কালাম সব হারাম। আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন-
وَإِمَّا يُنْسِيَنَّكَ الشَّيْطَانُ فَلَا تَقْعُدْ بَعْدَ الذِّكْرَى مَعَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ
শয়তান আপনাকে ভুলায়ে দিবে। স্মরণ থাকার পর আপনি জালিম সম্প্রদায়ের সাথে বসবেন না।
হাদীসে পাকের মধ্যে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
سياتي قوم لهم نبزيقال لهم الرافضة يَطْعَنُونَ السلف ولا يشهدونَ جُمعة ولا جماعة فَلَا تُجَالِسُوهُمْ وَلا تُوَاكِلُوهُمْ وَلَا تُشَارِبُوهُمْ وَلَا تُنَاكِحُوهُمْ وَاذا موضوا فلا تعودوهم وإذا ما توفلا تشهدوهم ولا تُصَلُّوا عليهم ولا تُصَلُّوا معهم.
'অচিরেই এমন কিছু লোকের আবির্ভাব হবে, তাদের একটি খারাপ উপাধি থাকবে। তাদেরকে বলা হবে রাফেজী। সলফে ছালেহীনদের সমালোচনা করবে। জুমা, জামাতে উপস্থিত হবে না। তোমরা তাদের সাথে বসো না এবং তাদের সাথে খানাপিনা করো না। তাদের সাথে বিবাহ সাদী করো না। অসুখ হলে তাদেরকে দেখতে যেয়ো না, মরে যাওয়ার পর তাদের জানাযায় উপস্থিত হয়ো না। তাদের পিছনে নামায পড়ো না এবং তাদের সাথে নামায আদায় করো না। যারা সুন্নী হয়ে তাদের সাথে মেলামেশা করে তারা যদিও নিজেই রাফেজী নয়। তারপরও তারা মারাত্বক ফাসিক হবে। মুসলমানদেরকে তাদের সাথেও মেলামেশা ছেড়ে দেওয়ার হুকুম হয়েছে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলা-৮৮: তাবারুকের ব্যাপারে
তাবারুক শুধুমাত্র রজব শরীফের মধ্যে করতে পারে নাকি যখন ইচ্ছা করা যায়। যদি মৃত ব্যক্তির এত কাযা নামায এবং রোযা রয়ে গেল যে, তার গরীব ওয়ারেছ হিসেবে প্রত্যেক নামাযের বদলায় সাড়ে ১৭৫ টাকা পরিমাণ গম দিতে না পারে। তাহলে ইসকাত হিসেবে দেওয়ার জন্য কি পদ্ধতি আছে? বিস্তারিত বর্ণনা করুন, প্রতিদান দেয়া হবে।
জাওয়াবঃ তাবারুক প্রত্যেকে মাসে হতে পারে। এ নির্দিষ্টকরণ শুধু সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে। মৃত ব্যক্তি ওয়ারিছ হিসেবে যতটুকু পরিমাণ সক্ষম হয় ততটুকু মিসকীনদেরকে কাফফারার নিয়্যাতে দিয়ে দিবে। মিসকিন নিজের হাতে কবয করার পর নিজের পক্ষ থেকে তার ওয়ারিছকে দান করে দেবে। সে কবয করার পর কাফফারার নিয়্যাতে মিসকীনকে দিয়ে দেবে। এভাবে ঘুরায়ে অবশেষে উদ্দিষ্ট পরিমাণ আদায় করবে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলা-৮৯: আফীমের ব্যবসা করা এবং তার দোকান দেওয়া শরীয়আতের মধ্যে জায়েয আছে নাকি জায়েয নেই?
ওলামা-ই ইসলাম এবং মুফতীয়ানে ইযাম কি বলেন-এ মাসআলার ব্যাপারে, আফীমের ব্যবসা করা এবং তার দোকান দেওয়া শরীয়আতের মধ্যে জায়েয আছে নাকি জায়েয নেই? বিস্তারিত বর্ণনা করুন, প্রতিদান দেয়া হবে।
জাওয়াবঃ আফীমের ব্যবসা ঔষধের জন্য হলে জায়েয আর আফীমখোরদের হাতে বিক্রি করা নাজায়েয।
لِأَنَّ الْمُعْصِيَّةَ تَقَوْمُ بِعَيْنِهِ وَكُلَّ مَا كَانَ كَذَلِكَ كَرِهُ بَيْعَةً كما في تنویر الابصار .
কেননা উহার দ্বারা গুনাহ প্রতিষ্ঠা লাভ করে। আর প্রত্যেক কাজ যা এরূপ হয় তা বেচাকেনা করা মাকরূহ। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলা-৯০: (ক) পীর থেকে পর্দা করতে হবে কি না? (খ) এক বুযর্গ মহিলাদেরকে পর্দা ব্যতীত হলকা করায় আর হলকা-ই যিকরের মধ্যখানে বুযর্গ সাহেব বসে এমনভাবে তাওয়াজ্জু প্রদান করেন যার কারণে মহিলা বেহুশ হয়ে যায়। এমনভাবে লাফালাফি করে যে, তার আওয়াজ ঘর থেকে বাইরে অনেক দুরে শুনা যায়। এ ভাবে বায়আত করা কেমন হবে?
ওলামা-ই কিরাম কি বলেন? এ মাসআলার ব্যাপারে যে,
(ক) পীর থেকে পর্দা করতে হবে কি না? (খ) এক বুযর্গ মহিলাদেরকে পর্দা ব্যতীত হলকা করায় আর হলকা-ই যিকরের মধ্যখানে বুযর্গ সাহেব বসে এমনভাবে তাওয়াজ্জু প্রদান করেন যার কারণে মহিলা বেহুশ হয়ে যায়। এমনভাবে লাফালাফি করে যে, তার আওয়াজ ঘর থেকে বাইরে অনেক দুরে শুনা যায়। এ ভাবে বায়আত করা কেমন হবে? বিস্তারিত বর্ণনা করুন, প্রতিদান দেয়া হবে।
জাওয়াবঃ (ক) মুহরিমা না হলে পীর থেকে পর্দা করা ওয়াজিব। (খ) এ পদ্ধতি শরীআত পরিপন্থি এবং নির্লজ্জ বিষয়। এ ধরনের পীরের হাতে বায়আত গ্রহণ না করা উচিত। আল্লাহই সর্বজ্ঞ। জনন
💠 মাসআলা-৯১: জীবন বীমা করা শরীআতে জায়েয আছে নাকি হারাম?
ওলামা-ই দ্বীন কি বলেন-এ মাসআলার ব্যাপারে যে, জীবন বীমা করা শরীআতে জায়েয আছে নাকি হারাম? পদ্ধতি হল-যে ব্যক্তি জীবন বীমা করতে চাইবে। তার থেকে এই স্বীকৃত নেওয়া হবে যে, ৫৫ বছর অথবা ৬০ বছর অথবা ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত মোট দু' হাজার টাকা, চার হাজার, ছয় হাজার টাকা মাসিক হিসেব করে বীমায় জমা করতে হবে। যদি সেই ব্যক্তি ৫৫ বছর পর্যন্ত জীবিত থাকে অথবা মিয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পূর্বে মারা যায়। স্বয়ং তাকে বা তার ওয়ারিশ দু' হাজার টাকা করে পাবে। হ্যাঁ, সে বীমা করার পর তার বীমার মঞ্জুরী হয়ে যাওয়ার পর হঠাৎ মারা গেলেও পাবে। আর যদি নির্ধারিত মিয়াদ পর্যন্ত জীবিত থাকে তারপরও ওই দু'হাজার টাকা পাবে। বীমা সরকারের পক্ষ থেকে হয়ে থাকে। কোন কোম্পানির সাথে সম্পর্ক নেই। বিস্তারিত বর্ণনা করুন, প্রতিদান দেয়া হবে।
জাওয়াবঃ যেহেতু জীবন বীমা শুধু সরকারের পক্ষ থেকে হয়ে থাকে এবং ইহার মধ্যে নিজের ক্ষতির কোন আশংকা নেই সেহেতু জায়েয আছে। কোন অসুবিধা নেই। কিন্তু শর্ত হল এ যে, ইহার কারণে তার যিম্মায় শরীআতের পরিপন্থি কিছু না হয়। যেমন- এ বীমা লাভের জন্য রোযা বা হজ্জ না করার শর্তারোপ করা। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলা-৯২: যায়দের দাদা পাঠান বংশের ছিল। দাদী এবং মাতা ছৈয়দা ছিল। এ অবস্থায় যায়দ সৈয়দ হবে নাকি পাঠান?
ওলামা-ই দ্বীন কি বলেন?এ ব্যাপারে যে, যায়দের দাদা পাঠান বংশের ছিল। দাদী এবং মাতা ছৈয়দা ছিল। এ অবস্থায় যায়দ সৈয়দ হবে নাকি পাঠান? বিস্তারিত বর্ণনা করুন, প্রতিদান দেয়া হবে।
জাওয়াবঃ শরীয়াতের মধ্যে নসব তথা বংশ পিতার দিক থেকে গ্রহণ করা হয়। যার বাপ-দাদা পাঠান, মুগল বা শেখ হয় সে ওই জাতি বা বংশের হবে। যদিও বা তার মাতা, দাদী, পরদাদী সৈয়দ বংশের হয়। সহীহ হাদীসে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
من ادعى إلى غيرِ أَبِيهِ فَعَلِيهِ لَعْنَةُ الله والملئكة والناس اجمعين لا يقبل الله منه يوم القيمة صَرْفًا وَلَا عَدْلاً هذا مختصر .
যে ব্যক্তি নিজের পিতা ব্যতীত অন্য কারো দিকে নিজ বংশের দাবি করে, তাদের উপর আল্লাহ, ফিরিশতাকুল এবং সকল মানুষের অভিসম্পাৎ। আল্লাহ তা'আলা কিয়ামতের দিনে তার ফরয বা নফল কিছু কবুল করবে না। ইমাম বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, আবু দাউদ, নাসাঈ প্রমুখ এ হাদীসখানা হযরত মাওলা আলী কররামাল্লাহু তা'আলা ওয়াজহাহু থেকে বর্ণনা করেছেন। হ্যাঁ, আল্লাহ তা'আলা এ ফযিলত বিশেষ করে ইমাম হাসান, ইমাম হোসাইন এবং তাদের প্রকৃত ভাই-বোনদেরকে দান করেছেন (রাদিআল্লাহু তা'আলা আনহুম)। তাদেরকে রাসুল সাল্লাল্লাহু আল্লাইহি ওয়াসাল্লামের সন্তান স্থির করা হয়। অতঃপর যাঁরা তাঁদের খাস আওলাদ হবে তাদের ব্যাপারেও ওই পদ্ধতি প্রযোজ্য যে নিজ পিতার দিকে সম্পর্কিত হবে। এজন্য সিবতাইনে করেমাইন (হযরত হাসান ও হোসাইন) এর বংশধরগণই সৈয়দ; হযরত ফাতেমাতুয যাহরা রাদ্বি আল্লাহু আনহা'র বংশধরগণ নয়। বংশধর সাব্যস্থ হবে স্বীয় পিতার পক্ষ থেকে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলা-৯৩: আখেরী চাহার শম্বা সম্পর্কে
ওলামা-ই দ্বীন এ ব্যাপারে কি অভিমত যে, সফর মাসের শেষ বুধবার সম্পর্কে জনসাধারণের মধ্যে প্রসিদ্ধ আছে যে, ওই দিন নবী করীম সাল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোগ থেকে আরোগ্য লাভ করেছিলেন। এর ভিত্তিতে সে দিন খানা-শিরনী ইত্যাদি বিতরণ করে থাকে। মরূভূমি ও বন-জঙ্গলে ভ্রমন করতে যায়। এ অনুমানের ভিত্তিতে অনেক জায়গায় বিভিন্ন ধরনের আমলসমূহ করা হয়। এই দিনকে অশুভ মনে করে ঘরে ব্যবহার্য পুরাতন বাসন-কোসন নালার মধ্যে ফেলে দেয়া হয়। আর চাঁদীর রকমারি তা'বীয সে দিনে শরীর সুস্থ থাকার জন্য নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অসুখের কথা খেয়াল করে রোগীদের ব্যবহার করায়। এ সকল কর্মকান্ড সে দিন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আরোগ্য লাভের ভিত্তিতে করে থাকে। সুতরাং ইহা মুলতঃ শরীয়তের মধ্যে প্রমাণিত আছে কি না? এর উপর আমলকারী গুনাহগার হবে, না তিরস্কারযোগ্য হবে? বিস্তারিত বর্ণনা করুন, প্রতিদান দেয়া হবে।
জাওয়াবঃ আখেরী চাহার শম্বার কোন ভিত্তি নেই। (হাদীস দ্বারা সাব্যস্ত না হলে তাকে ভিত্তিহীন বলা হয়-অনুবাদক)। ওই দিন হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম আরোগ্য লাভ করার কোন প্রমাণ মিলে না বরং যে রোগে ওফাত শরীফ হয়েছে তার সূচনা সে দিন থেকে ধরা হয়। আর একটি হাদীসে মারফু এসেছে-
أخر أَرْبَعَاءِ مِنَ الشَّهْرِيومَ نَحِسَ مُسْتَمِر (এ মাসের শেষ বুধবার হচ্ছে ঘটমান অকল্যানের দিন।) আরো বর্ণিত রয়েছে হযরত সায়্যিদুনা আইয়ুব আলা নবীয়্যানা আলাইহিস সালাম ওয়াত তাসলীম ওই দিনই রোগাক্রান্ত হয়েছিলেন। ওই দিনকে অশুভ মনে করে মাটির বাসন-কোসন ভেঙ্গে ফেলা গুনাহ। তা সম্পদ নষ্ট করা। প্রকৃতপক্ষে এ সব কথা-বার্তা ভিত্তিহীন ও অনর্থক। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(আ'লা হযরত রহঃ আখেরী চাহার শম্বা সম্পর্কে সাধারণ লোকের মাঝে প্রচলিত কুপ্রথা ও কুধারণার বিরোধিতা করেছেন। তাও দলীলের ভিত্তিতে। তাঁর বক্তব্যে প্রচলিত বরকতময় গোসল সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য পাওয়া যায় না।-অনুবাদক)
💠 মাসাআলা-৯৪: নামাযের সময় মসজিদের সকল নামাযী কোন ব্যক্তির আগমনের সম্মানার্থে দন্ডায়মান হওয়া এবং সাজদার মত মাথা নিচু করে কদমে চুমু দেওয়া জায়েয আছে কিনা?
জাওয়াবঃ আলেম-ই দ্বীন, ইসলামী বাদশা এবং ইলমে দ্বীন শিক্ষা দানকারী স্বীয় ওস্তাদের সম্মান মসজিদে, মহতি মজলিসেও করতে পারে। এমন কি কোরান তেলাওয়াতের সময়ও আলেম-ই দ্বীনের কদম বুচি করা সুন্নাত। তবে কদমের উপর মাথা রাখা মুর্খতা। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলা-৯৫: যদি স্ত্রীর খাবার-দাবার ইত্যাদি স্বামীর পিতা অথবা কোন নিকটাত্মীয় আনজাম দেয়। এমতাবস্থায় সে ব্যক্তি উক্ত মহিলাকে মা-বাবার কাছে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে। স্বামী কিন্তু বাঁধা দেয়। স্ত্রী স্বামীর অনুমতি ব্যতিত গেলে গুনাহগার হবে কি? স্বামীর বাঁধা দেওয়ার বৈধতা আছে কি? আর স্ত্রী যাওয়ার কারণে গুনাহগার হবে কিনা?
ধর্মের মুখতীগণ! কি বলেন এ মাসআলার ব্যাপারে যে, যদি স্ত্রীর খাবার-দাবার ইত্যাদি স্বামীর পিতা অথবা কোন নিকটাত্মীয় আনজাম দেয়। এমতাবস্থায় সে ব্যক্তি উক্ত মহিলাকে মা-বাবার কাছে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে। স্বামী কিন্তু বাঁধা দেয়। স্ত্রী স্বামীর অনুমতি ব্যতিত গেলে গুনাহগার হবে কি? স্বামীর বাঁধা দেওয়ার বৈধতা আছে কি? আর স্ত্রী যাওয়ার কারণে গুনাহগার হবে কিনা?
জাওয়াবঃ যদি মহর মুয়াজ্জল না হয় অথবা যতটুক মুয়াজ্জল ছিল তা আদায় করে দেয় তবে নিম্ন বর্ণিত কয়েকটি শরয়ী প্রয়োজন ছাড়া বাকী বিষয়াদিতে স্বামীর অনুমতি নিতে হবে। উদাহরণ স্বরূপ পিতা মাতার কাছে অষ্টম দিনে বেড়াতে যাওয়া, মুহরিম বা আত্মীয়গণের নিকট বছরান্তে একবার দিনে বেড়াতে যাওয়া এবং রাতে স্বামীর নিকট থাকা ইত্যাদি বিষয় ছাড়া কোন জায়াগায় স্বামীর অনুমতি ব্যতীত যাওয়া যাবে না। যদি যায় তাহলে গুনাহগার হবে আর স্বামী বাধা দেওয়ার অধিকার থাকবে। যদিও খোর-পোষের দায়িত্ব অন্য ব্যক্তির উপর। ব্যয়ভার যার উপর রয়েছে সে অপরের স্ত্রীকে যাওয়ার অনুমতি দিলে তার অনুমতি অর্থহীন হবে এবং স্বামীর নিষেধ পালন করা ওয়াজিব। ওলামা-ই কিরামগণ স্পষ্টভাবে বলেন যে, মহরে মুয়াজ্জল আদায় করার পর সাধারণত স্ত্রী স্বামীর পাবন্দ হবে। এর মধ্যে নিদিষ্ট করে খোর-পোষ ও অভিভাবকত্বের শর্তারোপ করা যাবে না। দুররুল মুখতারের মধ্যে আছে,
لها الخُرُوجَ مِنْ بَيْتِ زَوْجِهَا لِلْحَاجَةِ وَلَهَا زِيَارَةَ أَهْلِهَا بِلَا إِذْنِهِ مَالَمْ تَقْبَضُ المعجل فَلا تَخْرُجُ الألحق لها او عليها او زيارة أبويها كل جمعة مرةً أَو المَحَارِمِ كُلِّ سَنَةٍ وَلِكَوْنِهَا قَابِلَةً أَوْ عَاسِلَةٌ لَا فِيْمًا عَدَا ذَالِكَ
অর্থাৎ স্বামীর অনুমতি ব্যতীত মহিলা প্রয়োজনে স্বামীর ঘর থেকে বের হওয়া এবং পরিবারকে দেখতে যাওয়ার অধিকার রয়েছে যতক্ষণ মহর না নেয়। তার বিশেষ প্রয়োজনে বা মা-বাবার সাক্ষাতে সপ্তাহে একবার বা বছরে একবার আত্বীয়দের সাক্ষাতে বের হতে পারবে। কেননা ইহা গ্রহণযোগ্য ও জরুরী। ইহা ব্যতীত অন্যত্র নয়।
রাদ্দুল মুখতারের মধ্যে আছে,
قوله فَلَا تَخْرُجُ جَوَابُ شرط مقدراى فَإِنْ قَبِضُهَ فَلَا تَخْرُجُ الخ فلا تخرج
উক্তিটি উহ্য শর্তের জাওয়াব অর্থাৎ মহর গ্রহণ করলে বের হবে না।
বরণ-পোষণ প্রদানের ক্ষেত্রে পুত্র ও পুত্রবধুর উপর পিতার অভিভাবকত্ব আমাদের দেশে চালু আছে। অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনরা স্বেচ্ছায় কিছু দান করতঃ অভিভাবক হতে পারে। তাই বলে স্বামী বরণ-পোষন দিতে অস্বীকার করার জোঁ নেই। ওলামা-ই কিরামের অভিমত-স্বামী অন্যায়ভাবে বরণ-পোষনের ভার না নিলে, এমন কি স্ত্রী নালিশের মুখপেক্ষী হল। স্বামীকে বরণ পোষন দেওয়ার উপর বাধ্য করার জন্য অবরোধের দরখাস্ত পেশ করল। বিচারক তার সচ্ছলতা দেখে তাকে বন্দি করেন। এ অবস্থায় স্ত্রী স্বামীর ঘরের মধ্যেই থাকবে। বরং স্ত্রী উপর বাস্তবে ফ্যাসাদের আশংকা হলে স্বামী বন্দিশালায় নিজের সাথে স্ত্রীকে রাখার আবেদন করতে পারে। আদালত ভবন নির্জন হলে বিচারক মহোদয় ওই স্ত্রীকে তার পাশে রাখার নির্দেশ দেবেন।' 'হিন্দীয়া' কিতাবে আছে,
لوفرض الحاكم النفقة على الزوج فامنع من دفعها وهُوَ مُوسِر و طلبت المراة حبسه له ان يحبسه كذافي البدائع وإذا حبسه لا تسقط عنه النفقة وتومر بالاستدانة حتى ترجع على الزوج فَإِنْ قَالَ لِلْقَاضِي إِحْبِشَهَا فَإِنَّ لي في المجلس خالِيًا فالقاضى لا يحبسها معه ولكنه تصبر في منزل الزوج ويحبس الزوج لها كذافي المحيط ..
বিচারক মহোদয় স্বামীকে খোর-পোষ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আর স্বামী সামর্থ থাকা সত্ত্বে তা দিতে অস্বীকার করে। স্ত্রী তাকে বন্দি করার আবেদন করতে পারবে, যেহেতু সে তাকে বন্দি করে রেখেছে। বাদায়ি' কিতাবে তদ্রূপ রয়েছে। স্বামী বন্দি হলেও খোর-পোষ বাদ পড়বে না। মহিলাকে নির্দেশ দেয়া হবে স্বামী ফিরে আসা পর্যন্ত কর্জ করে চলতে। যদি সে বিচারককে বলে-আমার কাছে খালি জায়গা আছে, তাকে (স্ত্রী) আমার কাছে বন্দি করে রাখুন। তাহলে বিচারক তার সাথে তাকে বন্দি করবে না। মহিলা স্বামীর ঘরে ধৈর্যধারণ করবে। কেননা স্বামী তার কারণে বন্দি হয়েছে। মুহীত গ্রন্থে অনুরূপ রয়েছে। দুররুল মুখতারের বিবৃতি
وفي البحر عن مال الفتاوى لو خِيفَ عَلَيْهِمَا الفسادُ تَحْبَس معه عِنْدَ المتاخرين .
যখন স্বামী প্রকাশ্যভাবে অন্যায় করতঃ বরণ পোষন না দিলেও স্ত্রীকে স্বামীর অনুগত থাকতে হয় তাহলে প্রশ্নে উল্লেখিত পদ্ধতিতে কিভাবে নিজে স্বাধীন হতে পারে? বরণ পোষন না দেওয়া আনুগত্য উঠে যাওয়ার কারণ হলে তবে বরণ পোষণ না দেওয়াটা নফকা (খরচ) অব্যহতি দানকারী হয়ে যাবে। আর স্ত্রী কখনও নফকার দাবীদার হবে না যে, নফকা হল আনুগত্যের প্রতিদান, যখন আনুগত্য থাকবে না তখন কিসের কারণে খরচ বহন করবে? এরই সমর্থনে দুররুল মুখতারে আছে,
النفقة جزاء الاحتباس وكـل محبـوس لنفعة غيره يلزمه نفقةٌ كُمُفت وَقَاضٍ وَوَصي - زيلعى الخ اقول واياك ان تتوهم أن النفقة إذا كانت جزاء جزاء الحبس فاذا عدمت عدم وذلك لان وجوبها متفرع عنه فوجوب الاحتباس عليها متقدم على وجوب النفقة عليه لا ان الاحتباس متفرع على الانفاق فان عدم وبالجملة إن كان اللازم فوجوب الانفاق لا وقوعه فيرفع الوقوع لا يرتفع الملزوم والله تعالى اعلم
💠 মাসআলা-৯৬: (১) কৃষকের নিকট বর্গা লাগানোর উপর এবং কোন কর্জদার থেকে কাছারী খরচ বাবত মূলধন ব্যতিত যে টাকা নেওয়া হয় ওটা গ্রহণ করা কি সুদ হবে?
(২) যায়দ থেকে খালেদ ব্যবসার জন্য পনের হাজার টাকা এভাবে চাইল যে, আমি মাসিক এতশত টাকা লাভ হিসেবে তোমাকে দেব, লাভ হোক বা না হোক। যায়দের এই লাভ নেওয়া সুদ হবে কি না? এভাবে লাভ নেওয়ার কোন পন্থা শরীয়তে আছে কি না?
ওলামা-ই দ্বীন এই মাসআলার ব্যাপারে অভিমত কি?
(১) কৃষকের নিকট বর্গা লাগানোর উপর এবং কোন কর্জদার থেকে কাছারী খরচ বাবত মূলধন ব্যতিত যে টাকা নেওয়া হয় ওটা গ্রহণ করা কি সুদ হবে?
(২) যায়দ থেকে খালেদ ব্যবসার জন্য পনের হাজার টাকা এভাবে চাইল যে, আমি মাসিক এতশত টাকা লাভ হিসেবে তোমাকে দেব, লাভ হোক বা না হোক। যায়দের এই লাভ নেওয়া সুদ হবে কি না? এভাবে লাভ নেওয়ার কোন পন্থা শরীয়তে আছে কি না?
