আহলে বাইয়াত কারা?



কিতাবঃ মানাকিবে আহলে বাইত

━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━


অধ্যায়ঃ ১


❏ আহলে বাইয়াত কারা?

✧ হাদিস ১-৫


❏আহলে বাইত পুতঃপবিত্র।

✧ হাদীস ১-৪

✧ ইমামগণের বিবৃতি।


❏আহলে বাইত এর দৃষ্টান্ত নূহ (عليه السلام) এর কিস্তির মত।

✧ হাদীস ১-৭


হাদিস আল-সাক্বলাইন।


হাদিস ১-২: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (رضي الله عنه) এর বর্ণিত হাদিস ও বিভিন্ন ইসনদ।


হাদিস ৩: হযরত মােত্তালিব ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে হানতাব (رضي الله عنه) এর হাদিস।


হাদিস ৪: হযরত আবু হুরায়রা (رضي الله عنه) এর হাদিস।


হাদিস ৫: হযরত আলী (رضي الله عنه) এর বর্ণিত হাদিস ও বিভিন্ন ইসনদ।


হাদিস ৬: হযরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (رضي الله عنه) এর বর্ণিত হাদিস ও বিভিন্ন ইসনদ।


হাদিস ৭: হযরত সালমা ইবনে আকওয়া' (رضي الله عنه) এর হাদিস।


হাদিস ৮-১৫: জায়েদ ইবনে আরকাম (رضي الله عنه) এর বর্ণিত হাদিস ও বিভিন্ন ইসনদ।


হাদিস ১৬-১৭: জায়েদ ইবনে সাবিত (رضي الله عنه) এর বর্ণিত হাদিসের ইসনদ।


হাদিস ১৮: ইবনে আব্বাস (رضي الله عنه) এর বর্ণিত হাদিস।


হাদিস ১৯: বুরাইদা আসলামী (رضي الله عنه) এর হাদিস।


অন্যান্যঃ

❏ হুযায়ফাহ ইবনে উসাইদ আল-গিফারী (رضي الله عنه) এর বর্ণিত হাদিসের ইসনদ।

❏ অন্যান্য রাবীগণের বর্ণিত হাদিসের ইসনদ।



━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━




আহলে বাইয়াত কারা?


❏ হাদিস ১:


باب فَضَائِلِ أَهْلِ بَيْتِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ‏‏

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، – وَاللَّفْظُ لأَبِي بَكْرٍ – قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، عَنْ زَكَرِيَّاءَ، عَنْ مُصْعَبِ بْنِ شَيْبَةَ، عَنْ صَفِيَّةَ بِنْتِ شَيْبَةَ، قَالَتْ قَالَتْ عَائِشَةُ خَرَجَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم غَدَاةً وَعَلَيْهِ مِرْطٌ مُرَحَّلٌ مِنْ شَعْرٍ أَسْوَدَ فَجَاءَ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ فَأَدْخَلَهُ ثُمَّ جَاءَ الْحُسَيْنُ فَدَخَلَ مَعَهُ ثُمَّ جَاءَتْ فَاطِمَةُ فَأَدْخَلَهَا ثُمَّ جَاءَ عَلِيٌّ فَأَدْخَلَهُ ثُمَّ قَالَ ‏(‏ إِنَّمَا يُرِيدُ اللَّهُ لِيُذْهِبَ عَنْكُمُ الرِّجْسَ أَهْلَ الْبَيْتِ وَيُطَهِّرَكُمْ تَطْهِيرًا‏)

৬০৪৩। আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বা ও মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নূমায়র (রহঃ) … আয়িশা (رضي الله عنه) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) সকালে বের হলেন। তাঁর গায়ে ছিলো কাল পশম দ্বারা খচিত একটি পশমী চাঁদর। হাসান ইবনু আলী (رضي الله عنه) এলেন, তিনি তাঁকে চাঁদরের ভেতর ঢুকিয়ে নিলেন। হুসায়ন ইবনু আলী (رضي الله عنه) এলেন, তিনিও তার সঙ্গে (চাদরে) ঢুকে পড়লেন। ফাতিমা (رضي الله عنه) এলেন, তাকেও ভেতরে ঢুকিয়ে ফেললেন। অতঃপর আলী (رضي الله عنه) এলেন, তাঁকেও ভেতরে ঢুকিয়ে নিলেন। পরে বললেনঃ হে আহলে বাইত! আল্লাহ তাআলা তোমাদের থেকে অপবিত্রতাকে বিদুরিত করে তোমাদের অতিশয় পবিত্রময় করতে চান। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ)]


