দরুদ শরীফ পাঠের ফযীলত | ইসলামী বিশ্বকোষ ও আল-হাদিস

দুরূদ শরীফ পাঠের ফযিলত

❤❤ফযিলত-১❤❤

(১) রহমতে        আলম,      নূরে      মুজাস্সাম,      রাসূলে আকরাম صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم ইরশাদ করেছেন:
“যে (ব্যক্তি) আমার উপর এক বার দরূদ শরীফ পাঠ করে, আল্লাহ্ তাআলা তার উপর দশটি রহমত নাযিল করেন।” (মুসলিম, ২১৬ পৃষ্ঠা, হাদীস- ৪০৮)

❤❤ফযিলত-২❤❤

(২) সুলতানে   দো-আলম,   নূরে   মুজাস্সাম,     শাহে বনী আদম,  রাসূলে  মুহ্তাশাম   صَلَّی  اللّٰہُ تَعَالٰی  عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ   وَسَلَّم  ইরশাদ করেন: “কিয়ামতের দিন আমার নিকটতম ব্যক্তি সেই হবে, যে দুনিয়ায় আমার উপর বেশি পরিমাণে দরূদ শরীফ পড়েছে।” (তিরমিযী, ২য় খন্ড, ২৭ পৃষ্ঠা, হাদীস- ৪৮৪)

❤❤ফযিলত-৩❤❤

(৩) রহমতে        আলম,      নূরে      মুজাস্সাম,      রাসূলে আকরাম صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم ইরশাদ করেছেন: “যে ব্যক্তি আমার উপর এক বার দরূদ শরীফ পড়ে, আল্লাহ্ তাআলা তার উপর দশটি রহমত নাযিল করেন এবং তার আমল নামায় দশটি নেকী লিখে দেন।” (তিরমিযী, ২য় খন্ড, ২৮ পৃষ্ঠা, হাদীস- ৪৮৪)

❤❤ফযিলত-৪❤❤

(৪) সুলতানে   দো-আলম,   নূরে   মুজাস্সাম,     শাহে বনী আদম,  রাসূলে  মুহ্তাশাম   صَلَّی  اللّٰہُ تَعَالٰی  عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ   وَسَلَّم  ইরশাদ করেন: “মুসলমান যতক্ষণ পর্যন্ত আমার উপর দরূদে পাক পড়তে থাকে, ফিরিশতারা তার উপর রহমতরাজি নাযিল করতে থাকে, এখন বান্দার মর্জি সে কম পড়ক– কিংবা বেশি।” (ইবনে মাজাহ, ১ম খন্ড, ৪৯০ পৃষ্ঠা, হাদীস- ৯০৭)

❤❤ফযিলত-৫❤❤

(৫) আল্লাহর মাহবুব, অদৃশ্যের সংবাদ দাতা নবী, হযরত মুহাম্মদ  ﷺ  এর জান্নাতরূপী ফরমান, “নামাযের পর হামদ, সানা ও দরূদ শরীফ পাঠকারীকে বলা হয়: দোয়া কর, কবুল করা হবে। প্রার্থনা কর, প্রদান করা হবে।” (নাসায়ী, ২২০ পৃষ্ঠা, হাদীস- ১২৮১)

❤❤ফযিলত-৬❤❤

(৬) সুলতানে   দো-আলম,   নূরে   মুজাস্সাম,     শাহে বনী আদম,  রাসূলে  মুহ্তাশাম   صَلَّی  اللّٰہُ تَعَالٰی  عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ   وَسَلَّم  ইরশাদ করেন: জিব্রাইল عَلَيْهِ السَّلَام আমাকে আরজ করল যে, আল্লাহ  তা‘আলা ইরশাদ করেছেন: “হে মুহাম্মদ! আপনি কি এ কথার উপর সন্তুষ্ট নন যে, আপনার উম্মত আপনার উপর এক বার সালাম প্রেরণ করবে, আর আমি তার উপর দশ বার সালাম প্রেরণ তথা শান্তি বর্ষণ করব?” (নাসায়ী, ২২২ পৃষ্ঠা, হাদীস- ১২৯২)

❤❤ফযিলত-৭❤❤

(৭) সুলতানে   দো-আলম,   নূরে   মুজাস্সাম,     শাহে বনী আদম,  রাসূলে  মুহ্তাশাম   صَلَّی  اللّٰہُ تَعَالٰی  عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ   وَسَلَّم  ইরশাদ করেন: “যে (ব্যক্তি) আমার উপর এক বার দরূদ শরীফ পাঠ করে, আল্লাহ্ তাআলা তার উপর দশটি রহমত বর্ষণ করেন, দশটি গুনাহ ক্ষমা করেন এবং দশটি মর্যাদা বৃদ্ধি করেন।” (নাসায়ী, ২২২ পৃষ্ঠা, হাদীস- ১২৯৪)

