শাবানের ১৫ তম রাত্রি বা শবে বরাতের নামকরন ও তার অস্তিত্ব প্রমান (পর্ব ১) :- | ইসলামী বিশ্বকোষ ও আল-হাদিস


     

                        শবে বরাতের নামকরণ :-


অর্ধ শাবানের রাত্র বা শা’বান মাসের ১৫ তারিখ রাত্রটি হল শবে বরাত :-


শবে বারাআতের কয়েকটি বিশেষ নাম :

১) লাইলাতুল বারাআত- মানে পাপ মুক্তির রাত

২) লাইলাতুল মুবারাকা- মানে বরকতের রাত্রি

৩) লাইলাতুল কিসমত- অর্থ বন্টনের রাত

৪) লাইলাতুত তাকফীর- অর্থাৎ এ রাতে সারা বছরের গুনাহের কাফফারা হয়

৫) লাইলাতুল এজাবত- অর্থ দোয়া কবুলের রাত

৬) লাইলাতুল ঈদিল মালায়েকা- অর্থাৎ ফেরেশতাদের ঈদের রাত

৭) লাইলাতুল জাযআ- অর্থাৎ পুরুস্কারের রাত

৮) লাইলাতুশ শাফায়া- অর্থাৎ সুপারিশের রাত

৯) লাইলাতুল গুফরান- অর্থাৎ মার্জনার রাত

১০) লাইলাতুত তাজীম- অর্থাৎ সম্মানী রাত

১১) লাইলাতুর রুজহান- অর্থাৎ পাল্লা ভারির রাত

১২) লাইলাতুল ইতকে মিনান্নিরান- অর্থাৎ দোযখ হতে মুক্তির রাত

১৩) লাইলাতুল দোয়া বা দোয়ার রাত্রি

১৪) লায়লাতুল রহমত বা রহমতের রাত্রি

১৫) লায়লাতুল মাগফিরাত বা ক্ষমার রাত্রি ,

১৬) লায়লাতু্ত তাওবাহ বা তওবাহ করার রাত্রি ইত্যাদি।



★★★ স্থানভেদে শবে বরাতের আরো বিভিন্ন নাম জানা যায় :-


★ ইরান ও আফগানিস্তানে নিম শা'বান।

★ আরবী ভাষাভাষীর বলে নিসফ্ শা'বান।

★ মালয় ভাষাভাষীর বলে নিসফু শা'বান।

★ তুর্কি ভাষাভাষীর বলে বিরাত কান্দিলি।

★ ভারতীয় উপমহাদেশে বলা হয় শবে বরাত।





শবে বরাতের কয়েকটি নাম ও নামকরণের কারণ প্রমানসহ দেখুন :-

১। লাইলাতুম মুবারাকাহ তথা বরকতপূর্ণ রজনীঃ

কুরআনের ভাষায় একদল মুফসসিরীনের মতানুযায়ী-এটির নাম লাইলাতুম মুবারাকাহ ( ليلة مباركة ) তথা বরকতপূর্ণ রজনী। এ রাতটিকে মোবারাকাহ বলার কয়েকটি কারণ রয়েছে।

ক)

এ রাতে কুরআনুল কারীম লৌহে মাহফুজ থেকে এ দুনিয়ার আসমানে অবতীর্ণ করা হয়। অথবা এ রাত্রে কুরআনুল কারীমের অবতরণের ফায়সালা বা সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং ঠিক সে বছর রমজান মাসের শবে ক্বদরেই পবিত্র কুরআন নাযিল শুরু হয়। এ দৃষ্টিকোণে রাতটি বরকতপূর্ণ ও মহাপবিত্র রজনী। তাই একে “ লাইলাতুম মুবারাকাহ ” (বরকতপূর্ণ রজনী) বলে নামকরণ করা হয়েছে।

খ)

এ রাতের প্রারম্ভেই অগণিত ফেরেশতা রহমত ও বরকত নিয়ে অবতীর্ণ হয় এবং রাতব্যাপী জমিনে বিচরণ করে এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ বান্দাদের উপর রহমত বর্ষণ করতে থাকে। যেমনটি হাদীছে বর্ণিত রয়েছে। তাই রাতটিকে বরকতপূর্ণ রাত বলা হয়।

