দরুদ শরীফ না পড়ার ক্ষতিসমূহ | ইসলামী বিশ্বকোষ ও আল-হাদিস

দুরূদ শরীফ না পড়ার ক্ষতি-১

(১) ফরমানে মুস্তফা صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم “যে লোক নিজেদের মজলিশ থেকে আল্লাহ্তা আলার যিকির এবং হুযুর  صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর উপর দরূদ শরীফ পাঠ করা ব্যতীত উঠে যায়, তবে সে দুর্গন্ধময় লাশ থেকে উঠল।” (শুয়াবুল ঈমান, ২য় খন্ড, ২১৫ পৃষ্ঠা, হাদীস- ১৫৭০)

দুরূদ শরীফ না পড়ার ক্ষতি-২

(২) ফরমানে মুস্তফা صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم  “যার কাছে আমার আলোচনা হল, আর সে আমার উপর দরূদ শরীফ পড়ল না, তবে সে জানড়বাতের রাস্তা ভূলে গেল।” (মুজাম কবীর, ৩য় খন্ড, ১২৮ পৃষ্ঠা, হাদীস- ২৮৮৭)

দুরূদ শরীফ না পড়ার ক্ষতি-৩

(৩) ফরমানে মুস্তফা صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم  “ঐ ব্যক্তির নাক ধূলায় মলিন হোক, যার কাছে আমার আলোচনা হল, আর সে আমার উপর দরূদ পাক পড়ল না।” (তিরমিযী, ৫ম খন্ড, ৩২০ পৃষ্ঠা, হাদীস- ৩৫৫৬)

দুরূদ শরীফ না পড়ার ক্ষতি-৪

(৪) ফরমানে মুস্তফা صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم  “যে ব্যক্তির নিকট আমার আলোচনা হল, আর সে আমার উপর দরূদ শরীফ পড়ল না, তবে সে লোকদের মধ্যে সবচেয়ে কৃপণ ব্যক্তি।” (মুসনাদে ইমাম আহমদ বিন হাম্বল, ১ম খন্ড, ৪২৯ পৃষ্ঠা, হাদীস- ১৭৩৬)

দুরূদ শরীফ না পড়ার ক্ষতি-৫

(৫) ফরমানে মুস্তফা صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم  “যে সব লোক কোন মজলিশে বসল, আল্লাহ্ তাআলার যিকির এবং হুযুর صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর উপর দরূদ শরীফ পড়ানো হয় না, ঐ সব লোক কিয়ামতের দিন যখন তাদের পরিণাম দেখবে তবে তাদের উপর চরম অনুশোচনা সৃষ্টি হবে। যদিও তারা জান্নাতে প্রবেশ করে।” (মুসনাদে ইমাম আহমদ বিন হাম্বল, ৩য় খন্ড, ৪৮৯ পৃষ্ঠা, হাদীস- ৯৯৭২)

দুরূদ শরীফ না পড়ার ক্ষতি-৬

(৬) ফরমানে মুস্তফা صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم  “যে (ব্যক্তির) নিকট আমার আলোচনা হল, আর সে আমার উপর দরূদ শরীফ পড়ল না, তবে সে জুলুম করল।” (মুসান্নিফে আবদুর রাজ্জাক, ২য় খন্ড, ১৪২ পৃষ্ঠা, হাদীস- ৩১২৬)

দুরূদ শরীফ না পড়ার ক্ষতি-৭

(৭) ফরমানে মুস্তফা صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم  “যে (ব্যক্তির) নিকট আমার আলোচনা হল, আর সে আমার উপর দরূদ শরীফ পাঠ করল না, সে নিশ্চিত দূর্ভা গা হয়ে গেল।” (আমলুল ইয়াউম ওয়াল লাইলাতি ইবনিস সুন্নতী, ৩৩৬ পৃষ্ঠা, হাদীস- ৩৮১)

দুরূদ শরীফ না পড়ার ক্ষতি-৮

(৮)ফরমানে মুস্তফা صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم  “যে সব লোক কোন মজলিশে বসে, আর তাতে আল্লাহ্ তাআলার যিকির করল না এবং তাঁর রাসুল صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর উপর দরূদ শরীফও পাঠ করল না, কিয়ামতের দিন তার ঐ মজলিশ তাদের আফসোসের কারণ হবে (আল্লাহ্ তাআলা) চাইলে তবে তাদেরকে আযাব দিবে, নতুবা ক্ষমা করে দিবে।” (তিরমিযী, ৫ম খন্ড, ২৪৭ পৃষ্ঠা, হাদীস- ৩৩৯১)

