ইয়াজিদপ্রেমী আলেমদের ধৃষ্টতা ও জবাব | ইসলামী বিশ্বকোষ ও আল-হাদিস

লেখকঃ তাহমিদ হাসান

লুৎফর রহমান ফরায়েজীর চরম ধৃষ্টতা। ইয়াজীদের ব্যাপারে নমনীয় হতে গিয়ে এবং তার পীর সাহেব কে সাপোর্ট করতে গিয়ে কি অসংখ্য ইমামকে শিয়া হিসেবে আখ্যায়িত করলো??? মিথ্যাচারের একটা পর্যায় থাকা উচিত। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আক্বীদার নামেও মিথ্যাচার করতে একটুও বুক কাঁপল না আপনার???

কয়েকদিন পূর্বে চরমোনাইয়ের পীর সাহেব ফয়জুল করীম সাহেবের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। সেখানে তিনি ইয়াযিদের এমন কিছু প্রশংসা এবং গুণগান করেছেন। যেগুলো স্পষ্ট মিথ্যাচার। সে বলেছে এগুলো নাকি কিতাবে এসেছে। আমি বলতে চাই, কোন কিতাবে এসেছে তার স্ক্রিণশট সহ জাতির নিকট দেখাবেন।

ভিডিওটির ব্যাপক সমালোচনার কারণে তারই এক ভক্ত, যাকে একজন ভালো জ্ঞান সম্পন্ন আলেম হিসেবেই মানুষ জানে। তার নাম লুৎফর রহমান ফরায়েজী। লুৎফর রহমান ফরায়েজী সাহেবও তার মুরুব্বীর মতই দলীল এবং ভিত্তিহীন কিছু জবাব লিখেছে।

জবাব লিখার এক পর্যায়ে সে লিখেছে যে, “ইয়াযিদকে লানত করা শিয়াদের আলামত ।”

অথচ বিশ্ব শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস, মুফাসসির এবং ফক্বীহগণ ইয়াযিদকে লানত দেয়া বৈধ বলেছেন। এমনিকি কিছু কিছু ইমাম ইয়াযিদকে কাফিরও বলেছেন।

ইবনে জাওযী রহ. তার লিখিতি الرد على المتعصب العنيد المانع من ذم يزيد কিতাবের মধ্যে নিজস্ব সনদে বর্ণনা করেছেন:

{কাযী আবু ইয়ালা মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন ইবনুল ফররা তার ‘আল মুতামাদ ফিল উসূল গ্রন্থে’ আবু জাফর আল আবকারী থেকে, তিনি আবু আলি আল হুসাইন ইবনুল জুনায়েদ থেকে, তিনি আবু তালিব ইবন শিহাব আল আবকারি থেকে, তিনি আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনুল আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন,}

তিনি বলেন, আমি “সালিহ ইবন আহমাদ ইবনে হাম্বল রহ.” কে বলতে শুনেছি “আমি একবার আমার আব্বা অর্থাৎ ইমাম আহমাদকে বললাম “একদল লোক আমাদেরকে ইয়াযিদের মিত্র বলে মনে করে।” তিনি বললেন, বাছা ! ইয়াযিদের সাথে ঈমানদার কেউ সম্পর্ক রাখতে পারে???

আমি বললাম তাহলে আপনি তাকে লানত দেন না কেন? তিনি বললেন, তুমি কবেই বা আমাকে কোন কিছুকে লানত দিতে দেখেছ? আল্লাহ স্বয়ং যাকে পবিত্র কুরআনেই লানত দিয়েছেন, তাকে কেন লানত দেয়া হবে না?

আমি বললাম, আল্লাহ তার কিতাবের কোথায় ইয়াযিদকে লানত দিলেন? তখন ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল রহ. নিম্নোক্ত কুরআনের আয়াত পাঠ করলেন:

فهل عسيتم ان توليتم ان تفسدوا فى الأرض وتقطعوا ارحامكم اولئك الذين لعنهم الله فأصمهم وأعمى أبصارهم

অর্থাৎ, তবে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলে সম্ভবত তোমরা যমিনে ফাসাদ করবে এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করবে। আল্লাহ এদেরকেই লানত করেন আর বধির ও অন্ধ করেন। (সূরা মুহাম্মাদ: ২২-২৩)

ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল রহ. এর মতে ইয়াযিদ কে লানত দেয়া জায়েয তো বটেই। বরং স্বয়ং আল্লাহই ইয়াযীদের মত যালিমদেরকে লানত দিয়েছেন। যার প্রমাণ হিসেবে তিনি উপরোক্ত আয়াত দলীল হিসেবে উপস্থাপন করেন।

