রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এর শাফায়াতঃ | ইসলামী বিশ্বকোষ ও আল-হাদিস

"আমার শাফায়াতের কাণ্ডারী মদিনা ওয়ালা
ইয়া মুহাম্মাদ মুস্তাফা নাবী ছাল্লু 'আলা।"

আসুন, পড়ুন, ছড়িয়ে দিন।

হযরত আবূ বকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: কোন একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকাল বেলায় উপনীত হলেন, অতঃপর ফজরের সালাত আদায় করলেন, তারপর বসলেন, শেষ পর্যন্ত যখন দ্বিপ্রহর হয়ে গেল, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসলেন, তারপর তাঁর জায়গায় বসে থাকলেন, শেষ পর্যন্ত (সেখানে একাধারে) যোহর, আসর ও মাগরিবের সালাত আদায় করলেন। এই গোটা সময়ে তিনি কোন কথা বললেন না, এমনকি সবশেষে এশা’র সালাত আদায় করলেন; অতঃপর তাঁর পরিবার-পরিজনের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলেন; তারপর জনগণ আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে বললেন: আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করুন, তাঁর অবস্থা কী? তিনি আজকে এমন কিছু কাজ করেছেন, যা আর কখনও করেন নি; বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর তিনি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, জবাবে তিনি বললেন: 
«نعم عرض علي ما هو كائن من أمر الدنيا وأمر الآخرة , فجمع الأولون والآخرون بصعيد واحد ففظع الناس بذلك حتى انطلقوا إلى آدم عليه السلام والعرق يكاد يلجمهم , فقالوا: يا آدم أنت أبو البشر , وأنت اصطفاك الله  عز و جل,  اشفع لنا إلى ربك , قال: لقد لقيت مثل الذي لقيتم , انطلقوا إلى أبيكم بعد أبيكم إلى نوح { إن الله اصطفى آدم ونوحا وآل إبراهيم وآل عمران على العالمين } قال: فينطلقون إلى نوح عليه السلام , فيقولون: اشفع لنا إلى ربك فأنت اصطفاك الله واستجاب لك في دعائك ولم يدع على الأرض من الكافرين ديارا , فيقول: ليس ذاكم عندي , انطلقوا إلى إبراهيم عليه السلام , فإن الله عز و جل اتخذه خليلا , فينطلقون إلى إبراهيم  فيقول: ليس ذاكم عندي , ولكن انطلقوا إلى موسى عليه السلام , فإن الله عز و جل كلمه تكليما فيقول موسى عليه السلام: ليس ذاكم عندي , ولكن انطلقوا إلى  عيسى بن مريم ,  فإنه يبرئ الأكمه والأبرص ويحيى الموتى فيقول عيسى: ليس ذاكم عندي , ولكن انطلقوا إلى سيد ولد آدم , فإنه أول من تنشق عنه الأرض يوم القيامة , انطلقوا إلى محمد صلى الله عليه و سلم فيشفع لكم إلى ربكم عز و جل , قال: فينطلق فيأتي جبريل عليه السلام ربه فيقول الله عز و جل: ائذن له وبشره بالجنة , قال: فينطلق به جبريل فيخر ساجدا قدر جمعة , ويقول الله عز و جل: ارفع رأسك يا محمد , وقل يسمع , واشفع تشفع , قال: فيرفع رأسه , فإذا نظر إلى ربه عز و جل خر