বিবেকের কাঠগড়ায় আমীরে মুয়া'বিয়া (رضي الله عنه) | ইসলামী বিশ্বকোষ ও আল-হাদিস

বিষয়ঃ বিবেকের কাঠগড়ায় আমীরে মুয়া'বিয়া (رضي الله عنه) #Copy #Share
🖋সংকলকঃ মাসুম বিল্লাহ সানি 
[ব্লগার, সুন্নি-বিশ্বকোষ- https://bit.ly/2D9rkb6]

ইনশাআল্লাহ এই পোস্টটি হবে শিয়া ও শিয়ামুখীদের জন্য জ্বালাময়ী দাবানল।

👉 এক নজরে আলোচিত বিষয়বস্তু সমূহঃ
➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖
▪মাকামে সাহাবায়ে কেরাম আজমাঈন।
▪মাকামে আমীরে মুয়া'বিয়া (رضي الله عنه) 
▪আমীরে মুয়া'বিয়া (رضي الله عنه) এর প্রতি রাসুল (ﷺ)-এর দোয়া।
▪হযরত আলী  (رضي الله عنه) ও হযরত মুয়াবিয়া (رضي الله عنه) এর ইজতিহাদী ভুল এবং তাঁর ব্যাপারে ইমামগণের ইজমা।
▪মুয়াবিয়া (رضي الله عنه) কে ফাসিক বলা মু’তাজিলা ফির্কার প্রতীক।
▪ আমীরে মুয়াবিয়া (رضي الله عنه)'র  সমালোচনার নিষেধাজ্ঞা।

👉 মাকামে সাহাবায়ে কেরাম আজমাঈনঃ
➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖

عن ابی سعید الخدری رضی اللہ تعالی عنہ قال قال رسول اللہ صلی اللہ علیہ وسلم ولا تسبوا اصحابی فلو انّ احدکم انفق مثل احد ذھبا ما بلغ مدّ احدھم ولا نصفہ-

▪ অর্থাৎ, হযরত আবু সাঈদ খুদরী  (رضي الله عنه) র থেকে বর্ণিত,তিনি বলেন,নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন -“আমার কোন সাহাবীকে মন্দ বলনা । তোমাদের কেউ যদি উহুদ পর্বততূল্য স্বর্ণও খয়রাত করে,তবুও তাঁদের সোয়া সের যব সদ্‌কা করার সমানও হতে পারেনা;বরং এর অর্ধেকেরও বরাবর হতে পারেনা ।” [বুখারীঃ১ম খন্ড-৫১৮ পৃষ্ঠা, তিরমিযীঃ২য় খন্ড-২২৫ পৃষ্ঠা]

عن عبد اللہ بن المغفل رضی اللہ عنہ قال قال رسول اللہ صلی اللہ علیہ وسلم فی اصحابی لا تتخذو انتم عرضا من بعدی فمن احبھم فبحبی احبھم ومن ابغضھم فببغضی ابغضھم –

▪ অর্থাৎ, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল  (رضي الله عنه) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন , হুজুর আকরাম (ﷺ) ইরশাদ করেছেন – “আমার সাহাবীদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় কর , তাঁদেরকে ভৎর্সনা ও বিদ্রূপের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত কর না। যে আমার সাহাবীকে মহব্বত করল,সে আমার মুহাব্বতে তাঁদেরকে মুহাব্বত করল এবং যে তাঁদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করল, সে আমার প্রতি বিদ্বেষ পোষণের কারনে তাঁদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করল”। [তিরমিযি শরীফ, ২য়-২২৫]

عن ابن عمر رضی اللہ تعالی عنہ قال قال رسول اللہ صلی اللہ علیہ وسلّم اذا را‏‏یتم الذین یسبّون اصحابی فقولوا لعنۃ اللہ علی شرّکم-

▪ অর্থাৎ, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু  তা’আলা আনহুমা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, হুজুর আকরাম (ﷺ) ইরশাদ করেন- “যখন তোমরা এ ধরনের লোক দেখবে, যারা আমার সাহাবীকে মন্দ বলে, তখন তাদের উদ্দেশে বলে দাও, তোমাদের অনিষ্টের উপর আল্লাহর অভিশাপ হোক”।  [তিরমিযী ২য় খন্ড-২২৫ পৃঃ]

👉 মাকামে আমীরে মুয়া'বিয়া (رضي الله عنه) 
➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖

