উস্তাদ ছাড়া একা একা ইলমে দ্বীন অর্জনের ক্ষতিকর দিকগুলোঃ | ইসলামী বিশ্বকোষ ও আল-হাদিস

উস্তাদ ছাড়া একা একা উস্তাদ হওয়া যায় কি-না।

সংকলকঃ Mahmud Hasan

ইলমের সংজ্ঞা :

‘ইলম’ আরবী শব্দ ﺍﻟﻌﻠﻢ মাছদার থেকে উৎকলিত। অর্থ ﺍﻻﺩﺭﺍﻙ ﻭﺍﻟﻤﻌﺮﻓﺔ বুঝা, উপলব্ধি করা। পারিভাষিক অর্থ,

ﻫﻮ ﻧﻮﺭ ﻳﻘﺬﻓﻪ ﺍﻟﻠﻪ ﻓﻰ ﻗﻠﺐ ﻣﻦ ﻳﺤﺒﻪ ﻳﻌﺮﻑ ﺑﻪ ﺣﻘﺎﺋﻖ

ﺍﻻﺷﻴﺎﺀ ﻭﻏﻮﺍﻣﻀﻬﺎ

‘এটা এমন আলো, যা আল্লাহ তাঁর প্রিয় মানুষের অন্তরে ঢেলে দেন। অতঃপর তিনি তা দ্বারা বস্ত্তর তত্ত্ব ও রহস্য জানতে পারেন’।

শিক্ষক ছাড়া শুধুমাত্র কিতাব পড়ে নিজে নিজে গবেষনা করে কি আলেম হওয়া যায়….?

আমরা বর্তমানে এমন একটি যামানায় এসে উপনিত হয়েছি, যে যামানা রাসূল (صلى الله عليه وآله وصحبه وسلم) এর হাদীসের ভাষ্য অনুযায়ী শেষ যামানা। রাসূল (صلى الله عليه وآله وصحبه وسلم) শেষ যামানার যে সব আলামত বর্ণনা করেছেন তার অনেকটা এখন আমাদের মাঝে দেখা যায়। তাই উলামায়ে কিরাম বলেন, কিয়ামত অনেকটা নিকটে চলে আসছে।

বর্তমানে আমাদের সমাজে এমন কিছু লোক বের হয়েছে যারা কুরআন হাদীসের অপব্যাখ্যা করে মানুষদের পথভ্রষ্ট করছে।

আহলে সুন্নাতের পক্ষ থেকে যখন তাদের ভ্রান্ত কথার প্রতিবাদ করা হয় তখন তার বা তাদের ভক্তগণ তেলে বেগুনে জ্বলে উঠে। তারা যে ভুল করেছে তা তার ভক্তরা মানতে রাজী না।

সম্মানীত দ্বীনি ভাইয়েরা, অনেকের মনে প্রশ্ন: তারা কুরআন হাদীসের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এত ভুল কেন করে থাকে? তার একটাই জবাব তারা নিয়মত্রান্তিক ভাবে কোন বিজ্ঞ আলেমের কাছে পড়া লিখা করেন নি।

একটি জিনিস লক্ষ করবেন, আহলে সুন্নাহর আলেমগণ যখন বলে তারা তো কোন আলেম না, তাদের কথায় ভুল থাকা স্বাভাবিক। তখন তার বা তাদের ভক্তরা বলে, সে আলেম না কি? সে যদি আলেম না হতো তাহলে কুরআন হাদীসে ব্যাখ্যা কিভাবে করে?

তাদের যখন বলা হয় সে নিয়মত্রান্তিকভাবে কোন আলেম থেকে পড়া লিখা করেন নাই, তাই সে আলেম না। কারণ আলেম হতে হলে নিয়মত্রান্তিকভাবে বিজ্ঞ লোক থেকে জ্ঞান অর্জন করতে হয়।

তখন তারা বলে, সে কোন আলেমের কাছে না পড়লে কি হবে সে নিজে নিজে কুরআন পড়ে গবেষনা করে তার পর ব্যাখ্যা করে থাকে। আলেম হতে হলে কি মাদ্রাসায় পড়া লাগে না কি?

