হৃদয়ের আকুতি! | ইসলামী বিশ্বকোষ ও আল-হাদিস



প্রিয় আক্বা,

শুরু করছি রবের প্রশংসা দিয়ে। যিনি সকল প্রশংসা প্রাপ্তির অধিকার রাখেন। যিনি আপনাকে দিয়ে আমাকে দয়া করেছেন। আমি লাঞ্ছিত ছিলাম, আপনার মাধ্যমে আমাকে সম্মানিত করেছেন। শত কোটি দূরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সেই সম্মানিত সত্তার প্রতি।

আমার প্রিয় আক্বা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আমার তো সৌভাগ্য হয় নি আপনার শহরে জন্ম নেওয়ার। আমার সৌভাগ্য হয় নি আপনার যুগে জন্ম নেওয়ার। সৌভাগ্য হয় নি প্রতি ফজরের পর ভোরের স্নিগ্ধ বাতাস গায়ে মেখে মসজিদে নববীতে বসে আপনার নূরানী চেহারার দীদার লাভের। সৌভাগ্য হয়নি এই যুগের সবুজ গম্বুজ দেখা ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ারও। আক্বা, আমি কি যাব না? আমারও তো ইচ্ছে হয় আপনার শহর পবিত্র মদীনা দেখতে! যে শহরকে ঘিরে লেখা হয়েছে, হচ্ছে, হবে শত শত কাব্য। পৃথিবীতে আর কোনো শহরও কি এমন আছে? আমি অনেক দূরে পরে আছি। পরে আছি বাংলার এক কোণে। বসে হৃদয়ের আকুতিগুলো লিখছি। কেন জানি মাঝে মাঝে চক্ষুদ্বয় অশ্রুসিক্ত হয়ে যাচ্ছে!

আক্বা, আমি কি সেই সৌভাগ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারব না? যারা আপনার চেহারায়ে আনোয়ার এর জিয়ারত দ্বারা ধন্য হয়েছে। আমি তো এমন চেহারা দেখার জন্য ছটফট করছি, যে চেহারার সৌন্দর্য্যের তুলনা কেউ করেছেন পূর্নিমার চাঁদের সাথে। কেউ বা বলেছেন— সূর্য নাকি সেই চেহারায় প্রদক্ষিণ করে। আবার কেউ বলার ভাষাই হারিয়ে ফেলেছেন। হয়ে গেছেন বাকরুদ্ধ। কেউ বা বলেছেন— না, না! কিসের সাথে তুলনা দিচ্ছ? এই পৃথিবীতে তাঁর কোনো তুলনা থাকলে তো দিবে! কেউ বা বলেছেন— আরে থাকবেই বা কিভাবে? কোনো মা এমন কাউকে জন্মই তো দেয় নি!

আমি সেই চেহারা দেখার জন্যই পাগল হয়ে আছি। এমন এক দরবারে আকুতি জানাচ্ছি— যেখান থেকে অনুমতি পাওয়া মাত্রই আমি ছুটে যেতে পারব মদীনায়।

'ছুট যায়ে জামান কোই গাম নাহি, হাত তেরা রাহে বাস মেরে হাত মে।'

আমি তো ইকবাল বা আহমদ রেযা নই! তবে কিভাবে সুন্দর সুন্দর ছন্দ দিয়ে এই আকুতি পেশ করব? আমি বুঝিনা— কিভাবে মক্কার কাফেররা আপনাকে কষ্ট দিতে পারল? কিভাবে তায়েফের বদমাশরা আপনাকে পাথর মারতে পারল? আমরা তো বুকে জড়িয়ে হৃদয় শীতল করতে পাগলপারা হয়ে আছি। তারা কি অন্ধ ছিল!

আমি শুনেছি ইউসুফ আলাইহি সালামকে দেখে নাকি মিশরের নারীরা হাত কেটে ফেলেছিল নিজেদের! আর আপনি? আপনাকে না দেখেও তো ১৪'শ বছর পর শত শত মানুষ মাথা কেটে ফেলতে প্রস্তুত! তারা প্রাণ উৎসর্গ করতে চায় খুশি মনে! কেনই বা করবে না! হাড়-মাংসের এই খাঁচা থেকে মুক্তি পেলে যদি আপনার দীদার পাওয়ার আশা থাকে তাহলে তো সেই দিনটা আমার জন্য সবচে খুশির দিনই বটে।

আপনার প্রশংসায় কাব্য রচনা করতে গিয়ে কত কলম ভেঙ্গে গেল। তবুও কি আপনার শানের কিয়দাংশও লেখা সম্ভব হয়েছে? হবেই বা কিভাবে? স্বয়ং রব যে বলেছেন— আমি আপনার সম্মানকে উচ্চ মর্যাদা দান করেছি।

আমার প্রিয় আক্বা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আমার এই আকুতিগুলো আপনি ছাড়া কে আছে শুনবে? আমার রবের কাছে আপনাকে ওসীলা বানাচ্ছি। আমাকেও নিয়ে যান না একবার মদীনায়। আমিও দেখব সবুজ গম্বুজ। আমার চোখদুটোও সেদিন প্রশান্ত হবে। আমার হৃদয়ের অস্থিরতা, সেদিন স্থিরতায় রুপ নিবে।

হে মদীনার পানে বয়ে চলা বাতাস! আমার এই চিঠি তোমার কাছে সোপর্দ করলাম। আমার আক্বা'র (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কাছে পৌঁছে দিও এই আকুতিগুলো। লাখো সালাম পৌঁছে দিও আমার হয়ে।

ইতি,
সগে মদীনা,
স্বাধীন আহমেদ