জিকির মাহফিলের আয়োজন করা | ইসলামী বিশ্বকোষ ও আল-হাদিস

জিকির  মাহফিলের আয়োজন    করা এতে   যোগদান ও জামাতবদ্ধ হয়ে জিকির করার বর্ণনা-  হাদিসসমুহঃ নং   ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৮, ৯, ১০, ১৪, ১৭, ১৮, ১৯

হাদিস নং- ১.
ইমাম  বুখারী   হযরত  আবু  হুরায়রা   রাদিয়াল্লাহু  আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন-

قال رسول الله صلى الله عليه  وسلم )يقول الله(  انا  عند ظن   عبدى  بى  وانا   معه   اذا   ذكرنى  فان   ذكرنى  فى  نفسه ذكرته  فى   نفسى  وان  ذكرنى   فى  ملا   ذكرته   فى    ملا   خير  منه-

অর্থ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, আল্লাহতায়ালা বলেন- আমার বান্দা আমাকে যেরূপ  মনে  করে  আমি  তদ্রূপই।   যখন   সে   আমাকে  স্মরণ   করে   তখন    আমি   তার   সঙ্গে    থাকি।   যদি   সে একাকী   তার   অন্তরে     আমাকে    স্মরণ   করে,      তাহলে আমিও     তাকে    একাকী    স্মরণ   করি।     আর   যদি    সে জামাতবদ্ধ   হয়ে   আমার  জিকির  করে  তাহলে   আমিও তাদের     জামাত   থেকে   উত্তম    জামাতে    তাকে    স্মরণ করি।
এ হাদিস বর্ণনার পর ইমাম  সুয়ুতি বলেন-  জামাতবদ্ধ হয়ে জিকির করা উচ্চ-স্বর ব্যতিত সম্ভব নয়।

হাদিস নং-২
ইমাম   বাযযার এবং ইমাম  হাকিম মুস্তাদরিক  কিতাবে হযরত      জাবির        রাদিয়াল্লাহু      আনহু       থেকে        বর্ণনা করেছেন। (ইমাম হাকিম ইহাকে সহিহ বলেছেন)

قال خرج علينا النبى  صلى الله عليه وسلم فقال يا ايها الناس ان الله سرايا  من   الملائكة تحل وتقف   على مجالس الذكر  فى  الارض   فارتعوا  فى     رياض  الجنة-     قالوا   واين رياض  الجنة؟  قال  مجالس  الذكر  فاغدوا  وروحوا  فى  ذكر  الله-

অর্থ:    হযরত   জাবির   রাদিয়াল্লাহু   আনহু   বলেন-    নবী করিম সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের   মধ্যে তাশরিফ     আনলেন।     অতঃপর    বললেন-    হে      মানব সম্প্রদায় নিশ্চয় আল্লাহর এমন   কিছু  ফিরিস্তা রয়েছেন   যারা পৃথিবীর  বিভিন্ন  স্থানে   ভ্রমণ করতে থাকেন  এবং জিকিরের  মাজলিসসমূহে   অংশগ্রহণ   করেন।    সুতরাং তোমরা জান্নাতের বাগানের ফল ভক্ষণ কর। সাহাবাগণ জিজ্ঞাসা করলেন  ‘জান্নাতের   বাগান কোথায়?   নবীজী বললেন- তা হলো জিকিরের মাজলিসসমূহ।
সুতরাং তোমরা সকাল সন্ধ্যা আল্লাহর জিকিরের দিকে  গমন কর।

হাদিস নং- ৩
ইমাম  মুসলিম  ও   ইমাম  হাকিম   হযরত  আবু  হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে  বর্ণনা করেছেন (তবে  এখানে হাদিসের   ইবারতটি   ইমাম    হাকিম   রাদিয়াল্লাহু  আনহু থেকে নেয়া হয়েছে)

قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ان لله ملائكة سيارة وفضلاء  يلتمسون  مجالس  الذكر  فى  الارض  فاذا  اتوا  على  مجلس ذكر حف  بعضهم بعضا باجنحتهم  الى السماء- فيقول الله   من   اين   جئتم؟   فيقولون   جئنا   من   عند     عبادك يسبحونك      ويكبرونك     ويحمدونك     ويهللونك      ويسألونك  ويستجيرونك-   فيقول   ما    يسألون     وهو   اعلم؟   فيقولون   يسئلونك الجنة-  فيقول وهل  رأوها؟ فيقولون لا  يا  رب- فيقول    فكيف  لو  رأوها؟  ثم   يقول  ومم  يستجيرونى  وهو اعلم   بهم   ؟    فيقولون    من      النار-   فيقول    وهل    رأوها فيقولون لا-  فيقول فكيف لو رأوها- ثم يقول اشهدوا انى قدغفرت لهم واعطيتهم ما سألونى واجرتهم مما استجارونى- فيقولون  ربنا  ان  فيهم  عبدا   خطاء  جلس  اليهم   وليس منهم فيقول  وهو ايضا قد غفرت له  هم القوم لا يشقى بهم جليسهم-

অর্থ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-  আল্লাহতায়ালার  কিছু বিশেষ ফিরিস্তা  রয়েছেন যারা    পৃথিবীর   বিভিন্ন   প্রান্তরে    ভ্রমণ   করে    জিকিরের মাজলিসসমূহ   অন্বেষণ    করতে   থাকেন।     যখন   তারা কোন  জিকিরের   মাজলিসে    এসে   উপস্থিত   হন   তখন একে অপরে ডানাসমূহ প্রসারিত করে আকাশের দিকে গমন   করেন।   তখন  আল্লাহ    জিজ্ঞাসা  করেন  তোমরা কোথা থেকে এসেছ? তারা বলেন- আমরা আপনার ঐ সমস্ত   বান্দাদের    কাছ   থেকে   এসেছি    যারা   আপনার তাসবিহ  পাঠ  করছে।  তাকবির   ধ্বনি   দিচ্ছে  আপনার প্রশসংসা     করছে    এবং    তাহলিল      তথা     ‘লা     ইলাহা ইল্লাল্লাহ’  এর  জিকির   করছে।  তারা  আপনার   কাছেই প্রার্থনা  করছে  এবং আপনারই   আশ্রয়  কামনা করছে।  তখন আল্লাহ  বলবেন- ‘তারা  কি প্রার্থনা করে? (যদিও আল্লাহ  সব কিছু   অবগত আছেন)  ফিরিস্তাগণ  বলবেন  ‘তারা  আপনার   কাছে  জান্নাত   প্রার্থনা   করে’।   আল্লাহ  বলবেন-     তারা     কি      জান্নাত      দেখেছে?     ফিরিস্তাগণ বলবেন  না।   হে  আমাদের প্রভু তারা জান্নাত দেখেনি। অতঃপর    আল্লাহ  বলবেন-   তারা   আমার  কাছে   কোন জিনিস থেকে আশ্রয় কামনা করে? (যদিও তিনি অধিক অবগত)   ফিরিস্তাগণ   বলবেন    ‘তারা   জাহান্নাম    থেকে আশ্রয়     প্রার্থনা     করে।     আল্লাহ     বলবেন-     তারা     কি  জাহান্নাম      দেখেছে?    ফিরিস্তাগণ    বলবেন    ‘না’    তারা জাহান্নাম      দেখেনি।      আল্লাহ      বলবেন-      যদি      তারা  জাহান্নাম  দেখতো  তাহলে কি হতো? অতঃপর  আল্লাহ বলবেন- তোমরা স্বাক্ষী থাক, আমি তাদেরকে মা করে দিলাম।  তারা যা  প্রার্থনা করে   তা  প্রদান  করলাম,  যা থেকে    আশ্রয়    চায়   তা     থেকে   আশ্রয়   দিলাম।   তখন ফিরিস্তাগণ  বলবেন-  হে   আমাদের  প্রভু    তাদের  মধ্যে এমন    ব্যক্তিও  রয়েছে   যে,   মস্ত   বড়  গুনাহগার।   সে  শুধুমাত্র  তাদের  সাথে  রয়েছে।  প্রকৃত  পে  সে  তাদের  অন্তর্গত নয়। তখন  আল্লাহ বলবেন- হ্যাঁ আমি  তাকেও মা   করে  দিলাম।  তারা    হচ্ছে  এমন  সম্প্রদায়  তাদের সাথে অংশগ্রহণকারী কেহই দূর্ভাগা হয় না।

