পর্দার মাসআলা (ষষ্ঠ পর্ব) শিক্ষকের সাথেও কি পর্দা করতে হবে? | ইসলামী বিশ্বকোষ ও আল-হাদিস

পর্দার মাসআলা (ষষ্ঠ পর্ব)
শিক্ষকের সাথেও কি পর্দা করতে হবে?
প্রশ্ন:- না মাহরাম শিক্ষকের সাথেও কি পর্দা করতে হবে?
উত্তর:- জ্বী, হ্যাঁ! যেমন; শৈশবকালে কোন না-মাহরামের নিকট কোরআনে পাক পড়তো, আর এখন সে বালিগা হয়ে গেছে। তবে সেই শিক্ষকের সাথেও পর্দা করা ফরয হয়ে যাবে। আমার আক্বা আ’লা হযরত, ইমামে আহলে সুন্নাত, মুজাদ্দীদে দ্বীন ও মিল্লাত, মাওলানা শাহ্ ইমাম আহমদ রযা খাঁন ﺭَﺣْﻤَﺔُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻠَﻴْﻪِ বলেন: “বাকী রইল পর্দা করা, শিক্ষক ও শিক্ষক নয় এমন ব্যক্তি, পীর ও পীর নয় এমন ব্যক্তি, আলীম ও আলীম নয় এমন পীর এতে সবাই সমান।” (ফতোওয়ায়ে রযবীয়া, ২৩তম খন্ড, ৬৩৯ পৃষ্ঠা)
পীর ও মুরিদনীর পর্দা
প্রশ্ন:- মুরিদনী এবং পীরের মধ্যেও কি পর্দা রয়েছে?
উত্তর:- জ্বী, হ্যাঁ! না-মাহরাম পীরের সাথেও মহিলার পর্দা রয়েছে। আমার আক্বা আ’লা হযরত ﺭَﺣْﻤَﺔُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻠَﻴْﻪِ বলেন: “পর্দার ব্যাপারে পীর ও পীর নয় এমন ব্যক্তি প্রত্যেক পর-পুরুষের ব্যাপারে হুকুম সমান।” (ফতোওয়ায়ে রযবীয়া, ২২তম খন্ড, ২০৫ পৃষ্ঠা)
মহিলা না-মাহরাম পীরের হাত চুম্বন করতে পারবে না
প্রশ্ন:- ইসলামী বোনেরা কি তাদের পীরের হাত চুম্বন করতে পারবে?
উত্তর:- ইসলামী বোনের জন্য না-মাহরাম পীরের হাত চুম্বন করা হারাম। যদি পীর বাধা প্রদান না করে তবে পীরও গুনাহগার হবে। প্রিয় নবী, রাসূলে আরবী ﺻَﻠَّﯽ ﺍﻟﻠّٰﮧُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﯽ ﻋَﻠَﯿْﮧِ ﻭَﺍٰﻟِﮧٖ ﻭَﺳَﻠَّﻢ এর কাজের ধরন লক্ষ্য করুন। যেমনিভাবে; উম্মুল মু’মিনীন হযরত সায়্যিদাতুনা আয়েশা সিদ্দিকা ﺭَﺿِﻰَ ﺍﻟﻠﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻨْﻬَﺎ বলেন: “প্রিয় আক্বা ﺻَﻠَّﯽ ﺍﻟﻠّٰﮧُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﯽ ﻋَﻠَﯿْﮧِ ﻭَﺍٰﻟِﮧٖ ﻭَﺳَﻠَّﻢ যেই মহিলাদের বাইয়াত করাতেন, তাদেরকে বলতেন; যাও, আমি তোমাদেরকে বাইয়াত করলাম। খোদার শপথ! বাইয়াত করার সময় হুযুর পুরনূর ﺻَﻠَّﯽ ﺍﻟﻠّٰﮧُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﯽ ﻋَﻠَﯿْﮧِ ﻭَﺍٰﻟِﮧٖ ﻭَﺳَﻠَّﻢ এর হাত মোবারক কখনও কোন মহিলার হাতের সাথে স্পর্শ হয়নি।” (ইবনে মাজাহ, ৩য় খন্ড, ৩৯৮ পৃষ্ঠা, হাদীস: ২৮৭৫)
হযরত সায়্যিদাতুনা উমাইমা বিনতে রুকাইকা ﺭَﺿِﻰَ ﺍﻟﻠﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻨْﻬَﺎ বলেন: “আমি কয়েক জন মহিলার সাথে নবী করীম ﺻَﻠَّﯽ ﺍﻟﻠّٰﮧُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﯽ ﻋَﻠَﯿْﮧِ ﻭَﺍٰﻟِﮧٖ ﻭَﺳَﻠَّﻢ এর দরবারে বাইয়াত গ্রহনের জন্য উপস্থিত হলাম। হুযুর ﺻَﻠَّﯽ ﺍﻟﻠّٰﮧُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﯽ ﻋَﻠَﯿْﮧِ ﻭَﺍٰﻟِﮧٖ ﻭَﺳَﻠَّﻢ ইরশাদ করলেন: ﺍِﻧِّﻲْ ﻟَﺎ ﺍُﺻَﺎﻓِﺢُ ﺍﻟﻨِّﺴَﺎﺀ " অর্থাৎ আমি মহিলাদের সাথে করমর্দন করি না (অর্থাৎ হাত মিলাই না)।” (সুনানে ইবনে মাজাহ, ৩য় খন্ড, ৩৯৮ পৃষ্ঠা, হাদীস: ২৮৭৪)
পর-নারীর সাথে হাত মিলানোর শাস্তি
পীর সাহেব মহিলাদের দ্বারা হাত চুম্বন করানো তো দূরের কথা, যদি শুধু তার সাথে হাত মিলায় তবে তার শাস্তিও কম ভয়ঙ্কর নয়। যেমনিভাবে; হযরত ফকিহ আবু লাইছ সমরকন্দি ﺭَﺣْﻤَﺔُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻠَﻴْﻪِ বর্ণনা করেন: “দুনিয়াতে পর-নারীর সাথে হাত মিলানো ব্যক্তি কিয়ামতের দিন এ অবস্থায় উঠবে যে, তার হাত তার ঘাঁড়ের সাথে আগুনের শিকল দ্বারা বাঁধা থাকবে।” (কুর্রাতুল উয়ূন ও রওযুল ফায়িক্ব, ৩৮৯ পৃষ্ঠা)
কোরআন শিখার জন্য মহিলাদের ঘর থেকে বের হওয়া
প্রশ্ন:- কোরআনে পাক বিশুদ্ধ ভাবে পড়া জরুরী, তাহলে কি ইসলামী বোনেরা তা শিখার জন্য ঘর থেকে বের হতে পারবে?
উত্তর:- উত্তম হলো, ঘরের কোন মাহরাম পুরুষ থেকে যেন শিখে। তা না হলে অপারগতাবস্থায় কোন ইসলামী বোনের কাছে শেখার জন্য এভাবে বাহিরে বের হবে যেন পর্দার শরয়ী বিধান পরিপূর্ণ ভাবে আদায় হয়।
অটলতার ফল
ﺍَﻟْﺤَﻤْﺪُ ﻟِﻠّٰﻪِ ﻋَﺰَّﻭَﺟَﻞّ দা’ওয়াতে ইসলামীর মাদানী পরিবেশ এবং বিশেষত মাদানী কাফেলায় অসংখ্য ইলমে দ্বীন এবং সুন্নাত শিক্ষার সুযোগ পাওয়া যায়। দা’ওয়াতে ইসলামীর মাদানী পরিবেশের সাথে সম্পৃক্ত থাকলে জীবনে সেই আশ্চর্যজনক পরিবর্তন আসবে, যা দেখে অবলোকনকারী অবাক হয়ে যাবে। দা’ওয়াতে ইসলামীর মাদানী পরিবেশের বরকতে পরিপূর্ণ একটি মাদানী বাহার লক্ষ্য করুন; বাবুল মদীনা করাচীর একজন ইসলামী বোনের বর্ণনার সারাংশ হলো, দা’ওয়াতে ইসলামীর মাদানী রঙ্গে রঙ্গিন হওয়ার পূর্বে আমি অনেক বাচাল ছিলাম। হাসি-ঠাট্টা করতাম এবং কটাক্ষ করে অন্যকে বিরক্ত করা আমার মারাত্মক বদঅভ্যাস ছিলো। নামাযের একেবারেই মন মানসিকতা ছিলো না। প্রতি মঙ্গলবার কিছু ইসলামী বোন আমাদের ঘরে নেকীর দাওয়াত দেয়ার জন্য আসতো, কিন্তু আমরা তিন বোন শুনেও না শুনার ভান করতাম, বরং অনেক সময় তো রান্নাঘরে গিয়ে লুকিয়ে থাকতাম। আম্মাজান যখন এসব জানতেন তখন এসে আমাদেরকে বুঝাতেন যে, এই বেচারা মহিলারা নিজেই আমাদের ঘরে আসে, কমপক্ষে তাদের কথাগুলো তো শুনো, তারাও তো তোমাদের মতো মানুষ। সেই ইসলামী বোনদের অটলতার প্রতি উৎসর্গ যে, আমাদের এই অলসতা ও দুষ্টুমি সত্ত্বেও হতাশ না হয়ে তারা মাদানী প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকেন। ﺍَﻟْﺤَﻤْﺪُ ﻟِﻠّٰﻪِ ﻋَﺰَّﻭَﺟَﻞّ অবশেষে এমন এক দিনও আসলো যে, আমার বড় বোন তাদের উৎসাহে দা’ওয়াতে ইসলামীর মাদরাসাতুল মদীনার শিক্ষিকা কোর্সে ভর্তি হয়ে গেলেন। সেখানে তার মাদানী মন-মানসিকতা সৃষ্টি হতে লাগল। তাকে দেখে আমাদের দু’বোনেরও অন্তরে ইচ্ছা জাগল তাই আমরাও শিক্ষিকা কোর্সে ভর্তি হয়ে গেলাম। ﺍَﻟْﺤَﻤْﺪُ ﻟِﻠّٰﻪِ ﻋَﺰَّﻭَﺟَﻞّ সময়ের সাথে সাথে আমরা তিন বোনও মাদানী রঙ্গে রঙ্গিন হয়ে গেলাম। মাদানী বোরকাও আপন করে নিলাম এবং দা’ওয়াতে ইসলামীর কাজ করতে করতে আজ আমি এলাকা মুশাওয়ারাতের সেবিকা হিসেবে ইসলামী বোনদের নেকীর দাওয়াতের সাড়া জাগানো চেষ্টায় রত আছি।
তুমহে লুত্বফ আ’জায়েগা যিন্দেগী কা, করিব আঁকে দেখো যরা মাদানী মাহোল।
ﺻَﻠُّﻮﺍ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﺤَﺒِﻴﺐ ! ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟَﻰ ﻋَﻠﻰ ﻣُﺤَﻤَّﺪ
প্রতিটি বাক্যের বিনিময়ে এক বছরের ইবাদতের সাওয়াব
ইসলামী বোনেরা! বর্ণিত মাদানী বাহারে সেই সকল ইসলামী বোন ও ইসলামী ভাইদের জন্য শিক্ষা লুকায়িত রয়েছে, যারা এরূপ বলে যে, আমাদের কথা তো কেউ শুনেইনা। বহুদিন যাবত অমুকের উপর ইনফিরাদী কৌশিশ করছি কিন্তু কোন প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। এমন লোকদের খিদমতে আদবের সাথে আবেদন যে, “আমাদের কাজ নেকীর দাওয়াত পৌছানো, কাউকে হিদায়াত করা বা মানানো আমাদের দায়িত্ব নয়।” যদি হতাশ না হয়ে নিয়মিত ভাবে ইনফিরাদী কৌশিশের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখেন, তবে ﺍِﻥْ ﺷَﺎﺀَ ﺍﻟﻠﻪ ﻋَﺰَّﻭَﺟَﻞّ একদিন সেই প্রচেষ্টা সফল হবে এবং অন্যান্য নেকীর দাওয়াতের সাওয়াব তো অর্জন হবেই। যেমন; আল্লাহ্ তাআলার দরবারে হযরত সায়্যিদুনা মুসা কলিমুল্লাহ্ ﻋَﻠٰﯽ ﻧَﺒِﯿِّﻨَﺎﻭَﻋَﻠَﯿْﮧِ ﺍﻟﺼَّﻠﻮٰۃُ ﻭَﺍﻟﺴَّﻼﻡ আরয করলেন: “হে আল্লাহ্! যে তার ভাইকে নেকীর দাওয়াত দেয় এবং মন্দ কাজ থেকে বাধা প্রদান করে, তার প্রতিদান কি? আল্লাহ্ তাআলা ইরশাদ করেন: “আমি তার প্রতিটি বাক্যের বিনিময়ে এক বছরের ইবাদতের সাওয়াব লিখে দিই। আর তাকে জাহান্নামের শাস্তি দিতে আমার লজ্জাবোধ হয়।” (মুকাশাফাতুল কুলুব, ৪৮ পৃষ্ঠা)
মহিলারা নিজের পীরের কাছ থেকে জ্ঞানার্জন করা
প্রশ্ন:- ইসলামী বোনেরা কি নিজের পীরের কাছ থেকে জ্ঞানার্জন করতে পারবে?
উত্তর:- এর কতিপয় শর্তাবলী রয়েছে; যেমনিভাবে; আমার আক্বা আ’লা হযরত, ইমামে আহলে সুন্নাত, মুজাদ্দীদে দ্বীন ও মিল্লাত, মাওলানা শাহ্ ইমাম আহমদ রযা খাঁন ﺭَﺣْﻤَﺔُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻠَﻴْﻪِ বলেন: “যদি শরীর মোটা এবং ঢিলেঢালা কাপড়ে আবৃত থাকে, এমন পাতলা (কাপড়) যেন না হয় যে, শরীর বা চুলের রং প্রকাশিত হয়, আর এমন আঁটোসাঁটোও (কাপড়) যেন না হয় যে, শরীরের আকৃতি বুঝা যায় এবং একাকীও যেন না হয় আর পীর যেন যুবক না হয় (অর্থাৎ এমন বৃদ্ধ হওয়া, যাতে উভয় পক্ষ থেকে অর্থাৎ পীর ও মুরীদনী কারো পক্ষ থেকে যৌন উত্তেজনার আশংকা না হওয়া) মোটকথা না কোন ফিতনা সেই সময়ে হয়, না ভবিষ্যতে হওয়ার আশংকা হয়, তবেই ইলমে দ্বীন এবং আল্লাহর রাস্তার কাজসমূহ শেখার জন্য যাওয়া বা ডাকাতে কোন সমস্যা নাই।” (ফতোওয়ায়ে রযবীয়া, ২২তম খন্ড, ২৪০ পৃষ্ঠা)
মহিলারা নিজের পীরের সাথে কথা বলতে পারবে কিনা?
প্রশ্ন:- ইসলামী বোনেরা কি না-মাহরাম পীর অথবা পর-পুরুষের সাথে
কথাবার্তা বলতে পারবে?
উত্তর:- শুধুমাত্র প্রয়োজন বশতঃ কথা বলতে পারবে। এর অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে আমার আক্বা আ’লা হযরত, ইমামে আহলে সুন্নাত, মুজাদ্দীদে দ্বীন ও মিল্লাত, মাওলানা শাহ্ ইমাম আহমদ রযা খাঁন ﺭَﺣْﻤَﺔُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻠَﻴْﻪِ বলেন: “সকল মাহরামের সাথে কথাবার্তা বলতে পারবে, আর যদি প্রয়োজন হয় এবং ফিতনার আশংকা না থাকে আর একাকীত্বেও না হয় তবে পর্দার মধ্যে থেকে কতিপয় না-মাহরামের সাথেও কথাবার্তা বলতে পারবে।” (ফতোওয়ায়ে রযবীয়া, ২২তম খন্ড, ২৪৩ পৃষ্ঠা)
পীর সাহেবের সাথে যেন তার বিনা অনুমতিতে কথাবার্তা না বলে এবং তাকে যেন কথাবার্তা বলার জন্য বাধ্য করা না হয়, হতে পারে তার নিকট কথাবার্তা না বলাতেই কল্যাণ নিহিত রয়েছে।
পীর ও মুরীদনীর ফোনের মাধ্যমে কথাবার্তা
প্রশ্ন:- ইসলামী বোনেরা কি আপন পীরের নিকট ফোনের মাধ্যমে নিজের সমস্যা সমাধানের জন্য দোয়ার আবেদন করতে পারবে?
উত্তর:- করতে তো পারবে কিন্তু না-মাহরাম পীর সাহেব (অথবা অন্য কোন পর-পুরুষের সাথে যদি প্রয়োজন বশতঃ কথা বলতেই হয় তবে) তার সাথে কণ্ঠস্বর ও ভাষা যেন কর্কশ হয়। কণ্ঠে যেন মন গলানো ও নরম নরম এবং নিঃসংকোচ মূলক ভাব না হয়। (রদ্দুল মুহতার, ২য় খন্ড, ৯৭ পৃষ্ঠা, সংকলিত) যেহেতু এতে ছাড় দেয়া খুবই কঠিন, তাই উত্তম হচ্ছে; এই সমস্যাবলীকে নিজের মাহরামের মাধ্যমে যেন পীরের নিকট পৌঁছায়। তাছাড়া অপ্রয়োজনে না-মাহরাম পীরের সাথেও কথাবার্তা বলতে পারবে না। যেমন; শুধু সালাম ও দোয়া এবং শরীরের অবস্থা জিজ্ঞাসা করা ইত্যাদিও ফোনে বলতে পারবে না। কেননা, এগুলো প্রয়োজনীয় কথার অন্তর্ভূক্ত নয়।
মহিলার জন্য ফোন রিসিভ করার পদ্ধতি
প্রশ্ন:- ইসলামী বোনেরা কি পর-পুরুষের ফোন রিসিভ করতে পারবে?
উত্তর:- বর্ণিত সতর্কতা সহকারে রিসিভ করতে পারবে। অর্থাৎ কোমল কণ্ঠ যেন না হয়। যেমন; কোমল কণ্ঠে “হ্যালো হ্যালো” বলার পরিবর্তে রুক্ষ ভাষায় জিজ্ঞাসা করবে: “কে?” এখানে অবস্থা খুবই কঠিন হয়ে যায়। কেননা, আশংকা থাকে যে, সম্মুখস্থ ব্যক্তি ঘরের কোন পুরুষের সাথে কথা বলার আবেদন করে বসতে পারে। নিজের নাম ও উদ্দেশ্য বর্ণনা করে এবং তার সাথে কথা বলার সময় ইত্যাদিও জিজ্ঞাসা করে।
এছাড়া এটাও হতে পারে যে (আল্লাহ্ রক্ষা করুক) কোন লজ্জাশীলা এবং আমলদার ইসলামী বোনের রুক্ষ ভাষায় কথা বলাতে (সম্মুখস্থ ব্যক্তি) খারাপ মনে করবে এবং শরয়ী মাসয়ালা সম্পর্কে অজ্ঞ থাকার কারণে কড়া কিছু বলে দিতে পারে। যেমনিভাবে কতিপয় ইসলামী ভাই তাদের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন
যে, না-মাহরাম মহিলাদের সাথে প্রয়োজন বশতঃ ফোনে কথা বলার সময় আমাদের রুক্ষ ভাষার কারণে মহিলারা ( ﻣَﻌَﺎﺫَ ﺍﻟﻠﻪ ﻋَﺰَّﻭَﺟَﻞ ) (আল্লাহর পানাহ!) এরকম কথা শুনিয়ে থাকে। যেমন; মাওলানা! আপনার এতো রাগ কেন? যাহোক নিরাপত্তা এতেই মনে হয় যে, আন্সারিং মেশিন লাগিয়ে দেয়া এবং তাতে পুরুষের কণ্ঠে এই বাক্য রেকর্ড করিয়ে দেয়া “উদ্দেশ্য রেকর্ড করিয়ে দিন” পরে রেকর্ডকৃত বার্তা ঘরের পুরুষ তার সুবিধানুযায়ী শুনে নিবে।
উম্মাহাতুল মু’মিনীনদের ﺭَﺿِﻰَ ﺍﻟﻠﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻨْﻬُﻦَّ পর-পুরুষের সাথে কথাবার্তা সম্পর্কে ২২ পারায় সূরা আহযাবের ৩২নং আয়াতে ইরশাদ হয়েছে:
ﻳَﺎ ﻧِﺴَﺎﺀَ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﻟَﺴْﺘُﻦَّ ﻛَﺄَﺣَﺪٍ ﻣِّﻦَ ﺍﻟﻨِّﺴَﺎﺀِ ۚ ﺇِﻥِ ﺍﺗَّﻘَﻴْﺘُﻦَّ ﻓَﻠَﺎ ﺗَﺨْﻀَﻌْﻦَ ﺑِﺎﻟْﻘَﻮْﻝِ ﻓَﻴَﻄْﻤَﻊَ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﻓِﻲ ﻗَﻠْﺒِﻪِ ﻣَﺮَﺽٌ ﻭَﻗُﻠْﻦَ ﻗَﻮْﻟًﺎ ﻣَّﻌْﺮُﻭﻓًﺎ
কানযুল ঈমান থেকে অনুবাদ: হে নবীর স্ত্রীগণ! তোমরা অন্যান্য নারীদের মতো নও, যদি আল্লাহকে ভয় করো তাহলে কথায় এমন কোমলতা অবলম্বন করো না যেন অন্তরের রোগী কিছু লোভ করে; হ্যাঁ, ভালো কথা বলো। (পারা: ২২, আহযাব, আয়াত: ৩২)
হতভাগ্য আবিদ ও যুবতী মেয়ে
প্রশ্ন:- বুযুর্গদের প্রতি কি মহিলাদের ভয়, নাকি মহিলাদের প্রতি বুযুর্গদের?