❤❤ফযিলত-৮❤❤

(৮) আল্লাহর মাহবুব, অদৃশ্যের সংবাদ দাতা নবী, হযরত মুহাম্মদ  ﷺ  এর জান্নাতরূপী ফরমান, “যে (ব্যক্তি) আমার উপর এক বার দরূদ শরীফ পাঠ করে, আল্লাহ্ তাআলা তার উপর দশটি রহমত নাযিল করেন, আর যে আমার উপর দশবার দরূদ শরীফ পাঠ করে আল্লাহ্তা আলা তার প্রতি একশত রহমত নাযিল করেন। যে আমার উপর একশবার দরূদে পাক প্রেরণ করে, আল্লাহ্ তাআলা তার উভয় চোখের মধ্যখানে লিপিবদ্ধ করে দেন, এ বান্দা নিফাক ও দোযখের আগুণ থেকে মুক্ত। আর কিয়ামতের দিন তাকে শহীদদের সাথে রাখবেন।” (মুজামুল আওসাত, ৫ম খন্ড, ২৫২ পৃষ্ঠা, হাদীস- ২৭৩৫)

❤❤ফযিলত-৯❤❤

(৯) আল্লাহর মাহবুব, অদৃশ্যের সংবাদ দাতা নবী, হযরত মুহাম্মদ  ﷺ  এর জান্নাতরূপী ফরমান, “যে (ব্যক্তি) আমার উপর সারা দিনে পঞ্চাশ বার দরূদ শরীফ পড়ে, আমি কিয়ামতের দিন তার সাথে মুসাফাহা করব (অর্থাৎ- হাত মিলাব)।” (আল কুরবাতু ইলা রব্বিল আলামীন, লি ইবনে বশিকওয়াল, ৯০ পৃষ্ঠা, হাদীস- ৯০)

❤❤ফযিলত-১০❤❤

(১০) সুলতানে   দো-আলম,   নূরে   মুজাস্সাম,     শাহে বনী আদম,  রাসূলে  মুহ্তাশাম   صَلَّی  اللّٰہُ تَعَالٰی  عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ   وَسَلَّم  ইরশাদ করেন: “যে ব্যক্তি আমার উপর সারা দিনে এক হাজার বার দরূদে পাক পাঠ করে, সে যতক্ষণ না নিজের স্থান জানড়বাতের মধ্যে দেখে নেবে, ততক্ষণ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করবে না।” (আত্তারগীব ফি ফাযায়িলিল আমাল লি ইবনে শাহিন, ১৪ পৃষ্ঠা, হাদীস- ১৯)

❤❤ফযিলত-১১❤❤

(১১) আল্লাহর মাহবুব, অদৃশ্যের সংবাদ দাতা নবী, হযরত মুহাম্মদ  ﷺ  এর জান্নাতরূপী ফরমান, “যে ব্যক্তি আমার প্রতি ভালবাসা ও আগ্রহের কারণে প্রতিটি দিন ও রাতে তিন তিন বার করে দরূদ শরীফ পাঠ করবে, আল্লাহ্ তাআলা তার বদান্যতার দায়িত্বে একথা অপরিহার্য করে নেন যে, তিনি তার ওই দিন ও রাতের গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন।” (মু’জামুল কবীর, ১৮তম খন্ড, ৩৬২ পৃষ্ঠা, হাদীস- ৯২৮)

❤❤ফযিলত-১২❤❤

(১২) সুলতানে   দো-আলম,   নূরে   মুজাস্সাম,     শাহে বনী আদম,  রাসূলে  মুহ্তাশাম   صَلَّی  اللّٰہُ تَعَالٰی  عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ   وَسَلَّم  ইরশাদ করেন: “তোমরা যেখানেই থাক, আমার উপর দরূদে পাক পাঠ করো, কেননা তোমাদের দরূদ আমার নিকট পৌছে থাকে।” (মু’জামুল কবীর, ৩য় খন্ড, ৮২ পৃষ্ঠা, হাদীস- ২৭২৯)

❤❤ফযিলত-১৩❤❤

(১৩) আল্লাহর মাহবুব, অদৃশ্যের সংবাদ দাতা নবী, হযরত মুহাম্মদ  ﷺ  এর জান্নাতরূপী ফরমান, “নিশ্চয় তোমাদের নাম পরিচয় সহ আমার কাছে পেশ করা হয়, এজন্য আমার উপর সুন্দর (অর্থাৎ- সর্বোত্তম শব্দাবলীর মাধ্যমে) দরূদ পাক পাঠ কর। (মুসান্নিফ আবদুল রাজ্জাক, ২য় খন্ড, ১৪০ পৃষ্ঠা, হাদীস- ৩১১৬)

❤❤ফযিলত-১৪❤❤

(১৪) আল্লাহর মাহবুব, অদৃশ্যের সংবাদ দাতা নবী, হযরত মুহাম্মদ  ﷺ  এর জান্নাতরূপী ফরমান, নিশ্চয় জিব্রাইল عَلَيْهِ السَّلَام আমাকে সুসংবাদ দিয়েছেন: “যে (ব্যক্তি) আপনি صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم  এর উপর দরূদ শরীফ পড়ে, আল্লাহ্ তাআলা তার উপর রহমত নাযিল করেন। আর যে আপনি صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم  এর উপর সালাম প্রেরণ করে, আল্লাহ্ তাআলা তার উপর নিরাপত্তা নাযিল করেন।” (মুসনাদে ইমাম আহমদ বিন হাম্বল, ১ম খন্ড, ৪০৭ পৃষ্ঠা, হাদীস- ১৬৬৪)