সম্মানীত দ্বীনি ভাইয়েরা, আসলে কি কোন ব্যক্তি নিজে নিজে কুরআন হাদীস পড়ে গবেষনা করে আলেম হতে পারবে? এর উত্তর একটাই “কখনোই কোন ব্যক্তি নিজে নিজে গবেষনা করে আলেম হতে পারবে না”।

কিন্তু বড় পরিতাপের বিষয় আমাদের সে সব ভাইয়েরা এই কথা মানতে রাজি না যে, “কখনো কোন ব্যক্তি নিজে নিজে গবেষনা করে আলেম হতে পারবে না”।

তাই আলোচনা করবো, কেউ কি উস্তাদ ব্যতীত নিজে নিজে গবেষনা করে আলেম হতে পারবে? এই বিষয়ে। ইনশাআল্লাহ।

প্রিয় পাঠকবৃন্দ, আমরা প্রথমে ছোট একটা কথা বুঝে নেই যাতে করে আমরা অতি সহজে বিষয়টা বুঝতে পারি।

আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন তার বান্দাদের দ্বীনের পথে পরিচালিত করার জন্য ছোট বড় মোট ১০৪ টি আসমানী কিতাব নাযিল করেছেন। এই ১০৪ খানা আসমানী কিতাবের শিক্ষা মানুষদের দেয়ার জন্য তিনি লাক্ষাধিক নবী রাসূল পাঠিয়েছেন।

আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন কোন কিতাব নবী ছাড়া পাঠান নি। সব কিতাবের জন্য শিক্ষক হিসেবে কোন না কোন নবীকে পাঠিয়েছিলেন। এমন কি একটা কিতাবের জন্য কয়েক শত নবীও পাঠিয়েছেন।

এর থেকে একটা কথা পরিস্কার ভাবে বুঝা যায় যে, কোন ব্যক্তি আসমানী কিতাব বুঝে তার উপর আমল করতে হলে সে বিষয়ে যে জ্ঞানী তার থেকে প্রথমে শিক্ষাগ্রহণ করতে হবে। তার পর সে আমল করবে এবং অন্যকে বুঝাবে।

যদি বিষয়টা এমন না হতো তাহলে আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের জন্য এক জন ফেরেশ্তার মারফতে একটা কিতাব পাঠিয়ে দিয়ে বলতো যে, তোমরা এই কিতাব একা একা পড়ে সে অনুযায়ী আমল করে নাও। কিন্তু আল্লাহ তায়ালা এমন করেন নাই। এর থেকে আল্লাহ তায়ালার নীতিও পরিস্কার বুঝে চলে আসে। আর তা হলো "শিক্ষা অর্জন করার জন্য শিক্ষক প্রয়োজন"।

সম্মানীত দ্বীনি ভাইয়েরা, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وآله وصحبه وسلم) এর পবিত্র সুন্নাহও শিক্ষার ক্ষেত্রে এমনই। যেমন, সাহাবীগণ শিক্ষ গ্রহন করেছেন স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وآله وصحبه وسلم) থেকে। আর সাহাবায়ে কিরাম থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন তাবেয়ীগণ। আর তাদের থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন তবে তাবেয়ীগণ। এই ধারাবাহিকতা মুসলিম উম্মাহর মাঝে এখনো বিদ্যমান আছে। কেউ যদি শিক্ষা গ্রহণ করার জন্য এর বাহিরে কোন পদ্ধতি অবলম্বন করে নিজে নিজে বই পড়ে আলেম হতে চায় তাহলে তা কখনো সম্ভব নয়। সেটা হবে আল্লাহ তায়ালা ও রাসূল (صلى الله عليه وآله وصحبه وسلم) এর সুন্নাহর (নিয়মের) পরিপন্থি।

পবিত্র কালামুল্লাহ থেকে এর দলীল
______________
আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন রাসূল(صلى الله عليه وآله وصحبه وسلم) কে দুনিয়াতে কেন পাঠিয়েছেন, এর প্রধান কারণসমূহ বর্ণনা করতে গিয়ে আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফে বলেন,

ﻛَﻤَﺎ ﺃَﺭْﺳَﻠْﻨَﺎ ﻓِﻴﻜُﻢْ ﺭَﺳُﻮﻟًﺎ ﻣِﻨْﻜُﻢْ ﻳَﺘْﻠُﻮ ﻋَﻠَﻴْﻜُﻢْ ﺁﻳَﺎﺗِﻨَﺎ ﻭَﻳُﺰَﻛِّﻴﻜُﻢْ ﻭَﻳُﻌَﻠِّﻤُﻜُﻢُ ﺍﻟْﻜِﺘَﺎﺏَ ﻭَﺍﻟْﺤِﻜْﻤَﺔَ ﻭَﻳُﻌَﻠِّﻤُﻜُﻢْ ﻣَﺎ ﻟَﻢْ ﺗَﻜُﻮﻧُﻮﺍ ﺗَﻌْﻠَﻤُﻮﻥ