▪ নবি করীম (ﷺ)- এর লেখকদের মধ্যে হযরত যায়েদ বিন সাবেত (رضي الله عنه) সর্বাধিক হাজির থাকতেন। দ্বিতীয় স্থান ছিল হযরত মুয়াবিয়া (رضي الله عنه)-এর। দিন-রাত এদুজন ছায়ার মত নবীজীর সঙ্গে সঙ্গে থাকতেন।এ ছাড়া আর কোন দায়িত্ব তাঁদের ছিল না। -(জাওয়ামিউস সাহীহ : পৃ-২৭)

▪ মদিনা যদি শত্রু দ্বারা আক্রান্ত হয় এই মুয়াবীয়া আলীর সৈনিক হয়ে যুদ্ধ করবে। (মুসনাদে আহমদ)

▪ আল্লামা হাফেজ ইবনে কাসীর বলেন, 
সুপ্রসিদ্ধ তাবেয়ী হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মুবারককে হযরত মুয়াবিয়া (رضي الله عنه) সম্পর্কে মন্তব্য করতে বলা হলে তিনি বললেন, বাহ ! এমন সৌভাগ্যবান ব্যক্তি সম্পর্কে আমি কি মন্তব্য করতে পারি, যিনি দোযাহানের সর্দার রাসূল (ﷺ) এর পিছনে নামায পড়েছেন এবং তাঁর সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদার জবাবে রাব্বানা লাকাল হামদ বলেছেন? (আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া)

▪ তাবেয়ী হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মুবারক (রহঃ) কে আরেকবার জিজ্ঞেস করা হল, উত্তম কে? মুয়াবিয়া না খলিফা উমর ইবনে আব্দুল আজিজ? প্রশ্নকারি, একদিকে সেই সাহাবীকে রেখেছেন যার বিরুদ্ধে ইতিহাসের আদালতে রয়েছে জঘন্যতম সব অভিযোগ। অন্যদিকে রেখেছেন খিলাফতে রাশেদার প্রতিবিম্ব সেই মহান তাবেয়ীকে উম্মাহর প্রতিটি সদস্য যার মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের সামনে শ্রদ্ধাবনত। কিন্তু প্রশ্ন শোনা মাত্র হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মুবারক ক্রোধে জ্বলে উঠলেন। তিনি বললেন হযরত মুয়াবিয়ার সাথে তুমি উমর বিন আব্দুল আজিজের তুলনা করছো ? "আল্লাহর কসম ! নবী করীম (ﷺ)– এর সাথে জিহাদে গিয়ে হযরত মুয়াবিয়া (رضي الله عنه)-এর নাকের ছিদ্রে যে ধুলাবালি প্রবেশ করেছে সেগুলোও উমর ইবনে আব্দুল আজিজের (رضي الله عنه) তুলনায় হাজার গুণে উত্তম।”(আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া)

▪ একই ধরণের প্রশ্ন করা হয়েছিল হযরত মুয়াফা বিন ইমরানকে (رضي الله عنه)। তিনিও রাগত স্বরে প্রশ্নকারীকে জবাব দিয়েছিলেন, আশ্চর্য ! একজন তাবেয়ী কোন সাহাবীর চেয়ে উত্তম হতে পারেন কি করে? তদুপরি হযরত মুয়াবিয়া (رضي الله عنه) হলেন, নবী করীম (ﷺ)- এর বিশিষ্ট সাহাবীদের একজন। তাঁর বোন হলেন নবীর স্ত্রী এবং মুমিনদের মা। আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ ওহী লিপিবদ্ধকরণ ও সংরক্ষণের দায়িত্ব তিনি আঞ্জাম দিয়েছেন। সুতরাং মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের যে স্বর্ণশিখরে তিনি সমাসীন, কোন তাবেয়ীর পক্ষে তা কল্পনা করাই বা সম্ভব কিভাবে ? তারপর  প্রশ্নকারীকে তিনি নিম্নোক্ত হাদীস শুনিয়ে দিলেন- “আমার সাহাবা ও আহলে বায়াতকে যারা গালমন্দ করে তাদের প্রতি আল্লাহর আভিশাপ” -(আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া : খঃ ৮, পৃ-১৩৯)

👉 আমীরে মুয়া'বিয়া (رضي الله عنه) এর প্রতি রাসুল (ﷺ)-এর দোয়াঃ 
➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖

▪ হজরত উম্মে হারাম (رضي الله عنه) বলেন, 'আমি রাসুল (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, আমার উম্মতের সর্বপ্রথম সামুদ্রিক অভিযানে অংশগ্রহণকারী বাহিনীর জন্য জান্নাত অবধারিত'- (সহিহ বোখারি, হা. ২৯২৪) ।

