খাতুনে জান্নাত হযরত মা ফাতেমা (عليه السلام) এর গুরুত্বঃ

কিতাবঃ মানাকিবে আহলে বাইত

লেখক, অনুবাদক, সংকলকঃ মাসুম বিল্লাহ সানি



অধ্যায় ৪: মানাকিবে খাতুনে জান্নাত মা ফাতিমা (عليه السلام)


❏খাতুনে জান্নাত হযরত ফাতেমা (عليه السلام) এর গুরুত্ব।

✧ হাদীস ১-১০।

❏হাদিস পর্যালোচনাঃ হযরত ফাতেমা (عليه السلام) আমার (ﷺ) সত্তার অংশ।  যে তাকে অসন্তুষ্ট করল, সে আমাকেই অসন্তুষ্ট করল।

✧ হাদীস ১-১১।

❏মা ফাতেমা (رضي الله عنه) এর জানাযা ও দাফন।

❏হযরত ফাতিমাতুজ জাহরা (رضي الله عنه) এর জানাযার নামায কে পড়িয়েছিল?


খাতুনে জান্নাত হযরত মা ফাতেমা (عليه السلام) এর গুরুত্বঃ


❏ হাদীস ১:


 عن مسروق: حدثتني عائشة أم المؤمنين رضي الله عنها، قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: يا فاطمة! ألا ترضين أن تكوني سيدة نساء المؤمنين، أو سيدة نساء هذه الأمة


মাশরুক মুমিন হযরত আয়েশা (رضي الله عنها) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, মহানবী (ﷺ) [হযরত ফাতেমা (আঃ) কে] বলেছেন, “নারীদের, আপনি কি খুশি নন যে, আপনি সমস্ত মুমিন মহিলারাই বা এই উম্মতের নারীদের অবিভাবক (নেত্রী)? "


 তথ্যসূত্রঃ

●বুখারী, আস-সহিহ (৫: ২৩১৭ # ৫৯২৮)

●মুসলিম, আস-সহিহ (৪: ১৯০৫ # ২৪৫০)

●নাসাঈ, ফাদাইল-উস-সাহাবাহ (পৃষ্ঠা.৭৭ # ২৬৩)

●মুসনাদে আহমাদ, ফাদাইলুস সাহাবাহ (২: ৬২৬২২ # ১৩৪২)

●তায়ালিসি, আল-মুসনাদ (পৃষ্ঠা.১৯৬ # ১৩৭৩)

●ইবনে সাদ, তাবাকাত-উল-কুবরা (২: ২ :৭)

●দওলবী, আজ-জুড়রিয়াতুত-তাহিরাহ (পৃষ্ঠা.১০১,১০২ # ১৮৮)

●আবু নুয়াইম, হিলিয়াতুল আউলিয়া ওয়া তাবাকাত-উল-আসফিয়া (২:৩৯, ৪০)

●যাহাবী, সিয়ার আলম আন-নুবালা (২: ১৩০)


 ❏ হাদীস ২:


 عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: إن ملكا من السماء لم يكن زارني، فاستأذن اللهفي زيارتي، فبشرني أو أخبرني: أن فاطمة سيدة نساء أمتي


আবু হুরায়রা (رضي الله عنه) বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আকাশের একজন ফেরেশতা আমাকে দেখেননি, তিনি আল্লাহর নিকট আমাকে দেখার অনুমতি চেয়েছিলেন;  তিনি আমার নিকট এ সুসংবাদ নিয়ে এসেছেন যে, ফাতেমা (سلام الله علیھا) আমার উম্মতের সমস্ত মহিলাদের নেত্রী। ”


 তথ্যসূত্রঃ

●বুখারী, তারিখুল-কবির (১: ২৩২ # ৮২৮)

●তাবারানী, আল-মুজাম-উল-কবির (২২: ৪০৩ # ১০০৬)

●হাইসামি মাজমা-উয-জাওয়াইদে (৯: ২০১২) এ রীতিটি তাবারানী বর্ণনা করেছেন। 

●যাহাবী, সিয়ার আলম আন-নুবালা (২: ১২৭)

●মিজি, তাহযিবুল কামাল (২ ২৬: ৩৯১)

●তিরমিজি, আল জামি-উস-সহীহ (৫: ৬০৬০০ # ৩৭৮১)

●নাসাই, আস-সুনান-উল-কুবরা (৫: ৮০,৯৫ # ৮২৯৮,৮৩৬৫)