গ)

এ রজনীতে আল্লাহ তাআলা যমযমের পানির মধ্যে বিশেষ বরকত নাযিল করেন এমনকি বাহ্যিকভাবেও যমযমের পানি বৃদ্ধির মাধ্যমে সে বরকত পরিলক্ষিত হয়। যার বর্ণনা তাফসীর গ্রন্থে বিদ্যমান। যেমনঃ

قيل يزيد فى هذه الليلة ماء ز مز م زيادة ظاهرة

( হাশিয়াতুত তাফসীরে কাবীরঃ খ-৭, পৃ-৬৯৩ )

২। লাইলাতুন নিসফি মিন শা’বান তথা শা’বানের পঞ্চদশ রজনীঃ

হাদীছের ভাষায় লাইলাতুল বারাআত এর একটি প্রসিদ্ধ নাম হচ্ছে ليلة النصف من شعبان লাইলাতুন নিসফি মিন শা’বান। (এ নামটি ছাড়াও আরো বিভিন্ন নাম হাদীছ গ্রন্থে পাওয়া যায়) যার অর্থ হলো মধ্য শাবানের রাত্রি বা ১৫ই শাবানের রাত। কারণ শবে বরাত সংশ্লিষ্ট সকল-বরকত ফযীলত ও বৈশিষ্ট্যাবলী এ রাতেই অবস্থিত। তাই হাদীছ শরীফে মধ্য-শাবানের রাত, তথা ১৫ই শাবানের রাত দ্বারা সর্বজন পরিচিত শবে বরাতকেই বুঝানো হয়েছে।

৩। লাইলাতুল বরাআতঃ

লাইলাতুল বারাআত ليلة البراءة বারাআত শব্দের অর্থ মুক্তি লাভ। হাদীসের ভাষ্য অনুযায়ী এ রাত্রিতে যেহেতু আল্লাহ তাআলা নেক বান্দাদের এক বৃহৎ দলের গুনাহ মাফ করে দিয়ে জাহান্নাম থেকে মুক্তি প্রদান করে দেন। তাই এ রাতটিকে “ লাইলাতুল বারাআত ” বলে নামকরণ করা হয়েছে। এর প্রমাণ স্বরূপ দুটি কিতাবের উদ্ধৃতি প্রদান করা হলোঃ

ক) ইমাম ফখরুদ্দীন রাযী (রহঃ) বলেনঃ

“ এ রাতকে লাইলাতুল বারাআত করে এ জন্যই নামকরণ করা হয়েছে যে, টেক্স আদায়কারীগণ জনগণ থেকে পূর্ণ কর আদায় করে তাদেরকে “ বারাআত ” অর্থাৎ দায়মুক্ত বলে একটি দলীল হস্তান্তর করতেন, তদ্রূপ আল্লাহ তাআ’লাও মুমিন বান্দাদেরকে - এ রাতে জাহান্নাম থেকে মুক্তির কথা লিখে দেন। ”

( দেখুন তাফসীরে কবীরঃ খ – ১৪, পৃ – ২৩৯ )

খ) তাফসীরে রূহুল বয়ানে ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহঃ) সম্পর্কে একটি চমৎকার ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে, প্রমাণস্বরূপ এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে।

“ হযরত ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহঃ) মধ্য শাবানের রাতে যখন নামাযের সিজদাহ থেকে মাথা উঠান তখন সবুজ রং এর একটি কাগজের টুকরা পেলেন যার নূরের আলো আসমান পর্যন্ত ছড়িয়ে রয়েছে। তাতে লিখা ছিল “ আল্লাহ পাক তার প্রিয় বান্দা ওমর বিন আব্দুল আযীযকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্ত বলে ঘোষণা দিলেন।” ”

( দেখুন রূহুল বয়ানঃ খ – ৮, পৃ – ৪০৪ )

৪। লাইলাতুস্‌সাক তথা সনদের রজনীঃ

শবে বরাতের আরেকটি নাম হাদীছে এসেছে ( ليلة الصك ) “ লাইলাতুসসাক ” আভিধানিক অর্থ হলো এক্বরার নামা বা স্বীকারমূলক দলীল দস্তাবেজ। এ নামে নামকরণের কারণ হলো এ পবিত্র রজনীতে আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদের গুনাহ ক্ষমা করে দেয়ার প্রমাণ স্বরূপ জাহান্নাম থেকে মুক্তির সনদ-দলীল জারি করেন।

