হোসাইনী দুলহা | ইসলামী বিশ্বকোষ ও আল-হাদিস

হোসাইনী দুলহা

🖋আমীরে আহলে সুন্নাত হযরত মাওলানা ইলয়াস আত্তার কাদেরী রযভী


প্রিয় ইসলামী ভাইয়েরা! বিগত দিনগুলোতে আমরা তো কারবালার মহান শহীদদের স্মৃতিচারণ করেছি। আসুন! আমি আপনাদেরকে কারবালার হোসাইনী দুল্‌হার হৃদয়-বিদারক করুন ঘটনা শোনাই। যেমন; 


ইমাম নঈম উদ্দীন মুবাদাবাদী (রহ.)-এর ‘সাওয়ানিহে কারবালা’


সদরুল আফাযিল হযরত আল্লামা মাওলানা সায়্যিদ মুহাম্মদ নঈম উদ্দীন মুবাদাবাদী رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ প্রসিদ্ধ গ্রন্থ ‘সাওয়ানিহে কারবালায়’ উল্লেখ করেছেন : হোসাইনী দুল্‌হা সায়্যিদুনা হযরত ওহাব ইবনে আবদুল্লাহ কালবী رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ বনী কল্‌ব গোত্রের একজন সদাচারী ও চরিত্রবান যুবক ছিলেন। তারুণ্য, উচ্ছ্বলতা ও যৌবনকাল ছিল তার। বিয়ে করেছেন মাত্র সতের দিন হল। তখনও যৌবনের তারুণ্যঘন যুগল-জীবনের পূর্ণ স্বাদে বিভোর ছিলেন। এমতাবস্থায় শ্রদ্ধেয় আম্মাজান এসে উপস্থিত হলেন। তিনি ছিলেন বিধবা। যার একমাত্র অবলম্বন ও ঘরের উজ্জল প্রদিপ ছিলেন এই একটি মাত্র পুত্র সন্তানই। স্নেহময়ী মা কান্না জুড়ে দিলেন। পুত্র আশ্চর্য হয়ে মাকে জিজ্ঞাসা করল: প্রাণপ্রিয় মা! আপনি কান্না করছেন কেন? আমার মনে পড়ছে না যে, জীবনে কখনো আপনার অবাধ্য হয়েছি, আগামীতেও আমি এমন হতে পারি না। আপনার আনুগত্য ও মান্যতা আমার জন্য ফরয। আমি সারা জীবন আপনার অনুগত হয়েই থাকব। মা! আপনার মনে কিসের দুঃখ? কোন দুঃখে আপনি কাঁদছেন? হে আমার প্রিয় মা! আমি আপনার আদেশে নিজের জীবনও উৎসর্গ করতে রাজি আছি। আপনি চিন্তিত হবেন না।


একমাত্র সন্তানের এমন ভাবপূর্ণ কথা শুনে মায়ের কান্না আরও বেড়ে গেল। কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন: প্রাণপ্রিয় সন্তান আমার! তুমি আমার চোখের জ্যোতি, হৃদয়ের প্রশান্তি। হে আমার ঘরের উজ্জল প্রদীপ! হে আমার বাগানের সুবাসিত ফুল! আমার অক্লান্ত পরিশ্রমে তুমি আজ যুবক হয়েছ। তুমিই আমার হৃদয়ের প্রশান্তি, মনের প্রবোধ। এক মূহুর্তকাল তোমাকে না দেখে আমি থাকতে পারি না।


চু দর খাব বাশম তুঈ দর খেয়ালম,

চু বেদার গরদম তুঈ দর জমীরম।


(অর্থাৎ, আমার শয়নে-স্বপণে কেবল তোমারই চিন্তা, তোমারই ভাবনা। জাগরণেও আমার হৃদয়ে একমাত্র তুমিই তুমি)। 


হে আমার জান! আমি তোমাকে আমার কলিজার রক্ত পান করিয়েছি। আজ, এখনি কারবালার প্রান্তরে আল্লাহ তা’আলার প্রিয়পাত্র রাসুলের দৌহিত্র, মুশকিলকুশার প্রাণপ্রিয় সন্তান, খাতুনে জান্নাতের নয়নের মণি, সুন্দর চরিত্রের বিরল আদর্শ, জুলম-অত্যাচারের শিকার হয়ে আছেন। হে আমার সন্তান! তুমি কি পার তোমার প্রাণ তাঁর পবিত্র কদমে উৎসর্গ করতে? এমন মানবতাহীন জীবনের উপর হাজারো ধিক্কার, আমরা বেঁচে থাকব, অথচ; সুলতানে মদীনা মুনাওয়ারা, শাহেনশাহে মক্কা মুকাররমা صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর দৌহিত্র শাহজাদাকে অত্যাচারের নিপীড়নে শহীদ করে দেওয়া হবে! আমার ভালবাসার কিছুও যদি তোমার মনে থাকে, আর তোমাকে লালন-পালনে যে কষ্ট আমি সহ্য করেছি তা যদি তুমি ভুলে না যাও, তবে হে আমার বাগানের সুবাসিত ফুল! তুমি প্রিয় হোসাইন رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ এর জন্য উৎসর্গ হয়ে যাও।


