ঈদে গাদীর এর বাস্তবতা | ইসলামী বিশ্বকোষ ও আল-হাদিস

 
ঈদে গাদীর পালনের সম্পর্কে প্রথমে এককথায় বলে ফেলি।এটা সম্পূর্ণভাবে শিয়াদের সাথে মিলে তাই আপনি 'ঈদে গাদীর' নাম ব্যবহার করবেন না।'ইয়াওমে গাদীর'/'গাদীর দিবস' নাম ব্যবহার করুন।




আমাদের (আহলে সুন্নাত ওয়াল জাম'আহ) বিষয়ে আমি স্পষ্ট করে বলি,আমরা 'হাদীসে গাদীর' বা 'মান কুন্তু মাওলাহু ফা'আলিয়্যুন মাওলাহু' এর মুতাওয়াতির হওয়া বা তদুর্ধে যাওয়াকে অস্বীকার করিনা।কিন্তু হাদীসে গাদীরের অপব্যাখ্যাকে আমরা অস্বীকার করি।হাদীসে গাদীর এর আহলে সুন্নত অনুযায়ী দৃষ্টিভঙ্গি হলঃ

➤এদিন হযরত আলী রাঃ এর 'বেলায়েত' এর জাহেরী প্রকাশ হয়।
➤আলী রাঃ সাধারণ কেউ নন,বরং তিনি নবীপাক ﷺ এর বেলায়তের ফয়েজ প্রাপ্ত।

 মোটামুটি এগুলোই বেসিক ধারণা,যার 'গাদীরে খুম' এর ভাষণের মূল মোটিভ বলা যায়।

অন্যদিকে শিয়াদের দৃষ্টিভঙ্গি হলঃ

➤আলী রাঃ কে নবীজী ﷺ তাঁর পাশে দাঁড় করানোর মানে উনিই একমাত্র যোগ্য ব্যক্তি,নবীজীর পর আলী রাঃ এর খেলাফত পাওয়াটা অবধারিত।
➤নবীজী ﷺ এর পর অবিসংবাদিতভাবে স্থান আলী ইবনু আবি তালিব রাঃ এর
➤নবীজীর নবুয়তের স্থলাভিষিক্ত আলী, আলী আলাইহিসসালামই একমাত্র কেন্দ্রবিন্দু।
➤হযরত সিদ্দিকে আকবর আবু বকর রাঃ খেলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করে হযরত আলী রাঃ এর প্রতি অবিচার করেছেন।(মা'আযাল্লাহ)
➤আলী রাঃ সবার মওলা,নবির 'অছি'/স্থলাভিষিক্ত, এটা জানার পরও হযরত উমর রাঃ আহলে বায়তের উপর অত্যাচার করেছেন।(মা'আযাল্লাহ) ইত্যাদি।

শিয়ারা উপরোক্ত ভ্রান্ত মোটিভগুলোকে সামনে রেখে তারা গাদীর দিবসকে ঈদ হিসেবে পালন করে থাকে।তারা 'মওলাইয়তে অভিষেক' কে 'নবুয়তের স্থলাভিষেকের অভিষেক' বা 'খেলাফতের অভিষেক' দিবস হিসেবেই পালন করে।আহলে সুন্নত ওয়াল জাম'আতের কোনো গ্রন্থ বা কোনো ফতোয়া দ্বারা 'ইয়াওমে গাদীর' কে 'ঈদে গাদীর' হিসেবে পালন করা সাব্যস্ত হয়না।'হাদীসে গাদীর' এর নাম দিয়ে বিভিন্ন ছবিযুক্ত পোস্টার বা চিত্রাংকন প্রচার করা এগুলো স্পষ্ট গোমরাহীবিশেষত যা দেখা যায়, গাদীরে খুম এর প্রতিক হিসেবে দুইজন জুব্বা পরিহিত লোকের ছবি দেয়া হয়,যার একজন অন্যের ডান হাত উচু করে আছেন,সামনে অনেক মানুষ।যেনো একাবিংশ শতাব্দির সাথে তাল মিলিয়ে গাদীর উদযাপন।প্রয়োজনের অধিক ছবি তোলা-ব্যবহার করা ওলামায়ে কেরামের কাছে অপছন্দনীয়।আজকে এরা গাদীর উপলক্ষে চিত্রাঙ্কন-ছবি নিয়ে পোস্ট দিচ্ছে,একদিন এর বাড়াবাড়ি স্বরূপ ঈদে মাওলিদুন্নবী ﷺ এর দিন এরা দোলনায় বাচ্চাশিশুর ছবির মাধ্যমে বা চিত্রাঙ্কন এর মাধ্যমে বাড়াবাড়ি করবেন।আল্লাহ আমাদের পানাহ দিন। 