এখনকি লুৎফর রহমান ফরায়েজী সাহেব ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল রহ. কে শিয়া বলবেন? নাকি ইমামদের শানে বেয়াদবীর জন্য ক্ষমা চাইবেন? আর তিনি তো কুরআনের আয়াত দিয়ে দলীল দিয়েছেন। সেক্ষেত্রে অতি সত্তর ফরায়েজী সাহেবের উত্তর আশা করছি। ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল রহ. এর দলীল খন্ডণ করুন। নয়তো মিথ্যাচার এবং বেয়াদবীর জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চান।

আমরা জানি ইয়াযিদের হুকুমে তার বাহিনী পবিত্র মক্কা এবং মদীনা শরীফে ধ্বংস যজ্ঞ চালিয়েছে এবং বহু নিরাপরাধ নারী, শিশু ও সাহাবীদেরকে হত্যা করেছে।

পবিত্র হাদীস শরীফে এসেছে

عن عائشة قالت قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ستة لعنتهم ولعنهم الله وكل نبي كان الزائد في كتاب الله والمكذب بقدر الله والمتسلط بالجبروت ليعز بذلك من أذل الله ويذل من أعز الله والمستحل لحرم الله والمستحل من عترتي ما حرم الله والتارك لسنتي

অর্থাৎ আম্মাজান আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ছয় শ্রেণীর লোককে আমি লানত দিয়েছি। আল্লাহ তায়ালা এবং সকল নবি তাদেরকে লানত দিয়েছেন। তারা হলো আল্লাহর কিতাবে বিকৃতি সাধনকারী, আল্লাহর নির্ধারিত তাকদির অস্বীকারকারী, আল্লাহ যাকে লাঞ্ছিত করেছেন, তাকে সম্মানিত করতে এবং যাকে সম্মানিত করেছেন, তাকে লাঞ্ছিত করতে জোরপূর্বক ক্ষমতা দখলকারী, আল্লাহর হারামকে হালালকারী [অর্থাৎ মক্কার হারামে রক্তপাতকারী], আমার বংশধরদের ব্যাপারে আল্লাহ যা হারাম করেছেন, তা হালালকারী [ অর্থাৎ তাদের রক্তপাত করা ও কষ্ট দেয়া] এবং আমার সুন্নাত পরিত্যাগকারী।

( সুনান তিরমীযী, কিতাব: আল ক্বাদারু আন রসূলিল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম: হাদীস নং: ২১৫৪)

ইয়াযিদ মক্কা ও মদীনা শরীফ তথা দুই হারামে রক্তপাত করেছে এবং তার হুকুমে আহলে বাইতের রক্ত মুবারক প্রবাহিত করা হয়েছে। এই হাদীস অনুসারেও ইয়াযিদ লানত পাওয়ার যোগ্য এবং তার উপর লানত। এরপরে আমরা ইমামদের মত দেখবো যারা ইয়াযিদকে লানত দিয়েছেন এবং উপরোক্ত আয়াত এবং হাদীসে বর্ণিত বৈশিষ্ট্য ইয়াযিদের মধ্যে রয়েছে কিনা ! লেখা ছোট করার জন্য মাত্র কয়েকজনের মতামত উল্লেখ করলাম:

ইমাম জালালুদ্দিন সূয়ুতি রহ. বলেন:

فقتل وجىء برأسه فى طست حتى وضع بين يدي ابن زياد, لعن الله قاتله و ابن زياد معه ويزيد أيضا, و كان قتله بكربلاء

এরপর ইমাম হুসাইন রদিয়াল্লাহু আনহুকে হত্যা করা হলো এবং একটি থালায় তার মাথা (মুবারক) এনে ইবন যিয়াদের সামনে রাখা হলো। তার হত্যাকারী ইবনে যিয়াদ এবং “ইয়াযিদকে” আল্লাহ লানত দিন। তাকে কারবালায় হত্যা করা হয়েছিল। (ইমাম জালালুদ্দীন সূয়ুতী রহ. , তারীখুল খুলাফা, বৈরুত: দার ইবন হাযম, পৃ. ১৬৫)

এখনকি লুৎফর রহমান ফরায়েজী সাহেব ইমাম জালালুদ্দীন সূয়ুতী রহ. কে শিয়া বলবেন? নাকি ধৃষ্টতার জন্য অতি সত্তর ক্ষমা চাইবেন?