صَلُّوْا عَلَی الْحَبِیْب!         صَلَّی   اللهُ تَعَالٰی عَلٰی مُحَمَّد

১-৮ নং দুরূদ শরীফ না পড়ার ক্ষতি যিয়াঈ দুরূদ ও সালাম নামক রিসালা থেকে নেয়া হয়েছে। আপনি চাইলে রিসালাটি ডাউনলোড করতে পারবেন।

দুরূদ শরীফ বিষয়ে সাহাবায়ে কেরামদের رَضِيَ اللهُ عَنْهُمْ  ৫ টি বাণী

বাণী-১

(১) হযরত সায়্যিদুনা আবু বকর সিদ্দিক رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ বলেন: “নবী করীম, রউফুর রহীম صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর উপর দরূদ শরীফ পাঠ করা গুনাহ সমূহকে এত দ্রুত মিটিয়ে দেয় যে, পানিও আগুণকে তত দ্রুত নিভাতে পারে না, আর রাসুলুল্লাহ صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর উপর সালাম প্রেরণ করা গর্দান সমূহ (অর্থাৎ- গোলামদেরকে) আযাদ করার চেয়েও উত্তম।” (তারিখে বাগদাদ, ৭ম খন্ড, ১৭২ পৃষ্ঠা)

বাণী-২

(২) হযরত সায়্যিদুনা আয়েশা সিদ্দিকা رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهَا বলেন: “তোমরা তোমাদের মজলিশ সমূকে আল্লাহর নবী, রাসুলে আরবী صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর উপর দরূদ শরীফ পাঠ করে সজ্জিত করো।” (তারিখে বাগদাদ, ৭ম খন্ড, ২১৬ পৃষ্ঠা)

বাণী-৩

(৩) হযরত সায়্যিদুনা ফারুকে আজম رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ বলেন: “নিশ্চয় দোয়া জমীন ও আসমানের মধ্যখানে ঝুলন্ত থাকে এবং তা থেকে কোন বস্তু উপরের দিকে যায় না, যতক্ষণ তোমরা নিজেদের নবীয়ে আকরাম  صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم  এর উপর দরূদ পাক পড়ে না নাও।” (তিরমিযী, ২য় খন্ড, ২৮ পৃষ্ঠা, হাদীস- ৪৮৬)

বাণী-৪

(৪) হযরত সায়্যিদুনা মাওলা আলী মুশকিল কোশা رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ বলেন: “হুযুর হযরত মুহাম্মদصَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এবং আওলাদে মুহাম্মদ صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর উপর দরূদ পাক পাঠ করার আগ পর্যন্ত প্রত্যেক ব্যক্তির দোয়া পর্দার (আড়ালে) থাকে।” (মুজাম আওসাত, ১ম খন্ড, ২১১ পৃষ্ঠা, হাদীস- ২৭১)

বাণী-৫

(৫) হযরত সায়্যিদুনা আবদুল্লাহ ইবনে আমর বিন আ’স رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ  বলেন: “যে (ব্যক্তি) নবী পাক, সাহিবে লাওলাক, হুযুর পুরনূর صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর উপর এক বার দরূদে পাক পাঠ করবে, তার উপর আল্লাহ্ তাআলা এবং তার ফিরিশতারা ৭০ বার রহমত প্রেরণ করবেন।” (মুসনাদে ইমাম আহমদ বিন হাম্বল, ২য় খন্ড, ৬১৪ পৃষ্ঠা, হাদীস- ৬৭৬৬)

صَلُّوْا عَلَی الْحَبِیْب!         صَلَّی   اللهُ تَعَالٰی عَلٰی مُحَمَّد


১-৫ নং বাণী যিয়াঈ দুরূদ ও সালাম নামক রিসালা থেকে নেয়া হয়েছে। আপনি চাইলে রিসালাটি ডাউনলোড করতে পারবেন।

কা’বে কে বদরুদ দোজা তুম পে করোড়ো দরূদ,

তৈইবা কে শামসু দ্দোহা তুম পে করোড়ো দরূদ।

(হাদায়িকে বখশিশ শরীফ, ২৬৪ পৃষ্ঠা)