ইমাম হাসান রদ্বিয়াল্লাহু আনহু এঁর বেলাদত দিবস | ইসলামী বিশ্বকোষ ও আল-হাদিস

১৫ ই রমজান। ইসলামের পঞ্চম খলিফা, আহলে বাইতের অন্যতম সদস্য, জান্নাতী যুবকদের সর্দার ইমাম হাসান রাঃ এঁর জন্ম দিবস।




আবূ হুরাইরা (রাঃ) বলেনঃ আমি নবী ﷺ এঁর সঙ্গে মদিনার কোন এক বাজারে ছিলাম। তিনি (বাজার থেকে) ফিরলেন। আমিও ফিরলাম। (ফাতিমা (রাঃ) এঁর ঘরের আঙিনায় বসে) তিনি বললেনঃ ছোট শিশুটি (খোকা) কোথায়? এ কথা তিনবার বললেন। হাসান ইবনু ‘আলীকে ডাক। দেখা গেল হাসান ইবনু ‘আলী হেঁটে চলেছে। তাঁর গলায় ছিল মালা। নবী ﷺ এভাবে তাঁর হাত উঠালেন। হাসানও এভাবে নিজের হাত উঠালো। তারপর তিনি তাঁকে জড়িয়ে ধরলেন এবং বললেন, হে আল্লাহ! আমি একে ভালবাসি, আপনিও তাকে ভালবাসুন এবং যে ব্যক্তি তাকে ভালবাসে, তাকেও আপনি ভালবাসুন। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ ﷺ এঁর এ কথা বলার পর থেকে হাসান ইবনু ‘আলীর চেয়ে অন্য কেউ আমার কাছে অধিকতর প্রিয় হয়নি। (সহীহ বুখারী ৫৮৮৪, ২১২২, সহীহ মুসলিম ৬১৫১)

উসামাহ্ ইবনু যাইদ (রাঃ) বলেন, এক রাতে আমার কোন দরকারে নবী ﷺ-এঁর কাছে গেলাম। অতএব নবী ﷺ এমন অবস্থায় বাইরে এলেন যে, একটা কিছু তার পিঠে জড়ানো ছিল যা আমি অবগত ছিলাম না। আমি আমার দরকার সেরে অবসর হয়ে প্রশ্ন করলাম, আপনার দেহের সঙ্গে জড়ানো এটা কি? তিনি পরিধেয় বস্ত্র উম্মুক্ত করলে দেখা গেল তার দুই কোলে হাসান ও হুসাইন (আলায়হিমাস সালাম)। তিনি বললেনঃ এরা দু’জন আমার পুত্র এবং আমার কন্যার পুত্র। হে আল্লাহ! আমি এদের দু’জনকে মুহাব্বাত করি। সুতরাং তুমি তাদেরকে মুহাব্বাত কর এবং যে ব্যক্তি এদেরকে মুহাব্বাত করবে, তুমি তাদেরকেও মুহাব্বাত কর। (সূনান আত তিরমিজী ৩৭৬৯)

একদিন আবূ বকর (রাঃ) আসরের নামাজ শেষে বের হয়ে চলতে লাগলেন। (পথিমধ্যে তিনি) হাসান (রাঃ) কে ছেলেদের সঙ্গে খেলা করতে দেখলেন। তখন তিনি তাঁকে কাঁধে তুলে নিলেন এবং বললেন, (আপনার উপর) আমার পিতা কুরবান হোন! ইনি তো (দেখতে) নবী ﷺ এঁর মত, আলী রা. এঁর মত নয়। তখন ‘আলী (রাঃ) হাসছিলেন। (সহীহ বুখারী ৩৫৪২)

আমিরুল মুমিনীন হযরত আবূ বকর (রাঃ) বলেন, আল্লাহর কসম! যাঁর কাছে আমার প্রাণ, আমার আত্মীয়দের সঙ্গে উত্তম আচরণ করার চেয়ে রাসূলুল্লাহ ﷺ এঁর আত্মীয়দের সঙ্গে উত্তম আচরণ করা আমি অধিক পছন্দ করি। (সহীহ বুখারী ৩৭১২)

সিদ্দিকে আকবর আবূ বকর (রাঃ) হুকুম করেন, মুহাম্মাদ ﷺ এঁর পরিবার পরিজনের (আহলে বাইত) প্রতি তোমরা অধিক সম্মান প্রদর্শন করবে।
(সহীহ বুখারী ৩৭১৩)

শুধু তা-ই নই, তিনি আরো বলেন, মুহাম্মাদ ﷺ এঁর সন্তুষ্টি, তাঁর পরিবারবর্গের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে অর্জন কর। (সহীহ বুখারী ৩৭৫১)

