মুযাফফর বিন মুহসিনঃ জালিয়াতির এক জীবন্ত প্রমাণ | ইসলামী বিশ্বকোষ ও আল-হাদিস


লিখেছেন : কলম সৈনিক
____________________________
লেখাটি কপি / শেয়ার করুন, যাতে ‘জাল হাদীসের কবলে রাসুল (সাঁ) এর সালাত’ নামক বইটি পড়ে যারা বিভ্রান্ত হচ্ছেন, তাদের নিকট এই বার্তাটি পৌঁছে যায়।
প্রথমে যা জেনে নিলে ভাল হয়ঃ
________________
যয়ীফ হাদীস বলা হয় ঐ হাদীসকে যার সনদের মধ্যে হাদিস কবুল হবার শর্তগুলোর মধ্যে কোন একটি শর্ত অনুপস্থিত থাকে।
কিন্তু জাল হাদিস বলা হয় ঐ হাদিসকে যার সনদের মধ্যে মিথ্যাবাদী বর্ণনাকারী থাকে।
মোট কথা, জাল এবং যয়ীফ হাদীসের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। যয়ীফ হাদীসকে জাল হাদিস বলা হয় না, আবার জাল হাদীসকে ও যয়ীফ বা দুর্বল হাদিস বলা হয়না।
এ পার্থক্য যে করতে পারেনা, আবার হাদীস নিয়ে লম্বা লম্বা কথা বলে, সে হচ্ছে এ যামানার এক জঘন্য দাজ্জাল যে নাকি মুসলমানকে বিভ্রান্ত করার টিকাদারী নিয়েছে।
মুযাফফর বিন মুহসিনঃ
লা-মাযহাবী, নামধারী আহলে হাদিসদের জনপ্রিয় শায়েখ।
উনি আমাদের সালাত যে হচ্ছেনা তা প্রমাণ করার জন্য একটি বই লিখেছে। নাম দিয়েছে,
‘জাল হাদীসের কবলে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সালাত’।
বইটির কভার দেখলে আপনি এ নামটি বাংলাতে এভাবেই দেখবেন। কিন্তু পাতা উল্টালেই পরের পৃষ্টার উপরে দেখবেন লোকটা বইটির নাম আরবীতে লিখেছে। লিখেছে-
صلاة الرسول صلي الله عليه وسلم بقبضة الاحاديث الضعيفة والموضوعة
আমরা যদি এ আরবী লাইনের অনুবাদ করি, তবে অর্থ দাঁড়াবে,
যয়ীফ ও জাল হাদীসের কবলে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সালাত।
তারমানে আরবীতে উনি বলতে চেয়েছে, বইটি যয়ীফ এবং জাল হাদীসের সমন্বয়ের আলোকে লিখা হয়েছে।
কিন্তু বইটির কভার পেইজে বাংলা নামের মধ্যে শুধু জাল হাদিসের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
তাহলে প্রশ্ন হলো,
আরবী নামের সেই যয়ীফ হাদীস গেল কই?
তাহলে কি সে আরবী অনুবাদ করতে জানেনা?
নাকি সে জানেনা যয়ীফ হাদীস কাকে বলে আর জাল হাদিস কাকে বলে? এ দুটুর মধ্যে পার্থক্য কী?
তারমানে সে আরবী ভাষা জানেনা?
বাংলা বই কয়েকটা জোগাড় করে সে বই লিখেছে?
আপনি যদি বলেন, অসতর্কতা বশতঃ বইটির মূল নাম থেকে বাদ পড়ে গেছে। তা কীভাবে সম্ভব? যে বই লেখা হয়েছে আমাদের সালাতকে জাল প্রমাণিত করার জন্য এত সতর্কতা নিয়ে? এত সিরিয়াস হয়ে? সে সিরিয়াস বইয়ের নামের মধ্যে অসতর্কতা?
কেউ তা মেনে নিবে?
না।
তাছাড়া আমি এখানে যে স্ক্রীন শট দিয়েছি, সেটা হচ্ছে দ্বিতীয় সংস্করণ। যদি একান্তই অসতর্কতার কারণে হয়ে থাকতো, তবে সেটা পরে শুদ্ধ করা হত।
কিন্তু তা করা হয়নি।
তাঁর মানে?
লেখকের নিকট তার লিখিত বইয়ের আরবী নাম আর বাংলা নাম একই। এখানে কোন ভুল নেই।
আপনি যদি বলেন, লেখক এখানে নাম দীর্ঘ হয়ে যাবার ভয়ে শর্ট করে লিখেছে।
এটা কি গ্রহণযোগ্য ?
অবশ্যই নয়।
আরবীতে বইয়ের নাম লিখলেন- জাল ও যয়ীফ হাদীসের কবলে
আর বাংলাতে তা শর্ট হয়ে তা হয়ে গেল কেবল জাল হাদিসের কবলে?
শর্ট করার নামে জাল হাদিস এর কথা উল্লেখ করে বুঝানো হলো- জাল আর যয়ীফ হাদিস একই, তাই উভয়টির নাম উল্লেখ না করে একটিই উল্লেখ করা হলো!
আরো অবাক লাগে,
এই বই পড়ে নাকি জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা সাঈদী বলেছেন, আমি ৬৮ বছর পর আজ নতুন করে নামাজ শিখলাম!!

সম্মানিত পাঠক,
তো বইয়ের নামের মধ্যে যখন এই জালিয়াতি, তখন ভাবুন, ভেতরে কী পরিমাণ জালিয়াতির স্তুপ রয়েছে।
https://www.facebook.com/photo.php?fbid=452038414978883
https://www.facebook.com/photo.php?fbid=452775198238538
https://www.facebook.com/photo.php?fbid=454918454690879