হযরত সায়্যিদুনা ওয়াহাব رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ আরজ করেন:  হে আমার প্রাণপ্রিয় মা! সৌভাগ্যের বিষয় হবে যদি আমার এ প্রাণ শাহজাদা হোসাইন رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ এর জন্য উৎসর্গ হয়, তাই আমিও মনে প্রাণে প্রস্তুত। আমি আপনার কাছে একটি মুহুর্তের জন্য অনুমতি চাই, আমার সেই স্ত্রীর সাথে একটু কথা বলার জন্য, যে তার সারাটা জীবনের সমস্ত আশা-ভরসা ও আরাম-আয়েশের দায়িত্ব আমার উপর ছেড়ে দিয়েছে। যার ইচ্ছা এই যে, আমি ব্যতীত সে অন্য কারো দিকে চোখ তুলে তাকাবে না। সে যদি চায়, তাহলে আমি তাকে অনুমতি দিয়ে দেব যে, সে তার জীবনকে যেভাবে চায় সেভাবে অতিবাহিত করতে পারবে। মা বললেন: হে আমার বৎস! মেয়ে লোকেরা বুদ্ধি-বিবেচনায় অসম্পূর্ণ হয়ে থাকে। আল্লাহ্ না করুন, তুমি যদি তার ধোকায় পড়ে যাও, তাহলে তো এত বড় সৌভাগ্য তোমার হাতছাড়া হয়ে যাবে।


সায়্যিদুনা হযরত ওয়াহাব ইবনে আবদুল্লাহ رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ আরজ করলেন: প্রিয় মা আমার! আমার হৃদয়ে ইমাম হোসাইন رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ এর ভালবাসার গিট এতই শক্তভাবে লেগে আছে যে, সেটি কেউ খুলতে পারবে না। আর তাঁর জন্য প্রাণ উৎসর্গ করা আমার মনের মাঝে এভাবে খুদিত হয়ে আছে, যা দুনিয়ার কোন পানি দিয়েও মুছে ফেলতে পারবে না। এ কথা বলে তিনি স্ত্রীর নিকট গেলেন। আর তাকে সংবাদ দিল যে, রাসুলের বংশ, ফাতেমার নয়ন মণি, মওলা আলীর পুষ্পকাননের সুবাসিত এক ফুল কারবালার ময়দানে খুবই শোচনীয়, বড়ই চিন্তাগ্রস্ত এবং অত্যন্ত করুণ অবস্থার শিকার। গাদ্দারেরা তাঁর উপর আক্রমণ চালাচ্ছে। আমার ইচ্ছা যে, তাঁর জন্য আমার জীবন উৎসর্গ করে দিই। স্বামীর এ কথা শুনে নববধু অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ের বহিঃপ্রকাশ স্বরূপ একটি অন্তর কাপাঁনো ব্যথাভরা নিশ্বাস ফেলল। আর বলল: হে আমার মাথার মুকুট! আফসোস যে, আমি নিজেও আপনার সাথে যুদ্ধে অংশ নিতে পারছি না। ইসলামী শরীয়ত মহিলাদেরকে জিহাদের ময়দানে যাবার অনুমতি দেয়নি। আহ্! এমন একটি সৌভাগ্য আমি অর্জন করতে পারছি না যে, আপনার সাথে আমিও জিহাদের ময়দানে গিয়ে দুশমনদের বিরুদ্ধে লড়াই করে ইমামে আলী মাকাম رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ এর জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করি।