❤❤ফযিলত-১৫❤❤

(১৫) হযরত সায়্যিদুনা উবাই বিন কা’ব رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ আরজ করল যে, আমি (সমস্ত ভির্দ, ওয়াজিফা ছেড়ে দেব আর) নিজের পরিপূর্ণ সময় দরূদ শরীফ পাঠ করাতে ব্যয় করব। তখন ছরকারে মদীনা صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم  ইরশাদ করলেন: “তা তোমার পেরেশানী সমূহ দূর করার জন্য যথেষ্ট হবে এবং তোমার গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে।” (তিরমিযী, ৪র্থ খন্ড, ২০৭ পৃষ্ঠা, হাদীস- ২৪৬৫)

❤❤ফযিলত-১৬❤❤

(১৬) রহমতে        আলম,      নূরে      মুজাস্সাম,      রাসূলে আকরাম صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم ইরশাদ করেছেন: “যে (ব্যক্তি) আমার উপর সকালে দশ বার ও সন্ধ্যায় দশ বার দরূদ শরীফ পাঠ করে, তার জন্য কিয়ামতের দিন আমার সুপারিশ নসীব হবে।” (মাজমাউয যাওয়ায়িদ, ১০ম খন্ড, ১৬৩ পৃষ্ঠা, হাদীস- ১৭০২২)

❤❤ফযিলত-১৭❤❤

(১৭) আল্লাহর মাহবুব, অদৃশ্যের সংবাদ দাতা নবী, হযরত মুহাম্মদ  ﷺ  এর জান্নাতরূপী ফরমান, “আমার উপর অধিক হারে দরূদ শরীফ পাঠ কর, নিশ্চয় আমার উপর তোমাদের দরূদ শরীফ পাঠ করা তোমাদের জন্য পবিত্রতা।” (মুসনাদে আবি ইয়ালা, ৫ম খন্ড, ৪৫৮ পৃষ্ঠা, হাদীস- ৬৩৮৩)

❤❤ফযিলত-১৮❤❤

(১৮) রহমতে        আলম,      নূরে      মুজাস্সাম,      রাসূলে আকরাম صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم ইরশাদ করেছেন: “আল্লাহ্ তাআলার সন্তুষ্টির জন্য পরস্পরের মধ্যে ভালবাসা পোষণকারী যখন দু’জন বন্ধু পরস্পর সাক্ষাত করে। ও মুসাফাহা করে (অর্থা- হাত মিলায়) আর প্রিয় নবী, রাসুলে আরবী দেব আর) নিজের পরিপূর্ণ সময় দরূদ শরীফ পাঠ করাতে ব্যয় করব। তখন ছরকারে মদীনা صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর উপর দরূদ পাক পাঠ করে, তবে তারা উভয়ে পরস্পর পৃথক হবার পূর্বে আগের ও পরের গুনাহ সমূহ ক্ষমা করে দেয়া হয়।” (মুসনাদে আবি ইয়ালা, ৩য় খন্ড, ৯৫ পৃষ্ঠা, হাদীস-২৯৫১)

❤❤ফযিলত-১৯❤❤

(১৯) সুলতানে   দো-আলম,   নূরে   মুজাস্সাম,     শাহে বনী আদম,  রাসূলে  মুহ্তাশাম   صَلَّی  اللّٰہُ تَعَالٰی  عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ   وَسَلَّم  ইরশাদ করেন: “যে এটা বলে:  اَللّٰهُمَّ صَلِّى عَلٰى مُحَمَّدٍ وَّاَنْزِلْهُ الْمَقْعَدَ المُقَرَّبَ عِنْدَكَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ তার জন্য আমার সুপারিশ ওয়াজিব হয়ে যাবে।” (মুজাম কবীর, ৫ম খন্ড, ২৫ পৃষ্ঠা, হাদীস- ৪৪৮০)

অনুবাদ: হে আল্লাহ্! হযরত মুহাম্মদ এর উপর রহমত নাযিল কর এবং তাঁকে কিয়ামতের দিন তোমার দরবারে নৈকট্যতম স্থান প্রদান কর

❤❤ফযিলত-২০❤❤

(২০) রহমতে        আলম,      নূরে      মুজাস্সাম,      রাসূলে আকরাম صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم ইরশাদ করেছেন: “যে (ব্যক্তি) কিতাবে আমার উপর দরূদ পাক লিখেছে, যতক্ষণ পর্যন্ত আমার নাম তাতে থাকবে, ফিরিশতারা তার জন্য ইস্তিগফার (অর্থাৎ- ক্ষমা প্রার্থনা) করতে থাকবে।” (মুজাম আওসাত, ১ম খন্ড, ৪৯৭ পৃষ্ঠা, হাদীস- ১৮৩৫)