জাওয়াবঃ যে খরচ দাবীদারকে দেওয়া হয় তা গ্রহণ করা হারাম। এ মাসয়ালাটি 'উকুদু দ্দুররিয়্যা' গ্রন্থে আছে। হ্যাঁ! কর্জদার-কৃষক যদি কাফির হয় তাহলে নিতে পারবে তাকে হেফাযতের দায়িত্ব না থাকার কারণে।
(২) এই পদ্ধতি হলে অকাট্য হারাম এবং নিরেট সুদ। লাভ নিতে চাইলে পাটনারী ব্যবসা করতে হবে। এভাবে যে, তোমাকে এত টাকা দিলাম, তুমি ব্যবসা কর-যা লাভ হবে তার অর্ধেক বা তিন ভাগের এক ভাগ অথবা চার ভাগের এক ভাগ অনির্দিষ্টভাবে আমাকে দেবে। যা লাভ হবে ওখান থেকে সে অংশ অনুপাতে দিতে হবে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলা-৯৭: যায়দের বিবাহিতা স্ত্রী খালেদের সাথে গোপনে পালায়ন করেছে। আট-দশ বছর পরে ছেলে মেয়ে নিয়ে ফিরে আসল। তখন যায়দ ইন্তিকাল করছে। ওই সন্তান তার তরকা (পরিত্যাক্ত সম্পদ) পাবে-না অবৈধ সন্তান হওয়ার কারণে তারকা থেকে বঞ্চিত হবে?
ওলামা-ই দ্বীন! কি বলেন- এ মাসআলার ব্যাপারে যে, যায়দের বিবাহিতা স্ত্রী খালেদের সাথে গোপনে পালায়ন করেছে। আট-দশ বছর পরে ছেলে মেয়ে নিয়ে ফিরে আসল। তখন যায়দ ইন্তিকাল করছে। ওই সন্তান তার তরকা (পরিত্যাক্ত সম্পদ) পাবে-না অবৈধ সন্তান হওয়ার কারণে তারকা থেকে বঞ্চিত হবে?
জাওয়াবঃ শিশুরা হল নিজের মায়ের প্রকৃত অংশ যার মধ্যে সন্দেহ পোষণের মোটেই সুযোগ নেই। এ কথা বলা যাবে না, যে শিশু এ মহিলার পেট থেকে জম্ম লাভ করেছে সম্ভবতঃ অন্য কারো হবে। পিতার অংশই ধরা হবে যতক্ষণ আল্লাহ ও রাসুলের খবর জাতীয় অকাট্য দলীল দ্বারা অপরের সন্তান বলে প্রমাণিত হবে না। ধারণা প্রকৃতপক্ষে সন্দেহ বাচক। যদিও বা শরীআতের দৃষ্টিতে প্রচলিত এবং অকাট্য দলীল পাওয়া যায়। যার মধ্যে সন্দেহ হয় তা অগ্রাহ্য।
الوَلَدُ لِلْفَرَاشِ وَالنَّاسَ امَناءَ عَلَى أَنْسَابِهِمْ
এ জন্য বংশের উপর সাক্ষ্য শ্রূত এবং প্রসিদ্ধ হয়ে আসছে। তারপরও উহার প্রকৃত পার্থক্যের ফল রয়েছে। কিয়ামতের দিন শানে সত্তারী আল্লাহ প্রকাশিত হলে মানুষকে নিজের মায়ের দিকে সম্বন্ধ করতঃ আহবান করা হবে। পাথ্য এতটুকু যে, কোরানে মজীদের মধ্যে মায়ের হকের খবরমূলক বাক্য ব্যবহার করা হয়েছে।
إن امهتهم الائِي وَلَدْنَهُمْ
তাদের মাতা ওরাই যারা তাদেরকে জন্ম দিয়েছে। পিতার হক্বের ব্যাপারে শুধু ইনশা (নির্দেশমূলক) বাক্য বলেছেন
ادْعُوْهُمْ لِأَبَائِ هُوَ اقْسَطُ عِنْدَ اللَّهِ
তাদেরকে পিতার দিকে সম্বন্ধ করে ডাকো, এটা আল্লাহ তাআলা'র নিকট বড় ইনসাফের কথা।'
এই পার্থক্যের ফলে যায়দের ঘোড়া, আমরের ঘোড়ী হলে বাচ্চাটির মালিক আমর হবে; যায়েদ নয়।
وَإِنْ كَانَ هَنَا وَجْهُ إِخْوَانِهِ يَنْفَصِلُ مِنْهَا حَيْوَاناً وَمِنْهُ مَاء مهينا
কিন্তু মর্যাদাবান মানুষের জন্য আল্লাহ আযযা ওয়াজাল্লা বংশ পিতার পক্ষ থেকে নির্ধারণ করেছেন। শিশুরা প্রতিপালন, প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষাদীক্ষার মুখাপেক্ষী। এ সব কিছুর সামর্থ রাখে পুরুষরা। মহিলারা বিবেক ও ধর্মীয়গতভাবে অসম্পূর্ণ। নিজেরাই অন্যের করতলগত। এ জন্য শিশুর উপর রহমত করতঃ নসবকে সাব্যস্ত করার জন্যে সামান্যদুর থেকে দুরে, দুর্বল থেকে দুর্বল সম্ভাবনার উপর নজর রাখা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত লোকেরা সন্দেহে নিপতিত হয়। অবৈধ সম্পর্ককে বিচ্ছিন্ন করার কোন রাস্তা বের করে না। সে অকাট্য বিশ্বাস করে থাকে যে, অমুক ব্যক্তি এ মহিলার সাথে সহবাস করেছে। এভাবে আরো বহু ভুল ধারণা হয় যে-বীর্য তার জরায়ুতে পড়েছে। এ ধরনের বিশ্বাস কিভাবে হয়? হাজার বার সহবাস, জরায়ুতে শত বীর্য পতিত হওয়ার পরও বাচ্ছা হয় না। কাজেই মহিলা যার অধীনে এবং যার খরচায় চলে তার সন্তান হওয়াই সম্ভাবনা। স্বামী দূরে চলে গেলেও তার থেকে সন্তান জন্ম হওয়া সম্ভব। সম্ভাবনা যে, সে ত্বয়্যে যমীন (স্বল্প সময়ে বেশি দূর সফর) করার শক্তি রাখে। যে কারণে এক কদমে দশ হাজার কোস গিয়ে (এক কোসে দুই মাইল) ফিরে আসে বা জ্বিন তার অনুগত বা অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারি বা কোন আমল দ্বারা এ রকম করতে সক্ষম। মানবীয় অধ্যাত্বিক শক্তির বলে তার কোন পিতা জোটে গিয়েছে। হ্যাঁ! এ সম্ভাবনাসমূহ অভ্যাসগতভাবে দুরবর্তী। কিন্তু সে সন্তানকে যেনার দিকে সম্পর্কিত করা শরয়ী ও চরিত্রগতভাবে দুরবর্তী। যেনার বীর্য শরীআতের মধ্যে মর্যাদাহীন। সুতরাং শিশুকে যেনার সন্তান না বলে যার বিবাহধীন হয়েছে তার সন্তান বলাই শ্রেয়। যাকে কোরানে করীমের মধ্যে 'হিবা' শব্দ দ্বারা বর্ণনা করা হয়েছে। يَهَبُ لِمَنْ يَشَاءُ ذُكُورًا (যাকে ইচ্ছা পুত্র সন্তান দান করেন।) আর যেনাকারী তার যেনা করার কারণে গযব এবং শাস্তির উপযুক্ত। হেবা বা দানযোগ্য বলা যাবে না। এ জন্য ইরশাদ হয়েছে وَالْعَاهِرِ الحجر যেনাকারীর জন্য রয়েছে পাথর। যদি সে দূরবর্তী অভ্যাসগত সম্ভাবনাকে অবলম্বন করা না হয় তাহলে নিষ্পাপ বাচ্ছা নষ্ট হয়ে যাবে। তার কোন পিতা, কোন মুরব্বী ও কোন শিক্ষাদানকারী প্রতিপালন করার জন্য থাকবে না। এ জন্য প্রয়োজন হল, দুই সম্ভাবনার মধ্যে তথা একটা হল অভ্যাসগত নিকটবর্তী; শরয়ী এবং আখলাকগতভাবে অনেক দুরে। আর দ্বিতীয়টি হল অভ্যাসগতভাবে দূরে আর শরয়ী এবং আখলাকগতভাবে অনেক নিকটবর্তী। ওই নিকটতম সম্ভাবনাকে প্রধান্য দেয়া হয়েছে। অভ্যাসগত দুর মূলতঃ শরয়ী এবং আখলাকী দূর থেকে খারাপ এবং মন্দ হয়; ওটা ইখতিয়ার করা যাবে না। ইহার মধ্যে কোন আকলের পরিপন্থি কিছু নেই। এ জন্য ব্যাপকভাবে হুকুম ইরশাদ হল যে,
الْوَلَد لِلْفَرَاشِ وَالْعَاهِرِ الحَجَرُ
'সন্তান বিছানা ওয়ালার এবং যেনাকারীর জন্য পাথর।' এ জন্য যায়দ পূর্ব প্রান্তে থাকে এবং হিন্দাহ পশ্চিম প্রান্তে হলেও ওকালতের মাধ্যমে বিবাহ সম্পাদিত হবে। তাদের উভয়ের মধ্যে বার হাজার মাইলের চেয়েও বেশি দূরত্ব এবং শত শত সমুদ্র, পাহাড়, সাগর আড়াল হয়ে আছে এ অবস্থায় বিবাহ হওয়ার ছয় মাস পর হিন্দার বাচ্ছা হল। তা যায়দেরই ধরা হবে আর নসব অজ্ঞাত অথবা যেনার সন্তান হবে না।
দুরুল মুখতারে আছে-
قد اكتفوا بقيام الفراش بلاد خول كتزوج المغربي بمشرقيه بَيْنَهُما سَنتُه فَوَلَدَتْ لستة اشهر من تزوجها لتصوره كرامة واستخداما فتح .
'রাদ্দুল মুখতার'এ আছে,
قول بلاد خول المراد نفيه ظاهرا وَ إِلَّا فَلَا بُدَّ مِنْ تَصُورِهِ وَإِمْكَانُهُ
'ফাতহুল কাদীরে' আছে-
والتصور ثابت في المغربية لتُبُوتِ كَرَامَاتِ الْأَوْلِيَاءِ وَالْإِسْتِخْدَامَاتِ فيكون صاحب خطوة او جنّى
বুখারী এবং মুসলিম শরীফের মধ্যে হযরত উম্মুল মু'মিনীন আয়েশা ছিদ্দীকা রাদ্বিআল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত আছে,
كان عتبة بن ابي وقاص (اى الكافر الميت على كفره) عهد الى اخيه سعد بن ابی وقاص رضى الله تعالى عنه أن ابن وليدة زمعه منى فاقبضه اليك (اى كَانَ زَنَى بِهَا فِي الْجَاهِلِيَّةِ فَوَلَدَتْ فاوصى اخاه بالولد ) فلما كان عام الفتح اخذه سعد فقال انه ابن اخي وقال عبد ابن زمعة اخى ابن وليدة ابى ولد على فراشه فقال رسول الله صلى الله تعالى عليه وسلم هولك يا عبد بن زمعة الولد للفراش وللعاهرا الحجروفي رواية هو اخوك يا عبد بن زمعة من اجل انه ولد على فِرَاشِ ابيه اه مختصر امزيد امابين الهلالين
উতবা ইবনে আবী ওয়াক্কাস কাফির অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেছিল। সে তার ভাই সা'দ বিন আবী ওয়াক্কাস (রাদি.) থেকে ওয়াদা নিয়েছে যে, যামআ'র সন্তান আমার বীর্য থেকে জন্ম। তুমি তাকে নিয়ে নাও। অর্থাৎ জাহেলিয়া যুগে সে যেনা করাতে তার থেকে সে সন্তান জন্ম লাভ করেছে। তাই সে তার ভাইকে সে সন্তান গ্রহণের অসীয়ত করেছে। মক্কা বিজয়ের দিন সা'দ তাকে ধরে বলল-সে আমার ভ্রাতুষ্পুত্র। আবদে বিন যামআ' বলল, সেতো আমার ভাই, আমার বাপের সন্তান। তার বিছানায় জন্ম লাভ করেছে। হে আবদে বিন যামআ'! সে তোমার ভাই। বিছানা যার সন্তান তার, যেনাকারীর জন্য পাথর।
মোটকথা, যে বাচ্ছা যায়দের জীবদ্দশায় জন্ম গ্রহণ করেছে অথবা যায়দের মৃত্যুর পর ইদ্দত পালনের ভিতরে অথবা চার মাস দশদিনের মধ্যে স্ত্রী ইদ্দত অতিবাহিত হয়ে যাওয়ার অস্বীকার করলে যায়দের মৃত্যুর দু' বছরের ভিতর অথবা ইদ্দত পূর্ণ হয়ে যাওয়ার স্বীকৃতি দেয়ার পর থেকে ছয় মাসের ভিতর বাচ্ছা জন্ম গ্রহণ করলে শরীয়তের দৃষ্টিতে যায়দের সন্তান হিসেবে স্বীকৃতি পাবে এবং যায়দের সম্পত্তিরও মালিক হবে। তবে যায়দের মৃত্যুর দু' বছর পরে অথবা স্ত্রীর স্বীকৃতি অথবা ইদ্দত পূর্ণ হওয়া থেকে ছয় মাস পর বাচ্ছা জন্ম গ্রহণ করলে ওটা যায়দের সন্তান ও তার সম্পত্তির মালিক কিছুই হবে না।
দুরুল মুখতারে আছে-
يثبت نسب ولد معتدة الموت لاقل منها اى من سنتين ) من وقت الموت اذا كانت كبيرة ولو غير مدخول بها وان لاكثر منهما من وقته لا يثبت بدائع وكذا المقرة لمفتيها لولاقل من اقل مدته من وقت الاقرار للمتقين يكذبها والا لالاحتمال حدوثه بعد الاقرار آمد ملخصا والله تعالى اعلم وعلمه جل مجده اتم واحكم .
💠 মাসআলা-৯৮: নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যামানায় আকীকা এবং খতনা করার সময় সুন্নাত আদায় করার উদ্দেশ্যে লোকদেরকে আহবান করা হতো কি না? আর যদি দাওয়াত করা না হতো তাহলে এটা বিদআতে সাইয়্যা হবে কি না? বধু বিদায়ের সময় যেমন হিন্দুস্থানে ভোজের যে নিয়ম চালু আছে তা সাব্যস্ত আছে কিনা? হযরত বিবি ফাতিমা রাদ্বিআল্লাহু তা'আলা আনহার বিদায়কালে কোন খাবার বন্টন করা হয়েছিল কি না? টাকা উপহার দেওয়ার রছম শরীআতে জায়েয আছে কি না?
ওলামা-ই দ্বীন এবং শরীআতের নির্ভরযোগ্য মুফতিগণ! এ মাসআলার ব্যাপারে অভিমত কি? নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যামানায় আকীকা এবং খতনা করার সময় সুন্নাত আদায় করার উদ্দেশ্যে লোকদেরকে আহবান করা হতো কি না? আর যদি দাওয়াত করা না হতো তাহলে এটা বিদআতে সাইয়্যা হবে কি না? বধু বিদায়ের সময় যেমন হিন্দুস্থানে ভোজের যে নিয়ম চালু আছে তা সাব্যস্ত আছে কিনা? হযরত বিবি ফাতিমা রাদ্বিআল্লাহু তা'আলা আনহার বিদায়কালে কোন খাবার বন্টন করা হয়েছিল কি না? টাকা উপহার দেওয়ার রছম শরীআতে জায়েয আছে কি না? এ কথা এসেছে যে, শরীয়ত প্রবর্তক নবী আলাইহিস সালাম অলীমা করতে বলেছেন এবং স্বয়ং হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই অনেকবার ইহার উপর আমল করছেন। অথচ কখনও শাহেব জাদীদের বিদায়কালে খানার ব্যাপারে কিছুই ইরশাদ করেননি। তা বাস্তবে না করাটা বিদআতে সাইয়্যা হওয়ার জন্য যথেষ্ট নয় কি?
জাওয়াবঃ আকীকা হল নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা। নিয়ামতের জন্য এলান করার বিধান, এ মর্মে আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন- وَأَمَا بِنِعْمَتِ رَبِّكَ فَحَدِّثُ এবং আহবান এলানকে সাব্যস্ত করে। বিদআতে সাইয়্যা উহাকে বলে যা সুন্নাতের পরিপন্থি; যা সুন্নাতের সহযোগিতা বিদআতে সাইয়্যা নয়।
كمانص عليه الائمة قديما وحديثا منهم حجة الاسلام في احياء والعلامة سعد في شرح المقاصد والسيد عارف بالله عبد الغني في الحديقة الندية لاجرم
যেরূপ নবীন প্রবীণ ওলামাগণ বর্ণনা করেছেন। বিশেষত ইমাম গজ্জালী ইয়াহিয়া-ই উলুম, আল্লামা সা'দ শরহুল মাকাসেদ এবং সৈয়দ আব্দুল গণী হাদীকা-ই নাদীয়া গ্রন্থে দৃঢ় প্রত্যয়ে তা বর্ণনা করেছেন।
রাদ্দুল মুখতারে বলেছেন-
بعق عقيقه مزق لحما بنا اوطبخه مع اتخاذ دعوة اولا
অনুরূপভাবে খতনার এলান সুন্নাত-
كما ان السنة في الخفاض الخلفاء
ওলামা-ই কিরামগণ এগার ধরনের দাওয়াতের কথা বলেছেন। তম্মধ্যে খতনার দাওয়াত এবং আকীকার দাওয়াতও রয়েছে। কেউ কেউ আটটির কথা বলেছেন, সেগুলোর মধ্যেও এ দু'টি অন্তর্ভুক্ত আছে। "শরহে শরআতুল ইসলাম” এ আছে-
قيل الضيافة ثمانية الوليمة للعُرْسِ والأَعْذَارِ الخَتَانِ وَالعقيقة لسابع الولادة الخ
ওলামাগণ দাওয়াতে সাড়া দেওয়াকে সুন্নাত বলেছেন। অলীমা হোক বা আর অন্যান্য দাওয়াত হোক। তাহতাভীও রাদ্দুল মুহতারে এরূপ আছে। বিবাহের এলান করারও নির্দেশ রয়েছে। যেমন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামা ইরশাদ করেছেন,
اعْلِنُو النِّكَاحَ - وَاجْعَلُوهُ فِي الْمَسَاجِدِ وَاضْرِبُوا عَلَيْهِ بِالدِّفُوفِ
হযরত আব্দুল্লাহ বিন যুবাইর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে ইমাম আহমদ, ইবনু হাব্বান, তুবরানী, আল-হাকিম এবং আবু নাঈম রাদিয়াল্লাহু আনহুম উক্ত হাদীস বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিযী ও বায়হাকী আরো বৃদ্ধি সহকারে হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে তা বর্ণনা করেছেন।
আর ওটা ছেলে পক্ষ থেকেই নিদ্দিষ্ট নয়; উভয় পক্ষকে এলান করতে হবে। ইবনে মাজা হযরত ইবনে আব্বাস রাদ্বি আল্লাহু আনহুমা থেকে বর্নিত আছে, তিনি বলেন-
قال نكحت عائشة ذات قرابة لهما من الانصار فَجَاءَ رَسُولُ الله صلى الله تعالى عليه وسلم فَقَالَ أَهْدَيْتُمُ الفتاة قال نَعَمْ قَالَ أَرْسَلْتُمْ مَعَهَا مَنْ تَغَنَى الحديث
হযরত আয়শা রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা আনসারী এক নিকট আত্মীয়কে বিয়ে দিলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা এসে জিজ্ঞাসা করলেন-তোমরা কোন কিশোরী পাঠায়েছ? উত্তরে বললেন, হ্যাঁ! তিনি বললেন-তোমরা তার সাথে গায়িকা পাঠায়েছ?
খাবারে মানুষ একত্রিত হয় আর একত্রিত করার উদ্দেশ্য এলান করা। উপস্থিতিদেরকে খানা খাওয়ানো বুযর্গদের সুন্নাত। বিশেষ করে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করলেন।
فانه غير مامور بل ولا مقدور كما في الغمز العيون
এটা আদিষ্ট ও নয়; নির্ধারিতও নয়। যেমন গমযুল উয়ূন গ্রন্থে আছে। বিষেশত তা অভ্যাসগত কাজের অন্তর্ভুক্ত।
خَالِقُوا النَّاسَ بِإِخْلَاقِهِمُ
বুযর্গদের চরিত্রে চরিত্রবান হও। ওলামা-ই কিরাম বলেন-
الخروج عن العادة شهرة ومكروه
অস্বাভাবিক কাজ করলে প্রসিদ্ধ হয়; অপছন্দনীয়। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন- ما أتُكُمُ الرسول فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا
অর্থাৎ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা যা কিছু তোমাদেরকে দিয়েছেন তা গ্রহণ কর আর যা থেকে বারণ করেছেন তা থেকে বিরত থাক। কাজেই যেগুলো থেকে নিষেধ করা হয়েছে ওটা নিষিদ্ধ বস্তুর অর্ন্তভুক্ত; যা থেকে নিষেধ করা হয়নি তা মুবাহ হবে। এ সব আলোচনা আমার পুস্তিকা 'রাদ্দে ওহাবিয়্যত' এর মধ্যে বিস্তারিত আলোকপাত করা হয়েছে। হ্যাঁ! নিয়্যত অথবা উদ্দেশ্য খারাপ হলে অলীমা ও খারাপ হয়ে যাবে। হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে ইমাম মুসলিম রহমাতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা
করেছেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
شر الطعام طعام الوليمة وايضا قال ومَنْ لَمْ يُحِبِ الدَّعْوَةَ فَقَدْ عَصَى اللَّهَ ورسوله
'খানার মধ্যে অলীমার খাদ্যই খারাপ। আরো বলেছেন-দাওয়াতে সাড়া দিল না সে আল্লাহ ও রাসুলের নাফরমানী করল।' টাকা উপহার দেয়া একটি প্রসংশনীয় কাজ। একজনের প্রয়োজন শত জনের সাহায্যে সম্পন্ন হয়ে যাবে। তার উপর চাপও হয় না, কারো কাছে হাত পাততে হয় না এবং লজ্জাও পেতে হয় না। অতপর সাহায্যকারীদের মধ্যে কেউ এরূপ মুয়ামেলার সম্মুখীন হলে ওই ব্যক্তি ও অন্যরা সহযোগিতা করে তা আনজাম দিবে। যখন প্রচলিত নিয়মে বিনিময় স্বরূপ হয় তখন কর্জ হবে এবং তা আদায় করা ওয়াজিব। এরূপ সহযোগিতা শর্ত সাপেক্ষ ব্যাপার।
ফাতাওয়া খাইরীয়া'র মধ্যে আছে-
سئل فيما اعتماد الناس في الاعراس والافراح والرجوع مِنَ الْحَجِّ مِنْ إعطاء الثياب والدراهم ويُنْتَظِرُونَ بِهِ لَهُ عِندَهُمَا يُقِعُ لَهُمْ مِثْلَ ذلك ما حكمة اجابَ إِن كَانَ العُرْفَ شائعًا فِيْمَا بَيْنَهُمْ أَنَّهُمْ يُعْطُونَ ذلك ليا خذ بثلهُ كَانَ حَكَمُهُ كَحُكْمِ القَرْضِ الخ
বিয়ে, আনন্দ অনুষ্ঠান ও হজ্ব থেকে ফিরে যে কাপড় ছোপড় ও টাকা-পয়সা দেয়া হয় এবং মানুষেরা তজ্জন্য অপেক্ষাও করে- এর হুকুম কি? তিনি উত্তর দিয়েছেন, যদি পরিভাষা এমন প্রচলিত থাকে যে, উহা দিয়ে বদলা নেওয়া হয় তাহলে তা হবে কর্জের মত। আরো উল্লেখ আছে-
إِنْ كَانَ العُرْفُ قَاضِيًا بأنهم يدْفَعُونَهُ على وجهه الهبته ولا يَنْظُرُونَ فِي ذلك الى إِعْطَاءِ البَدْلِ فَحُكْمُهُ حُكمُ الْهِبَةِ
যদি পরিভাষা এরূপ প্রচলিত থাকে যে, মানুষেরা তা দিয়ে থাকে উপহার স্বরূপ। উহার বদলা দেওয়ার পরোয়া করে না তবে তার বিধান দান করার বিধানের মতো। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলা-৯৯: রাম, কৃষ কি অলী বা নবী ছিলেন? আর যে পাতা বা গাছ অসতর্কতা বশতঃ পড়ে যায় অথবা যে প্রাণী যবেহ হয়ে যায় সে গুলো তাসবীহ পড়াতে মশগুল থাকা প্রমাণিত আছে কি না?
