আল্লাহ ওয়ালাদেরকে ভালবাসার ফযিলত ও তাঁদের মর্যাদা | ইসলামী বিশ্বকোষ ও আল-হাদিস

আল্লাহ ওয়ালাদের প্রতি ভালবাসা ও তাঁদের মর্যাদা

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মাঝে এমন কিছু লোক আছে যারা নবী নন এবং শহীদও নন। কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহর দরবারে তাদের মর্যাদার কারণে নবীগণ ও শহীদগণ তাদের প্রতি ঈর্ষান্বিত হবেন। সাহাবীগণ বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ﷺ! আমাদের অবহিত করুন, তাঁরা কারা? তিনি বলেন, তাঁরা ঐ সব লোক যারা আল্লাহর মহানুভবতায় পরস্পরকে ভালোবাসে, অথচ তারা পরস্পর আত্মীয়ও নয় এবং পরস্পরকে সম্পদও দেয়নি। আল্লাহর শপথ! তাঁদের মুখমন্ডল যেমন নূর এবং তাঁরা নূরের আসনে উপবেশন করবে। তাঁরা ভীত হবে না, যখন মানুষ ভীত থাকবে। তাঁরা দুশ্চিন্তায় পড়বে না, যখন মানুষ দুশ্চিন্তাগ্রস্ত থাকবে। তিনি এ আয়াত তিলাওয়াত করলেনঃ 

‘‘জেনে রাখো! আল্লাহর বন্ধুদের কোনো ভয় নেই এবং তারা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হবে না।’’(সূরা ইউনুসঃ ৬২)

(সুনান আবূ দাউদ ৩৫২৭)

আল্লাহ তায়ালা বলেন,

"যারা ঈমান আনে আর তাকওয়া অবলম্বন করে, তাদের জন্য সুসংবাদ দুনিয়ার জীবনে আর আখেরাতেও। আল্লাহর কথার কোন হেরফের হয় না, এটাই হল বিরাট সাফল্য।" (সূরা ইউনুসঃ ৬৩, ৬৪)

হযরত আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) বলেনঃ এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ ﷺ এঁর নিকট এসে জিজ্ঞেস করলঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ ﷺ! এমন ব্যক্তির ব্যাপারে আপনি কী বলেন, যে ব্যক্তি কোন দলকে ভালবাসে, কিন্তু (‘আমলের ক্ষেত্রে) তাদের সমান হতে পারেনি? তিনি বললেনঃ মানুষ যাকে ভালবাসে সে তারই সাথী হবে। 

(সহীহ বুখারী ৬১৬৯)

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, আল্লাহ যখন কোন বান্দাকে ভালবাসেন তখন তিনি জিব্রাঈল (আঃ)-কে ডেকে বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ অমুক বান্দাকে ভালবাসেন, কাজেই তুমিও তাকে ভালবাস। তখন জিব্রাঈল (আঃ)-ও তাকে ভালবাসেন এবং জিব্রাঈল (আঃ) আকাশের অধিবাসীদের মধ্যে ঘোষণা করে দেন যে, আল্লাহ অমুক বান্দাকে ভালবাসেন। কাজেই তোমরা তাকে ভালবাস। তখন আকাশের অধিবাসী তাকে ভালবাসতে থাকে। অতঃপর পৃথিবীতেও তাকে সম্মানিত করার ব্যবস্থা করে দেয়া হয়। 

(সহীহ বুখারী ৩২০৯)