❤❤ফযিলত-২১❤❤

(২১) সুলতানে   দো-আলম,   নূরে   মুজাস্সাম,     শাহে বনী আদম,  রাসূলে  মুহ্তাশাম   صَلَّی  اللّٰہُ تَعَالٰی  عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ   وَسَلَّم  ইরশাদ করেন: “হে লোকেরা! নিশ্চয় কিয়ামতের দিনের ভয়াবহতা এবং হিসাব নিকাশ থেকে তাড়াতাড়ি মুক্তি পাবে সেই ব্যক্তি, যে তোমাদের মধ্যে আমার উপর দুনিয়াতে অধিক হারে দরূদ শরীফ পাঠ করে থাকে।” (আল ফিরদৌস বিমাসুরিল খাত্তাব, ৫ম খন্ড, ২৭৭ পৃষ্ঠা, হাদীস- ৮১৭৫)

❤❤ফযিলত-২২❤❤

(২২) রহমতে        আলম,      নূরে      মুজাস্সাম,      রাসূলে আকরাম صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم ইরশাদ করেছেন: “আমার প্রতি অধিক হারে দরূদ শরীফ পাঠ কর, নিশ্চয় আমার প্রতি তোমাদের দরূদ শরীফ পাঠ করা, তোমাদের গুনাহের জন্য মাগফিরাত স্বরূপ।” (ইবনে আসাকির, ৬১তম খন্ড, ৩৮১ পৃষ্ঠা)

❤❤ফযিলত-২৩❤❤

(২৩) “যে (ব্যক্তি) আমার উপর এক বার দরূদে পাক পাঠ করে, আল্লাহ্ তাআলা তার জন্য এক ‘ক্বীরাত’ পরিমাণ সাওয়াব লিখে দেন। ক্বীরাত হচ্ছে: উহুদ পর্বতের সম-পরিমাণ।” (মুসান্নিফে আবদুর রাজ্জাক, ১ম খন্ড, ৩৯ পৃষ্ঠা, হাদীস- ১৫৩)

❤❤ফযিলত-২৪❤❤

(২৪) সুলতানে   দো-আলম,   নূরে   মুজাস্সাম,     শাহে বনী আদম,  রাসূলে  মুহ্তাশাম   صَلَّی  اللّٰہُ تَعَالٰی  عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ   وَسَلَّم  ইরশাদ করেন: “নিশ্চয় আল্লাহ্ তাআলা আমার কবরে এক ফিরিশতা নিযুক্ত করেছেন, যাকে সকল সৃষ্টির আওয়াজ সমূহ শুনার ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছ্ সুতরাং কিয়ামত পর্যন্ত যে কেউ আমার উপর দরূদ পাক পড়ে, তবে সে আমাকে তার নাম এবং তার পিতার নাম পেশ করে থাকে। সে বলে: অমুকের ছেলে অমুক আপনার উপর এই মুহুর্তে দরূদ শরীফ পাঠ করেছে।” (মুসনাদে বাজারিজ, ৪র্থ খন্ড, ২৫৫ পৃষ্ঠা, হাদীস- ১৪২৫)

سُبْحٰنَ اللهِ عَزَّوَجَل দরূদ শরীফ পাঠকারী কি পরিমাণ সৌভাগ্যবান যে, তার নাম, পিতার নাম সহ হুযুর পুরনূর, নবী করীম  صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর মহান দরবারে পেশ করা হয়। এখানে এই বিষয়টি খুবই ঈমান তাজাকারী যে, নূরানী কবরে নিযুক্ত ফিরিশতাকে এমন অধিক শ্রবণ শক্তি প্রদান করা হয়েছে যে, সে দুনিয়ার কোণায় কোণায় একই সময়ে দরূদ শরীফ পাঠকারী লাখো মুসলমানদের খুব ছোট আওয়াজও শুনে থাকে। যখন দরবারের খাদেমের শুনার ক্ষমতার এই শান, তবে ছরকারে মদীনা, মক্কী মাদানী আক্বা, হুযুর  صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর ক্ষমতার শান কেমন হবে! তিনি  صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم কেনইবা আপন গোলামদেরকে চিনবেন না, আর কেনইবা তাদের আহবান শুনে আল্লাহর হুকুমে তাদেরকে সাহায্য করবেন না।

অওর কুয়ী গাইব কিয়া তুমছে নিহা হো ভালা,

জব না খোদা হি ছুপা তুম পে করোড়ো দরূদ।

ম্যায় কুরবা ইছ আদায়ে দস্তগীরী পর মেরে আক্বা,

মদদ কো আগেয়ে জব ভি পুকারা ইয়া রাসুলাল্লাহ

❤❤ফযিলত-২৫❤❤

(২৫) রহমতে        আলম,      নূরে      মুজাস্সাম,      রাসূলে আকরাম صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم ইরশাদ করেছেন: “যে (ব্যক্তি) একথা পছন্দ করে যে, আল্লাহ্ তা‘আলার মহান দরবারে পেশ হবার সময় আল্লাহ্ তাআলা তার উপর সন্তুষ্ট হয়ে যাবেন, তবে তার উচিত আমার উপর বেশি পরিমাণে দরূদ শরীফ পাঠ করা।” (ফিরদৌসুল আখবার, বিমাসুরিল খাত্তাব, ২য় খন্ড, ২৮৪ পৃষ্ঠা, হাদীস- ৬০৮৩)

