গাউসুল আজম শব্দ ব্যবহার করা কি জায়েজ? | ইসলামী বিশ্বকোষ ও আল-হাদিস

বিঃদ্রাঃ সম্পূর্ণ পোস্টটি পড়ে তারপর মন্তব্য করুন
গাউসুল আজম (বড় সাহায্যকারী) শব্দটি নিয়ে যাদের সমস্যা তারা হল দেওবন্দী ও সালাফী (আহলে হাদিস) সম্প্রদায়। আহলুস সুন্নাহর স্কলারদের কিতাবে এটি জায়েজ হিসেবে প্রমাণ পাওয়া যায়। এমনকি তাদের কিতাবে তো আছেই।

শব্দ ব্যবহারে সতর্কতাঃ
কিছু শব্দ শাব্দিক অর্থ নেয়া হয় কিছু রূপক, কিছু স্থান কাল পাত্রভেদে আর কিছু খাস বিষয়ে আর ব্যাপক অর্থে।

এসব ভুল বুঝাবুঝি যেসব আলেমগণ ছড়িয়ে থাকেন তাদের অভিযোগ এই যে,

অভিযোগঃ
  • আল্লাহ একমাত্র সাহায্যকারী। আর গাউসুল আজম এটা নাকি আল্লাহর নাম। তাই কোন বান্দার নাম এটা হতে পারে না। এটা শিরক।

জবাব ১:
  • আল-কুরআনে আল্লাহর ৯৯ টি গুণবাচক নাম রয়েছে অথচ কোথাও গাউসুল আজম নাম নেই।
এমনকি আল্লামা মাহমুদ আলুসী আল বাগদাদী (রহ.) রচিত বিশ্ববিখ্যাত কুরআনের তাফসীর গ্রন্থ "তাফসীরে রুহুল মাআনী"তে বলেন-
  • "আল্লাহর ৪৫০০ এর মত গুণবাচক নাম মুবারক রয়েছে সেখানেও এই গাউসুল আজম শব্দটি নেই।"
জবাব ২ :
  • তারা বলতে চাচ্ছে কোন সৃষ্টি থেকে সাহায্য নেয়া শিরক অথবা কোন মানুষ থেকে সাহায্য নেয়া শিরক।
অথচ ভেবে দেখুন কিভাবে একজন মানুষ তাদের দ্বারা ব্রেইন ওয়াশড হচ্ছে। যেখানে তারা নিজেরাও নিজেদের মুখে ফতোয়া মানতে পারছে না। অন্যের বেলায় ফতোয়া দেয় হারাম আর নিজের বেলায় সব জায়েজ।

আহলুস সুন্নাহর আকিদা অনুসারে,

১) অবশ্যই আল্লাহ পাক আমাদের সাহায্যকারী। তিনি সত্ত্বাগতভাবে, প্রকৃতপক্ষে একমাত্র সাহায্যকারী যার ইচ্ছা বা সাহায্য ব্যতীত (ইহকাল বা পরকালে, সৃষ্টির আদি থেকে অন্ত পর্যন্ত) কোন সাহায্যকারী নেই। মানে সাহায্যের মূল উৎস আসে আল্লাহর পক্ষ থেকে। বাকি তামাম সৃষ্টি (জড় ও জীব) কুলের পক্ষ থেকে যেসব সাহায্য আসে তা কেবল উসীলা (মাধ্যম) মাত্র।

২) যদি কোন সৃষ্টি থেকে সাহায্য নিলেই হারাম হয়ে যায় নিম্নোক্ত সাহায্যগুলোও তাদের জন্য হারাম হবে নয়ত অতিরঞ্জিতকারীদের ফতোয়া পরিবর্তন হবে। সহজ বিষয়টা যারা বুঝে না কিংবা বুঝতেই চায় না তাদেরকে কিছু উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে দিচ্ছি। যেমনঃ

  • *সূর্য আলো দিয়ে সাহায্য করে।
  • *মেঘ বৃষ্টিপাত করে সাহায্য করে।
  • *পাহাড়-পর্বত সমূহ জমিনের জন্য পেরেকস্বরূপ।
  • *গাছ অক্সিজেন দিয়ে সাহায্য করে।
  • *মানুষ একে অপরের সাহায্যকারী। যেমনঃ
  • *পিতা-মাতা তাদের সন্তানকে সাহায্য করে।
  • *এক ভাই অপর ভাইকে সাহায্য করে।
  • *ফেরেশতা ও অলি আউলিয়াগণ বিপদগ্রস্থকে সাহায্য করে।
  • *নিজের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ আমাদের একেক জনের সাহায্য সেবায় নিয়োজিত।
  • *অর্থ আমাদের কোন কিছু কিনতে সাহায্য করে।
  • *খেটে খাওয়া মানুষ শ্রম দ্বারা অপরকে সাহায্য করে।
  • *ডাক্তার চিকিৎসা দিয়ে রোগীকে সাহায্য করে।

সূরা মায়েদা ৩৫ নং আয়াতে আল-কুরআনে "উসীলাতা" শব্দটি আছে। আশ্চর্যের বিষয় হল পথভ্রষ্টরা তো আল-কুরআনের এই "উসীলা" শব্দটিকেও অস্বীকার করে।

জবাব ৩ :
যারা গাউসুল আজম শব্দটি নিয়ে বাড়াবাড়ি করে অন্য মুসলমানকে শিরক উপাধী দেয় আসুন দেখে নেই তাদের উস্তাদদের উস্তাদ এমন শব্দগুলো ব্যবহার করেছে কিনা? আকাবারে দেওবন্দ এর মুরুব্বীগণও এমন শব্দ ব্যবহার করেছেন। স্ক্রীণশট দেখুনঃ



দেওবন্দ মাদ্রাসার ৩য় সদরুল মুহাদ্দিস তাদের অতি শ্রদ্ধীয় আকাবের মাওলানা মাহমুদুল হাসান দেওবন্দীর স্বীয় উস্তাদ ও পীর সাহেব দেওবন্দীদের আরেক যশস্বী আকাবের মৌ. রশিদ আহমেদ গাঙ্গুহী এর ইন্তেকালের পর একটি মার্সিয়া কিতাব তথা শোকগাঁথা বই রচনা করেন যা বিশ্বে "মার্সিয়া-এ গাঙ্গুহী" নামে বেশ সমাদৃত।

সে "মার্সিয়া-এ গাঙ্গুহী" গ্রন্থে দেওবন্দীদের উস্তাদ রশিদ আহমেদ গাঙ্গুহীর স্মরণে তার শিষ্য মাহমুদুল হাসান ৪র্থ পৃষ্ঠায় লিখেন,

رشید ملت و دیں غوث اعظم قطب ربانی-

"রশিদ মিল্লাত ও দ্বীনের গাউসুল আজম কুতুবে রাব্বানী!"

গ্রন্থ প্রণেতা শুধু এইখানেই ক্ষ্যান্ত হোন নাই তিনি তার এই গাঙ্গুহী পীর সাহেবকে এমন এমন লক্ববে ভূষিত করেছেন উক্ত কিতাবে এইসব আমরা বলতে গেলে শিরিক হয়ে যায় আর তারা বললে সব জায়েজ এমন আরকি।

আল্লাহ পাক আমাদেরকে সঠিক বুঝ দান করুন। অন্যদের প্রতি ইনসাফ করার তৌফিক দান করুন।