রাসূলুল্লাহ্ ﷺ বলেনঃ আল্লাহ্ বলেন, যে ব্যক্তি আমার কোন ওলীর সঙ্গে দুশমনি রাখবে, আমি তার সঙ্গে যুদ্ধ ঘোষণা করব। আমি যা কিছু আমার বান্দার উপর ফরয করেছি, তা দ্বারাই কেউ আমার নৈকট্য লাভ করবে না। আমার বান্দা সর্বদা নফল ‘ইবাদাত দ্বারা আমার নৈকট্য লাভ করতে থাকবে। এমন কি অবশেষে আমি তাকে আমার এমন প্রিয় পাত্র বানিয়ে নেই যে, আমিই তার কান হয়ে যাই, যা দিয়ে সে শুনে। আমিই তার চোখ হয়ে যাই, যা দিয়ে সে দেখে। আর আমিই তার হাত হয়ে যাই, যা দিয়ে সে ধরে। আমিই তার পা হয়ে যাই, যা দ্বারা সে চলে। সে যদি আমার কাছে কোন কিছু চায়, তবে আমি নিশ্চয়ই তাকে তা দান করি। আর যদি সে আমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে, তবে অবশ্যই আমি তাকে আশ্রয় দেই। আমি কোন কাজ করতে চাইলে তা করতে কোন দ্বিধা করি-না, যতটা দ্বিধা করি মু’মিন বান্দার প্রাণ নিতে। সে মৃত্যুকে অপছন্দ করে আর আমি তার বেঁচে থাকাকে অপছন্দ করি।

(সহীহ বুখারী ৬৫০২)

[যেহেতু তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ থেকে সকল কাজ-কর্ম আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি মোতাবেক প্রকাশ পায় এজন্যে একথা বলা হয়েছে যে, আঁমিই যেন তার চোখ, কান, হাতও পা হয়ে যাই। কেননা, যখন আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির বিপরীত সে ব্যক্তি কান দ্বারা কিছু শুনে না, চোখ দ্বারা কোন কিছু দেখে না, তার বিধানের খেলাফ হাত পা চালায় না, বরং যা কিছু আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি এবং তার হুকুমের আওতায় থেকে করে, আল্লাহ তায়ালা অঙ্গ প্রত্যঙ্গ, স্থান, কাল হতে পবিত্র]

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেনঃ আমার উম্মতের মধ্যে কেউ বিরাট জনগোষ্ঠীর জন্য সুপারিশ করবে, কেউ একটি গোত্রের জন্য, কেউ একটি ছোট দলের জন্য, কেউ একজন লোকের জন্য সুপারিশ করবে এবং তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে।

(সূনান আত তিরমিজী; অধ্যায়ঃ ৩৫/ কিয়ামাত ও মর্মস্পর্শী বিষয়, হাদিস নম্বরঃ ২৪৪০)

সকলেই কি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে! নিশ্চয়ই নই শুধুমাত্র ঈমানদাররাই প্রবেশ করবে। আচ্ছা, শুধু কি মুখে ঈমান এনেছি বললে, কালিমা পড়ে নিলেই, বাহ্যিক আমলে নিজেকে সজ্জিত করে নিলেই পরিপূর্ণ ইমানদার হয়ে যায়! আমার আল্লাহ বলছেন,

"আর মানুষের মধ্যে কিছু এমন আছে, যারা বলে, 
‘আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহর প্রতি এবং শেষ দিনের প্রতি’, অথচ তারা মুমিন নয় (মুনাফিক)।"
(সূরা বাকারাহ, আয়াত ৮)

"এবং আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, মুনাফিকরা অবশ্যই মিথ্যাবাদী।" (সূরা মুনাফিকুন, আয়াত ১)

"নিশ্চয়ই মুনাফিকরা জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে থাকবে।" (সূরা নিসা ১৪৫)

আর এজন্যই আল্লাহ তায়ালা অন্যত্র বলছেন,

"ওহে যারা ঈমান এনেছ! তোমরা আেল্লাহ তা’আলাকে ভয় কর এবং সত্যবাদীদের সাথে থাক।" (সূরা তাওবাঃ ১১৯)

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেনঃ.....জাহান্নামের উপর "জাসর" (পুল) স্থাপন করা হবে। শাফাআতেরও অনুমতি দেয়া হবে। মানুষ বলতে থাকবে, হে আল্লাহ! আমাদের নিরাপত্তা দিন, আমাদের নিরাপত্তা দিন।........