سُبْحٰنَ اللهِ عَزَّوَجَل! আপনি তো জান্নাতের পুস্পিত বাগানের ইচ্ছা পোষণ করে নিয়েছেন। সেখানে হুরেরা আপনার সেবা করার জন্য অপেক্ষায় থাকবে। ব্যাস; শুধু আমাকে এ দয়াটুকু করুন, যখন আহলে বায়তের সর্দারগণের সাথে জান্নাতে আপনার জন্য জান্নাতী নেয়ামতগুলো পরিবেশন করা হবে, আর জান্নাতের হুরেরা আপনার সেবায় নিয়োজিত থাকবে, সে সময় আপনি আমাকেও সাথে রাখবেন। হোসাইনী দুল্‌হা এই নেক নববধুসহ নিজের পরম শ্রদ্ধেয় আম্মাজানকে নিয়ে রাসুলের দৌহিত্রের নিকট গিয়ে পৌঁছান। নববধু নিবেদন করল: হে রাসুলের বংশধর! শহীদরা ঘোড়া হতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ার সাথে সাথেই হুরদের কোলে পৌছে যায়। আর জান্নাতের হুর ও গিলমানরা আনুগত্য সহকারে তাঁদের সেবায় নিয়োজিত হয়ে যায়। ‘এ অধম’ হুজুরের দরবারে আমার জীবন উৎসর্গ করে দিতে চাই। আমি খুবই নিঃস্ব। আমার এমন কোন আত্মীয়-স্বজনও নেই, যে আমার দায়ভার গ্রহণ করে। আমার আবেদন যে, হাশরের দিন আমার স্বামী যেন আমার থেকে পৃথক না হয়, আর পৃথিবীতেও যেন আমি নিঃস্বকে আপনার আহলে বাইতগণ নিজেদের দাসী হিসাবে গ্রহণ করে নেয়, আর আমার সারা জীবনটা যেন আপনার পবিত্র বিবিগণের رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُنَّ খেদমত করে কাটিয়ে দিতে পারি।


ইমাম আলী মকাম (রা.)'র সামনে অঙ্গীকার


হযরত ইমাম আলী মকাম رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْه এর সামনে এ সব অঙ্গীকার হয়ে যায়। এদিকে সায়্যিদুনা ওয়াহাবও رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ আবেদন করলেন: হে ইমামে আলী মকাম رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْه! যদি হুজুর তাজেদারে রিসালত صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর সুপারিশ পেয়ে আমি জান্নাত পেয়ে যাই, তখন আমি আরজ করব: হে আল্লাহর রাসুল صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم! আমার স্ত্রীও আমার সাথে থাকবে। হোসাইনী দুল্‌হা সায়্যিদুনা ওয়াহাব رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ ইমাম আলী মকামের رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْه কাছে অনুমতি নিয়ে যুদ্ধের ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়লেন। এ অবস্থা দেখে শত্রুপক্ষের সৈন্যদের কাঁপুনি শুরু হয়ে যায় যে, এক চন্দ্রমুখী রাজবাহাদুর নির্ভীক অপরিণামদর্শীর মত সৈন্যদের দিকে অগ্রসর হতে চলেছে। হাতে বল্লম, বুকে বর্ম, কোলে ঢাল। অন্তর কাঁপানো আওয়াজের সাথে এই শেরগুলো পড়তে লাগলেন :  اَمِيْرٌ حُسَيْنٌ وَنِعْمَ الْاَمِيْر لَهٗ لَمْعَةٌ كَالسِّراجِ المُنِيْر (হযরত হোসাইন رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْه হচ্ছেন আমীর, অত্যন্ত উত্তম আমীর। তাঁর এমন চমক রয়েছে যা আলোকোজ্জ্বল প্রদীপের মত)।


‘বরকে খাতেফ’ অর্থাৎ চোখ ধাঁধানো বিজলীর মত তিনি ময়দানে এসে উপস্থিত হন। বীরপ্রতীক এই সেনাবাহাদুর ঘোড়ার উপর চড়ে সামরিক মহড়া দেখালেন। শত্রুপক্ষের লোকদের আহ্বান জানালেন। যে-ই সামনে এল তলোয়ার দিয়ে মাথা উড়িয়ে দিলেন। ডানে-বামে-সামনে-পিছনে শত্রুদের কাটা মাথায় পরিপূর্ণ হয়ে গেল। অপদার্থদের রক্তাক্ত শরীরগুলো মাটিতে ধড়পড় করতে দেখা যাচ্ছিল। একটিবারের মত ঘোড়ার লাগাম টানলেন আর মায়ের কাছে এসে আবেদন করলেন: হে আমার মা! এখন কি তুমি আমার উপর রাজি হয়েছো! অতঃপর বধুর কাছে গেলেন। সে অঝোর নয়নে কাঁদছিলেন, তাঁকে ধৈর্য ধারণের উপদেশ দিলেন। এমন সময় শত্রুপক্ষ হতে আওয়াজ ভেসে এল: هَلْ مِنْ مُّبَارِز؟ অর্থাৎ “মোকাবেলা করার কেউ আছো?” সায়্যিদুনা ওয়াহাব رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ ঘোড়ায় সওয়ার হয়ে ময়দানের দিকে ছুটে চললেন। নববধু অপলক দৃষ্টিতে স্বামীর ছুটে চলা দেখতে রইলেন আর দু চোখে পানির বন্যা বইতে লাগল।


