বিদআতী কারা!! হাউজে কাউসারের নিকট থেকে কাদের তাড়িয়ে দেয়া হবে!! | ইসলামী বিশ্বকোষ ও আল-হাদিস

 বিদআতী কারা!! হাউজে কাউসারের নিকট থেকে কাদের তাড়িয়ে দেয়া হবে!! তিঁনি আমাদের চিনবেন কি? ঐ কঠিন সময়ে তাঁকে কোথায় খুঁজে পাব!!

----

সহজ ভাষায় বিদআতী হল তারা, যারা এমন কোন নতুন মত/ বিষয়/ বিশ্বাস/ প্রথা তৈরি করল যা ইসলামের মূলনীতির সাথে সাংঘর্ষিক বা বিরোধী। কিভাবে বললাম এ সংজ্ঞা!! বুখারীতেই এর ইঙ্গিত আছে। আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, যদি কেউ এমন কিছুর প্রচলন করল যা আমাদের দ্বীনের মূলনীতির সাথে সামঞ্জস্যহীন তাহলে তা প্রত্যাখ্যাত।

আলহামদুলিল্লাহ আমরা যেসব আমলকে বিদআতে হাসানাহ (উত্তম বিদআত) হিসেবে পালন করি প্রত্যেকটিরই মজবুত ভিত্তি রয়েছে এবং কোনটিই ইসলামের মূলনীতির সাথে সংঘর্ষমূলক নয় যদিওবা আমলগুলো হুবহু সাহাবীদের আমল নয়, যেটা প্রয়োজনও নয়, সেজন্যই তো আমরা এটাকে বিদআতে হাসানাহ বলছি। যেটা হুবহু মিল সেটাকে সুন্নাহ বলছি। নতুন কিছু সৃষ্টি করলেই যদি সেটা (মন্দ) বিদআত হয়ে যেত তাহলে কেন বলা হল, যা দ্বীনের মূলনীতির সাথে সামঞ্জস্যহীন তা প্রত্যাখ্যাত? 

স্বয়ং প্রিয় নবীজি ﷺ ই তো নতুন উত্তম প্রথা চালু করার অনুমতি এবং উৎসাহ দিয়েছেন। দয়াল নবীজির ঐ কথারই প্রতিফলন ঘটিয়েছেন সাহাবায়ে কেরাম। বুখারি মুসলিমেই অসংখ্য রেওয়ায়েত মজুদ আছে। যদি সকল নতুন সৃষ্টিই প্রত্যাখ্যাত হয় তাহলে,

কেন হযরত উমর রাঃ  "نِعْمَ الْبِدْعَةُ هذِه" অর্থাৎ ‘‘উত্তম বিদ'আত’’ বা কত না সুন্দর এই নতুন ব্যবস্থা- এমন বাক্য উচ্চারণ করলেন?? কেন বলেননি কত না সুন্দর এই খোলাফার সুন্নাহ??

যখন বলা হয়েছিল এমন কাজ কিভাবে করবেন যা রাসূল ﷺ করেননি তখন আবূ বকর রাঃ এবং উমর রাঃ কেন বললেন আল্লাহর কসম! এটা একটা কল্যাণকর কাজ?? কেন বলেননি এটা খোলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহ, এটাও তোমাদের মানতে হবে!!

আমরা বিদআতে হাসানার উপর আমল করলে বলেন যে, আমরা কি সাহাবায়ে কেরাম থেকে বেশি বুঝে ফেলছি!! তাহলে কি আপনি বলবেন যে, সাহাবায়ে কেরাম প্রিয় নবী ﷺ এঁর চেয়েও বেশি বুঝেছেন তাই এমন কাজ করেছেন যা রাসূল ﷺ করেননি!! (নাউজুবিল্লাহ) 

তাহলে বিদআতী কারা?

নাফি‘ (রঃ) বলেন, এক লোক ইবনে ‘উমর (রাঃ)-এর নিকট এসে বলল, অমুক লোক আপনাকে সালাম দিয়েছে। উত্তরে ইবনু ‘উমার (রাঃ) বললেন, আমি শুনেছি, সে নাকি দ্বীনের মধ্যে নতুন মত তৈরি করেছে (অর্থাৎ- তাক্বদীরের প্রতি অবিশ্বাস করছে)। (অন্য বর্ণনায় আছে, তিনি বললেন, আমি জানতে পারলাম, সে নাকি বিদ'আতী)। যদি প্রকৃতপক্ষে সে দ্বীনের মধ্যে নতুন কিছু তৈরি করে থাকে, তাহলে আমার পক্ষ হতে তাকে কোন সালাম পৌঁছাবে না। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমার উম্মতের অথবা এ উম্মতের মধ্যে জমিনে ধ্বসে যাওয়া, চেহারা বিকৃত রূপ ধারণ করা, শিলা পাথর বর্ষণের মতো আল্লাহর কঠিন ‘আযাব পতিত হবে, তাদের ওপর যারা তাক্বদীরের প্রতি অস্বীকারকারী হবে। 

[মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত) ১১৬, তিরমিযী ২১৫২, ইবনু মাজাহ্ ৪০৬১, আবূ দাঊদ ৪৬১৩]