জিজ্ঞেস করা হল, ইয়া রাসূলাল্লাহ ﷺ! "জাসর" কি? রাসূলুল্লাহ [ﷺ] বললেনঃ এটি এমন স্থান যেখানে পা পিছলে যায়। সেখানে আছে নানা প্রকারের লৌহ শলাকা ও কাটা, দেখতে নাজদের সা'দান বৃক্ষের কাটার ন্যায়। মুমিনগণের কেউ তো এ পথ চোখের পলকের গতিতে, কেউ বিদ্যুৎ গতিতে, কেউ বায়ুর গতিতে, কেউ উত্তম অশ্ব গতিতে, কেউ উষ্ট্রের গতিতে অতিক্রম করবে। কেউ তো অক্ষত অবস্থায় নাজাত পাবে, আর কেউ তো হবে ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় নাজাতপ্রাপ্ত। আর কতককে কাটাবিদ্ধ অবস্থায় জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। অবশেষে মুমিনগণ জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভ করবে।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেনঃ সে সত্তার কসম! যার হাতে আমার প্রাণ, ঐ দিন মু'মিনগণ (আল্লাহ ওয়ালারা) তাদের ঐ সব ভাইদের স্বার্থে আল্লাহর সাথে এত অধিক বিতর্কে লিপ্ত হবে যারা জাহান্নামে রয়ে গেছে যে, তোমাদের পার্থিব অধিকারের ক্ষেত্রেও এমন বিতর্কে লিপ্ত হয় না। তারা বলবে, হে রব! এরা তো আমাদের সাথেই নামাজ, রোজা আদায় করত, হজ্জ করত। তখন তাদেরকে নির্দেশ দেয়া হবে যে, যাও, তোমাদের পরিচিতদের উদ্ধার করে আন। উল্লেখ্য এরা জাহান্নামে পতিত হলেও মুখমণ্ডল আযাব থেকে রক্ষিত থাকবে। (তাই তাদেরকে চিনতে কোন অসুবিধা হবে না।) মুমিনগণ জাহান্নাম হতে এক বিরাট দলকে উদ্ধার করে আনবে। এদের অবস্থা এমন হবে যে, কারোর তো পায়ের নলা পর্যন্ত, আবার কারো হাটু পর্যন্ত দেহ আগুন ছাই করে দিবে।

উদ্ধার শেষ করে মুমিনগণ বলবে, হে রব যাদের সম্পর্কে আপনি নির্দেশ প্রদান করেছিলেন, তাদের মাঝে আর কেউ অবশিষ্ট নেই। আল্লাহ বলবেন, পুনরায় যাও, যার অন্তরে এক দীনার পরিমাণও ইমান অবশিষ্ট পাবে তাকেও উদ্ধার করে আন। তখন তারা আরো একদলকে উদ্ধার করে এনে তারা বলবে, হে রব! অনুমতিপ্রাপ্তদের কাউকেও রেখে আসিনি। আল্লাহ বলবেনঃ আবার যাও, যার অন্তরে অর্ধ দীনার পরিমাণও ইমান অবশিষ্ট পাবে তাকেও বের করে আন। তখন আবার এক বিরাট দলকে উদ্ধার করে এনে তারা বলবে, হে রব! যাদের আপনি উদ্ধার করতে বলেছিলেন তাদের কাউকে ছেড়ে আসিনি। আল্লাহ বলবেনঃ আবার যাও, যার অন্তরে অণু পরিমাণও ইমান বিদ্যমান, তাকেও উদ্ধার করে আন। তখন আবারও এক বিরাট দলকে উদ্ধার করে এনে তারা বলবে, হে রব! যাদের কথা বলেছিলেন তাদের কাউকেও রেখে আসিনি।