উত্তর:- উভয়েরই একে অপরের প্রতি গুনাহের আশংকা রয়েছে। কারোরই নিজের নফসকে বিশ্বাস করা উচিত নয়। দা’ওয়াতে ইসলামীর প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান মাকতাবাতুল মদীনা কর্তৃক প্রকাশিত ৫৬১ পৃষ্ঠা সম্বলিত কিতাব “মলফুযাতে আ’লা হযরত” এর ৪৫৪ পৃষ্ঠায় আমার আক্বা আ’লা হযরত, ইমামে আহলে সুন্নাত, মুজাদ্দীদে দ্বীন ও মিল্লাত, মাওলানা শাহ্ ইমাম আহমদ রযা খাঁন ﺭَﺣْﻤَﺔُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻠَﻴْﻪِ বলেন: “যে ব্যক্তি নিজের নফসের উপর ভরসা করলো সে অনেক বড় মিথ্যাবাদীর উপর ভরসা করলো।” কিভাবে শয়তান লোকদেরকে তার জালে ফাসিঁয়ে ধ্বংস করে দেয়, তা বুঝার জন্য একটি শিক্ষণীয় কাহিনী লক্ষ্য করুন: যেমনিভাবে; বর্ণিত আছে, বনী ইসরাঈলের একজন অনেক বড় আবিদ (ইবাদত গুজার) ব্যক্তি ছিলো। একই এলাকার তিন ভাই একদা সেই আবিদের নিকট উপস্থিত হয়ে আরয করল: আমরা সফরে যাচ্ছি, তাই ফিরে আসা পর্যন্ত আমাদের যুবতী বোনকে আমরা আপনার নিকট রেখে যেতে চাই। আবিদ ব্যক্তিটি ফিতনার ভয়ে নিষেধ করে দিল। কিন্তু তাদের বারংবার অনুরোধের কারণে অবশেষে সে রাজি হলো এবং বললো: তাকে আমি আমার সাথে তো রাখতে পারব না বরং তাকে কোন নিকটস্থ বাড়ীতে রেখে যান। সুতরাং এমনই হলো। আবিদ তার ইবাদতখানার দরজার বাইরে খাবার রেখে দিতো এবং সে তা নিয়ে নিতো। কিছুদিন পর শয়তান সেই আবিদের অন্তরে সহানুভূতির মাধ্যমে কুমন্ত্রণা জাগিয়ে দিল যে, খাবারের সময় সেই যুবতী মেয়ে তার ঘর থেকে বের হয়ে আসে, কখনো কোন দুষ্ট লোকের হাতে যেন পড়ে না যায়। উত্তম এটাই যে, তোমার দরজার পরিবর্তে তার দরজার বাইরে খাবার রেখে দাও। এই সৎ নিয়্যতের বিনিময়ে যথেষ্ট পরিমাণে সাওয়াবও অর্জিত হবে। সুতরাং সে এখন যুবতী মেয়েটির দরজার সামনে খাবার পৌঁছানো আরম্ভ করলো। কিছুদিন পর শয়তান পূনরায় কুমন্ত্রণার মাধ্যমে আবিদের সহানুভূতির প্রেরণা বাড়িয়ে তুলল যে, এই নিঃস্ব মেয়েটা নিশ্চুপ একা একা পড়ে থাকে। কমপক্ষে তার ভয়ভীতি দূর করার ভাল ভাল নিয়্যত সহকারে কথা বলাতে কি গুনাহ। বরং এটাতো নেককাজ, তুমি তো এমনিতেই পরহেজগার ব্যক্তি এবং নফসের উপর বিজয়ী। নিয়্যতও তোমার পরিস্কার, সে তো তোমার বোনের মতোই। সুতরাং কথাবার্তা বলা শুরু হলো। যুবতী মেয়ের সুমধুর কণ্ঠ আবিদ ব্যক্তির কানে মধু বর্ষন করল, অন্তরে উতাল পাতাল ঢেউ সৃষ্টি হলো। শয়তান তাকে আরও উৎসাহিত করলো, এমনকি যা না হওয়ার তাও হয়ে গেলো এবং মেয়েটি সন্তানও প্রসব করলো। শয়তান পূনরায় কুমন্ত্রণার মাধ্যমে ভয় দেখাল যে, যদি মেয়েটির ভাইয়েরা সন্তানকে দেখে তবে অনেক অসম্মান হয়ে যাবে। সম্মান অধিক প্রিয় সুতরাং নবজাতক সন্তানের গলা কেটে মাটিতে দাফন করে দাও। আবিদ ব্যক্তির মন মানসিকতা তৈরী হয়ে গেলো, অতঃপর তৎক্ষণাত কুমন্ত্রণা দিলো যে, এমন যেন না হয় যে, মেয়েটি নিজেই তার ভাইদেরকে বলে দেয়, এজন্য নিরাপত্তা এতেই যে, না থাকুক বাঁশ আর না বাজুক বাশিঁ। উভয়কেই জবাই করে দাও, মোটকথা আবিদ ব্যক্তি যুবতী মেয়ে এবং নবজাতক সন্তানকে নির্দয়ভাবে জবাই করে সেই জায়গাতেই একটি গর্ত খনন করে তাদেরকে দাফন করে মাটিকে সমান করে দিল। যখন তিন ভাই সফর থেকে ফিরে এসে তার নিকট এলো তখন সেই আবিদ ব্যক্তি আফসোস প্রকাশ করে বললো: আপনার বোনের ইন্তেকাল হয়ে গেছে। আসুন! তার কবরে ফাতিহা পাঠ করি, সুতরাং আবিদ ব্যক্তি তাদেরকে কবরস্থানে নিয়ে গেলো এবং একটি কবর দেখিয়ে মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে বললো: এটা আপনার মরহুমা বোনের কবর। সুতরাং তারা তার কবরে ফাতিহা পাঠ করলো এবং বেদনাগ্রস্থ হৃদয় নিয়ে ফিরে গেলো। রাতে শয়তান এক মুসাফিরের বেশে তিন ভাইয়ের স্বপ্নে আসল এবং সেই আবিদের সমস্ত অসৎকর্ম বর্ণনা করলো। আর দাফন কৃত স্থান দেখিয়ে দিলো এবং বললো: এ জায়গাটি খনন করো। সুতরাং তিন ভাই উঠল এবং একে অপরকে নিজের স্বপ্ন শুনাল। তিন ভাই মিলে স্বপ্নে চিহ্নিত করা মাটি খনন করলো, আসলেই সেখানে তাদের বোন এবং নবজাতক সন্তানের জবাইকৃত লাশ দেখতে পেল। তৎক্ষণাৎ তারা তিন জন আবিদ ব্যক্তির নিকট উপস্থিত হলো এবং সে তার অন্যায় স্বীকার করলো। তিন ভাই মিলে বাদশাহের দরবারে অভিযোগ করলো। আবিদ ব্যক্তিকে তার ইবাদত খানা থেকে টেনে হেঁচড়ে বের করলো এবং শুলীতে চড়ানোর নির্দেশ দেয়া হলো। যখন তাকে শুলীতে ছড়ানোর জন্য আনা হলো তখন শয়তান তার সামনে প্রকাশ হলো আর বললো: আমাকে চিনতে পেরেছ! আমি সেই শয়তান, যে তোমাকে মহিলার ফিতনায় ফেলে অপমানের সর্বশেষ স্থানে পৌঁছিয়েছি। যাই হোক ঘাবড়িয়ো না আমি তোমাকে বাঁচাতে পারব। কিন্তু শর্ত হলো, তোমাকে আমার আনুগত্য করতে হবে। যে মরে সে কিইবা না করে, আবিদ ব্যক্তি বললো: আমি তোমার প্রতিটি কথা মানার জন্য প্রস্তুত আছি। শয়তান বললো: আল্লাহকে অস্বীকার করো এবং কাফির হয়ে যাও। তখন হতভাগা আবিদ বললো: আমি আল্লাহকে অস্বীকার করছি এবং কাফির হচ্ছি। তৎক্ষণাৎ শয়তান অদৃশ্য হয়ে গেলো এবং সিপাহিরা সেই হতভাগা আবিদকে শুলীতে ছড়িয়ে দিলো। (তালবিসে ইবলিস, ৩৮-৪০ পৃষ্ঠা থেকে সংকলিত)
যৌন উত্তেজনা কুফরী পর্যন্ত পৌঁছিয়ে দিলো
আপনারা দেখলেন তো! শয়তানের নিকট পুরুষদেরকে ধ্বংস করার জন্য সর্বোচ্চ ও মন্দ হাতিয়ার হচ্ছে মহিলা। হতভাগা আবিদ নিজের আশ্রয়ে যুবতী মেয়েকে রাখার জন্য সম্মত হয়ে গেলো এবং শয়তানের ধোঁকায় পড়ে খাবারও তার দরজায় পৌঁছাতে লাগল আর এমনিভাবে সে শুধুমাত্র শয়তানকে আঙ্গুল ধরার সুযোগ দিয়েছিল। কিন্তু সেই চালবাজ (শয়তান) নিজেই তার হাত ধরে ফেললো এবং পরিশেষে আল্লাহ্ তাআলার সত্ত্বাকে অস্বীকার করিয়ে তাকে শূলীতে
চড়িয়ে (শূলী হলো সুঁচালো কাটের টুকরোকে পেরেকের মতো মাটিতে পুঁতে রেখে আসামীর প্রাণ নেয়া হয়) অপমানের মৃত্যুতে উপনীত করলো আর এই যৌন উত্তেজনা তাকে কুফরী পর্যন্ত পৌঁছিয়ে দিল।
হযরত সায়্যিদুনা আবু দারদা ﺭَﺿِﻰَ ﺍﻟﻠﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻨْﻪُ একেবারে সত্য বলেছেন; “মুহুর্তের যৌন ড়নার স্বাদ দীর্ঘস্থায়ী দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।” নিঃসন্দেহে কোন পরিচিত ব্যক্তি হোক বা না-মাহরাম আত্মীয়, তাদের সাথে পর্দা করার মধ্যেই উভয় জাহানের সফলতা রয়েছে। তা না হলে পুরুষ ও মহিলা উভয়ের মধ্যে অন্তরঙ্গ হওয়াটা খুবই ভয়ানক পরিণতি ডেকে আনতে পারে। হতভাগা বিদের ঘটনাটি থেকে এই কথাটিও জানা গেলো, মহিলাদের ফিতনার কারণে হত্যা-অরাজকতার কতো ঘটনা যে ঘটতে পারে। উভয় পক্ষের কঠিনতর পরিণতির আশংকা এবং ঈমান বিনষ্ট হয়ে যাওয়ার খুবই সম্ভাবনা থাকে।
করলে তাওবা রব কি রহমত হে বড়ী
কবর মে ওয়ার না সাজা হোগী কড়ি।
আলিম সাহেবের মেয়ে যদি বেপর্দা হয় তবে?
প্রশ্ন:- আজকাল তো অনেক আলিমের মেয়েরাও পর্দার বিধানাবলি পালন করে না?
উত্তর:- কোন আলিম বা পীরের মেয়েকে যদিও বেপর্দা হতে দেখেন, তবে নিজের পরকাল বিনষ্ট করার জন্য দয়া করে সেটাকে দলিল বানাবেন না। আর তাদের সম্মনিত পিতা মহোদয় (অর্থাৎ সেই আলিমে দ্বীন ও শরীয়াতের অনুসারী পীরের) ব্যাপারে কুধারণা করবেন না। যুগ বড়ই নাজুক, বর্তমান যুগের সন্তানগণ খুবই কম বাধ্য ও অনুগত হয়। আলিম ও পীর নিজের সন্তানদেরকে শরীয়াতের সীমায় থেকে বুঝাতে পারবে, কখনও কখনও শাস্তিও দিতে পারবে। কিন্তু প্রানে তো মেরে ফেলতে পারবে না। হতে পারে যে, সেই আলিম ও পীর সাহেব বুঝানোর শরয়ী সীমা পূর্ণ করে ফেলেছে।
আলিম পিতার বেদনাদায়ক পরিণতি
প্রশ্ন:- যদি কোন আলিম বা পীর সাহেবের পরিবারবর্গ শরীয়াত বিরোধী কোন কাজ করে, তবে আজকাল অধিকাংশ লোক, উলামা ও মাশায়েখদেরকে এভাবে গালমন্দ করতে থাকে যে; এই লোকেরা (হুযুররা) তো দুনিয়াকে সংশোধন করে, কিন্তু নিজের পরিবারকে সংশোধন করে না?
উত্তর:- সেই লোকদের দূর্ভাগা, যারা অকারণে কুধারণা করে উলামা ও মাশায়েখদের বিরোধী হয়ে যায়। দেখুন! ওয়াজ নসীহত করা আল্লাহ্ তাআলার আদেশক্রমে উলামাদের কাজ, কিন্তু লোকদের হিদায়াত করা, অন্তরকে পরিবর্তন করা ও খারাপ লোকদেরকে সংশোধন করা আল্লাহ্ তাআলার কাজ। যদি কোন আলিম অথবা পীর সাহেব বরং প্রত্যেক মুসলমান যারা সত্যিকারেই নিজেদের সন্তানদেরকে সংশোধন করার যথাসাধ্য চেষ্টা করে না, তারা নিঃসন্দেহে গুনাহগার। কিন্তু শরীয়াতের বিনা অনুমতিতে তাদেরকে ভাল-মন্দ বলার কোন অধিকার আমাদের নেই। আলিম হোক বা না হোক সবারই আল্লাহ্ তাআলার অমুখাপেক্ষীতার প্রতি ভীত কম্পিত থাকা উচিত। এই ব্যাপারে একটি শিক্ষণীয় ঘটনা লক্ষ্য করুন। যেমনিভাবে; হযরত সায়্যিদুনা মালিক বিন দীনার ﺭَﺣْﻤَﺔُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻠَﻴْﻪِ বর্ণনা করেন: বর্ণিত আছে; “বনি ইসরাঈলের একজন আলিম সাহেব নিজের ঘরে ইজতিমার আয়োজন করে সেখানে বয়ান করতেন। একদিন সেই আলিম সাহেবের যুবক ছেলে একটি সুন্দরী মেয়ের দিকে ইশারা করলো। তা দেখে সেই আলিম সাহেব বললেন: “হে বৎস! ধৈর্য ধারন করো।”
এ কথা বলা মাত্রই সেই আলিম সাহেব নিজের চৌকি থেকে উপুড় হয়ে মাটিতে পড়ে গেলো, আর তার মাথাও ফেঁটে গেলো। আল্লাহ্ তাআলা তৎকালীন নবীর প্রতি ওহী প্রেরণ করলেন যে; অমুক আলিমকে জানিয়ে দাও যে, আমি তার বংশ থেকে কখনও সিদ্দিক (সর্বোচ্চ মর্যাদার ওলী) সৃষ্টি করবো না। আমার অসন্তুষ্টির জন্য কি শুধু এটাই যথেষ্ট যে, সে তার পুত্রকে বলবে; “হে বৎস! ধৈর্য ধারন করো” (এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, নিজের পুত্রের উপর কঠোরতা কেন করলো না এবং সেই মন্দ কাজ থেকে তাকে বিরত কেন রাখলো না।)” (হিলইয়াতুল আউলিয়া, ২য় খন্ড, ৪২২ পৃষ্ঠা, নং: ২৮২৩ সংকলিত)
মহিলারা ওমরা করবে কি না?
প্রশ্ন:- রমযানুল মোবারকে কি কোন মহিলা তার স্বামীর সাথে অথবা নির্ভরযোগ্য মাহরামের (অর্থাৎ যাদের সাথে বিবাহ হারাম) সাথে ওমরা করার জন্য সফর করতে পারবে?
উত্তর:- করতে পারবে। যেহেতু ওমরা করাটা ফরয ও ওয়াজিব নয়, সেহেতু যদি সে ওমরা করার জন্য না যায় তবেও কোন প্রকারের গুনাহ হবে না। গভীরভাবে মনোযোগ দেয়ার বিষয় হলো, বর্তমানে রমযানুল মোবারকে মহিলারা ওমরা করার জন্য যাবে এবং বেপর্দা ও পর-পুরুষের মেলামেশা থেকেও বেঁচে থাকবে, এটা খুবই অসম্ভব বিষয়। সুতরাং পরামর্শ স্বরূপ এটাই আবেদন করবো; ওমরা বা নফলী হজ্ব করা থেকে মহিলাদের বিরত থাকা উচিত। জ্বী, হ্যাঁ! যে (মহিলা) শরয়ী পর্দার ব্যাপারে অভিজ্ঞতা রাখে এবং সে তার পরিপূর্ণ বিধানাবলী পালন করতে সামর্থ্যও রাখে। পর-পুরুষের সাথে মেলামেশা থেকেও বাঁচতে পারবে, ফ্লাট আলাদা ভাবে ভাড়ায় নিতে পারবে, তাহলে তার জন্য নফলী হজ্ব অথবা ওমরা করতে যাওয়াতে কোন সমস্যা নেই।
আফসোস! আজকাল হারামাঈন তায়্যিবাইনেও ভাড়াকৃত বাড়িগুলোতে অধিকাংশ পর-পুরুষ ও মহিলা একই কক্ষের মধ্যে একত্রে অবস্থান করে। একই অবস্থা মিনা শরীফ ও আরাফাত শরীফের তাবুগুলোতেও হয়ে থাকে। সত্যিকারার্থে লজ্জাশীল ও শরয়ী পর্দার ব্যাপারে মাদানী মনমানসিকতা রাখে এমন ইসলামী ভাই ও ইসলামী বোনের জন্য কঠিন পরীক্ষা হয়ে দাঁড়ায়। যদি ওমরা ও নফলী হজ্ব করার দ্বারা শুধুমাত্র আল্লাহ্ তাআলার সন্তুষ্টি উদ্দেশ্য হয়, তবে এই নেক কাজ সমূহে ব্যয়কৃত টাকাগুলো যারা দারিদ্রতার কারণে চিকিৎসা করাতে পারছে না, দুর্দশাগ্রস্থ রোগী অথবা যাদের রোযগারহীনতা বা ঋণগ্রস্থতা কিংবা কঠিন দুরাবস্থায় রয়েছে, তাদেরকে সাওয়াবের নিয়্যতে দিয়ে প্রতিদানের ভান্ডার ও দুঃখী অন্তরের দোয়া অর্জন করে নেয়া উচিত।
পায়ে ‘নেকী কি দাওয়াত’ তু জাহাঁ রাখে মাগার এ্যয় কাশ,
মে খায়াবুঁ মে পৌহছতা হি রহো আকছর মদীনে মে।
উম্মুল মু’মিনীন সারা জীবনেও ঘর থেকে বের হননি
প্রশ্ন:- সম্মানিতা মহিলাদের মধ্যে কি এরূপ উপমাও রয়েছে যে, যিনি কখনও নফল হজ্ব করতে ঘর থেকে বের হননি?
উত্তর:- জ্বী, হ্যাঁ! এরূপ উপমা রয়েছে; পক্ষান্তরে আজকের তুলনায় সে যুগ খুবই নিরাপদ ছিলো। উম্মুল মু’মিনীন হযরত সায়্যিদাতুনা সাওদা ﺭَﺿِﻰَ ﺍﻟﻠﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻨْﻬَﺎ ফরয হজ্ব আদায় করে নিয়েছিলেন। অতঃপর যখন দ্বিতীয়বার তাঁকে নফলী হজ্ব ও ওমরা করার জন্য বলা হলো, তখন তিনি বললেন: “আমি ফরয হজ্ব আদায় করে নিয়েছি। আমার প্রতিপালক আমাকে ঘরের মধ্যে থাকার আদেশ
করেছেন। আল্লাহ্ তাআলার শপথ! এখন শুধুমাত্র আমার জানাযাই (লাশই) ঘর থেকে বের হবে।” বর্ণনাকারী বলেন: আল্লাহ্ তাআলার শপথ! এর পর থেকে জীবনের শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত তিনি কখনও ঘর থেকে বের হননি। (তাফসীরে দুররে মনছুর, ৬ষ্ঠ খন্ড, ৫৯৯ পৃষ্ঠা)
আল্লাহ্ তাআলার রহমত তাঁর উপর বর্ষিত হোক এবং তাঁর সদকায় আমাদের ক্ষমা হোক। সেই পবিত্র যুগেও যখন উম্মুল মু’মিনীনের ﺭَﺿِﻰَ ﺍﻟﻠﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻨْﻬُﻦَّ পর্দার ব্যাপারে এতো সাবধানতা ছিলো, আর আজ এই বর্তমান যুগে, যেখানে পর্দার কল্পনাই বিলীন হয়ে যাচ্ছে। পুরুষ ও মহিলা উভয়ের মধ্যে অন্তরঙ্গতা ও কুদৃষ্টি দেয়াকে ﻣَﻌَﺎﺫَ ﺍﻟﻠﻪ ﻋَﺰَّﻭَﺟَﻞ (আল্লাহর পানাহ!) কোন মন্দ কাজ বলেই মনে করা হয় না। এমন দূরাবস্থায় প্রত্যেক লজ্জাশীল ও পর্দাকারীনী ইসলামী বোন বুঝতে পারেন যে, তাদেরকে কতটুকু সাবধানতা অবলম্বন করে জীবন অতিবাহিত করতে হবে।
মহিলাদের মসজিদে আসা নিষেধ হওয়ার কারণ
প্রশ্ন:- মহিলাদেরকে মসজিদে জামাআত সহকারে নামায আদায় করতে কেন বাধা প্রদান করা হয়েছে?