ক্ষুব্ধ বাঘের মত উদ্যত তরবারি ও প্রাণহরা বল্লম হাতে


ক্ষুব্ধ বাঘের মত উদ্যত তরবারি ও প্রাণহরা বল্লম হাতে রণক্ষেত্রে দ্রুত গতিতে এসে পৌঁছান । তখন ময়দানে শত্রুপক্ষ হতে একজন নামকরা বাহাদুর হাকম বিন তোফাইল, যে সৌর্যবীর্য প্রদর্শনে দাম্ভিক ভাবে রণক্ষেত্রে টহল দিচ্ছিল, হযরত সায়্যিদুনা ওয়াহাব رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ প্রথম আক্রমণেই তাকে বল্লমবিদ্ধ করে এমনভাবে মাটিতে আছাড় দিলেন যে, তার সব হাড়গোড় ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেল। এতে উভয় পক্ষে গুঞ্জন শুরু হয়ে গেল। শত্রুপক্ষে সম্মুখযুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়ার মত আর কেউ রইল না। সায়্যিদুনা ওয়াহাব رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ ঘোড়া দৌঁড়িয়ে দুশমনদের ভেতর ঢুকে পড়েন। যেই মুকাবালা করার জন্য সামনে আসতো, তাকে বল্লমের আগায় বিদ্ধ করে মাটিতে লুটিয়ে দিতেন। এক পর্যায়ে বল্লম টুকরো টুকরো হয়ে যায়। এরপর খাপ থেকে তরবারি বের করে শত্রুদের গর্দন উড়িয়ে দিতে থাকেন। শত্রুরা যখন যুদ্ধে একের পর এক সৈন্য হারাতে লাগল, তখন আমর বিন সা’আদ সৈন্যদের নির্দেশ দিল, ঐ যুবক যোদ্ধাকে চারপাশ থেকে ঘিরে আক্রমণ করার ও একই সাথে আঘাত করার। সুতরাং তারা তাই করল। হোসাইনী দুল্‌হা যখন চতুর্দিক হতে আক্রমণের শিকার হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন কপট-হৃদয়ের জালিমরা তাঁর মস্তক মোবারক কর্তন করে হুসাইনী সৈন্যদের দিকে নিক্ষেপ করল। মা আপন কলিজার টুকরার পবিত্র মস্তকটিকে চুমুয় চুমুয় ভরে দিল আর বলতে লাগলেন: হে আমার পুত্র! হে আমার বাহাদুর বৎস! এবার তোমার মা তোমার উপর সন্তুষ্ট। তারপর পবিত্র মস্তকটি তিনি পুত্রবধুর কোলে সমর্পন করলেন। নববধু একটি ঝাঁকুনি দিয়ে উঠেন। এমন সময় পতঙ্গের ন্যায় এই সুন্দর ফানুসের উপর পড়ে হোসাইনী দুল্‌হার সাথে তাঁর প্রাণ একাত্ম হয়ে যায় ।


সুরখুরোঈ উসে কেহ্তে হেঁ কেহ্ রাহে হক মেঁ

সর কে দেনে মেঁ যরা তো নে তাআম্মুল না কিয়া।


(অর্থাৎ, আল্লাহ্ তা’আলা আপনাদেরকে জান্নাতুল ফিরদৌসে স্থান দান করুন। আর রহমত ও সন্তুষ্টির সমুদ্রে অবগাহন করুন)।  (সাওয়ানিহে কারবালা হতে সংকলিত, ১৪১ হতে ১৪৬, মাকতাবাতুল মাদীনা বাবুল মাদীনা করাচী)


আহলে বাইতের ভালবাসা আর শহীদ হওয়ার আগ্রহ


প্রিয় ইসলামী ভাইয়েরা! দেখলেন তো! পবিত্র আহলে বাইতের ভালবাসা আর শহীদ হওয়ার আগ্রহও যে কত মহান নেয়ামত। মাত্র সতের দিনের দুল্‌হা রণক্ষেত্রে শত্রুপক্ষের সাথে একা যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়ে প্রাণ দিয়ে আসেন। আর শাহাদাতের অমৃত সুধা পান করে জান্নাতের হকদার হয়ে যান। হোসাইনী দুল্‌হার পরম শ্রদ্ধেয় আম্মাজান এবং সদ্য বিয়ে করা নববধুর উপরও হাজারো কোটি সালাম। কী ধরনের উচ্চাকাঙ্খার সাথে নিজের সন্তানকে এবং বধু তার স্বামীকে ইমামে আলী মকাম, ইমামে আরশে মকাম, ইমামে হুমাম, সায়্যিদুশ শুহাদা ইমাম হোসাইন رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْه এর পবিত্র কদম-যুগলে কুরবান হয়ে যেতে দেখলেন। এমন মহান মর্যাদাসম্পন্ন দুই খাতুনের ইসলামী জযবার বিন্দু পরিমাণও যদি আমাদের মায়েদের এবং বোনদেরও নসীব হত। তারাও যদি নিজের সন্তানদেরকে দ্বীন ইসলামের খাতিরে উৎসর্গ করার জন্য পেশ করত এবং তাদেরকে সুন্নতের অনুসরণের অনুপ্রেরণা দিয়ে আশিকানে রাসূলদের সাথে মাদানী কাফিলায় সফরের জন্য প্রেরণ করত।