৫। লাইলাতুর রহমাহ তথা রহমতের রাতঃ

আরেকটি নাম রয়েছে ( ليلة الرحمة ) লাইলাতুর রহমাহ তথা রহমতের রাত। শবেবরাতকে রহমতের রাত হিসেবে এ জন্য নামকরণ করা হয়েছে যে, রসূলুল্লাহ (সঃ) হাদীছ শরীফে উল্লেখ করেছেন যে, আল্লাহ তাআলা আমার উম্মতের উপর এ রাতে বনুকাল্‌ব গোত্রের ছাগলের পশম পরিমাণে রহমত নাযিল করেন। অর্থাৎ অসংখ্য বান্দাকে ক্ষমা ও মার্জনা করেন।

( তাফসীরে কাবীরঃ খ-৭, পৃ-৪৪৫ )

শবে বরাতকে এ সব নামে নামকরণ প্রসঙ্গে প্রমাণ স্বরূপ তাফসীরগ্রন্থসমূহ থেকে ইমাম ফখরুদ্দীন রাযী (রহঃ) এর তাফসীর কাবীরের বর্ণনা নিম্নে পেশ করা হচ্ছে। তিনি বলেনঃ

“ মধ্য-শাবানের রাতের আরো চারটি নাম রয়েছে যথাঃ লাইলাতুম মুবারাকাহ, লাইলাতুল বারাআত, লাইলাতুসসাক ও লাইলাতুর রহমাহ ইত্যাদি। ”

( দেখুন তাফসীরে কবীরঃ খ – ১৪, পৃ – ২৩৯ )




                     কুরআন ও হাদিসে এই নামের অস্তিত্ব :


★ পবিত্র কোরআনে একে ‘লায়লাতুল মুবারাকাহ’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

                                    প্রমান :


★ আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন-

انا انزلنه فى ليلة مبركة انا كنا منذرين. فيها يفرق كل امر حكيم. امرا من عندنا انا كنا مرسلين.

অর্থ: “নিশ্চয়ই আমি বরকতময় রজনীতে কুরআন শরীফ নাযিল করেছি। আমিই ভয় প্রদর্শনকারী। উক্ত রাত্রিতে আমার পক্ষ থেকে সমস্ত প্রজ্ঞাময় কাজ গুলো ফায়সালা করা হয়। আর নিশ্চয়ই আমিই প্রেরণকারী।” (সূরা দুখান-৩, ৪, ৫)



                                   ব্যাখ্যা :-

★ মুফাসসির কুল শিরোমণি রঈসুল মুফাসসিরীন বিশিষ্ট সাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি স্বীয় তাফসীরে উল্লেখ করেন,” মহান আল্লাহ পাক তিনি লাইলাতুল মুবারাকাহ দ্বারা শবে কদরকে বুঝিয়েছেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি এ রাতে প্রজ্ঞাময় বিষয়গুলোর ফায়সালা করে থাকেন।

Reference :- [সূরা দুখান ৩-৫ নং এর তফসীর]