▪ এ হাদিসের ব্যাখ্যায় মুহাল্লাব (রহ.) বলেন, 'হাদিসটিতে হজরত মুয়াবিয়া (رضي الله عنه)-এর ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। কেননা হজরত মুয়াবিয়া (رضي الله عنه)-ই ছিলেন ওই বাহিনীর সিপাহসালার।'- (ফাতহুল বারী : ৬/১০২)।

▪ হজরত আবদুর রহমান ইবনে আবি উমায়রা (رضي الله عنه) বলেন, 'রাসুল (ﷺ) মুয়াবিয়ার জন্য এ দোয়া করেছিলেন, হে আল্লাহ! মুয়াবিয়াকে সঠিক পথে পরিচালনা করুন ও তাঁকে পথপ্রদর্শক হিসেবে কবুল করুন।"(তিরমিজি, হা. ৩৮৪২) ।

▪ হজরত ইবনে আব্বাস (رضي الله عنه) সূত্রে বর্ণিত, একদিন জিবরাঈল (আ.) রাসুল (ﷺ)-এর কাছে এসে বললেন, 'হে মুহাম্মদ (ﷺ), মুয়াবিয়াকে সদুপদেশ দিন, কেননা সে আল্লাহর কিতাবের আমানতদার ও উত্তম আমানতদার।'- (আল মুজামুল আওসাত, হা. ৩৯০২)

▪ ইমাম আহমদ রাদিয়াল্লাহু  তা’আলা আনহু ‘মুসনাদে আহমদ’-এ বর্ণনা করেছেন, রাসূলে আকরাম (ﷺ) হযরত মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু  তা’আলা আনহু’র জন্য এভাবে পরম করুণাময়ের দরবারে ফরিয়াদ করেছেন-

اللھم علم معاویۃ الکتاب والحساب

অর্থাৎ, “হে আল্লাহ! মু’য়াবিয়াকে পবিত্র কুরআন ও অঙ্কশাস্ত্রের জ্ঞান দান কর।"
[মুসনাদে আহমদ  আন্নাহিয়া আন্ তা’নিল আমীর মুয়াবিয়া, কৃত: আল্লামা আব্দুল আযীয-১৪ পৃঃ]

👉হযরত আলী  (رضي الله عنه) ও হযরত মুয়াবিয়া (رضي الله عنه) এর ইজতিহাদী ভুল এবং সে ব্যাপারে ইমামগণের ইজমাঃ
➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖

হযরত মুয়াবিয়া (رضي الله عنه) এর বিদ্রোহটা কোন ব্যক্তিগত কারণে ছিল না। বরং দ্বীনী কারণে ছিল। অন্য শব্দে বললে এটি ছিল ইজতিহাদী বিষয়। যদিও হযরত আলী (رضي الله عنه) এর ইজতিহাদ সঠিক ছিল। আর হযরত মুয়াবিয়া (رضي الله عنه) এর ইজতিহাদ ভুল ছিল।

▪ মুয়াবিয়া (رضي الله عنه) এর ইজতিহাদ ভুল হবার পরও তিনি একটি সওয়াবের অধিকারী হবেন। 
"কারণ, মুজতাহিদ ইজতিহাদ করে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারলে দু’টি সওয়াব পান, আর ভুল করলে গোনাহ নয় বরং একটি সওয়াবের অধিকারী হন।"
[সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৭৩৫২]

মুয়াবিয়া (رضي الله عنه) এর বিদ্রোহটা সেই সময়কার নাজুক পরিস্থিতিতে অপারগতার হালতে ছিল। যেমন নামাযে দাঁড়ানোর পর নামায ছাড়া জায়েজ নয়, কিন্তু চোখের সামনে কাউকে গর্তে পড়ে যেতে দেখলে নামায ছেড়ে দিতে হয়। তেমনি সেসময় মুয়াবিয়া (رضي الله عنه) তার ইজতিহাদ অনুপাতে চূড়ান্ত অপারগ অবস্থায় চতুর্থ খলীফা হযরত আলী (رضي الله عنه) এর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। এটি তার ইজতিহাদী ভুল ছিল। কিন্তু এ কারণে তিনি ফাসিক, কাফের বা জাহান্নামী হয়ে যাননি।

▪ এ কারণেই আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআতের উলামাগণ এ বিষয়ে পরিস্কার ভাষায় নিজেদের মতামত ব্যক্ত করেছেনঃ

