বিখ্যাত গ্রন্থ ‘আল-মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়্যাহ’ সম্পর্কে ওলামাগণের বক্তব্য: | ইসলামী বিশ্বকোষ ও আল-হাদিস


বিখ্যাত গ্রন্থ ‘আল-মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়্যাহ’ সম্পর্কে ওলামাগণের বক্তব্য:
আল্লামা শায়খ ইবনে ঈমাদ হাম্বলী (ওফাত. ১০৮৯ হি.) এ কিতাবের প্রশংসা করে লিখেন-
وهو كتاب جليل المقدار، عظيم الوقع، كثير النّفع، ليس له نظير في بابه،
-আল-মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়্যাহ একটি মহিমান্বিত বড়ো ধরনের প্রভাব বিস্তারকারী ও বহু উপকার দানকারী কিতাব। হুযূর (দ.)’র সিরাত বিষয়ে এর তুলনাই হয় না।’’ (আল্লামা ইবনে ঈমাদ, শাজারাতুয যাহাব, ১০/১৭০ পৃ. দারু ইবনে কাসির, দামেস্ক, বয়রুত, প্রথম প্রকাশ. ১৪০৬ হি.)
এ গ্রন্থের প্রশংসায় আল্লামা হাজী খলিফা (ওফাত. ১০৬৭ হি.) লিখেন-
وهو: كتاب جليل القدر، كثير النفع. ليس له نظير في بابه.
-এটি (আল-মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়্যাহি) উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন কিতাব, অধিক উপকারি, এ বিষয়ক গ্রন্থ সমূহের মধ্যে এটির কোন তুলনা হয় না।’’ (আল্লামা হাজী খলিফা, কাশফুল যুনুন, ২/১৮৯৬ পৃ.)
এ গ্রন্থের ব্যাখ্যাকার আল্লামা যুরকানী (ওফাত. ১১২২ হি.) লিখেন-
وله عدة مؤلفات أعظمها هذه المواهب اللدنية، التي أشرقت من سطورها أنوار الأبهة والجلالة، وقطرت من أديمها ألفاظ النبوة والرسالة، أحسن فيها ترتيبًا وصنعًا، وأحكمها ترصيعًا، وكساه الله فيها رداء القبول، ففاقت على كثير مما سواها عند ذوي العقول.
তাঁর (কাসতালানীর) রয়েছে অসংখ্য গ্রন্থ, তন্মধ্যে ‘আল-মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়্যাহি’ উৎকৃষ্ট। যার প্রতিটি পংক্তি থেকে যেন বিচ্ছুরিত হচ্ছে প্রভাকর আলো এবং মহত্বের আলোকরশ্মি। সূচিকরণ অত্যন্ত মার্জিত ও চমৎকার। এর গূঢ় রহস্যাবলি রত্নখচিত। আর এর প্রতিটি পৃষ্ঠার মধ্যে নবুয়ত ও রিসালাতের শব্দগুলো এভাবে গাঁথা হয়েছে, যেন গোলাপের পাতায় শিশিরের ফোঁটা টপকে পড়ছে। তারপর তিনি কবিতা লিখেন-
‘আল্লাহ তাঁর এ কাজকে করুনার চাদর দিয়ে কবুল করুক
আমার চোখে গত হওয়া অসংখ্য বিদ্বানের মধ্যে তিনি এক অভিনব’।
(আল্লামা যুরকানী, শারহুল মাওয়াহেব, ১/১০ পৃ. দারুল কুতব ইলমিয়্যাহ, বয়রুত, লেবানন, প্রকাশ. ১৪১৭ হি.)
আল্লামা মহিউদ্দিন বিন আবদুল কাদির ‘আয়দারুসী (ওফাত. ১০৩৮ হি.) তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থে লিখেন-
الْمَوَاهِب اللدنية بالمنح المحمدية وَهُوَ كتاب جليل الْمِقْدَار عَظِيم الوقع كثير النَّفْع لَيْسَ لَهُ نَظِير فِي بَابه
-আল-মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়্যাহ একটি মহিমান্বিত, বড়ো ধরনের প্রভাব বিস্তারকারী ও বহু উপকার দানকারী কিতাব। হুযূর (দ.)’র জীবনী সংক্রান্ত বিষয়ে এর তুলনাই হয় না।’’ (আন-নুরুস সাফর আন আখবারিল কারনিল আশের, ১০৭ পৃ., দারুল কুতুব ইলমিয়্যাহ, বয়রুত, লেবানন, প্রথম প্রকাশ, ১৪০৫ হি.)

এ কিতাব প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই যুগের পর যুগ ইমামগণ শুধু তাঁর কিতাবের প্রশংসায়ই করে গেছেন ধারাবাহিক। আ‘লা হযরত (রহ.) তাঁর ‘ফাতওয়ায়ে রযভিয়্যাহ’ ৩০তম খণ্ডেসহ অনেকে কিতাবে এ কিতাবের প্রশংসা করেছে। আল্লাহ ইমাম কাসতালানীর দরজাত বুলুন্দ করুন এবং এ কিতাবের খেদমতে আমরা বাংলা ভাষা-ভাষি লোকেরা তাঁকে স্বরণ করে তাঁর পাশে থাকার কারণে কবুল করুক। আমিন