Scan Copy / কিতাবের ছবিসহ এখানে দেখুনঃ

★ তাফসীরে ইবনে আব্বাস, (সূরা দুখান এ ১ থেকে ৫ নং আয়াতের ব্যাখ্যায় "লাইলাতুল মুবারাকা" দ্বারা তিনি শবে কদরকে বুঝিয়েছেন)
★ তাফসীরে মাযহারী ৮ম খন্ডঃ ৩৬৮ পৃষ্ঠা, (তিনি "লাইলাতুল মুবারাকা" দ্বারা দুইটি বর্ননা করেছেন,
এক. কেউ কেউ এর দ্বারা শাবানের ১৫তম দিন বা শবে বরাতকে বুঝিয়েছেন।
দুই. কেউ কেউ শবে কদরকে বুঝিয়েছেন। অতঃপর তিনি শবে কদরের দিকে মত প্রকাশ করেন এবং শবে বরাতের ফজিলত সম্পর্কিত হাদিস (কাসেম ইবনে মুহাম্মদ থেকে বর্নণা করেন)
★ তাফসীরে ইবনে কাছীর ( "লাইলাতুল মুবারাকা" দ্বারা দুইটি মতই উল্লেখ করেছেন এবং কুরআন নাজিলের মাস হিসেবে শবে কদরের পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে তিনি শবে বরাতের ফজিলত সম্পর্কিত একটি মুরসাল হাদিস বর্ননা করেন)
★ কুরতুবী [সূরা দুখানের তফসীরে তিনিও ইবনে আব্বাস (রাঃ) এর মতামত বর্ননা করেছেন (শবে কদর এর পক্ষে) ]
★ তফসীরে কবীরঃ ইমাম ফখরুদ্দীন রাজী (রহঃ)
("লাইলাতুল মুবারাকা" দ্বারা শবে কদরকে বুঝিয়েছেন।→(তফসীরে মা'আরেফুল কুরআন থেকে এই তথ্য নেয়া), পাশাপাশি শবে বরাত সম্পর্কিত ফজিলতপূর্ণ কিছু মূল্যবান হাদিস বর্ননা করেন।]
★ তফসীরে জালালাইন (লাইলাতুল মুবারাকা" দ্বারা শবে কদর অথবা শবে বরাতকে বুঝানো হয়েছে। সুরা দুখান ৩-৫) প্রকাশনীঃ ইসলামিয়া কুতুবখানা।
★ তফসীরে খাজাইনুল ইরফান এ "লাইলাতুল মুবারাকা" দ্বারা শবে কদর অথবা শবে বরাতকে বুঝিয়েছেন। (সূরা দুখান ৩-৫ নং এর তফসীর)
★ তফসীরে নুরুল ইরফানঃ ইমামে আহলে সুন্নাত মুফতি ইয়ার খান নঈমী (রহঃ)
"লাইলাতুল মুবারাকা" দ্বারা শবে কদর বা শবে বরাত বা শবে মে'রাজকে বুঝিয়েছেন। (সূরা দুখান ৩-৫ নং এর তফসীর)


                                হাদিস থেকে :-


★ হাদীস শরীফে এ রাতকে হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে :-
ليلة النصف من شعبان অর্থাৎ শা’বানের পঞ্চদশ (১৫ তম) রাত বলেই এর বিভিন্ন তাৎপর্য তুলে ধরা হয়েছে।

★ মুলত : শবে বরাআত (شب براءت) শব্দটি ফারসী ভাষা হতে উদ্ভুত। শব (شب ) এবং বরাআত (براءت) এর সমন্বয়ে গঠিত।

*** ‘‘শব’’ অর্থ রজনী বা রাত্রি।
*** আর ‘বরাআত’ শব্দের অর্থ পবিত্রতা, নাজাত, মুক্তি, পরিত্রাণ, উদ্ধার ,আশ্রয় ,অব্যাহতি, দায়মুক্তি, বন্টন ,বরাদ্দ ইত্যোদি।
সুতরাং শবে বরাত বা লায়লাতুল বরাত অর্থ বন্টন, বরাদ্দ ,পবিত্রতা ,নাজাত ও মুক্তির রাত।

 এর রাতে যেহেতু অগণিত মানবের গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয় এবং বহু জাহান্নামীদের জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেয়া হয়, এজন্যই রাত্রটি শবে বরাআত বা মুক্তির রজনী নামে পরিচিত। পরিভাষায় শবে বরাআত না বলে শবে বরাত বলা হয়।



                                   প্রমান :


শুধুমাত্র উদাহরনের জন্য ১টি প্রমান দিলাম পরবর্তীতে বিস্তারিত ভাবে অনেক হাদিস বর্নিত হয়েছে।

★★★ হযরত মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) এর হাদীস-

5665 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُعَافَى الْعَابِدُ بِصَيْدَا، وَابْنُ قُتَيْبَةَ وَغَيْرُهُ، قَالُوا: حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ خَالِدٍ الْأَزْرَقُ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو خُلَيْدٍ عُتْبَةُ بْنُ حَمَّادٍ، عَنِ الْأَوْزَاعِيِّ، وَابْنِ ثَوْبَانَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ مَكْحُولٍ، عَنْ مَالِكِ بْنِ يُخَامِرَ عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «يَطْلُعُ اللَّهُ إِلَى خَلْقِهِ فِي لَيْلَةِ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ فَيَغْفِرُ لِجَمِيعِ خَلْقِهِ إِلَّا لِمُشْرِكٍ أَوْ مُشَاحِنٍ»

