আমিরে মুয়াবিয়া (রা.) জান্নাতী হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন ডক্টর তাহিরুল কাদেরী | ইসলামী বিশ্বকোষ ও আল-হাদিস

সহিহ বুখারির হাদিস দ্বারা মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহুর জান্নাতি হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন আল্লামা ডক্টর মুহাম্মদ তাহিরুল কাদেরী উনার লিখিত খায়রুল মাআ-ব' (خير الماب) কিতাবে।

[মিনহাজিয়ানদের জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা রয়েছে]
======================
শায়খুল ইসলাম আল্লামা ডক্টর মুহাম্মদ তাহিরুল কাদেরীর একটি চমৎকার বইয়ের নাম হচ্ছে- "জান্নাতের বিশেষ সু-সংবাদ প্রাপ্ত ষাটজন পুরুষ ও মহিলা সাহাবী।"
"( خير الماب فيمن بشر الجنة
من الأصحاب)"

তিনি উক্ত বইয়ের 194-195 পৃষ্ঠায় সহিহ বুখারির, কিতাবুল জিহাদ ওয়াস সিয়ার-অধ্যায়ের একটি হাদিস উল্লেখ করেন,
قال رسول الله (صلى الله عليه وسلم) :
أول جيش من أمتي يغزون البحر، قد أوجبوا،
( صحيح البخاري : 410/1، ح : 2924 )

অর্থাৎ আমার উম্মতের মধ্যে প্রথম দল যারা সামুদ্রিক জিহাদ পরিচালনা করবে, তারা (মাগফিরাত ও জান্নাতকে) ওয়াজিব করে নেবে।

শায়খুল ইসলাম এই হাদিসের নিচে ব্যাখ্যা স্বরূপ হাদিসের বিশিষ্ট ইমাম, বুখারির ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'উমদাতুল ক্বারী'র লেখক, আল্লামা বদরুদ্দিন আইনী আল হানাফীর মতামত উল্লেখ করেনঃ
قال بدر الدين العيني في شرح قوله صلى الله عليه وسلم: (اول جيش من امتي يغزون البحر): أراد به جيش معاوية، و قال المهلب: معاوية اول من غزا البحر،

হুযুর নবীয়ে করিম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লামার ঘোষণা- "আমার উম্মতের মধ্যে যে দল সর্বপ্রথম সামুদ্রিক জিহাদ করবে" এই কথার ব্যাখ্যায় আল্লামা বদরুদ্দিন আল আইনী লিখেন, নবী করিম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লাম এই কথা দ্বারা মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহুর সৈন্যদল বুঝিয়েছেন। মুহাল্লব বলেছেন, মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু ঐ ব্যক্তি যিনি প্রথম সামুদ্রিক জিহাদ করেছেন।

*বুখারির এই হাদিসটি শব্দের ভিন্নতা সহকারে হাদিসের প্রসিদ্ধ গ্রন্থ সমূহে বর্ণিত হয়েছে।
*যেমন- সহিহ মুসলিম, সহিহ ইবনে হিব্বান, সুনানে আবু দাউদ, সুনানে ইবনে মাজাহ, সুনানে নাসাঈ, মুসনাদে আহমদ, মুস্তাখরাজ আবু আওয়ানাহ, সুনানে দারেমি, আল মু'জামুল কবির, আল মু'জামুল আউসাত, আল মুস্তাদরাক আলা সহিহায়ন, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকি, আশ শারিয়া লিল আজরি।
*রাছূলে আকরাম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লাম সামুদ্রিক জিহাদের জন্য সর্বপ্রথম বের হওয়া যে সৈন্যদলের জন্য ক্ষমাপ্রাপ্তি ও জান্নাতি হওয়ার সুসংবাদ প্রদান করেছিলেন, ঐ সেনাবাহিনীর প্রথম সিপাহসালার ছিলেন হযরত আমিরে মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু। হযরত সাইয়্যিদুনা উছমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর খেলাফতকালে 28 হিজরিতে এই সামুদ্রিক জিহাদ সংগঠিত হয় বলে মত প্রকাশ করেছেন মুহাদ্দিস ও ঐতিহাসিকগণ।

*ইমাম ইবনে মাজাহ রহ. 'সুনানে ইবনে মাজাহ'তে উপরোক্ত হাদিস বর্ণনা করার পর বলেন,
فخرجت مع زوجها عبادة بن الصامت غازية أول ما ركب المسلمون البحر مع معاوية بن أبى سفيان،( سنن ابن ماجه، باب فضل غزوة البحر، حديث 2776)
"যখন হযরত মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে সামুদ্রিক জিহাদের জন্য মুসলিম সেনাবাহিনী রাওয়ানা হলেন, তখন উম্মে হারাম রাদিয়াল্লাহু আনহাও আপন স্বামী হযরত উবাদাহ বিন ছামিত রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর সাথে জিহাদের জন্য ঐ সৈন্যদলের সাথে বের হলেন"।

*ইমাম বায়হাকি 'দালায়িলুন নবুওয়া'তে, ইমাম আজরি 'আশ-শারিয়া'তে মুহাদ্দিস ফিরইয়াবি সূত্রে বর্ণনা করেন যে,
وكان أول من غزا معاوية في زمان عثمان بن عفان، ( الشريعة للأجرى، حديث 1922)
"হযরত উসমান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর জামানায় সামুদ্রিক জিহাদের জন্য হযরত আমিরে মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু সর্বপ্রথম বের হয়ে ছিলেন।

*এছাড়া আল্লামা কুস্তালানি 'ইরশাদুছ ছারি'তে, আল্লামা নাওয়াওয়ী 'শরহে সহিহ মুসলিম' এ, আল্লামা ইবনে বাত্তাল 'শরহে সহিহ বুখারি'তে, আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানি 'ফাতহুল বারি'তে একই কথা বলেছেন।

*শায়খুল ইসলামের উক্ত আলোচনা থেকে একথা দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট যে, হযরত আমিরে মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু আল্লাহর হাবিব ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লামার নবুওয়াতের যবানে ঘোষিত জান্নাতি ব্যক্তিদের একজন। যা বুখারির উক্ত হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। কারণ আল্লাহর হাবিবের দু'আ ও সুসংবাদ আল্লাহর দরবারে সর্বাবস্থায় মকবুল। তাই হযরত আমিরে মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু সহ যে কোনো সাহাবীয়ে রাছূলের ব্যাপারে কথাবার্তা বলতে যেন আমরা সাবধানতা অবলম্বন করি। নিজের ঈমান ও আমলকে বরবাদ না করি। আল্লাহ্ সবাইকে বুঝার তাওফিক দান করুন, আমিন।