চতুর্থ খলিফা, জান্নাতী যুবকদের সর্দারদ্বয়ের সম্মানিত পিতা মাওলা আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ ﷺ হাসান ও হুসাইনের হাত ধরে বলেনঃ যে ব্যক্তি আমাকে ভালোবাসে এবং এ দু’জন ও তাদের পিতা-মাতাকে ভালোবাসে, সে কিয়ামতের দিন আমার সাথেই থাকবে। (সূনান আত তিরমিজী ৩৭৩৩)

সবচেয়ে অধিক সংখ্যক হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবী হযরত আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেনঃ যে ব্যক্তি হাসান ও হুসায়নকে ভালোবাসে, সে আমাকেই ভালোবাসে এবং যে ব্যক্তি তাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে সে আমার প্রতিই বিদ্বেষ পোষণ করে। (সূনান ইবনে মাজাহ ১৪৩)

আবূ বাকরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। (তিনি বলেন) আমি নবী ﷺ-কে মিম্বরের উপর বলতে শুনেছি, ঐ সময় হাসান (রাঃ) তাঁর পার্শ্বে ছিলেন। তিনি একবার উপস্থিত লোকদের দিকে আবার হাসান (রাঃ)-এঁর দিকে তাকালেন এবং বললেন, আমার এ সন্তান (নাতি) হচ্ছে সাইয়্যিদ (সর্দার)। আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁর মাধ্যমে বিবাদমান দু’দল মুসলমানের মধ্যে সমঝোতা করিয়ে দিবেন। (সহীহ বুখারী ৩৭৪৬, ৩৬২৯, ২৭০৪)

বিভিন্ন জায়গায় যখন আহলে বাইতের ভালবাসার কথা বলি, অনেকেই বলতে চায়, আরে নবী পরিবারের প্রতি কেউ বিদ্বেষ পোষণ করে নাকি!! তাদেরকে বলতে চাই,

আরে ভাই, আপনি এখনও আপনার নবীকেই চিনেননি!! আপনার নবী কখনো মনগড়া কথা বলেন না, সূরা নাজমে আল্লাহর ঘোষণা। আপনার নবীর ভবিষ্যদ্বাণী কখনো মিথ্যা হয় না। যদি কেউ বিদ্বেষ পোষণ না-ই করতো তাহলে তিনি কখনো বিদ্বেষ পোষণের কথা উল্লেখ করতেন না, কখনো সতর্ক করে বলতেন না যে,

তাদের ভালবাসা ব্যতিত অন্তরে ঈমান প্রবেশ করতে পারে না এবং কখনো বলতেন না যে, কোন ব্যক্তি রুকন ও মকামে ইব্রাহীমের মাঝখানে অবস্থান করে, অতঃপর (তাতে) নামাজ আদায় করে এবং রােজা রাখে, অতঃপর (এমতাবস্থায়) মারা গেল যে, সে মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এঁর পরিবার বর্গের (আহলে বাইত) সাথে হিংসা পােষণকারী, (তাহলে) সে জাহান্নামে প্রবেশ করল।

কখনো বলতেন না যে, যে ব্যক্তি আমার পরিবারবর্গ (বংশধর)ও আনসারদের অধিকার সম্পর্কে জানেনা সে নিশ্চয় তিনজনের একজন। ১. হয়ত সে মুনাফিক, ২. অথবা সে জারজ, ৩. অথবা সে নাপাকীর সন্তান; অর্থাৎ তার মা তাকে ঋতুকালীন (হায়েজ) অবস্থায় গর্ভধারণ করেছেন।

মাওলা আলী আঃ এঁর প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারীদেরকে মুনাফিক বলতেন না। আরে ভাই, আহলে বাইতকে আঁকড়ে ধরার কথা সহিহ হাদিসে আসার পরেও অস্বীকার করে যে, এমন নাসেবীদের দেখেন না!! মাওলা আলী রাঃ কে ইলমের শহরের দরজা বলা হয়েছে যে, এই হাদিস সহিহ সনদে আসার পরেও এটা জাল জয়ীফ শিয়াদের বানানো বলে উড়িয়ে দিতে চায় যে, এদেরকে দেখেন না!! সহিহ হাদিসে আলী রাঃ কে সমস্ত মুমিনদের মাওলা, ওয়ালি ঘোষণা করার পরও তাঁর নামের পূর্ব মাওলা ব্যবহার করলে শিয়া গন্ধ পায় এদেরকে দেখেন না!!