রাতের এক তৃতীয়াংশে আল্লাহ্ সূবহানাহু ওয়াতা'আলার "অবতরণ" শব্দের হাদিস সম্পর্কে সঠিক বিশ্বাস। | ইসলামী বিশ্বকোষ ও আল-হাদিস

▆ রাতের এক তৃতীয়াংশে আল্লাহ্ সূবহানাহু ওয়াতা'আলার "অবতরণ" শব্দের হাদিস সম্পর্কে সঠিক বিশ্বাস।

হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত।
প্রিয় নাবী রাসূলুন কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন :
"যখন রাতের এক তৃতীয়াংশ বাকি থাকে তখন আল্লাহ তায়া'লা পৃথিবীর আসমানে নেমে আসেন এবং ঘোষণা করতে থাকেন, কে আমাকে ডাকছ আমি তার ডাকে সাড়া দিব। কে প্রার্থনা করছ আমি তাকে দান করব। কে আছ ক্ষমাপ্রার্থী আমি তাকে ক্ষমা করে দিব।
গ্রন্থ সূত্র :
*_* বুখারী শরীফ; হাদিস ১১৪৫,
*_* মুসলিম শরীফ; হাদিস ৭৫৮।

কোনো প্রকার স্থানের কল্পনা ছাড়াই আল্লাহ্ সূবহানাহু ওয়াতা'আলা স্থান (Place or space) সৃষ্টি করার পূর্বে যেরুপ বিদ্যমান বিরাজমান ছিলেন সেরুপই বিরাজমান, বিদ্যমান।
স্থানসমুহ (Places or Spaces) তাঁরই সৃষ্টি।
সৃষ্টির মাঝে তাঁকে প্রবিষ্ট (Entered-in) কল্পনা করা ইসলামী বিশ্বাস নয়। এইরুপ প্রবিষ্টের (Entered-in) বিশ্বাস-আক্বিদা মূর্তিপুঁজারী ও ভ্রষ্ট খ্রিস্টান ও ইহুদিদের বিশ্বাস।

সপ্ত আকাশে "অবতরন" এর আক্ষরিক শব্দের বর্ণনা সম্বলিত বুখারী ও মুসলিমে বর্ণিত হাদিসটির ব্যাখায় ইমাম ইবনূ হাজার আসকালানী রহ. নিম্নরূপ বলেন :

"যারা জোড়ালোভাবে আল্লাহ্ সূবহানাহু ওয়া তা'আলার অবস্থানের জন্যে দিক (Direction) থাকার আক্বিদা রাখে তারা এই হাদিসটি থেকে প্রমাণ গ্রহণ করেছে যে তিনি দিক সমূহের মাঝে উর্দ্ধদিকে অবস্থান করেন।

অবতরণ-শব্দটির অর্থ ভিন্নরুপে ব্যাখ্যা করতে হবে : কেউ কেউ আক্ষরিকভাবেই হাদিসের বাহ্যিক অর্থে নিয়েছে : এই অর্থের প্রবক্তা হচ্ছে মুশাব্বিহা সম্প্রদায়টি, অথচ আল্লাহ সূবহানাহু ওয়াতা'আলা এই সব থেকে সতত পবিত্র।
আবার কেউ কেউ সে অধ্যায়ে বর্ণিত এই সকল হাদিসের বৈধতাকেই প্রত্যাখ্যান করেছে।  তারা হচ্ছে খাওয়ারিজ (খারিজী সম্প্রদায়) ও মুতা'জিলা সম্পদ্রায়, তারা এই নিয়ে বেশ ঔদ্ধত্য প্রকাশ করে থাকে।
অদ্ভূত ব্যাপার হচ্ছে তারা এই সংক্রান্ত ক্বুরআ'নের আয়াতকে রুপাকার্থে ব্যাখ্যা করে।
অথচ এই সংক্রান্ত হাদিসকে তারা অজ্ঞতাবশত কিংবা একগুঁয়েমির কারণে প্রত্যাখ্যান করে যায়।
পক্ষান্তরে
কেউ কেউ হাদিসগুলোকে স্বীয় অবস্থানে রাখাকে সমীচীন মনে করে থাকেন, তাঁরা কোনো নির্দিষ্টতা আরোপ ব্যতিরেকে হাদিসগুলোকে বিশ্বাস করেন, কোনো প্রকার কাইফিয়্যাহ এবং সৃষ্টি (তাশবিহ্) এর সাথে কোনোরুপ সাদৃশ্যতা স্থাপন করা ছাড়াই আল্লাহর পবিত্রতা মহিমা ঘোষণা করেন : সালাফে সালিহিনগণের সকলে এই মত-পথে প্রতিষ্ঠিত।
এই অবস্থান সম্পর্কে ইমাম বায়হাকী রহ. ও মাযহাব চতুষ্টয়ের সম্মানিত ইমামগণ রহ., সূফিয়ান ইবনে উয়াইনা, সূফিয়ান আল সাওরী, হাম্মাদ ইবনে সালামা, হাম্মাদ ইবনে যায়দ, আল আউযা'ই, আল লাইস, এবং অন্যান্যরাও অনুরুপ মত ব্যক্ত করেছেন।