হাদিস নং- ৪
ইমাম মুসলিম ও  ইমাম তিরমিজি হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু    আনহু     এবং    হযরত   আবু   সাঈদ   খুদরি   রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন-

قال   رسول الله صلى الله  عليه وسلم ما  من قوم يذكرون الله  الا حفتهم  الملائكة   وغشيتهم الرحمة  ونزلت عليهم السكينة وذكرهم الله فيمن عنده-

অর্থ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন যখন কোন সম্প্রদায় আল্লাহর জিকির করে তখন ফিরিস্তাগণ   তাদেরকে পরিবেষ্টন করে  রাখেন। তাদের প্রতি   রহমত   বর্ষিত হয়  এবং প্রশান্তি  নাজিল হয় এবং আল্লাহতায়ালা তাঁর  নিকটস্ত  ফিরিস্তাদের সাথে  তাদের আলোচনা করেন।
হাদিস নং-৫
ইমাম   মুসলিম   ও   ইমাম   তিরমিজি   হযরত   মুয়াবিয়া  রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন-

ان النبى صلى الله عليه وسلم خرج على حلقة من اصحابه فقال  ما   يجلسكم؟   قالوا جلسنا   نذكر الله ونحمده- فقال انه اتانى جبريل فخبرنى ان الله يباهى بكم الملائكة-

অর্থ:      নবী      করিম     সাল্লাল্লাহু     আলাইহি     ওয়াসাল্লাম সাহাবাদের   একটি  মাজলিসে   উপস্থিত  হয়ে   জিজ্ঞাসা  করলেন   ইহা   কিসের  মাহফিল?  সাহাবাগণ  বললেন-  আমরা    উক্ত    মাহফিলে   আল্লাহর   জিকির    এবং    তাঁর প্রশংসা  করছি।  তখন  নবীজী   বললেন-   আমার  কাছে জিব্রাইল   এসে   সংবাদ   দিয়েছেন   যে,   আল্লাহতায়ালা  তোমাদেরকে নিয়ে গর্ব করছেন।

হাদিস নং- ৮
ইমাম বায়হাকি হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন-

قال  رسول  الله  صلى  الله  عليه    وسلم  اذا   مررتم  برياض الجنة فارتعوا-  قالوا يا رسول  الله وما رياض الجنة؟ قال حلق الذكر-

অর্থ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন- যখন তোমরা জান্নাতের  বাগানেরপাশ দিয়ে গমন     কর    তখন     তার     ফল    ভণ      কর।    সাহাবাগণ বললেন- ইয়া রাসূলাল্লাহ ‘রিয়াদুল জান্নাহ’ কি? নবীজী বললেন- তা হলো জিকিরের মাহফিল।

হাদিস নং-৯
বাক্বী     বিন    মাখলাদ     হযরত       আব্দুল্লাহ    বিন    আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন-

ان     النبى    صلى    الله    عليه    وسلم     مر    بمجلسين    احد  المجلسين   يدعون   الله   ويرغبون   اليه   والاخر   يعلمون  العلم-   فقال    كلا   المجلسين   خير   واحدهما   افضل    من الاخر-

