অযুর ২৯টি মুস্তাহাব


অযুর ২৯টি মুস্তাহাব


❁ কিবলামুখী হওয়া, 

❁ উঁচু জায়গায়,

❁ বসা, 

❁ পানি প্রবাহিত করার সময় অঙ্গসমূহের উপর হাত বুলানো, 

❁ শান্তভাবে অযু করা, 

❁অযুর অঙ্গ সমূহ প্রথমে পানি দিয়ে ভিজিয়ে নেয়া, বিশেষ করে শীতের সময়ে,

❁ অযু করার সময় প্রয়োজন ছাড়া কারো সাহায্য না নেয়া, 

❁ ডান হাতে কুলি করা,

❁ ডান হাতে নাকে পানি দেয়া, 

❁ বাম হাত দ্বারা নাক পরিস্কার করা, 

❁ বামহাতের কনিষ্টাঙ্গুলী নাকে প্রবেশ করানো। 

❁আঙ্গুল সমূহের পিঠ দ্বারা ঘাঁড় মাসেহ্ করা, 

❁ কান মাসেহ্ করার সময় হাতের ভিজা কনিষ্ঠাঙ্গুলী কানের ছিদ্রে প্রবেশ করানো, 

❁আংটি নাড়া দেওয়া, যখন আংটি ঢিলা হয় এবং আংটির নিচে পানি পৌঁছেছে বলে প্রবল ধারণা হয়, আর যদি আংটি আঙ্গুলের সাথে দৃঢ়ভাবে সংযুক্ত থাকে তাহলে আংটি নেড়ে এর নিচে পানি পৌঁছানো ফরয। 

❁ শরয়ী মাযুর (অক্ষম ব্যক্তি) না হলে নামাযের সময় শুরু হওয়ার পূর্বেই অযু করা। (শরয়ী মাযুরের বিস্তারিত বিধান এই রিসালা থেকে দেখে নিন) 

❁ যারা পরিপূর্ণভাবে অযু করে অর্থাৎ যাদের কোন অঙ্গই পানি প্রবাহিত না হয়ে থাকে না তাদের জন্য নাকের দিকস্থ চোখের উভয় কোণা, টাখনু, গোড়ালি, পায়ের তালু, গোড়ালীর উপরের মোটা রগ, আঙ্গুল সমূহের মাঝখানের ফাঁকা জায়গা, কনুই ইত্যাদি অঙ্গ সমূহের প্রতি বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখা মুস্তাহাব, যাতে উক্ত অঙ্গ সমূহ শুষ্ক থেকে না যায়। আর যারা খামখেয়ালী তাদের জন্য অযুর সময় উক্ত জায়গাগুলোর প্রতি বিশেষভাবে খেয়াল রাখা ফরয। কেননা, অধিকাংশের ক্ষেত্রে উক্ত জায়গাগুলো ধৌত করার পরও শুষ্ক থেকে যেতে দেখা গিয়েছে। আর এটা খামখেয়ালিপনারই কারণে হয়ে থাকে। এরূপ খামখেয়ালিপনা হারাম এবং বিশেষভাবে খেয়াল রাখা ফরয যাতে কোন অঙ্গ শুষ্ক থেকে না যায়।

❁অযুর লোটা (বদনা) বাম দিকে রাখুন। যদি বড় গামলা বা পাতিল ইত্যাদি থেকে অযু করে, তাহলে ডান পাশে রাখুন।

❁মুখমন্ডল ধোয়ার সময় কপালের উপর এমনভাবে পানি দেয়া যেন কপালের উপরের কিছু অংশও ধুয়ে যায়।

❁ মুখমন্ডল, 

❁হাত ও পায়ের উজ্জলতা বৃদ্ধি করা অর্থাৎ যতটুকু জায়গা ধৌত করা ফরয তার চতুর্দিকের কিছু কিছু অংশ বাড়িয়ে ধৌত করা। যেমন- হাত ধোয়ার সময় কনুইর উপর বাহুর অর্ধেক পর্যন্ত ও পা ধোয়ার সময় টাখনুর উপর গোছার অর্ধেক পর্যন্ত ধৌত করা। 

❁দুই হাতে মুখমন্ডল ধৌত করা। 

❁হাত ও পা ধোয়ার সময় আঙ্গুল সমূহ থেকে ধোয়া শুরু করা। 

❁প্রত্যেক অঙ্গ ধোয়ার পর হাত বুলিয়ে অঙ্গ থেকে পানির ফোঁটাগুলো ফেলে দেয়া, যেন শরীর অথবা কাপড়ের উপর ফোঁটা ফোঁটা না ঝরে। বিশেষত: মসজিদে যাওয়ার সময়। কেননা, মসজিদের ফ্লোরে অযুর পানির ফোঁটা ফেলা মাকরূহে তাহরীমী।

❁ প্রত্যেক অঙ্গ ধৌত করার সময় ও মাথা মাসেহ করার সময় অযুর নিয়্যত কার্যকর রাখা। 

❁অযুর শুরুতে بِسْمِ الله পাঠ করার সাথে সাথে দরূদ শরীফ ও কলেমায়ে শাহাদাত পাঠ করা। 

❁ বিনা প্রয়োজনে অযুর অঙ্গ সমূহ না মোছা, যদি নিতান্তই মুছতে হয় তাহলে সম্পূর্ণ না শুকিয়ে সামান্য আদ্র (ভিজা) অবস্থায় রেখে দেয়া। কেননা, কিয়ামতের দিন নেকীর পাল্লায় রাখা হবে। 

❁ অযুর পর হাত না ঝাড়া, কারণ এটা শয়তানের জন্য পাখায় পরিণত হয়, 

❁পানি ছিটানোর সময় পায়জামার উক্ত অংশকে জামার প্রান্ত বা আঁচল দিয়ে ঢেকে রাখা উচিত। অযুর সময় এমন কি সবসময় পায়জামার উক্ত অংশ জামার আচল বা চাদর ইত্যাদি দ্বারা ঢেকে রাখা উত্তম। যাতে ভেসে উঠা সতর দেখা না যায়। 

❁ যদি মাকরূহ সময় না হয় তাহলে অযুর পর দু’রাকাত নফল নামায আদায় করা, যাকে তাহিয়্যাতুল অযু বলা হয়। (বাহারে শরীয়াত, ১ম খন্ড, ২৯৩-৩০০ পৃষ্ঠা)

Previous Next

نموذج الاتصال