নফল ইবাদত দ্বারা আল্লাহর নৈকট্য লাভ এবং নৈকট্যপ্রাপ্তদের মাহাত্ম্য | ইসলামী বিশ্বকোষ ও আল-হাদিস

নফল ইবাদত দ্বারা আল্লাহর নৈকট্য লাভ এবং নৈকট্যপ্রাপ্তদের মাহাত্ম্য 



রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন, আল্লাহ্ বলেন, যে ব্যক্তি আমার কোন ওলীর সঙ্গে দুশমনি রাখবে, আমি তার সঙ্গে যুদ্ধ ঘোষণা করব। আমি যা কিছু আমার বান্দার উপর ফরয করেছি, তা দ্বারাই কেউ আমার নৈকট্য লাভ করবে না। আমার বান্দা সর্বদা নফল ‘ইবাদাত দ্বারা আমার নৈকট্য লাভ করতে থাকবে। এমন কি অবশেষে আমি তাকে আমার এমন প্রিয় পাত্র বানিয়ে নেই যে, আমিই তার কান হয়ে যাই, যা দিয়ে সে শুনে। আমিই তার চোখ হয়ে যাই, যা দিয়ে সে দেখে। আর আমিই তার হাত হয়ে যাই, যা দিয়ে সে ধরে। আমিই তার পা হয়ে যাই, যা দ্বারা সে চলে। সে যদি আমার কাছে কোন কিছু চায়, তবে আমি নিশ্চয়ই তাকে তা দান করি। আর যদি সে আমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে, তবে অবশ্যই আমি তাকে আশ্রয় দেই। আমি কোন কাজ করতে চাইলে তা করতে কোন দ্বিধা করি-না, যতটা দ্বিধা করি মু’মিন বান্দার প্রাণ নিতে। সে মৃত্যুকে অপছন্দ করে আর আমি তার বেঁচে থাকাকে অপছন্দ করি।

(সহীহ বুখারী ৬৫০২)

[উক্ত হাদিসে মুবারকা হতে আউলিয়ায়ে কেরামের কারামত তথা আল্লাহ প্রদত্ত ক্ষমতা সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যায়। যেহেতু তাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ থেকে সকল কাজ-কর্ম আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি মোতাবেক প্রকাশ পায় এজন্যে একথা বলা হয়েছে যে, আমিই যেন তার চোখ, কান, হাতও পা হয়ে যাই। আল্লাহ তায়ালা অঙ্গ প্রত্যঙ্গ, স্থান, কাল হতে পবিত্র। ইমাম বায়হাকী রহঃ বলেন, “নিশ্চয় আমাদের ও সকল মুসলমানের জানা অত্যাবশ্যক যে, আমাদের প্রভু আকৃতি ও অবয়ব বিশিষ্ট নন। কেননা, "আকৃতি'', কেমন এর চাহিদা রাখে। অথচ কেমন প্রশ্নটি আল্লাহ ও তাঁর গুণবলীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। কোনো ক্ষেত্রে যদি আকৃতি প্রকাশের কথা আসে তা হবে তাঁর সিফাত বা গুণাবলী।  "(কিতাবুল আসমা ওয়াল সিফাত)]

শুদ্ধভাবে অল্প সময়ে কুরআন খতম কি সম্ভব!! 

আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন, দাউদ (‘আঃ) এঁর জন্য কুরআন (যাবুর) তেলাওয়াত সহজ করে দেয়া হয়েছিল। তিনি তাঁর পশুযানে গদি বাঁধার আদেশ করতেন, তখন তার উপর গদি বাঁধা হতো। অতঃপর তাঁর পশুযানের উপর গদি বাঁধার পূর্বেই তিনি যাবুর তিলাওয়াত করে শেষ করে ফেলতেন। তিনি নিজ হাতে উপার্জন করেই জীবিকা নির্বাহ করতেন।  

(সহিহ বুখারী ৩৪১৭)


হযরত উসমান (রাঃ) বিতরের নামাজের শেষ রাকাআতে সম্পূর্ণ কুরআন শেষ করতেন। সাঈদ ইবনে জুবাইর (রাহঃ) কা'বা শরীফে এক রাকাআতে সম্পূর্ণ কুরআন শেষ করেছেন। ইমামে আজম আবু হানিফা (রাঃ) রমযানে ৬১ বার কুরআনুল কারিম খতম করতেন (দিনে এক খতম, রাতে এক খতম এবং তারাবীহতে আরেক খতম)।

হ্যা, এভাবেই আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রিয় বান্দাদের বিভিন্ন ক্ষমতা দিয়ে থাকেন। নবীগণকে দিয়েছেন অসংখ্য মু'জিযা, আউলিয়াগণকে অসংখ্য কারামত।