(ক) ওলামা-ই দ্বীন কি বলেন-এ মাসআলার ব্যাপারে যে,
'এরশাদের রহমানী' কিতাব লেখক মৌলভী মুহাম্মদ আলী সাবেক নাজিম নদওয়া- যার সম্পর্কে তার পীর ভাই আমাকে বললেন সে পূর্বের কাজ কর্ম এবং নদওয়ার সম্পর্ক থেকে তাওবা করেছে। আল্লাহই ভাল জানেন। বুখারী শরীফ পড়াতে গিয়ে হযরত সোলাইমান আলাইহিস সালামের আলোচনায় মাওলানা ফজলুর রহমান সাহেবের অবস্থা বর্ণনা প্রসংগে আহমদ মিয়া বললেন-কৃষ্ণ'র মধ্যে ষোল হাজার গয়লা কন্যা ছিল। সে মাওলানা সাহেব মন্তব্য করেছেন সে মুসলমান ছিল। আর মুসান্নিফ এরপরে লিখেন-মিরযা মাযহার জানে জানাঁ রাহমাতুল্লাহি আলাইহি লিখেছেন যে, কোন মানুষের ব্যাপারে যতক্ষণ পর্যন্ত কুফরীর উপর শরীআতের প্রমাণ সাব্যস্ত হবে না ততক্ষণ তার উপর কুফরীর হুকুম লাগানো যাবে না। আর আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন- لِكُلِّ قَوْمٍ هَارٍ প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য পথপ্রদর্শক রয়েছে। এরই আলোকে বলা যেতে পারে যে, রাম ছন্দ্র এবং কৃষ্ণ অলী অথবা নবী হবেন। এ বানোয়াট ফাতওয়ার ব্যাপারে আপনার খিদমতে নিবেদন- হযরত মিরযা মাযহার জানে জানাঁ সাহেব রাহমাতুল্লাহি আলাইহি কোন কিতাবের ইত্যাদির মধ্যে এটা লিখেছেন কি? হুযুর! রাম ছন্দ্র এবং কৃষ্ণ সম্পর্কে মিরযা সাহেব আলাইহির রহমত-এর উক্ত মন্তব্য কোন ব্যক্তির স্বপ্নের বিশ্লেষনে বলেছেন না উক্ত কিতাবে এরূপ লিখিত আছে?
(খ) যে পাতা বা গাছ অসতর্কতা বশতঃ পড়ে যায় অথবা যে প্রাণী যবেহ হয়ে যায় সে গুলো তাসবীহ পড়াতে মশগুল থাকা প্রমাণিত আছে কি না?
জাওয়াবঃ মাওলভী মুহাম্মদ আলী সাহেব পূর্বমত থেকে ফিরে আসেনি, যে ঘটনা মাওলানা ফযলুর রহমান সাহেবের দিকে সম্পর্কিত তার কোন ভিত্তি নেই এবং এই কথা গুলো জনাব মিরযা সাহেব কোন স্বপ্নের তা-বীর করতে গিয়ে বলেননি। বরং কোন পত্রের উত্তরে এটি লিখেছেন। ইহার মধ্যে হিন্দুদের ধর্মকে ধারনা এবং অনুমানের ভিত্তিতে আসমানী ধর্ম মনে করার অপচেষ্টা চালায়েছেন। বরং মা'রিফাত-মুকাশিফাত এবং তথ্য ও তাত্বিক জ্ঞানের মধ্যে তাদের ক্ষমতা আছে বলে মেনে নিয়েছেন। তাদের পরিবর্তনশীল বিশ্বাসকে কুফরি মুক্ত, প্রতিমা পূজাকে শিরক মুক্ত এবং সূফীদের ধ্যানকে বরযখের অবস্থার মত মনে করেছেন। لكُلِّ أمة رسول (প্রত্যেক জাতির জন্য রাসূল রয়েছে) এর বিধানুপাতে হিন্দুস্থানেও নবীগণের আগমন হওয়া এবং তাদের বুযর্গদের পরিপূর্ণ সম্মান করার কথা লিখেছেন। তবে রাম-কৃষ্ণ কারো নাম উল্লেখ করেননি। তিনি এভাবে বলেছেন-
درشان انها سکوت اولی است نه ما را جزم بکفر و ہلاک ابتاع انهالازم است و نه یقین بنجات انها بر ما واجب و ماده حسن ظن متحقق ست ۔
এ সমস্ত ব্যক্তি প্রসংগে নিরবতা অবলম্বন করা উচিত। সে গুলো সম্পর্কে কুফরি বা অনুসারীরা ধ্বংস হওয়ার বিশ্বাস করা আমাদের উপর আবশ্যক নয়। সে গুলো নাজাত পাবে বলে বিশ্বাস করা ওয়াজিব নয়; তবে শুভ ধারণা সাব্যস্ত।
এ সব লিখিত বক্তব্যের সারমর্ম- এই হাস্তিদের অবস্থা বর্ণনার পূর্বেও স্বয়ং অতি প্রকাশ্য। মিরযা সাহেবের এ লিখাগুলো দলীলবিহীন বলে উড়ায়ে দেয়া হয়। তার চেয়ে অতি সম্মানিত জগদগুরূ যুবদাতুল আরেফীন সৈয়্যিদুনা হযরত মীর আবদুল ওয়াহিদ বলগারামী কুদ্দিাসা সিররুহস সামী তাঁর গ্রন্থ 'সাবআ' সানাবিল' যা বারেগাহে রিসালতে অতি মকবুল হয়েছে উহার ১৭০ পৃষ্ঠায় বলেছেন-
مخدوم شیخ ابوافتح جون پوری را در ماه بیع الاول بجهت رسول علیہ الصلوۃ والسلام از ده جا استدعا ایده که بعد از نماز پیشین حاضر شوند هرده استدعا قبول کردند حاضران پر سید نداے مخدوم ہر دہ استد عا و ما قبول فرمودید و هر جا بعد از نماز پیش حاضر باید شد چگونه میسر خواهد آمد فرمود کشن که کافر بود چند صد جا حاضر می شد اگر ابوافتح وہ جا حاضر شود چه عجب۔
মাখদুম শেখ আবুল ফাতাহ জৌনপুরীকে রবিউল আউয়াল মাসে রাসূল আলাইহিস সালামের সন্তুষ্টির জন্য দশটি স্থানে হাজির হওয়ার দাওয়াত কবুল করেছেন। হে 'মাখদূম! দশ জায়গায় দাওয়াত কবুল করতঃ প্রত্যেকটিতে কিভাবে হাজির হওয়া সম্ভব হয়েছে? তিনি উত্তরে বললেন-কাফির কৃষ্ণ যদি কয়েকশ' জায়গায় একই সময়ে হাজির হতে পারে তাহলে আবুল ফাতাহ দশটি জায়গায় হাজির হলে আশ্চার্য কিসের?
কথা হল- নবুয়্যাত এবং রিসালতের মধ্যে সন্দেহের অবকাশ নেই।
الله اعلم حَيْثُ يَجْعَلُ رِسَالَتَهُ
আল্লাহ এবং রাসূল যাদেরকে বিস্তারিতভাবে নবী বলেছেন। আমরা তাদের উপর বিস্তারিতভাবে ঈমান এনেছি। আর অবশিষ্ট সকল আল্লাহর নবীদের উপর সংক্ষিপ্তভাবে ঈমান এনেছি। لكل امة رسول ওটা আবশ্যক নয যে, প্রত্যেক রাসুলকে আমরা জানি বা নাজানি, না দেখে, না শোনে অন্ধের লাঠির পেঠার মত মনে করব, সম্ভবত এটা হবে; সম্ভবত ওটা হবে। হ্যাঁ! জানি, না জানি সকলের ব্যাপারে বলব أمنا بالله ورسوله হাজার হাজার উম্মত রয়েছে যে গুলোর নাম গ্রাম পর্যন্ত জানা নেই। শত শত বছর অতিবাহিত হয়েছে। কুরআনে আযীম এবং হাদীসে পাকে রাম এবং কৃষ্ণের উল্লেখ পর্যন্ত নেই। তাদের অস্তিত্বের ব্যাপারে ইহুদীদের ধারাবাহিক বর্ণনা ছাড়া আমাদের কাছে কোন প্রমাণ নেই। এরা কি বাস্তবে কোন ব্যক্তি না ধারণা প্রসূত? যদি ইহুদীদের ধারাবাহিক বর্ণনা দলীল না হয় তাহলে তাদের অস্তিত্বই প্রামাণহীন আর যদি দলীল হয় তাহলে সেই ধারাবাহিক বর্ণনার দ্বারা তাদের ফিসক ফুজরি এবং খেল তামাশা প্রমাণিত। কাজেই অস্তিত্বের জন্য ইহদীদের ধারাবাহিক বর্ণনা গ্রাহ্য আর শান বর্ণনার জন্য অগ্রাহ্য মেনে নেওয়া হবে-এটার কি অর্থ হতে পারে? তাদেরকে কামেল মুকাম্মেল বরং ধারণাগত ভাবে মা'যাল্লাহ! আম্বিয়া এবং রাসুল মানা যাবে কিভাবে?
(২) আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন-
تَسَبْحَ لَهُ السَّمَوْتُ السّبع والأرضُ وَمَنْ فيهِنَّ وَإِنْ مِن شَئي الا يُسَبِّحُ بِحَمْدِهِ وَلَكِنْ لَا تَفْقَهُونَ تَسْبِيحَهُمْ
অর্থাৎ আসমান, যমীন এবং এই দুয়ের মাঝে যা কিছু আছে সকলে আল্লাহর তাসবীহ পাঠ করে। এমন কোন জিনিস নেই যে যারা প্রশংসা সহকারে তার তাসবীহ পাঠ করেনা কিন্তু তোমরা তাদের তাসবীহ পাঠ করাটা বুঝতে পারতেছে না।
এ সাধারণ নীতি বিশ্বের সকল জিনিসকে অর্ন্তভুক্ত করে, প্রাণী হোক বা প্রাণহীন। জড় পদার্থ যার সাথে রুহেরও সর্ম্পক নেই তারা পর্যন্ত সর্বদা তাসবীহ পাঠ করে।
তারা من شئى এর গণ্ডি থেকে বহির্ভুত নয়। কিন্তু বেলায়তের শক্তি ছাড়া তাদের তাসবীহ শ্রুতিহীন ও অবোধগম্য। ওই সকল শরীর-যাদের মানবীয় বা প্রাণীত্ব বা উদ্ভিদীয় প্রাণ রয়েছে তাদের দুই ধরণের তাসবীহ। এক প্রকারের তাসবীহ দেহের-যার সাথে রুহের সর্ম্পক বা কোন ইখতিয়ার নেই। তারা ওই ان من شئ এর মধ্যে শামিল। এটা নিজেদের স্বত্ত্বাগত তাসবীহ। দ্বিতীয় তাসবীহ রুহের, এটা হল ইচ্ছাকৃত ইখতিয়ারী এবং আলমে বরযখে প্রত্যেক মুসলমানরা তা শুনবে ও বুঝবে। এ তাসবীহ প্রাণী বা উদ্ভিদ হত্যা ও নিধনে শেষ হয়ে যায়। প্রাণী মরে গেলে বা উদ্ভিদ শুকিয়ে গেলে এ তাসবীহ ছিন্ন হয়ে যায়। এ জন্য আইম্মা-ই দ্বীন ইরশাদ করেছেন তাজা জিন্দা গাছ কবর স্থান থেকে উপড়ে ফেলবে না।
فانه مادام رُطَبًا يُسَبِّحُ لِلَّهِ تَعَالَى فَيُؤْنِسُ المَيْتُ
যতক্ষণ পর্যন্ত ওই বৃক্ষ জিন্দা তথা তাজা থাকবে ততক্ষণ আল্লাহর তাসবীহ পাঠ করে। ফলে মৃত ব্যক্তি মনোরঞ্জন করে। কিন্তু হত্যা, কর্তন বা শুকানোর দ্বারা ছিন্নভিন্ন হয়ে যাওয়ার পর ও তাদের শারিরীক তাসবীহ বাকী থাকে যতক্ষণ পর্যন্ত একটি অংশও অবশিষ্ট
থাকবে; তা ছিন্ন হবে না। أن من شئ يسبح بحمده এ আয়াত দ্বারা বুঝা যায়- যে বস্তুর সাথে রুহের সম্পর্ক ছিল না তার তাসবীহ কক্ষনো ছিন্ন হবে না। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলা-১০০: মুসলমান কাফিরদের থেকে চিকিৎসা করে এবং লেনদেনে সাহার্য গ্রহণ করে তারা কি সবাই কোরআন মজীদকে মিথ্যা আরোপকারী?
মাওলানা সায়্যিদ আসিফ'র প্রশ্নের প্রতি দৃঢ় ইঙ্গিতবাহক ইবারত নিম্মে প্রশ্নাকারে পেশ করা হল-
بسم الله الرحمن الرحيم نحمده ونصلى على رسوله الكريم يا حبيب محبوب الله روحي فداك
হে উভয় জগতের কাবা ও কিবলা সরোয়ারে কায়েনাত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মতের কান্ডারী দামাত বরকাতুহুম! আপনার আলীশান দরবারে অসংখ্যক সালাম-বৃচির হাদিয়া পেশ করার পর-আল্লাহর ফযলে শান্তিতে থাকবেন এ প্রত্যাশা। সহতুরী মোল্লা জমান সামী'র দরবার থেকে প্রকাশিত ইসলামী পয়গাম পত্রিকায় আবদুল মাজেদের একটি লিখাতে উল্লেখ আছে "একজন মুসলমান পানির মধ্যে ডুবে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় আরেকজন সাতারু অমুসলিম তাকে বাঁচানোর জন্য হাত দিয়েছে এখন সেই মুসলমান তার হাত ধরে প্রাণ রক্ষা করবে কি না?” এটাও লিখেছেন যে, মুসলমান যদি হাত পা নড়াচড়া করে বেঁচে যাওয়ার বিশ্বাস রাখে, ডুবে যাওয়ার সম্ভাবনা না থাকে অথবা কোন মুসলমান বলে যে, কোন খড়কুটা ইত্যাদি পাওয়ার আশা করে তাহলে কাফিরের হাত ধরার অনুমতি নেই। তাদের দ্বারা চিকিৎসাও করাবে না। لَا يَالُوْنَكُمْ خَبَالًاً (তারা তোমাদের সাথে দুষ্টামী করতে বিন্দুমাত্র ত্রুটি করেনা) এ আয়াতাংশ দ্বারা কি উদ্দেশ্য? দারুল হারবের কাফিরগণ ধর্মীয় বিষয়াদিতে ধর্মের ক্ষতি হয় এমন আচরণ করে কি না? প্রত্যেক কাজে সর্বদা যখন সুয়োগ হয় তখন তারা দ্বীনের ক্ষতি করতে চেষ্টা করে। গায়রে মহারেব (দারূল হারবের) কাফির না হয় এমন লোক সম্পর্কে তাফসীরে কবীরের মধ্যে গ্রন্থাকার
لا يَنْهُكُمُ اللهُ عَنِ الَّذِينَ لَمْ يُقَاتِلُوْ كُمْ فِي الدِّينِ
আল্লাহ তোমাদেরকে তাদের সাথে সদাচরণ করতে ও তাদের প্রতি সুবিচার করতে বারণ করেন না, যারা তোমাদের সাথে ধর্মের কারণে যুদ্ধ করেনি।
এ আয়াতের অধিনে লিখেছেন-
وقال أهل التأويل هذه الآية تدل على جَوَازِ البَرْبَيْنَ المُشركين والمسلمينَ وَإِنْ كَانت المُوَالَا مُنْقَطِعَة
বিশ্লেষকগণ বলেছেন-এ আয়াত মুশরিক-মুসলিমের মাঝে সদাচরণ করা জায়েয হওয়ার উপর বুঝায়। যদিও তাদের সাথে বন্ধুত্ব অবৈধ।
যিলকাদ মাসে প্রকাশিত 'রিসালা-ই রেযা' এর মালফুযাত অংশের ৮৬ পৃষ্ঠায় রয়েছে' হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের সাথে ভদ্র ব্যবহার করতেন ইসলামের দিকে ফিরে আসার যাদের মনমানসিকতা থাকে-যা এ বর্ণনা থেকে বুঝা যায়। কাফির মুরতাদদের সাথে তিনি সর্বদা কঠোরতা অবলম্বন করতেন। কতেক কাফিরের চোখে শলাই পাতানো কিসাস স্বরূপ ছিল। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ আয়াত করীমা নাযিল হওয়ার পূর্বে তাদের সাথে নরম ব্যবহার করতেন। - يا ايها النَّبَى جَاهِدِ الْكُفَّارَ وَالْمُنْفِقِينَ (হে নবী! কাফির-মুনাফিকদের প্রতি কঠোরতা অবলম্বন করুন।) যারা ইসলামের দিকে ফিরে আসার মত নয় তিনি সে কাফিরদের সাথে কি কঠোর ব্যবহার করতেন-নাকি তাদের প্রতিও কোমল ব্যবহার করতেন? কাফিরেরা বিভিন্ন স্বভাবের ছিল এবং হবে। কতেক কাফিরের সাথে ইসলাম ও মুসলমানের তীব্র শত্রুতা রয়েছে। আর কারো সাথে কম। সবার প্রতি কি একই হুকুম? না শুধু সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধ করা হবে? দারুল হারবের লোক ও বাইরের লোকের মধ্যে তাদের মর্যাদানুসারে কঠোর হওয়ার হুকুমে পার্থক্য রয়েছে? হুযুর! মুরতাদের বিয়ে বাকী থাকবে কি না-এ মাসআলার সম্পর্কে ফাতওয়ার কিতাবে মতানৈক্য পাওয়া যায়। অথচ কোন কোন হুকুম যামানার বির্বতনে পরিবর্তন হয়ে যায়। কিন্তু ফাতওয়া-ই হিন্দিয়া যা নিকটবর্তী সময়ের মধ্যে লিখিত তাতেও এ ব্যাপারে কোন কথা নেই। যদিও বা ইসলামী রাষ্ট্র হওয়া সত্ত্বেও মুর্তাদের উপর বেত্রাঘাত ইত্যাদি শরীআতের হুকুম চলে না, তবে যখন সে ইসলাম থেকে বের হয়ে গেল তখন বিয়ে বাকী থাকবে কিভাবে? সে কি পূর্বের স্বামী থেকে তর্কা পাবে? আর তার মৃত্যুর পর তার প্রথম স্বামীও কি শরীয়তের দৃষ্টিতে তর্কা পাবে? যদি ও তাফসীরে কবীর-এ দারূল হারবের কাফির ও অন্যান্য কাফিরের সাথে দুনিয়াবী বিষয়ে পরামর্শ ও অন্তরঙ্গতা বর্জন করার ব্যাপারে আয়াত নাযিল হওয়ার অভিমত পাওয়া যায়। কেউ যদি এমন ধারণা করে যে, এখানে ধর্মীয় বিষয়ে বলা হয়েছে; দুনিয়াবী বিষয়ে নয়-তাও প্রত্যাখানযোগ্য। যেমন বিবৃত রয়েছে-إِنَّ المسلمين كانوا يشاورونَهُمْ فِي أُمُورِهِمْ وَيُؤَانِسُونَهُمْ لِمَا كَانَ بَيْنَهُمْ
مِنَ الرّضاع والْحُلْفِ ظَنّاً مِنْهم أنهم وإن خالفوهم في الدِّينِ فَهُمْ يَنْصُحُونَ لهم في اسباب المعاش فنها هُمُ الله تعالى بهذه الآية عنه فمنع المومنين ان يتخذوا بِطَانَةً مِنْ غير المومنين فَيَكُونُ ذَالِكَ نَهْدًا عَنْ جَمِيعِ الكَفَّارِ وقال تعالى يا ايها الذينَ آمَنُوا لا تَتَّخِذُوا عَدُوّى وَعَدَوَّكُمْ أولياء ومما يؤكد ذالك ما روى أنه قيل لعمر بن الخطاب رضى الله تعالى عنه ههنا رجل من اهل الحيرة نصرانى لا يعرف اقوى حفظا ولا احسن خطا منه فإن رايت أنْ تَتَّخِذوه كاتبًا فامتنع عمر رضى الله تعالى عنه منا ذالك وقال اذن اتخذت بِطانَتَهُ مِنْ غير المومنين فقد جعل عمر رضى الله تعالى عنه هذه الآية دليلاً على النهي عن اتخاذ النصراني بطانة
'মুসলমানেরা কাফিরদের সাথে তাদের দুগ্ধ ও চুক্তিগত সম্পর্কের কারণে তাদের থেকে বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ নেয় এবং তাদের সাথে বন্ধুত্ব করে। তারা এ ধারণা করে যে, তারা ধর্মগত ভাবে বিরোধিতা করলেও জীবন-যাপনে তাদের হিতাকাংখী। তাই আল্লাহ তায়ালা এ আয়াত দ্বারা তাদেরকে নিষেধ করেছেন। মুমিনদেরকে তিনি অমুসলিমকে অন্তরঙ্গ বন্ধু গ্রহণ করতে বারণ করেছেন। কাজেই এ নিষেধ হবে সকল কাফির থেকে। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন-হে ঈমানদারেরা! তোমরা আমার ও তোমাদের শত্রুদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহ তায়ালা আনহু'র একটি ঘটনা এটিকে আরো তাগিদ করে যে, তাঁকে বলা হল হীরবাসী খৃষ্টান লোকটির চেয়ে খুব বিশ্বস্ত ও লেখা সুন্দর কাউকে দেখিনি। আপনি সমর্থন দিলে তাকে সচিব বানাব। হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উহা থেকে বারণ করলেন। তাহলে তো অমুসলিমকে অন্তরঙ্গ বন্ধুরূপে গ্রহণ করলাম। হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উক্ত আয়াত শরীফকে খৃষ্টানকে বন্ধু রূপে গ্রহণ করা নিষেধ হওয়ার উপর দলীল বানায়েছেন।'
এ আলোচনা থেকে সর্ব প্রকারের লেনদেন অবৈধ হবে কেন? বেচাকেনা, ঘর ভাড়া, বন্ধক ইত্যাদি লেনদেনে কি তাদেরকে অন্তরঙ্গ বন্ধু ও হিতাকাংখী বানানো বুঝায়? যেমন-মুচিকে টাকা দিয়ে জুতা সেলাই করা, মেতরকে পারিশ্রমিক দিয়ে ময়লা পরিষ্কার করা, তাঁতী থেকে মূল্য দিয়ে কাপড় কেনা, এভাবে মূল্য বিনিময় করতঃ ইত্যাদি ব্যবসা করা হয়। কাফির হরবী ও মহারেব একই হুকুম। যিম্মী ও চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী কাফিরের মাঝে পার্থক্য আছে। যিম্মী ও চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী কাফির উভয়কে অন্তরঙ্গ বন্ধু বানানো অবৈধ। আমিরুল মুমিনীন হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এ ঘটনা যিম্মী সম্পর্কে। বন্ধুত্ব গ্রহণ সাধারণভাবে সকল কাফিরদের সাথে হারাম; চাই হারবী হোক বা যিম্মী। তবে সদালাপ ভিন্ন কথা। তা চুক্তিবদ্ধ কাফিরের সাথেও বৈধ।
لا يَنْهَاكُمُ اللهُ عَنِ الَّذِينَ لَمْ يُقَاتِلَوْكُمْ فِي الذين
এ আয়াত শরীফ তার প্রমাণ।
এ নাতিদীর্ঘ ইবারতের মূল উদ্দেশ্য-এই বিশ্লেষণমূলক বক্তব্যের উপর নির্ভর করা যাবে কি না? দারূল হারবের কাফির বাইরের কোন ব্যক্তিকে সাহায্য করতে গিয়ে ক্ষতি করলে তা কি পাপ হবে? ওই ইসলামী পত্রিকার মধ্যে আরো আছে যে, ওই মুশরিক বা মুরতাদকে ডুবে মরা থেকে মুক্তি দানকারী এবং সাহায্যকারী মনে করা কোরআন মজীদকে মিথ্যা প্রতিপন্নকারীর শামিল। নাউযু বিল্লাহ তাহলে তো যত মুসলমান কাফিরদের থেকে চিকিৎসা করে এবং লেনদেনে সাহার্য গ্রহণ করে তারা কি সবাই কোরআন মজীদকে মিথ্যা আরোপকারী? নিবেদনকারী মুহাম্মদ আসিফ। আল্লাহ তাকে, তার মা-বাবা ও সমস্ত মুমিন নর-নারীকে মহানবীর অসীলায় ক্ষমা করুক।
জাওয়াব:
بسم الله الرحمن الرحيم - نحمده ونصلى على رسوله الكريم
সম্মানিত মাওলানা সাহেব! আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু, আল্লাহ তায়ালা আপনাকে মর্যাদাবান করুক। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-
" يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّخِذُ وَابِطَانَةً مِنْ دَوْنَكُمْ لَا يَا لَوْنَكُم خَبَالاً
'হে মুমিনগণ! নিজেদের ব্যতিত কাউকে অন্তরঙ্গ বন্ধু বানাও না, তারা তোমাদের সাথে দুষ্টামী করতে মোটেই ত্রুটি করে না।' (আলে ইমরান, আয়াত-১১৮)
এটা সচারচর কথা যে, সাধারণভাবে কাফিরকে কাজের মধ্যে অন্তরঙ্গ বন্ধু ভাবা নিষেধ। এমন কি দুনিয়াবী কাজে হলেও। সে কখনও তার সাধ্য অনুযায়ী আমাদের খারাবী করা থেকে বিরত থাকবে না।
قُلْ صَدَقَ اللَّهُ وَمَنْ اصْدَقُ مِنَ اللهِ قِيلًا
সায়্যিদুনা ইমামে আজল হযরত হাছান বসরী রাদ্বিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত-
لا تَسْتَضِبُوا بِنَارِ الْمُشْرِكِينَ
‘মুশরিকদের আগুন থেকে আলো গ্রহণ করো না।’ তিনি প্রাগুক্ত আয়াতের তাফসীরে স্পষ্ট বলে দিয়েছেন কাফিরদের থেকে কোন কাজে পরামর্শ গ্রহণ করো না। হযরত আবুল ইয়ালা মসনদে, আবদুল্লাহ ইবনে হুমাইদ, ইবনে জরীর, ইবনে মুনযির, ইবনে আবু হাতেম স্ব-স্ব তাফসীরসমহে এবং ইমাম বায়হাকী শুয়াবুল ঈমানে আযহার বিন রাশেদের মাধ্যমে হযরত আনস বিন মালেক রাদ্বিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন-
قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لَا تَسْتَضِلُّوا بِنَارِ الْمُشْرِكِينَ قالَ فَلَمْ نَدر ماذلك حتى أتوا الحسن فَسَأَلُوهُ فَقَالَ نَعَمْ يقُول لا تَسْتَشِيرُوهُمْ فِي شَيْءٍ مِنْ أَمَوْرِ كُمْ قال الحسن وتصديق ذلك في كتاب الله تعالى ثم تلا هذه الآية ياايها الذين امنوا لا تتخذوا بطانة من دونكم .