উত্তর:- শরীয়াতের মধ্যে পর্দার খুবই গুরুত্ব রয়েছে। সুলতানে মদীনা ﺻَﻠَّﯽ ﺍﻟﻠّٰﮧُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﯽ ﻋَﻠَﯿْﮧِ ﻭَﺍٰﻟِﮧٖ ﻭَﺳَﻠَّﻢ এর যাহেরী হায়াতে মহিলারা মসজিদে জামাআত সহকারে নামায আদায় করতো। অতঃপর যুগের পরিবর্তনে উলামায়ে কিরাম ﺭَﺣْﻤَﺔُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ মহিলাদেরকে মসজিদে আসতে নিষেধ করেন। অথচ মহিলারা মসজিদের মধ্যে সর্বশেষ কাতারে দাঁড়াতো। সুতরাং ফুকাহায়ে কিরামগণ বলেন: “পুরুষ ও বাচ্চা, হিজরা ও মহিলা যদি নামাযের জন্য একত্রিত হয় তবে কাতার বিন্যাস এভাবে হবে, প্রথমে পুরুষের কাতার অতঃপর বাচ্চাদের কাতার এরপর হিজড়াদের এবং সর্বশেষে মহিলাদের কাতার।” (দুররে মুখতার, ২য় খন্ড, ৩৭৭ পৃষ্ঠা, বাহারে শরীয়াত, ৩য় খন্ড, ১৩৩ পৃষ্ঠা) পুরুষ ও মহিলাদের যেখানে
সংমিশ্রণ হয়, এ রকম মাহফিল ইত্যাদিতে পর্দা সহকারে যাওয়া থেকেও ইসলামী বোনদেরকে বিরত থাকার ব্যাপারে বুঝাতে গিয়ে আমার আক্বা আ’লা হযরত ﺭَﺣْﻤَﺔُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻠَﻴْﻪِ বলেন: “মসজিদের চেয়ে উত্তম মাহফিল হতে পারে না। আর মসজিদের মধ্যে পর্দাও কেমন (অর্থাৎ পর্দার জন্য ব্যবস্থাপনাও কত মজবুত) যে (নামায চলাকালীন সময়ে) মহিলারা পুরুষের এতো পিছনে থাকে যে, পুরুষেরা তাদের দিকে মুখও ফেরাতে পারবে না এবং পুরুষদের জন্য এটাও আদেশ যে, সালাম ফেরানোর পর যতক্ষণ পর্যন্ত মহিলারা (মসজিদ থেকে) বের হবে না ততক্ষণ পর্যন্ত তারা উঠবে না। উলামায়ে কিরমাগণ প্রথমত অর্থাৎ শুরু শুরুতে কিছুটা দিক নির্দেশনা করেন (অর্থাৎ সাবধানতার শর্তাবলী বর্ণনা করেন) কিন্তু যখন ফিতনার যুগ আসলো (আর বেপর্দার গুনাহ প্রচন্ড বেগে বাড়তে লাগল, তখন মহিলাদেরকে মসজিদে আসতে) সম্পূর্ণভাবে নাজায়েয বলে অবহিত করলেন।” (ফতোওয়ায়ে রযবীয়া, ২২তম খন্ড, ২২৯ পৃষ্ঠা) আমার আক্বা আ’লা হযরত, ইমামে আহলে সুন্নাত মাওলানা শাহ্ ইমাম আহমদ রযা খাঁন ﺭَﺣْﻤَﺔُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻠَﻴْﻪِ অনত্র বলেন: আপন যুগে উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা সিদ্দিকা ﺭَﺿِﻰَ ﺍﻟﻠﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻨْﻬَﺎ বর্ণনা করেছেন: যদি নবী করীম ﺻَﻠَّﯽ ﺍﻟﻠّٰﮧُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﯽ ﻋَﻠَﯿْﮧِ ﻭَﺍٰﻟِﮧٖ ﻭَﺳَﻠَّﻢ অবলোকন করতেন, যেই প্রথাগুলো মহিলারা বর্তমানে শুরু করেছে, তবে নিশ্চয় তাদের মসজিদে আসাকে নিষেধ করতেন। যেমনিভাবে বনী ইসলাঈলের মহিলাদের নিষেধ করা হয়েছে। যেমন; তাবেয়ীনদের যুগ থেকেই ইমামগণ (মহিলাদের মসজিদে আসাকে) বাধা প্রদান করা শুরু করেন। প্রথমত যুবতী মেয়েদের, অতঃপর বৃদ্ধা মহিলাদেরকেও। প্রথমত শুধুমাত্র দিনে (মসজিদে আসাকে নিষেধ করেছেন) পরে রাতেও। এভাবে নিষেধাজ্ঞার হুকুম সবার জন্য সাধারণ ভাবে সাব্যস্ত হয়ে যায়। এমন নয় যে, সেই যুগের নারীরা কি নির্লজ্জ নারীদের ন্যায় গান, নৃত্যকারীনী অথবা অশ্লীল মহিলা ছিলো? আর বর্তমান যুগে নেককার মহিলা রয়েছে? অথবা সেই যুগে অশ্লীলতা (নির্লজ্জ মহিলা) অধিক পরিমাণে ছিলো, আর বর্তমান যুগে নেককার মহিলা বেশি পরিমাণ কিংবা পূর্বের যুগে ফয়েয বরকত ছিলো না কিন্তু বর্তমান যুগে রয়েছে বা পূর্বের যুগে কম ছিলো আর বর্তমানে বেশি? এ রকম কখনও হতে পারে না, বরং নিঃসন্দেহে এখন অবস্থা তার উল্টো (অর্থাৎ পূর্বে উল্লেখিত বাক্যগুলোর বিপরীত) সত্যিকারে তা এই যে, বর্তমানে যদি একজন নেককার মহিলা থাকে তবে পূর্বের যুগে হাজার ছিলো, আর যদি পূর্বের যুগে একজন নির্লজ্জ মহিলা থাকে তবে বর্তমানে তার তুলনায় হাজার গুন হবে। বর্তমান যুগে যদি এক অংশ বরকত হয়, তবে পূর্বের যুগে হাজার অংশ হবে। হুযুর পুরনূর ﺻَﻠَّﯽ ﺍﻟﻠّٰﮧُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﯽ ﻋَﻠَﯿْﮧِ ﻭَﺍٰﻟِﮧٖ ﻭَﺳَﻠَّﻢ ইরশাদ করেন: ﻟَﺎ ﻳَﺄْ ﺗِﻰْ ﻋَﺎﻡٌ ﺍِﻟَّﺎ ﻭَﺍﻟَّﺬِﻯْ ﺑَﻌْﺪَﮦٗ ﺷَﺮٌّ ﻣِﻨْﻪُ অর্থাৎ প্রতিটি নতুন বছর তার পূর্বের বছরের তুলনায় মন্দ হবে।” বরং ‘ইনায়া ইমাম আকমাল উদ্দিন বারকাতি’র মধ্যে উল্লেখ রয়েছে: “আমীরুল মু’মিনীন ফারুকে আযম ﺭَﺿِﻰَ ﺍﻟﻠﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻨْﻪُ মহিলাদেরকে মসজিদে আসতে বারণ করেন, (তখন) মহিলারা উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়েশা সিদ্দিকা ﺭَﺿِﻰَ ﺍﻟﻠﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻨْﻬَﺎ এর নিকট অভিযোগ নিয়ে আসলো (তখন তিনিও
ফারুকে আযমের সাথে একমত হয়ে) বললেন: যদি দোজাহানের সুলতান ﺻَﻠَّﯽ ﺍﻟﻠّٰﮧُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﯽ ﻋَﻠَﯿْﮧِ ﻭَﺍٰﻟِﮧٖ ﻭَﺳَﻠَّﻢ এর যুগেও এরকম দূরাবস্থা হতো, তবে হুযুর ﺻَﻠَّﯽ ﺍﻟﻠّٰﮧُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﯽ ﻋَﻠَﯿْﮧِ ﻭَﺍٰﻟِﮧٖ ﻭَﺳَﻠَّﻢ মহিলাদেরকে মসজিদে আসার অনুমতি দিতেন না।” (ফতোওয়ায়ে রযবীয়া সংকলিত, ৯ম খন্ড, ৫৪৯ পৃষ্ঠা)
মসজিদ ইত্যাদিতে জামাআত সহকারে নামায আদায়ের আগ্রহী অথবা ওমরা ও নফলী হজ্বের জন্য গমনকারীনিদের আমার আক্বা আ’লা হযরত ﺭَﺣْﻤَﺔُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻠَﻴْﻪِ এর বর্ণিত ফতোওয়ার প্রতি মনোযোগ দেয়া উচিত। অবস্থা পরিবর্তন হওয়ার কারণে মসজিদের ন্যায় শান্তিপূর্ণ জায়গায় ফরয নামাযের মতো অতি উত্তম ইবাদতকে পুরোপুরি পর্দা সহকারেও মহিলাদেরকে পর-পুরুষের সাথে একত্রে নামায আদায় করা থেকে বাঁধা প্রদান করা হয়েছে। আর তাও শত শত বছর পূর্বের কথা। বর্তমানে তো অবস্থা দিনের পর দিন আরো অবনতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। শরয়ী পর্দার কল্পনাও শেষ হয়ে যাচ্ছে।সত্যি বলতে গেলে তো অবস্থা এমন পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে যে, যদি অতিশয়োক্তির সাথে বলি তবে বর্তমান অশ্লীলতার যুগে যদি মহিলাদেরকে হাজারো পর্দার অন্তরালে রাখা হোক না কেন, তা অতি অল্পই হবে।
১৫ দিন পর যখন কবর খুলে গেলো
ইসলামী বোনেরা! আমার মাদানী পরামর্শ হলো; দা’ওয়াতে ইসলামীর মাদানী পরিবেশের সাথে সর্বদা সম্পৃক্ত থাকুন ﺍِﻥْ ﺷَﺎﺀَ ﺍﻟﻠﻪ ﻋَﺰَّﻭَﺟَﻞّ উভয় জাহানের তরী পার হয়ে যাবে। দা’ওয়াতে ইসলামীর মাদানী পরিবেশের বরকতের কথা কি বলব! নিশ্চয় সৎসঙ্গ তার রং ছড়ায়। জীবনতো জীবনই, কিন্তু কখনো কিছু কিছু মৃত্যুও ঈর্ষার যোগ্য হয়ে থাকে। এমনই একটি ঈর্ষাযোগ্য মৃত্যুর ঘটনা শুনুন আর ঈর্ষান্বিত হোন। আত্তারাবাদ (জ্যাকববাদ, বাবুল ইসলাম সিন্ধু প্রদেশ) এর এক ইসলামী ভাইয়ের বর্ণনার সারাংশ হলো, আমার আম্মাজান প্রায় ২০০৪ সালে কাদেরীয়া রযবীয়া আত্তারীয়া সিলসিলায় বাইয়াত গ্রহণ করে আত্তারীয়া হয়ে যান, দা’ওয়াতে ইসলামীর মাদানী পরিবেশের বরকতে ﺍَﻟْﺤَﻤْﺪُ ﻟِﻠّٰﻪِ ﻋَﺰَّﻭَﺟَﻞّ পাঁচ ওয়াক্তের নামায নিয়মিত আদায়ের সাথে সাথে নফল নামাযের অভ্যস্থ ছিলেন। ১৭ই সফরুল মুযাফ্ফর ১৪৩০ হিজরী, ১৩ই ফেব্রুয়ারি ২০০৯ ইংরেজি সকালে আম্মা আমাকে ফযরের নামাযের জন্য জাগিয়ে দিলেন আর নিজেও ফযরের নামাযে রত হয়ে গেলেন। আমি নামায আদায় করে ফিরে এলে তখনো তিনি জায়নামাযেই বসে ছিলেন কিছুক্ষন পর তিনি দ্বিতীয়বার অযু করলেন আর ইশরাক্বের নামাযের নিয়্যত বেধেঁ নিলেন। প্রথম রাকাতের সিজদায় গিয়ে মাথা না উঠালে পরিবারের লোকেরা ভাবল যে, হয়তোবা আম্মাজানের নামাযের মধ্যে ঘুম এসে গেছে (কিন্তু) জাগানোর উদ্দেশ্যে তাকে যখন ডাকা হলো তখন তিনি একদিকে ঢলে পড়ে গেলেন। লোকেরা হতভম্ব হয়ে যখন ভাল করে দেখলো বুঝলো যে আম্মাজানের রূহ দেহ পিঞ্জর হতে উড়ে গেছে ﺍِﻥَّ ﻟِﻠّٰﻪِ ﻭَﺍِﻧَّﺂ ﺍِﻟَﻴْﻪِ ﺭٰﺟِﻌُﻮْﻥَ । মনে হয় শাহানশাহে বাগদাদ হুযুর গাউছে পাক ﺭَﺣْﻤَﺔُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻠَﻴْﻪِ এর সাথে সম্পর্ক আর দা’ওয়াতে ইসলামীর মাদানী পরিবেশের সাথে সম্পৃক্ততা আমার আম্মাজানের কাজে এসে গেলো। সৌভাগ্যের বিষয় তো হলো, তিনি সিজদারত অবস্থায় আল্লাহর আহবানে সাড়া দিয়েছেন, আরও দয়ার উপর দয়া হলো যে, তার চেহারা ইন্তিকালের পর খুবই নূরানী হয়ে গিয়েছিল। ইন্তিকালের প্রায় ১৫ দিন পর অর্থাৎ ২রা রবিউন নূর শরীফ ১৪৩০ হিজরী (২৮শে ফেব্রুয়ারী ২০০৯) শনিবার তার কবরের পাঠাতন ভেঙ্গে পড়ে গেলো আর কবর মাটিতে পূর্ণ হয়ে গেলো। কবর মেরামত করার জন্য যখনই কবর খনন করা হলো তখন চারিদিকে গোলাপের সুগন্ধি ছড়িয়ে গিয়েছিল, এছাড়াও আমরা এই ঈমান তাজাকারী ঘটনা দেখে আনন্দে মেতে উঠলাম যে, আম্মাজানের কাফন ও শরীর উভয়টিই সতেজ ছিলো। যখন কবর থেকে মাটি বের করা হলো তখন আমার ভাই আম্মাজানের কদম স্পর্শ করলো ﺍَﻟْﺤَﻤْﺪُ ﻟِﻠّٰﻪِ ﻋَﺰَّﻭَﺟَﻞّ সেই মুহুর্তেও আম্মাজানের শরীর জীবিত মানুষের ন্যায় নরম ছিলো। আমার আব্বাজানের বর্ণনা যে, যখন আমি চেহারা থেকে কাপড় সরালাম তখন তার চেহারা পূর্বের তুলনায় আরও নূরানী হয়ে গিয়েছিল। সেই ইসলামী ভাই আরো বলেন যে, আশ্চর্যজনক বিষয় তো এটাই যে, সেই পাথর কবরে পড়া সত্ত্বেও আম্মাজানের দেহে কোন প্রকারের আঘাত লাগেনি এবং তার মোবারক সতেজ মৃতদেহ কবরের দেয়ালের সাথে ঘেঁষে গিয়েছিল, এমন লাগছিল যে তিনি নিজেই সেই দিকে সরে গেছেন। অথবা কেউ করে দিয়েছে অথচ দাফনের সময় তাকে কবরের মাঝখানে শুয়ানো হয়েছিল।
দাহন মেয়লা নেহী হোতা বদন মেয়লা নেহী হোতা,
খোদা কে পাক বাঁন্দো কা কাফন মেয়লা নেহী হোতা।
ﺻَﻠُّﻮﺍ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﺤَﺒِﻴﺐ ! ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟَﻰ ﻋَﻠﻰ ﻣُﺤَﻤَّﺪ
এক তরমুজকে দেখে অপর তরমুজ রং ধারণ করে
ইসলামী বোনেরা! এক তরমুজকে দেখে অপর তরমুজ রং ধারণ করে। তিলকে গোলাপ ফুলের সাথে রাখুন, দেখবেন সেই তিলও গোলাপী হয়ে যাবে। এমনিভাবে আল্লাহ্ তাআলা ও তাঁর প্রিয় হাবীব ﺻَﻠَّﯽ ﺍﻟﻠّٰﮧُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﯽ ﻋَﻠَﯿْﮧِ ﻭَﺍٰﻟِﮧٖ ﻭَﺳَﻠَّﻢ এর দয়ায় তবলীগে কোরআন ও সুন্নাতের বিশ্বব্যাপী অরাজনৈতিক সংগঠন দা’ওয়াতে ইসলামীর মাদানী পরিবেশের সাথে সম্পৃক্ত হওয়া পরিত্যক্ত পাথরও অমূল্য হীরা হয়ে যায়, খুবই চকচক করে এবং কখনোও তো এমন শান ও মর্যাদায় আল্লাহর আহবানে সাড়া দেয় যে, অবলোকনকারী ও শ্রবণকারীরাও তার উপর ঈর্ষা করতে থাকে, আর জীবিত থাকার পরিবর্তে এমন (সৌভাগ্যময়) মৃত্যু কামনা করে। এই আশিকানে রাসূলের দুনিয়া থেকে ঈমান তাজাকারী বিদায় আর দাফনের পর যখন বাধ্যতামুলক কবর খোলা হলো তখন কবর থেকে গোলাপের সুগন্ধি আসা, কাফন ও শরীর সতেজ অবস্থায় পাওয়া, আহলে সুন্নাতের মসলক যে সত্য তারই অদৃশ্য সমর্থন।
আল্লাহ্ তাআলা সেই ভাগ্যবতী ইসলামী বোনের পুলসিরাত, হাশর আর মিযান প্রতিটি স্থানে মর্যাদা সহকারে জান্নাতুল ফিরদাউসে আপন প্রিয় হাবীব ﺻَﻠَّﯽ ﺍﻟﻠّٰﮧُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﯽ ﻋَﻠَﯿْﮧِ ﻭَﺍٰﻟِﮧٖ ﻭَﺳَﻠَّﻢ এর প্রতিবেশীত্ব নসীব করুক এবং এ সমস্ত দোয়া গুনাহগার আত্তার, সকল গুনাহ্গারদের সর্দারের পক্ষেও কবুল করুক। ﺍٰﻣِﻴﻦ ﺑِﺠﺎ ﻩِ ﺍﻟﻨَّﺒِﻰِّ ﺍﻟْﺎَﻣﻴﻦ ﺻَﻠَّﯽ ﺍﻟﻠﮧُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﯽ ﻋَﻠَﯿْﮧِ ﻭَﺍٰﻟِﮧٖ ﻭَﺳَﻠَّﻢ
যাত আপ কি তো রহমত ও শফক্বত হে চর বচর,
মে গর ছে হোঁ তোমহারা খাত্বাওয়ার ইয়া রাসূল ﷺ !
ﺻَﻠُّﻮﺍ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﺤَﺒِﻴﺐ ! ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟَﻰ ﻋَﻠﻰ ﻣُﺤَﻤَّﺪ
দুনিয়া অনেক এগিয়ে গেছে!
প্রশ্ন:- কিছু লোক এটা বলে যে, দুনিয়া অনেক এগিয়ে গেছে, পর্দার ব্যাপারে এতো কঠোরতা করা উচিত নয়?
উত্তর:- আল্লাহ্ তাআলা ও তাঁর রাসূল ﺻَﻠَّﯽ ﺍﻟﻠّٰﮧُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﯽ ﻋَﻠَﯿْﮧِ ﻭَﺍٰﻟِﮧٖ ﻭَﺳَﻠَّﻢ এর এমন কোন আদেশ নেই, যা মুসলমানের উপর তাদের ক্ষমতা বহির্ভূত। যেমনটি ৩য় পারা সূরা বাকারার ২৮৬ নং আয়াতে আল্লাহ্ তাআলা ইরশাদ করেন:
ﻟَﺎ ﻳُﻜَﻠِّﻒُ ﺍﻟﻠّٰﮧُ ﻧَﻔْﺴًﺎ ﺇِﻟَّﺎ ﻭُﺳْﻌَﻬَﺎۚ
কানযুল ঈমান থেকে অনুবাদ: আল্লাহ্ কোন আত্মার উপর বোঝা অর্পন করেন না, কিন্তু তার সাধ্যের পরিমাণ; (পারা: ৩, সূরা: বাকারা, আয়াত: নং ২৮৬)
তবে শরয়ী পর্দা করা বেপর্দা মহিলাদের নফসের জন্য অবশ্যই কঠিন মনে হবে।
স্বামী যদি বাহিরে বের হতে না দেয় তবে...?
প্রশ্ন:- স্বামী যদি স্ত্রীকে দেবর, ভাসুরের সামনে আসা যাওয়া ইত্যাদি থেকে বারণ করে তবে স্ত্রীর কি করা উচিত? বংশের কিছু মহিলা স্ত্রীকে তার স্বামীর বিরুদ্ধে উত্তেজিত করে যে, সে তো অনেক কঠোরতা করে, তার কাছ থেকে তালাক নিয়ে নাও ইত্যাদি, তবে এরূপ কটুক্তিকারীদের জন্য কি হুকুম?