এদিনকে কেন্দ্র করে মহিলাদের দিয়ে নাচগান করানোর মতো জঘন্য বিষয়াদিও দৃষ্টি এড়াচ্ছে না।এগুলো সুস্পষ্টরূপে বাড়াবাড়ি।যারা 'ঈদে গাদীর' হিসেবে দিনটা পালন করছে,তাদের অধিকাংশকেই আপনি তাফজীলি হিসেবে খুজে পাবেন।এদের কাছে 'আফদ্বালুন্নাস বা'দাল আম্বিয়া হযরত আবু বকর সিদ্দিক রাঃ — নামক আকিদাটি অগ্রহণযোগ্য।একই দিন হযরত উসমান রাঃ এর ওফাত দিবস,তাদেরকে আপনি এ বিষয়ে লিখতে দেখবেন না।এদেরকে আপনি সুফিবাদের নাম দিয়ে কেবল ভুল কিছু তথ্য উপস্থাপনকারী হিসেবে খুজে পাবেন।অথচ 'ঈদে খিলাফাতে সিদ্দিক', 'ঈদে খিলাফাতে ফারুক','ঈদে খিলাফাতে উসমান' বা 'ঈদে খিলাফাতে মওলা হাসান' আলাইহিমুস সালাম এসব পালন করতে দেখবেন না। 

শাহে মঁরদা,শেরে-ইয়াজদা,আসাদুল্লাহিল গালিব,খায়বার শিকান্দ,সাহিবুল যুলফিক্বার, মাওলায়ে কায়েনাত,আবু তুরাব,ওয়ালিয়াল্লাহ আলী আল-মুরতাযা কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহুল কারীম ওয়া রাযিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু ওয়াআলাইহিস সালাম এর প্রতি ভালোবাসা ব্যতীত কেউ মুমিন হতে পারবেনা।এমনটা মুসলিম শরীফে উল্লেখ আছে।কিন্তু সে ভালোবাসা আমাদের শিয়াদেরকে দেখে শিখতে হবে না।শিয়াদের বাড়াবাড়ি এবং কুউদ্দেশ্য মূলক কর্মকাণ্ডের বিরোধীতা করা সর্বাবস্থায় আহলে সুন্নতের পাবন্দির অন্যতম একটা পরিচয়।

শিয়ারা 'মওলা' শব্দটাকে 'নবুয়তের উত্তরাধিকার' এবং 'আজফালিয়তে সাহাবা'/সবচেয়ে মর্যাদাবান এর কনসেপ্ট হিসেবে ব্যবহার করে।অন্যদিকে সুন্নিদের কাছে এটা 'মওলা আলী কর্তৃক বেলায়ত রহস্য উন্মোচন' হিসেবে পরিচিত।আমি এমনটা বলি যে,'কুন্তা আনা ওয়া আলিয়্যান নুরাম বাইনা ইয়াদায়িল্লাহ' বা,'আমি ﷺ এবং আলী আল্লাহর সামনে নূর হিসেবে ছিলাম'— এ হাদীস অনুসারে আলীর বেলায়ত সৃষ্টিজগৎ তৈরীর সমসাময়িক কালেই সাব্যস্ত হয়েছিলো।সে হিসেবে উনার বেলায়ত অভিষেক তখনই হয়।নবীজী কেবল আলমে নাছুত বা এই জগৎে তা জাহেরী/প্রকাশ্য করে দিলেন মাত্র।এ উপলক্ষে খুশি না হয়ে কোনো মুমিন থাকতে পারেনা।কিন্তু মুমিনকে তার আকিদা সম্পর্কে সচেতন থাকা আবশ্যক।নইলে মুহাব্বতের নাম দিয়ে ঈমানহারা হবার সম্ভাবনা থেকে যায়। 