তিনি বলেছেন- রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফরমায়েছেন, হে আমার সাহাবীগণ! তোমরা মুশকিদের আগুন থেকে আলো নিয়ো না। বর্ণনাকারী বললেন, ইহার মর্ম বুঝতে না পেরে সবাই হযরত হাসান রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু'র কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি উত্তরে বললেন-হ্যাঁ! নবীজি ফরমায়েছেন, তোমরা নিজেদের কোন কাজে তাদের পরামর্শ নিয়ো না। তার সত্যতা প্রমাণে তিনি উপরোক্ত আয়াত শরীফ তেলাওয়াত করলেন।
এ আয়াতে করীমা আলোকে ফারুকে আযম রাদ্বিআল্লাহু আনহু কাফিরদেরকে সচিব বানানো নিষেধ করে দিয়েছেন। ইবনে আবু শাইবার মুসান্নিফ, হুমাইদী'র সন্তানেরা এবং আবু হাতিম রাযী তাফসীরের মধ্যে ফারুকে আযম থেকে বর্ণনা করেন-أنَّهُ قِيلَ لَهُ إِنْ هُهَنَا غُلَامًا مِنْ أَهْل الحيرة حافظا كاتبا فلو اتخذته كاتبًا قال اتخذت اذن بطانة مِنْ دُونِ المؤمنين .
তাঁকে বলা হল এখানে হীরাবাসীর একজন বিশ্বস্ত সচিব আছেন। বললেন, যদি আমি তাকে সচিব বানায় তাহলে একজন অমুসলিমকে সচিব বানানো হবে। হানাফী ইমামগণ এরই উপর ঐক্যমত পোষণ করেছেন-যা- তাফসীরে কবীরের মধ্যেও উক্ত আয়াতের অধীনে লিখা আছে-
الأكثرُونَ على أنهم اهل العهد و هذا قول ابنِ عَبَّاسِ وَالمُقَاتِلِيْنَ وَالْكَلْبِي
অর্থাৎ তাদের অধিকাংশ চুক্তিবদ্ধ ছিল। এটি হযরত ইবনে আব্বাস, মুকাতিল ও কলবী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম'র উক্তি।
আমরা 'হুজ্জাতুল মু'তামিনা'র মধ্যে এ উদ্দেশ্যটি নিম্নলিখিত কিতাব দ্বারা সাব্যস্ত করেছি (১) জামে ছগীর- ইমাম মুহাম্মদ (২) হিদায়া (৩) দুরারুল মুহাকিম (৪) গা-য়াতুল বয়ান (৫) কিফায়া (৬) জাওহারাহ নায়ারা (৭) মুতাসফফা (৮) নিহায়া (৯) ফাতুহুল কাদীর (১০) বাহরুর রায়িক (১১) কাফী (১২) তাবয়ীনুল হাকায়িক (১৩) তাফসীর আহমদী (১৪) ফাতহাল্লাহিল মুবীন (১৫) গুনীয়া (১৬) যিল আহকাম ওয়া মি'রাজুদ্দিরাইয়া (১৭) ইনায়া (১৮) মুহীত বুরহানী (১৯) জুয়ী যাদা (২০) বাদাইয়ু মালিকিল ওলামা। হুযুর রাহমাতুললিল আলামীন সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন বিশ্ব জাহানের জন্য রহমত স্বরুপ। وَاغْلُظَ عَلَيْهِمْ (আপনি তাদের প্রতি কঠোর হোন) এ ঘোষনার পূর্বে তাদের প্রতি বিভিন্ন ধরনের দয়া-মায়া প্রদর্শন করতেন। স্বয়ং গনিমতের মলের মধ্যে مؤلفة القلوب এর জন্য একটি অংশ নিধারণ করেছিলেন কিন্তু এ বজ্র ঘোষনা সব নম্রতাকে রহিত করে দেয়।
مؤلفة القلوب
বা মন আকর্ষনের জন্য প্রদেয় অংশ বাদ পড়ে গেল।
وقلِ الحَقِّ مِنْ رَبِّكُمْ فَمَنْ شَاءَ فَلْيُؤْمِنْ وَمَنْ شَاءَ فَلْيُكْفَرُ إِنَّا أَعْتَدْنَا للظَّالِمِينَ نَارًا أَحَاطَ بِهِمْ سُرَادِقُهَا .
'হে মাহবুব! আপনি বলে দিন, সত্য তোমাদের রবের পক্ষ থেকে এসেছে। যে চাই ঈমান আনুক আর যে চাই কাফির থাকুক। নিশ্চয় এরূপ অত্যাচারীদের জন্য আমি অগ্নি তৈরি করে রেখেছি-যার আবরণী তাদেরকে ঘিরে ফেলবে।' (কাহফ, আয়াত-২৮)
হযরত ইমাম আযম রাদ্বি আল্লাহু আনহু'র নামকরা ওস্তাদ ইমাম আতা ইবনে আবু রিবাহ রাদ্বি আল্লাহু আনহু যার সম্পর্কে ইমাম আযম বলেছেন- তাঁর থেকে উত্তম আর কাউকে দেখি নি, তিনি বলেন, وَاغْلَظَ عَلَيْهِم এই আয়াত দ্বারা
نُسِخَتُ هذه الاية كل شئ من العفو والصفح
উক্ত আয়াত দ্বারা সব ক্ষমা ও সুন্দর দৃষ্টি রহিত হয়ে যায়।' কোরআন আযীমে ইহুদী-মুশরিকদেরকে মুসলমানদের চরম শত্রু বলা হয়েছে।
لَتَجِدَنَّ أَشَدَّ النَّاسِ عَدَاوَةٌ لِلَّذِينَ آمَنُوا الْيَهُودُ وَالَّذِينَ أَشْرَكُوا
'আপনি মানুষের মধ্যে মুসলমানদের সাথে অধিক শত্রুতা পোষণকারী পাবেন ইহুদী ও মুশরিকদেরকে।' (মায়িদা, আয়াত-৮২)
তবে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-
يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ جَاهِدِ الْكُفَّارَ وَالْمُنَافِقِينَ وَاغْلُظَ عَلَيْهِمْ وَمَاوَاهُمْ جَهَنَّمُ وَبِئْسَ الْمَصِيرُ
'হে অদৃশ্যের সংবাদদাতা (নবী)! কাফির ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করুন এবং তাদের প্রতি কঠোর হোন। তাদের ঠিকানা জাহান্নাম এবং তা কতই মন্দ প্রত্যাবর্তন স্থল।' (আত তাহরীম, আয়াত-৯)
এ প্রসংগে ব্যাপক আলোচনা এসেছে, ইহার মধ্যে কাউকে পৃথক করা হয়নি। কোন গুণের উপর হুকুমকে সীমাবদ্ধ করা সে বিধানের ইল্লাত বুঝায়। এখানে কুফরী দোষের কথা উল্লেখ করতঃ তাদের প্রতি জিহাদ এবং কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তখন এ শাস্তি শুধু কুফরের জন্য দেওয়া হবে; মুমিনদের অন্তরে শত্রুতামী থাকার কারণে নয়। আর স্বয়ং কুফরের ব্যাপারে সবাই সমান-
الكفرملة وَاحِدَة
তবে হ্যাঁ! চুক্তিবদ্ধ কাফির অকাট্য মুতাওয়াতির দলীল দ্বারা বাদ পড়েছে। বাস্তব সত্য যে, জিহাদের হুকুম শুনেও তাদের দিকে মন যায় না। কাজেই জিহাদের নির্দেশ শুরু থেকে চুক্তিবদ্ধ কাফিরের সাথে সম্পৃক্ত নয়-যা বাহরুর রায়িক কিতাবে উল্লেখ রয়েছে। কাজের কারণে শত্রুতা হলে ইহুদীদের হুকুম অগ্নিপুজকদের থেকে মারাত্বক হতো অথচ ব্যাপারটা ঠিক তার উল্টো আর নাসারাদের হুকুম ইহুদীদের থেকে নাজুক হতো। অথচ সবার হুকুম এক। পরিস্থিতির খাতিরে সংখ্যালঘু যিম্মী থেকে হরবীদের সাহায্য নেয়া যেতে পারে। যেমন ইমাম সরখসী শরহে ছগীরের মধ্যে বলেছেন-
الاستعانة بأهل الذمة بالكلاب
‘পাগলা কুকুরের দমন যিম্মীদের থেকে সাহার্য্য নেয়া। ইমাম তাহবী এবং আমাদের ইমাম আযম, সাহেবাইন প্রমুখগণ এই ব্যাপারে লিখেছেন যে, সাধারণত মুশরিকদের থেকে সাহায্য প্রার্থনা করা না-জায়েয যদিও যিম্মী হয়। অন্ততঃ আহলে কিতাব হতে হবে। এ ব্যাপারে বিস্তারিত "আল হুজ্জাতুল মুতামিনা"য় রয়েছে। কাফির চিকিৎসক থেকে প্রকাশ্য রোগে যেখানে তাদের খারাবী চলতে পারে না। তাহলে সেটা - لا يالونكم خبالاً থেকে একেবারে ভিন্ন এবং তা দুনিয়াবী কর্ম-কান্ড, বেচা কেনা, ব্যবসা-বানিজ্য করার মত; তা বৈধ। হ্যাঁ! ভিতরগত রোগের চিকিৎসা-যেখানে ধোকা দেয়ার অবকাশ থাকে, সে ব্যাপারে যদি কাফিরের উপর এই ভরসা করে যে, তাদেরকে নিজের বিপদে সমবেদনা জ্ঞাপক, অভিভাবক, শুভাকাঙ্খি আপনজন, নিরেট মানুষ, আন্তরিক বন্ধু ও তার কথায় ঐক্যমত পোষণকারী মনে করে তাহলে অবশ্যই আয়াতে করীমার বিরোধী হবে। আয়াতের করীমার কথা জেনে-শোনে বিরোধিতা করলে শুধু নিজের প্রাণ নয়, বরং প্রাণ ও ঈমান উভয়টি নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশংকা। সে কোরান ও জাতি সবার দুশমন। সে একদিন বুঝবে। এরপরেও বাস্তবে অন্তর থেকে তাদেরকে হিতাকাংখী মনে করলে সে তো ঈমানদার হওয়া দুরের কথা, সে তো মুসলমানের শত্রু। তারা মুসলমান থাকবে না। সুতরাং فَإِنَّهُ مِنْهُمْ এর অর্ন্তভুক্ত হয়ে যাবে। তাদের কামনা তো এটাই, আল্লাহ তায়ালা বলেন-
وَدَّوالَوْ تَكْفُرُونَ كَمَا كَفَرَ وافْتَكُونُونَ سَوَاءٌ
'তারা এ আশা করে যে, তারা যেমন কাফির তদ্রূপ তোমরাও কাফির হয়ে যাও যাতে তোমরা ও তারা বরাবর হয়ে যায়।' (আন নিসা, আয়াত-৮৯)
নাউযু বিল্লাহ! কিন্তু আল্লাহর শোকর যে, কোন মুসলমান আয়াতে কারীমার সম্পবে অবগত হয়ে কখন ও এ ধরনের মনে করবে না। আর এরূপ মনে করলে সে কোরানকে মিথ্যা আরোপকারী হবে। মনে করবে এটা তাদের পেশা, তাদের থেকে হালোয়া রুটি খাওয়ার জন্য। এভাবে করলে বদনাম হবে। গোমর ফাঁস হয়ে যাবে তখন সরকার তাকে পাকড়াও করতঃ শাস্তি প্রদান করবে। এই মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকলে সে নিজের শুভাকাঙ্খি হবে। মিথ্যা আরোপকারী না হলেও সর্তকতামূলক বিরোধী হওয়া আবশ্যক। বিশেষ করে নেতৃগোচের মুসলমান যাদের সংখ্যা কম হওয়াকে কাফিরেরা বিজয় মনে করে। সে মুসলিম নেতাদের কাছে প্রাণ-ঈমান উভয়টা অতি প্রিয় সে মর্মে আয়াতে করীমা-
يا ايها الذين آمنوا لا تَتَّخِذُ وابطَانَةً مِنْ دُوْنِكُمْ لَا يَالُونَكُمْ خَبَالاً
হে ঈমানদারেরা! নিজেদের ব্যতিত কাউকে অন্তরঙ্গ বন্ধু বানাও না, তারা তোমাদের সাথে দুষ্টামী করতে মোটেই ত্রুটি করে না। (আলে ইমরান আয়াত-১১৮)
এবং অন্য আয়াতে কারীমা
وَلَمْ يَتَّخِذُوا مِنْ دُوْنِ اللَّهِ وَلَا رَسُولِهِ وَلَا الْمُؤْمِنِينَ
وَلِيُجةَ
আল্লাহ, তদীয় রাসুল এবং মুমিনকে ছাড়া আর কাউকে অন্তরঙ্গ বন্ধু রূপে তারা গ্রহণ করে না। ওই উল্লেখিত হাদীস-
لَا تَشْتَضِيُوْا بِنَارِ الْمُشْرِكِينَ
মুশরিকদের আগুন থেকে আলো গ্রহণ করো না। নিজের প্রাণ সে কাফিরের কাছে সঁপে দেয়া অন্তরঙ্গ বন্ধু বানানো আর কি হতে পারে। ইমাম মুহাম্মদ আবদরী ইবনুল হাজ মক্কী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি 'মদখল' এ বলেছেন-
وَأَشَدُّ فِي الْقُبْحِ وَأَشْنَعُ مَا أَرْتَكَبُ بَعْضَ النَّاسِ فِي هَذَا الزَّمَانِ مِنْ مُعَالَجَةٍ الطبيب وَالْكَحَالِ الكَافِرِينَ الَّذِينَ لا يُرْجى مِنْهُمَا نَصَحَ وَلَا خَيْرُ بَلْ يقطع بعضهما اذيتهما لِمَنْ ظَفِرابِهِ مِنَ المسلمينَ سَيِّمَا إِنْ كَانَ المُرِيضُ كَبِيرًا فِي دينه او علمه
অর্থাৎ সব চাইতে বেশি মন্দ এবং খারাপ যার ব্যবহার আজ কাল লোকেরা করে আসছে। কাফির ডাক্তার এবং বৈদ্য থেকে চিকিৎসা করা-যার থেকে কল্যান এবং ভালো আশা করা যায় না। মুসলমানকে কাবু করতে পারলে তার খারাবী করবে এবং তাকে কষ্ট দেবে। বিশেষ করে ধর্ম ও জ্ঞানে সবল হলে। তারপর আরো বলেন-
أَنَّهُمْ لَا يُعْطُونَ لِأَحَدٍ مِنَ الْمُسْلِمِينَ شَيْئًا مِنَ الأدْوِيَّةِ الَّتِي تَضَرَه ظَاهِرًا لأَنَّهُم لَوْ فَعَلُوا ذَلكَ لِظَهْرِ غَشْهِمْ وَانْقَطَعَتْ مَادَّةٌ مَعَاشِهِمْ لَكِنَّهُمْ يَصِفُونَ لَهُ من الادوية مَا يُلِيقُ بِذَالِكَ الْمَرَضِ وَيَظْهَرُونَ الصُّنْعَةَ فِيْهِ وَالنَّصْحَ وَقَدْ يَتَعَافِي المَرِيضُ فَيَنْسِبَ ذلك إلى حَذْقِ الطَّبِيبِ وَمَعْرِفَةٍ لِيُقَعَ عَلَيهِ المعاش كثيراً لسبب ما يقع له مِنَ الثَّنَاءِ عَلَى نَصَحَةً فِي صُنْعَةٍ لَكُنَّه يُدس في اثْنَاءِ وَصْفِهِ حَاجَةً لا يَعْطِنُ فِيْهَا لَمِنَ الضَّرَرِ غَالِبًا وَتَكُونَ تِلْكَ الْحَاجَةِ مما تُنْفَعُ ذلك المريضُ وَيَنْتَعِشَ مِنْهُ فِي الحَالِ لَكِنَّهُ يَعُودُ عَلَيهِ بِالضَّرَرِ في أخر الْحَالِ وَقَدْيْدَسَ حَاجَةٌ كَمَا تَقَدَّمَ لَكِنَّهُ إِنْ جَامَعَ إِنْتَكَسَ وَمَاتَ وحاجة أخرى يصحُ بَعْدَ اسْتِعْمَالِهَا لَكِنَّهُ إِذَا دَخَلَ الْحَمامُ انتَكسُ وَمَاتَ وحاجته أُخْرَى إِذَا اسْتِعْمَالُهَا صَحَ وَقَامَ مِنْ مُرْضِهِ لَكِنْ لَهَا مُدَّةً إِذَا انْقَضَتْ عادة بالضرر وتختلف المدة في ذلكَ فَمِنْهَا مَا يَكُونَ مُدتَهَا سَنَةَ او اقل أَوْ اكثرَ إلى غَيْرِ ذَلِكَ مِنْ غَشَهِمْ وَهُوَ كَثِيرَ ثُمَّ يَتَعَلَّلُ عَدُوٌّ اللَّهِ إِنَّ هَذَا مَرْضَ أخَرُ لَيْسَ لَهُ فِيهِ حِيْلَةٌ وَيُظْهرُ التأسف على مَا أَصَابَ المريض ثُمَّ يَصِفُ . اشياء تنفعُ مَرَاضَةً لكنها لا تفيدُ بَعْدَ إِنْ فَاتَ الْأَمْرُ فِيهِ فَيُنْصِحُ حَيْثُ لا يَنْفَعُ نَصْحُهُ فَمَن يرى ذلك مِنْهُ يَعْتَقِدُ أَنَّهُ مِنَ النَّاصِحِيْنَ وَهُوَ مِنْ اكبر الخَاشِينَ كُلَّ العداوة قَدْ تُرْجَى إِنَّ التَهَا إِلَّا عَدَاوَةً مَنْ عَادَاكَ فِي الدِّينِ -
অর্থাৎ তারা মুসলমানদেরকে রোগ ভাল হয়ে যাওয়ার ঔষধ দেবে না। এটাতে তাদের খারাপ উদ্দেশ্য প্রকাশ হয়ে যাবে এবং রোজগার হ্রাস পাবে বরং রোগ অনুযায়ী ঔষধ দেয় এবং তার মধ্যে নিজের শৈল্পিকতা প্রকাশ করে এবং হিতাকাংখী সাজে। কখনও রোগী সুস্থ হয়ে যায় ফলে তার সুনাম হয় এবং তার দান্ধাও ভাল চলে। তার ভিতরে এমন ঔষধ দিত তৎক্ষণাত রোগীর ভাল অবস্থা ফিরে আসে; ভবিষ্যতে ক্ষতি সাধিত হয়। অথবা এমন ঔষধ দেবে যে, রোগ নিরাময় হবে কিন্তু যখন রোগী ফুর্তি করে রোগ পুনরায় ফিরে আসে। পরিশেষে সে মৃত্যু মুখে পতিত হয়। অথবা এভাবে করবে যে, রোগ ভাল করে দেবে কিন্তু যখন গোসল করে রোগ বেড়ে গিয়ে মরে যায়। অথবা সে সময় রোগ দমন থাকে, এক বৎসর পর্যন্ত অথবা কিছু কম বেশি হওয়ার পর রোগ আবার জোরদার হয়। ইহা ছাড়া তাদের অনেক ধোকা দেওয়ার পদ্ধতি আছে। রোগ পুনরায় বেড়ে গেলে আল্লাহর দুশমনরা এটাকে বাহানা করে বলে যে, এটা একটি নতুন রোগ। এটার মধ্যে তো আমার কিছু করার নেই। রোগীর অবস্থার উপর আফসোস করতে থাকে। তারপর সঠিক উপকারী দিক নির্দেশনা দিয়ে থাকে কিন্তু যখন সময় হাত ছাড়া হয়ে যায় তখন সে হিতৈষী হয়ে যায়। অথচ সেই বেশি অকল্যান কামনাকারী ছিল। সমস্ত শত্রুদের পতন সম্ভব কিন্তু ধর্মীয় শত্রুদের পতন সম্ভব নয়। তারপর বললেন-
قَدْ يَسْتَعْمِلُونَ النَّصْحَ فِي بَعْضِ النَّاسِ مِمَّنْ لَا خَطَرُ لَهُمْ فِي الدِّيْنِ وَلَا عِلْمَ وذلك أَيْضًا مِنَ الْغَش لانهم لَوْلَمْ يُنْصِحُوا لما حصلت لهم الشهرة بالمعرفة بالطب وَلَتَعْطَلُ عَلَيْهِمْ مَعَاشَهُمْ وَقَدْ يُفْطِنُ لِغَشَهِم وَمَنْ غَشْهُمْ نَصَحَهُمْ لبعض اثناء الدنيا ليشتهروا بذلك وتحصل لهم الخطوة عندهم وعند كثيرٍ مِمَّنْ شَابَهُمْ وَيَتَسَلَطُونَ بِسَبَبٍ ذَلِكَ عَلَى قَتْلِ العُلماء والصالحين وهذا النوع موجود ظاهر - وقد يَنصُحُونَ العلماء والصالحين ذلك منهم عش ايضا لأنهم يُفْعَلُونَ ذلك لكى تَحْصَلَ لَهُمُ الشهرةُ وَتَظْهرُ . صَنْعَتُهُمْ فَيَكُونُ سَبَبًا إِلَى إِخْلافِ مَن يُرِيدُونَ إِتْلَا فَهُ مِنْهُمْ وَهُذَا مِنْهُمْ مَكَرَّ عَظِيمٌ
অর্থাৎ সে কখনও ধর্ম-কর্মের ধার ধারে না এমন আওয়াম লোকদের চিকিৎসার ব্যাপারে হিতাকাঙ্খী হয়। এটাও তাদের ধোকাবাজি যে এ ভাবে না করলে সে প্রসিদ্ধ কিভাবে হবে? জীবন ধারণের উপায় বন্ধ হয়ে যাবে। কোন কোন সময় লোকেরা তাদের প্রতারণায় পড়ে যায়। প্রতারণামূলক ভাবে কিছু নেতাদের চিকিৎসা ভালভাবে করে প্রসিদ্ধ লাভ এবং তার নিকটবর্তী হওয়ার জন্য। যাতে তাদের চোখে পড়ে। তারপর ওলামা এবং নেক্কারদের হত্যা করার সুযোগ মিলে। এ ধরনের ঘটনা অহরহ ঘটছে। আবার কখনো ওলামা-বুযর্গদের চিকিৎসার ব্যপারেও হিতাকাঙ্খী হয়। এটা আরেকটা ধোকাবাজী। তার উদ্দেশ্য হাসিলই আসল। আলেম বা দ্বীনদারকে হত্যা করার তার সুযোগ মিলে। তা বড় ধরনের প্রতারণা। আমাদের সময়ে ঘটে যাওয়া একটি নির্ভরযোগ্য বাস্তব ঘটনা বর্ননা করছি-মিশরে এক নেতার একজন ইহুদী ডাক্তার ছিল। নেতাজি কোন কারণে তার প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে তাকে বের করে দিল। সে তোষামোদ করত পরিশেষে সে রাজি হল। ওই কাফির সুযোগ সন্ধানে অপেক্ষায় রইল। কিছু দিন পর নেতা বড় ধরনের রোগ হল। আমি পশ্চিমা দেশে ডাক্তারী পড়তে ছিলাম। লোকেরা তাকে ডাকার জন্য আসলে অপারগতা প্রকাশ করল। লোকেরা তার হটকারীতা দেখে আমাকে বললে আমি বললাম, আমি আসা পর্যন্ত যেন অপেক্ষা করে, আসতে কিছু দেরী হল। কাঁপতে কাঁপতে পুনরায় আসলো। আমি বললাম-আচ্ছা ভাল আছেন। বললাম আমি- ইহুদী কি ঔষধ দিয়েছে। দেখার পর জানা গেল যে, সে নেতাকে শেষ করে দিয়েছে। আমি ভিতরে গিয়ে দেখি তার বাচাঁর সম্ভাবনা নেই। তারপরও এটা ভয় হল যে, সর্বনাস! ইহুদী তাকে আমার যিম্মায় ছেড়ে দিতে পারে। নেতাজি কাল পর্যন্ত বাঁচবে না। সেটাই হল, সকাল সহসাই তার মৃত্যু, হয়ে গেল। মুসলিম ডাক্তার বললেন-কতেক লোক কাফির ডাক্তারের চিকিৎসার সাথে মুসলমান ডাক্তারকেও জড়িত করে। সেই প্রেসক্রিপশন দিয়েছে তা মুসলমান ডাক্তারকে দেখালো মাত্র। এভাবে তার বদনাম থেকে নিরাপদ মনে করে এবং এর মধ্যে কি অসুবিধা তার তোয়াক্কা করে না। আরো বলছেন-
هَذَا لَيْسَ بِشَيْءٍ أَيْضًا مِنْ وُجُوهِ الْأَوَّلِ أَنَّ الْمُسْلِمَ قَدْ يَفْعَلَ عَنْ بَعْضٍ ما وَصَفَة الثَّانِي فِيْهِ اقْتِدَاءَ الغَيْرِ به الثالث فيه الاعانةُ لَهُمْ عَلَى كُفْرِهِمْ بِهَا يُعطيه لهم الرابع فيه ذلّة المسلم لهُمُ الْخَامِسَ فِيهِ تَعْظِيمُ شَانِهِمْ يعط لَا سَيِّمَا إِنْ كَانَ الْمُرِيضُ رَئِيسَا وَقَدْ أَمْرَ الشَّارِعُ عليه الصلوة والسلام بِتَصْغِيرِ شَأْنِهِمْ وَهُذَا عَكْسُةً
এটাও কয়েকটি কারণ ছাড়া কিছুই নয়। (ক) এটা সম্ভব যে, যেই ঔষধ কাফির
ডাক্তার লিখেছিল সে সময় মুসলমান ডাক্তারের নজরে এ অনিষ্ট পড়েনি (খ) তার দেখা দেখিতে অন্য মুসলমানও তার থেকে চিকিৎসা করায়। (গ) ফিস ইত্যাদি যা তাকে দেওয়া হয় তা কাফিরের সহযোগীতা হবে। (ঘ) মুসলমানকে তার জন্য অনুনয় বিনয় করতে হয়। চিকিৎসা প্রসিদ্ধতার কারণে কাফিরের শান-মান বেড়ে যায়। বিশেষ করে যদি রোগী নেতা হয় তাহলে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিধর্মী ডাক্তারকে তুচ্ছ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। যেহেতু সে তার বিপরীত মতাবলম্বী। তারপর বলেছেন-
ثُمَّ مَعَ ذَلِكَ مَا يُحْصَلَ مِنَ الْإِنْسِ وَالْوُدٍ لَهُمْ وَإِنْ قَلَّ الَّا مَنْ عَصَمَ اللَّهُ وَقِيلَ ما هُمْ وَلَيْسَ ذَلِكَ مِنْ أَخْلَاقِ أَهْلِ الدِّينِ.