অর্থ : হযরত মুয়াজ বিন জাবাল রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-অর্ধ শাবানের রাতে [শবে বরাতে]আল্লাহ তাআলা তাঁর সমস্ত মাখলুকের প্রতি মনযোগ আরোপ করেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ ভাবাপন্ন ব্যক্তি ছাড়া সকলকে ক্ষমা করে দেন।

★ সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-৫৬৬৫,

★ মুসনাদুল বাজ্জার, হাদীস নং-২৭৫৪,

★ মুসনাদে ইসহাক বিন রাহওয়াই, হাদীস নং-১৭০২,

★ তাবারানী : আল মুজামুল আওসাত, হাদীস নং-৬৭৭৬,

★ আল মুজামুল কাবীর, হাদীস নং-২১৫,

★ সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-১৩৯০,

★ মুসনাদুশ শামীন, হাদীস নং-২০৩,

★ মুসন্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-৩০৪৭৯,

★ শুয়াবুল ঈমান, হাদীস নং-৬২০৪

★ শো’আবুল ঈমান হাদীস নং-৩৫৫২

★ সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং- ১/৪৪৫;

★ মুসনাদে আহমদ, হাদীস নং- ২/১৭৬;

★ সুনানে বায়হাকী, হাদীস নং- ৩/৩৮১; হাদীসটি সহীহ)

★ কিতাবুস সুন্নাহ-১/২২৪, হাদীস-৫১২,

★ আল ইহসান-৭/৪৭,

★ মাওয়ারিদুয যমআন-৪৮৬, হাদীস-১৯৮০,

★ মাজমাউ যাওয়াইদ-৮/৬৫,

★ সিলসিলাতুস সহীহা-৩/১৩৫, হাদীস-১১৪৪,

★ আততারগীব-২/২৪২


░▒▓█► হাদীসটির মান :

হাদীসটি সম্পূর্ণ সহীহ

০১. ইমাম ইবনে হিব্বান (রহ.-৩৫৪) বলেন, হাদীসটি সহীহ। সহীহ ইবনে হিব্বান-১২/৪৮১, হাদীস-৫৬৬৫।

০২. আহলে হাদীসদের মহাগুরু শায়খ নাসীর উদ্দীন আলবানী(১৪২০) বলেন-

سلسلة الأحاديث الصحيحة وشيء من فقهها وفوائدها (3/ 135)
1144 - " يطلع الله تبارك وتعالى إلى خلقه ليلة النصف من شعبان، فيغفر لجميع خلقه إلا لمشرك أو مشاحن ".
حديث صحيح، روي عن جماعة من الصحابة من طرق مختلفة يشد بعضها بعضا وهم معاذ ابن جبل وأبو ثعلبة الخشني وعبد الله بن عمرو وأبي موسى الأشعري وأبي هريرة وأبي بكر الصديق وعوف ابن مالك وعائشة.

উক্ত হাদীসটি সহীহ, যা সাহাবায়ে কেরাম (রা.) এর এক বড় জামাত বর্ণনা করেছেন এবং একটি হাদীস অন্য হাদীস এর সনদকে আরো মজবুত করে তুলে। সাহাবীদের থেকে বর্ণনাকারীগণ হলেন :

(০১) হযরত মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.)

(০২) আবূ সালাবা আল খাসানী (রা.)

(০৩) আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা)

(০৪) আবূ মূসা আল আশআরী (রা.)

(০৫) আবূ হুরায়রা (রা.)

(০৬) আবূ বকর সিদ্দীক (রা.)

(০৭) আউফ ইবনে মালেক (রা.)