'ঈদে গাদীর' হলো শিয়াদের একটা ভ্রান্ত উদ্দেশ্যমূলক উৎসব।আপনি যদি খুশি সত্যকারে হয়ে থাকেন,তবে আপনাকে অবশ্যই এটাও মেনে নিতে হবে যে আপনি সত্যিকারের আলী প্রেমিক,ঐ শিয়ারা নয়।আপনার 'ইয়াওমে গাদীর' নামে উদযাপনে হাক্বিকী/সত্যিকার প্রেম নিহিত থাকবে যেটা অভিশপ্ত রাফেজীদের 'ঈদে গাদীর' এ পাওয়া যাবেনা।

বাংলাদেশে প্রচুর তাফজীলি বেড়ে গিয়েছে।এরা ঘটা করে 'ঈদে গাদীর' পালন করছে।এরাই দশে মুহাররাম এ ইমামবাড়ায় গিয়ে পালন করে এবং তাজিয়া মিছিলকে জায়েজ মনে করে।

কিন্তু এখন যে বিষয়টা তুলে ধরছি তা আজকের আগে আমি কোনোদিন জানতাম না।সৈয়্যদুনা উসমান গণি যুন্নুরাইন ইবন আফফান রাঃ এর শাহাদাত এর দিবস নাকি ১৮ ই জুলহিজ্জাহ,অর্থাৎ শিয়াদের 'ঈদে গাদীর' এর দিন!

ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়,একদল চরমপন্থী রাফেযী হযরত আলী রাঃ এর জীবদ্দশাতেই বিভিন্ন বিদআতী এবং শিরকী আক্বিদা প্রচারে মেতে উঠে।যার একটা দল সম্পূর্ণভাবে ৩য় খলিফার হত্যাকাণ্ডের সাথে সরাসরি জড়িত।শিয়ারা আবার উমাইয়্যা বংশকে প্রচন্ড ঘৃণা করে,বিশেষ ক্ষেত্র বাদে!আর হযরত উসমান রাঃ এর খেলাফতকেও প্রায় ৯৫-৯৮শতাংশ রাফেযীরা বরহক্ব মনে করেনা। ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়,হযরত উসমান রাঃ এর শাহাদাতের দিনের সাথে রাফেজীদের ঈদ পালন করার একটা সূক্ষ্ম সম্পর্ক আছে।

হযরত উসমান রাঃ এর বয়স,জন্মসন,শাহাদাতের দিন ও তারিখ নিয়ে মতানৈক্য আছে।তবে জমহুর/প্রসিদ্ধ মত হল জিলহজ্জ্বের ১৮ তারিখ উনার শাহাদাত হয়। 

এব্যাপারে সবচেয়ে বেশি মতামত এনেছেন ইমাম ত্বাবারী রহ.।

➤অভিমত ১ হতে ৮ নংঃ

'তারিখে ত্বাবারী' গ্রন্থে ৩/৪৪১,৪৪২ পৃষ্ঠায় ইমামুল মুফাসসিরীন ইমাম ত্বাবারী উল্লেখ করেন—

সনদ ১ঃ
 عن عامر الشعبي أنه قال حصر عثمان بن عفان رضي الله عنه في الدار اثنتين وعشرين ليلة وقتل صبيحة ثماني عشرة ليلة.......

 সনদ ২ঃ

.عن أبي معشر قال قتل عثمان رضي الله عنه يوم الجمعة لثماني عشرة ليلة مضت من ذي الحجة سنة ٣٥........

সনদ ৩ঃ

عن شعيب عن سيف عن محمد وطلحة وأبي حارثة وأبي عثمان قالوا قتل عثمان رضي الله عنه يوم الجمعة لثماني عشرة ليلة مضت من ذي الحجة سنة ٣٥......

সনদ ৪ঃ

عن هشام بن الكلبي أنه قال قتل عثمان رضي الله عنه صبيحة الجمعة لثماني عشرة ليلة خلت من ذي الحجة سنة ٣٥......