আঙুর একটি কারণ হল এই যে, (ঙ) ইহার কারণে তাদের সাথে প্রেম এবং ভালবাসা সৃষ্টি হয় যদিও বা তা সামান্য বিষয়। আল্লাহ তাআলা রক্ষা করুক! আর কাফিরের সাথে আন্তরিকতায় আবদ্ধ হওয়া আহলে দ্বীনের শান নয়। তারপর বলেন-
وَمَعَ ذَلِكَ يُخْشَى عَلَى دِيْنِ بَعْضٍ مَنْ يَسْتَطِبَهُمْ مِنَ الْمُسْلِمِينَ
এই সকল পাপের পাশাপাশি কঠিন বিপদ হল-(চ) তাদের থেকে চিকিৎসাকারী ব্যক্তি ইমানের উপর অটল থাকা আশংকাজনক। কতেক নির্ভরযোগ্য ধর্মীয় গুরুদের কাহিনী বর্ণনা করছি-এক ব্যক্তির অসুখ হলে ঐ রোগী এক ইহুদী ডাক্তারের নিকট নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করল। তারা ওখানে ডাক্তারকে ডাকিয়ে চিকিৎসা করে যাচ্ছিলেন। এমতাবস্থায় স্বপ্ন দেখতে লাগল। হযরত মুসা আলাইহিস সালামের ধর্ম পুরাতন, তা-ই গ্রহণ করা উচিত। এভাবে প্রলাপ বকতে বকতে বলেছিল তাকে এখানে আসতে হবে না। রাস্তার মধ্যে সে গিয়ে একত্রিত হয়ে যেতো। পরিণামে সে ওখানে পৌঁছে গেছে। আরো বলেছেন-
وهُذَا قَدْ رُحِمَ بِسَبَبٍ أَنَّهُ كَانَ مُعْتَنِي بِهِ فَيُخَافُ مِنْ اسْتَطَبَهُمْ وَلَمْ يَكُنْ مُعْتَنِي بِهِ أَنْ يَهْلِكَ مَعَهُمْ وَلَوْ لَمْ يَكُنْ فِيْهِ إِلَّا لِخَوْفٍ مِنْ هَذَا الْأَمْرِ الْخُطْرِ لَكَانَ مُتَعَيْنَا تَرْكَهُ فَكَيْفَ مَعَ وُجُودِ مَا تَقَدَّمُ
সেই ব্যক্তির উপর তো রহমত হল যে, সে বিশেষ তত্ত্ববধানে থাকাতে এরূপ হল না। যার উপর নজরে করম হবে না সে চিকিৎসা করালে তার ব্যাপারে আশংকা হল সে তাদের সাথে ধ্বংস হয়ে যাবে। তাদের চিকিৎসায় এ ভয় ছাড়া অন্য কিছু না থাকলেও তাকে ত্যাগ করা আবশ্যক হয়। পূর্বোক্ত আশংকা তার কাছে চিকিৎসা করা কিভাবে সম্ভব। এই উপদেশকারী ইমাম রাহমাতুল্লাহি আলাইহি'র সুক্ষ্ণ বর্ণনার পর আর কোন অতিরিক্ত বলার প্রয়োজন নেই। আর বিশেষ করে ওলামা-ই দ্বীনের জন্য বেশির ক্ষতি হবে। ইমাম মায়ুরী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি'র ঘটনা-তিনি অসুস্থ হলে এক ইহুদী চিকিৎসকের মাধ্যমে ভাল হয়ে যেত। তারপর রোগ আবার সৃষ্টি হত। কোন সময় এ রকম হয়নি। পরিশেষে তাকে এককভাবে ডেকে বলল সে উত্তর দিল-যদি আপনি সত্যিই জিজ্ঞাসা করেন তাহলে বলব, আমাদের নিকট এর চেয়ে বেশি পূণ্যের কাজ হতে পারে না যে, আপনার মত ইমামকে মুসলমানদের হাত ছাড়া করা। ইমাম তাকে ত্যাগ করলেন। আল্লাহ তাআলা তাকে আরোগ্য দান করলেন। তারপর ইমাম ডাক্তারীর প্রতি মনোনিবেশ দিলেন এবং সে ব্যাপারে অনেক বই-পুস্তক ও লিখলেন। ছাত্রদেরকে নিপুণ ডাক্তার বানালেন। মুসলমানদেরকে নিষেধ করে দিলেন যে, কাফির ডাক্তার থেকে কখনও যেন চিকিৎসা না করে। মুশরিকরাও ইহুদীদের মত। কোরআনের মধ্যে উভয়দলকে মুসলমানদের জঘন্য দুশমন বলে আখ্যায়িত করেছে। আর
لَا يَالُونَكُمْ خَبَالاً
তো সাধারণ কাফিরদের বলেছে। স্ত্রীকে মুরতাদ হয়ে যাওয়ার পর বিবাহ থেকে বাহির না করা সকল জাহিরী কিতাবের বর্ণনা, সব মূল ও ব্যাখ্যাগ্রন্থ এবং প্রাচীন ফাতাওয়া খেলাপ।এ ব্যপারে আমার রিসালা أجلى الْأَعْلَامِ بِانْ الْفَتْوى مطلقاً عَلَى قَوْلِ الإِمَامِ মধ্যে পাবে-যা আমার ফাতাওয়ার প্রথম খন্ডে ছাপানো হয়েছে। আমার ফাতাওয়ায় আলীগডস্থ এক ব্যক্তির প্রশ্নোত্তরে জরূরী ও সূরী (বাধ্যতামূলক ও তথ্যমূলক) উক্তির মধ্যে পার্থক্য বর্ণনা করেছি। এটি শুধু বিয়ের ক্ষেত্রে। অন্যান্য বিধানে মুরতাদ হওয়ার হকুম জারী হবে। মুরতাদ হয়ে যাওয়ার পর স্বামী-স্ত্রী একে অপরের তরকা পাবে না। কিন্তু মরণ ব্যধিতে মগ্নাবস্থায় মুরতাদ হলে তার ভিন্ন হুকুম। তদুপরি রমনী ইসলাম ধর্ম গ্রহণ না পর্যন্ত স্বামী তার শরীরে হাত লাগানো হারাম। আলমগীরীতে কাফিরদের বিয়ের বিধান অধ্যয়'র মধ্যে রয়েছে-
لوْ جَرَتْ كَلِمَةُ الكُفْرِ على لِسَانِهَا مُغَايَضَةً لِزَوْجِهَا أَوْ إِخْرَاجًا لِنَفْسِهَا عَنْ حمالة أو لاستجاب المهر عَلَيْهِ بنكاح مُتَالَّفٍ تَحْرِمُ عَلَى زَوْجِهَا فَيُجْبَرُ على الإسلام وَلِكُلِّ قَاضَ أَنْ يُجَدِّدُ النِّكَاحَ بِأَدْنَى شَيْءٍ وَلَوْ بِدِينَارٍ سخطتْ أَوْ رَضِيَتْ وَليسَ لَهَا أَنْ تَتَزَوجَ إِلَّا بِزَوْجِهَا قَالَ الهَندُ وَإِنِّي أَخذ
بهذا قَالَ أَبُو اللَّيْثِ وَبِهِ نَا خُذَ كَذَا فِي التَّمَرَ تَأْشِى
'দুররুল মুখতার'এ রয়েছে-
صَرَحُوا بِتَعْزِيرِهَا خَمْسَةٌ وَسَبْعِينَ وَتَجْبَرَ عَلَى الاسْلامِ وَ عَلَى تَجْدِيدِ النِّكَاحَ بِمُهْرِ يُسِيرِ كَدِينَارٍ وَ عَلَيْهِ الْفَتَوى وَ الوَكِبِيَّةُ
স্বামী-স্ত্রী যে কোন একজন মুরতাদ হবার পর ইদ্দত পালন শেষে বিয়ে নাজায়েয হওয়ার কোন অর্থই নেই। নতুন করে বিয়ে সম্পাদন করার কোন অর্থ হয় না। সে স্ত্রী নতুন বিয়ে না নেয়ার অধিকার আছে। কাজী ইচ্ছা করলে যেমন তেমন বিয়ে দিতে পারবে না। লজ্জাস্থানের বিনিময় মহর। পরস্পর রাজি হওয়া বিনিময়ের জন্য শর্ত।
মুরতাদ হয়ে যাওয়ার পর সতর্কতামূলক ভাবে বিয়ে নবায়ন করার বিধান নেই। এটা বুখারা ও বলখ'র ওলামা-ই কেরামের ফতওয়া-যা আমি অধম 'নাহরূল ফায়িক' ইত্যাদি গ্রন্থ অনুপাতে অবলম্বন করেছি। স্বামীর উপর হারাম হওয়াটা বিয়ে দূরীভূত হওয়া বুঝায় না। এমনিতেই স্বামীর উপর স্ত্রী অনেক সময় হারাম হয়ে
যায়। অথচ বিয়ে বহাল আছে। যেমন-নামায, রমযানের রোযা, ই'তিকাফ, ইহরাম, হায়য ও নিফাসের সময়। আর স্ত্রীর বোনকে বিয়ে করতঃ সহবাস করলে স্ত্রী হারাম হয়ে যায়-যতক্ষণ পর্যন্ত তাকে পৃথক করে ইদ্দত শেষ করবে না। বিয়ে বহাল থাকা সত্ত্বেও কখনো স্থায়ীভাবে অবৈধ হয়। যেমন-বৈবাহিক সম্পর্কীয় অবৈধতা (হুরমতে মুসাহারা)'র কারণে স্থায়ীভাবে হারাম হয়ে যায়, যে মহিলার উভয় রাস্তা এক হয়ে গেছে-তার সাথে বিয়ে বৈধ হলেও সহবাস চিরস্থায়ী অবৈধ। উল্লেখিত মাসয়ালা দুররুল মুখতার ও অন্যান্য কিতাবে বর্ণিত আছে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলা-১০১: মসজিদের ভিতর আযান কখন কিভাবে দেওয়া হতো ও আযান দেওয়া নিষেধ, না মাকরুহ কি লিখা আছে? ও আরো প্রশ্ন
ওলামা-ই দ্বীন এই মাসআলার ব্যাপারে অভিমত কি?
(ক) জুমার দ্বিতীয় আযান যা মিম্বারের সামনে দেওয়া হয় তা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যামানায় মসজিদের ভিতরে দেওয়া হত না কি বাহিরে?
(খ) খোলাফা-ই রাশেদীনের সময় তা কোথায় দেওয়া হতো?
(গ) হানাফীদের নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহে মসজিদের ভিতর আযান দেওয়া নিষেধ, না মাকরুহ লিখা আছে?
(ঘ) যদি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং খোলাফা-ই রাশেদীনের সময় আযান মসজিদের বাইরে দেওয়া হতো আর আমাদের ইমামগণ মসজিদের ভিতর আযান দেওয়া মাকরুহ বলেছেন। তাহলে সেটার অনুরূপ আমল করা আমাদের উপর আবশ্যক হবে না কি প্রচলিত নিয়মের উপর-যা হাদীস এবং ফিকহের হুকুমের খেলাপ? মুসলমানরা হাদীস এবং ফিকহের হুকুম অনুযায়ী আমল করবে না কি প্রচলিত নিয়মে চলবে?
(ঙ) যা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, খোলাফা-ই রাশেদীন এবং ইমামগণের হুকুম মোতাবেক হবে তা নতুন-না ওই কথা নতুন যা তাদের খেলাপ লোকেরা প্রচলন করেছে?
(চ) মক্কা-ই মুয়াজ্জমা এবং মদীনা-ই মুনাওয়ারায় এই আযান হাদীস এবং ফিকহের কিতাবের নিয়ম অনুযায়ী হয়ে থাকে না তার বিপরীত হয়? যদি বিপরীত হয় তাহলে ওখানকার আলেমগণের কথা আকাঈদের বিষয়ে দলীল হবে না ওখানকার মাসিক বেতন ভোগী মুয়াযযিনদের কাজ? যদিও তা শরীআত, হাদীস ও ফিকহের খেলাপ হয়?
(ছ) সুন্নাতকে জিন্দা করার হুকুম হাদীসে পাকে রয়েছে। ইহার উপর একশত শহীদের ছাওয়াব প্রদানের ওয়াদা রয়েছে কি না? যদি থাকে তাহলে সূন্নাতকে জিন্দা করতে হবে না কি মৃত প্রায় সুন্নাতকে সেই সময় মৃত বলা হবে? যখন তার বিপরীত নিয়ম চালু থাকে অথবা যেই সুন্নাত নিজেই চালু সেটাকে মৃত বলা হবে?
(জ) মৃত সুন্নাতকে জিন্দা করা আলেমগণের উপর আবশ্যক কি না? তাহলে সে সময় তাদের উপর এ আপত্তি হলে যে, তোমাদের পূর্বে কি আলেম ছিলেন না? যদি সেই ধরনের আপত্তি আসে তাহলে সুন্নাতকে কিভাবে জিন্দা করবে?
(ঝ) যে মসজিদের মাঝখানে হাউজ থাকে তার দেয়ালের উপর দন্ডায়মান হয়ে মিম্বরের সামনে আযান দেয়া হলে মসজিদের বাইরে আযান দেওয়ার হুকুম আদায় হয়ে যাবে কি না?
(ঞ) যে মসজিদের এভাবে মিম্বর তৈরী করে যে, তার সামনে দেয়াল। মুয়াযযিন বাইরে আযান দিলে খতিবের সামনা সামনি হয় না তখন সেখানে কি করতে হবে? আশা করি এ দশটা প্রশ্নের উত্তর পৃথক পৃথক ভাবে দলীল সহকারে বর্ননা করবেন।
জাওয়াব:
اللهم هداية الحق والصواب
(ক) প্রশ্নের উত্তরঃ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র যামানায় এ আযান মসজিদের বাইরে দরজার উপর দাড়িয়ে দেওয়া হত।
সুনানে আবি দাউদ শরীফ প্রথম খন্ড পৃষ্টা ১৫৬ তে আছে-
عَنِ السَّائِبِ بن يزيد رضى الله تعالى عنه قَالَ كَانَ يُؤْذَنَ يَدَى رَسُولِ الله صلى الله تعالى عليه وسلم إذا جَلَسَ عَلَى الْمِنْبَرِ يَوْمَ الجُمُعَةِ عَلَى بَابِ المَسْجِدِ وَأَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ رضى الله تعالى عنهما
"যখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমার দিন মিম্বরের উপর তাশরীফ রাখতেন তখন তার সামনে আযান দেয়া হতো। এ ভাবে হযরত আবু বকর ও ওমর রাদ্বি আল্লাহু তায়ালা আনহুমার আমলেও।'
বর্ণিত নেই যে, হুযুর আকদাস সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বা খোলাফা-ই রাশেদীন মসজিদের ভিতর আযান দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। যদি তার অনুমতি থাকতো তাহলে বৈধতার জন্য কখনও প্রয়োজন মনে করে তা করতেন।
(খ) প্রশ্নের উত্তরঃ প্রথম উত্তর থেকে প্রকাশ পেল যে, খোলাফা-ই রাশেদীন হতেও মসজিদের বাহিরে আযান দেওয়াটা বর্ণিত হয়েছে। আরো স্পষ্ট হয়ে গেল যে, যারা بَيْنَ يَدَيْهِ থেকে মসজিদের ভিতর আযান দেওয়া বুঝেছে তা ভুল। হাদীসের মধ্যে দেখুন بين يديه এর পর على باب المسجد আছে। অর্থাৎ হুযুর আকদস সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং খোলাফা-ই রাশেদীনের নুরানী চেহারার বিপরীতে মসজিদের দরজায় আযান দিতেন। কাজেই ওই পরিমান بين يديه এর জন্য যথেষ্ট।
(গ) প্রশ্নের উত্তরঃ নিশ্চয় হানাফী কিতাব গুলোতে মসজিদের ভিতর আযান দেওয়া নিষেধ এবং মাকরুহ লিখা হয়েছে। ফাতাওয়া-ই কাযীখান- মিশরী ছাপার প্রথম খন্ড ৭৮ পৃষ্টা, ফাতাওয়া-ই খোলাসা ৬২ পৃষ্ঠা, খাযানাতুল মুফতীন-আযান অধ্যায়, ফাতাওয়া-ই আলমগীর প্রথম খন্ড ৫৫ পৃষ্ঠা, বাহরুর রায়িক -প্রথম খন্ড ৩৬৮ পৃষ্ঠা ও শরহে নিকায়া-৮৪ পৃষ্ঠায় যুক্ত বিবৃত لَا يُؤَذَنَ فِي المَسْجِدِ মসজিদের ভিতর আযান দেওয়া হবে না। ইমাম সাদরুশ শরীআতের কথায় এ মর্মে সতর্কতা আরোপ করা হয়েছে যে, আযান মসজিদের ভিতর হবে না।গুনিয়া শরহে মুনিয়া- ৩৭৭ পৃষ্ঠায়
الْأَذانَ إِنَّمَا يَكَوْنَ فِي المِنْزَنَةِ أَوْ خَارِجَ الْمَسْجِدِ وَالْإِقَامَة فِي داخله
মসজিদের মিনারায় অথবা মসজিদের বাইরে আযান হতো আর ইকামাত হবে মসজিদের ভিতরে। ফাতহুল কাদীর-মিশরী ছাপা প্রথম খন্ড ১৭১ পৃষ্টায় قَالُوا هُوَ ذِكْرُ الله في المسجد জুমার অধ্যায়ে আরো রয়েছে
هُوَ ذِكْرُ الله في المسجد
অর্থাৎ فِي حُدودِهِ لِكَرَاهَةِ الْأَذَانِ فِي دَاخِلِهِ মসজিদের সীমানা ভিতর আযান দেওয়া মাকরুহ। ত্বাহাবী আলা মারাকিল ফালাহ, মিশরী ছাপা-প্রথম খন্ড ১২৮ পৃষ্টায় يُكْرَهُ أَن يُوذَنَ فِي المَسْجِدِ كَمَا في القهستاني عن النظم অর্থাৎ কহস্তানীর মধ্যে আছে যে, মসজিদে আযান দেওয়া মাকরুহ। এমন কি বর্তমান সময়ের আলেম মাওলভী আবদুল হাই লখনভী সাহেব 'ওমদাতুর রিয়ায়া হাসিয়া-ই শরহে বেকায়া, প্রথম খন্ড ২৪৫পৃষ্টায় লিখেছেন
قَوْلَهُ يَدُيْهِ إِى مستقبل الإمام فى المسجد كان أوْ خَارِجَهُ وَالْمُسْنَوْنَ هُوَ الثاني
অর্থাৎ بين يديه এর অর্থ মসজিদে ইমাম সাহেবের সামনা সামনি হওয়া বা বাহিরে। সুন্নাত হল মসজিদের 'বাহিরে হওয়া। যখন স্পষ্ট হয়ে গেল যে, বাহিরে হওয়া সুন্নাত, তাহলে ভিতরে হওয়া সুন্নাতের খেলাপ হবে। তার অর্থ এ নয় যে, হয়ত সুন্নাত মোতাবেক করো, না হয় সুন্নাতের বিপরীত করো। উভয়টির এখতিয়ার রয়েছে এমন বলবে কোন জ্ঞানী? বরং অর্থ ওটাই হবে যে, بين يديه থেকে এটা বুঝা যায় মসজিদের বাইরে হতে হবে, মসজিদের ভিতরে হওয়া ভুল। এটার অর্থ শুধু এতটুকু হবে যে, ইমাম সাহেবের সামনা সামনি হওয়া, ভিতরে- বাইরে এ শব্দ দ্বারা বুঝা যায় না। আর সুন্নাত হল এটাই যে, মসজিদের বাইরে আযান হওয়া জরুরী। ওই অর্থটা গ্রহণ করা হবে- যা হবে সুন্নাত অনুযায়ী। যা হোক তাদের কথার মধ্যে এটা পরিস্কার হয়ে গেল যে, জুমার দ্বিতীয় আযান মসজিদের বাইরে হওয়া সুন্নাত। মসজিদের ভিতরে হওয়া সুন্নাতের খেলাপ الحمد لله সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
(ঘ) প্রশ্নের উত্তরঃ প্রকাশ্য যে, হাদীস এবং ফিকহের হুকুমের খেলাপ প্রচলিত নিয়মের উপর অটল থাকা মুসলমানদের কখনও উচিত নয়। 💠
(ঙ) প্রশ্নের উত্তরঃ প্রকাশ থাকে যে, যে সকল নিয়ম রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, খোলাফা-ই রাশেদীন এবং ফিকাহবিদগণের বিপরীত হবে ওই গুলো নতুন নিয়ম বা কথা। সে গুলো থেকে বেঁচে থাকা উচিত। সুন্নাত, হাদীস ও ফিকহ থেকে যা উৎকলিত তা নতুন নয়।
(চ) প্রশ্নের উত্তরঃ মক্কা মুয়াযযামায় এ আযান তাওয়াফের স্থানের পাশে দেওয়া হতো। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র যুগে মসজিদে হারাম শরীফ তাওয়াফ করার স্থানই পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
مسلك متقسط على قاری
গ্রন্থ মিশরী ছাপার ২৮০ পৃষ্ঠায় বিবৃত
المطاف هو ما كان في زمنه صل الله عليه وسلم مسجدا
অতপর তাওয়াফ স্থলের শেষ প্রান্তে মসজিদের বাইরে আযান দেওয়ার স্থান ছিল। যখন মসজিদকে প্রশস্থ করা হলো তখন প্রথমে যেখানে আযান এবং ওযু করার জন্য স্থান নিধারণ ছিল ওটা পূর্বের মত বহাল ছিল। এ জন্য মসজিদকে সম্প্রসারণ করলে কোন কূপ মসজিদের সীমায় এসে গেলে ওটা বন্ধ করা যাবে না। যথা-যমযম কূপ। নতুন কূপ খনন করা না-জায়েয। ফাতাওয়া-ই কাযীখান, ফাতাওয়া-ই খোলাসা ও ফাতাওয়া-ই আলমগীর ৪০ পৃষ্ঠায়-
يَكْرَهُ الْمَضْمَضَةَ وَالْوُضُوء في المسجدِ إِلَّا أَنْ يَكُونَ ثُمَّةٍ مُوْضَعُ أَعِدَّ لِذَالِكَ وَلَا يَصَلَّى فِيهِ - لَا يَحْضُرُ في المسجد بئرُ مَاءِ وَ لَوْ قَدِيمَةٌ تَتْرَكَ كَبِيرِ زَمْزَمْ
মসজিদে কুলি ও অজু করা মাকরূহ। তবে যদি সেখানে তজ্জন্য নির্মিত কোন জায়গা থাকে এবং তাতে নামায পড়া হয় না।পানির কূপ মসজিদে বিদ্যমান থাকতে পারে না; যদি পূর্ব থেকে মওজুদ থাকে তাহলে বহাল থাকবে। যেমন-যমযম কূপ মসজিদের ভিতরে রয়েছে।
