২৭ রজবই রসুলে পাকﷺ এর মি’রাজ | ইসলামী বিশ্বকোষ ও আল-হাদিস


নির্ভরযোগ্য মত হিসেবে ২৭ শে রযবই রাসূল (দ.)-এর মি’রাজ:

কতিপয় আহলে হাদিস এবং বাতিপন্থী মৌলভীগণ রাসূল (দ.)-এর মি’রাজের তারিখ নিয়ে মতভেদের সুযোগে মি’রাজ পালন নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। ইসলামের অনেক গূরুত্বপূর্ণ বিষয়ের তারিখ নিয়েও মতভেদ করেছেন ঐতিহাসিকগণ। তারপরও আমরা গ্রহণ করি সবচেয়ে মশহুর এবং শক্তিশালী মত ঐতিহাসিক ইমামগণ কোনটিকে বলেছেন। কিন্তু মি’রাজের তারিখ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে তার ব্যতিক্রম হবে কেন? ইমাম ইবনে কাসির রহ. লিখেন-
ان الإسراء كان ليلة السابع العشرين من رجب والله اعلم
অবশ্যই মি’রাজ সংগঠিত হয়েছে রজব মাসের ২৭ তারিখ। মহান রবই এ বিষয়ে ভাল জানেন।” (ইবনে কাসির, বেদায়া ওয়ান নিহায়া, ৩/১৩৫ পৃষ্ঠায়)

বুখারী শরীফের ব্যাখ্যাকার ইমাম আইনী রহ. লিখেন-
كان الإسراء ليلة السابع والعشرين من رجب
রাসূল (দ.)-এর ইসরা ভ্রমন বা মি’রাজ হয়েছিল রযব মাসের ২৭ তারিখ। (উমদাতুল ক্বারী, ৪/৩৯ পৃ) এরপর তিনি আরও লিখেন-
واختاره الحافظ المقدسى
হাফেযুল হাদিস ইমাম যিয়া মুকাদ্দাসী রহ. এ মতটিকেই পছন্দকৃত বা অধিক গ্রহণযোগ্য বলেছেন। (উমদাতুল ক্বারী, ৪/৩৯ পৃষ্ঠায়)
ইমাম কাস্তাল্লানী রহ. লিখেন-
كان ليلة السابع والعشرين من رجب
নবীজীর মি’রাজের তারিখটি ছিল ২৭শে রযব। (কাস্তাল্লানী, মাওয়াহিবুল্লাদুনিয়া, ১/১৬২ পৃ.) এ গ্রন্থের ব্যাখ্যাকার আল্লামা জুরকানী রহ. লিখেন-
وهو الأقوى
ইতিহাসবিদগণ বলেছেন এ মতটিই সর্বাধিক শক্তিশালী। (জুরকানী, শারহুল মাওয়াহেব, ২/৭১ পৃ.)
এ তারিখের পক্ষে আমার কাছে আরও ১৫ জন ইমামের অভিমত রয়েছে, উল্লেখ করলাম না, দার্ঘ হওয়ার আশংকায়।
তাই আমরা সবচেয়ে শক্তিশালী এবং মশহুর মতের উপর আমল করছি, তারপরও কারও মাথা ব্যথা হলে তাকে ডাক্তারের কাছ থেকে সুপারামর্শ নেয়ার অনুরোধ রইল। আল্লাহ আমাদেরকে আমল করার তাওফিক দান করুণ। আমিন।