ساجدا قدر جمعة أخرى , فيقول الله عز و جل:  ارفع رأسك , وقل يسمع , واشفع تشفع , قال: فيذهب ليقع ساجدا فيأخذ جبريل عليه السلام بضبعيه فيفتح الله عز و جل عليه من الدعاء شيئا لم يفتحه على بشر قط , فيقول:  أي رب خلقتني سيد ولد آدم ولا فخر , وأول من تنشق عنه الأرض يوم القيامة ولا فخر حتى أنه ليرد على الحوض أكثر مما بين صنعاء وأيلة , ثم يقال: ادعوا الصديقين فيشفعون , ثم يقال: ادعوا الأنبياء , قال: فيجيء النبي ومعه العصابة , والنبي ومعه الخمسة والستة , والنبي وليس معه أحد , ثم يقال: ادعوا الشهداء فيشفعون لمن أرادوا , وقال: فإذا فعلت الشهداء ذلك قال: يقول الله عز و جل: أنا أرحم الراحمين , ادخلوا جنتي من كان لا يشرك بي شيئا, قال: فيدخلون الجنة , قال: ثم يقول الله عز و جل: انظروا في النار , هل تلقون من أحد عمل خيرا قط, قال: فيجدون في النار رجلا , فيقول له: هل عملت خيرا قط ؟ فيقول: لا , غير أني كنت أسامح الناس في البيع والشراء , فيقول الله عز و جل: اسمحوا لعبدي كإسماحه إلى عبيدي , ثم يخرجون من النار رجلا فيقول له: هل عملت خيرا قط ؟ فيقول: لا , غير أني قد أمرت ولدي إذا مت فاحرقوني بالنار , ثم اطحنوني حتى إذا كنت مثل الكحل فاذهبوا بي إلى البحر فاذروني في الريح , فوالله لا يقدر علي رب العالمين أبدا , فقال الله عز و جل: لم فعلت ذلك ؟ قال: من مخافتك , قال: فيقول الله عز و جل: انظر إلى ملك أعظم ملك فإن لك مثله وعشرة أمثاله , قال: فيقول: لم تسخر بي وأنت الملك ؟ قال: وذاك الذي ضحكت منه من الضحى » . (أخرجه أحمد) .
“হ্যাঁ, দুনিয়া ও আখিরাতের যেসব বিষয় সৃষ্টি হওয়ার, সেসব কিছু আমার নিকট পেশ করা হয়েছে, অতঃপর একই ভূমিতে প্রথম ও শেষ ব্যক্তিগণকে একত্রিত করা হয় এবং এই কারণে মানুষ কঠিন পরিস্থিতির শিকার হয়, শেষ পর্যন্ত তারা আদম আ. এর নিকট ছুটে যায়, আর তখন ঘাম তাদের মুখের ভিতরে ডুকে যাওয়ার উপক্রম হয়; অতঃপর তারা বলল, হে আদম আ.! আপনি মানব জাতির পিতা, আর আল্লাহ তা‘আলা আপনাকে মনোনীত করেছেন, আপনি আপনার প্রতিপালকের নিকট আমাদের জন্য সুপারিশ করুন; তখন তিনি বলেন, আমিও তোমাদের মত একই পরিস্থিতির শিকার; তোমরা বরং তোমাদের পিতার পর তোমাদের আরেক পিতা নূহ আ. এর নিকট যাও (নিশ্চয় আল্লাহ আদম, নূহ্ ও ইব্রাহীমের বংশধর এবং ইমরানের বংশধরকে সমগ্র সৃষ্টিজগতের উপর মনোনীত করেছেন); তিনি বলেন: অতঃপর তারা নূহ আ. এর নিকট ছুটে গেল, তারপর তারা বলল, আপনি আপনার প্রতিপালকের নিকট আমাদের জন্য সুপারিশ করুন; কারণ, আল্লাহ তা‘আলা আপনাকে মনোনীত করেছেন, আপনার দো‘আ কবুল করেছেন এবং তিনি যমীনে উপর কাফিরদের মধ্য থেকে কোন গৃহবাসীকে (ধ্বংসের কবল থেকে) অব্যাহতি দেন নি; তখন তিনি বলেন: তোমাদের এহেন পরিস্থিতিতে আমার কিছুই করার