❤❤ফযিলত-২৬❤❤

(২৬) আল্লাহর মাহবুব, অদৃশ্যের সংবাদ দাতা নবী, হযরত মুহাম্মদ  ﷺ  এর জান্নাতরূপী ফরমান, “ফরয হজ্ব আদায় করো, নিশ্চয় এটির সাওয়াব বিশটি যুদ্ধে (গাযওয়া) অংশগ্রহণ করার চেয়েও বেশি, আর আমার উপর এক বার দরূদ শরীফ পাঠ করা, এটার সমপরিমাণ সাওয়াব।” (ফিরদৌসুল আখবার, বিমাসুরিল খাত্তাব, ১ম খন্ড, ৩৩৯ পৃষ্ঠা, হাদীস- ২৪৮৪)

❤❤ফযিলত-২৭❤❤

(২৭) সুলতানে   দো-আলম,   নূরে   মুজাস্সাম,     শাহে বনী আদম,  রাসূলে  মুহ্তাশাম   صَلَّی  اللّٰہُ تَعَالٰی  عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ   وَسَلَّم  ইরশাদ করেন: “কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তাআলার আরশের ছায়া ব্যতীত আর কোন ছায়া থাকবে না। তিন ব্যক্তি (ঐ দিন) আল্লাহ  তা‘আলার আরশের ছায়ায় থাকবে। আরজ করা হল: ইয়া রাসুলাল্লাহ صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ   وَاٰلِہٖ وَسَلَّم তারা কারা হবে? ইরশাদ করলেন: (১) ঐ ব্যক্তি যে আমার উম্মতের পেরেশানী দূর করে, (২) আমার সুন্নাতকে জীবিতকারী, (৩) আমার উপর অধিক পরিমাণে দরূদ শরীফ পাঠকারী।” (আল বাদূরুস সাফিরাতু লিস্ সূয়ুতী, ১৩১ পৃষ্ঠা, হাদীস- ৩৬৬)

❤❤ফযিলত-২৮❤❤

(২৮) রহমতে        আলম,      নূরে      মুজাস্সাম,      রাসূলে আকরাম صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم ইরশাদ করেছেন: “যে ব্যক্তি এটা বলে: جَزَ اللهُ عَنّا مُحَمَّدًا مَّا هُوَ اَهْلُه ৭০ জন ফিরিশতা এক হাজার দিন পর্যন্ত তার জন্য নেকী লিখতে থাকে।” (মুজাম আওসাত, ১ম খন্ড, ৮২ পৃষ্ঠা, হাদীস- ২৩৫)

অনুবাদ: আল্লাহ্ তাআলা আমাদের পক্ষ থেকে হযরত মুহাম্মদকে এমন প্রতিদান প্রদান করুন, যেটার তিনি উপযুক্ত

❤❤ফযিলত-২৯❤❤
(২৯) আল্লাহর মাহবুব, অদৃশ্যের সংবাদ দাতা নবী, হযরত মুহাম্মদ  ﷺ  এর জান্নাতরূপী ফরমান, “আমার উপর দরূদ শরীফ পাঠ করো, আল্লাহ্ তাআলা তোমাদের উপর রহমত নাযিল করবেন।” (আল কামিলু লিইবনে আছি, ৫ম খন্ড, ৫০৫ পৃষ্ঠা)

❤❤ফযিলত-৩০❤❤

(৩০) সুলতানে   দো-আলম,   নূরে   মুজাস্সাম,     শাহে বনী আদম,  রাসূলে  মুহ্তাশাম   صَلَّی  اللّٰہُ تَعَالٰی  عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ   وَسَلَّم  ইরশাদ করেন: “যখন তোমরা রাসুলগণদের عَلَيْهِمُ السَّلَام উপর দরূদ পাক পড়ো, তখন আমার উপরও দরূদ শরীফ পাঠ করো, নিশ্চয় আমি সমস্ত জাহানের প্রতিপালকের রাসুল।” (জমউল জাওয়ামি লিস্ সূয়ুতী, ১ম খন্ড, ৩২০ পৃষ্ঠা, হাদীস- ২৩৫৪)

❤❤ফযিলত-৩১❤❤

(৩১) রহমতে        আলম,      নূরে      মুজাস্সাম,      রাসূলে আকরাম صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم ইরশাদ করেছেন: “যে (ব্যক্তি) কুরআন পড়লো এবং আপন প্রতিপালকের প্রশংসা করলো, অতঃপর আমার উপর দরূদে পাক পড়লো, তারপর নিজ প্রতিপালক থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করল, তবে সে মঙ্গলকে সেটার জায়াগা থেকে তালাশ করে নিলো।” (শুয়াবুল ঈমান, ২য় খন্ড, ৩৭৩ পৃষ্ঠা, হাদীস- ২০৮৪)

❤❤ফযিলত-৩২❤❤

(৩২) আল্লাহর মাহবুব, অদৃশ্যের সংবাদ দাতা নবী, হযরত মুহাম্মদ  ﷺ  এর জান্নাতরূপী ফরমান, “আমার উপর দরূদ শরীফ পাঠ করে তোমরা তোমাদের মজলিশ সমূহকে সজ্জিত করো, কেননা তোমাদের দরূদে পাক পাঠ করা কিয়ামতের দিন তোমাদের জন্য নূর হবে।” (ফিরদৌসুল আখবার, ১ম খন্ড, ৪২২ পৃষ্ঠা, হাদীস- ৩১৪৯)

