কন্সটিনেন্টপোল বিজয়ের হাদীস | ইসলামী বিশ্বকোষ ও আল-হাদিস

মুসনাদ আহমদে এসেছে—

18957:(4/335):— 

حدثنا عبد الله بن محمد بن أبي شيبة_ [قال عبد الله ابن أحمد :] وسمعته أنا من عبد الله بن محمد بن أبي شيبة _ قال:حدثنا زيد بن الحباب قال: حدثني الوليد بن المغيرة المعافري قال: حدثني عبد الله بن بشر الخثعمي عن أبيه أنه سمع النبي ﷺ يقول: «التفتحن القسطنطينية، فليعم الأمير أميرها، ولنعم الجيش ذلك الجيش» 

অর্থাৎ—

ইমাম আব্দুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ ইবন আবি শায়বাহ হাদীস বর্ণনা করেন যায়দ বিন হুবাব হতে,তিনি ওয়ালিদ বিন মুগিরাহ হতে,তিনি আব্দুল্লাহ বিন বিশর হতে আর তিনি স্বীয় পিতা হযরত বিশর গানাওয়ী রাঃ হতে বর্ণনা করেন,

 «নবীজী ﷺ বলেন,নিশ্চিতরূপে তোমরা কুসতুনতিনিয়া জয় করবে। সুতরাং তার আমির কতই না উত্তম হবে এবং তার জয় লাভকারী সৈন্যরাও কতই না উত্তম হবে!»

সৌদীর দারুসসালাম হতে প্রকাশিত মুসনাদের তাহকিকে লেখা আছে—

إسناده ضعيف لجهالة عبدالله بن بشر، وقد اختلف على زيد بن الحباب في اسمه واسم أبيه ونسبه

হাদীসটির সনদ দূর্বল।কেননা আব্দুল্লাহ বিন বিশর অপরিচিত এবং যায়দ বিন আল-হুবাব এর নাম,পিতার নাম এবং নসব নিয়ে ইখতেলাফ আছে।



এখন আমরা প্রথমে এই দুইজনকে নিয়ে একটু আলোচনা করবো।

 আব্দুল্লাহ বিন বিশর:—

 এই নামখানা নিয়ে একটু এখতেলাফ দেখা গেছে,কেউ আব্দুল্লাহ লিখেছেন কেউ উবায়দুল্লাহ লিখেছেন।

 তবে ইমাম বোখারী 'তারিখুল কাবীর' এর মধ্যে ২/৮১ তে,হযরত বিশর গানাওয়ী রাঃ এর ব্যাখ্যায় উবায়দুল্লাহ বিন বিশর হিসেবে বর্ণনা করে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।


 

 কিন্তু ইমাম ইবনে মুনদাহ,মারিফাতিস সাহাবা,১/২২৯ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেন,

أخبرنا عبد الرحمن بن يحيى، قال: حدثنا أبو مسعود، عن زيد بن الحباب، عن الوليد بن المغيرة، عن عبد الله بن بشر الغنوي، عن أبيه، قال: سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول: «لتفتحن القسطنطينية نعم الأمير أميرها ونعم الجيش جيشها».

رواه أبو كريب، عن زيد، عن الوليد بن المغيرة، عن عبيد بن بشر الغنوي، عن أبيه بطوله، والأول أصح

—অর্থাৎ দুইটি ভিন্ন সনদে আব্দুল্লাহ/ওবায়দুল্লাহর মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করে উনি(ইমাম মুনদাহ) বলেন, আব্দুল্লাহ বিন বিশর এর সনদটি 'আসাহহু',দুটির মধ্যে অধিকতর বিশুদ্ধ।

➤'আল-ইসাবাহ ফি তাময়িযুস সাহাবাহ' কিতাবে ইমাম ইবনে হাজার স্পষ্ট করেছেন যে,বিশরের পুত্রের নাম আব্দুল্লাহ।(১ম খন্ড)


ইমাম বাগাভী 'মুজামুস সাহাবা' কিতাবের ১ম খন্ডে ২০ নং জীবনীতে 'আব্দুল্লাহ বিন বিশর' উল্লেখ পূর্বক বলেন—

'ইমাম আবুল ক্বাসিম বলেছেন,ওয়ালিদ বিন মুগীরা মিশরের অধিবাসী এবং হাদীস শরীফের 'সালিহ' ব্যক্তি।'(মানে অন্য রাবীর ব্যাপারেও নির্ভরযোগ্য হবার ব্যাপারে সাক্ষ্য দিয়েছেন উনি)



অর্থাৎ বুঝা গেলো 'আব্দুল্লাহ বিন বিশর' একজন তাবেয়ী ছিলেন এবং যারা 'উবায়দুল্লাহ' হিসেবে উল্লেখ করেছেন তারাও তাকে তাবেয়ী হিসেবেই উল্লেখ করেছেন।

যায়দ বিন হুবাব:


উনি হাদীস বর্ণনায় ভুল করতেন এবং উনার ব্যাপারে কিছু মতানৈক্য পরিলক্ষিত হলেও বড় এক জামাত তাকে 'সিকাহ' বা বিশ্বস্তদের অন্তর্ভুক্ত এবং 'সাদূক' বা সত্যবাদী হিসেবে উল্লেখ করেছেন।এমনকি ইমাম ইবনে আদী বলেছেন,'তার সত্যবাদীতার উপর সন্দেহ করা অনুচিত।'(মিযানুল ইতেদাল,২৯৯৭নং জীবনী,হাফেয যাহাবী)


সর্ব সাকল্যে উপনীত হওয়া সিদ্ধান্তে ইমাম শামসুদ্দীন যাহাবী 'তাযকিরাতুল হুফফাজ' কিতাবের ১ম খন্ডের ৩৫০ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেন—


قلت: ثقة وغيره اقوا منه

—''আমি বলছি:তিনি বিশ্বস্ত। তবে অন্যান্য রা তার চেয়ে শক্তিশালী "।

যাহাবীর এ মন্তব্য কস্মিনকালেও হুবাব এর দূর্বলতার পক্ষে সাক্ষ্য দেয় না।বরঙ তাকে হাফিজুল হাদীসদের তালিকাভুক্ত রাখাটা হুবাব এর সনদ 'হাসান' হবার দিকে নির্দেশ করে। 

এই সনদের ব্যাপারে ইমামদের অভিমত এবং অন্যান্য স্থানে উল্লেখের বর্ণনা:


➤➤কাশফুল আসতার আন যাওয়াইদিল বায্যার,১৮৪৮ নং হাদীসে ইমাম নুরুদ্দীন হায়সামী বলেন,বর্ণনাকারীরা সবাই বিশ্বস্ত।


➤➤উসদুল গাবাহ কিতাবে ,৪৩৭ নং সাহাবীর জীবনীতে,ইমাম ইবনে ইবনে আছীর আল জাযরি ৩টি সনদের কথা উল্লেখ করে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।


➤➤মা'আরিফাতিস সাহাবা,১১৭৭ এবং ১১৭৮নং হাদীস হিসেবে ইমাম আবু নুয়াইম আসবাহানী বর্ণনা করেন।

➤➤'আল ইস্তিয়াব' কিতাবে 'বিশর গানাওয়ী রাঃ' এর বর্ণনায় ইমাম ইবনে আব্দিল বার হাদীসটি উল্লেখ করে বলেন,

إٍسنادُهُ حسنٌ

বা,হাদীসটির সনদ হাসান।


➤➤ইমাম নুরুদ্দীন হায়সামী 'মাজমাউয যাওয়াইদ' এর ৬ষ্ঠ খন্ডের ২১৮ পৃষ্ঠায় তরজুমাতুল বাব এনেছেন


باب فتح القسطنطينية ورومية

—কন্সটিনেন্টপোল এবং রোম বিজয়ের বাব।

উনি হাদীসটি বর্ণনা করে বলেন,

ورجاله تقات

— বর্ণনাকারীরা বিশ্বস্ত।

➤➤আগেই বলা হয়েছে,ইমাম ইবনে মুনদাহ বলেন,

والأول أصح

—প্রথম সনদটি(দ্বিতীয় সনদ অপেক্ষা) 'আসাহহু',অধিকতর বিশুদ্ধ।

(মা'আরিফাতিসসাহাবা,১/২২৯)


➤➤ইমাম আবু বকর ইবনে ইসমাইল আল-বুসিরী (৬৪০হি.) উনার 'ইত্তিহাফুল খায়রাতিল মাহরাহ' কিতাবের ৯৯৪৩ নং হাদীসে উল্লেখ করেন,এই হাদীসটি ইমাম ইবনে আবি শায়বা স্বীয় 'মুসান্নাফ' এবং ইমাম আহমদ স্বীয় 'মুসনাদ' এ বিশ্বস্ত রাবীদের সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

➤➤কিতাবু যাইলাল কাশেফ,১৩১ নং জীবনীতে হাদীসটি বর্ণিত হবার কথা উল্লেখ আছে,হাফেয আবি যুরআ আহমদ বিন আব্দুর রাহীম ইরাকী (৮৬২হি)

➤➤ইমাম ইবনু হাজার আসকালানী র: 'ইতহাফুল মাহারাহ' কিতাবে ২৩৯৭ নং হাদীস হিসেবে এটি বর্ণনা করে বলেন,ইমাম ইবনে খুযাইমাহ এটি 'জিহাদ' এবং 'ফিতান' গ্রন্থদ্বয়ে সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন।

✪তারিখুল কাবীর,২/৮১,ইমাম বুখারী এবং 'সগীর' ১/৩০৬পৃ:

✪তারিখুল আওসাত,[1482] ومن طريقه ابن عساكر عن محمد بن العلاء عن زيد بن الحباب، وعنده “عن ابن بشر الغنوي“.ইমাম বুখারী


✪ইমাম ইবনে হিব্বান বলেছেন,বিশর গানাওয়ী হলো উবায়দুল্লাহর পিতা,যিনি নবীজীর কাছ থেকে কন্সটিনেন্টপোল বিজয়ের হাদীস শুনেছেন।

