নবী করীম (ﷺ)’র আহার পদ্ধতিঃ

নবী করীম (ﷺ)’র আহার পদ্ধতিঃ



 وَلَا بَخِيْلًا وَلَا جَبَانًا وَيَحْذُرُ النَّاسَ وَيَحْتَرِسُ مِنْهُمْ لَايَجْلِسُ وَلَايَقُوْمُ اِلَّا عَلٰى ذِكْرِاللهِ تَعَالٰى وَيَمْشِىْ وَحْدَهُ بَيْنَ اَعْدَائِه لَايُبَالِىْ بِهِمْ وُثُوْقًا بِرَبِّه، وَيَزُوْرُ الْقُبُوْرَ، وَيُسَلِّمُ عَلَيْهِمْ وَيَسْتَغْفِرُ لَهُمْ وَكَانَ دَائِمَ الْبَشَرِ اَىْ طَلَقَ الْوَجْهِ، حَسَنَ الْعِشْرَةِ حَتّٰى لِاَزْوَاجِهِ وَلَا يَقُوْلُ فِى الرِّضٰى وَالْغَضَبِ اِلَّا الْحَقَّ وَاِذَا وَعَظَ اِحْمَرَّتْ عَيْنَاهُ وَعَلَا صَوْتُهُ كَاَنَّهُ مُنْذِرَ جَيْشٍ وَلَا يَغْضَبُ لِنَفْسِه وَلَا يَنْتَصِرُ لَهَا وَاِذَا سَرَّ اِسْتَنَارَ وَجْهُهُ كَاَنَّهُ قِطْعَةُ قَمَرٍ. وَلَا يَتْرُكُ اَحَدًا يَقُوْمُ بَيْنَ يَدَيْهِ وَلَا يَمْشِىْ خَلْفَهُ وَيَقُوْلُ خَلُّوْا ظَهْرِىْ لِلْمَلَائَكَةِ، لَايَدْعُوْهُ اَحَدٌ اِلَّا قَالَ لَهُ لَبَّيْكَ وَيَجْلِسُ لِلْأَكْلِ مَعَ الْعَبِيْدِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.

مَوْلَا يَاصَلِّ وَسَلِّمْ دَائِمًا أَبَدًا    ۞ 

     عَلٰى حَبِيْبِكَ خَيْرِ الْخَلْقِ كُلِّهِم .



নবী করীম (ﷺ) উভয় হাঁটু মিলায়ে বাম পায়ের পেট ডান পায়ের পিটের ওপর রেখে খেতে বসতেন। তিন আঙ্গুল, বৃদ্ধাঙ্গুল, মধ্যমাঙ্গুল ও শাহাদাতাঙ্গুল দ্বারা খানা খেতেন। খাওয়ার পর উক্ত ধারাবাহিকতায় আঙ্গুল চুষে খেতেন। বেশী ক্ষুধার্ত অবস্থায় খেতেন। খাবার হিসেবে যা পেতেন তাহাই খেতেন। কখনো কোন খাবারের দুর্নাম করেননি। খেজুর ও পানি তাঁর নিত্য খাবার ছিল। মাংস সবচেয়ে প্রিয় খাদ্য ছিল। তিনি বলতেন,নিশ্চয়ই ইহা শ্রোতাদের শ্রবণশক্তি বৃদ্ধি করে।তিনি লাউ (বাংলা কদু) পছন্দ করতেন এবং বলতেন,ইহা চিন্তিত আত্মাকে মজবুত করে।রুটি ও চিনি দ্বারা খরবুজ খেতেন। মাঝে মধ্যে রুতব (তাজা খেজুর) দিয়েও খেতেন। ছাগলের রান ও ঘাড় পছন্দ করতেন। খেজুরের মধ্যে আজওয়া (উত্তম খেজুর) পছন্দ করতেন এবং বলতেন,এগুলো জান্নাতের এগুলো বিষ ও জাদু থেকে হিফাযতকারী ও প্রতিরোধকারী।


صِفْ لَـنَا اَكْلَهُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟

كَانَ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِذَا جَلَسَ لِلْأَكْلِ جَثّٰى عَلٰى رُكْبَتَيْهِ، وَوَضَعَ بَطْنَ قَدَمِه الْيُسْرٰى عَلٰى ظَهْرِ الْيُمْنٰى وَكَانَ يَأْكُلُ بِاَصَابِعِه الثَّلَاثَةِ. اَلْوُسْطٰى وَالسَّبَّابَةِ وَالْاِبْهَامِ وَكَانَ يَلْعَقُهَا بَعْدَ الْأَكْلِ عَلٰى هٰذَا التَّرْتِيْبِ وَكَانَ لَايَأْكُلُ اِلَّا عِنْدَ شَدَّةِ الْجُوْعِ وَكَانَ يَأْكُلُ كُلَّ مَاوَجَدَ، وَمَا ذَمَّ طَعَامًا قَطُّ، وَكَانَ اَكْثَرَ طَعَامِه التَّمَرُ وَالْمَاءُ، وَاللَّحْمُ اَحَبُّ اِلَيْهِ مِنْ غَيْرِه، وَيَقُوْلُ: اِنَّهُ يَزِيْدُ فِىْ سَمْعِ السَّامِعِيْنَ وَكَانَ يُحِبُّ الْقَرْعَ وَيَقُوْلُ اِنَّهُ يَشُدُّ الْقَلْبَ الْحَزِيْنَ وَكَانَ يَأْكُلُ الْبِطِّيْخَ بِالْخُبْزِ وَبِالسَّكْرِ وَرُبَّمَا اَكَلَهُ بِالرُّطْبِ وَيُحِبُّ مِنَ الشَّاةِ الذِّرَاعَ وُالْكَتِفَ وَمِنَ التَّمَرِ الْعَجْوَةَ وَقَالَ هِىَ مِنَ الْجَنَّةِ وَهِىَ مِنَ السُّمِّ وَالسَّحْرِ وِقَايَةٌ وَجُنَّةٌ، وَكَانَ يَلْعَقُ 