উত্তর:- স্ত্রীকে তার স্বামীর আনুগত্য করা উচিত। আমার আক্বা আ’লা হযরত ﺭَﺣْﻤَﺔُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻠَﻴْﻪِ বলেন: “যদি কোন মহিলা এমনও হয় যে, পর্দা সম্পর্কিত পরিপূর্ণ সাবধানতা অবলম্বন করে, মাথা থেকে পা পর্যন্ত কাপড় মুড়িয়ে এভাবে পরিধান করে যে, মুখের সম্মুখ ভাগ, হাতের তালু ও পায়ের তালু ব্যতিত শরীরের একটি চুলও প্রকাশ পায় না। তবে এমতাবস্থায় দেবর, ভাসুরের সামনে আসা তো জায়েয, কিন্তু স্বামী যদি তাদের সামনে আসতে বাঁধা প্রদান করে এবং অসন্তুষ্ট হয়, তবে সেই অবস্থায় (স্বামীর অসুন্তুষ্টতার কারণে) পর্দা সহকারে তাদের সামনে আসা হারাম। স্ত্রী যদি স্বামীর আদেশ মান্য না করে তবে আল্লাহ্ তাআলার গযবে পতিত হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত স্বামী অসন্তুষ্ট থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত স্ত্রীর কোন নামায কবুল হবে না। ফিরিশতাগণ তার উপর অভিশাপ দিতে থাকবে। যদি এমতাবস্থায় তালাক কামনা করে তবে সে মুনাফিকা হিসেবে গন্য হবে। (আর) যেই সমস্ত মহিলারা স্ত্রীকে তার স্বামীর প্রতি উত্তেজিত করে তুলে তারা শয়তানের বন্ধু।” (ফতোওয়ায়ে রযবীয়া, ২২তম খন্ড, ২১৭ পৃষ্ঠা) যেই সমস্ত মহিলা কথায় কথায় স্বামীর বিরোধীতা করেন তারা এই সাতটি বর্ণনা শুনুন। খোদাভীতিতে কেপেঁ উঠুন আর নিজের স্বামী থেকে ক্ষমা চেয়ে নিন। নিজের পরকালের মঙ্গলের জন্য তার (স্বামীর) আনুগত্য ও খিদমতে লিপ্ত হয়ে যান।
প্রিয় নবী এর ৭টি বাণী
(১) তিন ব্যক্তির নামায তাদের কর্নদ্বয়ের উপরে উঠে না। (ক) মালিক
থেকে পলায়নকৃত গোলাম যতক্ষণ পর্যন্ত ফিরে না আসে। (খ) এমন মহিলা যে এমতাবস্থায় রাত কাটাল, তার স্বামী তার উপর অসন্তুষ্ট। (গ) যে ব্যক্তি কোন জাতির নেতৃত্ব দেয় এবং তার অধিনস্থ লোকেরা তার দোষ ত্রুটির কারণে তার নেতৃত্বের প্রতি অসন্তুষ্ট থাকে। (তিরমিযী, ১ম খন্ড, ৩৭৫ পৃষ্টা, হাদীস নং-৩৬০)
(২) তিন ব্যক্তির নামায তাদের মাথা থেকে এক বিঘত পরিমাণ উপরে উঠে না। (এক) পূর্বে উল্লেখিত নেতা। (দুই) স্বামী অসন্তুষ্ট থাকাবস্থায় রাত কাটানো মহিলা এবং (তিন) সেই দুই মুসলমান ভাই, যারা উভয়ের মধ্যে ভালবাসা ছিন্ন করে। (ইবনে মাযাহ, ১ম খন্ড, ৫১৬ পৃষ্ঠা, হাদীস নং: ৯৭১) (অর্থাৎ শরীয়াতের অনমুতি ব্যতিত সম্পর্ক ছিন্ন করা)
(৩) তিন ব্যক্তির নামায কবুল হয় না এবং না কোন নেকী আসমানের দিকে উত্তোলিত হয়। ১. নেশাকারী যতক্ষণ পর্যন্ত হুশ ফিরে না আসে। ২. সেই স্ত্রী, যার উপর তার স্বামী অসন্তুষ্ট থাকে, যতক্ষণ পর্যন্ত সে সন্তুষ্ট না হয়। ৩. পলায়নকারী গোলাম, যতক্ষণ পর্যন্ত সে তার মালিকের নিকট ফিরে গিয়ে নিজেকে তার আয়ত্বে করে না দেয়। (আল মু’জামুল আওসাত, ৬ষ্ঠ খন্ড, ৪০৮ পৃষ্ঠা, হাদীস নং: ৯২৩১। আল আহসানু বেতারতিব সহীহ ইবনে হাব্বান, ৭ম থন্ড, ৩৮০ পৃষ্ঠা, হাদীস নং: ৫৩৩১)
(৪) যখন স্বামী তার স্ত্রীকে বিছানায় ডাকে এবং সে বিনা কারণে সাড়া না দেয় আর স্বামী এ কারণে তার উপর অসন্তুষ্ট হয়ে রাত কাটায়, তবে ফিরিশতারা সকাল পর্যন্ত সেই মহিলার প্রতি অভিশাপ দিতে থাকে।(সহীহ বুখারী, ২য় খন্ড, ৩৮৮ পৃষ্ঠা, হাদীস নং: ৩২৩৭) প্রখ্যাত মুফাস্সীর হাকীমুল উম্মত হযরত মুফতী আহমদ ইয়ার খাঁন ﺭَﺣْﻤَﺔُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻠَﻴْﻪِ এই হাদীসে পাকের ব্যাখ্যায় বলেন: “এখানে রাতের বেলায় ডাকাকেই বিশেষভাবে এজন্য বলা হয়েছে যে, সাধারণত স্ত্রীগনের সাথে রাত্রেই থাকা বা শোয়া হয়। দিনের বেলা রাতের তুলনায় কম, তা না হলে যদি দিনের বেলায় স্বামী ডাকে এবং না যায় তবে সন্ধ্যা পর্যন্ত ফিরিশতারা তার প্রতি অভিশাপ দিতে থাকে। রাতের অভিশাপ সকালে এজন্য শেষ হয় যে, সকালে স্বামী কাজকর্মে চলে যায় এবং রাতের রাগ-অভিমান শেষ হয়ে যায় কিংবা রাগ কমে যায়।” (মিরাআত, ৫ম খন্ড, ৯১ পৃষ্ঠা)
(৫) যে মহিলা (শরীয়াতের বিনা অনুমতিতে) ঘর থেকে বের হলো এবং তার বের হওয়া স্বামীর অপছন্দ হলো, তবে যতক্ষণ পর্যন্ত ঘরে ফিরে না আসে আসমানের সমস্ত ফিরিশতাগন তার উপর অভিশাপ দিতে থাকে। তাছাড়া জ্বিন ও মানুষ ব্যতিত যতগুলো বস্তুর উপর বা পাশ দিয়ে অতিক্রম করবে, সবগুলো তার উপর অভিশাপ দিতে থাকে।(আল মু’জামুল আউসাত, ১ম খন্ড, ১৫৮ পৃষ্ঠা, হাদীস নং: ৫১৩)
(৬) যে মহিলা শরীয়াতের বিনা অনুমতিতে (অর্থাৎ কঠিন কষ্ট ব্যতিত) স্বামীর নিকট তালাক চায়, তার জন্য জান্নাতের সুগন্ধিও হারাম।(সুনানে তিরমিযী, ২য় খন্ড, ৪০২ পৃষ্ঠা, হাদীস নং: ১১৯১)
(৭) যদি স্বামী তার স্ত্রীকে এই আদেশ দেয় যে, তুমি সাদা রঙ্গের পাহাড় থেকে পাথর তুলে কালো রঙ্গের পাহাড়ে নিয়ে যাও আর কালো রঙ্গের পাহাড় থেকে পাথর উঠিয়ে সাদা রঙ্গের পাহাড়ে নিয়ে যাও। তবে সেই স্ত্রীকে স্বামীর এই আদেশ পালন করা উচিত।(মুসনাদে ইমাম আহমদ, ৯ম খন্ড, ৩৫৩ পৃষ্ঠা, হাদীস নং: ২৪৫২৫) প্রখ্যাত মুফাস্সীর হাকীমুল উম্মত হযরত মুফতী আহমদ ইয়ার খাঁন ﺭَﺣْﻤَﺔُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻠَﻴْﻪِ বর্ণিত হাদীসে পাকের ব্যাখ্যায় বলেন: “এই মোবারক বাণীটি উদাহরণ স্বরূপ বলা হয়েছে। কালো ও সাদা পাহাড় পরস্পর নিকটে নয় বরং অনেক দূরে। উদ্দেশ্যে হলো, যদি স্বামী (শরীয়াতের গন্ডির ভিতরে) কঠিন থেকে কঠিনতর কাজেরও আদেশ করে তারপরও স্ত্রী সেটা পালন করবে। কালো পাহাড়ের পাথর সাদা পাহাড়ে নিয়ে যাওয়া খুব কঠিনতর যে, ভারি বোঝা নিয়ে সফর করা। (মিরআত, ৫ম খন্ড, ১০৬ পৃষ্ঠা)
স্বামীর হক বেশি নাকি পিতা মাতার?
প্রশ্ন:- ইসলামী বোনের উপর স্বামীর কি কি হক রয়েছে, বিস্তারিত বর্ণনা করুন। স্বামীর হক কি পিতামাতার তুলনায় বেশি?
উত্তর:- স্বামীর হক বর্ণনা করতে গিয়ে আমার আক্বা আ’লা হযরত, ইমামে আহলে সুন্নাত, মুজাদ্দীদে দ্বীন ও মিল্লাত, মাওলানা শাহ্ ইমাম আহমদ রযা ﺭَﺣْﻤَﺔُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻠَﻴْﻪِ বলেন: “স্ত্রীর উপর স্বামীর হক, বিবাহাবস্থা সম্পর্কিত বিশেষ বিষয়ে আল্লাহ্ তাআলা ও তাঁর রাসূল ﺻَﻠَّﯽ ﺍﻟﻠّٰﮧُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﯽ ﻋَﻠَﯿْﮧِ ﻭَﺍٰﻟِﮧٖ ﻭَﺳَﻠَّﻢ এর পর সকল হক, এমনকি পিতামাতার হকের চেয়েও বেশি। ঐসব বিষয়ে তার নির্দেশের আনুগত্য ও তার মান সম্মানের দিকে লক্ষ্য রাখা স্ত্রীর উপর গুরুত্বপূর্ণ ফরয। সে তার স্বামীর বিনা অনুমতিতে মাহরাম ছাড়া কোথাও যেতে পারবে না এমনকি মাহরামের সেখানেও। (যদি বিনা অনুমতিতে যেতে হয়) তবে মা-বাবার কাছে প্রতি অষ্টম দিনে তাও সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এবং ভাই-বোন, চাচা, মামা, খালা, ফুফির কাছে বছরে একবার (যেতে পারবে) এবং (বিনা অনুমতিতে) রাতে কোথাও (এমনকি মা-বাবার কাছেও) যেতে পারবে না। (জ্বী হ্যাঁ! অনুমতি নিয়ে যেখানে যাওয়ার সেখানে প্রতিদিন এমনকি রাতেও যেতে পারবে।) নবী করিম ﺻَﻠَّﯽ ﺍﻟﻠّٰﮧُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﯽ ﻋَﻠَﯿْﮧِ ﻭَﺍٰﻟِﮧٖ ﻭَﺳَﻠَّﻢ ইরশাদ করেন: “যদি আমি আল্লাহ্ ব্যতিত অন্য কাউকে সিজদা করার আদেশ দিতাম, তবে স্ত্রীকে আদেশ দিতাম যে, সে যেন তার স্বামীকে সিজদা করে।” অপর এক হাদীসে বর্ণিত রয়েছে: “যদি স্বামীর নাকের ছিদ্র থেকে রক্ত বা পুঁজ প্রবাহিত হয়ে তার পায়ের গোড়ালী পর্যন্ত ডুবে যায় আর স্ত্রী সেই পুঁজ তার জিহ্বা দ্বারা চেটে পরিষ্কার করে তবুও স্বামীর হক আদায় হবে না।” (ফতোওয়ায়ে রযবীয়া, ২৪তম খন্ড, ৩৮০ পৃষ্ঠা)
স্ত্রীর প্রতি স্বামীর হক সমূহ
প্রশ্ন:- সাধারণত আমাদের এখানে স্বামীর হকই শুধু বর্ণনা করা হয় কিন্তু স্ত্রীর হক বর্ণনা করা হয় না। যাই হোক স্বামীর উপর কি স্ত্রীর কোন হক রয়েছে কি না?
উত্তর:- নিশ্চয়! শরীয়াত যেভাবে স্ত্রীর উপর স্বামীর হককে আবশ্যক করেছে। অনুরূপভাবে স্বামীর উপরও স্ত্রীর হককে কার্যকর করেছে। যেমন; তার খরচাপাতির (অর্থাৎ থাকা-খাওয়ার ইত্যাদি) ব্যাপারে খবরা খবর নেয়া, মোহর আদায় করা, ভালভাবে বসবাস করা, ভাল কথা বলা, ভাল কথা শিক্ষা দেয়া, পর্দা ও লাজ-লজ্জার প্রতি জোর দেয়া এবং প্রতিটি জায়েয কাজে তার মন খুশি করা ইত্যাদি এই সকল কাজগুলো হলো স্বামীর উপর স্ত্রীর হক। যেমনটি আমার আক্বা আ’লা হযরত, ইমামে আহলে সুন্নাত, মুজাদ্দীদে দ্বীন ও মিল্লাত, মাওলানা শাহ্ ইমাম আহমদ রযা খাঁন ﺭَﺣْﻤَﺔُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻠَﻴْﻪِ এর নিকট প্রশ্ন করা হলো যে, স্বামীর উপর স্ত্রীর কি কি হক রয়েছে? তদুত্তরে তিনি বললেন: “বসবাসের খরচাপাতি (অর্থাৎ খাবার, পোশাক ও ঘর) মোহর, ভালভাবে বসবাস করা, ভাল কথা এবং লজ্জা আর পর্দার শিক্ষা ও জোর দেয়া এবং স্বামীর বিরোধীতায় বাধাঁ প্রদান ও কঠোরতা করা, প্রতিটি জায়েয কাজে মন খুশি করা এবং খোদা প্রদত্ত পুরুষালী সুন্নাতের প্রতি আমল করার তৌফিক হলে, শরীয়াতের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে তার (স্ত্রীর) পক্ষ থেকে পাওয়া কষ্ট সহ্য করা উত্তম কাজ, যদিওবা এটি নারীর হক নয়। (অর্থাৎ যে বিষয় সমূহ শরীয়াতে নিষেধ করা হয়েছে তার মধ্যে কোন সুযোগ না দেয়া, তাছাড়া যে বিষয় সমূহের মধ্যে তার অর্থাৎ স্বামী যদি স্ত্রীর পক্ষ থেকে স্বভাবগত বৈশিষ্ট্য ব্যতিত কষ্ট পায় তবে ধৈর্য ধারণ করা খুবই উত্তম, তবে তা নারীর হকের অন্তর্ভূক্ত নয়।)” (ফতোওয়ায়ে রযবীয়া, ২৪তম খন্ড, ৩৭১ পৃষ্ঠা)
ঘর শান্তির নীড় কিভাবে হবে?
প্রশ্ন:- ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে স্বামী-স্ত্রীর কিভাবে একত্রে বসবাস করা উচিত, যেন ঝগড়া-বিবাদ ইত্যাদি না হয়?
উত্তর:- স্বামী-স্ত্রীর উচিত যে, পরস্পর সহিষ্ণুতা ও ভালবাসার সহিত জীবন-যাপন করা। উভয়ে একে অপরের হকের প্রতি দৃষ্টি রাখবে এবং সেগুলো আদায়ও করতে থাকবে। এমন যেন না হয় যে, স্বামী তার স্ত্রীকে শুধুমাত্র ‘দাসি’ বানিয়ে রাখবে। কেননা, আল্লাহ্ তাআলা পুরুষদের কর্তৃত্ব দিয়েছেন। অনূরূপ ভাবে এটাও ইরশাদ করেছেন:
ﻭَﻋَﺎﺷِﺮُﻭْﻫُﻦَّ ﺑِﺎﻟْﻤِﻌْﺮُﻭْﻑِ ﺝ
কানযুল ঈমান থেকে অনুবাদ: এবং তাদের সাথে উত্তম আচরণ করো। (পারা: ৪, সূরা: নিসা, আয়াত: ১৯) হুযুর আকরাম, নূরে মুজাস্সাম ﺻَﻠَّﯽ ﺍﻟﻠّٰﮧُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﯽ ﻋَﻠَﯿْﮧِ ﻭَﺍٰﻟِﮧٖ ﻭَﺳَﻠَّﻢ ইরশাদ করেন: “তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি সে, যে তার স্ত্রীর সাথে ভালো ব্যবহার (আচরণ) করে।” (সুনানে ইবনে মাজাহ, ২য় খন্ড, ৪৭৮ পৃষ্ঠা, হাদীস: ১৯৭৮) স্বামী যেন তার স্ত্রীকে নেকীর দাওয়াত দেয় আর প্রয়োজনীয় মাসয়ালা মাসায়িল শিক্ষা দেয়, তার খাবার- দাবারের দিকে খেয়াল রাখে। আর কখনোও যদি স্বভাব বিরোধী কোন কাজ হয়ে যায়, তবে ধৈর্য ধারণ করে, এমন যেন না হয় যে, মারামারি শুরু করে দিবে। কেননা, এর দ্বারা অবাধ্যতার জন্ম নেয়। আর শান্তশিষ্ট কাজও অশান্ত হয়ে যায়। রহমতে আলম, হুযুর পুরনূর ﺻَﻠَّﯽ ﺍﻟﻠّٰﮧُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﯽ ﻋَﻠَﯿْﮧِ ﻭَﺍٰﻟِﮧٖ ﻭَﺳَﻠَّﻢ এর দু’টি বাণী লক্ষ্য করুন:
(১) “মহিলাকে পাঁজরের হাঁড় থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। সে তোমার জন্য কখনোও সোজা হতে পারে না। যদি তুমি তার সাথে জীবনযাপন করতে চাও, তবে সেই অবস্থায়ই থাকতে হবে। আর যদি সোজা করতে চাও, তবে ভেঙ্গে যাবে। আর ভেঙ্গে যাওয়ার মমার্থ হচ্ছে তালাক দেয়া।” (সহীহ মুসলিম, ৭৭৫ পৃষ্ঠা, হাদীস: ১৪৬৮)
(২) “মুসলমান স্বামী যেন তার মু’মিনা স্ত্রীর সাথে বিদ্বেষ না রাখে। (অর্থাৎ তার সাথে ঘৃনা ও বিদ্বেষ না রাখে) যদিওবা তার একটি অভ্যাস মন্দ মনে হয়, তবে অপরটি পছন্দ হবে।” ((সহীহ মুসলিম, ৭৭৫ পৃষ্ঠা, হাদীস: ১৪৬৯) এর উদ্দেশ্য হলো, যদিও স্ত্রীর দু’একটি অভ্যাস খারাপ অনুভব হয়, তবে অনেক স্বভাব ভালো দৃষ্টিগোছর হয়। এজন্যই তার ভাল কাজের উপর দৃষ্টি রাখুন আর দোষগুলোকে সঠিক পদ্ধতিতে সংশোধন করার চেষ্টা অব্যাহত রাখুন।
অতিরিক্ত লবণ ঢেলে দিলো
নিজের স্ত্রীর স্বভাব বিরোধী কাজের প্রতি ধৈর্য ধারণকারী এক সৌভাগ্যবান ব্যক্তির ঈমান তাজাকারী ঘটনা পড়ুন আর আন্দোলিত হোন। দা’ওয়াতে ইসলামীর প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান মাকতাবাতুল মদীনা কর্তৃক প্রকাশিত ৪৭২ পৃষ্ঠা সম্বলিত কিতাব “বয়ানাতে আত্তারীয়া” ২য় খন্ডের ১৬৪ পৃষ্ঠায় বর্ণিত রয়েছে: “এক ব্যক্তির স্ত্রী খাবারের মধ্যে লবণ অতিরিক্ত দিয়ে দিলো, তাতে সে লোকটির প্রচন্ড রাগ এলো। কিন্তু তারপরও এটা ভেবে ঐ রাগ দমন করে নিলো যে, আমিও ভূল করি, অপরাধ করি। আজ যদি আমি আমার স্ত্রীর ভূলের কারণে তার সাথে কঠোরতা দেখিয়ে শাস্তি প্রদান করি, তবে এমন যেন না হয়, কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তাআলাও আমার পাপ ও দোষ ত্রুটির কারণে আমাকে শাস্তি প্রদান করবেন।
তাই এ কথা ভেবে সে তার স্ত্রীর প্রতি সদয় হলো এবং ক্ষমা প্রদর্শন করলো। মৃত্যুর পর তাকে কেউ স্বপ্নে দেখে জিজ্ঞাসা করলো: আল্লাহ্ তাআলা তোমার সাথে কিরূপ আচরণ করেছেন? তিনি উত্তর দিলেন: ইহকালে আমার পাপের কারণে শাস্তির উপযুক্ত ছিলাম, তবে আল্লাহ্ তাআলা ইরশাদ করলেন: “আমার বান্দিনী তরকারীতে লবণ বেশি দিয়েছিল কিন্তু তুমি তাকে ক্ষমা করে দিয়েছিলে। যাও! আমিও আজ তোমাকে তোমার ব্যবহারের কারণে ক্ষমা করে দিলাম।”
আল্লাহ্ কি রহমত সে তো জান্নাত হি মিলেগি,
এ কাশ! মহল্লে মে জাগা উন কি মিলি হো।
স্ত্রীর জন্য জান্নাতের সুসংবাদ
স্ত্রীর উচিত যে, সেও যেন তার স্বামীর আনুগত্য করে এবং তাকে সন্তুষ্ট রাখে। হযরত সায়্যিদাতুনা উম্মে সালমা ﺭَﺿِﻰَ ﺍﻟﻠﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻨْﻬَﺎ থেকে বর্ণিত; নবী করীম, রউফুর রহীম ﺻَﻠَّﯽ ﺍﻟﻠّٰﮧُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﯽ ﻋَﻠَﯿْﮧِ ﻭَﺍٰﻟِﮧٖ ﻭَﺳَﻠَّﻢ ইরশাদ করেন: “যে মহিলা এমতাবস্থায় মৃত্যুবরণ করলো যে, তার স্বামী তারউপর সন্তুষ্ট, তবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।” (সুন্নানে তিরমিযী, ২য় খন্ড, ৩৮৬ পৃষ্ঠা, হাদীস: ১১৬৪)