সনদ ৫

عن مخرمة بن سليمان الوالبي قال قتل عثمان رضي الله عنه يوم الجمعة ضحوة لثماني عشرة ليلة مضت من ذي الحجة سنة ٣٥

(১)আ'মের বিন শাবী, 
(২)আবি মা'শার
(৩)সাইফ বিন মুহাম্মাদ 
(৪)ত্বালহাহ,
(৫)আবি হারেছা, 
(৬)আবি উসমান
(৭)হিশাম বিন কালবি এবং  
(৮) মুখরিমাহ বিন সুলাইমান 
প্রমুখ মোট ৮জন হতে ইমাম ত্বাবারী বলেছেন,সৈয়্যদুনা উসমান রাঃ ৩৫ হিজরীর,১৮ ই জিলহজ্জ রোজ জুমাবার শাহাদাত বরণ করেন।

➤অভিমত নং ৯ এবং ১০ঃ

'মুসনাদ আহমদ' গ্রন্থের ১/৭৪ পৃষ্ঠায়,'উসদুল গাবাহ' গ্রন্থের ৪/৫৮৫পৃষ্ঠায় একই কথা উল্লেখ আছে।আল্লামা শায়খ শো'আইব আরনাউত্ব বলেন সনদটি বিচ্ছিন্ন। 


➤অভিমত নং ১১ঃ

ইমাম বুখারীর উস্তাদ ইমাম ইবনে খাইয়্যাত্ব (২৪০হি.) স্বীয় 'তারিখে খালিফাহ ইবনে খাইয়্যাত্ব' এর ১৩২ পৃষ্ঠায় (দারুল ফিক্বর বৈরুত) উল্লেখ আছে—

ابو الحسن عن ابي معشر عن نافع قال: قتل يوم الجمعة لسبع عشر او ثمان عشر خلت من ذي الحجة

— হযরত নাফে রহ. হতে বর্ণিত তিনি বলেন,জিলহজ্জ মাসের ১৭ বা ১৭ তারিখ জুমার দিন হযরত উসমান রাঃ শহীদ হন।


➤অভিমত নং ১২ঃ

ইমাম ইবনে শাব্বাহ (২৬২ হি.) স্বীয় 'তারিখে মাদীনাতুল মুনাওয়ারা' গ্রন্থে ২/২৬২ (দারুল কুতুব ইলমিয়্যাহ) পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেন —

وقال ابو الحسن المدائني وابو غسان محمد بن يحيى:قتل يوم الجمعة لإثنة عشر بقية من ذي الحجة 

— ইমাম আবুল হাসান আল-মাদায়িনী এবং ইমাম আবু গাসসান মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া বলেন,জিলহজ্জ মাস শেষ হবার ১২ দিন পূর্বে জুমাবার হযরত উসমান রাঃ কে শহীদ করা হয়।

➤অভিমত নং ১৩ঃ

'তারিখে আবি যুর'আ' গ্রন্থের ৪১ পৃষ্ঠায় (দারুল কুতুব ইলমিয়াহ) ইমাম আবু যুরআ (২৮১হি.),৯৫ নং বর্ণনায় উল্লেখ আছে—

قتل عثمان بن عفان رحمة الله تعالى عليه يوم الجمعة لثمان عشر مضت من ذي الحجة سنة خمس وثلاثين.

— হযরত উসমান রাঃ কে ৩৫ হিজরী সনের ১৮ই জিলহজ্জ রোজ জুমাবার শহীদ করা হয়।

➤অভিমত নং ১৪ঃ

ইমাম বুখারী স্বীয় 'তারিখুস সাগীর' এর ৩৪ পৃষ্ঠায় (পাকিস্তানী ছাপ) উল্লেখ করেন—

قال البخاري وقتل عثمان سنة خمس وثلاثين لثمان عشر خلت من ذي الحجة يوم الجمعة
 
— ইমাম বুখারী রহ. বলেন,হযরত উসমান রাঃ এর শাহাদাত হয় ৩৫ হিজরীর জিলহজ্জ মাসের ১৮ তারিখ রোজ জুমাবার। 

➤অভিমত নং ১৫ঃ

'ত্বাবাকাতুল কুবরা' গ্রন্থের ২য় খন্ডের 
[قتل عثمان بن عفان وبيعة علي ابن ابي طالب رضي الله تعالى عنهم] অধ্যায়ের সূচনালগ্নে ইমাম মুহাম্মাদ ইবন সা'দ (২৩০হি.) উল্লেখ করেন—

قالوا: لما قتل عثمان رضي الله عنه يوم الجمعة لثماني عشرة ليلة مضت من ذي الحجة سنة خمس وثلاثين

