শবে বরাতের ফজীলত সম্পর্কিত হাদিস যারা যারা বর্ননা করেছেন : | ইসলামী বিশ্বকোষ ও আল-হাদিস

এখানে শুধু বর্ননা কারী গনে নাম ও কিতাবের নাম এক সাথে দেয়া হল।  অন্য পর্ব গুলোতে বিস্তারিত আলোচিত হয়েছে।


শবে বরাত ও কোরআনঃ



পবিত্র কোরআনের ২৫ তম পারা ও ৪৪ নং সূরা “ দুখানের ” শুরুতে যে পাঁচটি আয়াত রয়েছে সে আয়াতগুলোই মূলত শবে বরাত ও পবিত্র কোরআন - এ বিষয়ক আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু।



১। তাফসীরে কবীর

২। তাফসীরে রুহুল মাআনী

৩। তাফসীরে রুহুল বায়ান

৪। তাফসীরে কুরতুবী

৫। তাফসীরে তাবারী

৬। তাফসীরে বগবী

৭। তাফসীরে খাযেন

৮। তাফসীরে ইবনে কাসির ইত্যাদি



শবে বরাত ও সাহাবায়ে কেরাম (রঃ)



শবে বরাতের সাথে সংশ্লিষ্ট হাদীছসমূহের বর্ণনাকারিদের মধ্যে অনেক বড় বড় ( এক ডজনের মত ) সাহাবাও রয়েছেন। যাদের কয়েকজনের পবিত্র নাম নিম্নে প্রদত্ত হলোঃ



ক) হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রঃ)

খ) হযরত আলী (রঃ)

গ) হযরত আয়েশা (রঃ)

ঘ) হযরত আবু হুরায়রা (রঃ)

ঙ) হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আ’মর (রঃ)

চ) হযরত আবু মুসা আশআরী (রঃ)

ছ) হযরত আউফ ইবনু মালিক (রঃ)

জ) হযরত মুআয ইবনু জাবাল (রঃ)

ঝ) হযরত আবু ছালাবাহ আল খুসানী (রঃ)

ঞ) কাছীর ইবনে মুররা আল হাজরমী (রঃ)



শবে বরাত ও তাবেয়ীঃ



শামের বিশিষ্ট তাবেয়ী যেমনঃ



ক) হযরত খালেদ ইবনে মা'দান (রহঃ)

খ) ইমাম মাকহূল (রহঃ)

গ) লোকমান ইবনে আমের (রহঃ)



প্রমূখ উচ্চমর্যাদাশীল তাবেয়ীগণ শা'বানের পনেরতম রজনীকে অত্যন্ত মর্যাদার দৃষ্টিতে দেখতেন এবং এতে খুব বেশী বেশী ইবাদত ও বান্দেগীতে মগ্ন থাকতেন বলে গ্রহণযোগ্য মত পাওয়া যায়।



শবে বরাত ও সিহাহ সিত্তাহঃ

সিহাহ সিত্তারই দুটি কিতাব - তিরমিযী শরীফ ও সুনানে ইবনে মাজাহতে শুধু যে শবে বরাত এর ফজীলত সম্পর্কিত হাদীস বর্ণিত আছে তা নয়, বরং ইমাম তিরমিযী (রহঃ) তাঁর তিরমিযী শরীফে এবং ইমাম নাসাঈ (রহঃ) তাঁর সুনানে পনের শাবানের ফজীলত নিয়ে আলাদা বাব বা অধ্যায়ই লিখেছেন।



শবে বরাত ও অন্যান্য বিখ্যাত মুহাদ্দিস গনের হাদীছগ্রন্থঃ



সিহাহ সিত্তার বাইরেও অনেক ইমামগণ তাদের জগতবিখ্যাত বড় বড় হাদীসগ্রন্থে শবে বরাত ও তার ফজীলত নিয়ে হাদীস বর্ণনা করেছেন। যেমনঃ



১। ইমাম তাবরানী রচিত "আল কাবীর" এবং "আল আওসাত"

২। ইমাম ইবনে হিব্বান রচিত "সহীহ ইবনে হিব্বান"

৩। ইমাম বায়হাকী রচিত "শুআবুল ঈমান"

৪। হাফেয আবু নুআইম রচিত "হিলয়া"

৫। হাফেয হায়ছামী রচিত "মাজমাউয যাওয়ায়েদ"

৬। ইমাম বাযযার তাঁর "মুসনাদ" এ

৭। হাফিয যকী উদ্দীন আল মুনযিরী রচিত "আততারগীব ওয়াত-তারহীব"

৮। ইমাম আহমদ তাঁর "মুসনাদ" এ

৯। মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা

১০। হাফেয আব্দুর রাজ্জাক এর "মুসান্নাফ" এ



আমরা শবে বরাতের ফজীলত সম্পর্কিত বহু হাদীস দেখতে পাই।



শবে বরাত ও কিতাবঃ



মুসলিম বিশ্বের মহামনীষীগণ কুরআন করীমের নির্ভরযোগ্য তাফসীরগ্রন্থ, হাদীছের ব্যাখ্যাগ্রন্থ এবং প্রায় বড় বড় আলেম নিজেদের রচিত কিতাবাদীতে কেউ সংক্ষেপিত আকারে কেউ বা সবিস্তারে শবেবরাতের ফজীলত ও গুরুত্ব সম্পর্কে লিপিবদ্ধ করে গেছেন। তাঁরা যেমন শবেবরাতে করণীয় ও বর্জনীয় দিকসমূহ আপন আপন গ্রন্থে লেখেছেন তেমনি বাস্তব জীবনে রাতটিকে কিভাবে চর্চায় আনা হবে তার নমুনা দেখিয়ে গেছেন।



যেমনঃ



ক) পাঁচশত হিজরীর ইমাম গাযালী (রহঃ) রচিত এহইয়াউ উলুমিদ্দীন ( الدين علوم احياء )

খ) ৬০০ হিজরীর প্রারম্ভে হযরত বড়পীর আব্দুল ক্বাদের জ্বীলানী (রহঃ) এর গুনিয়াতুত তালেবীন

( الطالبين غنية )

গ) ৭০০ হিজরীর ইমাম মুহাম্মদ আল জাযারী (রহঃ) এর আদদোয়াউ ওয়াস সালাত ফী যওইল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ ( والسنة القرآن ضوء فى والصلوة الدعاء )

ঘ) ৭০০ হিজরীর ইমাম আবু জাকারিয়া ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে শারফুদ্দীন নববী (রহঃ) এর রিয়াজুস সালেহীন

( الصالحين رياض )

ঙ) এগারশত হিজরীর শায়েখ আব্দুল হক্ব মুহাদ্দিসে দেহলভী (রহঃ) এর মা ছাবাতা বিস সিন্নাহ ( بالسنة ثبت ما)

চ) তেরশত হিজরীর মাওলানা কারামত আলী জৌনপুরী রচিত মিফতাহুল জান্নাহ ( الجنة مفتاح )

ছ) চৌদ্দশত হিজরীর হযরত আশরাফ আলী থানভী এর ওয়াজ ও তাবলীগ ( وتبليغ وعظ )

জ) মুফতী আজম মুফতী মোহাম্মদ শফী এর হাকীকতে শবেবরাত ( براءت شب حقيقت )

ঝ) তাঁরই সন্তান আল্লামা মুফতী মুহাম্মদ তাকী উছমানীর শবেবরাত ( براءت شب )

ঞ) মুফতী মীযানুর রহমান সাঈদ এর কুরআন-হাদীছের আলোকে শবেবরাত (গবেষণামূলক একটি অনবদ্য রচনা)