অর্থ:   নবী  করিম  সাল্লাল্লাহু  আলাইহি  ওয়াসাল্লাম   দুটি মাজলিসের    পাশ  দিয়ে  গমন  করলেন  তাদের  একটি  মাজলিসে  লোকজন  আল্লাহকে    ডাকতেছে   এবং  তাঁর কাছে  আবেদন করতেছে।  অপরটিতে লোকজন ইলম  তথা  কুরআন  হাদিসের  চর্চা   করতেছে।  তখন   নবীজী বললেন- উভয় মাজলিসটিই ভাল, তবে তাদের একটি  অপরটির চেয়ে উত্তম।

হাদিস নং-১০
ইমাম    বায়হাকী    হযরত      আব্দুল্লাহ    বিন      মুগাফফাল রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন-

قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ما من قوم اجتمعوا يذكرون  الله   الا   ناداهم   مناد  من  السماء   قوموا   مغفورا لكم قد بدلت سيأتكم حسنات-

অর্থ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন    যখন   কোন   সম্প্রদায়   সমবেত    হয়ে   আল্লাহর জিকির করে তখন  আকাশ থেকে  একজন আহ্বানকারী তাদেরকে       ডেকে       বলে-       তোমরা       অগ্রসর       হও,  তোমাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা। তোমাদের গুনাহসমূহকে সওয়াব দ্বারা পরিবর্তন করে দিলাম।

হাদিস নং- ১৪
ইমাম  বাযযার  ও  ইমাম  বায়হাকি  সহিহ  সূত্রে  হযরত  ইবনে        আব্বাস      রাদিয়াল্লাহু      আনহু       থেকে      বর্ণনা করেছেন-

قال   رسول   الله   صلى  الله  عليه   وسلم     قال   الله  تعالى: عبدى   اذا   ذكرتنى   خاليا  ذكرتك   خاليا-  وان  ذكرتنى  فى ملاء ذكرتك فى ملاء خير منهم واكثر-

অর্থ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন- আল্লাহতায়ালা  বলেন- হে আমার বান্দাহ  যখন তুমি একাকী   আমার জিকির   কর  তখন আমি একাকী  তোমার  স্মরণ   করি।  আর  যদি  তুমি   কোন  জামাতের সাথে আমার জিকির কর তবে   আমি এর  চেয়ে অধিক ও উত্তম জামাতে তোমার স্মরণ করি।

হাদিস নং- ১৭
ইমাম বাযযার হযরত  আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু  থেকে বর্ণনা  করেছেন।  তিনি  নবী   করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন-

قال ان   لله سيارة من الملائكة يطلبون  حلق   الذكر فاذا  اتوا عليهم حفوابهم فيقول الله تعالى- غشوهم برحمتى فهم الجلساء لا يشقى بهم جليسهم-

অর্থ:     নবী     করিম      সাল্লাল্লাহু     আলাইহি     ওয়াসাল্লাম  বলেছেন-  নিশ্চয়   আল্লাহতায়ালার   এমন  কিছু  ফিরিস্তা রয়েছেন  যারা  বিভিন্ন  স্থানে  পরিভ্রমণ  করে  হালকায়ে  জিকির  তথা  জিকিরের  মাহফিলসমূহ  অন্বেষণ  করতে  থাকেন।  অতঃপর যখন তারা কোন মাহফিলে উপস্থিত হন    তখন   তাদেরকে  পরিবেষ্টন   করে   রাখেন।  তখন  আল্লাহ    তায়ালা বলেন  তাদেরকে  আমার রহমত  দ্বারা আচ্ছাদিত  কর।  তারা   হচ্ছে এমন জলসাকারী যাদের  সাথে     অংশগ্রহণকারী     কোন     ব্যক্তিই     দূর্ভাগা     নয়।  (অর্থাৎ            জিকিরের            মাহফিলে            অংশগ্রহণকারী  প্রত্যেককেই আল্লাহতায়ালা মা করে দেন)

হাদিস নং- ১৮
ইমাম তাবরানী ও  ইমাম    ইবনে জারির  হযরত আব্দুর রহমান বিন সাহল বিন হানিফ থেকে বর্ণনা করেছেন-