নেই। তোমরা বরং ইবরাহীম আ. এর নিকট চলে যাও; কেননা, আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেছেন; অতঃপর তারা ইবরাহীম আ. এর নিকট চলে যায়; তখন তিনি বলেন: তোমাদের এহেন পরিস্থিতিতে আমার কিছুই করার নেই। তোমরা বরং মূসা আ. এর নিকট চলে যাও; কারণ, আল্লাহ তা‘আলা তাঁর সাথে কথা বলেছেন; তখন মূসা আ. বলেন: তোমাদের এহন পরিস্থিতিতে আমার কিছুই করার নেই। তোমরা বরং ‘ঈসা ইবন মারইয়াম আ. এর নিকট চলে যাও; কারণ, তিনি জন্মান্ধ ও কুষ্ঠরোগীকে রোগমুক্ত করেছেন এবং জীবিত করেছেন মৃত ব্যক্তিদেরকে; তখন ‘ঈসা আ. বলেন: তোমাদের এহেন পরিস্থিতিতে আমার কিছুই করার নেই। তোমরা বরং আদম সন্তানদের নেতার নিকট চলে যাও; কারণ, তিনিই প্রথম ব্যক্তি, কিয়ামতের দিনে যার থেকে যমীন উন্মুক্ত করে দেয়া হবে; তোমরা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট চলে যাও, অতঃপর তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ তা‘আলার নিকট সুপারিশ করবেন; তিনি বলেন: অতঃপর তিনি ছুটে যাবেন, তারপর জিবরাঈল আ. তার রবের নিকট আসবেন এবং আল্লাহ তা‘আলা বলবেন, তুমি তাকে অনুমতি দাও এবং তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দান কর; তিনি বলেন, তারপর জিবরাঈল আ. তাঁকে নিয়ে ছুটে যাবেন, অতঃপর তিনি এক সপ্তাহ পরিমাণ সময় ধরে সিজদায় অবনত হয়ে থাকবেন এবং আল্লাহ তা‘আলা বলবেন: হে মুহাম্মদ! আপনি আপনার মাথা উত্তোলন করুন এবং কথা বলুন, আপনার কথা শুনা হবে; আপনি সুপারিশ করুন, আপনার সুপারিশ গ্রহণ করা হবে; তিনি বলেন, অতঃপর তিনি তাঁর মাথা উঠাবেন; তারপর তিনি যখন তাঁর প্রতিপালক আল্লাহ তা‘আলার প্রতি দৃষ্টি দিবেন, তখন আরও এক সপ্তাহ সিজদায় অবনত হয়ে থাকবেন; অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা বলবেন: আপনি আপনার মাথা উত্তোলন করুন এবং কথা বলুন, আপনার কথা শুনা হবে; আপনি সুপারিশ করুন, আপনার সুপারিশ গ্রহণ করা হবে; তিনি বলেন, অতঃপর তিনি সিজদায় অবনত হতে যাবেন, তখনই জিবরাঈল আ. তাঁর বাহুদ্বয়ে ধরে ফেলবেন; অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা তাঁর ব্যাপারে এমন কিছু দো‘আর সূচনা করবেন, যা অন্য কোন মানুষের ব্যাপারে করেননি; অতঃপর তিনি বলবেন, হে আমার প্রতিপালক! আপনি আমাকে আদম সন্তানতের নেতা করে সৃষ্টি করেছেন, এতে আমার কোনো অহঙ্কার নেই এবং আমাকে প্রথম ব্যক্তি বনিয়েছেন, কিয়ামতের দিনে যার থেকে যমীন উন্মুক্ত করে দেয়া হবে, এতে আমার কোনো অহঙ্কার নেই, শেষ পর্যন্ত তাঁকে এমন এক হাউযের কাছে নিয়ে যাওয়া হবে, যার প্রশস্ততা সান‘আ ও আয়লার মধ্যকার দূরেত্বের চেয়ে বেশি; অতঃপর বলা হবে, আপনি সিদ্দীকগণকে আহ্বান করুন, তারপর তারা সুপারিশ করবে; অতঃপর বলা হবে, আপনি নবীগণকে আহ্বান করুন, তিনি বলেন, (ডাকার পর) এক