অর্থ, যেমনিভাবে আমি তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের মাঝে এক জন রাসূল পাঠিয়েছি। যাতে করে সে তোমাদের কাছে আমার আয়াতসমূহ তেলাওয়াত করে। এবং তোমদের আত্মশুদ্ধী করে এবং তোমাদের কিতাব শিক্ষা দেয় এবং তোমাদের হেকমত (সুন্নাহ/হালাল হারাম) শিক্ষা দেয়। এবং তোমাদের ঐসব কিছু শিক্ষা দেয় যা তোমরা জানো না।

[সুরায়ে বাকারাঃ আয়াত ১৫১]।

সম্মানীত দ্বীনি ভাইয়েরা, আমরা এই আয়াতের দিকে লক্ষ্য করলে সহজে একটা কথা বুঝতে পারি আর তাহলো যে, আল্লাহ তায়ালা তার হাবীব মুহাম্মদুর রাসূলুল্লাহ্ (صلى الله عليه وآله وصحبه وسلم) কে দুনিয়াতে পাঠানোর পাঁচটা কারণ এই আয়াতে উল্লেখ করেন।

প্রথম কারন, কুরআন তিলাওয়াত করা।
দ্বিতীয় কারণ, আত্মশুদ্ধী করা (যা বর্তমান যামানার হক্কানী পীর সাহেবগণ করে থাকেন)।
তৃতীয় কারণ, কুরআন শিক্ষা দেওয়া (হাদীস হবে কুরআনের ব্যাখ্যা)।
চতুর্থ কারণ, হেকমত তথা সুন্নাহ বা হালাল হারাম ইত্যাদি শিক্ষা দেওয়া। এবং
পঞ্চম কারণ হলো, ঐ সমস্ত জিনিস শিক্ষ দেওয়া যা তারা জানতো না।

সম্মানীত পাঠকবৃন্দ, এর থেকে আমরা এটাই বুঝতে পারলাম যে, আল্লাহ তায়ালা তার হাবীব মুহাম্মাদ সাঃ কে একজন শিক্ষক হিসাবে দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন। তিনি এসে তার সাহাবীদের দ্বীনের বিষয়াদী শিক্ষা দিয়েছেন। তারা দিয়েছেন তাবেয়ীদের। এই ধারাবাহিকতা মুসলিম উম্মাহর মাঝে এখনো বিদ্যমান আছে। ইনশা আল্লাহ কিয়ামত পর্যন্ত থাকবে।

রাসূল সাঃ উম্মাতের জন্য শিক্ষক হিসাবে পাঠানোকে আল্লাহ তায়ালা তার বান্দাদের উপর এক বড় অনুগ্রহ হিসাবে উল্লেখ করেছেন। যেমন আল্লাহ তায়ালা বলেন,

ﻟَﻘَﺪْ ﻣَﻦَّ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟْﻤُﺆْﻣِﻨِﻴﻦَ ﺇِﺫْ ﺑَﻌَﺚَ ﻓِﻴﻬِﻢْ ﺭَﺳُﻮﻟًﺎ ﻣِﻦْ ﺃَﻧْﻔُﺴِﻬِﻢْ ﻳَﺘْﻠُﻮ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ ﺁﻳَﺎﺗِﻪِ ﻭَﻳُﺰَﻛِّﻴﻬِﻢْ ﻭَﻳُﻌَﻠِّﻤُﻬُﻢُ ﺍﻟْﻜِﺘَﺎﺏَ ﻭَﺍﻟْﺤِﻜْﻤَﺔ

অর্থ, আল্লাহ তায়ালা মুমিনদের উপর অনুগ্রহ দয়া করেছেন, তাদের নিকট তাদের মধ্য থেকে একজন রাসূল পাঠিয়ে। যাতে করে সে তাদের নিকট আয়াতসমূহ তেলাওয়াত করে। এবং তাদের আত্মশুদ্ধী করে এবং তাদের কিতাব শিক্ষা দেয় এবং তাদের হেকমত (সুন্নাহ/হালাল হারাম) শিক্ষা দেয়।

[সুরা আলে এমরানঃ আয়াত নং ১৬৪]।

সম্মানীত দ্বীনি ভাইয়েরা, একটু চিন্তা করে দেখেন, যে জিনিসকে আল্লাহ তায়ালা মুমিন বান্দাদের জন্য নেয়ামত হিসাবে উল্লেখ করেছেন সেটা কত বড় নেয়ামত হতে পারে।

এর থেকে আমরা সহজে বুঝতে পারি যে, উম্মাতে মুহাম্মদিয়ার সর্ব প্রথম শিক্ষক হলেন, রাসূলূল্লাহ (صلى الله عليه وآله وصحبه وسلم)।
আজ যারা শিক্ষক ছাড়া শিক্ষা অর্জন করে জ্ঞানী হওয়া যায় বলে সমাজে ফিতনা ছড়াচ্ছে তারা আল্লহ তায়ালা এবং তার হাবীবের (صلى الله عليه وآله وصحبه وسلم) সুন্নাত পরিপন্থি কথা বলে সাধারণ মানুষদের পথভ্রষ্ট করছে।

