মহানবী (দ:)-এর প্রতি দাঁড়িয়ে সালাত-সালাম পেশ | ইসলামী বিশ্বকোষ ও আল-হাদিস


মহানবী (দ:)-এর প্রতি দাঁড়িয়ে সালাত-সালাম পেশ
-মুহাম্মদ মীলাদ শরীফ

সাহাবায়ে কেরামের (রা:) মধ্যে রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুন্নাতের অধিক অনুসারী হিসেবে প্রসিদ্ধ হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমার আমল- عبد الله بن دينار أن ابن عمر : كان إذا أراد سفر أو قدم من سفر جاء قبر النبي صلى -الله عليه و سلم فصلى عليه ودعا ثم انصرف

অনুবাদ: প্রখ্যাত তাবেয়ী হযরত আবদুল্লাহ ইবনে দিনার (রহ:) থেকে বর্ণিত- হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাদি:) যখন কোনো সফরে যাওয়ার কথা মনস্থ করতেন অথবা সফর শেষ করে মদীনায় ফিরে আসতেন, তিনি নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ক্ববর মুবারকের কাছে আসতেন; সেখানে দরুদ পড়তেন এবং দোয়া করতেন। অত:পর ফিরে আসতেন। [মুআত্তা ইমাম মালিক- হাদিস নং- ৯৪৭] এখানে লক্ষণীয়, তিনি সেখানে দরুদ পড়তেন, দোয়া করতেন, এরপর হাদিসের শব্দ হচ্ছে- ثم انصرف অত:পর ফিরে আসতেন অংশটি এটাই প্রমাণ করে তিনি দাঁড়িয়ে সালাম দিতেন।

একই হাদিস ইমাম বায়হাকী (রহ:)-এর বর্ণনায় এসেছে- عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ أَنَّهُ قَالَ : رَأَيْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ يَقِفُ عَلَى قَبْرِ النَّبِىِّ -صلى الله عليه وسلم- ثُمَّ يُسَلِّمُ عَلَى النَّبِىِّ -صلى الله عليه وسلم ‘আবদুল্লাহ ইবনে দিনার বলেন- আমি আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা:)-কে দেখেছি নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ক্ববর মুবারকের কাছে দাঁড়িয়েছেন, অত:পর সালাম পেশ করছেন। [সুনানে কুবরা ইমাম বায়হাকী- হাদিস নং-১০৫৭১]

সালাফী আহলে হাদিসদের মান্যবর ব্যক্তি ইমামুদ্ব দ্বলাল শায়খ ইবনে তাইমিয়ার প্রসিদ্ধ কিতাব ‘ইক্বতেযায়ে সিরাতে মুস্তাকিম’। তিনি রেওয়ায়েত এনেছেন- سأل رجل نافعاً فقال: هل كان ابن عمر يسلم على القبر، فقال: نعم، لقد رأيته مائة أو أكثر من مائة مرة، كان يأتي القبر، فيقوم عنده فيقول: السلام على النبي، السلام على أبي بكر، السلام على أبي ‘এক ব্যক্তি হযরত নাফে’ কে জিজ্ঞাসা করল, ইবনে উমর রাদি: কি নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ক্ববর মুবারকে সালাম পেশ করতেন? জবাবে নাফে’ বলেন- হ্যাঁ, আমি তাকে (ইবনে উমরকে) একশত বার কিংবা তার চেয়েও বেশীবার দেখেছি তিনি নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ক্ববর মুবারকের কাছে আসতেন এবং সেখানে দাঁড়িয়ে সালাম দিতেন- .. .. [ইক্বতেযায়ে সিরাতে মুস্তাকীম- ১৮/৩৩]। এখানে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে তিনি দাঁড়িয়ে সালাম পেশ করতেন। একই স্থানে ইবনে তাইমিয়া উল্লেখ করেন- এই বর্ণনাটি ইবনে বাত্ত্বাহ সহিহ সনদে রেওয়ায়েত করেছেন।

এডমিনের মন্তব্য: লক্ষণীয় যে এটা হুযূর পূর নূর (দ:)-এর ‘বেসালের’ পরে দাঁড়িয়ে সালাওয়াত পাঠের উৎকৃষ্ট দলিল। বাতেলপন্থীরা অপযুক্তি প্রদর্শন করে যে এটা রওযা শরীফের সামনে আদব রক্ষার্থে করা হতো। আমাদের জবাব হলো, এই বিশিষ্ট সাহাবী (রা:) যখন দাঁড়িয়ে সালাওয়াত পাঠ করেছেন, এমতাবস্থায় সালাত-সালাম পেশের সময় সম্মানার্থে দাঁড়ানো বৈধ - তা রওযার সামনেই হোক, বা হোক অন্যত্র। কেউ অন্যত্র এভাবে দাঁড়িয়ে সালাওয়াত পেশ করলে তিনি এই বিশিষ্ট সাহাবী (রা:)-এরই পদাঙ্ক অনুসরণ করবেন, যা হাদীস মোতাবেক হেদায়াতের নক্ষত্রকে অনুসরণের নামান্তর। এই দলিলে মীলাদ মাহফিলে দাঁড়িয়ে মহানবী (দ:)-এর প্রতি সালাত-সালাম পেশের বিষয়টি সিদ্ধ প্রমাণিত হয়।

পুনশ্চ: সাহাবী হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা:) মদীনায় রওযায়ে আকদসের সামনে দাঁড়িয়ে মহানবী (দ:)-এর প্রতি সালাত-সালাম পেশ করতেন, একথা সপ্রমাণিত। যদিও এটা রওযা শরীফের সামনে ছিল, কিন্তু এতে (মীলাদে) সালাওয়াত পাঠের সময় দাঁড়ানোর মূল এবাহত তথা বৈধতা প্রমাণিত হয়। আর ওই বিশিষ্ট সাহাবী (রা:)-এর কাছ থেকেও অন্যত্র এরকম দাঁড়ানো যাবে না মর্মে কোনো বর্ণনা আসেনি। যারা এই দলিলের বিরোধিতা করতে চান, তাদেরকে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা:) হতে অন্যত্র এভাবে দাঁড়ানোর নিষেধসূচক দলিল দেখাতে হবে। আমরা নিশ্চিত জানি, তিনি এধরনের কোনো নিষেধাজ্ঞা দেননি, যেমনটি দিয়েছিলেন সে ব্যক্তির প্রতি, যিনি হাঁচি দিয়ে সুন্নাহসম্মত দোয়া পড়ার পর হুযূর পূর নূর (দ:)-এর প্রতি সালাম-ও দিয়েছিলেন।