৫০০ বছর পর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর হাত মুবারকে চুম্বনের সৌভাগ্য অর্জনকারী ইমাম রেফায়ি (র.)

ইমাম রেফায়ি (র.)


ইমামুল আরেফিন, গাউসুল কবীর, হযরত সৈয়দ আহমদ কবীর রেফায়ী (রা.)’র প্রিয় নবী (দ.)’র হস্ত মুবারক চুম্বনের বিখ্যাত কারামত
------------------------------
ড. এ. এস. এম. ইউসুফ জিলানী
-----------------------------
প্রিয় নবীর হস্তচুম্বনকারী মহান ওলী, ইমামুল আউলিয়া, কুতুবুল আকতাব, গাউসুল কবীর হযরত সৈয়দ আহমদ কবীর রেফায়ী (রা.) সেই মহান আউলিয়ায়ে কেরামের অন্যতম, যাদের থেকে অসংখ্য ও কারামত প্রকাশ পেয়েছে। তার অসংখ্য কারামতের মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ কারামত তাঁর জীবদ্দশায় প্রিয়নবীর পবিত্র হস্ত মুবারক চুম্বন করা। তার এ মহা কারামতটি উপস্থাপন করা হলো।
সৈয়দুল আউলিয়া হযরত সৈয়দ আহমদ কবীর রেফায়ী (রাঃ) ৫৫৫ হিজরীতে বায়তুল্লাহ শরীফে হজ্জ্বব্রত পালন করার সৌভাগ্য লাভ করেন। তিনি যখন মদীনা মুনাওয়ারায় পৌঁছলেন, তখন সরকারে দু’আলম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নূরানী রওযা মোবারকের সমীপে হাযির হয়ে বিনীতভাবে আরয করলেন- اَلسَّلَامُ عَلَيْكَ يَا جَدِّيْ তৎক্ষণাৎ রওযায়ে মোবারক থেকে তার সালামের উত্তর আসে- وَعَلَيْكَ السَّلَامُ يَا وَلَدِيْ রওযা মোবারকের থেকে সালামের জবাবের প্রতিধ্বনী শুনতে পেয়ে তিনি গভীর ভাবাবেগ ও তম্ময়তায় নিবিষ্ট হয়ে যান। তখন যত লোক সেখানে উপস্থিত ছিলেন, তিনি সহ সকলেই এ আওয়াজ শুনতে পান। অল্পক্ষণের পর তিনি কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে ভারাক্রান্ত হৃদয়ে বিলাপের সূরে নিবেদন করেন-
في حالة البعد روحي كنت ارسلها تقبل الارض عني وهي نائبتي
وهذه دولة الاشباح قد حضرت فامدد يمينك كي تحظي بها شفتي
অর্থ দূরে থাকাকালীন সময়ে নিজের রূহকে রওযা মোবারকের পবিত্র খেদমতে পাঠিয়ে দিতাম যেন আমার রূহ আমার প্রতিনিধি হিসেবে আপনার মুকাদ্দাস দরবারের কদমবুছি করার সৌভাগ্য লাভ করে। এবার তো আমি সশরীরে আপনার দরবারে হাযির। কাজেই আপনার পবিত্র হাত মোবারক উত্তোলন করুন, যাতে আমার এ ওষ্ঠ আপনার দস্ত মোবারক চুম্বন করার সৌভাগ্য লাভে ধন্য হয়। [আল-বুনিয়ানুল মুশায়্যাদ, পৃ. ৮।]
হযরত সৈয়দ আহমদ কবীর রেফায়ী (রাঃ) এর এ নিবেদনের পর সরকারে আকদাস সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নূরানী রওযা মোবারক থেকে স্বীয় পবিত্র হাত মোবারক বাড়াইয়ে দেন। আর হযরত রেফায়ি তার পবিত্র হাত মুবারক চুম্বন লাভে ধন্য হন। রওযা শরীফে কয়েক হাজার যিরাতকারী লোক উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা সকলেই তার এ দস্ত মোবারক অবলোকন করেন ও যিয়ারত লাভে ধন্য হন। তখন উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শী যিয়ারতকারীগণের মধ্যে গাউসুল আযম দস্তগীর হযরত হযরত শায়খ আবদুল কাদের জিলানী (রাঃ), হযরত শায়খ আদ্দি বিন মুসাফির আলউমবি (রাঃ) ও হযরত শায়খ আবদুর রাজ্জাক ওয়াসেতী (র.) প্রমুখ শীর্ষ বুজুর্গানে দ্বীন অন্যতম।
হযরত শায়খ হায়াত বিন কায়েস হারবুনি, শায়খ আদি বিন মুসাফির, শায়খ আকিল, শায়খ আহমাদুল কবির যাফরানি, শায়খ আহমদ যাহিদ আনসারি, শায়খ শরফুদ্দিন হাশেমি আব্বাসি প্রমুখ বিশিষ্ট ওলিগণও তখন উপস্থিত ছিলেন। বরকতের আশায় তারা সকলে তখনই ইমাম রেফায়ির হাতে বায়আত করেন। আর শায়খ আলী বিন খামিছ, শায়খ আলী তাবারি, শায়খ আহমদ বিন মাহমুদ রিবযি, আমির আসাদুদ্দিন বিন সাদি, শায়খ হাসান বিন মুহাম্মদ হুসাইনি এবং শায়খ আবদুর রাজ্জাক ওয়াসেতিও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তারাও রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লামের হস্ত মুবারকের যিয়ারত লাভে ধন্য হন। [আল-বুনিয়ানুল মুশায়্যাদ, পৃ. 9]
...............................
বিস্তারিত দেখুন, অধমের রচিত, কুতুবুল আওলিয়া, গাউসুল কবীর, হযরত সৈয়দ আহমদ কবীর রেফায়ী (রা.) কারামত গ্রন্থটি।
তারিখ: 20/12/2020 ইং
...............................
Previous Next

نموذج الاتصال