সম্মানীত দ্বীনি ভাইয়েরা, আমরা উপরে কুরআনের আলোকে আলোচনা করেছি যে, কোন ব্যক্তি কুরআন হাদীস নিজে নিজে পড়ে গবেষনা করে কখনো জ্ঞানী হতে পারেনা। এটা আল্লহ তায়ালা এবং তার হাবীব (صلى الله عليه وآله وصحبه وسلم) এর সুন্নাত (নিয়ম) পরিপন্থি। বরং কেউ কুরআন হাদীসের সঠিক পন্থায় জ্ঞান অর্জন করতে হলে তাকে অবশ্যই কোন না কোন আলেমের কাছে (এই বিষয়ে জ্ঞানী লোকের কাছে) নিয়মতান্ত্রীক ভাবে পড়তে হবে। অন্যথায় তার পথভ্রষ্ট হওয়া আবশ্যকীয়। যা আমাদের সামনে বিধ্যমান।

এবার রাসূল (صلى الله عليه وآله وصحبه وسلم) এর হাদীস এবং মুজতাহিদ ইমাম মুহাদ্দিসদের উক্তির আলোকে এই বিষয়ে কিছু আলোচনা করবো। ইনশা আল্লাহ।

হাদীসে রাসূল ও আছারে সাহাবা থেকে এর দলীল
________________
রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وآله وصحبه وسلم) পরিস্কার ভাষায় বলেছেন যে, দ্বীনি ইলম শিক্ষা করতে হয় আলেমের সান্নিধ্য থেকে। একা একা পড়ে দ্বীনের জ্ঞান অর্জন করা যায়না। ইমাম বুখারী রহঃ তার কিতাবে উল্লেখ করেন। হাদীসটি হলো,

ﻗَﺎﻝَ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲُّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻣَﻦْ ﻳُﺮِﺩِ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺑِﻪِ ﺧَﻴْﺮﺍً ﻳُﻔَﻘِّﻬْﻪُ ﻓِﻰ ﺍﻟﺪِّﻳﻦِ ، ﻭَﺇِﻧَّﻤَﺎ ﺍﻟْﻌِﻠْﻢُ ﺑِﺎﻟﺘَّﻌَﻠُّﻢ

অর্থ, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وآله وصحبه وسلم) বলেন, আল্লাহ তায়ালা যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান (ইলমে ফিক্হ) দান করেন। আর ইলম অর্জন করতে হয় (অন্যের সান্নিধ্যে থেকে) অধ্যায়নের মাধ্যমে।

[সূত্রঃ ছহীহ বুখারীঃ হাদীস নং ১/২৪ হাদীস নং ৬৭]।

সম্মানীত দ্বীনি ভাইয়েরা, এই হাদীসের দিকে লক্ষ্য করুন, রাসূল (صلى الله عليه وآله وصحبه وسلم) পরিস্কার ভাষায় বলে দিয়েছেন যে, ইলেম অর্জন করতে হয় অধ্যায়নের মাধ্যমে। আমরা এটা সকলেই জানি যে, শিক্ষা অর্জন করার জন্য শিক্ষকের প্রয়োজন হয়। যা আমরা পূর্বের আলোচনা থেকে এসেছি।

এ হাদীসের ব্যাখ্য করতে গিয়ে আল্লামা আইনী রহঃ (৮৫৭হিঃ) বলেন:

ﺃﻱ ﻟﻴﺲ ﺍﻟﻌﻠﻢ ﺍﻟﻤﻌﺘﺪ ﺇﻻ ﺍﻟﻤﺄﺧﻮﺫ ﻋﻦ ﺍﻷﻧﺒﻴﺎﺀ ﻋﻠﻴﻬﻢ ﺍﻟﺼﻼﺓ ﻭﺍﻟﺴﻼﻡ ﻋﻠﻰ ﺳﺒﻴﻞ ﺍﻟﺘﻌﻠﻢ ﻭﺍﻟﺘﻌﻠﻴﻢ

অর্থাৎ, গ্রহণযোগ্য ইলম হল,যা নবীদের থেকে শিক্ষাদানের পদ্ধতিতে অর্জিত হয়।

[সূত্রঃ উমদাতুল কারী শরহে বুখারীঃ ২/৪৮৩ “শামেলা”]।

এই হাদীসের ব্যাখ্যায় বুখারী শরীফের অতুলনীয় ব্যাখ্যাকার হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী রহঃ (৮৫২হিঃ) বলেন,