সাহাবা আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাঃ) বলেন, তোমরা যদি এ হাদীসের ব্যাপারে আমাকে সত্যবাদী মনে না কর তবে এর সমর্থনে নিম্নোক্ত আয়াতটি যদি চাও তবে তিলাওয়াত করতে পারঃ "আল্লাহ অণু পরিমাণও জুলুম করেন না এবং অণু পরিমাণ নেক কাজ হলেও আল্লাহ তা দ্বিগুণ করে দেন এবং তার নিকট হতে মহাপুরস্কার প্রদান করেন।"- (সূরাহ আন নিসা ৪ঃ ৪০)।

এরপর আল্লাহ তা'আলা বলবেনঃ ফেরেশতারা সুপারিশ করলেন, নবীগণও সুপারিশ করলেন এবং মুমিনরাও সুপারিশ করেছে, কেবলমাত্র আরহামুর রাহিমীন পরম দয়াময়ই রয়ে গেছেন। এরপর তিনি জাহান্নাম থেকে এমন একদল লোকদের মুক্তি দিবেন যারা কখনো কোন সৎকর্ম করেনি এবং আগুনে জ্বলে লাল হয়ে গেছে। পরে তাদেরকে জান্নাতের প্রবেশ মুখের নাহরুল হায়াতে ফেলে দেয়া হবে। তারা এতে এমনভাবে সতেজ হয়ে উঠবে, যেমনভাবে শস্য অঙ্কুর স্রোতবাহিত পানি ভেজা উর্বর জমিতে সতেজ হয়ে উঠে।...

