তাফসীরে সাভী তে কারচুপি | ইসলামী বিশ্বকোষ

 

নিত্যনতুন যতই প্রযুক্তির অগ্রগতি হচ্ছে ততই যেনো আক্বায়েদে আহলুসসুন্নাহ ওয়াল জাম'আতের কিতাবাদি প্রকাশের কাজে কারচুপি পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে।


উপরের ছবিতে যা দেখতে পাচ্ছেন তা হলো বিশ্ববিখ্যাত 'তাফসির আল-জালালাইন' শরীফের প্রচ্ছদ।এটি এমন একটি সংক্ষিপ্ত তাফসির যার অধ্যয়নে কোরআনুল কারীমের মোটামুটি বিশুদ্ধ তাফসির/ব্যাখ্যা জানা যায়।এবং এর জনপ্রিয়তার অন্যতম প্রমাণ হচ্ছে,এই কিতাবটি আহলে সুন্নত এবং দেওবন্দী সেক্টর প্রায় বৃহৎ সকল শিক্ষাঙ্গনে পঠিত হয়। 


এই জালালাইনের একটি বিখ্যাত টীকা-টিপ্পনী গ্রন্থ তথা হাশিয়া হল 'আল হাশিয়াতুস সাভী আলা তাফসিরিল জালালাইন' যেটা রচিত হয় আল্লামা আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ আল সাভী মালেকী রাঃ(১২৪১হিজরীতে ওফাত) এর হাতে।

উনি সুরা ফাতিরের ষষ্ঠ আয়াত 


اِنَّ الشَّیۡطٰنَ لَکُمۡ عَدُوٌّ فَاتَّخِذُوۡہُ عَدُوًّا ؕ اِنَّمَا یَدۡعُوۡا حِزۡبَہٗ لِیَکُوۡنُوۡا مِنۡ اَصۡحٰبِ السَّعِیۡرِ


অর্থাৎ :নিশ্চয় শয়তান তােমাদের শত্রু। সুতরাং তােমরাও তাকে শত্রু মনে করো। সেতাে আপন দলকে এ জন্যই আহ্বান করে যেন তারা দোযখীদের অন্তর্ভুক্ত হয়।(তরজমায়ে কানযুল ঈমান,আলা হযরত ইমাম আহমদ রযা খাঁ ফাযেলে বেরেলী র.)


এর তাফসিরে উল্লেখ করেন


وقيل هذه الآية نزلت في الخوارج الذين يحرّفون تأويل الكتاب والسنة ويستحلون بذلك دماء المسلمين وأموالهم كما هو مُشَاهَدٌ الآن في نَظَائِرهم وهم فرقة بأرض الحجاز يقال لهم الوهابية يحسبون أنهم على شيء ألا إنهم هم الكاذبون استحوذ عليهم الشيطان فأنساهم ذكر الله أولئك حزب الشيطان ألا إن حزب الشيطان  هم الخاسرون نسأل الله الكريم أن يقطع دابره

অর্থঃ"আয়াতটি খারেযীদের ব্যাপারে নাযিল হয়েছে যারা কোরআন এবং সুন্নাহর অপব্যাখ্যা করতো যেন তাতে সাধারণ মুসলমানদের জান মালের ক্ষতি করতে পারে।যেমনকি তাদের অনুসারীদের মধ্যে আজো দেখা যাচ্ছে।তারা হচ্ছে হেজাজের(সৌদী আরব) যমিনের একটা গোষ্ঠী,যারা ওয়াহাবী নামে পরিচিত। তাদের ধারণা যেনো তারাই সঠিক,কিন্তু তারা মিথ্যাবাদী।শয়তান এদেরকে পাকড়াও করে ফেলেছে,এবং তাই তারা  আল্লাহর যিকর হতে বিরত আছে।তারাই হলো 'হিযবুশ শায়তান' বা শয়তানের দল। এবং শয়তানের সমস্ত দল ক্ষতিগ্রস্থ।আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করি,যেন আল্লাহ তাদেরকে নস্যাৎ করেন।''

কারচুপি হলো বোল্ড-ইটালিক-কালারড করা বাক্যটিতে।যেটা নতুন সংস্করণ হতে উধাও করে দেয়া হয়েছে।