●নাসাই, ফাদাইল-উস-সাহাবাহ (পৃষ্ঠা.৫৮,৭২ # ১৯৩,২৬০)

●আহমাদ বিন হাম্বল, আল-মুসনাদ (৫: ৩৯১)

●আহমাদ বিন হাম্বল, ফাদাইল-উস-সাহাবাহ (২: ৭৮৮ # ১৪০৬)

●ইবনে আবী শায়বাহ, আল-মুসান্নাফ (৬: ৩৮৮ # ৩২২৭১)

●হাকিম, আল-মুস্তাদরাক (৩: ১৬৪ # ৪৭২১,৪৭২২)

●তাবারানী, আল-মুজাম-উল-কবির (২২: ৪০২ # ১০০৫)

●বায়হাকী, আল-ইতিকাদ (পৃষ্ঠা ৩৩২)

●তাবারী, দাখাইরুল-উকবা (পৃষ্ঠা ২২৪)


হুযাইফা (رضي الله عنه) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বলেছেন : কিছুক্ষণ পূর্বে যে আমার নিকট এসেছিল তাকে কি তুমি দেখেছো? সে ছিল একজন ফেরেশতা; যে এর পূর্বে কখনই পৃথিবীতে অবতীর্ণ হয়নি। সে আমাকে সালাম ও এ সুসংবাদ প্রদানের জন্য মহান আল্লাহর নিকট আবেদন জানিয়েছে যে, ফাতেমা বেহেশতের নারীদের সম্রাজ্ঞী এবং হাসান ও হুসাইন বেহেশতের যুবকদের সর্দার।

[মুসনাদে আহমাদ ইবনে হাম্বাল ও তিরমিজী]


রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেন,

« ﺍﺭﺑﻊ ﻧﺴﻮﺓ ﺳﯿﺪﺍﺕ ﻋﺎﻟﻤﻬﻦ، ﻣﺮﯾﻢ ﺑﻨﺖ ﻋﻤﺮﺍﻥ ﻭ ﺁﺳﯿﺔ ﺑﻨﺖ ﻣﺰﺍﺣﻢ ﻭ ﺧﺪﯾﺠﺔ ﺑﻦ ﺧﻮﯾﻠﺪ ﻭ ﻓﺎﻃﻤﻪ ﺑﻨﺖ ﻣﺤﻤﺪ ‏( ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﯿﻪ ﻭ ﺁﻟﻪ ‏) ﻭ ﺍﻓﻀﻠﻬﻦ ﻋﺎﻟﻤﺎ ﻓﺎﻃﻤﻪ ‏( ﺳﻼﻡ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﯿﻬﺎ ».

“চারজন নারী বিশ্বের নারীদের সর্দার, 

১) ইমরানের কন্যা মারইয়াম (عليه السلام) [হযরত ঈসা (عليه السلام) এর মাতা], 

২) মুযাহিমের কন্যা আসিয়া (عليه السلام) [ফেরাউনের স্ত্রী], 

৩) খোওয়ালাদের কন্যা খাদিজা (عليه السلام) [মহানবী (ﷺ) এর স্ত্রী] এবং 

৪) মুহাম্মাদ (ﷺ) এর কন্যা ফাতেমা (عليه السلام), যিনি হচ্ছেন হচ্ছেন এদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ট। [মুহীবুদ্দীন তাবারী]


 ❏ হাদীস ৫:


মহানবী (ﷺ) ইরশাদ করেন,

« ﺍﻭﻝ ﺷﺨﺺ ﯾﺪﺧﻞ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﻓﺎﻃﻤﺔ ﺑﻨﺖ ﻣﺤﻤﺪ ‏( ﺹ )».

অনুবাদ : “সর্বপ্রথম যে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবেন তিনি হচ্ছেন মুহাম্মাদ (ﷺ) এর কন্যা ফাতেমা।

তথ্যসূত্রঃ

১.যাহাবী মিজানুল-ইতিদাল (৪: ৩৫১) 

২.আসকালানী লিসানুল মিজানে (৪:১:১৬) 

৩.কাজবিনিঃ তাদউইন ফী আখবার কাযউইন (১: ৪৭৭) ২ হিন্দি, 

৪.কাঞ্জুল উম্মাল (১২: ১১০ # ৩৪২৩৪)


❏ হাদীস ৬:


আলী (رضي الله عنه) বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেন, 

-ইয়া রাসূলআল্লাহ্ (ﷺ)! আপনি কি হাশরেও আপনার উটে সওয়ার হবেন? 