قال  نزلت  على  رسول  الله  صلى  الله  عليه  وسلم  وهو  فى  بعض ابياته (واصبر نفسك مع الذين يدعون ربهم بالغدوة والعشى)  فخرج  يلتمسهم   فوجد  قوما   يذكرون   الله   تعالى-   منهم ثائر الرأس وجاف الجلد وذو الثوب الواحد فلما راهم جلس   معهم وقال الحمد لله الذى جعل  فى امتى  من  امرنى ان اصبر نفسى معهم-

অর্থ:    তিনি     বলেন-    রাসূলুল্লাহ       সাল্লাল্লাহু    আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর  যখন নিু বর্ণিত আয়াতটি নাজিল হয় তখন তিনি তাঁর কোন একটি হুজরাশরীফে অবস্থান করছিলেন। (আয়াতটির অর্থ- আপনি  নিজেকে তাদের সংসর্গে   আবদ্ধ  রাখুন  যারা  সকাল  ও    সন্ধ্যায়  তাদের পালন কর্তাকে আহ্বান করে। কাহাফ- ২৮)

অতঃপর নবী করিম  সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ধরণের   লোকদের অন্বেষণে বের   হলেন। তখন  এমন  একটি     সম্প্রদায়কে     পেলেন     যারা      আল্লাহতায়ালার  জিকির করছিল। তাদের মধ্যে কারো এলোমেলো চুল, শুষ্ক  শরীর এবং একটি মাত্র কাপড় পরিহিত। নবীজী যখন  তাদেরকে দেখলেন তখন  তাদের  সাথে বসলেন এবং    বললেন     সমস্ত     প্রশংসা    আল্লাহতায়ালার    যিনি আমার   উম্মতের   মধ্যে     এমন   লোক   তৈরি   করেছেন যাদের   সাথে   নিজেকে   আবদ্ধ   রাখার   জন্য   আমাকে  নির্দেশ দিয়েছেন।

হাদিস নং- ১৯
ইমাম আহমদ  রাদিয়াল্লাহু   আনহু ‘যাহদ’   গ্রন্থে হযরত  ছাবিত রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন-

قال كان سلمان فى عصابة يذكرون الله فمر النبى صلى الله عليه وسلم- فكفوا- فقال ما  كنتم تقولون؟ قلنا نذكر الله قال انى  رأيت الرحمة تنزل عليكم فاحببت ان اشارككم فيها ثم قال  الحمد لله  الذى   جعل فى   امتى من   امرت ان اصبر نفسى معهم-

অর্থ:       ছাবিত     রাদিয়াল্লাহু     আনহু     বলেন-     একবার   সালমান   রাদিয়াল্লাহু   আনহু     এমন   একটি    জামাতের সাথে       ছিলেন       যারা       আল্লাহর       জিকির       করছিল।  এমতাবস্তায় নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে  উপস্থি হলেন।    তখন  তারা নিশ্চুপ হয়ে গেল। তখন        নবীজী         জিজ্ঞাসা         করলেন        তোমরা        কি বলতেছিলে?    তারা   বলল-   আমরা   আল্লাহর   জিকির    করতেছিলাম। নবীজী বললেন- আমি দেখেছি আল্লাহর রহমত    তোমাদের    উপর    বর্ষিত    হচ্ছে।    তাই    আমি  তোমাদের   সাথে     এই   মাহফিলে   শরিক   হতে   পছন্দ করেছি।     অতঃপর   নবীয়ে   পাক   সাল্লাল্লাহু   আলাইহি   ওয়াসাল্লাম   বললেন-  সমস্ত  প্রশংসা   আল্লাহতা’য়ালার, যিনি আমার উম্মতের মধ্যে এমন লোক তৈরি করেছেন যাদের  সাথে নিজেকে  আবদ্ধ  রাখতে আমাকে নির্দেশ  প্রদান করা হয়েছে।