ﻭﺍﻟﻤﻌﻨﻰ ﻟﻴﺲ ﺍﻟﻌﻠﻢ ﺍﻟﻤﻌﺘﺒﺮ ﺍﻻﺍﻟﻤﺄﺧﻮﺫ ﻣﻦ ﺍﻷﻧﺒﻴﺎﺀ ﻭﻭﺭﺛﺘﻬﻢ ﻋﻠﻰ ﺳﺒﻴﻞ ﺍﻟﺘﻌﻠﻢ

অর্থাৎ, শুধুমাত্র সে ইলম গ্রহণযোগ্য, যা নবীদের থেকে অথবা নবীর ওয়ারিসদের থেকে শিক্ষাদানের মাধ্যমে অর্জিত হয়।

[সূত্রঃ ফাতহুল বারী শরহে বুখারীঃ ১/২৯৪]।

ইবনে হজর আসকালানী রহঃ যে বলেছেন, শুধুমাত্র সে ইলম গ্রহণযোগ্য, যা নবীদের থেকে অথবা নবীর ওয়ারিসদের থেকে শিক্ষাদানের মাধ্যমে অর্জিত হয়। সম্মানীত দ্বীনি ভাইয়েরা, নবীগনের ওয়ারিস কারা, এই কথা আর বলার অপেক্ষা রাখে না যে, তারা হলেন গুরুজন তথা আলেম ওলামা।

হাদীসে আছে রাসূল (صلى الله عليه وآله وصحبه وسلم) বলেন,

ﺇِﻥَّ ﺍﻟْﻌُﻠَﻤَﺎﺀَ ﻫُﻢْ ﻭَﺭَﺛَﺔُ ﺍﻟْﺄَﻧْﺒِﻴَﺎﺀ

অর্থ, ওলামাগণ হলেন নবীগণের ওয়ারিস।

[সূত্রঃ মসনদে আহমদঃ ৩৬/৪৬ হাদীস নং ২১৭১৫, সুনানে আবু দাউদঃ ২/৩৪১ হাদীস নং ৩৬৪১]।

এখান থেকে এটা পরিস্কার ভাবে বুঝা যায় যে, বর্তমানে সেই ইলেমই গ্রহণযোগ্য যা আলেমগণ থেকে শিক্ষা করবে। কারণ, এখন তো আর কোন নবী আসবে না যে, তার থেকে ইলেম শিক্ষা করবে।

রাসূল (صلى الله عليه وآله وصحبه وسلم) এর প্রসিদ্ধ সাহাবী আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাঃ বলেন:

ﻗَﺎﻝَ ﻋَﺒْﺪُ ﺍﻟﻠﻪِ : ﺇﻥَّ ﺍﻟﺮَّﺟُﻞَ ﻻَ ﻳُﻮﻟَﺪُ ﻋَﺎﻟِﻤًﺎ ، ﻭَﺇِﻧَّﻤَﺎ ﺍﻟْﻌِﻠْﻢُ ﺑِﺎﻟﺘَّﻌَﻠُّﻢِ

অর্থাৎ, কোন মানুষ আলেম হয়ে জন্ম গ্রহণ করেনা। বরং কারো সান্নিধ্যে থেকে ইলম অর্জন করতে হয়।

[সূত্রঃ মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বাঃ ৮/ ৫৪২ হাদীস নং,২৬৬৪৬ “শায়খ মুহাম্মাদ আওয়ামা দাঃবাঃ তাহকীককৃত”]।

প্রিয় পাঠকবৃন্দ, উল্লিখিত আলোচনা আলোচনা থেকে আপনারা অবশ্যই বুঝতে পারছেন যে, কখনো কোন ব্যক্তি নিজে নিজে গবেষনা করে আলেম হতে পারবে না। অবশ্যই তাকে কোন না কোন আলেম থেকে নিয়মতান্ত্রীকভাবে পড়ে তার পর আলেম হতে হবে।

এই বিষয়ে বড় বড় ইমাম ও মুহাদ্দিসীনে কিরামদের অভিমত

শিক্ষক ছাড়া ইলেম অর্জন করা যায় না এই বিষয়ে বড় বড় সব আলেম, ইমাম মুজতাহিদ এক মত পোষণ করেছেন। কোন ইমাম কোথাও একথা বলেন নাই যে, ইলমে দ্বীন অর্জন করার জন্য কোন আলেমের সোহবত প্রয়েজন নেই। রবং সবাই বলেছেন, শিক্ষক ছাড়া শিক্ষা অর্জন করা যায় না।

এখানে অতিসংক্ষেপে কয়েক জন ইমাম ও মুহাদ্দিসের কথা উল্লেখ করছি।
_______________
ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহঃ

যারা আলেমদের সাথে যোগাযোগ রাখেনা তাদের সাথে ইমাম আহমদ রহঃ ইলমি বিষয়ে কথা বলতে ইচ্ছুক না। কিতাবে আছে,

ﺍﻥ ﺍﻟﻤﻌﺘﺼﻢ ﺍﻟﻌﺒﺎﺳﻲ ﻗﺎﻝ ﻟﻼﻣﺎﻡ ﺍﺣﻤﺪ ﻛﻠﻢ ﺍﺑﻲ ﺩﺍﺅﺩ ، ﻓﺎﻋﺮﺽ ﻋﻨﻪ ﺍﻻﻣﺎﻡ ﺑﻮﺟﻬﻪ ﻭﻗﺎﻝ ﻛﻴﻒ ﺍﻛﻠﻢ ﻣﻦ ﻟﻢ ﺍﺭﻩ ﻋﻠﻲ ﺑﺎﺏ ﻋﺎﻟﻢ ﻗﻂ

অর্থ, আব্বাসী খলীফা মু’তাছিম ইমাম আহমদ ইবানে হাম্বল রহঃ কে বললো, ( কোন এক ইলমি বিষয়ে) ইবনে আবু দাউদের সাথে কথা বলেন। আহমদ ইবনে হাম্বল রহঃ তার থেকে মূখ ফিরেয়ে নিলেন এবং বললেন, এমন ব্যক্তির সাথে কিভাবে আলোচনা করবো, যাকে কোন দিন কোন আলেমের দরজায় দেখি নাই?

[সূত্রঃ আল-ইলমা লিল কাযী ইয়াযঃ ২৮]।

ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহঃ এর কথার দিকে লক্ষ্য করুন, তিনি ঐ ব্যক্তির সাথে আলোচনা করতেও রাজী নন, যে কোন আলেম থেকে শিক্ষা গ্রহন করে নি।

আজ যারা আমাদের বলে, আপনারা কেন তাদের সাথে সরাসরি বসে কথা বলেন না তারা যেন ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহঃ এর এই কথাটা ভালো করে স্মরণ করে।

ইমাম আবূ যুরআ রহঃ বলেন,

ﻻﻳﻔﺘﻲ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﺻﺤﻔﻲ ﻭﻻ ﻳﻘﺮﺋﻬﻢ ﻣﺼﺤﻔﻲ

অর্থ, শুধু বই পড়ে কেউ ফাতওয়া দিবে না। শুধু কুরআন পড়ে কেউ কারী হবে না।

[সূত্রঃ আল ফকীহ ওয়াল মুতাফাক্কিহঃ ১৯৪]।

দেখেন আবু যুর‘আ রহঃ কি বলেছেন, শুধু মাত্র নিজে নিজে কিতাব পড়ে যেন কেউ ফতওয়া না দেয়। তার অর্থ হলো, ফাতওয়া দেয়ার জন্য কোন না কোন শিক্ষক থেকে শিক্ষা অর্জন করতে হবে। তার পর সে ফাতওয়া দিবে।

আল্লামা ইবনে জামায়া রহঃ তাযকিরাতুস সামে নামক কিতাবে আছে, আল্লামা ইবনে জামায়া রহঃ বলেন,

ﻣﻦ ﺃﻋﻈﻢ ﺍﻟﺒﻠﻴﺔ ﺗﺸﻴﺦ ﺍﻟﺼﺤﻴﻔﻪ

অর্থ, বড় বড় মসীবতের অন্যতম কারণ, কিতাবকে উস্তাদ বানানো।

[সূত্রঃ তাযকিরাতুস সামেঃ ৮৭]।

সম্মানীত দ্বীনি ভাইয়েরা, কিতাবকে উস্তাদ বানানো কত বড় মসীবত তা আজ আমাদের সামনে দিনের আলোর মত পরিস্কার। শিক্ষক ছাড়া আলেম হয়ে আজ নিজেও পথভ্রষ্ট আবার হাজার হাজার লোকদের পথভ্রষ্ট করছে। এর থেকে আর বড় মসীবত কি হতে পারে যে, এক জন মুসলমানকে পথভ্রষ্ট করা।

ইমাম সাখাবী রহঃ বলেন,

ﻣﻦ ﺩﺧﻞ ﻓﻲ ﺍﻟﻌﻠﻢ ﻭﺣﺪﻩ ﺧﺮﺝ ﻭﺣﺪﻩ

অর্থ, যে ব্যক্তি একাকী ইলেমের পথে প্রবেশ করলো (ইলিম হাছিল করার জন্য) সে একাকী সেখান থেকে বের হয়ে গেলো।