লুটনে রহমতেঁ কাফেলে মেঁ চলো, সীখনে সুন্নতেঁ কাফেলে মেঁ চলো

হোঙ্গী হল মুশকিলেঁ কাফেলে মেঁ চলো, খতম হোঁ শামতেঁ কাফেলে মেঁ চলো।

صَلُّوا عَلَى الحَبِيب ! صَلَّى اللهُ تَعَالَى عَلى مُحَمَّد 


হায়! আমি যদি বোবা হতাম


আমীরুল মুমিনীন হযরত সায়্যিদুনা সিদ্দিকে আকবর رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ নিশ্চিত জান্নাতী হওয়া সত্ত্বেও জিহ্বার আপদকে অত্যাধিক ভয় করতেন। যেমন তিনি বলতেন: হায়! আমি যদি বোবা হতাম, শুধু আল্লাহ্ তা’আলার যিকির করা পর্যন্ত কথা বলার শক্তি অর্জিত হত। (মিরকাতুল মাফাতীহ্, খন্ড-১, পৃষ্ঠা-৮৭)


তিন সাহসী ভাই (একটি অসাধারণ ইসলামীক সত্য ঘটনা)


হযরত আল্লামা আবুল ফারাজ আবদুর রহমান বিন জওযী رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ উয়ূনুল হিকায়াতে বর্ণনা করেন: সিরিয়ার তিনজন ঘোড়সওয়ার সাহসী যুবক ভাই ইসলামী সৈন্যদের সাথে জিহাদে রওয়ানা হন। কিন্তু তাঁরা সৈন্যদের থেকে আলাদা হয়ে চলতেন। যতক্ষণ পর্যন্ত কাফেররা প্রথমে আক্রমণ না চালাত তাঁরা যুদ্ধে লিপ্ত হতেন না। একবার রোমদের একটি বড় সৈন্যদল মুসলমানদের উপর আক্রমণ চালাল এবং বেশ কিছু মুসলমানদের শহীদ করল ও অনেককে বন্দী করে ফেলল। তিন ভাই নিজেদের মধ্যে বলাবলি করলেন, মুসলমানদের উপর একটি বড় মুসিবত নাযিল হয়েছে, আমাদের উচিত নিজেদের জীবন বাজি রেখে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়া। এ উদ্দেশ্যে তাঁরা সামনে অগ্রসর হলেন আর প্রাণে বেঁচে যাওয়া অবশিষ্ট মুসলমানদের বললেন: আপনারা আমাদের পিছনে চলে যান। এবং আমাদেরকে তাদের সাথে যুদ্ধ করতে দিন। আল্লাহ্ চাইলে আমরাই আপনাদের জন্য যথেষ্ট। অতঃপর তাঁরা রোম সৈন্যদের উপর এমন আক্রমণ চালাল যে, রোম সৈন্যরা পিছু হটতে বাধ্য হল। রোম সম্রাট (তিন যুবক ভাইয়ের বাহাদুরী অবলোকন করছিল) নিজের একজন সেনাপতিকে বলল: যে ব্যক্তি এই তিনজন ভাইদের মধ্য হতে যে কোন একজনকে গ্রেফতার করে আনতে পারবে, আমি তাকে আমার নিকটতম পদ দান করব আর সেনাপতি নিয়োজিত করব। রোম সৈন্যরা এই ঘোষণা শোনার সাথে সাথে প্রচন্ড লড়াইয়ে নিয়োজিত হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত তিন ভাইকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হল। রোম সম্রাট বলল: এই তিনজনকে গ্রেফতার করতে পারাই আমাদের জন্য সব চেয়ে বড় বিজয়। অতঃপর সে সেনাবাহিনীকে ফিরে আসার আদেশ দিল আর এ তিন ভাইকে নিজের সাথে রাজধানী কস্তান্তানিয়ায় নিয়ে আসল। এসে বলল: তোমরা যদি ইসলাম পরিত্যাগ কর, তা হলে আমি আমার কন্যাদের সাথে তোমাদের বিয়ে দিব আর ভবিষ্যৎ সাম্রাজ্যও তোমাদের হাতে ন্যস্ত করব। তিন ভাই ঈমানের উপর অবিচলতা প্রদর্শনপূর্বক তার এই প্রস্তাবনাকে নস্যাৎ করে দিল। তাঁরা সরকারে মদীনা, নবী করীম صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم কে আহ্বান করলেন। তাঁর صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করলেন। সম্রাট তার সভাসদের কাছে জিজ্ঞাসা করল: এরা কী বলছেন? সভাসদগণ জবাবে বলল: এঁরা তাঁদের নবীকে ডাকছেন। সম্রাট তিন সহোদরকে বলল: তোমরা যদি আমার কথা অমান্য কর, তা হলে আমি তিনটি কড়াইতে তেল গরম করে তোমাদের তিনজনকেই এক এক করে ঢেলে দেব।