স্ত্রী যেন তার স্বামীকে নিজের গোলামের মতো না রাখে যে, আমি যা চাইব তাই হবে, যাই হোক না কেন আমার কথার যেন নড়চড় না হয়। বরং তার (স্ত্রীর) জন্যও একই হুকুম যে, সে যেন তার স্বামীর হকের দিকে লক্ষ্য রাখে, তার জায়েয ইচ্ছাগুলো পূর্ণ করতে থাকে আর তার অবাধ্যতা থেকে বেঁচে থাকে।
হযরত সায়্যিদুনা ক্বায়স বিন সাদ ﺭَﺿِﻰَ ﺍﻟﻠﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻨْﻪُ থেকে বর্ণিত; সুলতানে আম্বিয়া, হুযুর ﺻَﻠَّﯽ ﺍﻟﻠّٰﮧُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﯽ ﻋَﻠَﯿْﮧِ ﻭَﺍٰﻟِﮧٖ ﻭَﺳَﻠَّﻢ ইরশাদ করেছেন: “যদি আমি আল্লাহ্ ব্যতিত অন্য কাউকে সিজদা করার আদেশ দিতাম, তবে মহিলাদের আদেশ দিতাম, সে যেন তার স্বামীকে সিজদা করে।” (সুনানে ইবনে মাজাহ্, ২ খন্ড, ৪১১ পৃষ্ঠা, হাদীস: ১৮৫৩) এই হাদীস শরীফ দ্বারা স্বামীর গুরুত্ব স্পষ্ট হয়ে গেলো। সুতরাং ইসলামী বোনদের উচিত, তারা যেন স্বামীর হক সমূহে কোন প্রকারের অলসতা না করে। স্বামী স্ত্রী উভয়ে একে অপরের পিতা মাতাকে নিজের পিতামাতা মনে করে তাদের সম্মান করতে থাকুন এবং সাথে দোয়াও করতে থাকুন যে, আল্লাহ্ তাআলা আমাদের মাঝখানে এই ভালবাসা অটুট রাখুক আর আমাদের ঘরকে শান্তির নীড় বানিয়ে দিন।
ইসলামী বোনদের মাদানী (ছেহেরা) কবিতা
মাদানী পরিবেশে অসংখ্য কনেকে পেশকৃত মাদানী ফুলের সুবাসে সুবাসিত মাদানী (ছেহেরা) কবিতা লক্ষ্য করুন। এই কবিতায় সজ্জিত মাদানী ফুল যদি কোন ইসলামী বোন তার অন্তরের মাদানী পুষ্পদানীতে সাজিয়ে নেয় তবে ﺍِﻥْ ﺷَﺎﺀَ ﺍﻟﻠﻪ ﻋَﺰَّﻭَﺟَﻞّ তার পারিবারিক কার্যাদিতে কখনোও কষ্টে পতিত হবে না।
ফযলে রবছে বিনতে ................... দুলহান বনি,
ফুল সেহরে কে খুলে চাদর হায়া কি হ্যায় তনি।
তুঝ কো হো শাদী মোবারক হো রাহি হে রুখসতি,
রুখসতি মে তেরী পিনহাঁ কবর কি হ্যায় রুখসতি।
ঘর তেরা হো মুশকবার অউর যিন্দেগী ভী পুর বাহার,
রব হো রাজী খুশ হোঁ তুঝ ছে দো জাঁহা কে তাজেদার।
মাদানী বেটী কা খোদায়া ঘর সদা আবাদ রাখ,
ফাতেমা যাহরা কা সদকা দো’জাহাঁ মে শাদ রাখ।
ইয়ে মিয়া বিবি ইলাহী মকরে শয়তাঁ সে বাঁচে,
ইয়ে নামাযে ভি পড়ে অউর সুন্নাতোঁ পর ভি চলে।
ইয়ে মিয়া বিবি চলে হজ্ব কো ইলাহী! বার বার,
বার বার উনকো মদীনা তু দেখা পরওয়ারদিগার।
মাইকা ও সসুরাল তেরে দোনো হি খোশহাল হোঁ,
দো’জাহাঁ কি নে’মতোঁ সে খুব মালা মাল হোঁ।
আপনে শোহর তি ইতাআত সে না গফলত করনা তু,
হাশর মে পচতায়েগী এ্যয় মাদানী বেটী ওয়ার না তু।
মাদানী বেটী ইয়া ইলাহী! না বনে গুচ্চে কি তেজ,
ইয়ে করে সসুরাল মে হার দম লড়াই সে গেরিয।
ইয়াদ রাখ! তু আজ সে ব্যাস তেরা ঘর সসুরাল হে,
নফরতে সসুরাল সুন লে আ’ফতোঁ কা জাল হে।
মাঁ সমঝ কে সাস কি খেদমত জু করতি হে বহু,
রাজ সারে হি ঘরানে পর তু সুন লে ওহ করতি হে বহু।
সাস ননদোঁ কি তু খিদমত কর কে হো জা কামিয়াব,
উন কি গীবত কর কে মত কর বেটনা খানা খারাব।
সাস আউর ননদেঁ আগর সখতি করে তু সবর কর,
সবর কর ব্যস সবর কর চলতা রাহে গা তেরা ঘর।
সাস আউর ননদোঁ কা শেকওয়া আপনে মেয়কে মে না কর,
ইস তারাহ বরবাদ হো সেকতা হে বেটী তেরা ঘর।
মেয়কে কে মত কর ফাযায়িল তু বয়ান সসুরাল মে,
আব তু ইস ঘর কো সমঝ আপনা হি ঘর হার হাল মে।
ইয়াদ রাখ তুনে যবাঁ খুলি আগর সসুরাল মে,
ফাঁস কে তু কযীওঁ কে সুন রেহ যায়েগি জঞ্জাল মে।
সাস চিঁিখ তু ভি বেপড়ী আউর লড়াই ঠন গেয়ী,
হে কাহাঁ ভুল এক কি দো’হাত সে তালি বাজি।
মেরী মাদানী বেটী সুন “ফয়যানে সুন্নাত” পড়কে তু,
ইলতিজা হে রোজ দেয়না দরস আপনে ঘর পে তু।
গর নসীহত পর আমল আত্তার কি হোগা তেরা,
ﺍِﻥْ ﺷَﺎﺀَ ﺍﻟﻠﻪ ﻋَﺰَّﻭَﺟَﻞّ আপনে ঘর মে তু সুখি হোগী সদা।
সত্য নিয়্যতের বরকতে হারিয়ে যাওয়া অলংকার ফিরে পেলো
ইসলামী বোনেরা! ﺍَﻟْﺤَﻤْﺪُ ﻟِﻠّٰﻪِ ﻋَﺰَّﻭَﺟَﻞّ তবলীগে কোরআন ও সুন্নাতের বিশ্বব্যাপী অরাজনৈতিক সংগঠন দা’ওয়াতে ইসলামীর সাথে সম্পৃক্ত ইসলামী ভাই ও ইসলামী বোনদের প্রিয় মুস্তফা ﺻَﻠَّﯽ ﺍﻟﻠّٰﮧُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﯽ ﻋَﻠَﯿْﮧِ ﻭَﺍٰﻟِﮧٖ ﻭَﺳَﻠَّﻢ এর গোলামীর প্রতি গর্ববোধ রয়েছে। দা’ওয়াতে ইসলামীর সুন্নাতে ভরা ইজতিমায় দোয়া করার বরকতে অগনিত ইসলামী বোনদের সমস্যাবলী সমাধান হয়ে যাওয়ার ঘটনা রয়েছে এমনই একটি মাদানী বাহার লক্ষ্য করুন। যেমনিভাবে; বাবুল মদীনা (করাচীর) এক ইসলামী বোনের বর্ণনার সারাংশ হলো, হঠাৎ একদিন আমার মূল্যবান অলংকার হারিয়ে গেলো, যা অনেক খোঁজাখুজির পরও পাওয়া যায়নি, যখন আমি অনেক চিন্তিত ছিলাম, ঠিক তখনই আমার তবলীগেকোরআন ও সুন্নাতের বিশ্বব্যাপী অরাজনৈতিক সংগঠন দা’ওয়াতে ইসলামীর সাপ্তাহিক সুন্নাতে ভরা ইজতিমায় অংশগ্রহণ করার সৌভাগ্য অর্জিত হলো, ইজতিমায় তিলাওয়াত ও নাতের পর এক মুবাল্লিগায়ে দা’ওয়াতে ইসলামী মাকতাবাতুল মদীনার রিসালা থেকে দেখে দেখে বয়ান করলেন, বয়ান শেষে তিনি উপস্থিত সবাইকে সাপ্তাহিক ইজতিমায় নিয়মিত অংশগ্রহণ করার নিয়্যত করালেন। ﺍَﻟْﺤَﻤْﺪُ ﻟِﻠّٰﻪِ ﻋَﺰَّﻭَﺟَﻞّ আমিও সত্য অন্তরে নিয়্যত করে নিলাম। আমার সুনিশ্চিত ধারণা এটা সেই নিয়্যতেরই বরকত ছিলো যে, যখন আমি ইজতিমা শেষে বাড়ি ফিরলাম আর বিছানা ঠিক করার জন্য বালিশ উঠলাম তখন খুশির তাড়নায় মেতে উঠলাম। কেননা, আমার হারিয়ে যাওয়া অলংকার বালিশের নিচেই ছিলো। ﺍَﻟْﺤَﻤْﺪُ ﻟِﻠّٰﻪِ ﻋَﺰَّﻭَﺟَﻞّ এখন আমি দা’ওয়াতে ইসলামীর ইসলামী বোনদের সাপ্তাহিক সুন্নাতে ভরা ইজতিমায় অংশগ্রহণ করছি। আর নেককার হওয়ার চেষ্টায় রত রয়েছি।
বুলন্দি পে আপনা নসীব আ’গেয়াহে, দীয়ারে মদীনা ক্বারিব আ গেয়াহে।
করম ইয়া হাবীবী করম ইয়া হাবীবী, কেহ দর পর তেমহারে গরিব আগেয়া হে।
ﺻَﻠُّﻮﺍ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﺤَﺒِﻴﺐ ! ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟَﻰ ﻋَﻠﻰ ﻣُﺤَﻤَّﺪ
ভাল নিয়্যতের ফযীলত
ইসলামী বোনেরা! ﺍَﻟْﺤَﻤْﺪُ ﻟِﻠّٰﻪِ ﻋَﺰَّﻭَﺟَﻞّ দা’ওয়াতে ইসলামীর ইসলামী বোনদের সুন্নাতে ভরা ইজতিমায় প্রচুর পরিমাণে রহমত বর্ষিত ও বরকত অবতীর্ণ হয়। সৎ নিয়্যতের ফযীলতের কথা কি বলব! সেই ইসলামী বোনের সুধারণা যে, নিয়মিতভাবে ইজতিমায় অংশগ্রহণ করার নিয়্যতের বরকতেই তার হারানো অলংকার ফিরে পেল, দুনিয়ার অলংকার তো সামান্য বিষয়, ভালো নিয়্যতের কারণে তো ﺍِﻥْ ﺷَﺎﺀَ ﺍﻟﻠﻪ ﻋَﺰَّﻭَﺟَﻞّ জান্নাত পর্যন্ত পৌছিয়ে দেবে। যেমন; নবীয়ে রহমত, শফিয়ে উম্মত, তাজেদারে রিসালাত ﺻَﻠَّﯽ ﺍﻟﻠّٰﮧُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﯽ ﻋَﻠَﯿْﮧِ ﻭَﺍٰﻟِﮧٖ ﻭَﺳَﻠَّﻢ ইরশাদ করেছেন: “ভালো নিয়্যত মানুষকে জান্নাতে পৌছিয়ে দিবে।”((আল জামে সগীর লিস সুয়ুতী, ৫৫৭ পৃষ্ঠা, হাদীস: ৯৩২৬) ভালো নিয়্যতের আরও
ফযীলত লক্ষ্য করুন:
রহমতে আলম, নূরে মুজাস্সাম, রাসুলে আকরাম, শাহান শাহে বনী আদম ﺻَﻠَّﯽ ﺍﻟﻠّٰﮧُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﯽ ﻋَﻠَﯿْﮧِ ﻭَﺍٰﻟِﮧٖ ﻭَﺳَﻠَّﻢ ইরশাদ করেছেন: “ভালো নিয়্যত উত্তম আমল।”(আল জামে সগীর লিস সুয়ুতী, ৮১ পৃষ্ঠা, হাদীস নং ১২৮৪)
নবী করীম, রউফুর রহীম, রাসূলে আমীন ﺻَﻠَّﯽ ﺍﻟﻠّٰﮧُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﯽ ﻋَﻠَﯿْﮧِ ﻭَﺍٰﻟِﮧٖ ﻭَﺳَﻠَّﻢ ইরশাদ
করেছেন: “মুসলমানের নিয়্যত তার আমলের চেয়ে উত্তম।” (আল মু’জামুল কবীর লিত তাবারানী, ৬ষ্ঠ খন্ড, ১৮৫ পৃষ্ঠা, হাদীস নং ৫৯৪২)
হারানো জিনিস ফিরে পাওয়ার ৪টি ওযীফা
(১) ﻳَﺎ ﺭَﻗِﻴْﺐُ : যদি কোন জিনিস হারিয়ে যায় তবে অধিক হারে পড়ুন ﺍِﻥْ ﺷَﺎﺀَ ﺍﻟﻠﻪ ﻋَﺰَّﻭَﺟَﻞّ পেয়ে যাবেন।
(২) ﻳَﺎ ﺟَﺎﻣِﻴْﻊُ : যদি কোন জিনিস হারিয়ে যায় তবে অধিক হারে পড়ুন ﺍِﻥْ ﺷَﺎﺀَ ﺍﻟﻠﻪ ﻋَﺰَّﻭَﺟَﻞّ পেয়ে যাবেন।
(৩) যদি কোন জিনিস এদিক সেদিক রয়ে যায় ﺍِﻥَّ ﻟِﻠّٰﻪِ ﻭَﺍِﻧَّﺂ ﺍِﻟَﻴْﻪِ ﺭٰﺟِﻌُﻮْﻥَ পড়ে খুঁজতে থাকুন পেয়ে যাবেন। আর যদি পাওয়া না যায় তবে অদৃশ্য থেকে কোন উত্তম জিনিস দান করা হবে।
(৪) সূরা দ্বোহা সাতবার (৭) পড়ুন ﺍِﻥْ ﺷَﺎﺀَ ﺍﻟﻠﻪ ﻋَﺰَّﻭَﺟَﻞّ হারিয়ে যাওয়া মানুষ
অথবা জিনিস ফিরে পাবেন।
ﺻَﻠُّﻮﺍ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﺤَﺒِﻴﺐ ! ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟَﻰ ﻋَﻠﻰ ﻣُﺤَﻤَّﺪ
মহিলারা আল্লাহর ভয়ে বিয়ে না করা কেমন?
প্রশ্ন:- স্বামীর হক সমূহে অবহেলা করার কারণে যেন গুনাহগার নাহই, এই কারণে যদি কোন ইসলামী বোন খোদাভীতিতে বিয়ে করতে না চায় তবে কি এটার সুযোগ রয়েছে?
উত্তর:- বিয়ে করা বা না করাকে প্রাধান্য দেওয়া সম্পর্কে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বিধান রয়েছে, কখনোও বিয়ে করা ফরয, কখনোও ওয়াজিব, কখনোও মাকরুহ আবার কখনোও হারাম হয়ে থাকে।
(বিস্তারিত জানার জন্য “ফতোওয়ায়ে রযবীয়া” এর ১২তম খন্ডের, ২৯১ পৃষ্ঠা, এছাড়াও দা’ওয়াতে ইসলামীর প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান মাকতাবাতুল মদীনা কর্তৃক প্রকাশিত ১১২ পৃষ্ঠা সম্বলিত কিতাব “বাহারে শরীয়াত” ৭ম খন্ডের ৪-৫ পৃষ্ঠা দেখুন) বিয়ে করাতে যদি শরীয়াতের নিষেধাজ্ঞা না থাকে, তবে শুধুমাত্র স্বামীর হকসমূহে অলসতার ভয়ে বিয়ে না করার মানসিকতা না বানিয়ে স্বামীর হকসমূহ পরিপূর্ণভাবে আদায় করার মন-মানসিকতা তৈরী করুন এবং এর জন্য ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন করে স্বামীর হকসমূহ সম্পর্কে অবগত হোন। তাছাড়া এমনিতেই প্রত্যেক বিবাহ করছে এমন মহিলার জন্য এই বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা ফরয। শুধুমাত্র স্বামীর হকই নয় বরং ধৈর্য ও কৃতজ্ঞতার সংজ্ঞা, এর ব্যবহার এবং এ ব্যাপারে কোন কোন বিষয়ের উপর দৃষ্টি রাখা উচিত সে সম্পর্কেও জ্ঞান অর্জন করবে। এ জন্য “ইহ্ইয়াউল উলূম” ইত্যাদি কিতাব পাঠ করাটা খুবই ফলদায়ক। বর্তমান সমাজে মহিলাদের বিয়ে না করে থাকাটা খুবই কঠিন, এর দ্বারা পারিবারিক সমস্যাবলীর পাশাপাশি বিভিন্ন গুনাহেও লিপ্ত হওয়ার আশংকা রয়েছে। সুতরাং মঙ্গলজনক কাজকে ত্যাগ করার পরিবর্তে যে বিষয়ে ঘাটতি সেটাকে পূর্ণ করার চেষ্টা করতে হবে।
বিয়ে না করাতে নারীরা কি গুনাহ্গার হবে
অবশ্য যে মহিলা স্বামীর হকসমূহ আদায় করাতে অলসতার আশংকায় বিয়ে করে না, তবে তাকে এ কারণে গুনাহ্গার বলা যাবে না। যতক্ষণ পর্যন্ত সেই অবস্থাগুলো পাওয়া যাবে না, যে অবস্থায় বিয়ে করা শরীয়াত সম্মতভাবে ওয়াজিব অথবা ফরয। ইসলামী ইতিহাসের পাতায় এমন ঘটনাবলী বর্ণিত আছে, যেগুলো পাঠ করে দ্বীনে ইসলামের বিধানের উপর আমল করার প্রেরনা আরো বেড়ে যায়। আল্লাহ্ তাআলার এমনও নেক বান্দেনী ছিলেন যারা নিজের উপর আবশ্যকীয় হকসমূহ পালন করার চিন্তায় থাকতেন এবং তারা নিজেদের পছন্দও অপছন্দের মীমাংসা আল্লাহ্ তাআলা ও তাঁর প্রিয় হাবিব ﺻَﻠَّﯽ ﺍﻟﻠّٰﮧُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﯽ ﻋَﻠَﯿْﮧِ ﻭَﺍٰﻟِﮧٖ ﻭَﺳَﻠَّﻢ এর বিধান অনুযায়ী করতেন। আমার আক্বা আ’লা হযরত, ইমামে আহলে সুন্নাত, মুজাদ্দীদে দ্বীন ও মিল্লাত, মাওলানা শাহ্ ইমাম আহমদ রযা খাঁন
ﺭَﺣْﻤَﺔُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻠَﻴْﻪِ “ফতোওয়ায়ে রযবীয়া” এর (সংকলিত) ১২তম খন্ডের ২৯৭ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেন: বিভিন্ন হাদীস সমূহে বর্ণিত স্বামীর হকসমূহ ও তার সাবধানতার কঠোরতা শুনে কিছু সংখ্যক মহিলা ﺭَﺿِﻰَ ﺍﻟﻠﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻨْﻬُﻦَّ রহমতে আলম, হুযুর ﺻَﻠَّﯽ ﺍﻟﻠّٰﮧُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﯽ ﻋَﻠَﯿْﮧِ ﻭَﺍٰﻟِﮧٖ ﻭَﺳَﻠَّﻢ এর দরবারে সারাজীবন বিয়ে না করার ইচ্ছা পেশ করেন এবং হুযুর ﺻَﻠَّﯽ ﺍﻟﻠّٰﮧُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﯽ ﻋَﻠَﯿْﮧِ ﻭَﺍٰﻟِﮧٖ ﻭَﺳَﻠَّﻢ তাদের বারণ করেননি। এ ব্যাপারে ১২তম খন্ডের ২৯৭ থেকে ৩০৫ পৃষ্ঠায় পেশকৃত বর্ণনার মধ্যে থেকে তিনটি বর্ণনা উপস্থাপন করছি। তিনি উদ্ধৃত করেন:
(১) স্বামীর বিনা অনুমতিতে ঘর থেকে বের হওয়ার পরিণতি
খাছ-আমিয়্যাহ গোত্রের একজন মহিলা প্রিয় আক্বা, হুযুর ﺻَﻠَّﯽ ﺍﻟﻠّٰﮧُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﯽ ﻋَﻠَﯿْﮧِ ﻭَﺍٰﻟِﮧٖ ﻭَﺳَﻠَّﻢ এর দরবারে উপস্থিত হয়ে আরয করলো: ইয়া রাসূলাল্লাহ্ ﺻَﻠَّﯽ ﺍﻟﻠّٰﮧُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﯽ ﻋَﻠَﯿْﮧِ ﻭَﺍٰﻟِﮧٖ ﻭَﺳَﻠَّﻢ স্ত্রীর উপর স্বামীর কি কি হক রয়েছে? মেহেরবাণী করে আমাকে একটু বলে দিন। কেননা, আমি অবিবাহিত, যদি স্বামীর হকসমূহ আদায় করার ক্ষমতা আমার মধ্যে থাকে তবে বিয়ে করবো আর না হয় এভাবেই জীবন কাটিয়ে দিবো। তদুত্তরে প্রিয় নবী, রউফুর রহীম ﺻَﻠَّﯽ ﺍﻟﻠّٰﮧُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﯽ ﻋَﻠَﯿْﮧِ ﻭَﺍٰﻟِﮧٖ ﻭَﺳَﻠَّﻢ ইরশাদ করলেন: “নিশ্চয় স্ত্রীর উপর স্বামীর হক হলো; যদি স্ত্রী উটের পিটের হাওদার উপর আরোহী অবস্থায় থাকে আর স্বামী সেই জন্তুর উপরেই তার নৈকট্য চায়, তবে অস্বীকার না করা। আর স্ত্রীর উপর স্বামীর হক এটাও যে, স্ত্রী যেন স্বামীর বিনা অনুমতিতে নফল রোযাও না রাখে। যদি রেখেও নেয় তবে অযথা ক্ষুধার্ত থাকল, তার রোযা কবুল হবে না। আর ঘর থেকে স্বামীর বিনা অনুমতিতে কোথাও যাবে না। যদি যায় তবে আসমানের ফিরিশতা, রহমতের ফিরিশতা, আযাবের ফিরিশতা সবাই তার উপর অভিশাপ দিতে থাকবে। যতক্ষণ পর্যন্ত সে তার ঘরে ফিরে না আসে।” এটা শুনে সেই মহিলা বললেন: ঠিক আছে আমি কখনোও বিয়ে করবো না। (মাজমাউয যাওয়ায়িদ, ৪র্থ খন্ড, ৫৬৩ পৃষ্ঠা, হাদীস: ৭৬৩৮)
(২) নাকের ছিদ্র থেকে প্রবাহিত রক্ত ও পুঁজ চাটলেও...