❤❤ফযিলত-৩৩❤❤

(৩৩) সুলতানে   দো-আলম,   নূরে   মুজাস্সাম,     শাহে বনী আদম,  রাসূলে  মুহ্তাশাম   صَلَّی  اللّٰہُ تَعَالٰی  عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ   وَسَلَّم  ইরশাদ করেন: “জুমা রাত এবং জুমার দিন আমার উপর বেশি পরিমাণে দরূদ শরীফ পড়ো, কেননা তোমাদের দরূদে পাক আমার নিকট পেশ করা হয়।” (মুজাম আওসাত, ১ম খন্ড, ৮৩ পৃষ্ঠা, হাদীস- ২৪১)

❤❤ফযিলত-৩৪❤❤

(৩৪) রহমতে        আলম,      নূরে      মুজাস্সাম,      রাসূলে আকরাম صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم ইরশাদ করেছেন: “জুমার দিন ও জুমার রাতে (অর্থাৎ- বৃহস্পতিবার ও জুমার মধ্যবর্তী রাতে) আমার উপর বেশি পরিমাণে দরূদ শরীফ পাঠ করো। কেননা যে এমনটি করবে, আমি কিয়ামতের দিন তার সুপারিশকারী ও সাক্ষী হবো।” (শুয়াবুল ঈমান, ৩য় খন্ড, ১১১ পৃষ্ঠা, হাদীস- ৩০৩৩)

❤❤ফযিলত-৩৫❤❤

(৩৫) আল্লাহর মাহবুব, অদৃশ্যের সংবাদ দাতা নবী, হযরত মুহাম্মদ  ﷺ  এর জান্নাতরূপী ফরমান, “যখন বৃহম্পতিবার আসে আল্লাহ্ তাআলা ফিরিশতাদেরকে প্রেরণ করেন। তাদের নিকট রূপার কাগজ ও সোনার কলম থাকে, তারা লিপিবদ্ধ করে- কে বৃহস্পতিবার ও জুমার রাতে আমার উপর বেশি পরিমাণে দরূদ শরীফ পাঠ করে।” (আল ফিরদৌস বিমাসুরিল খাত্তাব, ১ম খন্ড, ১৮৪ পৃষ্ঠা, হাদীস- ৬৮৮)

❤❤ফযিলত-৩৬❤❤

(৩৬) সুলতানে   দো-আলম,   নূরে   মুজাস্সাম,     শাহে বনী আদম,  রাসূলে  মুহ্তাশাম   صَلَّی  اللّٰہُ تَعَالٰی  عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ   وَسَلَّم  ইরশাদ করেন: “আমার উপর দরূদ শরীফ পাঠ করা পুলছিরাতের উপর তোমাদের জন্য নূর হবে। যে (ব্যক্তি) জুমার দিন আমার উপর ৮০ বার দরূদ শরীফ পাঠ করে, তার ৮০ বছরের গুনাহ ক্ষমা হয়ে যাবে।” (আল ফিরদৌস বিমাসুরিল খাত্তাব, ২য় খন্ড, ৪০৮ পৃষ্ঠা, হাদীস- ৩৮১৪)

❤❤ফযিলত-৩৭❤❤

(৩৭) রহমতে        আলম,      নূরে      মুজাস্সাম,      রাসূলে আকরাম صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم ইরশাদ করেছেন: “যে (ব্যক্তি) আমার উপর জুমার দিন দরূদ শরীফ পড়বে আমি কিয়ামতের দিন তার জন্য সুপারিশ করব।” (জমউল জাওয়ামি লিস্ সূয়ুতী, ৭ম খন্ড, ১৯৯ পৃষ্ঠা, হদীস- ২২৩৫২)

❤❤ফযিলত-৩৮❤❤

(৩৮) সুলতানে   দো-আলম,   নূরে   মুজাস্সাম,     শাহে বনী আদম,  রাসূলে  মুহ্তাশাম   صَلَّی  اللّٰہُ تَعَالٰی  عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ   وَسَلَّم  ইরশাদ করেন: “যে ব্যক্তি জুমার দিন আমার উপর একশত বার দরূদ শরীফ পাঠ করে, যখন সে কিয়ামতের দিন আসবে, তখন তারসাথে এমন একটি নূর থাকবে যে, যদি তা সমস্ত সৃষ্টিকে বন্টন করে দেয়া হয়, তবে তা সবার জন্য যথেষ্ট হবে।” (হিলয়াতুল আউলিয়া, ৮ম খন্ড, ৪৯ পৃষ্ঠা)

❤❤ফযিলত-৩৯❤❤

(৩৯) রহমতে        আলম,      নূরে      মুজাস্সাম,      রাসূলে আকরাম صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم ইরশাদ করেছেন: “যে (ব্যক্তি) আমার উপর জুমার রাত ও জুমার দিনে একশ বার দরূদ শরীফ পাঠ করে, আল্লাহ্ তাআলা তার একশটি হাজত পূরণ করবেন। ৭০টি আখিরাতের আর ৩০টি দুনিয়ার।” (শুয়াবুল ঈমান, ৩য় খন্ড, ১১১ পৃষ্ঠা, হাদীস- ৩০৩৫)