মক্কা মুয়াযযামায় আযান যথাস্থানে দেওয়া হয়। মদীনা শরীফে খতীবের বিশ হাতের চেয়ে আরো দরে একটি উঁচু স্থানে দেওয়া হয়। হিন্দুস্থানের নিয়ম ইহারও বিপরীত। যারা بين يديه ইবারত থেকে মিম্বরের সাথে মিলিত হওয়া বুঝেছে এটা থেকে তাদেরও রদ হয়ে গেল। তাহলে হিন্দুস্থানের প্রথা হেরম শরীফ থেকে ভিন্ন। এখন প্রশ্ন হল-এই(মুকাব্বারা) তাকবীর বলার স্থান পুরাতন না পরে তৈরি হয়েছে? যদি প্রাচীন হয় তাহলে তার হুকুম মিনারের মত যা পূর্ব থেকে আযানের জন্য নির্ধারিত। যেমন গুনিয়া'তে অতিবাহিত হয়েছে। তেমনিভাবে 'খোলাসা, ফাতহুল কাদীর এবং বরজান্দি'র প্রাগুক্ত বর্ণনায় রয়েছে যে, আয়ান মিনারায় হোক বা মসজিদের বাইরে, কিন্তু মসজিদের ভিতরে নয়। তার দৃষ্ঠান্ত ঐ অজুখানা ও কূপ যা প্রথম থেকে পৃথক করে রাখা হল। তার ব্যাপারে কোন অসুবিধা এবং কথা নেই। যদি নব সৃষ্ট হয় তাহলে তার উপর আযান দেওয়া দূরের কথা, প্রথমে এ স্থান নির্ধারণ যার কারণে কাতারগুলো বিচ্ছিন্ন থাকবে তা কোন শরীআতে জায়েয? নিঃসন্দেহে হারাম। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন- من قَطَعَ صَفًّا قَطَعَهُ اللَّهُ যে ব্যক্তি কাতারকে ছিন্ন করে আল্লাহ তাআলা তাকে ছিন্ন করবে। ইমাম নাসাঈ ও হাকিম বিশুদ্ধ সনদে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাদ্দিআল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণনা করেছেন- ওলামাগণ বলেছেন, মসজিদের মধ্যে বৃক্ষ লাগানো নিষেধ। তাকবীরের স্থান (মুকাব্বারা) তো শুধু তার চারদিকে পরিবেষ্টন করে রাখে আর এটা কয়েকটি কাতার ছিন্ন করছে। মোট কথা-যদি এটা জায়েয পন্থায় নির্মিত হয় তাহলে ঐ মিনারার মত হবে যেখান থেকে আযান দিলে মসজিদে আযান দেওয়া বুঝায় না। অবৈধ পন্থায় হলে সেটার পক্ষে দলীলের প্রয়োজন। এখন আমি মুয়াযযিন সাহেব কর্ম খান্ডের ব্যপারে আলোচনা করার প্রয়োজন মনে করি না, কিন্তু প্রশ্নের জবাবে গুজারিশ থাকবে যে, তাদের কর্মখান্ড কিভাবে দলীল হবে? অথচ খতীব খুতবা পড়লে সে কথা বলতে থাকে, সাহবীদের নাম শুনে সে উঁচু আওয়াজে প্রত্যেকের নামে রাদ্বি আল্লাহু আনহু বলে। বাদশাহর নাম নেওয়া হলে উঁচু আওয়াজে তাদের জন্য দোআ করে। এ সব সর্বসম্মতিক্রমে না-জায়েয। বিশুদ্ধ হাদীসসমূহ এবং সমস্ত কিতাবের ভাষ্য মতে খুৎবার সময় কথা বলা হারাম। দুররূল মুখতার ও রাদ্দুল মুহতার প্রথম খন্ড পৃষ্ঠা ৮৫৯তে বিদ্যমান-
أَمَّامًا يُفْعَلُهُ الْمُؤذِّنُ حَالَ الخُطبة مِنَ التُرضى ونحوه فمكروه اتفاقاً
অর্থাৎ মুয়াযযিন যে খুৎবা দেওয়ার সময় রাদ্বিআল্লাহু তাআলা আনহু ও ইত্যাদি বলে-তা সর্ব সম্মতিক্রমে মাকরুহ। একই ভাবে মুয়াযযিন নামাযের মধ্যে ইমাম সাহেবের তাকবীর পৌঁছানোর জন্য যে পদ্ধতিতে তাকবীর বলে সেটাকে কোন আলেম জায়েয বলতে পারবে? রাজার বেতনধারী লোকদের উপর ওলামাদের কি স্বাধীনতা! আলেমগণ ইহার উপর এ নির্দেশ দেন যে, তাকবীর তো দূরের কথা, এভাবে পড়লে তাদের নামাযেও ছাওয়াব হবে না। ফাতহুল কাদীর প্রথম খন্ড পৃষ্ঠা ২৬২, ২৬৩ আর দুররুল মুখতার এবং বাদ্দুল মুখতার পৃষ্ঠা ৬১৫তে স্বয়ং মাজমাউল আনহার'র মুসান্নিফ'র ছাত্র মদীনা শরীফের মুফতী আল্লামা সায়্যিদ আস'আদ হোসাইনী মাদানী (রহঃ) তাকবীরের ব্যাপারে নিজ এলাকার মুকাব্বিরদের অসামঞ্জস্যতা তুলে ধরেছেন। দেখুন! ফাতাওয়া-ই আস'আদিয়া প্রথম খন্ড ৮ পৃষ্ঠার শেষে বলেছেন-
اما حركات المكبرين وَصُنْعَهُم فَأَنَا ابْرُؤ الى الله تعالیٰ منه
অর্থাৎ এ সকল মুকাব্বিরদের কাজ-কর্ম থেকে আল্লাহ তাআলার কাছে পানাহ চাই। এর চেয়ে মারাত্নক শব্দ প্রয়োগ করেছেন। তারপরও কোন জ্ঞানীর নিকট তাদের কথাবার্তা দলীল হতে পারে না। তারা কি আলেম না আলেমের বিধানভুক্ত।
(ছ) প্রশ্নের উত্তরঃ নিশ্চয় হাদীসসমুহে সুন্নাতকে জিন্দা করার নির্দেশ এবং
তজ্জন্য বড় ছাওযাবের ওয়াদা রয়েছে। হযরত আনাস রাদ্বিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
مَنْ أَحْيَاسَنَتِي فَقَدْ أَحَبَنِي وَمَنْ أَحَبَّنِي كَانَ مَعَى فِي الجَنَّةِ اللهم ارزَقْنَا
অর্থাৎ যে ব্যক্তি আমার সুন্নাতকে জিন্দা করবে অবশ্যই সে আমাকে ভালবাসল আর যে ব্যক্তি আমাকে ভালবাসবে সে জান্নাতে আমার সাথে থাকবে। এ হাদীসকে ইমাম তিরমিযী ও সাখবরী বর্ণনা করেছেন। হযরত বিলাল রাদ্বিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
منْ أَحْيَا سَنَةٌ مِنْ سَنَتِي قد أميتُ بَعْدِي فَإِنَّ لَهُ مِنَ الْأَجْرِ مِثْلُ أُجُورٍ مِّنْ عَمِلَ بِهَا مِنْ غَيْرِ أَنْ يَنقَصُ مِنْ أُجُورِهِمْ شَيْئًا
অর্থাৎ যে ব্যক্তি আমার মৃত প্রায় কোন সুন্নাতকে জিন্দা করবে যারা তার উপর আমল করবে কোন ধরনের কমতি ছাড়া তার সমপরিমাণ ছাওয়াব তাকে দেওয়া হবে। হযরত আমর বিন আউফ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে ইমাম তিরমিযী ও ইবনে মাজা এটা বর্ণনাকারী।
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদ্বিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
مَنْ تَمْسَكَ بِسَنَتِي عِنْدَ فَسَادٍ أُمَتِي فَلَهُ أَجْرُمَائَةٍ شَهِيدٍ
আমার উম্মতের ফ্যাসাদের সময় যে আমার সুন্নাতকে মজবুতভাবে ধারণা করবে তাকে একশ শহীদের ছাওয়াব দেওয়া হবে।এর বর্ণনাকারী ইমাম বায়হাকী। স্মর্তব্য যে, যা বিলুপ্ত হয়ে গেছে তাকে জিন্দা করা হয়। সুন্নাত মৃত হয় যখন তার খেলাপ রীতি চালু হবে।
(জ) প্রশ্নের উত্তরঃ সুন্নাতকে জিন্দা ওলামাদের পদবী দায়িত্ব। আর যে মুসলমানের পক্ষে তা সম্ভব সে তা করবে। প্রতিটি শহরের মুসলমানের উচিত- নিজের এলাকা অথবা কমপক্ষে নিজের মসজিদসমূহে এ সুন্নাতকে জিন্দা করতঃ শত শহীদের ছাওয়াব লাভ করা। তার উপর এ আপত্তি উত্থাপন করা যাবে না যে, তোমার পূর্বে কি আলেম ছিল না? এ ধরনের হলে তো কোন সুন্নাতকে জিন্দা করা যাবে না। আমীরুল মুমিনীন হযরত ওমর ইবনে আবদুল আযীয রাদ্বিআল্লাহু আনহু অনেক সুন্নাতকে জিন্দা করেছেন। তাঁর প্রশংসায় সবাই পঞ্চমুখ। এ আপত্তি আসল যে, তোমার পূর্বে সাহাবী তাবেয়ী রাদ্বিআল্লাহু আনহুম ছিল।
(ঝ) প্রশ্নের উত্তরঃ হাউজকে মসজিদ নির্মাতা মসজিদের পূর্বে বানিয়ে থাকলে পরবর্তীতে যদি মসজিদের মাঝখানেও হয় তাহলে তার প্রাচীরকে মসজিদের বাইরে ধরা হবে। موضع اعد للوضوء كُما تقدم কেননা তা অজুর জন্য নির্মিত স্থান।
(ঞ) প্রশ্নের উত্তরঃ গাছের মিম্বর বানানো নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাত। তাকে মেহরাবের কোণায় রাখলে বরাবর হয়ে যাবে। আর যদি বারান্দার পরে মসজিদের উচু দেয়াল হয় তাহলে মুয়াযযিন দাঁড়ানোর জন্য ছেঁটে উপযুক্ত করে নেবে। বাহিরের দিকে জালী অথবা ফোঁটা করে দিতে হবে।
মুসলমান ভাইয়েরা! এটা হল দ্বীন, কোন দুনিয়ারী ঝগড়া নেই। তোমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাত কি? তোমাদের মাযহাবের কিতাবগুলোতে কি লিখা আছে?
হে সুন্নী ওলামা-ই কেরাম! সুন্নাতকে জিন্দা করা আপনাদের কাজ। এ মনে করবে না যে, আপনাদের একজন ছোট্ট ব্যক্তি তা শুরু করেছে। খোদার নির্দেশের প্রেক্ষিতে তা আপনারও দায়িত্ব-تَعَاوَنُوا على البِرِّوَالتَّقْوى তোমরা সৎ এবং তাকওয়াপূর্ণ কাজে পরস্পর সহযোগীতা কর। আর যদি আপনাদের নজরে এ মাসআলা সঠিক না হয় তাহলে রাগারাগি করার কিছু নেই। বানোয়াটি ছাড়া সত্য বর্ননা করে দেবেন। এ সময় নিম্নলিখিত বিষয়গুলো লক্ষনীয়-
(১) প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য কি এবং কোনটি প্রনিধানযোগ্য?
(২) মুহতামল (অস্পষ্ট) কি সরীহ (স্পষ্ট) এর মোকাবেলা হতে পারে?
(৩) প্রসিদ্ধ ফিকহের কিতবের সামনে অপ্রসিদ্ধ ফিকহের কিতাব থেকে মাসআলা উদঘাটন ও পেশ করা চলবে না। বিশেষ করে এ ধরনের কিতাব থেকে মাসআলা উদঘাটন করলে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
(৪) হানাফীকে ফিকহ হানাফীদের মোকাবেল হানাফী ব্যতীত অন্য ফিকহের কিতাব পেশ করা যাবে না।
(৫) কোরআন মজীদে তাজবীদ অনুসরণ করা ফরজে আইন কি না? যদি হয় তাহলে হিন্দুস্থানের সকল আলেমগণ কি তা পালন করেন না কি শতের মধ্যে কয়জন?
💠 মাসআলা-১০২: যায়েদ বলেছে মাওলানা আহমদ রেযা খান প্রত্যেক চিঠি পত্রে লিখে থাকেন 'লিখক আবদুল মোস্তফা' অথচ আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো বান্দা কিভাবে হতে পারে?
যায়েদ বলেছে মাওলানা আহমদ রেযা খান প্রত্যেক চিঠি পত্রে লিখে থাকেন 'লিখক আবদুল মোস্তফা' অথচ আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো বান্দা কিভাবে হতে পারে? আমি নগন্য উত্তর দিয়েছি আরে ভাই! আবদুল মোস্তফা দ্বারা গোলামে মোস্তফা উদ্দেশ্য নেয়া হয়েছে; বান্দা উদ্দেশ্য নয়।
وَأَنكِحُو الأَيَامَى مِنْكُمْ وَالصلحينَ مِنْ عِبَادِكُمْ - وَإِمَائِكُمْ 'তোমরা তোমাদের বিধবাকে বিয়ে দাও এবং তোমাদের দাস দাসীদের মধ্যে উপযুক্তদেরকে।' এখানে আমাদের দাস-দাসীদেরকে আমাদের বান্দা বলা হয়েছে।
রাসূল সাল্লাল্লাহু তা'য়ালা আলাইহি ওয়াসাল্লামা বলেছেন ليس على المسلم في عبده ولأفرسه صدقة মুসলমানের ওপর তার বান্দা ও ঘোড়ার ব্যাপারে কোন যাকাত নেই।' এ হাদিস খানা সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমসহ বাকী সব বিশুদ্ধ কিতাবে
রয়েছে। হযরত ওমর ফারুক রাদ্বিয়াল্লাহু তা'য়ালা আনহু অনেক সাহাবাকে একত্রিত করতঃ সকলের উপস্থিতিতে মিম্বরের ওপর স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন- كُنْتُ مَعَ رَسُولِ الله صلى الله تعالى عليه وسلم وَكُنتُ عَبْدَهُ رخَادِمُه ‘আমি সরকারে দো’আলম সাল্লাল্লাহু তা'য়ালা আলাইহি ওয়াসাল্লাম'র সাথে ছিলাম আর আমি তাঁর গোলাম এবং খাদেম।' এ হাদিসকে ওহাবী নেতা ইসমাঈল দেহলভীর বড় দাদা জনাব শাহ অলি উল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলভী হযরত ইমাম আযম আবু হানিফা রহ'র রেফারেন্সে 'ইযালাতুল খেফা' এবং 'কিতাবুর রিয়াদিন নাদরা'র মধ্যে লিখেছেন। ইমাম আবু হানিফা থেকে তার সনদ নেওয়াতে গ্রহণযোগ্য হয়েছে। মাসনভী শরীফে হযরত বেলাল রাদ্বিয়াল্লাহু তা'য়ালা আনহু'র ক্রয়ের ঘটনায় হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ) হুযুর সায়ি্যদে আলম সাল্লাল্লাহু তা'য়ালা আলাইহি ওয়াসাল্লাম'র দরবারে আরয করলেন-
گفت مادو بندگان کوئے تو - کردمش آزاد هم بر روئے تو
'তিনি আরো বলেন আমরা দু'জন আপনারই গোলাম, আপনার নুরানী চেহারার সৌজন্যে তাকে মুক্ত করেছি।'
আল্লাহ তায়ালা বলেছেন-
قُلْ يَعِبَادِيَ الَّذِينَ اسْرَفُوا عَلَى أَنْفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِنْ رَحْمَةِ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يغفر الذنوبَ جَمِيعًا إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمِ
'হে মাহবুব! আপনি আপনার উম্মতদেরকে সম্বোধন করে বলে দিন, হে আমার বান্দারা! যারা তাদের আত্মার ওপর অত্যাচার করেছো তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত হয়োও। নিশ্চয় আল্লাহ সব পাপকে ক্ষমা করেছেন। অবশ্যই তিনি ক্ষমাশীল দয়ালু।' মসনবী শরীফে রয়েছে-
بنده خود خواند احمد در رشاد - جمله عالم را بخواب قل یعباد
ওহাবী সম্প্রদায়ের হাকীমুল উম্মত আশরাফ আলী থানবী সাহেবও মুসলমানের দাবীদার হয়ে 'হাশীয়ায়ে শামায়িমু ইমদাদিয়্যা'তে কুরআনে করীমের উদ্দেশ্য এরূপ হবে বলে জোর দিয়েছে যে, সারা জাহান রাসুল সাল্লাল্লাহু তা'য়ালা আলাইহি ওয়াসাল্লাম'র বান্দা। বাহ্যিক চাকচিক্যে পড়ে গাঙ্গুহী সাহেব উহাকে বড় শিরক বলেছেন- অথচ সবচেয়ে বড় শিরকের শিকার হয়ে স্বয়ং গাঙ্গুহী সাহেব 'বারাহীনে ক্বাতিয়া'র মধ্যে পরিষ্কারভাবে শয়তানকে খোদার সমকক্ষ মেনে নিয়েছে- যার বিশদ বর্ণনা হারামাইন শরীফাইনের ওলামা কেরামের ফাতওয়া
حسام الحرمين على منحر الكفر والمين
(হুসামুল হারামাইন আলা মানহারিল কুফরি ওয়াল মাইন) এ রয়েছে। উক্ত মাসয়ালার বিশ্লেষণমূলক বর্ণনা আমার লিখিত بذل الصفالعبد المصطفى তে বিদ্যমান আছে। ওহে কাঙ্গাল! আল্লাহর বান্দা তথা খোদার সৃষ্ট এবং খোদার মালিকানাধীন তো মু'মিন কাফির সকলেই। মু'মিন ঐ ব্যক্তি যে মোস্তফার গোলাম (আবদুল মোস্তফা)। ইমামুল আউলিয়া হযরত সায়্যিদুনা সাহল বিন আব্দুল্লাহ তাসতরী (রাদ্বিয়াল্লাহু তা'য়ালা আনহু) বলেছেন
مَنْ لَمْ يَرْنَفْسَهُ فِي مِلكِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم لا يذوق حلاوة الایمان
'যে ব্যক্তি নিজকে নবীর মালিকানাধীন মনে করবে না সে ঈমানের স্বাদ পাবে না।' এটা কি দেখনি (?) আল্লাহ হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু তা'য়ালা আলাইহি ওয়াসাল্লাম'র নূর যখন হযরত আদম আলাইহিস সালাম'র কপালে আমানত রেখে ছিলেন। নূরের সম্মানার্থে সব ফিরেশতাকে সিজদার হুকুম করলে সকলেই সিজদা করলেন অভিশপ্ত ইবলীস ব্যতীত। সে ইবলীস ঐ সময় আল্লাহর বান্দা (আবদুল্লাহ), আল্লাহর মাখলুক এবং তাঁর মালিকাধীন ছিল না? অবশ্যই আল্লাহর বান্দা (আব্দুল্লাহ) ছিল কিন্তু নবীর নূরের সম্মানে সিজদা না করাতে আব্দুল মোস্তফা (নবীর গোলাম) হয়নি বিধায় চিরতরে অভিশপ্ত ও প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। মানুষের স্বাধীনতা রয়েছে যে, ইচ্ছা করলে আব্দুল মোস্তফা (নবীর গোলাম) এবং ফিরিশতাদের সাথী হবে অথবা তা অস্বীকার করে অভিশপ্ত ইবলীসের সঙ্গী হবে। والله تعالی اعلم
💠 মাসআলা-১০৩: ঠান্ডা হোক বা গরম তৈল বা ঘিয়ের মধ্যে ঈদুর, বিড়াল, কুকুর, শুকর বা অন্য কোন হারাম প্রাণী পড়ে মরে গেলে কিংবা এদের উচ্ছিষ্ট পড়ে গেছে। এমতাবস্থায় ঐ তৈল বা ঘি কিভাবে পাক হবে এবং তা খাওয়া শুদ্ধ হবে কি না?
ঠান্ডা হোক বা গরম তৈল বা ঘিয়ের মধ্যে ঈদুর, বিড়াল, কুকুর, শুকর বা অন্য কোন হারাম প্রাণী পড়ে মরে গেলে কিংবা এদের উচ্ছিষ্ট পড়ে গেছে। এমতাবস্থায় ঐ তৈল বা ঘি কিভাবে পাক হবে এবং তা খাওয়া শুদ্ধ হবে কি না?
জাওয়াবঃ ঘি পাতলা হলে তা পাক করার পদ্ধতি পঞ্চম মাসআলায় বর্ণিত হয়েছে। যদি গাঢ় বা জমাটবদ্ধ হয় তাহলে ঐ প্রাণীর মুখ যেখানে স্পর্শ হয়েছে সেখানকার আশে পাশের ঘি ফেলে দিলে অবশিষ্ট ঘি পাক হয়ে যাবে। ইমাম আহমদ, আবু দাউস, আবু হুরায়রা এবং দারেমী হযরত আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা থেকে বর্ণনা করেছেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন
إِذَا وَقَعَتِ الفارة فى السَّمَن فَإِنْ كَانَ جَامِدٌ فَالْقُوهَا وَمَا حَوْلَهَا
'যদি ঈদুর ঘিয়ের মধ্যে পড়ে এবং তা জমাটবদ্ধ হয় তাহলে ঐ স্থান ও তার আশে পাশের ঘি ফেলে দাও।' والله تعالى أعلم
💠 মাসআলা-১০৪: গরম ঘিয়ে মুরগীর বাচ্ছা পরে মরে গেলে সে ঘি খাওয়া বৈধ কিনা?
গরম ঘিয়ে মুরগীর বাচ্ছা পরে মরে গেলে সে ঘি খাওয়া বৈধ কিনা?
জাওয়াবঃ পাক করার তিনটি পদ্ধতি। প্রথম পদ্ধতি- ঘিয়ের সমপরিমান পানি মিশিয়ে সিদ্ধ করতে করতে ঘি উপরে উঠে গেলে তা বের করে নিবে। দ্বিতীয় বার সে পরিমান পানি মিশিয়ে সিদ্ধ করে ঘি বের করে নিবে। তৃতীয়বারও সেভাবে ধুয়ে নিবে। ঘি ঠান্ডা হয়ে জমাটবদ্ধ হয়ে গেলে সমপরিমান পানি মিশিয়ে সিদ্ধ করলে ঘি উপরে উঠে যাবে আর তা নিয়ে নিবে। আমি বলব, প্রথম বারই সিদ্ধ করা প্রয়োজন। অতঃপর ঘি পাতলা হয়ে গেলে পানি মিশিয়ে গরম করলেই যথেষ্ট।
দ্বিতীয় পদ্ধতিঃ নাপাক ঘি পাত্রে জমাটবদ্ধ হয়ে গেলে আগুনে তা গলানোর পর পাক তরল ঘি তাতে ঢালতে হবে। পাত্র থেকে উপচে পড়লে সব ঘি পাক হয়ে যাবে।
তৃতীয় পদ্ধতিঃ ওপরে ঘিয়ের পাত্র এবং নীচে একটি খালি পাত্র রেখে উভয়ের সংযোগের জন্য একটি নালা তৈরী করা হবে। নাপাক ঘিয়ের সাথে পাক ঘি মিশ্রিত করে একই ধারায় নালা দিয়ে ঢালতে হবে। নাপাক ঘিয়ের সাথে পাক ঘি মিশ্রিত হয়ে নামতে থাকলে সব ঘি পবিত্র হয়ে যায়। প্রথম পদ্ধতিতে ঘি তিনবার পানি দিয়ে ধৌত করলে ঘি নষ্ট হওয়ার আশংকা থাকে। দ্বিতীয় পদ্ধতিতে উপচে পড়লে কিছু ঘি নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা। তৃতীয় পদ্ধতি একেবারে পরিস্কার। তবে বেশি সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। পাক করার আগে পরে যাতে নাপাক ঘিয়ের কোন একটি ফোঁটাও যেন পাক ঘিয়ের মধ্যে না পড়ে। নালা দিয়ে ঢেলে দেওয়ার সময় একটি ফোঁটাও ছিটকে পাক ঘিয়ের মধ্যে পড়লে সব ঘি নাপাক হয়ে যাবে
💠 মাসআলা-১০৫: কোন মুসলমান মুখে ঢুকার মত গোঁফ লম্বা করার বিধান কি?