-না। হাশরের ময়দানে আমি বোরাকের উপর সওয়ার হব, আর ফাতিমা আমার উট উজবার উপর।"


তথ্যসূত্রঃ

১.ইবনে আসাকির, তারীখ দিমাশক আল-কাবীর (১০: ৩৫৩)

২.ইবনে আসাকির, তারীখ দিমাশক আল-কাবীর (১০: ৩৫২,৩৫৩)

৩.হিন্দি কানজ-উল-উম্মাল (১১: ৪৯৯ # ৩২৩৪০) আবু নুয়াম ও ইবনে আসাকির তা বর্ণনা করেছেন।

৪.দায়লামী, আল মুসনাদুল ফিরদাউস (১: ৪৪ # ১০৭)

৫.আজাবলানী কাশফুল খিফা (১: ২৩) 

৬.দায়লামী আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাসের মাধ্যমে মারফু সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন।


❏ হাদীস ৭:


আবু হুরাইরা (رضي الله عنه) বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেন, হাশরের দিনে নবীগণ নিজ নিজ সওয়ারে চড়বেন। সালিহ (عليه السلام) তাঁর সেই উটেই সওয়ার হবেন। আমি সওয়ার হব বোরাকে, যার একেকটা পদক্ষেপ চোখ যতদূর দেখতে পায় ততদূর চলে, আর আমার সামনে রাখা হবে ফাতিমাকে। 

[হাকিম আল-মুস্তাদরাক (৩: ১৬৬ # ৪৭২৭) ইমাম মুসলিমের শর্ত অনুসারে বর্ণনাটি সহীহ (যথাযথ)]


❏ হাদীস ৮:


আলী (رضي الله عنه) বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেন, পুনরুত্থানের দিনে আমার মেয়ে সম্মানের পোশাক পরে উঠবেন। যে পোশাক আবে হায়াত দিয়ে ধোয়া হবে। তাঁকে দেখে সমস্ত সৃষ্টি স্তব্ধ হয়ে যাবে। তখন তাঁর গায়ে চড়ানো হবে জান্নাতের পোশাক। পোশাকের প্রতি স্তরে থাকবে আরো হাজার স্তর। প্রতি স্তরে সবুজ অক্ষরে লেখা থাকবে:

মুহাম্মাদ (ﷺ)’র কন্যাকে সবচেয়ে ভালভাবে জান্নাতে নিয়ে যাও। মহা সম্মানে, উচ্চ বরেণ্যতায়, গভীর সম্ভ্রমে।

তাঁকে ঘিরে রাখবে জান্নাতের ৭০ হাজার অসূর্যস্পর্শা নারী। [তাবারী, দাখাইরুল-উকবা পৃ ৯৫]


❏ হাদীস ৯:


রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেন, 

হাশরের দিনে আল্লাহ্’র কুরসির গভীর থেকে (অন্য কিছু রেওয়ায়েতে, পর্দার আড়াল থেকে) ঘোষক ঘোষণা করবে, হে মানুষ! মাথা নত করে দাও। অবনত করো চোখ! মুহাম্মাদ (ﷺ)’র কন্যা ফাতিমা (رضي الله عنه) সেতু (পুলসিরাত) পেরিয়ে যাবেন। তাঁর সাথের ৭০ হাজার জান্নাতি নারী সত্ত্বা আলোর চমকের মত হবে। 


তথ্যসূত্রঃ

●হাকিম, আল-মুস্তাদরাক (৩: ১৬৬ # ৪৭২৮)

●মুহিব্ব তাবারি, দাখাইর-উল-উকবা (পৃষ্ঠা ৯৯)

●ইবনে আসির, উসাদ-উল-গাবাহ ফী-মারিফাহ আশ-সাহাবাহ (২২০)

●আজলভানী, কাশফ-উল-খিফা (১: ১০১ # ২৩৩)

●হাকিম, আল-মুস্তাদরাক (৩: ১৭৫ # ৪৭৫৭)

●আহমদ বিন হাম্বল, ফাদাইল-উস-সাহাবাহ (২: ৬৩৬৩৬৩ # ১৩৪৪)

●তাবারানী, আল-মুজাম-উল-কবির (১: ১০৮ # ১৮০)