লুৎফর রহমান ফরায়েজী সাহেব তার পোস্টের মধ্যে বলেছেন “ইয়াজিদ হুসাইন রাঃ কে হত্যার নির্দেশ দিয়েছে এমন কোন ঐতিহাসিক প্রমাণ নেই। তবে হুসাইন রাঃ এর মত ব্যক্তিত্বের হত্যা ঠেকাতে ইয়াযিদ রাজনৈতিক ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে”

চলুন আমরা ইমাম সাদুদ্দিন তাফতাযানি রহ. এর মতামত দেখি। তিনি আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আক্বীদার কিতাব “আকাইদ আন নাসাফিয়্যা” এর ব্যাখ্যা গ্রন্থ লিখেছেন। সেখানে তিনি বলেছেন:

وبعضهم أطلق اللعن عليه لما أنه كفر حين أمر بقتل الحسين رضى الله عين و اتفقوا على جواز اللعن على من قتله أو أمر به أو أجازه أو رضي به

অর্থাৎ, উলামায়ে আহলে সুন্নাতের কেউ কেউ তাকে অর্থাৎ ইয়াযিদকে লানত দিয়েছেন। কারণ সে যখন হুসাইন রদিয়াল্লাহু আনহুকে হত্যার আদেশ দিয়েছিল, তখনই সে কুফরি করেছিল। এছাড়া ইমাম হুসাইন রদিয়াল্লাহু আনহুর হত্যাকারী, হত্যায় আদেশদাতা, অনুমোদন দাতা অথবা তাতে সন্তুষ্ট ব্যক্তিকে লানত দেয়ার ক্ষেত্রে আলিমগণ একমত পোষণ করেছেন।

(শরহে আকাইন আন নাসাফিয়্যা, আস্তানা, কাজখস্তান, ১২৭৭ হি. পৃ. ১৮০১৮১)

লুৎফর রহমান ফরায়েজী সাহেব বললো “ইয়াজিদ হুসাইন রাঃ কে হত্যার নির্দেশ দিয়েছে এমন কোন ঐতিহাসিক প্রমাণ নেই। অথচ আক্বীদার কিতাবের ব্যাখ্যাকার ইমাম তাফতাযানি রহ. বলতেছেন ইয়াযিদ, ইমাম হুসাইন রা. এর হত্যার আদেশ দিয়েছে। এমনকি এই কারণে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের কেউ কেউ লানত দিয়েছেন এমনকি ইয়াযিদ কুফুরী করেছে, এই কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন। আবার শেষে বলেছেন তাকে লানত দেয়ার ব্যাপারে আলিমগণ একমত পোষণ করেছেন।

ফরায়েজী সাহবের কাছে প্রশ্ন, বানোয়াট কথা দিয়ে কতদিন চলবেন? পারলে ইমাম তাফতাযানি রহ. এর লেখনি খন্ড করুন নয়তো অতি সত্তর প্রকাশ্যে তওবা করুন।

এরপরেই ইমাম তাফতাযানি রহ. বলেছেন যে, হুসাইন রদিয়াল্লাহু আনহুর হত্যাকান্ডে ইয়াযিদের সন্তুষ্টি ও আনন্দ, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আহলে বাইতকে লাঞ্চিত করা - যার বর্ণনা আলাদাভাবে খবরে আহাদ পর্যায়ের হলেও, অর্থগতভাবে মুতাওয়াতির পর্যায়ের। এসবের জন্য আমরা চুপ থাকবো না। এমনকি সে (ইয়াযিদ) মুমিন নাকি কাফির, সে ব্যাপারেও চুপ থাকব না। আল্লাহ তায়ালার লানত তার উপর, তার সহযোগী ও সহায়তাকারীদের উপর। (শরহে আকাইন আন নাসাফিয়্যা, আস্তানা, কাজখস্তান, ১২৭৭ হি. পৃ. ১৮০১৮১)

কত স্পষ্ট কথা। ইমাম তাফতাযানি রহ. বলতেছেন মুতাওয়াতির পর্যায়ে এগুলো পৌছেছে আর আমাদের ফরায়েজী সাহেব বলতেছে ঐতিহাসিক কোন প্রমাণ নেই। হাস্যকর এবং দুঃখজনক। পীর সাহেব কে খুশি করতে গিয়ে লক্ষ মানুষকে গোমড়া করার সাহস আপনাকে কে দিয়েছে? কোথায় পেয়েছেন এসব ভিত্তিহীন কথা? দলীল দিয়ে যাবেন। নয়তো ক্ষমা চান অতি সত্তর।