কেউ কেউ হাদিসগুলোকে আরবীয়দের ভাষাগত বৈশিষ্ঠ্যের আলোকে ব্যাখ্যা করেছেন।
কেউ কেউ স্বীয় ব্যাখ্যায় অতিরঞ্জন করেছে, এই অতিরঞ্জন হাদিসগুলোর বর্ণনাকে বিকৃত করে দিয়েছে"।

আহলুস সূন্নাহ বা সাওয়াদুল আজম এর মুহাদ্দিসিনে ক্বিরাম রহ. উক্ত হাদিসটি সম্পর্কে বলেন :
মোটকথা এই হাদিস শরিফের ব্যাপারে মুহাদ্দিসিনে ক্বিরামের দু'টি মতামত রয়েছে।
কাজেই
তাঁদের মতামত থেকে জানা যায় এর ব্যাখ্যা এরুপ হওয়ার সম্ভবনা প্রবল রয়েছে :
০১. একটি মত হচ্ছে, অাল্লাহর বিশেষ করুণা বা অনুগ্রহ, নির্দেশ এবং ফিরিশ্তাকূল অবতরণ করেন; যেমন বলা হয়ে থাকে, "বাদশাহ্ এই শহরটি নির্মাণ করেছেন", "তিনি শহরটি নির্মাণের কার্যভার গ্রহণ করেছেন"।
অথচ
বস্তুত শ্রমিকের দ্বারা কাজটি সম্পাদন করা হয়েছে বা হবে।
০২. অপর মতটি হচ্ছে, আল্লাহ্ সূবহানাহু ওয়া তা'আলা রাতের সে সময়টিতে দুআ' বা প্রার্থণাকারীদের জন্যে তাঁদের চাওয়াগুলোর আশু জবাব দানে তাঁর বিশেষ নরমতা, কোমলতা বা দয়াপরবশ হওয়ার বিষয়টিকে রুপকঅর্থে এখানে তাকিদ করেছেন।
যাতে বান্দা আল্লাহর বিশেষ করুণা লাভে ধন্য হন।
গ্রন্থ সূত্র :
*_* যুগের সেরা মুহাদ্দিস ইবনূ হাজার আল আসকালানী রহ. কৃত ফাৎহুল বারী শারাহ সহিহ্ আল বুখারী;
*_* যুগশ্রেষ্ঠ মমুহাদ্দিস ইমাম নববী রহ. কৃত শারাহ সহিহ্ আল মুসলিম।

তদুপরি যুগের সেরা মুহাদ্দিস ইবনূ হাজার আল আসকালানী রহ. তদীয় ফাৎহুল বারী শারাহ সহিহ্ আল বুখারীতে ইমাম বায়জাভী রহ. থেকে একটি উদ্ধৃতি নকল করে অভিমত প্রকাশ করেন যে উক্ত হাদিস শরিফের শব্দ "অবতরণ" দ্বারা আল্লাহ্ সূবহানাহু ওয়া তা'আলার স্বীয় অনুগ্রহ বা করুণার নূরের দিকে ইশারা করা হয়েছে; আর এর দ্বারা আল্লাহ্ মহামহিম এঁর ক্ষেত্রে স্থানান্তরের (moving) অর্থ উদ্দেশ্য করা হয় নি; অর্থাৎ এর দ্বারা প্রথমটির সাথে তুলনা করে সৃষ্টির সাদৃশ্যতার ন্যায় নিচের দিকে নেমে আসা (moving) ক্বিয়াস করা বা বুঝে নেয়া যাবে না।
________
আল্লাহ্ সূবহানাহু ওয়াতা'আলা সর্বজ্ঞাতা, সর্বজ্ঞানী।