হযরত সায়্যিদুনা হাফিজ আবুল আব্বাস আহমদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, 

আমি আল্লামা ইবনে জাওযী রহমাতুল্লাহি আলাইহি-এর সাথে একবার হুজুর গাউসে পাক রহমাতুল্লাহি আলাইহি-এর ইজতিমায়ে গাউসিয়ায় উপস্থিত ছিলাম। একজন ক্বারী কুরআনে কারীমের তিলাওয়াত করলেন। তিলাওয়াতের পর হুজুর গাউসে পাক রহমাতুল্লাহি আলাইহি বয়ান শুরু করলেন এবং তিলাওয়াতকৃত আয়াতে মুবারাকা হতে একটি আয়াতের তাফসীর বর্ণনা করতে গিয়ে আয়াতের একটি অর্থ বর্ণনা করলেন। 

আমি আল্লামা ইবনে জাওযী রহমাতুল্লাহি আলাইহি-কে জিজ্ঞাসা করলাম: আপনার কি এই তাফসীর সম্পর্কে জানা আছে? তিনি উত্তর দিলেন: হ্যাঁ! আমার এই তাফসীরী উক্তি জানা আছে।

​এরপর হুজুর গাউসে পাক রহমাতুল্লাহি আলাইহি এক এক করে এগারোটি তাফসীরী উক্তি আলোচনা করলেন। আমার জিজ্ঞাসার কারণে প্রতিবারই আল্লামা ইবনে জাওযী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলতে থাকেন, এই তাফসীরী উক্তিটি তাঁর জানা আছে। হাফিজ আবুল আব্বাস রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন যে, হুজুরে গাউসে পাক রহমাতুল্লাহি আলাইহি সেই একটি আয়াতের চল্লিশটি তাফসীরী উক্তি বর্ণনা করেন এবং প্রতিটি উক্তির বর্ণনাকারীর নামও বর্ণনা করেন। 

কিন্তু এগারোটি তাফসীরের পর থেকে প্রতিটি তাফসীর সম্পর্কে আমার জিজ্ঞাসার উত্তরে আল্লামা ইবনে জাওযী রহমাতুল্লাহি আলাইহি না-বোধক মাথা নাড়তে থাকেন যে, এই তাফসীর তাঁর জানা নেই। –(আখবারুল আখইয়ার, পৃষ্ঠা-১১; বাহজাতুল আসরার, পৃষ্ঠা-২২৪; যুগদাল আসার, পৃষ্ঠা-৫২)

​এই ঘটনা দ্বারা হুজুর গাউসে আযম রহমাতুল্লাহি আলাইহি-এর জ্ঞানের স্তর ও মর্যাদার উচ্চতা স্পষ্টভাবে অনুভব করা যায় যে, তিনি একই সময়ে একটি আয়াতে মুবারাকার ৪০টি তাফসীর বর্ণনা করেছেন, যার মধ্যে ২৯টি তাফসীর আল্লামা ইবনে জাওযী রহমাতুল্লাহি আলাইহি-এর জানা ছিল না। 

অথচ আল্লামা ইবনে জাওযী রহমাতুল্লাহি আলাইহি সেই সময়ের অনেক বড় আলিম ও ইমাম ছিলেন। তিনি ইলমে কুরআন, ইলমে হাদীস, ইলমে ফিকাহ, ভূগোল শাস্ত্র, চিকিৎসা শাস্ত্র, ইতিহাস, তাফসীর, ইলমে নাহু, জ্যোতির্বিদ্যা, গণিত শাস্ত্র, সাহিত্য ইত্যাদির মতো বহুবিধ বিষয়ে কিতাব প্রণয়ন করেছেন। তাঁর প্রণীত কিতাবের সংখ্যা ৩০০-এরও অধিক বলা হয়ে থাকে। তন্মধ্যে কিছু কিতাব বিভিন্ন খণ্ডে বিভক্ত, আবার কতগুলো একক রিসালা। –(উয়ুনুল হিকায়াতের ভূমিকা, ১/৫)

​ইমাম ইবনে কুদামা হাম্বলী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন: ইমাম ইবনে জাওযী রহমাতুল্লাহি আলাইহি নিজ যুগে বয়ান ও খেতাবতের ইমাম ছিলেন, বিভিন্ন বিষয়ে খুবই সুন্দর সুন্দর কিতাব রচনা করেছেন, পাঠদানও করতেন এবং তিনি হাফিজুল হাদীসও ছিলেন। (হাফিজুল হাদীস কাকে বলা হয়? ১,০০,০০০ হাদীস শরীফ সনদসহকারে যাঁর মুখস্থ, তাঁকে হাফিজুল হাদীস বলা হয়)। –(আঁসুয়ো কা দরিয়া এর ভূমিকা, পৃষ্ঠা-১৫)

​কিন্তু যুগের এত বড় ইমাম হওয়ার পরও আল্লামা ইবনে জাওযী রহমাতুল্লাহি আলাইহি হুজুর গাউসে পাক রহমাতুল্লাহি আলাইহি-এর বর্ণনাকৃত ৪০টি তাফসীরী উক্তির মধ্যে মাত্র ১১টি সম্পর্কে জানতেন, যা দ্বারা হুজুর গাউসে পাক রহমাতুল্লাহি আলাইহি-এর জ্ঞানের সমুদ্রের গভীরতা অনুমান করা যায়।

Next
This is the most recent post.
Previous
Older Post
Top