অযুর পানির বর্ণনা | ইসলামী বিশ্বকোষ ও আল-হাদিস

রোদের তাপে গরম পানির ব্যাখ্যা

=================

সদরুশ শরীয়া, বদরুত তরীকা, হযরত আল্লামা মাওলানা মুফতী মুহাম্মদ আমজাদ আলী আযমী رَحۡمَۃُ اللّٰہ ِتَعَالٰی عَلَیہِ  এর লিখিত মাকতাবাতুল মদীনা কর্তৃক প্রকাশিত কিতাব “বাহারে শরীয়াত (সংগৃহীত) ”১ম খন্ডের ৩০১ পৃষ্ঠার পাদটীকায় লিখেন: যে পানি রোদের তাপে গরম হয়ে গেলো, সেটা দ্বারা অযু করা সম্পূর্ণভাবে মাকরূহ নয় বরং এতে কিছু শর্ত রয়েছে, যার আলোচনা পানির অধ্যায়ে আসবে এবং এর দ্বারা অযু করা মাকরূহে তানযীহি, তাহরিমী নয়। পানির অধ্যায় ৩৩৪ পৃষ্ঠায় লিখেন: যে পানি উষ্ণ দেশে গরম ঋতুতে স্বর্ণ রূপা ছাড়া অন্য কোন ধাতুর প্লেটের মধ্যে রোদে গরম হয়ে গলো। তখন যতক্ষণ পর্যন্ত গরম থাকে এর দ্বারা অযু ও গোসল না করা উচিত এবং পান না করা উচিত। বরং শরীরের মধ্যে যাতে না পৌঁছে, যদিও কাপড় ভিজে যায়। তবে যতক্ষণ পর্যন্ত ঠান্ডা না হয় সেটা পরিধান করা থেকে বেঁচে থাকবে। এই পানি ব্যবহারের দ্বারা শরীরে সাদা দাগ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তার পরও যদি কেউ অযু গোসল করে নেয়, হয়ে যাবে। (বাহারে শরীয়াত, ১ম খন্ড, ৩০১, ৩৩৪ পৃষ্ঠা) 


ব্যবহৃত পানির গুরুত্বপূর্ণ মাসয়ালা

===================

যদি অযুহীন ব্যক্তির হাত, আঙ্গুলের মাথা, নখ অথবা শরীরের এমন কোন অংশ যা অযুতে ধৌত করা হয়, জেনে শুনে অথবা ভূলবশত ১০০ বর্গগজ কম পানিতে (যেমন-পানি ভর্তি বালতি অথবা লোটা (বদনা) ইত্যাদিতে) পড়ে, তাহলে এটা ব্যবহৃত পানি হয়ে গেলো। ঐ পানি দ্বারা অযু ও গোসল করা যাবে না। অনুরূপ যার উপর গোসল ফরয হয়েছে তার শরীরের কোন ধৌতহীন অঙ্গ যদি পানিতে স্পর্শ করে ঐ পানিও অযু-গোসলের জন্য উপযুক্ত নয়। হ্যাঁ! ধৌত করা কোন হাত বা অঙ্গ যদি পড়ে তাহলে কোন ক্ষতি নেই। (বাহারে শরীয়াত, ১ম খন্ড, ৩৩৩ পৃষ্ঠা) (ব্যবহৃত পানি ও অযু-গোসলের বিস্তারিত আহকাম শিখার জন্য “বাহারে শরীয়াত” ২য় খন্ড অধ্যয়ন করুন) 


মাটি মিশ্রিত পানি দ্বারা অযু হবে কিনা?

==================

❁ পানির মধ্যে যদি বালি কাদা মিশ্রিত হয়ে যায়, তবে যতক্ষণ পর্যন্ত মসৃণ থাকে এর দ্বারা অযু জায়েয। আমি বলি (আ’লা হযরত رَحۡمَۃُ اللّٰہ ِتَعَالٰی عَلَیہِ  বলেন: “আমি বলছি”) কিন্তু প্রয়োজন ছাড়া কাদা মিশ্রিত পানি দ্বারা অযু করা নিষেধ যেহেতু আকৃতি বিকৃত অর্থাৎ আকৃতি বিকৃত হয়ে যাওয়াটা শরয়ীভাবে হারাম। (ফতোওয়ায়ে রযবীয়া (সংকলিত) , ৪র্থ খন্ড, ৬৫০ পৃষ্ঠা) জানা গেলো; মুখে এই ধরণের মাটি মিশ্রিত করা যার দ্বারা আকৃতি পরিবর্তন হয়ে যায় বা মুখ কালো করা। যেমনিভাবে অনেক সময় চোর কয়লা ইত্যাদি দিয়ে মুখ কালো করে দেয়। এটা হারাম ইচ্ছাকৃত ভাবে কাফেরের ও বিকৃত করা অর্থাৎ চেহারা পরিবর্তন করা জায়েয নেই। ❁ যেই পানিতে কোন দূর্গন্ধ যুক্ত জিনিস পাওয়া যায় এর দ্বারা অযু করা মাকরূহ। বিশেষ করে এর দূর্গন্ধ নামাযের মধ্যেও বিদ্যমান থাকে এর দ্বারা নামায মাকরূহে তাহরিমী হবে। (প্রাগুক্ত, ৬৫০ পৃষ্ঠা)