[কিতাবুস সিকাত,৩/৩১]


➤➤ইমাম তাবারানি,মুজামুল কাবীর,২/৩৮,১২১৬ নং হাদীস হিসেবে উল্লেখ করেছেন


حدثنا معاذ بن المثنى ثنا علي بن المديني وحدثنا الحسين بن إسحاق التستري ثنا عثمان بن أبي شيبة قالا ثنا زيد بن الحباب عن الوليد بن المغيرة المعافري حدثني عبد الله بن بشر الغنوي حدثني أبي أنه سمع رسول الله ﷺ يقول لتفتحن القسطنطينية ولنعم الأمير أميرها ولنعم الجيش ذلك الجيش 


যাইদ বিন হুবাব' ব্যতীত সনদ:


হাকিম নিশাপুরীর হাদীস,মুস্তাদরাক আলাস সহিহাইন (৪/৪২২)

أخبرني عبد الله بن محمد الدورقي،ثنا محمد بن إسحاق الإمام ، ثنا عبدة بن عبد الله الخزاعي،حدثني الوليد بن المغيرة، حدثني عبد الله بن بشر الغنوي،حدثني أبي قال : سمعت رسول الله ﷺ یقول: «لتفتحن القسطنطينية ولنعم الأمير أميرها ولنعم الجيش ذلك الجيش» 

 

هذا حديث صحيح الإسناد ولم يخرجاه.


 

হাকেম বলেন হাদীসটিত সনদ সহিহ।কিন্তু (এটা শায়খাইনরা বর্ণনা) বর্ণনা করেন নি।

 

এবং ইমাম যাহাবী তালখিসে কোনো সমালোচনা করেন নি।


তারিখে দামেষ্ক এর ৫৮ তম খন্ডের ৩৪-৩৫ পৃষ্ঠার সনদ সমূহ যার কোনোটায় পূর্ণ হাদীস আর কোনোটায় কেবল 'লাতুফতাহান্নাল কুস্তান্তিনিয়া' উল্লেখ:


সনদ ১:


أخبرنا أبو الفتح يوسف بن عبد الواحد، أنا شجاع بن علي، أنا أبو عبد الله بن مندة، أنا عبد الرحمن بن يحيى، نا أبو مسعود، عن زيد بن الحباب، عن الوليد بن المغيرة، عن عبد الله بن بشر الغنوي، عن أبيه قال :سمعت النبي ﷺ.يقول: «لتفتحن القسطنطينة


সনদ ২:


أخبرناه أبو الحسن علي بن محمد الخطيب، أنا أبو منصور النهاوندي، أنا أبو العباس، أنا أبو القاسم بن الأشقر، نا البخاري، نا محمد بن العلاء، نا زيد بن الحباب، حدثني الوليد بن مغيرة، عن ابن بشر الغنوي، عن أبيه سمع النبي ﷺ يقول: «لتفتحن القسطنطينة……


সনদ ৩:


واخبرتنا عالياً أم البهاء فاطمة بنت محمد قالت : أنا أبو الفضل الرازي، أنا جعفر بن عبد الله، نا محمد بن هارون، نا أبو كريب، نا زيد بن حباب، أنا الوليد بن المغيرة المعافري، عن عبيد الله بن بشر الغنوي، عن أبيه قال : سمعت رسول اللہ ﷺ یقول: «لتفتحن القسطنطينة،..............


সনদ ৪:


أخبرناه أبو محمد حمزة بن العباس، وأبو الفضل بن سليم ـ في كتابيهما ـ وحدثني أبو بكر اللفتواني ـ عنهما ـ قالا : أنا أبو بكر الباطرقاني، نا محمد بن إسحاق، نا أبو سعيد بن یونس، علي بن أحمد بن سليمان، نا محمد بن علي بن محرز نا زيد بن الحباب، نا الوليد بن المغيرة المعافري، حدثني عبيد الله بن بشر الخثعمي عن أبيه


সনদ ৫:


أخبرناه أبو القاسم بن الحصين، أنا أبو علي بن المذهب، أنا أحمد بن جعفر، نا عبد الله بن أحمد، حدثني أبي نا عبد محمد ـ قال عبد الله : من عبد الله ابن محمد بن أبي شيبة - نا زيد بن الحباب، حدثني الوليد بن المغيرة المعافري، حدثني عبد الله وسمعته أنا بن الله بن بشر الخثعمي، عن أبيه .أنه سمع النبي ﷺ يقول: «لتفتحن القسطنطينة،



সনদ ৬:

أخبرنا أبو القاسم بن السمرقندي، أنا أبو بكر محمد بن هبة الله، أنا علي بن محمد بن عبد الله، أنا عثمان بن أحمد، نا محمد بن أحمد بن البزاء قال : قال علي بن المديني: الوليد ابن أبي المغيرة أبو العباس المعافري، حدثني عبد الله بشر، عن أبيه عن النبي.ﷺ:



সিদ্ধান্ত:হাদীসটি বিশুদ্ধ।ওয়াল্লাহু আ'লাম।বিহুরমাতি সাইয়্যিদিল মুরসালিন ﷺ