❤❤ফযিলত-৪০❤❤

(৪০) সুলতানে   দো-আলম,   নূরে   মুজাস্সাম,     শাহে বনী আদম,  রাসূলে  মুহ্তাশাম   صَلَّی  اللّٰہُ تَعَالٰی  عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ   وَسَلَّم  ইরশাদ করেন: “যে (ব্যক্তি) আমার উপর জুমার দিন ২০০ বার দরূদ শরীফ পাঠ করে, তার ২০০ বছরের গুনাহ ক্ষমা হয়ে যাবে।” (জমউল জাওয়ামি লিস্ সূয়ুতী, ৭ম খন্ড, ১৯৯ পৃষ্ঠা)

১-৪০ নং ফযিলত যিয়াঈ দুরূদ ও সালাম নামক রিসালা থেকে নেয়া হয়েছে। আপনি চাইলে রিসালাটি ডাউনলোড করতে পারবেন।

❤❤ফযিলত-৪১❤❤

 একদা হযরত সায়্যিদুনা শায়খ আবূ বকর শিবলী رحمة الله عليه বাগদাদ শরীফের বিজ্ঞ আলিম হযরত সায়্যিদুনা আবূ বকর মুজাহিদ رحمة الله عليه এর নিকট তাশরিফ নিলেন। হযরত সায়্যিদুনা আবু বকর মুজাহিদ رحمة الله عليه তৎক্ষণাৎ দাঁড়িয়ে তাঁকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন আর কপালে চুমু দিয়ে খুবই সম্মানের সাথে নিজের পাশে বসালেন। সেখানে উপস্থিত লোকেরা আরয করলেন: হে সায়্যিদী! আপনি ও বাগদাদের অধিবাসীরা এতদিন যাবৎ তাঁকে পাগল বলে আসছেন কিন্তু আজকে কেন তাঁকে এমন সম্মান দেখালেন?

জবাবে বললেন: আমি এমনিতেই এরূপ করিনি। الحمد لله عزوجل ! আজ রাতে আমি স্বপ্নে এরূপ ঈমান তাজাকারী দৃশ্য দেখেছি যে, হযরত সায়্যিদুনা আবু বকর শিবলী رحمة الله عليه বারগাহে রিসালাত ﷺ এ উপস্থিত হয়েছেন, তখন ছরকারে দোআলম, নূরে মুজাস্সম, নবী করীম ﷺ দাঁড়িয়ে তাকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন আর কপালে চুমু দিয়ে তাঁর পাশে বসালেন। আমি আরয করলাম ইয়া রাসুলাল্লাহ ﷺ শিবলীর প্রতি এরূপ দয়া প্রদর্শনের কারণ কি? আল্লাহর মাহবুবﷺ (অদৃশ্যের সংবাদ দিয়ে) বললেন: সে প্রত্যেক নামাযের পর এ আয়াত পাঠ করে:

لَقَدْ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مِّنْ أَنفُسِكُمْ عَزِيزٌ عَلَيْهِ مَا عَنِتُّمْ حَرِيصٌ عَلَيْكُم بِالْمُؤْمِنِينَ رَءُوفٌ رَّحِيمٌ 

আয়াত পাঠ করার পর আমার উপর দরূদ শরীফ পাঠ করে। (আল কাওলুল বদী, ৪৬ পৃষ্ঠা, মু’সিসাতুর রাইয়ান, বৈরুত)

❤❤ফযিলত-৪২❤❤ 

হযরত সায়্যিদুনা শায়খ আহমদ ইবনে মনসুর رحمة الله عليه যখন ওফাত প্রাপ্ত হন, তখন একজন শীরাযবাসী তাঁকে স্বপ্নে দেখলেন-তিনি শীরাযের জামে মসজিদের মেহরাবে দাঁড়ানো। আর তাঁর পরনে ছিলো উন্নতমানের পোশাক। মাথার উপর মুক্তা খচিত তাজ শোভা পাচ্ছিলো। স্বপ্নে যে দেখেছে সে স্বপ্নদ্রষ্টা আরয করল, “হযরত কেমন আছেন?” তিনি বললেন, “আল্লাহ তা’আলা আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং আমার উপর দয়া করেছেন। আমাকে তাজ পরিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করিয়েছেন।” লোকটি বললো, “কি কারণে?” বললেন, আমি তাজেদারে মদীনা হযরত মুহাম্মদ ﷺ এর উপর বেশি পরিমাণে দুরূদে পাক পড়তাম, বস্তুত: এই আমলটা কাজে এসেছে।” (আল কাউলূল বদী, পৃ-২৫৪)

❤❤ফযিলত-৪৩❤❤ 

আমীরুল মু’মিনীন হযরত সায়্যিদুনা ওমর ফারুকে আযম رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ বলেন, “দুআ আসমান ও যমীনের মধ্যখানে ঝুলন্ত থাকে! তা থেকে কিছুই ওপরে যায়না (অর্থাৎ দু‘আ কবুল হয় না) যতক্ষণ পর্যন্ত না তুমি আপন নবীর উপর দুরূদ পাঠ কর।” ( জামে তিরমিযী, খন্ড-২য়, পৃ-২৮, হাদীস নং-৪৮৬)