এরপর সে তেলসহ তিনটি কড়াইয়ের নিচে তিন দিন ধরে আগুন জ্বালাবার আদেশ দিল। প্রতিদিন তিন ভাইকে সেই কড়াইর পাশ দিয়ে নিয়ে যাওয়া হত। আর সম্রাট তার প্রস্তাব বরাবরই তাঁদের কাছে পেশ করতে থাকত যে, ইসলাম ছেড়ে দাও। তা হলে আমার কন্যার সাথে তোমাদের বিয়ে দিব। আর ভবিষ্যৎ সাম্রাজ্যও তোমাদের হাতে ন্যস্ত করব। তিন সহোদর বরাবরই ঈমানের উপর অটল থাকেন এবং সম্রাটের এই প্রস্তাব প্রতি বারই অগ্রাহ্য করতে থাকেন। তিন দিন পর সম্রাট বড় ভাইকে ডাকল এবং নিজের প্রস্তাব পুনরায় বলল, মর্দে মুজাহিদ সম্রাটের প্রস্তাব নাকচ করে দিলেন। সম্রাট ধমক দিয়ে বলল: আমি তোমাকে এই গরম তেলের মধ্যে ফেলব। কিন্তু তিনি আবারও অস্বীকার করলেন। শেষে সম্রাট ক্ষুদ্ধ হয়ে তাঁকে কড়াইর মধ্যে ফেলার আদেশ দিল। সাথে সাথে যুবকটিকে তেলে ফেলে দেওয়া হল। এক পলকেই তাঁর সব মাংস গলে গেল আর হাঁড়গোড় সব উপরে চলে এল। সম্রাট অপর ভাইকেও একইরূপ করল। তাঁকেও টগবগ করা ফুটন্ত তেলে নিক্ষেপ করল। সম্রাট যখন এমন করুন পরিস্থিতিতেও ইসলামের উপর তাঁদের দৃঢ়চিত্ত ও অবিচলতা দেখল এবং কঠিন অগ্নিপরীক্ষাতে অটল দেখে, লজ্জিত হয়ে নিজেকে নিজে বলতে লাগল: আমি এদের (মুসলমানদের) চেয়ে অধিক সাহসী আর কাউকে কখনও দেখিনি। আমি তাঁদের প্রতি এ কী আচরণ করলাম। অত:পর সে ছোট ভাইকে নিয়ে আসার আদেশ দিল। তাঁকে নিজের পাশে এনে বিভিন্ন কৌশলে বিভ্রান্ত করতে চাইল। কিন্তু এই যুবক তার সেসব ধোকায় পড়লেন না। তাঁর অটলতা ও অবিচলতা পূর্ববৎ বহালই রইল। এমন সময় সভাসদদের কেউ বলে উঠল: হে রোম সম্রাট! আমি যদি তাকে ফাঁসাতে পারি, তা হলে পুরস্কার স্বরূপ আমাকে কী দেওয়া হবে? সম্রাট বলল: আমি তোমাকে আমার সেনা বাহিনীর প্রধান বানিয়ে দেব। লোকটি বলল: আমি রাজি আছি। সম্রাট জিজ্ঞাসা করল: তুমি তাঁকে কীভাবে ফাঁসাবে? লোকটি বলল: হে সম্রাট আপনি জানেন যে, আরববাসীরা নারীর প্রতি অনেক আসক্ত আর এ কথা সমস্ত রোম সম্প্রদায় জানে যে, আমার অমুক মেয়েটি সুন্দরে অদ্বিতীয়। সারা রোম সাম্রাজ্যে তার মত সুন্দরী মেয়ে আর একজন নেই। আপনি এই যুবকটিকে আমায় সোপর্দ করুন। তাঁকে আর আমার সেই মেয়েটিকে একাকীত্বে রাখব আর সে তাঁকে রাজি করতে সক্ষম হবে। সম্রাট লোকটিকে চল্লিশ দিনের সময় দিল আর যুবকটিকে তার হাতে তুলে দিল। যুবকটিকে সাথে নিয়ে লোকটি আপন কন্যার কাছে এল আরসমস্ত ব্যাপারটি খুলে বলল। মেয়েটি পিতার কথায় রাজি হয়ে কাজ করার জন্য তৈরি