একজন মহিলা সাহাবীয়া ﺭَﺿِﻰَ ﺍﻟﻠﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻨْﻬَﺎ প্রিয় নবী, রাসূলে আরবী ﺻَﻠَّﯽ ﺍﻟﻠّٰﮧُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﯽ ﻋَﻠَﯿْﮧِ ﻭَﺍٰﻟِﮧٖ ﻭَﺳَﻠَّﻢ এর দরবারে উপস্থিত হয়ে আরয করলো: আমি অমুকের কন্যা অমুক। প্রিয় নবী ﺻَﻠَّﯽ ﺍﻟﻠّٰﮧُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﯽ ﻋَﻠَﯿْﮧِ ﻭَﺍٰﻟِﮧٖ ﻭَﺳَﻠَّﻢ তদুত্তরে ইরশাদ করলেন: “আমি তোমাকে চিনতে পেরেছি, কি কাজে এসেছো বলো।” সে বললো: আমার চাচার পুত্র অমুক ইবাদতকারীর সাথে আমার কাজ রয়েছে। প্রিয় নবী ﺻَﻠَّﯽ ﺍﻟﻠّٰﮧُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﯽ ﻋَﻠَﯿْﮧِ ﻭَﺍٰﻟِﮧٖ ﻭَﺳَﻠَّﻢ ইরশাদ করলেন: “আমি তাকেও চিনি, উদ্দেশ্য কি বলো।” সে বললো: সে আমাকে বিয়ের প্রস্তাব পাঠিয়েছে, আপনি (হুযুর ﺻَﻠَّﯽ ﺍﻟﻠّٰﮧُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﯽ ﻋَﻠَﯿْﮧِ ﻭَﺍٰﻟِﮧٖ ﻭَﺳَﻠَّﻢ ) আমাকে বলে দিন যে, স্ত্রীর উপর স্বামীর কি হক রয়েছে? যদি তা আমার সামর্থ্যের মধ্যে থাকে, তবে আমি তাকে বিয়ে করবো। ইরশাদ করলেন: “স্বামীর হকের একটি অংশ হলো; যদি তার নাকের উভয় ছিদ্র থেকে রক্ত অথবা পুঁজ প্রবাহিত হয়, আর স্ত্রী তার জিহ্বা দিয়ে তা চেটে নেয়, তবুও স্বামীর হক আদায় হবে না। যদি মানুষ মানুষকে সিজদা করার প্রচলন থাকতো, তবে (আমি) স্ত্রীকে আদেশ দিতাম যে, যখন পুরুষ বাইরে (কাজকর্ম) থেকে ঘরে ফিরে আসে, তখন যেন তাকে সিজদা করে। কেননা, আল্লাহ্ তাআলা স্বামীকে এমন মর্যাদা দান করেছেন।” এটা শুনে সেই মহিলা সাহাবীয়া ﺭَﺿِﻰَ ﺍﻟﻠﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻨْﻬَﺎ বললো: সেই পবিত্র সত্তার কসম! যিনি হুযুর রহমতে আলম ﺻَﻠَّﯽ ﺍﻟﻠّٰﮧُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﯽ ﻋَﻠَﯿْﮧِ ﻭَﺍٰﻟِﮧٖ ﻭَﺳَﻠَّﻢ কে সত্য নবী রূপে প্রেরণ করেছেন। আমি এই জগতে বিয়ের নামও নেবো না (এই বাণীটি বায্যায ও হাকীম, হযরত আবু হুরাইয়া ﺭَﺿِﻰَ ﺍﻟﻠﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻨْﻪُ থেকে বর্ণনা করেন।) (আল মুস্তাদরাক লিল হাকীম, ২য় খন্ড, ৪৭ পৃষ্ঠা, হাদীস: ২৮২২)
(৩) আমি কখনো বিয়ে করবো না
একজন সাহাবী ﺭَﺿِﻰَ ﺍﻟﻠﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻨْﻪُ তার কন্যাকে ( ﺭَﺿِﻰَ ﺍﻟﻠﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻨْﻬَﺎ ) নিয়ে প্রিয় নবী, হুযুর পুরনূর ﺻَﻠَّﯽ ﺍﻟﻠّٰﮧُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﯽ ﻋَﻠَﯿْﮧِ ﻭَﺍٰﻟِﮧٖ ﻭَﺳَﻠَّﻢ এর দরবারে উপস্থিত হলেন এবং আরয করলেন: আমার এই কন্যাটি ( ﺭَﺿِﻰَ ﺍﻟﻠﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻨْﻬَﺎ ) বিয়ে করতে অস্বীকার করছে। হুযুর পুরনূর ﺻَﻠَّﯽ ﺍﻟﻠّٰﮧُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﯽ ﻋَﻠَﯿْﮧِ ﻭَﺍٰﻟِﮧٖ ﻭَﺳَﻠَّﻢ ইরশাদ করলেন: " ﺍَﻃِﻴْﻌِﻰ ﺍَﺑَﺎﻙِ " অর্থাৎ তুমি তোমার পিতার আদেশ মান্য করো।” তদুত্তরে সেই কন্যাটি ( ﺭَﺿِﻰَ ﺍﻟﻠﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻨْﻬَﺎ ) আরয করলো: সেই পবিত্র সত্তার কসম! যিনি হুযুর ﺻَﻠَّﯽ ﺍﻟﻠّٰﮧُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﯽ ﻋَﻠَﯿْﮧِ ﻭَﺍٰﻟِﮧٖ ﻭَﺳَﻠَّﻢ কে সত্য নবী রূপে প্রেরণ করেছেন, আমি (ততক্ষন পর্যন্ত) বিয়ে করবো না যতক্ষণ পর্যন্ত হুযুর ﺻَﻠَّﯽ ﺍﻟﻠّٰﮧُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﯽ ﻋَﻠَﯿْﮧِ ﻭَﺍٰﻟِﮧٖ ﻭَﺳَﻠَّﻢ এটা ইরশাদ করবেন না যে, স্ত্রীর উপর স্বামীর কি হক রয়েছে? ইরশাদ করলেন: “স্ত্রীর উপর স্বামীর হক হলো; যদি তার কোন ফোঁড়া হয় আর স্ত্রী সেটাকে চেঁটে পরিষ্কার করে নেয়, অথবা তার নাকের ছিদ্র থেকে পুঁজ বা রক্ত বের হয় আর স্ত্রী সেগুলোকে গিলে ফেলে, তারপরও স্বামীর হক আদায় হবে না।” (তা শুনে) সেই মেয়েটি ( ﺭَﺿِﻰَ ﺍﻟﻠﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻨْﻬَﺎ ) বললো: সেই সত্তার শপথ! যিনি প্রিয় মুস্তফা ﺻَﻠَّﯽ ﺍﻟﻠّٰﮧُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﯽ ﻋَﻠَﯿْﮧِ ﻭَﺍٰﻟِﮧٖ ﻭَﺳَﻠَّﻢ কে সত্য নবী রূপে প্রেরন করেছেন! আমি কখনোও বিয়ে করবো না। রহমতে আলম ﺻَﻠَّﯽ ﺍﻟﻠّٰﮧُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﯽ ﻋَﻠَﯿْﮧِ ﻭَﺍٰﻟِﮧٖ ﻭَﺳَﻠَّﻢ ইরশাদ করলেন: “ততক্ষন পর্যন্ত মেয়েদেরকে বিয়ে দিয়ো না যতক্ষণ পর্যন্ত তারা রাজি না হয়।” (মাজমুয়াউজ যাওয়ায়িদ, ৪র্থ খন্ড, ৫৬৪ পৃষ্ঠা, হাদীস: ৭৬৩৯)
ইসলামী বোনেরা! উপরোক্ত হাদীস শরীফ থেকে জানা গেলো, সাহাবীয়াদের ﺭَﺿِﻰَ ﺍﻟﻠﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻨْﻬُﻦَّ জীবনী থেকে আমরা এ শিক্ষা পাই যে, তাঁরা সম্মুখীন হওয়া সমস্যাবলীর ব্যাপারে ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন করার আগ্রহে রত থাকতেন। অনূরূপভাবে এই ঘটনাগুলো স্বামীর হক সমূহের ব্যাপারে সাহাবীয়াদের ﺭَﺿِﻰَ ﺍﻟﻠﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻨْﻬُﻦَّ মাদানী চিন্তাধারার বিষয়ে শিক্ষা দিচ্ছে যে, তারা নিজের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আল্লাহ্ তাআলা ও তাঁর রাসূল ﺻَﻠَّﯽ ﺍﻟﻠّٰﮧُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﯽ ﻋَﻠَﯿْﮧِ ﻭَﺍٰﻟِﮧٖ ﻭَﺳَﻠَّﻢ এর নাফরমানি থেকে বেঁচে থাকাকে অগ্রাধিকার দিতেন। আর গুনাহের আশংকা থেকেও সতর্ক থাকতেন। উপরোক্ত হাদীস সমূহে বিবাহিতা মহিলাদের জন্যও শিক্ষা রয়েছে যে, তারা যেন স্বামীর হক আদায় করতে কখনোও অলসতা না করে।
মেয়ের বাড়ীর লোকেরা সতর্ক থাকুন
প্রশ্ন:- আজকাল অধিকাংশ মেয়ের বাড়ীর লোকেরা স্বামীর বিরুদ্ধে উস্কানি দিয়ে দিয়ে কান ঝালাপালা করে দেয়, তাদের ব্যাপারে কিছু মাদানী ফুল প্রদান করুন?
উত্তর:- প্রথমত: ইসলামী বোনের উচিত যে, যদি শশুর বাড়ীতে কোন সমস্যা হয়ও, তবে ধৈর্যধারণ করে এর প্রতিদান অর্জন করা। কেননা, যখন বাপের বাড়ীতে এসে আক্রোশ প্রকাশ করে তখন অধিকাংশ সময় গীবত, অপবাদ, কুধারণা এবং দোষ প্রকাশ করা ইত্যাদি কবিরা গুনাহের ধারাবাহিকতা শুরু হয়ে যায়, অতঃপর বাপের বাড়ীর লোকেরা স্বামী অথবা শশুড় বাড়ীর বিরুদ্ধে উস্কানি মূলক কথাবার্তা শুরু করে, এমনিভাবে আরো গুনাহ ও ফিতনার পথ খুলে যায়, বাপের বাড়ীর লোকদের উচিত, যখন স্বামী অথবা শশুড় বাড়ীর বিরুদ্ধে কিছু বলার মনমানসিকতা তৈরী হয়, তখন যেন কমপক্ষে এই দুটি বর্ণনাকে দৃষ্টির সামনে রাখে: (১) হযরত বুরাইদাহ্ ﺭَﺿِﻰَ ﺍﻟﻠﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻨْﻪُ থেকে বর্ণিত; তাজেদারে রিসালাত, শাহানশাহে নবূয়ত, হুযুর পুরনূর ﺻَﻠَّﯽ ﺍﻟﻠّٰﮧُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﯽ ﻋَﻠَﯿْﮧِ ﻭَﺍٰﻟِﮧٖ ﻭَﺳَﻠَّﻢ ইরশাদ করেন: “যে ব্যক্তি কারো স্ত্রীকে তার স্বামীর বিরুদ্ধে উত্তেজিত করে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।” (মুসনাদে ইমাম আহমদ, ৯ম খন্ড, ১৬ পৃষ্ঠা, হাদীস: ২৩০৪১) (২) হযরত সায়্যিদুনা জাবির ﺭَﺿِﻰَ ﺍﻟﻠﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻨْﻪُ থেকে বর্ণিত; রহমতে আলম, নূরে মুজাস্সাম, হুযুর ﺻَﻠَّﯽ ﺍﻟﻠّٰﮧُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﯽ ﻋَﻠَﯿْﮧِ ﻭَﺍٰﻟِﮧٖ ﻭَﺳَﻠَّﻢ ইরশাদ করেন: “শয়তান তার আসন পানির উপর বসায়, অতঃপর নিজের লস্করদের বিভিন্ন জায়গায় পাঠায়। সেই লস্করগুলোর মধ্যে শয়তানের অধিক প্রিয় সেই হয়, যে সর্বাধিক ফিতনা সৃষ্টিকারী হয়ে থাকে। সেই লস্করদের মধ্যে এক লস্কর এসে বলে: “আমি তো এমন এমন কাজ করেছি?” তখন শয়তান বলে: “তুই কিছুই করিসনি।” অতঃপর অন্য এক লস্কর এসে বলে: “আমি একজন লোককে ততক্ষণ পর্যন্ত ছাড়িনি যতক্ষণ পর্যন্ত তার এবং স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ (তালাক) না করিয়েছি।” তা শুনে ইবলিশ (শয়তান) তাকে নিজের কাছে ডেকে নেয়। আর বলে: “তুই কতই না উত্তম কাজ করেছিস।” আর তাকে জড়িয়ে ধরে। (সহীহ্ মুসলিম, ১৫১১ পৃষ্ঠা, হাদীস: ৬৭ (২৮১৩)
স্বামী যদি বেপর্দা হওয়ার আদেশ দেয় তবে...?
প্রশ্ন:- যদি স্বামী বা শশুড় বাড়ীর লোকেরা অথবা মা-বাবা পর্দার ব্যাপারে কোন শরীয়াত বিরোধী হুকুম দেয় তবে কি করবে?
উত্তর:- এই বিষয়ে তাদের আনুগত্য করা যাবে না। কেননা, গুনাহের কাজে স্বামী অথবা পিতামাতার আদেশ মান্য করা সাওয়াবের পরিবর্তে গুনাহ। আমীরুল মু’মিনীন হযরত সায়্যিদুনা মাওলায়ে কায়েনাত আলী মুরতাদ্বা শেরে খোদা ﺭَﺿِﻰَ ﺍﻟﻠﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻨْﻪُ থেকে বর্ণিত, নবীয়ে রহমত, শফিয়ে উম্মত, হুযুর ﺻَﻠَّﯽ ﺍﻟﻠّٰﮧُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﯽ ﻋَﻠَﯿْﮧِ ﻭَﺍٰﻟِﮧٖ ﻭَﺳَﻠَّﻢ ইরশাদ করেন: " ﻟَﺎ ﻃَﺎﻋَﺔَ ﻓِﻰ ﻣَﻌْﺼِﻴَﺔِ ﺍﻟﻠﻪِ ﺍِﻧَّﻤَﺎ ﺍﻟﻄَّﺎﻋَﺔُ ﻓِﻰ ﺍﻟْﻤَﻌْﺮُﻭْﻑِ "
অর্থাৎ আল্লাহ্ তাআলার নাফরমানির কাজে কারো আনুগত্য জায়েয নেই। আনুগত্য তো শুধু নেক কাজেই করা হয়।” (মুসলিম, ১০২৩ পৃষ্ঠা, হাদীস: ১৮৪০)
বর্ণিত হাদীসে পাকে ইরশাদকৃত শব্দ ﻣَﻌْﺮُﻭْﻑِ এর সংজ্ঞা দিতে গিয়ে প্রখ্যাত মুফাস্সীর হাকীমুল উম্মত হযরত মুফতী আহমদ ইয়ার খাঁন ﺭَﺣْﻤَﺔُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻠَﻴْﻪِ বলেন: ﻣَﻌْﺮُﻭْﻑِ হলো সেই কাজ, যেটা থেকে শরীয়াত নিষেধ করে না। আর “গুনাহ্” সেই কাজ, যেটা থেকে শরীয়াত বাধা প্রদান করে।” (মিরাআত, ৫ম খন্ড, ৩৪০ পৃষ্ঠা)
সন্তানের প্রথম শিক্ষাস্থল মায়ের কোল
প্রশ্ন:- একজন ইসলামী বোনের জন্য দ্বীনি শিক্ষার প্রাথমিক মাধ্যম কোনটি?
উত্তর:- প্রয়োজনীয় দ্বীনি জ্ঞান অর্জন করা নিঃসন্দেহে প্রত্যেক মুসলমান পুরুষ ও মহিলার উপর ফরয। যেমনিভাবে হাদীসে পাকে বর্ণিত রয়েছে: " ﻃَﻠَﺐُ ﺍﻟﻌِﻠْﻢِ ﻓَﺮِﻳْﻀَﺔٌ ﻋَﻠٰﻰ ﻛُﻞِّ ﻣُﺴْﻠِﻢ " অর্থাৎ জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলমানের উপর ফরয।” (সুনানে ইবনে মাজাহ, ১ম খন্ড, ১৪৬ পৃষ্ঠা, হাদীস: ২২৪) এজন্য চেষ্টা করা আবশ্যক। জ্ঞান অর্জনের বিভিন্ন মাধ্যমের মধ্যে পিতা-মাতাও একটি মাধ্যম। সন্তানের প্রথম শিক্ষাস্থল হচ্ছে “মায়ের কোল।”
পিতামাতার জন্য আবশ্যক যে, তারা যেন সন্তানদেরকে সঠিক ইসলামী শিক্ষা দেয়। এ সম্পর্কে প্রিয় নবী ﺻَﻠَّﯽ ﺍﻟﻠّٰﮧُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﯽ ﻋَﻠَﯿْﮧِ ﻭَﺍٰﻟِﮧٖ ﻭَﺳَﻠَّﻢ এর দু’টি বাণী লক্ষ্য করুন। (১) “নিজের সন্তানদের তিনটি বিষয় শিক্ষা দাও (ক) আপন নবীর ( ﺻَﻠَّﯽ ﺍﻟﻠّٰﮧُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﯽ ﻋَﻠَﯿْﮧِ ﻭَﺍٰﻟِﮧٖ ﻭَﺳَﻠَّﻢ ) ভালবাসা, (খ) আহলে বাইতদের( ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢُ ﺍﻟﺮِّﺿْﻮَﺍﻥ ) ভালবাসা এবং (গ) কোরআনের তিলাওয়াত। (জামিউস সগির লিস সুয়ূতী, ২৫ পৃষ্ঠা, হাদীস: ৩১১)
(২) “নিজের সন্তানদের সাথে উত্তম আচরণ করো আর তাদেরকে জীবনের (প্রয়োজনীয়) আদব শিক্ষা দাও।” (সুনানে ইবনে মাজাহ্, ৪র্থ খন্ড, ১৮৯ পৃষ্ঠা, হাদীস: ৩৬৭১)
মহিলা তার স্বামীর কাছ থেকে জ্ঞান অর্জন করবে
প্রশ্ন:- বিবাহিত মহিলারা কিভাবে জ্ঞান অর্জন করবে?
উত্তর:- যতটুকু সম্ভব তার স্বামীর কাছ থেকে দ্বীনি জ্ঞান অর্জন করবে। এ ব্যাপারে স্বামীর উপর অনেক বড় দায়িত্ব অর্পন করা হয়েছে। কোরআনে মজীদ ফোরকানে হামীদের পারা ২৮, সূরা: আত তাহরীমের ষষ্ঠ আয়াত “ ﻗُﻮْﺍ ﺍَﻧْﻔُﺴَﻜُﻢْ ﻭَﺍَﻫْﻠِﻴْﻜُﻢ ﻧَﺎﺭًﺍ কানযুল ঈমান থেকে অনুবাদ: নিজেদের ও নিজেদের পরিবারকে ঐ আগুন থেকে রক্ষা করো“ এর পাদ-টীকায় হযরত আল্লামা জালালউদ্দীন সুয়ূতি
শাফেয়ী ﺭَﺣْﻤَﺔُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻠَﻴْﻪِ “তাফসীরে দুররে মনসুর”এ উদ্ধৃত্ব করেন: হযরত আলী মুরতাদ্বা শেরে খোদা
ﺭَﺿِﻰَ ﺍﻟﻠﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻨْﻪُ আয়াতের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন: “এই আয়াতের উদ্দেশ্য হলো; নিজেকে এবং নিজের পরিবারকে উত্তম (কল্যানের) শিক্ষা দিন এবং তাদের জীবন অতিবাহিত করার আদব শিক্ষা দিন।” (তাফসীরে দুররে মনছুর, ৮ম খন্ড, ২২৫ পৃষ্ঠা)
আমার আক্বা আ’লা হযরত, ইমামে আহলে সুন্নাত, মুজাদ্দীদে দ্বীন ও মিল্লাত, মাওলানা শাহ্ ইমাম আহমদ রযা খাঁন ﺭَﺣْﻤَﺔُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻠَﻴْﻪِ “ফতোওয়ায়ে রযবীয়া শরীফে” স্বামীর উপর স্ত্রীর হকসমূহ বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন: “থাকা খাওয়ার খরচাদি থাকার উপযুক্ত স্থান, মোহর, ভালভাবে চলার ধরণ, ভালো কথা, লজ্জা ও পর্দার শিক্ষার প্রতি জোর দেয়া আর তার বিপরীত কাজ করতে বারণ করবে, বুঝাবে, ধমকাবে। তাছাড়া প্রতিটি জায়েয কাজে তার মন খুশি করবে।” (ফতোওয়ায়ে রযবীয়া, ২৪তম খন্ড, ৩৭১ পৃষ্ঠা)
শরয়ী মাসয়ালার সম্মুখীন হলে তা জানার ব্যবস্থা “বাহারে শরীয়াতে” এভাবে বর্ণিত হয়েছে: “মহিলাদের মাসয়ালা জিজ্ঞাসা করার প্রয়োজন হলে তবে যদি স্বামী আলিম হয় তবে তার কাছ থেকে জিজ্ঞাসা করবে। আর যদি আলিম না হয় তবে তাকে বলবে, সে যেন জিজ্ঞাসা করে আসে, এমতাবস্থায় তার (মহিলা) আলিমের নিকট যাওয়ার অনুমতি নেই। আর এরূপ ব্যবস্থা না থাকলে যেতে পারবে।” (বাহারে শরীয়াত,৭ম খন্ড, পৃষ্ঠা ৯৯, আলমগিরী, ১ম খন্ড, ৩৪১ পৃষ্ঠা)
মহিলাদের আলিমার নিকট গিয়ে পড়া
প্রশ্ন:- মহিলারা কি দ্বীনি জ্ঞান অর্জন করার জন্য মহিলা আলিমের নিকট যেতে পারবে?