(০৮) হযরত আয়েশা (রা.)।

Reference : সিলসিলাতুস সহীহা-৩/১৩৫, হাদীস-১১৪৪।



❁✪আরো একটি সন্দেহের অবসান❁✪



★ আপত্তি : শবে বরাত সম্পর্কে কেউ কেউ বলে থাকেন যে, (বরাআত) براءت শব্দটি মুল ধাতু হচ্ছে (তাবাররা) تبرا
সুতরাং শবে বরাআত অর্থ, শবে তাবাররা’’ (شب تبرا) বা তাবাররার রাত্রি। কুরআন ও হাদীসের যত জায়গায় তাবাররা বা অনুরূপ কোন শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, অসন্তুষ্টি অর্থেই ব্যবহৃত হয়েছে। সে হিসাবে শবে বরাত’’ অর্থ হয় অসন্তুষ্টির রাত। একটি পবিত্র রজনীর ক্ষেত্রে এমন নাম মোটেও শোভনীয় নয়।

★ জবাব : তাদের এ ধরণাও যুক্তিহীন একটি দাবীমাত্র।

(বরাআত) براءت শব্দটি কেবল (তাবাররা) تبرا বা অসন্তুষ্টি অর্থেই ব্যবহৃত হয় এমন নয় বরং পবিত্রতা, নাজাত, মুক্তি ও পরিত্রাণ ইত্যাদি অর্থেও শব্দটি বহুল ব্যবহৃত। কুরআন ও হাদীসে এর একাধিক প্রমাণ রয়েছে। যেমন-

(১) সূরা ক্বামার এর ৪৩ নং আয়াতে বলা হয়েছে-

{ أَكُفَّارُكُمْ خَيْرٌ مِنْ أُولَئِكُمْ أَمْ لَكُمْ بَرَاءَةٌ فِي الزُّبُرِ } [القمر: 43]

অর্থাৎ : তোমাদের মধ্যকার কাফেররা কি তাদের চেয়ে উত্তম? না তোমাদের মুক্তির সনদপত্র রয়েছে কিতাবসমূহে?
এ আয়াতে বরাআত (براءت ) শব্দটি মুক্তি অর্থে এসেছে।

(২) সূরা আহযাব এর ৬৯ নং আয়াতে বলা হয়েছে-

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَكُونُوا كَالَّذِينَ آذَوْا مُوسَى فَبَرَّأَهُ اللَّهُ مِمَّا قَالُوا } [الأحزاب: 69]

অর্থাৎ : হে মুমিনগণ! মূসাকে (আ.) যারা কষ্ট দিয়েছে তোমরা তাদের মত হয়োনা। তারা যা বলেছিল আল্লাহ তা থেকে তাকে নির্দোষ প্রমাণ করে ছিলেন।

এখানে নির্দোষ প্রমাণ শব্দটি বরাআত (براءت ) শব্দের অনুবাদ।

(৩) বুখারী শরীফের تعدل النساء بعضهن بعضا অধ্যায় ২৬৬ নং হাদীসে বলা হয়েছে :

قال لها أهل الإفك ما قالوا ، فبرأها الله منه ـ

অর্থাৎ : অপবাদ আরোপকারীরা তার (হযরত আয়েশা রা.) ব্যাপারে যা বলার বলেছিল। আল্লাহপাক তা থেকে তাকে পবিত্র ঘোষণা করেছেন। এর কয়েক লাইন পর বলা হয়েছে :

فإن كنت بريئة فسيرئك الله ـ

অর্থাৎ : যদি তুমি পবিত্র আর নির্দোষ হয়ে থাকো তবে অতি সত্বর আল্লাহ পাক তোমার পবিত্রতা ঘোষনা করবেন।

★ এছাড়াও আরো বহু আয়াত ও হাদীসে এ শব্দটির প্রয়োগ পরিলক্ষিত হয় যাতে تبرا অসন্তুষ্টি ছাড়া অন্য অর্থে শব্দটিকে ব্যবহার করা হয়েছে এবং সে সকল স্থানে তাবাররা (تبرا ) এর অর্থ গ্রহণ করা সম্ভবই নয়।

★ বরং জায়গা বিশেষে ক্ষমা, নির্দোষিতা, বিচ্ছেদ, অব্যহতি, পবিত্রতা ইত্যাদি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। তাই এ কথা বলা মোটেও শুদ্ধ নয় যে, কুরআন ও হাদীসের সর্বস্থনেই براءت বরাআত শব্দটি তাবাররা (تبرا ) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।