হয়ে গেল। যুবকটি সেই মেয়েটির সাথে একাকীত্বে এমনভাবে রইলেন যে, দিনে রোজা রাখত আর রাতে নফল নামাযে মশগুল থাকত। এক পর্যায়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা শেষ হতে চলল। বাদশাহ মেয়েটির পিতার কাছে যুবকটির অবস্থা জানতে চাইল। সে এসে আপন কন্যার কাছে জিজ্ঞাসা করল। মেয়েটি বলল: আমি তাঁকে ফাঁসাতে সক্ষম হইনি। তিনি আমার দিকে আসক্ত হচ্ছে না। হয়ত তার কারণ এ হতে পারে যে, তাঁর দুই দুইটি ভাইকে এই শহরে মেরে ফেলা হয়েছে। তাঁদের স্মরণই তাঁর মনোবেদনার একমাত্র কারণ হয়েছে, সুতরাং সম্রাট থেকে সময় আরও বাড়িয়ে নাও। আর আমাদের দুজনকে অন্য কোন শহরে পাঠিয়ে দাও। ঐ দরবারীটি সমস্ত বিষয় সম্রাটের কাছে পেশ করল। সম্রাট তাকে সময় আরও বাড়িয়ে দিল, আর তাদের উভয়কে অন্য শহরে পাঠিয়ে দেওয়ার আদেশ দিল। যুবকটি এখানে এসেও নিজের কাজে মশগুল রইলেন অর্থাৎ তিনি দিনে রোজা রাখতেন আর রাতে নফল নামাযে মশগুল থাকতেন। এক পর্যায়ে নির্দিষ্ট সময় শেষ হবার যখন আর মাত্র তিন দিন বাকি রইল, তখন মেয়েটি পাগলপারা ও অস্তির হয়ে যুবকটির নিকট আবেদন করল: আমি তোমার ধর্ম গ্রহণ করতে চাই। অতঃপর মেয়েটি মুসলমান হয়ে গেল আর তাঁরা এখান থেকে পালিয়ে যাবার পরিকল্পনা করলেন। মেয়েটি আস্তাবল থেকে দুটি ঘোড়া নিয়ে এল। সেগুলোতে সওয়ার হয়ে উভয়ে ইসলামী রাষ্ট্রের দিকে রওয়ানা হয়ে গেলেন। এক রাতে তাঁরা পেছন থেকে ঘোড়ার পায়ের শব্দ শুনতে পেলেন। মেয়েটি মনে করল, নিশ্চয় রোম সেনারা তাদের পিছু ধাওয়া করে কাছাকাছি এসে পৌঁছেছে। সে যুবকটিকে বলল: আপনি সেই রবের কাছে ফরিয়াদ করুন, যাঁর উপর আমি ঈমান এনেছি। তিনি যেন আমাদেরকে দুশমনের হাত থেকে রক্ষা করেন। যুবকটি পেছন ফিরে তাকাতেই হতবাক হয়ে গেলেন, তিনি দেখলেন তাঁর অপর দুই ভাই যাঁরা শহীদ হয়ে গেছেন, ফিরিশতাদের একটি দলের সাথে ঘোড়ায় সওয়ার আছেন। তিনি তাঁদেরকে সালাম করলেন, এরপর তাঁদের কাছে তাঁদের অবস্থা জানতে চান। তাঁরা উভয়ে বললেন: আমরা এক ডুবেই জান্নাতুল ফিরদৌসে পৌঁছে গিয়েছিলাম। আল্লাহ্ তা’আলা আমাদেরকে তোমাদের নিকট পাঠিয়েছেন। এরপর তাঁরা ফিরে গেলেন। যুবকটি মেয়েটিকে সাথে নিয়ে সিরিয়া রাজ্যে এসে পৌঁছান। আর তাঁর সাথে বিয়ে করে সেখানেই বসবাস করতে থাকেন। এই তিনজন সিরিয় সাহসী সহোদরের কাহিনী সিরিয়ায় আলোড়ন সৃষ্টি করে। তাঁদের শানে বিভিন্ন কবিতা রচিত হয়েছে। যার একটি লাইন আপনারাও শুনুন :