উত্তর:- পিতামাতা এবং স্বামীর মাধ্যমে যদি ফরয জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব না হয় তবে বিশুদ্ধ আকিদা সম্পন্ন সুন্নি আলিমার (মহিলা আলিম), নিকট দ্বীনি জ্ঞান অর্জনের জন্য যেতে পারবে। সাহাবীদের ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢُ ﺍﻟﺮِّﺿْﻮَﺍﻥ যুগে উম্মাহাতুল মু’মিনীনদের নিকট মহিলারা উপস্থিত হতেন এবং তাদের কাছ থেকে দ্বীনি জ্ঞান অর্জন করে নিজেদের (জানার) তৃষ্ণা নিবারন করতেন। বর্তমান যুগেও
ইসলামী বোনেরা দ্বীনি জ্ঞান অর্জন করার জন্য নেক চরিত্রের অধিকারীনি আলিমার নিকট যেতে পারবে এবং সেই সমস্ত সুন্নি প্রতিষ্ঠান যেখানে পর্দার শরয়ী বিধানবলী পালন করা হয়, সেখানেও ফরয জ্ঞান সমূহ শিখার জন্য যেতে পারবে।
দা’ওয়াতে ইসলামীর পরিচালনাধীন জামেয়াতুল মদীনা মহিলা শাখা হলো ইসলামী বোনদের জন্য ফরয জ্ঞান অর্জন করার উত্তম মাধ্যম। যেখানে পরিপূর্ণ ভাবে পর্দা সহকারে ইসলামী বোনেরাই শিক্ষকতার কাজ পরিচালনা করেন।
দ্বীনি জ্ঞান অর্জনের মাধ্যম সুন্নাতে ভরা ইজতিমাও
প্রশ্ন:- দা’ওয়াতে ইসলামীর ইসলামী বোনদের সুন্নাতে ভরা ইজতিমায়ও কি ফরয জ্ঞান অর্জন করা যায়?
উত্তর:- কেন নয়! কিন্তু এটা আবশ্যক যে, সেখানে অংশগ্রহণ করার জন্য আসা যাওয়ায় এবং সুন্নাতে ভরা ইজতিমায়ও যেন ইসলামী বোনদের পর্দার বিধানাবলী পরিপূর্ণভাবে আদায় হয়। মুবাল্লিগাদের জন্য আবশ্যক যে, সে যেন বিশুদ্ধ আকিদা সম্পন্ন সুন্নী আলিমা হয় আর যা কিছু বয়ান করে তাও যেন বিশুদ্ধ হয়। আর যদি আলিমা না হয় তবে কোন বিশুদ্ধ আকীদা সম্পন্ন সুন্নী
আলিমের কিতাব থেকে দেখে দেখে যা রয়েছে তাই বর্ণনা করে। ﺍَﻟْﺤَﻤْﺪُ ﻟِﻠّٰﻪِ ﻋَﺰَّﻭَﺟَﻞّ দা’ওয়াতে ইসলামীর মাদানী পরিবেশে ইসলামী বোনদের সুন্নাতে ভরা ইজতিমায় বর্ণিত শর্তাবলী অনুসরন করার কঠোর ভাবে জোর দেয়া হয়। দা’ওয়াতে ইসলামীর মুবাল্লিগ ও মুবাল্লিগাদের মুখস্ত বয়ান করার অনুমতি নেই। তাদের ওলামায়ে আহলে সুন্নাতের কিতাব থেকে প্রয়োজনবশত ফটোকপি করিয়ে তা নিজেদের ডায়েরিতে লাগিয়ে দেখে দেখে বয়ান করতে হয়।
যিয়ারতে মুস্তফা ﷺ
ইসলামী বোনেরা! আহ! যদি প্রত্যেক মুসলমান তবলীগে কোরআন ও সুন্নাতের বিশ্বব্যাপী অরাজনৈতিক সংগঠন দা’ওয়াতে ইসলামীর সাথে সম্পৃক্ত হয়ে সুন্নাত শিখা ও শিক্ষা প্রদানকারী আশিকানে রাসূলের অন্তর্ভূক্ত হয়ে যেত। প্রতিটি দরস ও সুন্নাতে ভরা ইজতিমায় শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যদি অংশগ্রহণ করার সৌভাগ্য অর্জন করতো, আর এজন্য সত্য অন্তরে চেষ্টাও করতো। এক ইসলামী বোনের প্রতি হুযুরে আনওয়ার ﺻَﻠَّﯽ ﺍﻟﻠّٰﮧُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﯽ ﻋَﻠَﯿْﮧِ ﻭَﺍٰﻟِﮧٖ ﻭَﺳَﻠَّﻢ এর দয়া ও করুনার ঈমান তাজাকারী ঘটনা শুনুন আর আনন্দে মেতে উঠুন। বিহিম্বার (কশ্মীর) এর একজন ইসলামী বোনের লিখিত বর্ণনা কিছুটা এরকম যে, আমাদের ঘর থেকে কিছু দূরে ইসলামী বোনদের সাপ্তাহিক সুন্নাতে ভরা ইজতিমা অনুষ্ঠিত হয়, একদিন কিছু ইসলামী বোন আমাদের ঘরেও আসল এবং আমাদেরকে সুন্নাতে ভরা ইজতিমায় অংশগ্রহণ করার দাওয়াত পেশ করলো। তাদের মিশুকতা ও বিনয়পূর্ণ ভাষার এই প্রভাব ছিলো যে, আমার দু’বোন নিয়মিতভাবে সুন্নাতে ভরা ইজতিমায় অংশগ্রহণ করতে লাগলো। কিন্তু আমি অধিকাংশ সময় অনুপস্থিত থাকতাম। একদিন সামান্য আরাম করার জন্য শুয়ে গেলাম আর চোখ লেগে গেলো। আমি শুয়ে তো গেলাম কিন্তু আমার ভাগ্য জেগে উঠলো। সত্যি বলছি যে, আমি স্বপ্নে প্রিয় নবী, রাসূলে আরবী ﺻَﻠَّﯽ ﺍﻟﻠّٰﮧُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﯽ ﻋَﻠَﯿْﮧِ ﻭَﺍٰﻟِﮧٖ ﻭَﺳَﻠَّﻢ এর যিযারত লাভে ধন্য হলাম। আমি আমার কতিপয় সমস্যাদি প্রিয় নবী, হুযুরে আরবী ﺻَﻠَّﯽ ﺍﻟﻠّٰﮧُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﯽ ﻋَﻠَﯿْﮧِ ﻭَﺍٰﻟِﮧٖ ﻭَﺳَﻠَّﻢ এর নিরাশ্রয়ের আশ্রয়স্থল দরবারে আরয করলাম। তখন তাঁর ঠোঁট মোবারক নড়ে উঠলো। রহমতে ভরা শব্দাবলী আমার কানে আসতে লাগল শব্দাবলী কিছুটা এরকম ছিলো: “দা’ওয়াতে ইসলামীর ইজতিমায় অংশগ্রহণ করতে থাকো।” অতঃপর আমার চোখ খুলে গেলো। তৎক্ষনাৎ আমি নিয়্যত করে নিলাম যে, ভবিষ্যতে নিয়মিত ভাবে সুন্নাতে ভরা ইজতিমায় অংশগ্রহণ করবো। ﺍَﻟْﺤَﻤْﺪُ ﻟِﻠّٰﻪِ ﻋَﺰَّﻭَﺟَﻞّ বর্তমানে আমার নিয়মিতভাবে সুন্নাতে ভরা ইজতিমায় অংশগ্রহণ করার সৌভাগ্য অর্জন হচ্ছে। আমি এটাও নিয়্যত করেছি যে, যদি মাদানী মারকায অনুমতি প্রদান করে তবে ﺍِﻥْ ﺷَﺎﺀَ ﺍﻟﻠﻪ ﻋَﺰَّﻭَﺟَﻞّ নিজ ঘরেও অতি শীঘ্রই সুন্নাতে ভরা ইজতিমা শুরু করবো।
আলীম না মুত্তাকী হোঁ না যাহিদ ও পারসা,
হোঁ উম্মতি তোমহারা গুনাহ্গার ইয়া রাসূল ( ﷺ )!
ﺻَﻠُّﻮﺍ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﺤَﺒِﻴﺐ ! ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟَﻰ ﻋَﻠﻰ ﻣُﺤَﻤَّﺪ
প্রিয় নবী ﷺ উম্মতের অবস্থা সম্পর্কে অবগত আছেন
ﺳُﺒْﺤٰﻦَ ﺍﻟﻠﻪِ ﻋَﺰَّﻭَﺟَﻞ আজও আমাদের অদৃশ্যের সংবাদদাতা নবী ﺻَﻠَّﯽ ﺍﻟﻠّٰﮧُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﯽ ﻋَﻠَﯿْﮧِ ﻭَﺍٰﻟِﮧٖ ﻭَﺳَﻠَّﻢ আপন উম্মতের অবস্থা সম্পর্কে অবগত আছেন এবং স্বপ্নের মধ্যে এসে তাদের সাহায্য করেন। যেমনিভাবে- একজন বুযুর্গ বলেন: “আমি গোসল খানায় পড়ে গেলাম এবং আমার হাতে প্রচন্ড আঘাত পেলাম। যার কারণে হাত ফোলে গেলো, প্রচন্ড ব্যথা করছিল, এরই মধ্যে আমার ঘুম এসে গেলো। স্বপ্নে প্রিয় মাহবুব ﺻَﻠَّﯽ ﺍﻟﻠّٰﮧُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﯽ ﻋَﻠَﯿْﮧِ ﻭَﺍٰﻟِﮧٖ ﻭَﺳَﻠَّﻢ এর দিদার নসীব হলো। মোবারক ঠোঁট নড়ে উঠলো, রহমতের ফুল ঝরতে লাগলো, মিষ্টি ভাষ্য কিছুটা এরকম ছিলো: “হে বৎস! তোমার পাঠকৃত দরূদ শরীফই আমাকে তোমার দিকে মনোযোগী করেছে।” সকালে ঘুম থেকে জাগ্রত হলে মুস্তফা জানে রহমত, হুযুর পুরনূর ﺻَﻠَّﯽ ﺍﻟﻠّٰﮧُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﯽ ﻋَﻠَﯿْﮧِ ﻭَﺍٰﻟِﮧٖ ﻭَﺳَﻠَّﻢ এর বরকতে হাতে না ব্যথা অনুভব হচ্ছিল আর না ফোলা ছিলো।” (সাদাতুদ্দারাইন, ১৪০ পৃষ্ঠা)
বিনা অনুমতিতে ইজতিমার জন্য ঘর থেকে বের হওয়া
প্রশ্ন:- যদি মহিলাকে তার স্বামী অথবা পিতামাতা দ্বীনি জ্ঞান অর্জনের মজলিশ (সুন্নাতে ভরা ইজতিমা) সমূহে যেতে বাঁধা প্রদান করে, তবে কি করবে?
উত্তর:- তাদের আনুগত্য করবে। তবে হ্যাঁ! ফরয জ্ঞান সমূহ যেমন; পবিত্রতা, নামায, রোযা ইত্যাদি সর্ম্পকিত প্রয়োজনীয় জ্ঞান যদি ঘরে থেকে বের হওয়া ব্যতিত অর্জন করা না যায়। এমতাবস্থায় ফরয জ্ঞান সমূহ শিখার জন্য যাওয়াতে তাদের অনুমতির প্রয়োজন নেই।
প্রশ্ন:- আজকাল ইসলামী বোনদের ইজতিমায় মাইকের মাধ্যমে ইসলামী ভাইদের বয়ান শুনানো হয়। এটা কি শরীয়াত সম্মত?
উত্তর:- যদি শরীয়াতের বিধানাবলী পরিপূর্ণভাবে আদায় হয়, তবে সঠিক। আমার আক্বা আ’লা হযরত, ইমামে আহলে সুন্নাত, মুজাদ্দীদে দ্বীন ও মিল্লাত, মাওলানা শাহ্ ইমাম আহমদ রযা খাঁন ﺭَﺣْﻤَﺔُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻠَﻴْﻪِ বলেন: “যদি শরীর মোটা এবং ঢিলেঢালা কাপড়ে আবৃত থাকে, এমন পাতলা (কাপড়) যেন না হয় যে, শরীর বা চুলের রং প্রকাশিত হয়, আর এমন আঁটোসাঁটোও (কাপড়) যেন না হয় যে, শরীরের অবস্থা বুঝা যায় এবং একাকীও যেন না হয় আর পীর যেন যুবক না হয়, (অর্থাৎ এমন বৃদ্ধ হওয়া যাতে উভয় পক্ষ থেকে অর্থাৎ পীর ও মুরীদনী কারো পক্ষ থেকে যৌন উত্তেজনার আশংকা না হওয়া) মোটকথা না কোন ফিতনা সেই সময়ে হয়, না ভবিষ্যতে হওয়ার আশংকা হয়, তবেই ইলমে দ্বীন এবং আল্লাহর রাস্তার কাজসমূহ শেখার জন্য যাওয়া বা ডাকাতে কোন সমস্যা নাই।” (ফতোওয়ায়ে রযবীয়া, ২২তম খন্ড, ২৩৯ পৃষ্ঠা)
পুরুষের নিকট মহিলার লেখাপড়া করা
প্রশ্ন:- মহিলারা পর্দার অন্তরালে থেকে পুরুষের নিকট লেখাপড়া করা কেমন?
উত্তর:- যদি পর্দার অন্তরাল থেকে পাঠ দানকারী পুরুষ যুবক হয়, তবে ইসলামী বোনদের জন্য তাদের নিকট যাওয়া শরীয়াতের পক্ষ থেকে অনুমতি নেই। আর পাঠদানের এই পদ্ধতিকে ওয়াজের হফিলের সাথে বিবেচনা করাও সঠিক নয়। ওয়াজের মাহফিলেঅথবা সুন্নাতে ভরা ইজতিমায় পরিপূর্ণ পর্দা সহকারে শুধুমাত্র অল্প কিছুক্ষন সম্মিলিত বয়ান হয়। কিন্তু পড়া ও পড়ানোর বিষয় কিছুটা ভিন্ন। এতে পর্দা থাকা সত্ত্বেও পরস্পর পরিচিত ও চেনা জানা হয়ে থাকে, এজন্যই ভয়ের আশংঙ্কা অনেক বেশি। আমার আক্বা আ’লা হযরত ﺭَﺣْﻤَﺔُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻠَﻴْﻪِ এই কারণে পরিপূর্ণ পর্দা সহকারে মহিলাদেরকে দ্বীনি জ্ঞান অর্জনের জন্য যুবক পীরের কাছে যেতে বারণ করেছেন, “ফতোওয়ায়ে রযবীয়া” শরীফে বলেন: “যদি শরীর মোটা এবং ঢিলেঢালা কাপড়ে আবৃত থাকে, এমন পাতলা (কাপড়) যেন না হয় যে, শরীর বা চুলের রং প্রকাশিত হয়, আর এমন আঁটোসাঁটোও (কাপড়) যেন না হয় যে, শরীরের অবস্থা বুঝা যায় এবং একাকীও যেন না হয় আর পীর যেন যুবক না হয়, (অর্থাৎ এমন বৃদ্ধ হওয়া, যাতে উভয় পক্ষ থেকে অর্থাৎ পীর ও মুরীদনী কারো পক্ষ থেকে যৌন উত্তেজনার আশংকা না হওয়া) মোটকথা না কোন ফিতনা সেই সময়ে হয়, না ভবিষ্যতে হওয়ার আশংকা হয়, তবেই ইলমে দ্বীন এবং আল্লাহর রাস্তার কাজ সমূহ শেখার জন্য যাওয়া বা ডাকাতে কোন সমস্যা নাই।” (ফতোওয়ায়ে রযবীয়া, ২২তম খন্ড, ২৪০ পৃষ্ঠা)
মহিলারা আলিমের বয়ান শুনার জন্য ঘর থেকে বের হতে পারবে কিনা?
প্রশ্ন:- ইসলামী বোনেরা কি আলিমের বয়ান শুনার জন্য পর্দা অবস্থায় ঘর থেকে বের হতে পারবে?
উত্তর:- কতিপয় বাধ্যবাধকতা সহকরে দ্বীনি জ্ঞান অর্জনের নিয়্যতে ঘর থেকে বের হতে পারবে। আমার আক্বা আ‘লা হযরত, ইমামে আহলে সুন্নাত, মুজাদ্দীদে দ্বীন ও মিল্লাত, মাওলানা শাহ্ ইমাম আহমদ রযা খাঁন ﺭَﺣْﻤَﺔُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻠَﻴْﻪِ বলেন: “যদি শরীর মোটা এবং ঢিলেঢালা কাপড়ে আবৃত থাকে, এমন পাতলা (কাপড়) যেন না হয় যে, শরীর বা চুলের রং প্রকাশিত হয়, আর এমন আটোঁসাঁটোও (কাপড়) যেন না হয় যে, শরীরের অবস্থা বুঝা যায় এবং একাকীও যেন না হয় আর পীর যেন যুবক না হয় (অর্থাৎ এমন বৃদ্ধ হওয়া, যাতে উভয় পক্ষ থেকে অর্থাৎ পীর ও মুরীদনী কারো পক্ষ থেকে যৌন উত্তেজনার আশংকা না হওয়া) মোটকথা না কোন ফিতনা সেই সময়ে হয়, না ভবিষ্যতে হওয়ার আশংকা হয়, তবেই ইলমে দ্বীন এবং আল্লাহ্ তাআলার রাস্তার কাজ সমূহ শিখার জন্য যাওয়া বা ডাকাতে কোন সমস্যা নাই।” (ফতোওয়ায়ে রযবীয়া, ২২তম খন্ড, ২৩৯ পৃষ্ঠা)
জান্নাতে নিয়ে যাওয়ার মতো কাজ
ইসলামী বোনেরা! দা'ওয়াতে ইসলামীর মাদানী পরিবেশের সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার দ্বারা জীবনে সেই আশ্চর্যজনক পরিবর্তন এসে যায় যে, অনেক ইসলামী ভাই ও ইসলামী বোন তাদের আগ্রহ প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন: ‘আহ! আমরা যদি আরো আগেই দা'ওয়াতে ইসলামীর মাদানী পরিবেশ পেতাম।’ দা'ওয়াতে ইসলামীর মাদানী পরিবেশের বরকতে সমৃদ্ধ এক মাদানী বাহার লক্ষ্য করুন। বাবুল ইসলাম সিন্ধু প্রদেশের একজন ইসলামী বোন দা'ওয়াতে ইসলামীর সুবাসিত মাদানী পরিবেশের সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার কারণ কিছুটা এরূপ বর্ণনা করেন: আমি নামায কাযা করা, বেপর্দা হওয়া ও সিনেমা দেখার মতো অসংখ্য গুনাহে লিপ্ত হয়ে সময়ের অমূল্য রত্নকে আখিরাতের ধ্বংসাত্মক পরিণাম ক্রয় করা ও জাহান্নামে প্রবেশকারী কাজগুলোতে দিন-রাত লিপ্ত ছিলাম। আফসোস! গুনাহের সাগরে পরিপূর্ণভাবে ডুবে থাকা সত্ত্বেও আমার এই অনুশোচনাটুকু ছিলো না যে, এ সব আল্লাহ্ তাআলা ও তাঁর রাসূল ﺻَﻠَّﯽ ﺍﻟﻠّٰﮧُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﯽ ﻋَﻠَﯿْﮧِ ﻭَﺍٰﻟِﮧٖ ﻭَﺳَﻠَّﻢ এর অসন্তুষ্টি মূলক কাজ। আমার সংশোধনের সেই মূল্যবান সময়টুকু হলো যা আমি দা'ওয়াতে ইসলামীর ইসলামী বোনদের সাপ্তাহিক সুন্নাতে ভরা ইজতিমায় কাটিয়েছি, আর এই ইজতিমায় অংশগ্রহণ করার মাধ্যম একজন মুবাল্লিগায়ে দা'ওয়াতে ইসলামী ছিলো। ইজতিমায় অংশগ্রহণ করার সৌভাগ্য অর্জিত হতেই আমার অন্তরে প্রচন্ড ধাক্কা লাগলো। প্রতারক দুনিয়া থেকে আমার মন উঠে গেলো, সে মন যা দুনিয়াবী রং তামাশায় মগ্ন ছিলো, এখন তা দুনিয়া থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। আমার এই অনুশোচনা হলো যে,
এক ঝুঁকে মে ইদার সে উদার, চার দিন কি বাহার হে দুনিয়া।
যিন্দেগি নাম হে ইস কা মাগার, মওত কা ইনতেযার হে দুনিয়া।
ﺍَﻟْﺤَﻤْﺪُ ﻟِﻠّٰﻪِ ﻋَﺰَّﻭَﺟَﻞّ আমি গুনাহ থেকে তাওবা করে জান্নাতে নিয়ে যাওয়ার মতো কাজে লিপ্ত হয়ে গেলাম। ﺍَﻟْﺤَﻤْﺪُ ﻟِﻠّٰﻪِ ﻋَﺰَّﻭَﺟَﻞّ আমি দা'ওয়াতে ইসলামীর মাদানী কাজ করা শুরু করে দিলাম। এটা লিখাবস্থায় আমি হালকা মুশাওয়ারাতের যিম্মাদার হিসেবে সুন্নাতের খিদমত করার সৌভাগ্য অর্জন করছি।
গুনাহোঁ নে কাহিঁ কা ভি না ছোড়া, করম মুঝ পর হাবিবে কিবরিয়া হো।
মেরি বদ আদাতিঁ সারি ছুটে গি, আগার লুত্বফ আ’পকা ইয়া মুস্তফা ( ﷺ ) হো।
ﺻَﻠُّﻮﺍ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﺤَﺒِﻴﺐ ! ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟَﻰ ﻋَﻠﻰ ﻣُﺤَﻤَّﺪ
দা'ওয়াতে ইসলামীর ৯৯% কাজ ইনফিরাদী কৌশিশের মাধ্যমেই হচ্ছে
ইসলামী বোনেরা! আপনারা দেখলেন তো! ইনফিরাদী কৌশিশের (একক প্রচেষ্টা) কেমন বরকত নসীব হয়েছে! আখিরাতের ধ্বংসময় কাঁটাযুক্ত পথের পথিক ইসলামী বোনের ﺍَﻟْﺤَﻤْﺪُ ﻟِﻠّٰﻪِ ﻋَﺰَّﻭَﺟَﻞّ জান্নাতে প্রবেশকারী রাজপথে চলার সৌভাগ্য অর্জন হলো। নিঃসন্দেহে নেকীর দাওয়াতের মাদানী কাজে ইনফিরাদী কৌশিশের অনেক গুরুত্ব রয়েছে। স্বয়ং আমাদের প্রিয় আক্বা ﺻَﻠَّﯽ ﺍﻟﻠّٰﮧُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﯽ ﻋَﻠَﯿْﮧِ ﻭَﺍٰﻟِﮧٖ ﻭَﺳَﻠَّﻢ তাছাড়া সমস্ত নবীগণও ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢُ ﺍﻟﺴَّﻠَﺎﻡ নেকীর দাওয়াতের কাজে ইনফিরাদী কৌশিশ করেছেন। “নিঃসন্দেহে দা'ওয়াতে ইসলামীর প্রায় ৯৯% (৯৯ ভাগ) মাদানী কাজ ইনফিরাদী কৌশিশের মাধ্যমেই সম্ভব।” ইজতিমায়ি কৌশিশ (সম্মিলিত প্রচেষ্টা) এর তুলনায় ইনফিরাদী কৌশিশ অতিশয় সহজ। কেননা, ইজতিমায় অনেক ইসলামী বোনের সামনে বয়ান করার যোগ্যতা সবার মধ্যে থাকে না, আর ইনফিরাদী কৌশিশ তো প্রত্যেক ঐ বোনেরাও করতে পারবে, যে বয়ান করা তো দূরের কথা ভালভাবে বলতেও পারে না। প্রত্যেক ইসলামী বোনের উচিত, মাদানী মারকাযের প্রদত্ত নিয়ম অনুযায়ী (যেন) ইসলামী বোনের (তার সম্পর্ক জীবনের যে কোন বিভাগের সঙ্গেই হোক না কেন) নিঃসংকোচে নেকীর দাওয়াত পেশ করা। হতে পারে আপনার কয়েকটি বাক্য কারো দুনিয়া ও আখিরাতকে সজ্জিত করার আর অগনিত সাওয়াবে জারিয়া লাভের মাধ্যমও হয়ে যাবে।
ইনফিরাদী কৌশিশ করতি রহে,
নেকীও সে জুলিয়াঁ ভরতি রহে।
ﺻَﻠُّﻮﺍ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﺤَﺒِﻴﺐ ! ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟَﻰ ﻋَﻠﻰ ﻣُﺤَﻤَّﺪ
প্রশ্ন:- স্ত্রীর ঘরের বাহির হওয়ার কারণে স্বামীর খারাপ লাগার ব্যাপারে সাহাবীদের ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢُ ﺍﻟﺮِّﺿْﻮَﺍﻥ কোন ঘটনা বর্ণনা করুন ?