লুৎফর রহমান ফরায়েজী সাহেব তার পোস্টে ৪ নং এ বলেছে যে “শাসক নির্বাচনের আগে ইয়াযিদ থেকে কোন প্রকার ফাসেকী ও ধর্মদ্রোহী কাজ প্রকাশ পায়নি” । এই কথাটা তার পীর সাহেব ফয়জুল করীম সাহেবও বলেছেন।

চলুন আমরা ইবনে খাল্লিকান রহ. এর মত দেখি। তিনি বলেনে

”তার ( ইয়াজিদের ) ব্যাপারে সালাফ বা পূর্বসূরি, যেমন ইমাম আহমাদ, ইমাম মালিক, ইমাম আবু হানিফা প্রমুখের পক্ষ থেকে দুটি মত রয়েছে। একটি মত তালউইহ (ইশারায় লানত দেয়া)। আরেকটি মত তাসরিহ (স্পষ্টভাষায় লানত দেয়া)। আর আমাদের মত কেবল একটিই । তা হলো তাসরিহ বা সুস্পষ্টভাবে লানত দেয়া, তালউইহ নয়। আর এটা হবেই না বা কেন? ইয়যিদ পাশা খেলত, চিতাবাঘ দিয়ে শিকার করত, সর্বপরি সে ছিল মদ্যপ” ( ওয়াফিয়াতুল আইয়া ফি আনবায়ি আবনায়িয যামান, বৈরুত, দারু সাদির, ১৯৭২ খ্রি, খন্ড: ৩, পৃ. ২৮৭)

ইবনে খাল্লিকান রহ. বলেছেন যে, ইমাম আহমাদ, ইমাম মালিক ও আমাদের মাযহাবের ইমাম আবু হানিফা রহ. এর মত হচ্ছে ইয়াযিদ কে লানত দেয়া। কেননা, ইয়াজিদ ছিল মদ্যপ, জুয়া খেলত ইত্যাদী।

এখনকি লুৎফর রহমান ফরায়েযী সাহেব আমাদের মাযহাবের ইমাম আবু হানিফা রহ. সহ বাকি দুই মাযহাবের ইমামগণকেও শিয়া বলবেন? নাকি প্রকাশ্যে তওবা করবেন?

ইয়াযিদ ছিল মদখোর, জুয়াখোর। তাহলে কি ফরায়েজী সাহেব একথা বলতে চান আপনার পীর সাহেবের সাথে সুর মিলিয়ে যে, ইয়াযিদ পূর্বে এত পরহেজহার, আমলি আর হাদীসের ভান্ডার ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই সে মদ খাওয়া শুরু করছে, জুয়া খেলা শুরু করছে ? এমনটাই বলতে চান নাকি আপনারা?

এমনকি ইমাম যাহাবি রহ. তার সিয়ারু আলামিন নুবালা, বৈরুত; মুয়াসসাতুর রিসালা, খন্ড: ৪, পৃ. ৩৭ এর মধ্যে বলেছেন যে, ইয়াজিদ সে ছিল মদখোর এমনি একবার ইয়াযিদ মাতাল হয়ে উঠে দাঁড়িয়ে নাচতে শুরু করলো। এরপর চিৎ হয়ে পড়ে তার মাথা ফেটে গিয়েছিল।

লুৎফর রহমান ফরায়েজী সাহেব আপনার এবং আপনার পীর সাহেবের তাহলে এটাই দাবী যে, এত এত পরহেজগার, হাদীসের ভান্ডার, হাফেজে কুরআন এবং দৈনিক ১০০ রাকাআত নফল নামাজ পড়নে ওয়ালা একজন মুত্তাকী লোক হঠাৎ করেই এমন মদ খেয়ে নাচত, জুয়া খেলত !!! নাকি? আপনারা এটাই বলতে চান?

কোথায় পেলেন এত বড় স্পর্ধা???