سَيُعْطِى الصَّادِقِيْنَ بِفَضْلِ صِدْقِ نَجَاةً فِى الحَيَاةِ وَفِى المَمَاتِ

অনুবাদ : অচিরেই আল্লাহ্ সত্যবাদীদেরকে সত্যের বরকতের কারণে জীবন-মরণে পরিত্রাণ দান করবেন। (উয়ূনুল হিকায়াত, পৃষ্ঠা : ১৯৭, ১৯৮, দারুল কুতুবিল ইলমিয়া বৈরুত)


আল্লাহ তা’আলার রহমত তাঁদের উপর বর্ষিত হোক। এবং তাঁদের সদকায় আমাদের ক্ষমা হোক।

اٰمِين بِجا  هِ  النَّبِىِّ الْاَمين صَلَّی اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم 

প্রিয় ইসলামী ভাইয়েরা! আপনারা দেখলেন তো! এই সিরিয় তিন সহোদর স্বীয় ঈমানে অটল থাকার কেমন নজির সৃষ্টি করলেন। তাঁদের হৃদয়ে ঈমান কী ধরনের স্থান লাভ করেছিল। এরা শুধু বলে বেড়ানো ইশকের দাবীদার ছিলেননা, সত্যিকার একনিষ্ঠ আশিকে রাসুল ছিলেন। দুই ভাই শাহাদাতের অমৃত সুধা পান করে জান্নাতুল ফিরদৌসের অবিনশ্বর নেয়ামতরাজির অধিকারী হয়ে যান। আর তৃতীয় জন রোমের সুন্দরীর প্রতি একটি বার দেখেনও নি, দিন রাত আল্লাহ তা’আলার ইবাদতে মশগুল ছিলেন। অথচ যে মেয়েটি তাঁকে শিকার করতে এসেছিল, স্বয়ং নিজেই বন্দী হয়ে গেল। ঘটনাটি থেকে এও জানা গেল যে, বিপদে আপদে সরকারে কায়েনাত, নবী করীম صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করা এবং ইয়া রাসূলাল্লাহ صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم বলে আহ্বান করা আহলে হকদের (সত্যপন্থীদের) একটি পুরনো রীতি।


ইয়া রাসূলাল্লাহ্ কে না‘রে সে হাম কো পেয়ার হে

জিস নে ইয়ে না‘রা লাগায়া উস কা বেড়া পার হে।


দুনিয়াবী আরাম-আয়েশ ত্যাগ করল


সিরিয় এই যুবকের সংকল্প, স্বাধীনচেতা মনোভাব এবং ঈমানের উপর অবিচলতায় মোবারকবাদ। একটু ভেবে দেখুনতো, চোখের সামনে দুই দুইটি প্রাণপ্রিয় ভাই শাহাদাতের অমৃত সুধা পান করে নেন, কিন্তু তাঁর অবিচল পদক্ষেপ একটুও সরেনি। না কোন হুমকি তাঁকে ভীত করতে পেরেছে, না বন্দী জীবনের দু:খ-কষ্ট তাঁকে নিজের সংকল্প থেকে বিচলিত করতে পেরেছে। সত্যনিষ্ঠ ও সত্যের এই ধারক বিভিন্ন আপদ-বিপদে সামান্য পরিমাণ ভয় পাননি। বালা মুসিবতের বিক্ষুব্ধ বাতাস তাঁর সুদৃঢ় মনোবলকে নাড়াতে পারে নি। আল্লাহ্ তা’আলা ও তা্রঁ রাসুল صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর প্রতি উৎসর্গের মনোভাব পার্থিব আপদগুলোকে মোটেও পরোয়া করেনি। বরং আল্লাহ্ তা’আলার রাস্তায় যুদ্ধ করতে গিয়ে আসা শত বাধাবিপত্তিকে তিনি সর্বান্তঃকরণে সাধুবাদ জানান। তাছাড়া পৃথিবীর ধন-দৌলত ও সৌন্দয্যের্র লালসাও তাঁর সংকল্প হতে তাঁকে বিচ্যুত করতে পারেনি। এই গাজী নওজোয়ান ইসলামের খাতিরে বিভিন্ন ভাবে পার্থিব আরাম-আয়েশকে ত্যাগ করেন।


ইয়ে গাজী ইয়ে তেরে পুর আসরার বন্দে,   জিনেঁ তো নে বখ্শা হে যওকে খোদাঈ

হে ঠোকর সে দো নীম সাহরা ও দরেয়া,    সিমট কর পাহাড় উন কি হাইবত সে রাঈ

দো আলম সে করতি হে বেগানা দিল কো,    আজব চিজ হে লজ্জতে আশনাঈ

শাহাদত হে মতলূব ও মকসূদে মুমিন,    না মালে গনিমত না কিশওয়র কশাঈ।


অবশেষে আল্লাহ্ তা’আলা রক্ষা পাওয়ারও বিভিন্ন উপায় তৈরি করে রেখেছেন। সেই রোম রমনীটি মুসলমান হয়ে গেল। আর উভয়ে শাদী মোবারকের মাধ্যমে যুগলজীবন লাভ করলেন। প্রিয় ইসলামী ভাইয়েরা! আপনারাও যদি উভয় জাহানে সফলতা লাভ করতে চান, তা হলে আশিকানে রাসুলদের সাথে মাদানী কাফেলাতে সুন্নত শিখার জন্য সফর করুন এবং প্রতিদিন ফিকরে মদীনার মাধ্যমে মাদানী ইনআমাতের রিসালা পূরণ করে প্রতি মাদানী মাসের প্রথম দশ দিনের মধ্যে নিজ এলাকার জিম্মাদারের নিকট জমা করানোর অভ্যাস গড়ে তুলুন।