কোন মুসলমান মুখে ঢুকার মত গোঁফ লম্বা করার বিধান কি? যায়েদ বলেছে তুর্কীরাও মুসলমান, তারা তো দীর্ঘ গোঁফ রাখে।
জাওয়াবঃ মুখে ঢুকে এমন দীর্ঘ গোঁফ রাখা হারাম ও পাপ। মুশরিক, অগ্নিপুজক, ইহুদী, খৃষ্টানদের রীতি-নীতি। বিশুদ্ধ হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ ফরমায়েছেন,
احْفُوا الشَّوَارِبَ وَاعْفُوا اللَّحَى وَلَا تُشَبِهُوا بِالْيَهُودِ رواه الامام الطحاوي عن انس بن مالك
গোঁফ ছাঁট, দাঁড়ি ছাড়, ইহুদীদের সাদৃশ্যপূর্ণ হয়োনা। ইমাম ত্বাহাভী (রহ) হযরত আনাসা বিন মালিক (রাদ্বি) থেকে বর্ণনা করেছেন। মুসলিম শরীফের শব্দ হযরত আবু হুরায়রা (রাদ্বি) থেকে এভাবে বর্ণিত রয়েছে,
جزوا الشوارب وارخُوا اللحى وخالفوا المجوس
،গোঁফ ভালভাবে ছাঁট, দাঁড়ি ছাড় এবং অগ্নিপুজকদের বিরোধিতা কর।' মুর্খ তুর্কী সৈন্যদের কাজ কি দলীল না রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম'র বাণী?
💠 মাসআলা-১০৬: জুমার দিন খুৎবায় মুসলমানদের বাদশার জন্য দোয়া করা ফরয। এরূপ দোয়া করা ঠিক হবে কিনা?
জুমার দিন খুৎবায় মুসলমানদের বাদশার জন্য দোয়া করা ফরয। এরূপ দোয়া করা ঠিক হবে কিনা?
اللهم أعز الاسلام والمسلمين بالإمام العادل ناصر الاسلام والملة والدين
যায়দ বলেছে তা ঠিক নয়। মহামান্য বাদশার নাম উল্লেখ করতঃ দোয়া করা উচিত।
জাওয়াবঃ খুৎবায় মুসলিম বাদশার জন্য দোয়া করা ফরয নয়; এটি মুস্তাহাব। এ ধরনের দোয়া প্রশ্নে উল্লেখিত অংশের দ্বারা অবশ্যই আদায় হয়। তবে দুররুল মুখতার-এ
يندب ذكر الخلفاء الراشدين والعمين لا الدعاء لِلسَّلْطَانِ وَجُوزَهُ القهستانی
'খোলাফা রাশেদীন ও রাসুলের চাচাদ্বয়ের উল্লেখ করা মুস্তাহাব, বাদশার জন্য দোয়া নয়। আল্লামা কাহাস্তানী রাদ্বিয়াল্লাহু তা'য়ালা আনহু উহা জায়েয বলেছেন।' ঐ সব শহরে বাদশার নামে দোয়া করা জরুরি যে রাজ্য বাদশার অধীনস্ত, মুদ্রা ও খুৎবা রাজ্যের নিদর্শন। রদ্দুল মুহতার- এ আছে,
الدَّعَاءُ لِلسُّلْطَانِ عَلَى الْمَنَابِرِ قَدْ صَارَ الْآنَ مِنْ شِعَارِ السَّلْطَنَةِ فَمَنْ تَرَكَهُ يُخْشَى عَلَيْهِ
'মিম্বরের ওপর বাদশার জন্য দোয়া করা এখন রাজ্যের নিদর্শনে পরিণত হয়েছে। যে ব্যক্তি উহা পরিত্যাগ করবে তার ব্যাপারে আশংকা দেখা দেয়। والله تعالی اعلم
💠 মাসআলা-১০৭: পেশ ইমাম সাহেব মাথায় শাল মোড়ায়ে নামায পড়ালে কেমন হবে?
পেশ ইমাম সাহেব মাথায় শাল মোড়ায়ে নামায পড়ালে কেমন হবে?
জাওয়াবঃ শাল যদি রেশম বা জরিতে ভরপুর হয় বা এর বর্ডার রেশম বা জরি দ্বারা খচিত অংশ চার আঙ্গুলের চেয়ে অধিক প্রশস্ত হয়, তবে পুরুষের জন্য তা সাধারণভাবে না-জায়েয। নামাযের বাইরেও তা অবৈধ। এর কারণে নামায নষ্ট ও অপছন্দ হয়ে যায়। ইমাম, মুক্তাদী বা একাকী নামায আদায়কারী যেই হোক না কেন। এরূপ না হলে দু'অবস্থা- (ক) চাদর মাথায় দিয়ে তার আঁচল ওড়নার মত বাহুতে জড়িয়ে নিলে অসুবিধা নেই। (খ) মাথায় চাদর দিয়ে উভয় পার্শ্ব ঝুলিয়ে দিলে মাকরূহ তাহরীমা এবং গুনাহ্। নামায পুনরায় পড়া ওয়াজিব। দুররুল মুখতার-এ রয়েছে,
كرة سدلٌ تَحْرِيمًا لِلنَّهُى ( ثوبه ) أَى إِرْسَالُهُ بِلَا لُبْسِ مُعْتَادٍ كَشَدَ مِنْدِيلٍ يُرْسِلُهُ مِنْ كَفِيهِ
'স্বাভাবিকভাবে কাপড় পরিধান করা ব্যতীত উহাকে ঝুলিয়ে রাখা মাকরূহ তাহরীমা। যেমন রুমাল কাঁধে ঝুলিয়ে রাখা। হাদীসে উহা থেকে নিষেধ করা হয়েছে।' রাদ্দুল মুহতার-এ রয়েছে, ذَالِكَ نَحُوُ الشال উহা শালের মত। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মাসআলার-১০৮: জারজ সন্তানের জানাযা এবং মুসলমান কবরস্থানে দাফন করা যাবে কি না? আর জারজ সন্তানের মা কাফির এবং পিতা হল মুসলমান?
ওলামা-ই দ্বীন এ মাসআলার ব্যাপারে অভিমত কি? জারজ সন্তানের জানাযা এবং মুসলমান কবরস্থানে দাফন করা যাবে কি না? আর জারজ সন্তানের মা কাফির এবং পিতা হল মুসলমান?
জাওয়াবঃ সে মুসলমান হেতু জানাযার নামায পড়া ফরজ হবে। মুসলমানন্দের কবরস্থানে দাফন করা অবশ্যই জায়েয। যদিও তার পিতা-মাতা একজন বা উভয়ই কাফির হয়। বরং এটা খুবই উত্তম যে, অবৈধ সন্তান হওয়ার কারণে তার নিজের কোন দোষ নেই। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
💠 মালফুযাত
💠 আরয - ০১
আরয: হুযুর ১৩ বৎসরে আমার স্ত্রীর চার ছেলে দুই মেয়ে জন্ম গ্রহণ করলো-যার মধ্যে পাঁচ সন্তান ইন্তিকাল করলো। তাদের মধ্যে কারো বয়স তিন বৎসর, কারো বয়স দুই বৎসর এবং কারো বয়স এক বছর। সবাই একই পাঁজর ও মুচ্ছা রোগে আক্রান্ত হয়েছিল। বর্তমানে একটি মেয়ে আছে- যার বয়স দুই বছর। হুযুর! দোআ করুন এবং তার রোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার মত কোন আমল থাকলে আমাকে বলুন।
এরশাদঃ আল্লাহ তা'আলা আপনাকে দয়া করেছেন। এখন যেটা প্রসব হয়েছে তাকে দুই মাস চলা ফেরা করতে দেবেন না। স্ত্রী ও তার মাতার নাম দরকার। এখন থেকে ইনশা আল্লাহ তা'আলা ব্যবস্থা করা হবে। নিজের ঘরে নামাযের পাবন্দীর জন্য কঠোর হবে। পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়ার পর একবার আয়াতুল কুরসী পড়বে। সূর্য উদিত হওয়ার পূর্বে একবার এবং সূয্য ডুবার পূর্বে একবার পড়বে। শয়ন করার সময় একবার পড়বে। যে সমস্ত দিনে মহিলাদের জন্য নামযের হুকুম নেই সে দিনগুলোতেও পড়বে। এ তিন সময়ে আয়াতুল কুরসী পড়া ছাড়বে না। এ দিনগুলোতে কোরানে করীম তেলাওয়াতের নিয়তে পড়বে না বরং আল্লাহ তাআলার প্রশংসা করার নিয়্যতে পড়বে। যে সব দিনে নামায পড়ার বিধান রয়েছে সে গুলোতেও নিষ্ঠার সাথে পালন করবে। তিন র্ত তিনবার সকাল বিকাল শুয়ার সময় পড়বে। সুবহ দ্বারা উদ্দেশ্য হল অর্ধেক রাত অতিবাহিত হওয়ার পর থেকে সূর্য উঠার পূর্ব পর্যন্ত আর শাম দ্বারা উদ্দেশ্য- সূর্য পশ্চিম দিকে ঢলে পড়ার পর থেকে ডুবে যাওয়ার আগ পর্যন্ত সময়। শুয়ার সময় এ পদ্ধতিতে পড়বে যে, চিৎখাত হয়ে উভয় হাত দোআর মত প্রশস্ত করে একেক বার করে তিন "ত্র” পড়ে হাতের তালুর উপর দম দিয়ে সমস্ত মুখমন্ডল, সীনা, পেট ও পায়ের আগে-পিছে যেখান পর্যন্ত হাত পৌছে, সারা শরীরে হাত মালিশ করবে। এ ভাবে করে যাবে দুই-তিন বার। আর যে সমস্ত দিনে মহিলাদের নামাযের হুকুম নেই ওই দিন গুলোতে একই ভাবে তিনবার উক্ত দোয়া পড়ত সারা শরীরে হাত বুলাবে। এক লোক বড় প্রদীপ বানায়। সেখান থেকে একটি প্রদীপ বানিয়ে নেবে। গর্ভাবস্থায় আর শিশু জন্ম গ্রহণ করার পর যে পদ্ধতিতে বলছি সেভাবে আলোকিত করবে। ওই চেরাগ আল্লাহর নিদের্শে যাদু স্বর্প এবং রোগ এ তিনটি প্রতিরোধ করবে, তা পরীক্ষিত। শিশু জন্ম গ্রহণ করার সাথে সাথে তার কানে সাতবার আযান দেবে। চার বার ডান কানে এবং তিন বার বাম কানে তাকবীর বলবে। এ ব্যাপারে কখনও দেরী করা যাবে না। দেরী করার ফলে শয়তান তার মধ্যে স্থান করে নেয়। শিশুকে ৪০ দিন পর্যন্ত সমওজনে কোন ফসল দান করে দেবে। প্রথম বছরে প্রতি মাসে, তারপর দুই বছর বয়সে দুই মাস অন্তর। তিন বছর বয়সে প্রত্যেক তিন মাস অন্তর, চার বৎসরে চার মাস অন্তর, পাঁচ বছর বয়সেও প্রতি চার মাস অন্তর, ছয় বছর বয়সে প্রতি ছয় মাস অন্তর এবং সাত বছর বয়সে বার্ষিক অন্তর সে মেয়েকে ওজন করে সে পরিমাণ সদকা করে দেবে। চতুর্থ বৎসরে প্রত্যেক চার মাস অন্তর অন্তর ওজন করবে। ঘরের মধ্যে সাত দিন পর্যন্ত মাগরীবের সময় ৭ বার বড় আওয়াজে আযান দেবে। তিন রাত কোন বিশুদ্ধ তিলাওয়াতকারীর মাধ্যমে সম্পূর্ণ সূরা বাকারা এমন আওয়াজের মাধ্যমে পড়াবে যে, ঘরের প্রত্যেক কোণে আওয়াজ পৌঁছে যায়। ঘরের দরজা বিছমিল্লাহ বন্ধ করবে এবং সকালে বিছমিল্লাহ বলে খুলবে। ঘর থেকে পায়খানায় ডুকতে গেলে দরজার বাইর থেকে
بسم الله اعوذ بالله مِنَ الخُبث والخبائث
পড়ে বাম পা প্রথমে রাখবে। বাইর হওয়ার সময় প্রথমে ডান পা বের করতঃ الحمد لله বলবে। কাপড় বদলাতে বা ধৌত করতে খোলার সময় প্রথমে বিছমিল্লাহ বলবে। সহবাসের সময় খুবই গুরুত্ব সহকারে মনে রাখবে যে, মিলন করার পূর্বে উভয়ই বিছমিল্লাহ পড়ে নেবে এবং কথাগুলো স্মরণ রাখলে ইনশাল্লাহ কেউ অনিষ্ট করতে পারবে না।
💠 আরয - ০২
আরযঃ হুযুর! বড় চেরাগ আলোকিত করার পদ্ধতি কি?
এরশাদঃ
(১) চেরাগ জ্বালিয়ে ঝুলন্ত ভাবে রাখবে কোন সিকে বা ফানুসের মধ্যে।
(২) আলোকিত করার সময় অগ্নিশিখার নিকট স্বর্ণের ঠুকরা বা আংটি বা অলংকার ঢেলে দেবে। চিল্লা বা চল্লিশ দিন শেষ হয়ে যাওযার পর তা মুসলমান মিসকীনকে সদকা দেবে।
(৩) চিরাগকে অযূ সহকারে নামাযী ব্যক্তি আলোকিত করবে যদিও বা মহিলা হয় তবে পুরুষ হলে ভাল।
(৪) রোগ হালকা হলে চেরাগ দেড় ঘন্টা পর্যন্ত জ্বালাবে আর বেশি হলে তিন ঘন্টা জ্বালাবে।
(৫) রোগী তার আলোর মধ্যে বসবে, শোয়ে হলেও মুখ তার দিকে রাখবে। বেশি সময় তার অগ্নিশিখা দেখতে থাকবে।
(৬) জ্বালানোর সময়ের সাথে হিসাব রেখে কিছু উত্তম ফল তাতে ঢেলে চেরাগের চতুর্দিকে ঘুরাবে। সব নকশার উপর ঘুরায়ে ঝুকে তা রেখে দেবে। যে দিকে বাতির নিশান রয়েছে বিছমিল্লাহ বলে সে দিকে আলো দেবে।
(৭) যদি রোগ বেশি ভারী হয় তাহলে চার কোণে চারটি বাতি জ্বালাবে। চেরাগ সোজা রেখে প্রতিটি অগ্নিশিখার সাথে স্বর্ণ রাখবে। যে স্থানে এ চেরাগ জ্বলবে সেখানে কোন ছবি, কুকুর, সংক্রামক রোগী, কোন ঋতুস্রাব বা নিফাসযুক্ত মহিলা এবং কোন নারী-পুরুষ নাপাক অবস্থায় আসতে পারবেনা।
(৮) যে স্থানে এ প্রদ্বীপ প্রজ্বল্লিত করা হবে সেখানে ঐ রোগী ব্যতীত কোন ছবি, কুকুর, হায়েজা মহিলা, নেফাস ওয়ালী মহিলা বা কোন নাপাক পুরুষ ও মহিলা থাকতে পারবে না।
(৯) সে স্থানে বসে সবাই আল্লাহর যিকির-আযকার, দুরুদ শরীফ পড়তে থাকবে। প্রয়োজন অনুপাতে চুপে চুপে কথা বলবে। হৈ চৈ করবে না আর কোন অনর্থক কথাবার্তা বলবে না।
(১০) যত মহিলা ওখানে বসবে বা আসা যাওয়া করবে সকলে মোটা কাপড় পরে নামাযের মত বসে মুখ ছাড়া বাকী সমস্ত শরীর ঢেকে ফেলবে।
(১১) চেরাগ প্রথম দিনে যেই সময় জ্বালাবে তার ঘন্টা মিনিট স্মরণ রেখে অন্য দিন এর চেয়ে দেরী বা এদিকওদিক যেন না হয়। এ কার্যক্রমের জন্য ওই সময় নির্ধারণ করতে হবে যে সময়ে প্রথম দিনে জ্বালানো হয়েছিল। যদি কোন দিন মুয়াক্কিল এসে চেরাগ সে সময় জ্বালানো অবস্থায় না পায় তাহলে তার কষ্ট হবে। সে জন্য প্রথম দিন ইচ্ছাকৃত ভাবে কিছু দেরি করে চেরাগ জ্বালাবে। যদি কোন দিন বিশেষ কারণে দেরী হয়ে যায তাহলে অন্য সময় এর চেয়ে যেন বেশি দেরী না হয়। কিন্তু প্রথম দিন এত দেরী করবে না যে, অন্য দিন চেরাগ আলোকিত হলে এ সময় আসার আ-েভাগে শেষ হয়ে যায়।
(১২) যখন চেরাগ বড় করার সময় আসে তাহলে কোন অযুধারী ব্যক্তি বড় করবে। সে সময় এটা বলবে যে,
السَّلامُ عَلِيكُمْ اجْعَلُوا مَا جُوْرِينَ
(১৩) প্রতি দিন সুগন্ধি তৈল ঢালবে, গতকালের অবশিষ্ট তৈল আজকে রোগীর মাথা এবং শরীরে মালিশ করে দেবে।
(১৪) যার জন্য চেরাগ জালানো হল সে ব্যতিত অন্য রোগী ও আরোগ্য লাভের নিয়্যতে উপরোক্ত শর্ত সাপেক্ষে বসতে পারবে।
💠 আরয - ০৩
আরযঃ এক মেয়ে নিয়মিত কিছু দিন অনর্গল সূরা মুযযাম্মিল পড়তো বরং অর্ধেক কুরআনের হেফযও সম্পন্ন হয়েছিল। এখন সে মেয়ের মস্তিষ্ক নষ্ট হয়ে গেছে।
এরশাদঃ لا حول শরীফ ৬০ বার, الحمد শরীফ এবং আয়াতুল কুরসী একবার করে, তিনটি ত্রি তিনবার করে পড়ে পানিতে দম দিয়ে পান করাতে হবে।
💠 আরয - ০৪
আরযঃ কোরআনের আয়াতেও কি এ প্রভাব রয়েছে?
এরশাদঃ যে ব্যক্তি নিয়মিত আমলকারী সে পাবন্দি না করলে তার এই অবস্থা হবে।
💠 আরয - ০৫
আরযঃ হুযুর আলাইহিস সালামের কম্বল গায়ে দেওয়া প্রমাণ আছে কি না?
এরশাদঃ হ্যাঁ! হাদীস শরীফের মাধ্যমে প্রমাণিত।
💠 আরয - ০৬
আরযঃ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পোশাক কি কি ধরনের কাপড় ছিল?
এরশাদঃ চাদর, লুঙ্গি, পাগড়ি এ গুলো তো সাধারণভাবে থাকতো। জামা, টুপি, পায়জামা একবার ক্রয় করেছিলেন বলে হাদীসে লিখা আছে। পরিধান করার বর্ণনা পাওয়া যায়নি। মহিলারা গায়ে কাপড় পরতেন। একবার নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাশরীফ নিয়ে যাচ্ছিলেন পথিমধ্যে এক ইহুদীর পা পিছলে গেলে তিনি মুখ মোবারক সে দিক থেকে ফিরিয়ে নিলেন। সাহাবাগণ আরয করলেন- হুযুর! সে পায়জামা পরিহিত আছে। ইরশাদ করলেন-
اللهم أَغْفِرُ لِلْمُتَسَرْوَلَات
আল্লাহ ক্ষমা করুক ওই সকল মহিলাদেরকে যারা পায়জামা পরিধান করে। সম্ভবত পায়জামা চোচ ছিল। যদি পায়জামা ঢিলা হতো তাহলে তাতে লুঙ্গির মত খুলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকত।
💠 আরয - ০৭
আরযঃ যে সব মোমবাতিতে চর্বি দেয় তা মসজিদে জ্বালানো জায়েয আছে কিনা?
এরশাদঃ যদি মুসলমানের প্রস্তুতকৃত হয় তাহলে জায়েয, অন্যথায় মসজিদে নয় অন্য জায়গাও জালানো উচিত হবে না।
💠 আরয - ০৮
আরযঃ যে চর্বি জার্মান ও অন্যান্য দেশ থেকে আসে তার হুকুম কি?
এরশাদঃ এ গুলোর একই হুকুম। যেমন চর্বি এবং গোস্তের এক হুকুম। যদিও গাভী বা বকরীর চর্বি কোন মুসলমান থেকে হিন্দু বা নাসারা নিয়ে গেল এবং কিছুক্ষণ পর আবার এসে বলল-এ গুলো ওই চর্বি যা এখন তোমার থেকে নিয়ে গেলাম-তা গ্রহণ করা হারাম। النصرانية لا ذبيحة له নাসারাগণ কোন পশু যবেহ করে না। ইহুদীরা তার খেলাপ। তারা এখনো পর্যন্ত যবেহ করে। ফাতাওয়া-ই কাযীখান'র মধ্যে আছে
اليهودية يَذْبَحُ أوْ ياكل ذبيحة المسلم
ইহুদীরা মুসলমানদের যবেহকৃত পশু খায়। নাসরা এবং ইহুদী উভয়ই কাফির। একদল খোদার প্রিয়ভাজনদের ভালবাসায় অপর দল শত্রুতার মধ্যে সীমালঙ্গন করে। ইহুদীদের ব্যাপারে কোরআনে আযীম مَغْضُوبِ عَلَيْهِمُ (অভিশপ্ত) এবং নাসারাদের বেলায় ضالين (পথভ্রষ্ট) বলেছে। এ কারণেই পৃথিবীতে কোন গ্রামে ইহুদী শাসক নেই। পক্ষান্তরে নাসারাদের বাদশাহী প্রকাশ্য। বর্তমানকার রাফেযী ও ওহাবীরা হুবহু তাদের মত। রাফেযীরা অতিশয় ভালবাসতে গিয়ে নাসারাদের মত কাফির হয়েছে। ওহাবীরা ইহুদীদের মত শত্রুতায় সীমালঙ্গন করাতে কাফির। তাই রাফেযীদের রাজত্ব চলছে ইরানে আর ওহাবীদের কোথাও একটি গ্রামও নেই।
💠 আরয - ০৯
আরয: ইমাম মুসাফিরের পিছনে মুক্তাদী মুকীম এক রাকাত পেল। বাকী নামাযে কিরাত কিভাবে পড়বে?
এরশাদ: প্রথম দুই রাকাআত লাহেকের (যার নামায শেষে ছুটে গেছে) মত কিরাত পড়া ছাড়া সূরা ফাতিহা পরিমান দাঁড়িয়ে বৈঠকে যাবে এবং পরের রাকাআত কিরাত পাঠসহ আদায় করবে।
💠 আরয - ১০
আরযঃ দ্বিতীয় জামাত আরম্ভ হওয়ার সময়ে যোহরের সূন্নাত পড়া জায়েয আছে কিনা অথবা ফজরের সুন্নাত দ্বিতীয় জামাতের শেষ বৈঠক না পাওয়ার কারণে ছেড়ে দিয়েছে, এখন করণীয় কি?
এরশাদঃ দ্বিতীয় জামাত শুধুমাত্র জায়েয। এর জন্য সুন্নাত ছাড়তে পারবে না। প্রথম জামাতই আসল। যার ব্যাপারে হাদীসে ইরশাদ হয়েছে যে, যদি ঘরের মধ্যে শিশু, মহিলাগণ না থাকতো তাহলে যে লোক জামাতে শরীক হয় না, তাদের ঘরকে জ্বালিয়ে দিতাম। একবার মাওলভী আবদুল কাদির রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন যে, 'মারহিরা'নামক স্থানে বিশেষ কারণে নামাযে আসতে দেরী হয়ে গেল, আমি মসজিদের সিঁড়ির নিকট এসে পৌঁছলে হযরত মিয়া সাহেব কিবলা নামায পড়ে ফিরে আসার পথে আমাকে বললেন-আবদুল কাদির! নামায হয়ে গেছে আসল নামায তো প্রথম জামাত।
💠 আরয - ১১
আরযঃ জানাযার নামাযে তিন সারি করা উত্তম। এ প্রসংগে দুররুল মুখতার এবং কবীরী-তে লিখছে যে, প্রথম সারিতে তিনজন, দ্বিতীয় সারিতে দু'জন এবং তৃতীয় সারিতে একজন দাঁড়াবে। এরূপ করার কারণ কি? প্রতি কাতারে দু'জন করে দাঁড়াতে পারতো।
এরশাদঃ কাতার পরিপূর্ণ হওয়ার জন্য কমপক্ষে তিনজনের প্রয়োজন। এ কারণে প্রথম কাতারকে পরিপূর্ণ করা হয়েছে। তার দলীল হল এ যে, ইমামের সমান করে দু'জন লোক দাঁড়ানো মাকরুহ তানযিহী। তিনজন দাঁড়ানো মাকরুহ তাহরীমী। কেননা পরিপূর্ণ সারি হয়ে যাওয়াতে এ অবস্থায় সবাই ইমামের সারিতে দন্ডায়মান হওয়া বুঝা যায়। পাঁচ ওয়াক্ত নামাযেও কিছু কিছু অবস্থায় কাতারে একাকী দাঁড়ানো জায়েয নেই। যেমন দু'জন পুরুষ একজন মহিলা হলে, সে মহিলা পিছনের সারিতে একাকী দাঁড়াতে পারবে।
💠 আরয - ১১
আরযঃ মহামারীর সময়ে কিছু কিছু জায়গায় প্রচলন আছে যে, বকরীর ডান কানে সূরা ইয়াসিন শরীফ এবং বাম কানে সূরা মুযযাম্মিল শরীফ পড়ে ফুঁক দিত। শহরের অলি-গলিতে ঘুরিয়ে খর্গ দিয়ে যবেহ করতো এবং তার চামড়া অন্য যমীনে দাফন করে দিত- এটা কেমন হবে?