লুৎফর রহমান ফরায়েজী সাহেব এরপরে বলেছেন: “ইয়াজিদের প্রশংসা ও লানত না করে এ ব্যাপারে চুপ থাকা এবং হুসাইন রাঃ এর প্রশংসা ও অবস্থানকে সাপোর্ট করাই আহলে সুন্নাতের আলামত”।

তাহলে আমার প্রশ্ন ইমামগণ কেন লানত দিলেন? কেন বললেন আমরা ইয়াযিদের ব্যাপারে চুপ থাকবো না? আপনি কোন দলীলের ভিত্তিতে বললেন যে, ইয়াযিদের ব্যাপারে চুপ থাকতে হবে? আবার বলেছেন যে, এটাই নাকি আহলে সুন্নাতের আলামাত (নাউযুবিল্লাহ)। এত জঘন্য মিথ্যাচার করতে কি আপনার বুক কাঁপলো না? দলীল কোথায় আপনার? দিয়ে যাবেন। অপেক্ষায় থাকবো।

এরপর লুৎফর রহমান ফরায়েজী সাহেব বলেছেন যে, “মাওলানা ফয়জুল করীম দামাত বারাকাতুহুর বক্তব্য আমি শুনেছি। তিনি যেভাবে ইয়াযিদের বিষয় তুলে ধরেছেন তা সঠিক” (আসতাগফিরুল্লাহ)

যেহেতু পক্ষপাতিত্ব করেই ফেলেছেন তাই বলবো, ইমামদের মত কে খন্ডন করুন এবং আপনার পীর সাহেবের বক্তব্যের পক্ষে দলীল পেশ করবেন।

এরপর ফরায়েজী সাহবে আবার বলেছেন যে, “তিনি ইয়াযিদের শাসক হবার আগের ভালো আখলাকের কথাগুলো বলেছেন। এটা বলাতে কোন সমস্যা নেই”

ভাইরে ভাই, ক্লান্ত হয়ে গেলাম আপনাদের মূর্খতা এবং মনগড়া ও ভিত্তিহীন কথা ও লেখা দেখে। শুধু এটাই বলবো, দলীল কই???

আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনু হুসাইন আল আজুররি রহ. ইন্তেকাল ৩৬০ হিজরী । তিনি তার মানাকিবু ও ফাদাইলু আলে বাইতিন নাবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ৩০৫ পৃষ্ঠার মধ্যে ইয়াযিদকে লানত দিয়েছেন।

ইমাম আবু শামা রহ. ইয়াযিদকে লানত দিয়েছেন।
ইবনুল জাওযি রহ. ইয়াযিদকে লানত দিয়েছেন।
ইমাম শাওকানি ইয়াযিদকে লানত দিয়েছেন।

ভাইরে, কত দলীল দরকার? পরিশেষে বলবো শুধু মোল্লা আলী কারী রহ. এর মতামত সকল ইমামদের মতামতের বিরুদ্ধে গেলে সেটাই মান্যবর হয়ে যায় না।

আর সবচেয়ে বড় যে চাটুকারিতা এক কথায় ধোঁকাবজি করেছেন, লুৎফর রহমান ফরায়েজী সাহেব তা হচ্ছে, তিনি তার পোস্টের শেষে বলেছেন

“এ কারণেই আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের আকীদা হল, এজিদের উপর লানতও বর্ষণ করা হবে না। আবার হযরত হুসাইন রাঃ এর বিপরীতে তার প্রশংসাও করা হবে না”

দলীল হিসেবে সে উর্দূ একটি মাসআলার কিতাবের রেফারেন্স দিয়েছে। আহ…...হাস্যকর। এত লজ্জা কোথায় লুকাবেন ফরায়েজী সাহেব?

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আক্বীদা সাব্যস্ত করতে হলে প্রথমে ক্বতয়ী দলীল দরকার এবং সেটার দালালাত টাও ক্বতয়ী দরকার।যদি সেটা না থাকে, তাহলে ফুরুয়ী আক্বিদার ক্ষেত্রে খবরে আহাদ দরকার। যদি সেটাও না থাকে তাহলে অন্তত আক্বীদার ইমামগণের রেফারেন্স তো দিবেন !!! অথচ আপনি কি করলেন? নির্লজ্জের মত একটি মাসআলার কিতাবের মাসআলা দিয়ে বলে দিলেন সেটা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আক্বীদ। আহা………..

উপরে বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আক্বীদা কি ছিল। কুরআনের আয়াত, হাদীস থেকে এবং অসংখ্য ইমামের মত রয়েছে। আরো দলীল ছিল। কিন্তু লেখা বড় হয়ে যাওয়ার কারণে এই পর্যন্তই। লুৎফর রহমান ফরায়েজী সাহেবের জবাবের অপেক্ষায় থাকবো। আর জবাবের জবাব দেয়ার জন্য রেডি আছি। নিজেকে এবং আপনার পীর সাহেবকে কতটুকু হক্ব প্রমাণ করতে পারেন। এবার মানুষ দেখবে ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ হাফিজ।