ان اهل السنة اجمعوا على ان من خرج على على كرم الله وجهه خارج على الامام الحق الا ان هذا البغى الاجتهادى معفو عنه (الناهية عن طعن معاوية-38

আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআতের এ বিষয়ে ইজমা ও একমত যে, হযরত আলী (رضي الله عنه) এর বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণকারীগণ ইজতিহাদের ভিত্তিতে এমনটি করেছেন। তাই তারা ক্ষমাপ্রাপ্ত। 
[আননাহিয়াহ আন তা’নি মুয়াবিয়া-৩৮]

▪ ইবনে হাজার আসকালানী (رحمة الله) লিখেছেনঃ

والظنّ بالصحابة في تلك الحروب أنهم كانوا فيها متأوّلين، وللمجتهد المخطئ أجر، وإذا ثبت هذا في حق آحاد الناس، فثبوته للصحابة بالطريق الأولى (الاصابة فى تمييز الصحابة-7/260، 4/151

অর্থাৎ সাহাবায়ে কেরাম (رضي الله عنه) এর পারস্পরিক যুদ্ধ বিষয়ে আমাদের ধারণা এই যে, তারা উপরোক্ত যুদ্ধ বিষয়ে মুজতাহিদ ছিলেন। আর ভুল ইজতিহাদকারী একটি সওয়াব পায়। যখন সাধারণ মুজতাহিদ ভুল করলে একটি সওয়াবের অধিকারী হন, সুতরাং এটি সাহাবায়ে কেরামের ক্ষেত্রে তা আরো অগ্রগণ্যতার সাথে সাব্যস্ত হবে। 
[আলইসাবাহ ফী তাময়িজিস সাহাবাহ-৭/২৬০, ৪/১৫১]

▪ হাফেজ ইবনে কাসীর (رحمة الله) লিখেছেনঃ

وَلَا يَلْزَمُ مِنْ تَسْمِيَةِ أَصْحَابِ مُعَاوِيَةَ بُغَاةً تَكْفِيرُهُمْ كَمَا يُحَاوِلُهُ جَهَلَةُ الْفِرْقَةِ الضَّالَّةِ مِنَ الشِّيعَةِ وَغَيْرِهِمْ لِأَنَّهُمْ وَإِنْ كَانُوا بُغَاةً فِي نَفْسِ الْأَمْرِ فَإِنَّهُمْ كَانُوا مُجْتَهِدِينَ فِيمَا تَعَاطَوْهُ مِنَ الْقِتَالِ وَلَيْسَ كُلُّ مُجْتَهِدٍ مُصِيبًا بَلِ الْمُصِيبُ لَهُ أَجْرَانِ وَالْمُخْطِئُ لَهُ أَجْرٌ،

হযরত মুয়াবিয়া (رضي الله عنه) এর জামাআত বিষয়ে বাগী তথা বিদ্রোহী মন্তব্য করার দ্বারা তাদেরকে কাফের বলা প্রমাণ করে না। যেমনটি অজ্ঞ দল পথভ্রষ্ট শিয়া ও অন্যান্যরা বলে থাকে। যদিও তারা মৌলিকভাবে বিদ্রোহী হন না কেন, কিন্তু তারা এ যুদ্ধ বিষয়ে মুজতাহিদ ছিলেন। আর সব মুজতাহিদই সর্বদা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। বরং সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারলে দু’টি সওয়াব পান, আর ভুল করলে একটি সওয়াব পান। 
[আলবিদায়া ওয়াননিহায়া-৩/২৬৫, ৩/২১৮, ৪/৫৩৮]

▪ আবুশ শাকুর সালেমী (রহঃ) বলেন,

وقد قلنا ان الباغى لا يفسق لان شهادته مقبولة بالاتفاق، والثانى ان الباغى ماول فى دعواه، ولان حد الباغى ان يدعى الامارة مع شبهة الدعوى وكان لهم شبهة الدعوى فتاولوا فى ذلك واخطأوا فى تاويلهم وخطاهم ما كان من الكبائر فى الدين حتى يوجب الفسق والكفر……. ولانه يجوز الصلاة والجمعة والحج وتولية القضاء وغير ذلك من الولاية من جهة الباغى دل أنه ما كان فاسقا (كتاب التمهيد فى بيان التوحيد لابى الشكور السالمى-167-168

