নম্রতা ও বিনয়ী হওয়ার ফজিলত | ইসলামী বিশ্বকোষ ও আল-হাদিস

যারা আল্লাহর হুকুম পালন করে তারা শ্রেষ্ঠ বিনয়ী ও নম্র এবং তাদের বন্ধু আল্লাহ। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমাদের বন্ধু তো আল্লাহ, তাঁর রসুল (স.) ও মুমিনগণ যারা বিনত হয়ে সালাত কায়েম করে ও যাকাত প্রদান করে’ (আল-কুরআন, সূরা মায়েদা-৫৫)।

মহান আল্লাহ বলেন, ‘তারাই দয়াময়ের প্রিয়বান্দা, যারা পৃথিবীতে নম্রভাবে চলাফেরা করে’ (আল-কুরআন, সুরা ফুরকান-৬৩)

বিনয় ও নম্রতা সম্পর্কে রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেন, ‘যারা তোমার অনুসরণ করে সেসব বিশ্বাসীর প্রতি বিনয়ী হও’ (আল-কুরআন, সুরা আশ-শুআরা-২১৫)

অন্য আয়াতে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসুল এবং তাঁর সাথে আছেন, তাঁরা কাফিরদের প্রতি বজ্রকঠোর। আর নিজেরা নিজেদের প্রতি বড়ই করুণাশীল’ (আল-কুরআন, সূরা আল-ফাতাহ, ২৯)

মহান আল্লাহ বলেন, ‘ভালো এবং মন্দ সমান হতে পারে না। অতএব মন্দকে উত্তম (ব্যবহার) দ্বারা প্রতিহত কর। ফলে তোমার সঙ্গে যার শত্রুতা রয়েছে, (অচিরেই) সে অন্তরঙ্গ বন্ধুর মতো হয়ে যাবে’ (আল-কুরআন, সুরা হা-মীম সাজদাহ, ৩৪)।

একদিন এক ব্যক্তি নবীজির (স.) দরবারে হাজির হলে তার মধ্যে ভীতির সঞ্চার! রসুলে পাকের (স.) সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলার সাহস হারিয়ে ফেলেন লোকটি। তার কম্পনরত অবস্থা দেখে তিনি (স.) বলে উঠলেন, তোমাকে স্থির কর। স্বাভাবিক হও। আমি কোন অত্যাচারী কিংবা জোরদখলকারী নই, কেবল একজন মায়ের সন্তান; মক্কা নগরীতে শুষ্ক গোশত ভক্ষণকারী মাত্র। করুণার বাণী শুনে স্বাভাবিক হলেন লোকটি। আর বললেন প্রয়োজনের কথা।

এরপর দাঁড়িয়ে লোকদের উদ্দেশে প্রিয় নবিজী (স.) বলেন, হে লোক সকল! আমি প্রত্যাদিষ্ট হলাম যে, তোমরা বিনয় প্রকাশ করো। এমনভাবে বিনয় প্রকাশ করো যাতে একে অপরের উপর গবেষণা করে অহমিকা না দেখায়। তোমরা আল্লাহর বান্দা এবং পরস্পরে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হও (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং- ৬৪, সুনানু আবি দাউদ, হাদিস নং-৪৮৯৫)

হযরত আনাস (রা.) ছিলেন তাঁর (স.) অন্যতম খাদেম। আনাস (রা.) বলেন, ‘আমি দশ বছর রসুলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম–এর খিদমত করেছি। তিনি (স.) কখনও আমার জন্য ‘উহ’ শব্দ বলেননি। কোন কাজ করে বসলে তিনি একথা বলেননি যে, ‘তুমি এ কাজ কেন করলে?’ এবং কোন কাজ না করলে তিনি বলেননি যে, ‘তুমি কেন করলে না?’ (বুখারি শরিফ, হাদিস নং৬০৩৮; মুসলিম শরিফ, হাদিস নং-৬১৫১)।

হজরত আবু হোরায়রা রা: থেকে বর্ণিত হয়েছে, হজরত রাসূল সা: এরশাদ করেছেন, দানের দ্বারা সম্পদ কমে না। ক্ষমার দ্বারা আল্লাহ তাঁর বান্দার ইজ্জত ও সম্মান বৃদ্ধি করা ছাড়া আর কিছুই করেন না। আর যে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে বিনয় ও নম্রতার নীতি অবলম্বন করে, আল্লাহ তার মর্যাদা বাড়িয়ে দেন। (মুসলিম : ২৫৮৮)।

কুরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘রহমানের বান্দা তো হচ্ছে তারা, যারা জমিনে নেহায়েত বিনম্রভাবে চলাফেরা করে এবং জাহেল লোকেরা যখন তাদের সম্বোধন করে, তখন তারা নেহায়েত প্রশান্তভাবে জবাব দেয়।’ (সূরা ফুরকান: ৬৩)

হজরত আয়েশা সিদ্দিকা রা: থেকে বর্ণিত হয়েছে, হজরত রাসূল সা: এরশাদ করেছেন, হে আয়েশা, আল্লাহ তায়ালা অতি নম্র ব্যবহারকারী। সুতরাং তিনি নম্রতা ভালোবাসেন। তিনি নম্রতার জন্য এমন কিছু দান করেন যা কঠোরতার জন্য দান করেন না; এমনকি অন্য কিছুর জন্যও তা দান করেন না। (মুসলিম: ৬৩৬৫)

কুরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা ন্যায়পরায়ণতা, সদাচরণ ও আত্মীয়স্বজনকে দান করার নির্দেশ দেন এবং তিনি অশ্লীলতা, অসৎ কাজকর্ম ও সীমালঙ্ঘনজনিত সব কাজ থেকে নিষেধ করেন, তিনি তোমাদের উপদেশ দেন, যাতে করে তোমরা এ থেকে শিক্ষাগ্রহণ করতে পারো।’ (সূরা নাহল: ৯০)

কুরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা আল্লাহ পাকের ইবাদত করো, কোনো কিছুকেই তাঁর সঙ্গে অংশীদার বানিও না এবং মাতা-পিতার সাথে ভালো ব্যবহার করো, যারা ঘনিষ্ঠ আত্মীয়, এতিম, মিসকিন, আত্মীয় প্রতিবেশী, অনাত্মীয় প্রতিবেশী, পথচারী, সঙ্গী ও তোমার অধিকারভুক্ত দাসদাসী, অবশ্যই আল্লাহ পাক এমন মানুষকে কখনো পছন্দ করেন না, যে অহঙ্কারী ও দাম্ভিক।’ (সূরা নিসা:৩৬)

পবিত্র কুরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘(হে বৎস), কখনো অহঙ্কারবশে তুমি মানুষের জন্য গাল ফুলিয়ে রেখে তাদের অবজ্ঞা করো না এবং জমিনে কখনো ঔদ্ধত্যপূর্ণভাবে বিচরণ করো না; নিঃসন্দেহে আল্লাহ পাক প্রত্যেক অহঙ্কারীকেই অপছন্দ করেন। তুমি মধ্যম পন্থা অবলন্বন করো, তোমার কণ্ঠস্বর নিচু করো, কেননা আওয়াজগুলোর মধ্যে সবচেয়ে অপ্রীতিকর আওয়াজ হচ্ছে গাধার আওয়াজ।’ (সূরা লুকমান: ১৮-১৯)