❤❤ফযিলত-৪৪❤❤

আল্লাহর মাহবুব, অদৃশ্যের সংবাদ দাতা নবী, হযরত মুহাম্মদ  ﷺ  এর জান্নাতরূপী ফরমান, “যে ব্যক্তি আমার উপর প্রতিদিন হাজার বার দুরুদে পাক পাঠ করলো, সে যতক্ষণ পর্যন্ত আপন ঠিকানা জান্নাতকে না দেখবে, ততক্ষণ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করবেনা।” (আত্তারগীব ওয়াত্তারহীব ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা ৩২৮ পৃঃ ২২নং হাদীস)

❤❤ফযিলত-৪৫❤❤

সুলতানে   দো-আলম,   নূরে   মুজাস্সাম,     শাহে বনী আদম,  রাসূলে  মুহ্তাশাম   صَلَّی  اللّٰہُ تَعَالٰی  عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ   وَسَلَّم  ইরশাদ করেন:  “যে  ব্যক্তি     দিনে   ও রাতে আমার   প্রতি ভালবাসা ও ভক্তি   সহকারে তিনবার করে  দরূদ শরীফ পাঠ করবে,  আল্লাহ্ তাআলার  উপর (নিজ  বদান্যতায়)   দায়িত্ব যে,  তিনি  তার   ঐ  দিন   ও  ঐ    রাতের  গুনাহ   ক্ষমা করে      দিবেন।(আল  মুজামুল   কবীর    লিখিত তিবরানী, ১৮তম খন্ড,  ৩৬২  পৃষ্ঠা,  হাদীস-৯২৮)

❤❤ফযিলত-৪৬❤❤

রহমতে        আলম,      নূরে      মুজাস্সাম,      রাসূলে আকরাম صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم ইরশাদ করেছেন: “যে  ব্যক্তি জুমার রাত ও জুমার দিন আমার উপর একশত বার দরূদ শরীফ পড়বে, আল্লাহ্     তাআলা  তার    ১০০টি     অভাব পূরণ  করবেন।  (তার  মধ্যে)   ৭০টি  আখিরাতে    আর ৩০টি  দুনিয়াতে।” (তারিখে   দামেশক লি  ইবনে আসাকির, ৫৪তম খন্ড, ৩০১ পৃষ্ঠা, দারুল ফিকর বৈরুত)

❤❤ফযিলত-৪৭❤❤

মদীনার   তাজেদার,   রাসুলদের   সরদার,   হুযুর  পুরনূর   صَلَّی  اللّٰہُ  تَعَالٰی  عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ   وَسَلَّم  ইরশাদ করেছেন:“যে (ব্যক্তি) কুরআন পড়লো, আপন প্রতিপালকের   প্রশংসা   করলো,   অতঃপর   নবী  صَلَّی  اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ   وَسَلَّم এর  উপর দরূদ  পড়লো, তারপর নিজ  প্রতিপালক থেকে  ক্ষমা প্রার্থনা    করলো,     তবে    সে মঙ্গলকে       সেটার জায়গা থেকে তালাশ  করে নিলো।”  (শুয়াবুল    ঈমান,  ২য়  খন্ড, ৩৭৩ পৃষ্ঠা,  হাদীস- ২০৮৪)  

❤❤ফযিলত-৪৮❤❤

খাতামুল     মুরসালীন,    রহমাতুল্লিল    আলামীন,   শফীউল মুযনীবিন,    হুযুর  পুরনূর صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم ইরশাদ করেন: “তোমরা অধিক হারে   আমার   উপর   দরূদ   শরীফ   পাঠ   করো,  নিশ্চয়       এটা তোমাদের      জন্য        পবিত্রতা।” (মুসনাদে   আবি ইয়ালা, ৫ম খন্ড, ৪৫৮  পৃষ্ঠা,   হাদীস- ৬৩৮৩)

❤❤ফযিলত-৪৯❤❤

তাবেয়ী বুযুর্গ হযরত সায়্যিদুনা কাবুল আহবার رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ বলেন: আল্লাহ্ তাআলা হযরত সায়্যিদুনা মুসা কলিমুল্লাহ্ عَلَيْهِ السَّلَام এর নিকট এ মর্মে ওহী পাঠালেন: হে মুসা عَلَيْهِ السَّلَام! তুমি কি কিয়ামতের দিনের পিপাসা থেকে রক্ষা পেতে চাও? আরয করলেন: হে আমার প্রতিপালক! হ্যাঁ! আল্লাহ্ তাআলা ইরশাদ করলেন:   فَاَكْثِرِ الصَّلَاةَ عَلٰى مُحَمَّدٍ অর্থাৎ হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা  صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর উপর বেশি পরিমানে দরূদ শরীফ পড়ো। (ইবনে আসাকির, ৬১তম খন্ড, ১৫০ পৃষ্ঠা, সংক্ষেপিত)

صَلُّوْا عَلَی الْحَبِیْب!         صَلَّی   اللهُ تَعَالٰی عَلٰی مُحَمَّد