অর্থাৎ সে কোন ইলেম অর্জন করতে না পেরে সেখান থেকে খালী হাতে বের হয়ে গেলো।

[সূত্রঃ আল-জাওয়াহিরু ওয়াদ দুরারঃ ১/৫৮]।

এভাবে যদি ইমাম ও মুজতাহিদদের কথা উল্লেখ করতে থাকি তাহলে আলোচনা অনেক লম্বা হয়ে যাবে। তাই আর ইমাম ও মুহাদ্দিসদের কথা উল্লেখ করলাম না।

সম্মানীত দ্বীনি ভাইয়েরা, কুরআন, হাদীস এবং ইমাম ও মুজতাহিদদের কথা থেকে এই কথা পরিস্কার হয়ে যায় যে, কোন আলেম থেকে শিক্ষা গ্রহণ না করে কোন ব্যক্তি শুধু মাত্র কিতাব পড়ে কখনো আলেম হতে পারবে না। যদি কেউ হতে চায় তাহলে সে নিজেও পথভ্রষ্ট হবে অন্যকেও পথভ্রষ্ট করবে। এবং এটাকে অনেক মুহাদ্দিস বড় মসীবত হিসাবে উল্লেখ করেছেন। এমন কি ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহঃ তাদের সাথে (যারা কোন শিক্ষক থেকে ইলিম অর্জন করে নাই) ইলমি বিষয়ে কথা বলতেও রাজী নন।

এর পরেও কি বললেন, উস্তাদ ছাড়া শিক্ষা অর্জন করা যায়?

হাদীস শরীফে আলেম ব্যক্তির বৈশিষ্ট্য বর্নিত আছে-
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা’লা আনহুগন জিজ্ঞাসা করলেন ইয়া রসূল্লাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমরা কার সংসর্গ গ্রহন করবো…?

জবাবে হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন-

(১) যাকে দেখলে আল্লাহ পাকের কথা স্মরন হয়।

(২) যার কথা শুনলে দ্বীনি ইলিম বৃদ্ধি পায়।

(৩) যার আমল দেখলে পরকালের কথা স্বরন হয়।
[সূত্রঃ মুসনাদে আহমদ,সুনানুল কুবরা]।

পৃথিবীর যেকোন বিষয়ের শিক্ষা যদি উক্ত বিষয়ের বিশেষজ্ঞদের সংস্পর্শে থাকা ব্যতীত আয়ত্ব করা না যায় তাহলে দ্বীনে ইসলামের বুঝ দ্বীনের অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সংস্পর্শে থাকা ছাড়া কিভাবে অর্জিত হতে পারে… ?

তাই যারা বলে শুধু বই পড়ে ইলিম শিখা যাবে বর্তমানে কোন উস্তাদের দরকার নেই কেননা এখন যাবতীয় সব কিছু বাংলা, ইংরেজী, উর্দু ইত্যাদি হয়ে গেছে তাই এগুলো পড়ে পড়েই ইলিম অর্জন করতে পারবো ।

কিন্তু আজ আমাদের তো তাই হচ্ছে অর্থাৎ বাংলা পড়ে পড়ে নিজে নিজে মুহাদ্দিস। তাই তো ফতোয়া দিতে কোন প্রকার ভ্রক্ষেপ করে না ।সে ফতোয়া বোঝক বা না বোঝক তাতে কিছু আশে যায় না। ফতোয়া দিলেই তো হলো।

অথচ সে জানে না কুরাআন হাদিসে এমন কিছু অস্পষ্ট বিষয় রয়েছে যা উস্তাদ ছাড়া কষ্মিন কালেও বুঝা সম্ভব নয় ।

যাইহোক, এবার আসুন উস্তাদ ব্যতীত ইলিম শিখলে কি হয় তা দেখি।
______________
ইলম দ্বীন অর্জনে উস্তাদের আবশ্যকতা :

যে কোনো জ্ঞান অর্জনের জন্য উস্তাদের প্রয়োজন ।

তাইতো হযরত ওমর রাঃ বলেন,

নিশ্চয় ইলম, শিক্ষা গ্রহনের মাধ্যমেই হাসিল করতে হয় ।

ইমাম শাফেঈ রহঃ বলেন,

যে ব্যক্তি কিতাব পড়ে ফকীহ হলো, সে শরীয়াতের হুকুমকে জলাঞ্জলি দিলো ।

ইমাম সাখারী রহঃ বলেন,

যে ব্যক্তি একাকী ইলিমের পথে প্রবেশ করলো, সে একাকী সেখান থেকে বের হয়ে গেলো।

আল্লামা ইবনে জামা’আ রহঃ বলেন,

কিতাবকে নিজের উস্তাদ বানানো বড় বড় মুসীবতের অন্যতম কারন ।

ইমাম আবু যুর’আ রহঃ বলেন,

“শুধু বই পড়ে কেউ ফাতাওয়া দিবে না এবং শুধু কুরাআন পড়ে কেউ কারী হবে না।”