●তাবারানী, আল-মুজাম-উল-কবির (২২: ৪০০ # ৯৯৯)

●তাবারানী, আল-মুজাম-উল-আওসাত (৩: ৩৫ # ২৩৮৬)

●হায়সামি, মাজমা-উজ-জাওয়াইদ (৯: ২১২)

●খতিব বাগদাদী, তারিখ বাগদাদ (৮: ১৪২)

●মুহিব্ব তাবারি, দাখাইর-উল-উকবা ফী মানাকিব ধ-ইল-কুরবা (পৃষ্ঠা ৯৯)

●আজলুনী, কাশফ-উল-খিফা ওয়া মুজিল-উল-ইলবাস (১: ১০১ # ২৩৩)

●মুত্তাকী আল হিন্দি, কাঞ্জুল-উম্মাল, (১২: ১০৬ # ৩৪২১১), (১২: ১০৬ # ৩৪২১০) 

●খতিব বাগদাদী কিছুটা ভিন্ন শব্দের সাথে আয়েশার মাধ্যমে তাখ বাগদাদে (৮: ১৪১) বর্ণনা করেছেন।

●হায়সামিঃ সাওয়াইক-উল-মুহারিকাহ (২: ৫৫৭) 

●হযরত আবু বকর, আল-জিলানিয়তে আইয়ুব আনসারী (رضي الله عنه) এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

●মুহিব্ব তাবারী দাখাইর-উল-উকবা (পৃষ্ঠা ৯৯) 

●মুত্তাকী আল হিন্দি, কাঞ্জুল উম্মাল (১২: ১০৫,১০৬ # ৩৪২০৯, ৩৪২১০)

●ইবনে জাওযিঃ তাযকিরাতুল খাওয়াসে (পৃ। ২৭৯৯) বর্ণনা করেছেন।

●উমর (رضي الله عنه) সূত্রে হায়সামিঃ সাওয়াইকুল-মুহরিকাহ (২: ২৫৭) -তে আবু বকর আল-গিলানিয়তে বর্ণনা করেছেন।

●মানাভি, ফয়যুল কাদির (১: ৪২০,৪২৯)


❏ হাদীস ১০:


উম্ম সালমা (رضي الله عنه) বলেন:

ফাতিমা (رضي الله عنه) শেষ সময়ে অসুস্থ থাকাকালে আমি তাঁর দেখাশোনা করেছি। সেদিন সকালে অবস্থা একটু ভাল ছিল, আলী (رضي الله عنه) কাজে ছিলেন। ফাতিমা (رضي الله عنه) বললেন, 

-ও মা! আমার গোসলের জন্য কিছুটা পানি আনুন। যতটুকু দেখলাম তিঁনি সবচে ভালভাবে গোসল করলেন।

-ও মা! আমাকে নতুন পোশাক এনে দিন। আমি এনে দিলাম। তিনি পরিধান করলেন।

-ও মা! আমার বিছানা ঘরের মধ্যখানে করে দিন। আমি তাই করলাম।

এরপর ফাতিমা শুয়ে পড়লেন। মুখ করলেন কা’বার দিকে। হাত রাখলেন গালের নিচে। বললেন,

-ও মা! আমার চলে যাবার সময় হয়েছে। আর আমি নিজেকে ভালভাবে পূতপবিত্র করেছি। কেউ যেন আমার পোশাক স্পর্শ না করে।" ঠিক সেই অবস্থাতেই ফাতিমা (رضي الله عنه) চলে গিয়েছিলেন।


তথ্যসূত্রঃ

১.আহমদ বিন হাম্বল, ফাযাইল-উস-সাহাবাহ (২: ৬২৯,৭২৫ # ১০৭৪, ১২৪৩)

২.যুলাবী, আজ-জুড়রিয়াহ আত-তাহিরাহ (পৃষ্ঠা.১১৩)

৩.হায়থামি, মাজমা-উজ-জাওয়াইদ (৯: ২১১)

৪.জায়েলাই, নাসব-উর-রায় (২: ২৫০)

৫.মুহিব্ব তাবারী, দাখাইর-উল-উকবা ফী মানাকিবুল কুরবা (পৃষ্ঠা ১০৩)

৬.ইবনে আসির, উসাদ-উল-গাবাহ ফী মারিফাহ আশ-সাহাবাহ (২২১)

Previous Next

نموذج الاتصال