হ্যা, যাদেরকে হাউজে কাউসারের নিকট থেকে তাড়িয়ে দেয়া হবে তারাও হল দ্বীনের মধ্যে নতুন বিষয়/ আকীদা সৃষ্টিকারী বা দ্বীন পরিবর্তনকারী যাদেরকে মুরতাদ বলা হয় এবং বুখারী শরীফে স্পষ্টভাবে ইমাম বুখারী উল্লেখ করেছেন, এরা হল তারা, যারা হযরত আবূ বকর রাঃ এঁর খিলাফতকালে মুরতাদ হয়ে গিয়েছিল এবং যাদের বিরুদ্ধে তিনি যুদ্ধও করেছিলেন (এরা ছিল দুই ধরণের- মিথ্যা নবুয়্যত দাবীকারী এবং যাকাত অস্বীকারকারী)। (আহ! যারা সারাক্ষণ বুখারী বুখারী আর সহিহ হাদিসের বুলি ছুঁড়ে তারা যদি অন্তত বুখারীটা হলেও তো ভালো করে পড়ত)

সুতরাং এ হাদিসে মুবারকাটা ঐ মুরতাদদের উপর কিংবা সর্বোচ্চ হলে সকল মুরতাদদের উপরই প্রযোজ্য (যদিও এমনিতেই তো কোন মুরতাদই হাউজে কাউসারের পানি পাবে না, ঐ ঘটনা তো তাদেরকে ধিক্কার জানানোর জন্য)। অথচ বাতিলপন্থী জাহেলরা, বিদআতে হাসানাহ এর উপর আমলকারীদের উপরও ঐ হাদিসে মুবারকা প্রয়োগ করে। (বুখারীতেই উল্লেখ আছে, খারেজীরা কাফেরদের উপর নাযিলকৃত আয়াত মুসলমানদের উপর প্রয়োগ করত) (আবার এই খারেজীরাই হযরত আলী রাঃ ও তাঁর অনুসারীদেরকেও কাফের, বিদআতী ফতোয়া দিত)

বৈধ নতুন কিছু সৃষ্টি (বিদআতে হাসানাহ) করলেই যদি কাউকে হাউজে কাউসার থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয়, তাহলে কি উমর রাঃ কেও তাদের অন্তর্ভুক্ত করবেন যিনি নিজেই বলেছেন যে, তিনি উত্তম বিদআত/ নতুন ব্যবস্থা সৃষ্টি করেছেন? (নাউজুবিল্লাহ) 

কিয়ামতের মাঠে তিনি আমাদের চিনবেন কি...!

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, আমার হাওযে কাওসার হবে আদান (ইয়ামানের বন্দর নগরী) থেকে আইলা (আরবের উত্তরাঞ্চলীয় শহর) এর যত দূরত্ব তার থেকেও বেশি দীর্ঘ। আর তা হবে বরফের থেকেও সাদা এবং দুধ মধু থেকেও মিষ্টি। আর তার পাত্রের সংখ্যা হবে তারকারাজির চেয়েও অধিক। আমি কিছু সংখ্যক লোককে তা থেকে ফিরিয়ে দিতে থাকবো যেমনিভাবে লোকে তার হাওয থেকে অন্যের উট ফিরিয়ে দেয়। 

সাহাবায়ে কিরাম আরয করলেন, “ইয়া রাসূলাল্লাহ ﷺ! সেদিন কি আপনি আমাদেরকে চিনতে পারবেন? 

তিনি বললেন, “হ্যাঁ, তোমাদের এমন চিহ্ন হবে যা অন্য কোন উম্মতের হবে না। ওযূর বিনিময়ে তোমাদের মুখমণ্ডল জ্যোতির্ময় ও হাত-পা দীপ্তিমান অবস্থায় তোমরা আমার কাছে আসবে"।

(সহীহ মুসলিম ৪৬৯)

ঐ কঠিন হাশরের ময়দানে তাঁকে কোথায় খোঁজ করব?

হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ এঁর নিকট নিবেদন করলাম যে, তিনি যেন কিয়ামত দিবসে আমার জন্য সুপারিশ করেন। তিনি ﷺ বললেন, ঠিক আছে আমি সুপারিশ করব। আমি প্রশ্ন করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ ﷺ! আমি আপনাকে কোথায় খোঁজ করব? তিনি ﷺ বললেন, তুমি সর্বপ্রথম আমাকে পুলসিরাতের সামনে খোঁজ করবে। আমি বললাম, পুলসিরাতে যদি আপনাকে না পাই? তিনি বললেন, তাহলে মীযানের ঐখানে খুঁজবে। আমি আবার বললাম, মীযানের ঐখানেও যদি আপনাকে না পাই? তিনি বললেন, তাহলে হাওযে কাওসারের সামনে খুঁজবে। আমি এ তিনটি জায়গার যে কোন একটিতে অবশ্যই উপস্থিত থাকব।

(সূনান আত তিরমিজী ২৪৩৩, মিশকাত ৫৫৯৫)

মুহাম্মদ রাকিব আত্তারী
শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।