অর্থাৎ,
আমরা বলি যে, বাগী ফাসিক নয়। কেননা, তার সাক্ষী সর্বসম্মতভাবে গ্রহণযোগ্য।
দ্বিতীয়ত, বাগী তার দাবীতে ব্যাখ্যাকারী। কেননা, বাগী ব্যক্তি আমীরত্বের দাবী করে থাকে আমীর হবার যোগ্য মনে করার কারণে। এক্ষেত্রে তারা ইজতিহাদ করে থাকে। 
আর তাদের ইজতিহাদটি ভুল। আর ভুলকারী ব্যক্তি দ্বীনের ক্ষেত্রে কবীরা গোনাহের হকদার হয় না। তাই ফাসিক বা কাফের হয় না। ….. তাছাড়া নামায, জুমআ, হজ্বের আমীর হওয়া এবং বিচারক হবার যোগ্যতা বাগী হবার কারণে তার থেকে হারিয়ে যায় না। যা প্রমাণ করে বাগী ব্যক্তি ফাসিক নয়। [আততামহীদ ফী বয়ানিত তাওহীদ, আবুশ শকুর সালেমীকৃত-১৬৭-১৬৮]

▪ সাদুদ্দীন তাফতাজানী (رحمة الله) তার কিতাব শরহুল মাকাসিদ গ্রন্থে, জঙ্গে সিফফীন ও জামালে অংশ নেয়া সাহাবাগণকে ফাসিক, কাফের, জালিম বলা জায়েজ নয় হবার কথা স্পষ্ট করেছেন। সেই সাথে হযরত আলী (رضي الله عنه) ও শামবাসীকে অভিশম্পাতকারীদের নিষেধ করে জানিয়েছেন যে, তাদের উপর অভিশম্পাত করো না, কারণ তারা আমাদেরই ভাই। তবে তারা ইজতিহাদী কারণে আমাদের বিরোধীতা করেছেন।

وليسوا كفارا ولا فسقة ولا ظلمة لما لهم من التاويل وان كان باطلا فغاية الامر انهم اخطأوا فى الاجتهاد وذلك لا يوجب التفسيق فضلا عن التكفير، ولهذا منع على رضى الله عنه اصحابه من لعن اهل الشام وقال اخواننا بغوا علينا (شرح المقاصد لسعد الدين التفتازنى-5/308

▪ ইমাম সুলতান মোল্লা আলী কারী (رحمة الله) লিখেছেন,

ثم كان معاوية مخطيا الا انه فعل ما فعل عن تأويل فلم يصر به فاسقا (شرح الفقه الاكبر-82

হযরত মুয়াবিয়া (رضي الله عنه) ভুলের উপর ছিলেন। কিন্তু তার কাজটি ছিল ইজতিহাদের ভিত্তিতে। তাই তাকে ফাসিক বলা যাবে না। 
[শরহে ফিক্বহুল আকবার, মোল্লা আলী কারীকৃত-৮২]

▪ ইমাম গাযালী (رحمة الله) লিখেছেন,

والظن بمعاوية أنه كان على تأويل وظن فيما كان يتعاطاه وما يحكى سوى هذا من روايات الآحاد فالصحيح منه مختلط بالباطل والاختلاف أكثره اختراعات الروافض والخوارج وأرباب الفضول الخائضون في هذه الفنون. فينبغي أن تلازم الإنكار في كل ما لم يثبت، وما ثبت فيستنبط له تأويلاً. فما تعذر عليك فقل: لعل له تأويلاً وعذراً لم أطلع عليه (الاقتصاد فى الاعتقاد-511-512

উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা আমরা একথা পরিস্কার জানতে পারলাম যে, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের উলামাগণের ঐক্যমত্ব হল যে, হযরত আমীরে মুয়াবিয়া (رضي الله عنه) ও তার জামাআত হযরত আলী (رضي الله عنه) এর খিলাফত বিষয়ে বাগী তথা বিদ্রোহী হলেও তিনি কাফেরতো দূরে থাকা ফাসিকও নন। বরং তিনি মুজতাহিদ হিসেবে সওয়াবের অধিকারী।

👉মুয়াবিয়া (رضي الله عنه) কে ফাসিক বলা মু’তাজিলা ফির্কার প্রতীকঃ
➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖

▪ জামেউল ঊসূল কিতাবে ইবনুল আছীর জাযারী (رحمة الله) প্রথমে লিখেন যে,

وذهب جمهور المعتزلة إلى أن عائشة وطلحة والزبير ومعاوية. وجميع أهل العراق والشام فُسَّاق بقتالهم الإمام الحق