এরশাদঃ চামড়া দাফন করা হারাম। কেননা এটা সম্পদ বিনষ্ট হওয়ার নামান্তর। খর্গ দিয়ে যবেহ করা অনর্থক ও মুর্খতা। আল্লাহর নামে যবেহ করে মিসকীনদের মধ্যে বন্টন করে দাও।
💠 আরয - ১২
আরযঃ বিবাহের খুতবা কিবলামুখী হয়ে দাঁড়িয়ে পড়তে হবে কি?
এরশাদঃ হ্যাঁ! দাঁড়িয়ে পড়া উত্তম। কিবলামুখী হওয়া প্রয়োজন নেই। শ্রবণকারীদের দিকে মুখ করা উচিত। জুমার খুতবাও কিবলার দিকে পিঠ দিয়ে পড়াই শরীআত সম্মত।
💠 আরয - ১৩
আরযঃ শিক্ষকের বেতন নির্ধারণ করা না হলে বাচ্ছাদের দ্বারা কাজ করানো যাবে কিনা?
এরশাদঃ যদি পিতা-মাতা নারাজ এবং বাচ্ছাদের কষ্ট না হলে কোন কাজ করালে কোন অসুবিধা নেই। মাসিক বেতন নির্ধারণ হোক বা না হোক।
💠 আরয - ১৪
আরযঃ মিলাদ পড়ুয়াদের সাথে যদি কিশোর শরীক হয় তাহলে কেমন হবে?
এরশাদঃ
শরীক না হওয়া উচিত।
💠 আরয - ১৫
আরযঃ দুলাকে উপঢৌকন দেওয়া জায়েয আছে কি না?
এরশাদঃ
যদি সুগন্ধি হয় তাহলে জায়েয।
💠 আরয - ১৬
আরযঃ যদি বিসলপুর থেকে বাদউন যেতে যাত্রা পথে বেরলী-তে নামলে নামায কসর করা যাবে কিনা?
এরশাদঃ এ অবস্থায় কসর পড়া যাবে না। কারণ সফর দু' অংশে বিভক্ত হয়ে গেল।
💠 আরয - ১৭
আরযঃ এক বেরলী'র বাসিন্দা, মুরাদাবাদে দোকান দিয়েছে এবং ওখানেই ব্যবসা বাণিজ্য করার ইচ্ছা পোষন করেছে। মাঝে মধ্যে নিজের পরিবার-পরিজনদেরও নিয়ে যায়। এ অবস্থায় মুরাদাবাদ মুল জন্মস্থান হবে না কি থাকার স্থান হবে?
এরশাদঃ মুল জন্মস্থান হবে না। হ্যাঁ।যদি সেখানে বিয়ে কবে নেয় তাহলে মাতৃভূমি হয়ে যাবে।
💠 আরয - ১৮
আরযঃ যদি ওহাবী বিবাহ পড়ায় তাহলে হবে কিনা?
এরশাদঃ বিবাহ হবে, এ কারণে যে, বিবাহ পরস্পর 'ঈযাব কবুল'র মাধ্যমে হয়। যদিও ভ্রহ্মণ পড়ায়। ওহাবীর মাধ্যমে পড়ালে তাকে সম্মান দেখানো হয়-যা হারাম। এ জন্য বাদ দেওয়া আবশ্যক।
💠 আরয - ১৯
আরযঃ অলীমা কি বিবাহের সুন্নাত না কি বাসর রাতের? আর নাবালেগের বিবাহ হলে অলীমা কখন এবং কোন দিন করবে?
এরশাদঃ অলীমা বাসর রাতের সুন্নাত। নাবালেগও বাসর রাতের পরে অলীমা করবে। অলীমা বাসর রাতের দিন সকালে করবে।
💠 আরয - ২০
আরযঃ বিবাহ পড়ানোর পর শুকনো খেজুর লুঠ করার যে রেওয়াজ রয়েছে এটা কি কোথাও সাবেত আছে?
এরশাদঃ হাদীস শরীফে খেজুর লুঠ করার বিধান রয়েছে। লুঠ করে নেয়ার মধ্যে কোন অসুবিধা নেই। আর এ হাদীস দারুল কুতনী, বায়হাকী ও তাহবী থেকে বর্ণিত হয়েছে।
💠 আরয - ২১
আরযঃ কালো খিযাব যদি কালি জাতীয় হয় তাহলে কেমন হবে?
এরশাদঃ কালি বা নীল পাতা হোক কালো খিযাব ব্যবহার করা হারাম।
💠 আরয - ২২
আরযঃ কোন পদ্ধতিতে তা জায়েয?
এরশাদঃ জিহাদের অবস্থায় তা জায়েয আছে।
💠 আরয - ২৩
আরযঃ যদি যুবতী মহিলাকে বৃদ্ধ পুরুষ বিবাহ করতে চাই তাহলে কালো খিযাব লাগানো যাবে কি না?
এরশাদঃ বুড়া বলদ শিং কর্তন করে শাবক হতে পারবে?
💠 আরয - ২৪
আরযঃ কিছু কিছু কিতাবে আছে-শাহাদাতের সময় হযরত ইমাম হুসাইন রাদ্বিআল্লাহু আনহুর কালো খিযাব ছিল।
এরশাদঃ হযরত ইমাম হাসন, ইমাম হুসাইন ও আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাদ্বি আল্লাহু আনহুম কালো খিযাব ব্যবহার করতেন। ইনারা সম্মানিত মুজাহিদ ছিলেন।
💠 আরয - ২৫
আরযঃ নামায কসর পড়ার নিয়ম ছিল না তারপর ও কসর পড়া হল তাহলে নামায পূনরায় পড়তে হবে কি না?
এরশাদঃ অবশ্যই পূনরায় পড়তে হবে। মোটেই নাময হয়নি।
💠 আরয - ২৬
আরযঃ এক গ্রামে মসজিদ একেবারে বনের ভিতরে, তার সাথে লাগানো এক কামারের ঘর। উল্লেখিত মসজিদে নামায পর্যন্ত হয় না বরং তার আশে পাশের লোক সেখানে ময়লা ফেলে, ওই কামার মসজিদের জায়গাটা ক্রয় করতে আগ্রহী। তা বিক্রয় করা যাবে কি না?
এরশাদঃ বিক্রয় করা হারাম যদিও বা মসজিদের সমপরিমাণ স্বর্ণও দেয়। মসজিদের ব্যাপারে যারা এ রকম করবে তাদের সম্পর্কে কোরআনে করীমে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন-
لَهُمْ فِي الدُّنْيَا خِزْى وَلَهُمْ فِي الآخِرَةِ عَذَابٌ عظیم দুনিয়াতে তাদের জন্য ভৎর্সনা এবং পরকালে রয়েছে মহা শাস্তি।
💠 আরয - ২৭
আরযঃ জানাযার নামায তাড়াহুড়া করা দ্বারা কি উদ্দেশ্য?
এরশাদঃ গোসল এবং কাফন ব্যতীত নামায তো পড়তেই পারবে না। হ্যাঁ!এ গুলো শেষ করার পর দেরী যেন না হয়। কেউ কেউ জুমার দিন যার ইন্তিকাল হবে তার জানাযা জুমার নামায পর্যন্ত রেখে দেয় মানুষ বেশি হওয়ার জন্য। এটা না-জায়েয এবং এর সুস্পষ্ট বর্ণনা ফিকহের কিতাবগুলোতে রয়েছে। কবর তৈরি বা অন্য কোন ওযর থাকার কারণে দেরী করলে কোন অসুবিধা নেই।
💠 আরয - ২৮
আরযঃ মুদারের সাথে পিঁপড়ার জন্য কবরস্থানে মিঠা নিয়ে যাওয়া কেমন?
এরশাদঃ সাথে করে খাবার রুটি নিয়ে যাওয়া যেমনিভাবে ওলামা-ই কিরামগণ
নিষেধ করেছেন তেমনি মিষ্টিও। আর পিঁপড়াদেরকে এ নিয়্যতে তা দেওয়া যে, এরা যেন মৃত্যু ব্যক্তিকে কষ্ট না দেয়। এটা হল একেবারে মুর্খতা। কোন নিয়্যত না থাকলেও এ গুলোকে মিসকীন ও সৎলোকদের মাঝে ভাগ করে দেওয়া অতি উত্তম। সে স্থানে সামর্থ অনুপাতে দান খয়রাত করবে। অধিকাংশ কবরস্থানে দেখা যায় যে, ফল-ফলাদি ভাগ করে দেওয়ার সময় কিশোর-কিশোরিরা শোরগুল করে থাকে এবং মুসলমানদের কবর স্থানে দৌড়াদৌড়ি করে থাকে।
💠 আরয - ২৯
আরষঃ সাধারণ কাপড়ের ছিট দ্বারা মহিলাদের পায়জামা হলে, সুআঁচলের পায়জামা পরিহিতা মহিলার শরীরের উপর কামভাব সহকারে হাত লাগালে তার কি হুকুম?
এরশাদঃ যদি এমন কাপড় হয় যে, শরীরে গরম অনুভব হয় না তাহলে ভাল; অন্যথায় হুরমতে মুসাহেরা (বৈবাহিক অবৈধতা) সাব্যস্ত হবে।
💠 আরয - ৩০
আরযঃ মাওলুদ শরীফের ব্যাপারে কতিপয় কিতাবে আছে যে, যে রাতে হযরত আমেনা খাতুন রাদ্বি আল্লাহু আনহা গর্ভবতী হয়েছিলেন সেই রাতে ঈর্ষায় দু'শত মহিলা মারা গেছে, এ কথাটি সঠিক কি না?
এরশাদঃ এর বিশুদ্বতা জানা নেই। অবশ্যই কতেক মহিলা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম'র নুরের তাজল্লি লাভের কামনায় মরে গিয়েছে বলে প্রমাণ আছে।
💠 আরয - ৩১
আরযঃ ইসকাত হিসেবে কয়েক সের গম এবং কোরআনে আযীম দেয়া হলে সব কাফফারা আদায় হয়ে যাবে কি না?
এরশাদঃ কোরআনে আযীম দ্বারা বাজারের মূল্য অনুপাতে কাফফারা আদায় হবে।
💠 আরয - ৩২
আরযঃ ক্রেতা-বিক্রেতার মাঝে এখতিয়ার রয়েছে বিধায় যতটুকু চাই মূল্য গ্রহণ করতে পারবে কি?
এরশাদঃ যেখানে সাদকা দিয়ে থাকে ওখানে বাজারি মূল্য গ্রহণযোগ্য হয়।
💠 আরয - ৩৩
আরযঃ খুতবা দেওয়ার সময় লাঠি হাতে নেওয়া সুন্নাত কি না?
এরশাদঃ এ ব্যাপারে আলেমগণের মধ্যে মতানৈক্য রয়েছে। কেউ কেউ বলেন-সুন্নাত আর কেউ বলেন-মাকরূহ।
💠 আরয - ৩৪
আরযঃ সুন্নাত এবং মাকরুহ'র মধ্যে দ্বন্ধ হলে কি করতে হবে?
এরশাদঃ বাদ দেওয়া উত্তম। জামিউর রুমূয গ্রন্থে 'মুহীত্ব'র রেফারেন্সে বলা হয়েছে যে, সুন্নাত অগ্রগণ্য। মুহীত্ব থেকে হিন্দিয়া'র মধ্যে নকল করা হয়েছে এটা মাকরূহ হবে।
💠 আরয - ৩৫
আরযঃ গ্রামে জুমা পড়ার মাসআলাসমূহ ওলামা কেরাম লিখেছেন। এতে গ্রামবাসীরা খুবই পেরেশান?
এরশাদঃ হানাফী মাযহাবের মতে-গ্রামে জুমা এবং দু'ঈদের নামায পড়া জাযেয়
নেই। কিন্তু যেখানে নামায প্রতিষ্ঠিত আছে সেখানে নিষেধ করা যাবে না।তবে শাফেয়ী মাযহাব মতে হয়ে যাবে। এরূপ হলে মুর্খরা শুধু জুমা নয়; যুহরের নামাযও বাদ দিবে। أَرَيْتَ الَّذِى يَنْهَى عَبْدًا إِذَا صَلَّى (তুমি কি দেখনি?যে নামায থেকে একজন বান্দাকে বাধা দেয়) এ আয়াত থেকে ভয় করা উচিত। হযরত মাওলা আলী রাদ্ধিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি এক ব্যক্তিকে সূর্য উঠার সময় নফল নামায পড়তে দেখেও নিষেধ করেন নি। যখন সে নামায পড়ে নিল তারপর মাসআলা বর্ণনা করে দিলেন।
💠 আরয - ৩৬
আরযঃ হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামের শপথ করার পর তার বিপরীত করলে কাফফারা ওয়াজিব হবে কি না?
এরশাদঃ কাফফারা ওয়াজিব হবে না।
💠 আরয - ৩৭
আরযঃ হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শপথ করা জায়েয আছে কি?
এরশাদঃ জায়েয নেই।
💠 আরয - ৩৮
আরযঃ হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামে শপথ করা কি বেয়াদবি?
এরশাদঃ হ্যাঁ! বেয়াদবি।
💠 আরয - ৩৯
আরযঃ তামা পিতলের খিলাল গলায় ঝুলানো বৈধ কি না?
এরশাদঃ এটা না-জায়েয। কেননা এটা লঠকানোর হুকুমে পড়ে। অন্য কিছু জায়েয। স্বর্ণ রূপার হলে হারাম। বরং মহিলাদেরও এ ধরনের স্বর্ণ-রূপার পাত্র করে খানা খাওয়া না-জায়েয। ঘড়ির চেইনও সাধারণভাবে না-জায়েয-তা চাঁদীর হোক বা পিতলের। হ্যাঁ! ডোরা বাধতে পারবে।
💠 আরয - ৪০
আরযঃ বেগানা মহিলা সালাম দিলে জাওয়াব দেওয়া যাবে কিনা?
এরশাদঃ মনে মনে জাওয়াব দেবে।
💠 আরয - ৪১
আরযঃ অনুপস্থিত বেগানা ব্যক্তিকে সালাম দেওয়া যাবে?
এরশাদঃ এটা ও ঠিক হবে না। শে’র
بساکین افت از گفتار خیزد
বেশি কথায় বিপদ আসে।
💠 আরয - ৪২
আরযঃ ফজরের সুন্নাত প্রথম ওয়াক্তে পড়বে-না কি ফরয নামাযের সাথে পড়বে?
এরশাদঃ প্রথম ওয়াক্তে পড়া উত্তম। হাদীস শরীফে এসেছে-যখন মানুষ ঘুমায় তখন শয়তান তিনটি গিরা লাগিয়ে দেয়। সকালে উঠার সাথে সাথে সে আল্লাহর তাআলার নাম নিলে আরেকটি গিরা খুলে যায়। অযু করলে দ্বিতীয় গিরা খুলে যায়। ফজরের সুন্নাতের নিয়্যত করলে তৃতীয় গিরাও খুলে যায়। এ জন্য প্রথম ওয়াক্তে সুন্নাত পড়া উত্তম।
💠 আরয - ৪৩
আরযঃ যোহরের সুন্নাত না পড়ে ইমামতি করতে পারবে?
এরশাদঃ ওযর না থাকলে ঠিক হবে না।
💠 আরয - ৪৪
আরযঃ জুমার সুন্নাত যদি খুতবা আরম্ভ হওযার কারণে পড়তে না পারে তাহলে পরে পড়া যাবে ঠিক কি না?
এরশাদঃ পড়তে পারবে, তা অবশ্যই পড়তে হবে।
💠 আরয - ৪৫
আরযঃ কিছু জায়গায় নিয়ম আছে যে, মুসলমান হিন্দুদের আরতে মাল বিক্রি করে। এ সময়ে হিন্দুকে কমিশন দিতে হয়। ওই লোক কমিশনের সাথে শতকরা চার আনা করে এ বলে নেয় যে, এ পয়সা দিয়ে ফল-ফলাদি ক্রয় করে কবুতরদেরকে দেওয়া হবে। এটা দেওয়া জায়েয হবে কি না?
এরশাদঃ যদি জানোয়ারের জন্য নেওয়া হয় তাহলে কোন অসুবিধা নেই। অবশ্যই বৃত ইত্যাদির জন্য নিলে জায়েয হবে না।
💠 আরয - ৪৬
আরযঃ অদৃশ্য আমদানী ও লৌহা পিতলকে স্বর্ণে পরিণত করার কৌশল অবলম্বন করা কেমন?
এরশাদঃ অদৃশ্য ভান্ডারের জন্য দোআ করা অসম্ভব। স্বাভাবিক বিষয়ে দোআ করা যায়। সত্ত্বা ও যুক্তিগতভাবে অসম্ভব বস্তুর জন্য দোয়া করা হারাম। কিমীয়া তথা লৌহা-পিতলকে স্বর্ণে পরিণত কৌশলটাই সম্পদ নষ্ট করা। এটা হারাম। স্বর্ণে পরিণত করার খবর এখনও পর্যন্ত কোথাও প্রমাণিত নেই। كَبَاسِطِ كَفَّيهِ إِلَى المَاء وَمَا هُوَ بِبَالِغهِ (হস্তদয়কে পানির দিকে টানলে পানি তার দিকে পৌঁছে যায় না।) অদৃশ্য আমদানী সম্পর্কে যা কোরআনে আযীমে রয়েছে তার প্রতি মানুষের মনোনিবেশও নেই আল্লাহ বলেন-
وَّ یَرۡزُقۡهُ مِنۡ حَیۡثُ لَا یَحۡتَسِبُ ؕ وَ مَنۡ یَّتَوَكَّلۡ عَلَی اللّٰهِ فَهُوَ حَسۡبُهٗ
যে আল্লাহকে ভয় করে তিনি তার জন্য মুক্তির পথ বের করে দেবেন এবং তাকে সে স্থান থেকে জীবিকা দেবেন, যেখানে তার কল্পনাও থাকে না।যে আল্লাহর উপর ভরসা করে তিনি তার জন্য যথেষ্ট। সূরা ত্বালাক, আয়াত-৩
তার উপর আমল নেই। এর দ্বারা প্রকৃতপক্ষে সব কিছু অর্জন করা যায়। আমার এক বন্ধু মদিনা শরীফে বসবাস করেন। মদীনা শরীফ থেকে পাঠানো একটি চিঠি রবিবারে আমি পেলাম। যার মধ্যে পঞ্চাশ রূপিয়া আমার থেকে চেয়েছেন। বুধবার এখান থেকে ডাক পৌঁছতো। সপ্তাহে বুধবার ডাক যোগে জাহাজের মাধ্যমে সব জিনিস পৌঁছে যেত। সোমবার আমার মনেই ছিল না। মঙ্গল বারে আমার মনে পড়ল। দেখলাম-আমার কাছে পঞ্চাশ পয়সাও নেই। ওই দিনও শেষ। মাগরিবের পর নিয়ম মাফিক ইস্তিঞ্জা করতে গেলাম। চিন্তা করলাম আজ বুধবার, এখনো কোন পয়সা জোগাড় করতে পারিনি। আমি সরকারে দো'আলমের কাছে আবেদন করলাম- হুযূর! আমি নিজে পাঠাতে চাই, দান করুন। বাইর থেকে ভাতিজা হাসনাইন আওয়াজ দিলেন। মহাজন ইব্রাহীম বোম্বাই থেকে আপনার সাক্ষাতে এসেছে। আমি বাইরে এসে সাক্ষাত করে চলার পথে তিনি আমাকে একান্ন রূপিয়া দিলেন। অথচ আমার প্রয়োজন ছিল পঞ্চাশ রূপিয়ার। এক রূপিয়া বেশি দেওয়ার কারণ মানি অর্ডার করতে এক রূপিয়া তাদেরকে দিতে হয়। সকালে সহসা মানি অর্ডার করে দিলাম। يُرْزُقَهُ مِن حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ এ বাণী মতে সংগ্রহ হয়ে গেছে।
💠 আরয - ৪৬
আরযঃ ইলমে বাতেনের সর্ব নিম্নস্তর কি?
এরশাদঃ হযরত যুননুন মিসরী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আমি একবার সফর করে ওই ইলম অর্জন করলাম যা সাধারণ এবং অসাধারণ লোকে গ্রহণ করে। দ্বিতীয়বার সফর করে ওই ইলম অর্জন করলাম যা বিশেষ লোকেরা গ্রহণ করে; সাধারণ লোকেরা নয়। তৃতীয়বার সফর করে ওই ইলম অর্জন করলাম যা সাধারণ ও অসাধারণ কেউ তা বুঝতে পারে না। এখানে সফর দ্বারা ভ্রমণ উদ্দেশ্য নয়; বরং অন্তরের সফর। তাদের ইলমের অবস্থা এরূপই। আলেমদের বিশ্বাসে নির্ভর চর, এবং মোবারকবাদী পেশ করা উত্তম। অন্যথায় كُلِّ مَنْ عِنْدَ رَبْنَا وَمَا يُذْكُرُ إلا أُولُوا الالباب এ আয়াতের বিধানভুক্ত। হযরত শেখ আকবর এবং প্রবীণ পণ্ডিতগণ বলেছেন, সর্ব নিম্নস্তরের ইলমে বাতেন হল-বাতেনী বিষয়ে জ্ঞাতগণকে বিশ্বাস করবে। আর না জানলে বিশ্বাস করতো না। হাদীস শরীফে আছে-اغد عَالِمًا أَوْ مُتَعْلَماً أَوْ مُحِبَّا وَلَا تَكُنَّ الْخَامِسَ فَتُهْلَكُ এ সুপ্রভাত কর এ অবস্থায় যে, তুমি নিজেই আলেম বা শিক্ষার্থী বা আলেমের কথা শুনছো বা আলেমের সাথে মুহাব্বত রাখবে এবং পঞ্চম প্রকার হয়ো না তাহলে ধ্বংস হয়ে যাবে।
💠 আরয - ৪৭
আরযঃ ওয়াজ করার জন্য আলেম হওয়া জরুরী?
এরশাদঃ আলেম না হয়ে ওয়াজ করা হারাম।
💠 আরয - ৪৮
আরযঃ আলেমের পরিচয় কি?
এরশাদঃ আলেমের পরিচয় হল যে, আকাঈদ সম্পর্কে পুরোপুরি দখল এবং স্বয়ং সম্পূর্ণ হতে হবে। প্রয়োজনীয় কথাবার্তা কারো সাহার্য ছাড়া কিতাব থেকে বের করার জ্ঞান থাকতে হবে।
💠 আরয - ৪৯
আরযঃ কিতাবসমূহ অধ্যায়ন করত ইলম অর্জন করা যায়?
এরশাদঃ শূধুএটা নয়; বরং জ্ঞানীদের মুখ থেকেও ইলম অর্জন করা যায়।
💠 আরয - ৫০
আরযঃ হুযূর! সাধানা করতে বয়সের সীমাবদ্ধতা আছে?
এরশাদঃ সাধনার জন্য কমপক্ষে ৮০ বছর প্রয়োজন। বাদ বাকী সময় সাধনা করতে হবে।
💠 আরয - ৫১
আরযঃ এক ব্যক্তি আশি বছর বয়স থেকে সাধনা আরম্ভ করে না আশি বছর সাধনা করে?
এরশাদঃ উদ্দেশ্য হল যেভাবে এ জগতে উপকরণাদির প্রয়োজন সেভাবে ত্বরিকতের পথে চলতে গেলে জযবা এবং খোদায়ী রহমত হলে ওই রাস্তা অতিক্রম করতে আশি বছর প্রয়োজন। রহমতের দৃষ্টি হলে এক মুহুর্তে নাসারাকে আবদাল করে দিতে পারে। সত্যি সত্যি নিয়্যত পরিশুদ্ধ করে সাধনায় মশগুল হয়ে যায় তাহলে অবশ্যই আল্লাহর সাহায্য আসবে। আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন-وَالَّذِينَ جَاهَدُوا فِيْنَا لَنَهْدِيَنَّهُمْ سُبُلَنَا যারা আমার রাস্তায় সাধনা করে অবশ্যই আমি তাদেরকে আপন রাস্তা দেখাবো। সূরা আর রূম, আয়াত-৬৯
= সমাপ্ত =