❏ হাদিস ২:


حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْكُوفِيُّ، حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ الْحَسَنِ، هُوَ الأَنْمَاطِيُّ عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي حَجَّتِهِ يَوْمَ عَرَفَةَ وَهُوَ عَلَى نَاقَتِهِ الْقَصْوَاءِ يَخْطُبُ فَسَمِعْتُهُ يَقُولُ ‏ “‏ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي قَدْ تَرَكْتُ فِيكُمْ مَا إِنْ أَخَذْتُمْ بِهِ لَنْ تَضِلُّوا كِتَابَ اللَّهِ وَعِتْرَتِي أَهْلَ بَيْتِي ‏”‏ ‏.‏ قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي ذَرٍّ وَأَبِي سَعِيدٍ وَزَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ وَحُذَيْفَةَ بْنِ أَسِيدٍ ‏.‏ قَالَ وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ ‏.‏ قَالَ وَزَيْدُ بْنُ الْحَسَنِ قَدْ رَوَى عَنْهُ سَعِيدُ بْنُ سُلَيْمَانَ وَغَيْرُ وَاحِدٍ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ ‏.‏

৩৭৮৬। জাবির ইবনু আবদিল্লাহ (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে আমি তার বিদায় হজ্জে আরাফার দিন তার কাসওয়া নামক উষ্ট্রীতে আরোহিত অবস্থায় বক্তৃতা দিতে দেখেছি এবং তাকে বলতে শুনেছিঃ হে লোক সকল! নিশ্চয় তোমাদের মধ্যে আমি এমন জিনিস রেখে গেলাম, তোমরা তা ধারণ বা অনুসরণ করলে কখনও পথভ্রষ্ট হবে নাঃ আল্লাহ তা’আলার কিতাব (আল-কুরআন) এবং আমার ইতরাত অর্থাৎ আমার আহলে বাইত। [সূনান আত তিরমিজী]


❏ হাদিস ৩:


حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ بْنِ الأَصْبَهَانِيِّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ عُبَيْدٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ، عَنْ عُمَرَ بْنِ أَبِي سَلَمَةَ، رَبِيبِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَمَّا نَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلمَّ ‏:‏ ‏(‏ إنمَا يُرِيدُ اللَّهُ لِيُذْهِبَ عَنْكُمُ الرِّجْسَ أَهْلَ الْبَيْتِ وَيُطَهِّرَكُمْ تَطْهِيرًا ‏)‏ فِي بَيْتِ أُمِّ سَلَمَةَ فَدَعَا فَاطِمَةَ وَحَسَنًا وَحُسَيْنًا فَجَلَّلَهُمْ بِكِسَاءٍ وَعَلِيٌّ خَلْفَ ظَهْرِهِ فَجَلَّلَهُمْ بِكِسَاءٍ ثُمَّ قَالَ ‏”‏ اللَّهُمَّ هَؤُلاَءِ أَهْلُ بَيْتِي فَأَذْهِبْ عَنْهُمُ الرِّجْسَ وَطَهِّرْهُمْ تَطْهِيرًا ‏”‏ ‏.‏ قَالَتْ أُمُّ سَلَمَةَ وَأَنَا مَعَهُمْ يَا نَبِيَّ اللَّهِ قَالَ ‏”‏ أَنْتِ عَلَى مَكَانِكِ وَأَنْتِ عَلَى خَيْرٍ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ مِنْ حَدِيثِ عَطَاءٍ عَنْ عُمَرَ بْنِ أَبِي سَلَمَةَ ‏.‏

৩২০৫। উমার ইবনু আবী সালামাহ্ (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত আছে, যিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর আশ্রয়ে লালিত পালিত হন। তিনি বলেন, উম্মু সালামাহ (رضي الله عنه)-এর ঘরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর উপর যখন এ আয়াত অবতীর্ণ হল (অনুবাদ) “আল্লাহ তা’আলা তো চান আহলে বাইত হতে অপবিত্রতা দূর করতে এবং তোমাদেরকে সম্পূর্ণরূপে পবিত্র করতে”– (সূরা আহযাবঃ ৩৩), তখন তিনি ফাতিমাহ, হাসান ও হুসাইন (رضي الله عنه)-কে ডাকলেন এবং তাদেরকে একটি কম্বলের ভিতর ঢেকে নিলেন।