জমহুর মু’তাজিলারা হযরত আয়শা (رضي الله عنه), হযরত তালহা (رضي الله عنه), হযরত যুবায়ের (رضي الله عنه), হযরত মুয়াবিয়া (رضي الله عنه) এবং ইরাক ও শামবাসীকে হযরত আলী (رضي الله عنه) এর সাথে যুদ্ধ করার কারণে ফাসিক হিসেবে আখ্যায়িত করে। 
[জামেউল উসুল ফী আহাদিসির রাসূল, ইবনুল আছীর জাযারীকৃত-১/১৩৩, ১/৭৩]

▪ তারপর তাদের রদ করে লিখেনঃ

وكل هذا جُرأة على السلف تخالف السنة، فإن ما جرى بينهم كان مبنيًا على الاجتهاد، وكل مجتهد مصيب، والمصيب واحد مثاب، والمخطئ معذور، لا تردُّ شهادته.

এসব পুরোটাই সালাফের বিপরীত স্পর্ধা প্রদর্শন এবং সুন্নাহ বিরোধী কাজ। কেননা, তাদের মাঝে যা কিছু সংঘটিত হয়েছে তা ছিল ইজতিহাদ নির্ভর। আর প্রতিটি মুজতাহিদই সওয়াব পায়। যিনি সঠিক সিদ্ধান্তে উপনিত হতে পারেন, তিনি সওয়াব পান, আর যিনি ভুল করেন, তারাও এতে মাজূর। তাদের সাক্ষ্য অগ্রহণীয় হয় না। [জামেউল উসূল ফী আহাদিসির রাসূল, ইবনুল আছীর জাযারীকৃত-১/১৩৩, ১/৭৪]

▪ হযরত ইবনে কাসীর (رحمة الله) লিখেছেনঃ

وقول المعتزلة: الصحابة عدول إلا من قاتل علياً -: قول باطل مرذول ومردود.

আর মু’তাজিলাদের কথা যে, সাহাবায়ে কেরামগণ ন্যায়নিষ্ঠ তবে যারা হযরত আলী (رضي الله عنه) এর সাথে যারা যুদ্ধ করেছেন তারা ন্যায়নিষ্ঠ নন: তাদের এ দাবীটি বাতিল, ঘৃণিত এবং অগ্রহণীয়। 
[আলবায়িছুল হাছীছ ইলা ইখতিছারি উলুমিল হাদীস, ইবনে কাছীরকৃত-১৮২, ১৮১]

👉 আমীরে মুয়াবিয়া (رضي الله عنه)'র  সমালোচনার নিষেধাজ্ঞাঃ
➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖

 ▪ সাহাবা কেরামের চোখে মুয়াবিয়া (رضي الله عنه) :
"হযরত উমর (رضي الله عنه)-এর উপস্থিতিতে একবার হযরত মুয়াবিয়া (رضي الله عنه) সম্পর্কে বিরূপ আলোচনা শুরু হলে সবাইকে থামিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, যে কুরায়েশী যুবক চরম ক্রোধের মুহূর্তেও হাসতে পারে, যার হাত থেকে স্বেচ্ছায় না দিলে কিছু ছিনিয়ে আনা সম্ভব নয় এবং যার শিরস্ত্রাণ পেতে হলে পায়ে লুটিয়ে পড়া ছাড়া উপায় নেই, তোমরা তারই সমালোচনা করছ?" -(আল ইসত’আব : খ-৩, পৃ-৩৭৭)

▪ আল্লামা হাফেজ ইবনে কাসীর বর্ণনা করেছেন, সিফফীন যুদ্ধ থেকে ফিরে এসে আপন অনুগামীদের লক্ষ্য করে হযরত আলী (رضي الله عنه) বলেছিলেন, হে লোক-সকল ! মুয়াবিয়ার শাসনকে তোমরা অপছন্দ করো না। কেননা তাঁকে যেদিন হারাবে সেদিন দেখবে, ধড় থেকে মুন্ডগুলো হানযাল ফলের মত কেটে কেটে পড়ে যাচ্ছে। -(আল বিদায়া : খঃ৮,পৃ-১৩১)

▪ তাবেয়ীনদের চোখে হযরত মুয়াবিয়া (رضي الله عنه) : “হযরত উমর বিন আব্দুল আজীজকে আমি কখনও কাউকে দোররা লাগাতে দেখিনি। তবে হযরত মুয়াবিয়ার সমালোচনা করার অপরাধে এক ব্যক্তিকে দোররা লাগাতে দেখেছি”। -(আল বিদায়া : খঃ ৮, পৃ-১৩৯)