— হযরত উসমান রাঃ এর শাহাদাত হয় ৩৫ হিজরীর জিলহজ্জ মাসের ১৮ তারিখ রোজ জুমাবার। 

➤অভিমত ১৬ এবং ১৭ঃ

'সিয়ারু আলাম আন নুবালা' গ্রন্থে ২/৪৫৮ (দারুল হাদীস,মিশর) ইমাম যাহাবী উল্লেখ করেন—

وقال أبو معشر السندى:قتل لثماني عشرة خلت من ذي الحجة، يوم الجمعة

—ইমাম আবু মি'শার আল সিন্দী বলেন,হযরত উসমান রাঃ জিলহজ্জ মাসের ১৭ তারিখ জুমাবার শহীদ হন।

'তাযকিরাতুল হুফফজ' ১/১৩ (দারুল কুতুব ইলমিয়াহ) তে ইমাম যাহাবী এ কথা উল্লেখ করেছেন।

➤অভিমত নং ১৮ঃ

আর সব মতামতের সমন্বয় করে বিখ্যাত মুফাসসির ও মুহাদ্দিস, বিশুদ্ধতম ইতিহাস গ্রন্থ প্রণেতা,আল্লামা হাফেজ এমাদউদ্দীন ইবনু কাসীর বলেন,

إنه قتل يوم الجمعة لثماني عشرة خلت من ذي الحجة ستة خمس وثلاثين على الصحيح المشهور

— হযরত উসমান রাঃ ৩৫ হিজরীর ১৮ ই জিলহজ্ব জুমাবার শহীদ হন।এই মতটাই বিশুদ্ধ এবং মশহুর(প্রসিদ্ধ) 
[আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া,৭/৩৪৪।তাহক্বিক আল্লামা আব্দুল ক্বাদির আরনাউত্ব]


➤অভিমত নং ১৯ঃ

'আল ইসাবা ফি তাময়িযুস সাহাবা' গ্রন্থে ইমাম ইবন হাজার আসকালানীও বলেন—

وقيل يوم الجمعة لثمان عشرة خلت من ذي الحجة بعد العصر...... على الصحيح المشهور،

— হযরত উসমান রাঃ জিলহজ্জ মাসের ১৮ তারিখ আসরের পর শহীদ হন।.......এমতটাই বিশুদ্ধ এবং প্রসিদ্ধ। 


সুতরাং স্বাভাবিক ভাবেই এটা কাকতালীয় না বলে পরিকল্পনা বলতে অন্তর বাধেনা যে,শিয়ারা চক্রান্ত করে আহলে বায়তের ভালবাসার দোহাই এর ধোকায় ফেলে মানুষকে বিভ্রান্ত করার ঘৃণ্য পরিকল্পনা নিয়েই মাঠে নেমেছিল ১৪শ বছর আগে।আর ধীরে ধীরে সে বিষ বাংলাদেশে 'সুফিবাদ' এর নামে ছড়িয়ে পড়ছে। 

আমার ধারণাগুলো কল্পনাপ্রসুত বলতে পারেন।কিন্তু আমি সম্পূর্ণভাবে আহলে সুন্নতের ইমামদের অনুসরণে কথা বলছি।

➤➤'আত-তামহিদুল বায়ান ফি মাক্বাতিলিশ শাহীদ (সাইয়্যেদুনা) উসমান' গ্রন্থে আল্লামা ইমাম আবুবকর আল-আশআরী আল-মালেকী আল-আন্দালুসি রহঃ (৭৪১হিজরীতে ওফাত) ১৮৬ তম পৃষ্ঠায় (দারুল কুতব ইলমিয়াহ) ৮৭ নং 'ফাস্ল'/পরিচ্ছদের একেবারে শুরুতে উল্লেখ করেন—

وقد اتخذت الرافضة اليوم الذي قتل فيه عثمان (رض) عيدا وقالوا: هو يوم عيد الغدير

—রাফেযীরা হযরত উসমান রাঃ কে কতলের দিবসকেই 'ঈদ' হিসেবে পালম করে।আর সেটাই হল 'ঈদে গাদীর'।

এধরণের রাফেযী কালচার বয়কট না করলে আহলে সুন্নতের নামধারীদের কারণে আহলে সুন্নতের সত্যিকারের অনুসারীদের অপদস্থ হতে হবে।তারা একদিন তাজিয়া মিছিলকে হালাল বলবে।আল্লাহ আমাদের পানাহ দিন এসব ভন্ডামি হতে।