নবী আসবেন এবং তার সাথে একদল লোক থাকবে; আরেক নবী আসবেন, যার সাথে পাঁচ-ছয় জন লোক থাকবে; আরেক নবী আসবেন, যার সাথে কেউই নেই; অতঃপর বলা হবে, আপনি শহীদদেরকে আহ্বান করুন, অতঃপর তারা যার জন্য ইচ্ছা সুপারিশ করবে; আর তিনি বলেন, তারপর যখন শহীদগণ এই কাজ করবে, তখন আল্লাহ তা‘আলা বলবেন, আমি দয়াবানদের চেয়ে আরও অনেক বেশি দয়ালু, তোমরা যারা আমার সাথে কোনো কিছুর শরীক কর নি, তারা জান্নাতে প্রবেশ কর, তিনি বলেন: অতঃপর তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে; তিনি বলেন: অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা বলবেন, তোমরা জাহান্নামের দিকে লক্ষ্য কর, এমন কারও দেখা পাও কিনা, যে কখনও কোনো ভাল কাজ করেছে; তিনি বলেন: অতঃপর তারা জাহান্নামের মধ্যে এক ব্যক্তিকে পাবে, তখন তিনি তাকে উদ্দেশ্য করে বলবেন, তুমি কি কখনও কোন ভাল কাজ করেছ? জবাবে সে বলবে: না, তবে আমি বেচাকেনার ক্ষেত্রে মানুষের সাথে নম্র ব্যবহার করতাম; তখন আল্লাহ তা‘আলা বলবেন, তোমরা আমার বান্দার প্রতি কোমল আচরণ কর, যেমনিভাবে সে আমার বান্দাদের প্রতি কোমল আচরণ করত; অতঃপর তারা জাহান্নাম থেকে এক ব্যক্তিকে বের করে আনবে, তারপর তিনি তাকে উদ্দেশ্য করে বলবেন, তুমি কি কখনও কোন ভাল কাজ করেছ? জবাবে সে বলবে: না, তবে আমি আমার সন্তানদেরকে নির্দেশ দিয়েছি যে, যখন আমি মারা যাই, তখন তোমরা আমাকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলবে, অতঃপর তোমরা আমাকে পিষে ফেলবে, শেষ পর্যন্ত যখন আমি সুরমার মত হয়ে যাবে, তখন তোমরা আমাকে সমুদ্রের তীরে নিয়ে যাবে এবং আমাকে বাতাসের মধ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে দিবে; তাহলে আল্লাহর কসম করে বলছি, জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহ আমার উপর ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবে না; তার কথা শুনে আল্লাহ তা‘আলা তাকে জিজ্ঞেসা করে বলবেন, তুমি কেন এই ধরনের কাজ করলে? জবাবে সে বলবে, তোমার ভয়ে; তিনি বলেন: অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা বলবেন, তুমি কোনো রাজত্বের দিকে লক্ষ্য করে তার মত রাজত্ব কামনা কর, নিশ্চয়ই তোমার জন্য রয়েছে তার অনুরূপ ও তার মত করে আরও দশটি অনুরূপ রাজত্ব; তিনি বলেন: তখন সে বলবে, (হে রব!) কেন তুমি আমার সাথে উপহাস করছ? অথচ তুমি হলে রাজা বা ক্ষমতাধর; তিনি বলেন: আর এ কারণেই আমি দ্বিপ্রহরে হেসেছিলাম।”
দেখুনঃ
আহমাদ (১/৪); ইবনে খুজাইমা হাদিসটিকে বিশুদ্ধ বলেছেন, পৃ. ৩১০; আবু আওয়ামা (১/১৭৫); ইবনু হিব্বান, পৃ. ৬৪২, (মাওয়ারেদ); হাইসামী রহ. 'আল মাজমা'- এর মধ্যে বলেন, হাদিসটি ইমাম আহমাদ, আবূ ইয়ালা ও বাযার প্রায় একইরকমভাবে বর্ণনা করেছেন, এবং বর্ণনাকারীগণ সকলেই বিশ্বস্থ ও নির্ভরযোগ্য।