 

পেট চুষে খেতেন এবং বলতেন,অধিকাংশই শেষের  খাবারে বরকত থাকে।

রসুন, পিয়াজ ও কুর্রাছ (গন্ধ সবজি) খেতেন না। আঙ্গুল তিনবার চুষে খেতেন। ভুসি (খোসা) থেকে উৎপাদিত উত্তম ময়দার রুটি ভক্ষণ না করা অবস্থায় তিনি প্রভুর সাক্ষাত করেছেন। উঁচু স্থানে রেখে খাননি। রুটি ও মাংস উদর ভরে একদিনে দুবার খাননি। প্রভুর ডাকে সাড়া দেয়া পর্যন্ত পরস্পর লাগাতর দুদিন যবের রুটি ভক্ষণ করেননি। লাগাতর অনেক রাত্রি খাবার বিহীন কাটাতেন এবং পরিবারবর্গও রাত্রির খাবার পেতেন না। মাসের পর মাস চলে যেত তাঁর ঘরে আগুন জলত না (খাবার পাকানো হত না)। তাঁদের জন্য শুধু পানি আর  খেজুরই সম্বল ছিল। উট, ছাগল, মুরগীর মাংস, মাছ, তাজা খেজুর, খেজুর দিয়েও রুটি খেতেন। সিরকা, চর্বি ও জাইতুন তেলর সাথেও একত্রিত করে খেতেন। পনির ও ছরিদকে (রুটিকে সুরবার সাথে মিশায়ে) খেতেন। আঙ্গুর ও খরবুজ তাঁর প্রিয় ফল। তিনি একাকী খেতেন না। পাখির মাংস খেতেন কিন্তু শিকার করতেন না। 


 الْقَصْعَةَ وَيَقُوْلُ: اٰخِرُ الطَّعَامِ اَكْثَرُهُ بَرَكَةً. وَلَمْ يَأْكُلِ الثَّوْمَ وَلَا الْبَصَلَ وَلَاالْكُرَّاثَ وَكَانَ يَلْعَقُ اَصَابِعَهُ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ وَمَا أَكَلَ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْخُبْزَ الْنَّقِىَّ مِنَ النَّخَالَةِ حَتّٰى لَقِىَ رَبَّهُ عَلٰى هٰذِهِ الْحَالَةِ وَلَمْ يَاْكُلْ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلٰى خَوَانٍ . اَىْ شَيْئٍ مُرْتَفَعٍ وَلَا شَبَعَ مِنْ خُبْزٍ وَلَحْمٍ مَرَّتَيْنِ فِىْ يَوْمٍ وَاحِدٍ وَلَا مِنْ خُبْزٍ الشَّعِيْرِ يَوْمَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ حَتّٰى لَقِىَ الْوَاحِدَ. وَيَبِيْتُ الْلَّيَالِىْ الْمُتَتَابِعَةَ طَاوِيًا وَاَهْلُهُ لَا يَجِدُوْنَ عَشَاءً .

وَكَانَ يَمْضِىْ الشَّهْرَ وَمَا يُوْقَدُ فِىْ بَيْتِه الْجَمْرُ مَاهُوَ اِلَّا الْمَاءُ وَالتَّمَرُ وَأَكَلَ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَحْمَ الْاِبْلِ وَالْغَنَمِ وَالدُّجَاجِ وَالسَّمَكَ وَالرُّطْبَ وَالْخُبْزَ بِتَمَرٍ وَبِخَلٍّ وَبِشَحْمٍ وَبِزَيْتٍ وَالْجُبُنَ وَالثَّرِيْدَ وَكَانَ اَحَبَّ الْفَاكِهَةِ اِلَيْهِ الْعِنَبُ


খেজুর, মাংস ও দুধ একত্রিত করেন নি। তাঁকে দুধ ও মধু একত্রে দেয়া হলে ফেরত পাঠান এবং বলেন, এক বাসনে দু’প্রকারের খাবার আমি খাব না এবং একে হারাম ও বলতেছি না। অন্যরা খাওয়ার পর দস্তর খানায় অবশিষ্ট খানা খেতেন এবং বলতেন, ‘যে ব্যক্তি এভাবে খাবে তাকে ক্ষমা করা হবে।’ খাবার শুরুতে বিসমিল্লাহ বলতেন এবং শেষে আল্লাহর প্রশংসা করতেন। ঘুমের পূর্বে সহজ হজম যোগ্য খানা খাওয়ার নির্দেশ দিতেন এবং শুধু রুটি খেতে বারণ করতেন। তিনি বলেন,‘পানি দ্বারা হলেও সূরবা তৈরী কর।’ খাবারের পর ঘুমাতেন না। তিনি বলতেন, ‘তোমাদের খাবার আল্লাহর জিকির করে হজম কর। তোমরা ঘুমাইও না তাতে অন্তর পাষাণ হয়ে যায়।’
Previous Next

نموذج الاتصال