[সূত্রঃ আলফকীহ_ওয়াল মুতাফাক্কীহ পৃঃ ১৯৪; আলজাওয়াহীরু ওয়াদা দুরার খ. ১ পৃঃ ৫৮; তাযকিরাতুস সামে পৃঃ ৮৭]।

কামালুদ্দিন শামানী এর বিখ্যাত কবিতা-

ﻣﻦ ﻳﺄﺧﺬ ﺍﻟﻌﻠﻢ ﻋﻦ ﺷﻴﺦ ﻣﺸﺎﻓﻬﺔً *** ﻳﻜﻦ ﻣﻦ ﺍﻟﺰﻳﻒ ﻭﺍﻟﺘﺼﺤﻴﻒ ﻓﻲ ﺣﺮﻡِ

ﻭﻣﻦ ﻳﻜﻦ ﺁﺧﺬﺍً ﻟﻠﻌﻠﻢ ﻣﻦ ﺻﺤﻒ *** ﻓﻌﻠﻤﻪ ﻋﻨﺪ ﺃﻫﻞ ﺍﻟﻌﻠﻢ ﻛﺎﻟﻌﺪﻡ

“যে ব্যক্তি তাঁর শায়েখের নিকট থেকে সরাসরি ইলম শিক্ষা করে, সে বিকৃতি ও জালিয়াতি থেকে পবিত্র থাকে।

আর যে ব্যক্তি কিতাব পড়ে ইলম অর্জন করে, আলেমদের নিকট তার ইলম কোন ইলমই নয়”

আল্লামা শাওকানী (রহঃ) লিখেছেন,

ﺇﻥَّ ﺇﻧﺼﺎﻑ ﺍﻟﺮﺟﻞ ﻻ ﻳﺘﻢُّ ﺣﺘَّﻰ ﻳﺄﺧﺬ ﻛﻞَّ ﻓﻦٍّ ﻋﻦ ﺃﻫﻠﻪ ﻛﺎﺋﻨﺎً ﻣﺎ ﻛﺎﻥ

“কোন ব্যক্তি ততক্ষণ পর্যন্ত ন্যায় নিষ্ঠার উপর প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে জ্ঞানের প্রত্যেক শাখায় অভিজ্ঞ লোকদের কাছ থেকে জ্ঞান অর্জন করবে।”

আল্লামা শাওকানী (রহঃ) আরও বলেছেন,

ﻭﺃﻣَّﺎ ﺇﺫﺍ ﺃﺧﺬ ﺍﻟﻌﻠﻢ ﻋﻦ ﻏﻴﺮ ﺃﻫﻠﻪ، ﻭﺭﺟَّﺢ ﻣﺎ ﻳﺠﺪﻩ ﻣﻦ ﺍﻟﻜﻼﻡ ﻷﻫﻞ ﺍﻟﻌﻠﻢ ﻓﻲ ﻓﻨﻮﻥ ﻟﻴﺴﻮﺍ ﻣﻦ ﺃﻫﻠﻬﺎ ، ﻓﺈﻧَّﻪ ﻳﺨﺒﻂ ﻭﻳﺨﻠﻂ

“কথিত আলেম যদি অযোগ্য লোকের কাছ থেকে ইলম শিক্ষা করে এবং জ্ঞানের সংশ্লিষ্ট শাখায় পারদর্শী নয় এমন লোকের বক্তব্যকে সে প্রাধান্য দেয়, তবে সে অনুমান নির্ভর এবং অবিমৃশ্যকারী।”
[সূত্রঃ আদাবুত তলাব ও মুনতাহাল আরাব, পৃষ্ঠা-৭৬]।

আল্লামা সাখাবী (রহঃ) লিখিত “আল-জাওয়াহিরু ওয়াদ দুরারু” নামক কিতাবে রয়েছে,

“ ﻣﻦ ﺩﺧﻞ ﻓﻲ ﺍﻟﻌﻠﻢ ﻭﺣﺪﻩ؛ ﺧﺮﺝ ﻭﺣﺪَﻩ ”
“যে ব্যক্তি একাকী ইলমের পথে প্রবেশ করল, সে একাকী সেখান থেকে বের হয়ে গেল”

[সূত্রঃ আল জাওয়াহির ওয়াদ দুরার, খণ্ড-১, পৃষ্ঠা-৫৮]।

তাই বলা যায়, যে ব্যক্তি একা একা কিতাব পড়ে ইলম অর্জন করে, আলেমদের নিকট তার ইলম কোন ইলমই নয়।