"সুবহানাল্লাহ" ও "সুবহানাল্লাহি ওয়াবিহামদিহী" এর ফজিলতঃ | ইসলামী বিশ্বকোষ

"সুবহানাল্লাহ" জিকিরের ফজিলতঃ

এক হাজার ছাওয়াবের ওজীফাঃ

হাদিস ১ :

নবী করীম ﷺ ইরশাদ করেছেন, একশত বার ‘সুবহানাল্লাহ’ পাঠ করলে, পাঠকারীর আমলনামায় একহাজার ছাওয়াব লেখা হয় এবং তার এক হাজার পাপকে আমলনামা থেকে বিলীন করে দেয়া হয়। [মেশকাত শরীফ]

হাদিস ২ :

একশত হজ্জের ছাওয়াবের ওজীফাঃ

রাসূলুল্লাহ ﷺ  ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি ভোর বেলায় একশতবার ‘সুবহানাল্লাহ’ পাঠ করবে এবং সন্ধ্যা বেলায় একশতবার তা পাঠ করবে সে ব্যক্তি একশত হজ্ব পালনের ছাওয়াব লাভ করবে। [তিরমিযী শরীফ]

"সুবহানাল্লাহি ওয়াবিহামদিহী"এর ফজিলতঃ

হাদিস ১ :

রাসূলে করীম  ﷺ  এরশাদ করেছেন, দুটি বাক্য মুখে উচ্চারণ খুবই সহজ, কিন্তু সেগুলোর আমল মাপের পাল্লায় খুবই ভারী এবং আল্লাহর নিকট খুবই পছন্দনীয়।
“সুবহানাল্লাহি ওয়াবিহামদিহী সুবহানাল্লাহিল আজীম”। (বুখারী)

হাদিস ২ :

হযরত নবী করীম ﷺ ইরশাদ করেছেন, যদি কোন ব্যক্তি একশতবার “সুবহানাল্লাহি ওয়াবিহামদিহী” পাঠ করে, তার গুনাহ যদি সমুদ্রের ঢেউ সমপরিমাণও হয়, তবুও তার সমুদয় গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়। [মিশকাত]

হাদিস ৩ :

হযরত আব্দুল্লাহ বিন আমর রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল  ইরশাদ করেছেন-

” إِنَّ نُوحًا عَلَيْهِ السَّلَامُ لَمَّا حَضَرَتْهُ الْوَفَاةُ، دَعَا ابْنَيْهِ، فَقَالَ: إِنِّي قَاصِرٌ (1) عَلَيْكُمَا الْوَصِيَّةَ، آمُرُكُمَا بِاثْنَتَيْنِ، وَأَنْهَاكُمَا عَنِ اثْنَتَيْنِ، أَنْهَاكُمَا عَنِ الشِّرْكِ وَالْكِبْرِ، وَآمُرُكُمَا بِلَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، فَإِنَّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَمَا فِيهِمَا لَوْ وُضِعَتْ فِي كِفَّةِ الْمِيزَانِ، وَوُضِعَتْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ فِي الْكِفَّةِ الْأُخْرَى، كَانَتْ أَرْجَحَ، وَلَوْ أَنَّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ كَانَتَا حَلْقَةً، فَوُضِعَتْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ عَلَيْهمَا، لَفَصَمَتْهَا، أَوْ لَقَصَمَتْهَا، وَآمُرُكُمَا بِسُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِهِ، فَإِنَّهَا صَلَاةُ كُلِّ شَيْءٍ،، وَبِهَا يُرْزَقُ كُلُّ شَيْءٍ “

إسناده صحيح. الصقعب بن زهير: روى عنه جمع، ووثقه أبو زرعة، وذكره ابن حبان في “الثقات”، وقال أبو حاتم: شيخ ليس بالمشهور. وباقي رجاله ثقات رجال الشيخين. جرير والد وهب: هو ابن حازم.

وسلف برقم (6583) من طريق حماد بن زيد، عن الصقعب، به.

হযরত নূহ আঃ যখন মৃতুশয্যায় তখন তিনি স্বীয় ছেলেদের ডাকলেন। তারপর বললেন, আমি মুমুর্ষ হালাতে আছি।
- আমি তোমাদের দু’টি অসিয়ত করছি।
- দু’টি বিষয়ের আদেশ করছি আর দু’টি বিষয় থেকে নিষেধ করছি।
- নিষেধ করছি শিরক ও কবিরা গুনাহ করা থেকে।
- আর আদেশ করছি “লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ পড়তে। কেননা, যদি এ কালিমা এক পাল্লায় রাখা হয়, আর অপর পাল্লায় সমস্ত আসমান ও জমিন রাখা হয়, তবে কালিমার পাল্লা ঝুঁকে যাবে। আর যদি সমস্ত আসমান জমিন একটি বৃত্তে পরিণত হয়ে যায়, তবু এ কালিমা সে বৃত্তকে ভেঙ্গে আল্লাহ তাআলার কাছে পৌঁছে যাবে।
- আর তোমাদের আদেশ করছি “সুবহানাল্লাহি ওয়াবিহামদিহী” পড়তে। কেননা, এটিই সমস্ত বস্তুর ইবাদত এর দ্বারাই সমস্ত বস্তুকে রিযিক দেয়া হয়।

হাদীসটির সনদ সহীহ।

মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-৭১০১

মুস্তাদরাকে হাকেম, হাদীস নং-১৫৪

গায়াতুল মাকসাদ, হাদীস নং-৪৫৮৭

মাজমাউজ যাওয়ায়েদ, হাদীস নং-৭১২৪

আলমুসনাদুল জামে, হাদীস নং-৮৩২৩

মুন্তাখাব হাদীস, ঈমান অধ্যায়-২৪-২৫