অযুখানা বিষয়ক মাসয়ালা | ইসলামী বিশ্বকোষ ও আল-হাদিস

মসজিদ সমূহের অযুখানা


মিসওয়াক করার কারণে অনেক সময় দাঁত দিয়ে রক্ত বের হওয়ার ফলে থুথু লাল হয়ে নাপাক হয়ে যায়। কিন্তু আফসোস! এর থেকে বাঁচার কোন তৎপরতা মানুষের মধ্যে দেখা যায় না। অধিকাংশ মসজিদের অযুখানাগুলোও ততবেশি গভীর করে তৈরী করা হয় না। ফলে অযু করার সময় লাল থুথু বিশিষ্ট কুলির নাপাক পানির ছিটা কাপড় বা শরীরে গিয়ে পড়ে তা নাপাক হয়ে যায়। অনুরূপ ঘরে নির্মিত গোসলখানার সমতল ও কঠিন মেঝে অযু করার সময়ও অযুর পানির ছিটা অধিক হারে কাপড় বা শরীরে গিয়ে পড়ে থাকে। তাই এর থেকেও সাবধানতা অবলম্বন করা একান্ত প্রয়োজন। 


ঘরে অযুখানা তৈরী করুন


বর্তমানে মানুষের মধ্যে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বেসিনে অযু করার প্রচলন দেখা যায়, যা মুস্তাহাবের পরিপন্থী। আফসোস! আজকাল মানুষেরা নিজেদের আরাম-আয়েশের জন্য অনেক বড় বড় বিলাস বহুল দালানকোঠা নির্মাণ করে থাকলেও এতে সামান্য একটি ছোট্ট অযুখানা তৈরী করতে তারা কার্পন্যতা বোধ করে। তাই সুন্নাতের প্রতি আন্তরিকতা আছে এমন ইসলামী ভাইদের প্রতি আমার মাদানী আবেদন, সম্ভব হলে আপনারা প্রত্যেকেই আপনাদের ঘরে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা সম্বলিত পাইপ বিশিষ্ট একটি অযুখানা তৈরী করে নিবেন। তবে অযুখানা বানানোর সময় বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখবেন, পানির ধারা যাতে সোজা মেঝেতে না পড়ে ঢালু জায়গায় গিয়ে পড়ে সেভাবে পাইপের নল ফিট করা হয়। অন্যথায় অযু করার সময় দাঁত দিয়ে রক্ত বের হলে সে রক্ত মিশ্রিত কুলির নাপাক পানির ছিটা কাপড় বা শরীরে গিয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকবে। আপনি যদি সে ছিটা থেকে বাঁচার যথাযথ ব্যবস্থা সম্বলিত একটি অযুখানা নির্মাণ করতে চান তাহলে এই রিসালার শেষে অযুখানার প্রদত্ত নমুনা অনুসরণ করেই করতে পারেন। ওয়াটার ক্লজেট তথা W.C তে পানি দ্বারা ইস্তিঞ্জা করার সময়ও সচরাচর পায়ের গোড়ালীর দিকে নাপাক পানির ছিটা এসে পড়ে। তাই শৌচকর্মের পর উভয় পা ভালভাবে ধৌত করে নেবেন। 


অযুখানা বানানোর নিয়ম

=============

পারিবারিক অযুখানার দৈর্ঘ্য হবে সাড়ে ৪২ ইঞ্চি এবং পৌন ৪৯" ইঞ্চি প্রস্থ, উচ্চতা জমিন থেকে পৌন ১৪ ইঞ্চি। উচ্চতা ১৪ ইঞ্চির উপরে থাকবে, সাড়ে ৭" ইঞ্চি প্রস্থ এবং দৈর্ঘ্য এক সিড়ি থেকে অন্য সিড়ি পর্যন্ত সাড়ে ৩২" ইঞ্চি উচ্চতা বিশিষ্ট সিড়ির ধাপের ন্যায় একটি বৈঠকখানা। বৈঠকখানাটি অযুখানার দৈর্ঘ্য বা প্রস্থ যে কোন বরাবরই হতে পারবে। বৈঠকখানা এবং সম্মুখস্থ দেয়ালের মাঝখানেব ব্যবধান থাকবে ২৫ ইঞ্চি। অযুখানাটির সামনের দিকে এমনিভাবে ঢালু (ঝখঙচঊ) করতে হবে যাতে নালা সাড়ে ৭ ইঞ্চির বেশি না হয়। পা রাখার স্থান পায়ের দৈর্ঘ্যরে চেয়ে সামান্য বেশি সর্বোচ্চ সাড়ে ১১ ইঞ্চি নিচুতে করতে হবে। এর পুরো জায়গায় সম্মুখস্থ স্থানে সাড়ে ৪ ইঞ্চি উঁচু নিচু করবে যাতে ঘষার ফলে পায়ের ময়লা (বিশেষ করে ঠান্ডার সময়) বের হয়ে চলে যায়। খ বা ট সাইজের একটি বক্র নল মাটি হতে ৩২ ইঞ্চি উপরে স্থাপন করতে হবে। এভাবে অযুখানা তৈরী করে পানির নল খুলে দেয়া হলে পানির ধারা ঢালু পায়োনালিতে গিয়ে পড়বে এবং আপনার জন্য দাঁতের রক্ত ইত্যাদি নাজাসাত হতে বেঁচে থাকা اِنۡ شَآءَ اللّٰہ عَزَّوَجَلَّ সহজ হয়ে যাবে। সামান্য সংস্কার করে মসজিদ সমূহেও অনুরূপ অযুখানা তৈরী করা যেতে পারে। 


নোট: যদি টাইলস লাগাতে হয়, তবে কম পক্ষে ঢালু জায়গায় সাদা রঙের লাগান, যাতে মিসওয়াক করার দ্বারা যদি দাঁত থেকে রক্ত বের হয় তবে থুথু ইত্যাদি নজরে পড়ে।