(সহীহ মুসলিম ৩৪৩) (অনুরূপ প্রসঙ্গে আরো দেখুন, সহিহ বুখারিঃ ৭৪৩৯) পবিত্র কুরআনুল কারীমে ইরশাদ হচ্ছেঃ "তাদের কুকুর সামনের পা দু’টি প্রসারিত করে গুহাদ্বারে (ঘুমিয়ে) ছিল।" (সূরা কাহাফঃ ১৮) কুকুরটার নাম ছিল কিতমীর/ রাইয়্যান/ তাকুর/ ছাত্তর/ সাহবা। আর বর্ণ ছিল হলুদ/ গাঢ় হলুদ/ পাথরের মত ধূসর। আসহাবে কাহাফ (৭ জন) যখন পার্শ্ব পরিবর্তন করতেন, কুকুরটিও পার্শ্ব পরিবর্তন করত। কুকুরটি জান্নাতী। (তাফসীরে মাজহারী) কেউ কেউ বলেন, কুকুরটি একটি শিকারী কুকুর ছিল। কেউ বলেন, কুকুরটি ছিল বাদশার এক বাবুর্চীর- যেই যুবকদের মতাদর্শে বিশ্বাসী হয়ে তাদের সঙ্গী হয়েছিল এবং তার কুকুরটিও তার সফর সাথী হয়েছিল। আল্লাহ'র সেই পাক বান্দাগণের সংসর্গের বরকত ঐ কুকুরটিকেও স্পর্শ করেছিল। ফলে তাদের সাথে কুকুরটিও নিদ্রা গিয়েছিল। আর আজও তাদের আলােচনার সাথে কুকুরটির আলােচনাও হয়ে থাকে। (তাফসীর ইবনে কাসীর) ইবনে আতিয়া বলেন, আমার শ্রদ্ধেয় পিতা বলেছেন যে, তিনি ৪৬৯ হিজরিতে মিসরের জামে মসজিদে আবুল ফজল জওহারীর একটি ওয়াজ শুনেছেন। তিনি মিম্বরে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন- যে ব্যক্তি সৎলােকদেরকে ভালবাসে, তাদের নেকীর অংশ সেও পাবে (যে যাকে ভালবাসবে সে তার সাথেই থাকবে)। দেখ, আসহাবে কাহাফের কুকুর তাদেরকে ভালবেসেছে এবং তাদের সঙ্গী হয়ে গেছে। ফলে আল্লাহ তাআ'লা কুরআনেও সেটার কথা উল্লেখ করেছেন। ইমাম কুরতুবী (রহঃ) স্বীয় তাফসীরগ্রন্থে ইবনে আতিয়ার বর্ণনা উদ্ধৃত করে বলেন, একটি কুকুর যখন সৎলােক ও গুণীদের সৎসঙ্গের কারণে এই মর্যাদা পেতে পারে, তখন আপনি অনুমান করুন, যেসব ঈমানদার তাওহীদী লােক আল্লাহর ওলী ও সৎলােকদেরকে ভালােবাসে তাদের মর্যাদা কতটুকু হবে? (এই) ঘটনায় সেসব মুসলমানদের জন্য সান্ত্বনা ও সুসংবাদ রয়েছে, যারা আমলে কাঁচা, কিন্তু রসূলুল্লাহ ﷺ কে মনে-প্রাণে ভালবাসে। (তাফসীরে কুরতুবী) ইমাম কুরতুবী রহঃ অতঃপর বুখারী মুসলিমের সেই বিখ্যাত হাদিস বর্ণনা করেন, হযরত আনাস ইবনে মালিক (রঃ) বলেন, আমি এবং রসূলুল্লাহ ﷺ উভয়ে মসজিদে নববী থেকে বের হচ্ছিলাম। তখন মসজিদের দরজায় এক ব্যক্তিকে দেখতে পেলাম। তিনি বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ﷺ! কিয়ামত কবে সংঘটিত হবে? রসূলুল্লাহ ﷺ বললেনঃ তুমি কিয়ামতের জন্য কি পাথেয় সঞ্চয় করেছ (যে, তা আসার জন্য তাড়াহুড়া করছ)? রাবী বলেন, তখন লোকটি চুপ হয়ে গেলেন। এরপর তিনি বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ﷺ! আমি তো সে জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ নামাজ, রোজা ও সাদকা-খয়রাত সঞ্চয় করিনি। তবে আমি আল্লাহ ও তাঁর রসূল ﷺ কে ভালবাসি। তিনি ﷺ বললেনঃ তুমি তার সঙ্গেই থাকবে যাকে তুমি ভালবাস। আনাস (রঃ) বলেন, ইসলাম গ্রহণের পরে কোন কিছুতে আমরা এত বেশী খুশি হয়নি যতটা নবী ﷺ এঁর বাণীঃ "তুমি তার সঙ্গেই (থাকবে) যাকে তুমি ভালবাস" দ্বারা আনন্দ লাভ করেছি। আনাস (রঃ) বলেন, আমি আল্লাহ, তাঁর রসূল, আবূ বকর (রঃ) ও উমার (রঃ) কে ভালবাসি। সুতরাং আমি আশা করি যে, কিয়ামত দিবসে আমি তাদের সঙ্গে থাকব, যদিও আমি তাদের মত আমল করতে পারিনি। (সহীহ মুসলিম ৬৬০৬, ৬৬০৭, ৬৬০৮) (সহীহ বুখারী ৩৬৮৮)  

আল্লাহ তায়ালা বলছেন, 

"ওহে যারা ঈমান এনেছ! আল্লাহকে ভয় কর, উসিলা (তাঁর নৈকট্য লাভের উপায়) অন্বেষণ কর এবং তার পথে জিহাদ কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।
(সূরা মায়িদাহঃ ৩৫)

"যারা আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করে, তারা নবী, সিদ্দীক, শহীদ এবং নেককার লোকদের সঙ্গী হবে, যাঁদের প্রতি আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন, তাঁরা কতই না উত্তম সঙ্গী!"  (সূরা নিসাঃ ৬৯)

হে আল্লাহ, 

"আমাদেরকে সোজা পথে পরিচালিত করো। তাঁদেরই পথে, যাঁদের উপর তুমি অনুগ্রহ করেছো।" (সূরা ফাতিহাঃ ৫, ৬)


মুহাম্মদ রাকিব আত্তারী
শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।