উত্তর:- এক আত্মসম্মান বোধসম্পন্ন সাহাবীর ঘটনা শুনুন, এবং শিক্ষার মাদানী ফুল গ্রহণ করুন। যেমন; হযরত সায়্যিদুনা আবু সাঈদ খুদরী ﺭَﺿِﻰَ ﺍﻟﻠﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻨْﻪُ বলেন: একজন নওজোয়ান সাহাবী ﺭَﺿِﻰَ ﺍﻟﻠﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻨْﻪُ এর নতুন বিয়ে হয়েছিল। একদা তিনি যখন বাহির হতে ঘরে তাশরীফ আনলেন, তখন দেখলেন যে, তাঁর স্ত্রী ঘরের বাইরের দরজায় দাঁড়ীয়ে আছে। তিনি খুবই অসন্তুষ্ট অবস্থায় তার স্ত্রীর দিকে তেঁড়ে আসলেন, স্ত্রী ভয়ে পিছিয়ে গেলো এবং ফুঁফিয়ে কেঁদে উঠে বললো: “হে আমার মাথার মুকুট! আমাকে প্রহার করবেন না। আমি নির্দোষ! একটু ঘরে প্রবেশ করে দেখুন, আসলে আমাকে কোন জিনিসটি বাইরে আসতে বাধ্য করেছে!” তখন তিনি ঘরে প্রবেশ করলেন। তিনি ভেতরে গিয়ে দেখলেন: একটি ভয়ংকর বিষাক্ত সাপ কুন্ডলী পাকিয়ে বিছানায় বসে আছে। তিনি অস্থির হয়ে বর্শার আঘাত করে সেটাকে বর্শাতে বিদ্ধ করলেন। সাপটি আঘাত খেয়ে (তাঁর দিকে) তেঁড়ে আসল আর তাঁকে দংশন করে বসল। আহত সাপটি ছটফট করতে করতে মারা গেলো আর সেই আত্মমর্যাদা সম্পন্ন সাহাবীও ﺭَﺿِﻰَ ﺍﻟﻠﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻨْﻪَ সাপের বিষের প্রভাবে শাহাদাতের অমীয় সূধা পান করলেন। (সহীহ মুসলিম, ২২৮ পৃষ্ঠা, হাদীস নং- ২৩৬)
আল্লাহ্ তাআলার রহমত তাঁদের উপর বর্ষিত হোক এবং তাঁদের সদকায় আমাদের বিনা হিসাবে ক্ষমা হোক।
ﺍٰﻣِﻴﻦ ﺑِﺠﺎ ﻩِ ﺍﻟﻨَّﺒِﻰِّ ﺍﻟْﺎَﻣﻴﻦ ﺻَﻠَّﯽ ﺍﻟﻠﮧُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﯽ ﻋَﻠَﯿْﮧِ ﻭَﺍٰﻟِﮧٖ ﻭَﺳَﻠَّﻢ
পর্দা করা কি উন্নতির পথে প্রতিবন্ধক?
প্রশ্ন:- কতিপয় লোক বলে; কাফিররা অনেক উন্নতি করেছে, কিন্তু পর্দার উপর কঠোরতাই মুসলমানের উন্নতির পথে বাধাঁ হয়ে
আছে।
উত্তর:- মুসলমানদের উন্নতির পথে পর্দা নয় বরং বেপর্দাই আসল প্রতিবন্ধক! জ্বি হ্যাঁ! যতক্ষণ পর্যন্ত সুসলমানদের মধ্যে লজ্জা শরম ও পর্দার প্রথা প্রচলন ছিলো ততক্ষণ পর্যন্ত তারা বিজয়ের পর বিজয় অর্জন করেছে, এমনকি দুনিয়ার অসংখ্য দেশে ইসলামের বিজয় নিশান উড়তে থাকে। পর্দানশীন মায়েরাই বড় বড় বীর বাহাদুর, সিপাহশালার, আত্মমর্যাদাসম্পন্ন বাদশাহ, উলামায়ে রব্বানি, আউলিয়ায়ে কিরামদের জন্ম দিয়েছেন, সমস্ত উম্মাহাতুল মু’মিনীন ও সাহাবীয়াগণ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢُ ﺍﻟﺮِّﺿْﻮَﺍﻥ পর্দানশীন ছিলেন, ইমাম হাসান ও ইমাম হোসাইন ﺭَﺿِﻰَ ﺍﻟﻠﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻨْﻬُﻤْﺎ এর সম্মানিত মাতা খাতুনে জান্নাত সায়্যিদা ফাতেমা যাহরা ﺭَﺿِﻰَ ﺍﻟﻠﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻨْﻬَﺎ পর্দানশীন ছিলেন, গাউছে পাকের সম্মানিত মাতা সায়্যিদাতুনা উম্মুল খাইর ফাতেমা ﺭَﺣْﻤَﺔُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻠَﻴْﻬَﺎ পর্দানশীন ছিলেন। মোটকথা যতক্ষণ পর্যন্তপর্দা কায়েম ছিলো আর পবিত্র বিবিগন চার দেয়ালের মধ্যে ছিলেন, ততক্ষণ পর্যন্ত মুসলমানেরা খুবই উন্নতির ধাপ অতিক্রম করছে আর কাফিরদের উপর জয়ী হয়েছে। কিন্তু যখনই প্রতারক কাফিরদের ছায়াতলে এসে মুসলমানের মহিলারা বেপর্দা হওয়া শুরু করলো, তখনই প্রতিনিয়ত অবনতির অতল গর্তে পতিত হতে লাগলো। কাল পর্যন্ত যে হতভাগা কাফিরেরা মুসলমানের নাম শুনে ভীত সন্ত্রস্ত থাকত, আজ সেই মুসলমানদের বেপর্দা আর মন্দ আমলের কারণে আমাদের উপর বিজয়ী হয়ে গিয়েছে। ইসলামী দেশগুলোতে নিয়মিত ভাবে হামলা চলছে আর জোরপূর্বক দখল করে নিচ্ছে। কিন্তু মুসলমান! তাদের হুঁশ ফিরে আসছে না। আহ! আজকের হতভাগা মুসলমান টিভি, ভিসিআর ও ইন্টারনেটে সিনেমা-নাটক দেখে, অনর্থক সিনেমার গান গেয়ে, বিয়ে শাদীতে নাচ গানের আসর জমিয়ে, কাফিরদের অনুসরনে দাঁড়ী মুন্ডন করে, কাফিরের মতো নির্লজ্জ পোশাক গায়ে জড়িয়ে, মোটর সাইকেলের পিছনে বেপর্দা স্ত্রীকে বসিয়ে, নির্লজ্জ্ব স্ত্রীদেরকে মেকআপ করিয়ে পুরুষ ও মহিলা অবাধে মিলামিশার বিনোদন কেন্দ্রে নিয়ে, নিজ সন্তানদেরকে দুনিয়াবী শিক্ষা অর্জনের জন্য কাফিরদের দেশে কাফিরদের কাছে সমর্পণ করে জানি না কি ধরনের উন্নতি খুঁজে বেড়াচ্ছে।
ওহ কওম জু কাল তক খেলতি থী শমসিরো কে সাথ,
সিনেমা দেখতি হ্যায় আজ ওহ হামশিরো কে সাথ।
প্রকৃতপক্ষে সফল কে?
আফসোস! শতকোটি আফসোস! আজ অধিকাংশ মুসলমান মিথ্যা, গীবত, অপবাদ, খেয়ানত, ব্যভিচার, মদ, জুয়া, সিনেমা-নাটক দেখা ও গান বাজনা ইত্যাদি শুনার মতো গুনাহ নিঃসংকোচে করে যাচ্ছে। অধিকাংশ মুসলমান নারীরা পুরুষদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলার নোংরা চিন্তায় লজ্জার চাদরকে খুলে ফেলে দিয়েছে, আর এখন দৃষ্টিনন্দন শাড়ি, অর্ধেক উলঙ্গ পায়জামা, পুরুষ সূলভ পোশাক, পুরুষের ন্যায় চুল রাখার পাশাপাশি বিয়ের অনুষ্ঠান, হোটেল, চিত্ত বিনোদনের স্থান ও সিনেমা হলে নিজের আখিরাত ধ্বংসের কাজে লিপ্ত রয়েছে। আল্লাহর শপথ! বর্তমান পদ্ধতিতে না উন্নতি রয়েছে, না সফলতা। উন্নতি আর সফলতা শুধুমাত্র আল্লাহ্ তাআলা ও তাঁর প্রিয় রাসূল ﺻَﻠَّﯽ ﺍﻟﻠّٰﮧُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﯽ ﻋَﻠَﯿْﮧِ ﻭَﺍٰﻟِﮧٖ ﻭَﺳَﻠَّﻢ এর আনুগত্য করে এই সংক্ষিপ্ত জীবনকে সুন্নাতানুযায়ী কাটিয়ে, ঈমান সহকারে কবরে যাওয়াতে আর জাহান্নামের বিধ্বংসী আযাব থেকে বেঁচে জান্নাতুল ফেরদৌসে যাওয়ার মধ্যেই নিহিত রয়েছে। যেমনিভাবে- ৪র্থ পারার সূরা আলে ইমরানের ১৮৫নং আয়াতের মধ্যে আল্লাহ্ তাআলা ইরশাদ করেন: ﻓَﻤَﻦ ﺯُﺣْﺰِﺡَ ﻋَﻦِ ﺍﻟﻨَّﺎﺭِ ﻭَﺃُﺩْﺧِﻞَ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔَ ﻓَﻘَﺪْ ﻓَﺎﺯَ ۗ
কানযুল ঈমান থেকে অনুবাদ: যাকে আগুন থেকে রক্ষা করে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে, সে উদ্দেশ্যস্থলে পৌঁছেছে; (পারা: ৪, সূরা: আলে ইমরান, আয়াত: ১৮৫)
জাহান্নামে মহিলাদের আধিক্য
আহ্! আহ্! আহ্! মহিলাদের মধ্যে বেপর্দা হওয়া ও গুনাহের আধিক্য খুবই দুশ্চিন্তার বিষয়। আল্লাহর শপথ! জাহান্নামের আযাব সহ্য করা যাবে না। “মুসলিম শরীফ“ এ বর্ণিত রয়েছে: হুযুর নবী করীম, রউফুর রাহীম ﺻَﻠَّﯽ ﺍﻟﻠّٰﮧُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﯽ ﻋَﻠَﯿْﮧِ ﻭَﺍٰﻟِﮧٖ ﻭَﺳَﻠَّﻢ ইরশাদ করেছেন: “আমি জাহান্নামে দেখলাম যে, জাহান্নামে মহিলাদের সংখ্যা বেশি রয়েছে।” (সহীহ মুসলিম, ২২৮ পৃষ্ঠা, হাদীস: ২৭৩৭)
ইয়ে শরহে আয়ায়ে ইসমত হে জু হে বেশ না কম,
দিল ও নযর কি তাবাহি হে কুরবে না-মাহরাম।
হায়া হে আখ মে বাকী না দিল মে খওফে খোদা,
বহুত দিনো ছে নিযামে হায়াত হে বারহাম।
ইয়ে ছাইরগা হে কেহ মাকতাল হে শরম ও গাইরাত কে,
ইয়ে মাআছিয়ত কে মানাযির হে যিনতে আলম।
ইয়ে নিম রায ছা বুরকা ইয়ে দিদাহ যাইবে নিকাব,
ঝলক রাহাহে জলাজল কামিছ কা রেশম।
না দেখ রশক ছে তাহযীব কি নুমাইশ কো,
কেহ সারে ফুল ইয়ে কাগজ কে হে খোদা কি কসম!
ওহি হে রাহে তেরে আযম ও শওক কি মনযিল,
জাহা হে আয়েশা ও ফাতেমা নকশে কদম।
তেরী হায়াত হে কিরদারে রাবেয়া বসরী,
তেরে ফাসানে কা মওদু ইসমতে মরীয়ম।
ﺻَﻠُّﻮﺍ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﺤَﺒِﻴﺐ ! ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟَﻰ ﻋَﻠﻰ ﻣُﺤَﻤَّﺪ
ﺗُﻮْﺑُﻮْﺍ ﺍِﻟَﻰ ﺍﻟﻠﻪ ! ﺍَﺳْﺘَﻐْﻔِﺮُ ﺍﻟﻠﻪ
ﺻَﻠُّﻮﺍ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﺤَﺒِﻴﺐ ! ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟَﻰ ﻋَﻠﻰ ﻣُﺤَﻤَّﺪ
নির্লজ্জতার শেষ সীমা
কাফিরদের উন্নতিকে অনুসরন করতে গিয়ে বেপর্দা এবং নিলর্জ্জতার বাজার গরমকারীনীগন একটু চিন্তা করুন! ইউরোপ, আমেরিকা ও তাদের অনুসারী দেশগুলোতে হচ্ছেটা কি! নাইটক্লাবে লোকজন নিজের চোখে তার স্ত্রী ও মেয়েকে অন্যের বাহু বন্ধনে দেখে বিন্দু পরিমাণও লজ্জা অনুভব করে না বরং সেই দাইয়্যুস গর্ববোধ করে তাদেরকে উৎসাহ দেয়! বেপর্দা এবং ফ্যাশন পূঁজারী মহিলাদের কালো মুখ (অর্থাৎ ধর্ষিত) হওয়ার নির্লজ্জজনক সংবাদ প্রতিদিনই পত্রিকা সমূহে ছাপানো হচ্ছে। সেই মহিলা যে পুরুষের যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে, যদি সে গর্ভবতী হয়ে যায় তবে কোথায় গিয়ে মুখ লুকাবে? গর্ভপাত করাবস্থায় সে তার জীবনও হারিয়ে ফেলতে পারে। মেনে নিলাম! ইউরোপের মতো উন্নত দেশে এমন হাসপাতালও আছে যেখানে গর্ভপাত করানোর “সেবা” দেয়া হয়। আর এমন আশ্রয়স্থলও আছে যেখানে অবিবাহিত মায়েদের “আশ্রয়” মিলে যায়। কিন্তু তাদের কি সমাজে কোন সম্মানজনক স্থান অর্জন হতে পারে! মেনে নিলাম যে, লাঞ্চিত হয়ে উভয়ে (অর্থাৎ অবিবাহিত ছেলে মেয়ে) নিজের কর্মের শাস্তি দুনিয়াতেই পেয়ে গেলো, কিন্তু এই সন্তান যে এভাবে জন্ম নেয়, সে যদি বেঁচে থাকে তবে তার কি অবস্থা হবে? যার লোভী পিতাও তার থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে নিল। ব্যাভিচারিনী মাও তাকে ময়লা অবর্জনায় ফেলে অথবা কোন এতিম খানায় ছেড়ে চলে গেলো!
সত্তর হাজার জারজ সন্তান
দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধে আমেরিকার সৈন্যরা তাদের বন্ধুপ্রবণ দেশ ব্রিটেনে সাহায্যের জন্য গিয়েছিলো। তারা কয়েক বছর ব্রিটেনে অবস্থান করলো এবং যখন ফিরে গেলো তখন সরকারী হিসাব অনুযায়ী সত্তর হাজার (৭০,০০০) জারজ সন্তান রেখে গিয়েছিলো! ইউরোপের কিছু দেশে জারজ সন্তান জন্মের সংখ্যা ৬০ ভাগকেও অতিক্রম করে গেছে আর কুমারী মায়ের সংখ্যা মারাত্মক ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তালাকের পরিমাণ বেড়ে গেছে, পরিবারে শান্তির মতো মূল্যবান সম্পদ শেষ হয়ে গেছে, স্বামী স্ত্রীর মধ্যে বিশ্বাস শেষ হয়ে গেছে এবং উভয়ের মধ্যে সত্যিকার ভালবাসা কমেই গিয়েছে। যদি কোন বাক্য কারো ইচ্ছার বিরুদ্ধে হয়ে যায় তবে ঝটপট তালাক নিয়ে নিচ্ছে। একটু চিন্তা করুন! স্বামী স্ত্রীর এরূপ মানসিকতা, যা নাকি সমাজের প্রাথমিক স্তর আর মজবুত ভিত্তি, এরই উপর সমাজ নামক ঘর নির্মান করা হয়, যদি এই ভিত্তিই দূর্বল হয় তবে সুন্দর সমাজ কি ভাবে গড়ে উঠবে? ﺍَﻟْﺤَﻤْﺪُ ﻟِﻠّٰﻪِ ﻋَﺰَّﻭَﺟَﻞّ ইসলাম যে বিষয়গুলো পালন করার হুকুম দিয়েছে তার মধ্যেই আমাদের কল্যাণ নিহিত রয়েছে আর যা করতে বারণ করেছে সেগুলো করার মধ্যে আমাদের ক্ষতি রয়েছে। এই (ধর্ম) দ্বীন সব সময়ের জন্য, তাই এমন কোন সময় কখনোই আসতে পারে না যখন সেটির হারাম কৃত জিনিস হালাল হয়ে যাবে অথবা তার মাঝে বিদ্যমান ক্ষতিসমূহ নিঃশেষ হয়ে যাবে।
উঠা কর ফেঁক দে আল্লাহ্ কে বান্দো,
নায়ি তাহযীব কে আন্ডে হেঁ গান্দো।
চাদর ও চার দেয়ালে অবস্থানের শিক্ষা কে দিয়েছেন?
প্রশ্ন:- কিছু তথাকথিত স্বাধীন মানসিকতা সম্পন্ন পুরুষ ও মহিলা বলে যে, ওলামায়ে কিরামগণ নারীদেরকে চার দেয়ালের মধ্যে বন্দী করে রাখতে চায়!
উত্তর:- এতে ওলামায়ে কিরামের কোন ব্যক্তিগত উপকার নেই। এটা দুনিয়ার কোন আলিমে দ্বীনের নয় বরং এটা রাব্বুল আলামিনের ভিত্তিমূলক বাণী: ﻭَﻗَﺮْﻥَ ﻓِﻲ ﺑُﻴُﻮﺗِﻜُﻦَّ ﻭَﻟَﺎ ﺗَﺒَﺮَّﺟْﻦَ ﺗَﺒَﺮُّﺝَ ﺍﻟْﺠَﺎﻫِﻠِﻴَّﺔِ ﺍﻟْﺄُﻭﻟٰﻰ
কানযুল ঈমান থেকে অনুবাদ:আর নিজেদের গৃহসমূহে অবস্থান করো এবং বেপর্দা থেকো না যেমন পূর্ববর্তী জাহেলী যুগের পর্দাহীনতা; (পারা: ২২, সূরা: আহযাব, আয়াত: ৩৩)
আপনারা দেখলেন তো! মহিলাদের জন্য চাদর ও চার দেয়ালের আদেশ কোন সাধারণ ব্যক্তির নয় বরং আমাদের পালনকর্তা আল্লাহ্ তাআলার মহত্তপূর্ণ আদেশ।
ﺻَﻠُّﻮﺍ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﺤَﺒِﻴﺐ ! ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟَﻰ ﻋَﻠﻰ ﻣُﺤَﻤَّﺪ
ﺗُﻮْﺑُﻮْﺍ ﺍِﻟَﻰ ﺍﻟﻠﻪ ! ﺍَﺳْﺘَﻐْﻔِﺮُ ﺍﻟﻠﻪ
ﺻَﻠُّﻮﺍ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﺤَﺒِﻴﺐ ! ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟَﻰ ﻋَﻠﻰ ﻣُﺤَﻤَّﺪ
--------