এটার প্রমাণ দেখাতে আমরা দেখাচ্ছি ১৯২৬ সালে আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেস হতে মুদ্রিত কপি,যেখানে স্পষ্ট উল্লেখ আছে বাক্যটি।




এখানে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে যে বাক্যটি বিদ্যমান।

আবার,দারুল এহইয়া আল তোরাহ আল আরাবী হতে  ২০১৩ সালের নতুন ছাপাতেও বিদ্যমান আছে।




এবার দেখুন দারুল জিল, বৈরুত হতে প্রকাশিত।

কেবল মাত্র يقال لهم الوهابية 'বা,তারা ওহাবী নামে পরিচিত'

লাইনটিই কেবল বাদ।এবং ঐ অংশ বড় স্পেস






এখন দেখুন বিখ্যাত দারুল কুতুব ইলমিয়াহ,বৈরুত,লেবানন এর ছাপা।যারা পুরো লাইনটাই বাদ দিয়েছে।



ওহাবিজম একটি খুবই ঘৃণ্য মতবাদ।তাদের সম্পর্কে আল্লামা ইবনে আবেদীন শামি র. বলেন,

كَمَا وَقَعَ فِي زَمَانِنَا فِي أَتْبَاعِ عَبْدِ الْوَهَّابِ الَّذِينَ خَرَجُوا مِنْ نَجْدٍ وَتَغَلَّبُوا عَلَى الْحَرَمَيْنِ وَكَانُوا يَنْتَحِلُونَ مَذْهَبَ الْحَنَابِلَةِ، لَكِنَّهُمْ اعْتَقَدُوا أَنَّهُمْ هُمْ الْمُسْلِمُونَ وَأَنَّ مَنْ خَالَفَ اعْتِقَادَهُمْ مُشْرِكُونَ، وَاسْتَبَاحُوا بِذَلِكَ قَتْلَ أَهْلِ السُّنَّةِ وَقَتْلَ عُلَمَائِهِمْ حَتَّى كَسَرَ اللَّهُ تَعَالَى شَوْكَتَهُمْ وَخَرَّبَ بِلَادَهُمْ وَظَفِرَ بِهِمْ عَسَاكِرُ الْمُسْلِمِينَ عَامَ ثَلَاثٍ وَثَلَاثِينَ وَمِائَتَيْنِ وَأَلْفٍ


রুদ্দুল মুখতার গ্রন্থের বাবুল বাগাওগাতঃ ৩/৩২৯,এ উল্লেখ,আল্লামা শামি বলেন,"যেমন আমাদের সময়ে সংঘটিত  ইবনে আব্দিলওয়াহবের অনুসারীদের লোমহর্ষক ঘটনা প্রবাহ প্রণিধানযোগ্য। তারা নজদ থেকে বের হয়ে মক্কা-মদীনার উপর আধিপত্য বিস্তার করেছিল। তারা নিজেদেরকে হাম্বলী মায্হাবের অনুসারী বলে দাবী করতো। আসলে তাদের দৃঢ় বিশ্বাস ছিল, তারাই শুধু মুসলমান আর বাকী সব মুশরিক। এজন্য তারা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের অনুসারীদের হত্যা করা জায়েয মনে করেছে এবং এদের অনেক আলেমকে হত্যা করেছে। শেষ পর্যন্ত আল্লাহ তাআলা তাদের অহংকার চুর্ণ করে তাদের শহরগুলোকে বিরান করে দিয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে ইসলামী সেনাবাহিনীকে জয়যুক্ত করেছেন। এ লোমহর্ষক ঘটনাটি ১২৩৩ হিজরীতে সংঘটিত হয়েছিল।’’

এই ফিতনা সম্পর্কে আজ থেকে প্রায় ২০০ বছর আগেই আমাদেরকে সতর্ক করে দেন আল্লামা সাভী।আর বাত্বিলরা সেটায় কারচুপি করে বাজারে চালিয়ে দিয়েছে যেনো কোনো প্রমাণ না থাকে।

আল্লাহ আমাদেরকে সত্য জানার এবং আক্বায়েদে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জাম'আর উপর অটল থাকার তাওফিক দিন।আমিন!