আলী (رضي الله عنه) তার পিছনে ছিলেন। তিনি তাকেও কম্বলের ভিতর নিয়ে নিলেন। তারপর তিনি বললেনঃ “হে আল্লাহ! এরা আমার আহলে বাইত’ (পরিবারের সদস্য)। তুমি তাদের ভিতর হতে অপরিচ্ছন্নতা দূর করে দাও এবং সম্পূর্ণরূপে পরিচ্ছন্ন করে দাও।” উম্মু সালামাহ (رضي الله عنه) বলেন, হে আল্লাহর নাবী! আমিও কি তাদের অন্তর্ভুক্ত? তিনি বললেনঃ তুমি স্ব-স্থানে থাক এবং তুমি কল্যাণের মধ্যেই আছ। [সূনান আত তিরমিজী]


❏ হাদিস ৪:


حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ الأَصْبَهَانِيُّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ عُبَيْدٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ، عَنْ عُمَرَ بْنِ أَبِي سَلَمَةَ، رَبِيبِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ نَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلمَّ ‏:‏ ‏(‏ إنمَا يُرِيدُ اللَّهُ لِيُذْهِبَ عَنْكُمُ الرِّجْسَ أَهْلَ الْبَيْتِ وَيُطَهِّرَكُمْ تَطْهِيرًا ‏)‏ فِي بَيْتِ أُمِّ سَلَمَةَ فَدَعَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَاطِمَةَ وَحَسَنًا وَحُسَيْنًا فَجَلَّلَهُمْ بِكِسَاءٍ وَعَلِيٌّ خَلْفَ ظَهْرِهِ فَجَلَّلَهُ بِكِسَاءٍ ثُمَّ قَالَ ‏”‏ اللَّهُمَّ هَؤُلاَءِ أَهْلُ بَيْتِي فَأَذْهِبْ عَنْهُمُ الرِّجْسَ وَطَهِّرْهُمْ تَطْهِيرًا ‏”‏ ‏.‏ قَالَتْ أُمُّ سَلَمَةَ وَأَنَا مَعَهُمْ يَا نَبِيَّ اللَّهِ قَالَ ‏”‏ أَنْتِ عَلَى مَكَانِكِ وَأَنْتِ إِلَى خَيْرٍ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ وَمَعْقِلِ بْنِ يَسَارٍ وَأَبِي الْحَمْرَاءِ وَأَنَسٍ ‏.‏ قَالَ وَهَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ ‏.‏

৩৭৮৭। নাবী (ﷺ)-এর পোষ্য উমার ইবনু আবী সালামাহ (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, উম্মু সালামাহ্ (رضي الله عنه)-এর ঘরে এ আয়াত নাবী (ﷺ)-এর উপর অবতীর্ণ হয় (অনুবাদ) “হে নাবীর পরিবার। আল্লাহ তা’আলা তো চান তোমাদের হতে অপবিত্রতা দূর করতে এবং তোমাদেরকে সম্পূর্ণভাবে পবিত্র করতে”– (সূরা আহযাব ৩৩)। সে সময় নাবী (ﷺ) ফাতিমাহ, হাসান ও হুসাইন (رضي الله عنه)-কে ডাকেন এবং তাদেরকে একখানা চাদরে আবূত করেন। তার পেছনে আলী (رضي الله عنه) ছিলেন। তিনি তাকেও চাদরে ঢেকে নেন, তারপর বললেনঃ “হে আল্লাহ! এরা আমার আহলে বাইত। অতএব তুমি তাদের হতে অপবিত্রতা অপসারণ করে দাও এবং তাদেরকে উত্তমভাবে পবিত্র কর”। সে সময় উম্মু সালামাহ্ (رضي الله عنه) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমিও তাদের অন্তর্ভুক্ত কি? তিনি বললেনঃ তুমি স্বস্থানে আছ এবং তুমি কল্যাণের মাঝেই আছ।

[সূনান আত তিরমিজী]


❏ হাদীস ৫:


হযরত সাআদ ইবনু আবি ওয়াক্কাস (رضي الله عنه) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন,


لما نزلت هذه الآية فقل تعالواندع أبنائنا وأبنائكم دعا رسول الله صلى الله عليه وسلم عليا وفاطمة وحسنا وحسينا فقال: اللهم هؤلاء اهلی


অর্থাৎ, রাসূল (ﷺ) হযরত আলী, হযরত ফাতিমা, হযরত হাসান ও হযরত হােসাইন (رضي الله عنه) কে ডাকলেন। অতঃপর বললেন, “হে আল্লাহ! এঁরা আমার আহলে বাইত তথা বংশধর।” (সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম শরীফ)

Previous Next

نموذج الاتصال