কুরআন ও আহলে বাইত | ইসলামী বিশ্বকোষ ও আল-হাদিস




কুরআনঃ

"আর যদি মুমিনদের দু’দল লড়াইয়ে লিপ্ত হয়, তাহলে তোমরা তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দাও। অতঃপর যদি তাদের একদল অপর দলের উপর বাড়াবাড়ি করে, তাহলে যে দলটি বাড়াবাড়ি করবে, তার বিরুদ্ধে তোমরা যুদ্ধ কর, যতক্ষণ না সে দলটি আল্লাহর নির্দেশের দিকে ফিরে আসে। তারপর যদি দলটি ফিরে আসে তাহলে তাদের মধ্যে ইনসাফের সাথে মীমাংসা কর এবং ন্যায়বিচার কর। নিশ্চয় আল্লাহ ন্যায়বিচারকারীদের ভালবাসেন। (সূরা হুজরাতঃ ৯)

"এবং অবশ্যই আমি (আল্লাহ) তোমাদের পরীক্ষা করব কিছুটা ভয়, ক্ষুধা, মাল ও জানের ক্ষতি ও ফল-ফসল বিনষ্টের মাধ্যমে। তবে সুসংবাদ দাও ধৈর্যধারণ কারীদের।" (সূরা বাকারাহঃ ১৫৫)

"আর তোমরা যালিমদের/ সীমালঙ্ঘন-কারীদের প্রতি ঝুঁকে পড়ো না, অন্যথা তোমাদেরকে দোযখের আগুন স্পর্শ করবে, আর আল্লাহ ছাড়া তোমাদের কেউ সহায় হবে না, অতঃপর তোমাদেরকে কোন সাহায্যও করা হবে না।" (সূরা হূদঃ ১১৩)

আহলে বাইতঃ

৪১ হিজরিতে ইসলামের পঞ্চম খলিফা ইমাম হাসান রঃ কর্তৃক ছয় মাস খিলাফতের মসনদে থাকার পর মুসলমানদের মধ্যে বিবেদ সামলানোর জন্য মসনদ ছেড়ে দিয়ে হযরত মুয়াবিয়া রঃ এঁর কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের ঘটনা এবং ৬১ হিজরিতে সুলতান এ কারবালা, সায়্যিদুশ শোহাদা ইমাম হুসাইন রাঃ কর্তৃক কমবখত, ফাসেক, জালেম, পাপিষ্ঠ ইয়াজিদ (লাঃ) এর হাতে বাইয়াত না নেয়ার ঘটনার সঙ্গে আয়াতগুলোর মর্মার্থ মিলিয়ে নিন।

হাদিসঃ

যাইদ ইবনু আরকাম (রঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ ﷺ বলেনঃ তোমাদের কাছে আমি এমন (দুটি) জিনিস রেখে যাচ্ছি যা তোমরা শক্তরূপে আঁকড়ে ধরলে আমার পরে কখনো পথভ্রষ্ট হবে না। তার একটি অন্যটির তুলনায় বেশি মর্যাদাপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণঃ (একটি হল) আল্লাহ'র কিতাব যা আকাশ হতে মাটি পর্যন্ত দীর্ঘ এক রশি এবং (অন্যটি) আমার আহলে বাইত। এ দুটি কখনও বিচ্ছিন্ন হবে না কাউসার নামক ঝর্ণায় আমার সঙ্গে একত্রিত না হওয়া পর্যন্ত। অতএব তোমরা লক্ষ্য রেখ আমার পরে উভয়ের সঙ্গে কিভাবে আচরণ কর।
(সূনান আত তিরমিজী ৩৭৮৮)

ভবিষ্যদ্বাণীঃ (হাদিস)

আবূ বাকরাহ (রঃ) হতে বর্ণিত। (তিনি বলেন) আমি নবী ﷺ-কে মিম্বরের উপর বলতে শুনেছি, ঐ সময় হাসান (রঃ) তাঁর পার্শ্বে ছিলেন। তিনি একবার উপস্থিত লোকদের দিকে আবার হাসান (রঃ)-এঁর দিকে তাকালেন এবং বললেন, আমার এ সন্তান হচ্ছে সাইয়্যিদ (সর্দার)। আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁর মাধ্যমে বিবাদমান দু’দল মুসলমানের মধ্যে সমঝোতা করিয়ে দিবেন। (সহীহ বুখারী ৩৭৪৬, ৩৬২৯, ২৭০৪)

মাওলা আলী আঃ বলেন, রসূলুল্লাহ ﷺ বলেনঃ মাহ্দী (র.) আমাদের আহলে বাইত থেকে হবে। আল্লাহ তাআ'লা তাকে এক রাতে খিলাফতের যোগ্য করবেন। (সূনানে ইবনে মাজাহ ৪০৮৫)

সাঈদ ইবনুল মুসায়্যাব র. বলেন, আমরা উম্মু সালামাহ (রঃ) এর নিকট বসা ছিলাম। আমরা পরস্পর মাহ্দী (রঃ) সম্পর্কে আলোচনা করছিলাম। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ ﷺ কে বলতে শুনেছিঃ মাহ্দী ফাতেমা আঃ এঁর বংশধর। (সূনানে ইবনে মাজাহ ৪০৮৬)

রসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, আমাদের আহলে বাইত-এর জন্য আল্লাহ পার্থিব জীবনের পরিবর্তে আখেরাতের জীবনকে পছন্দ করেছেন। আমার আহলে বাইত আমার পরে অচিরেই কঠিন বিপদে লিপ্ত হবে, কষ্ট-কাঠিন্যের শিকার হবে এবং দেশান্তরিত হবে। প্রাচ্যদেশ থেকে কালো পতাকাধারী কতক লোক তাদের সাহায্যার্থে এগিয়ে আসবে। তারা কল্যাণ প্রার্থনা করবে, কিন্তু তা তাদের দেয়া হবে না। তারা লড়াই করবে এবং বিজয়ী হবে। শেষে তাদেরকে তা দেয়া হবে, যা তারা চেয়েছিল। কিন্তু তারা তা গ্রহণ করবে না। অবশেষে আমার আহলে বাইত-এর একজনের (ইমাম মাহদী) নিকট তা সোপর্দ করা হবে। সে পৃথিবীকে ইনসাফে পরিপূর্ণ করবে, যেমনিভাবে লোকেরা একে যুলুমে পূর্ণ করেছিলো। তোমাদের মধ্যে যারা সেযুগ পাবে, তারা যেন বরফের উপর হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তাদের নিকট চলে যায়। (সূনানে ইবনে মাজাহ ৪০৮২)