শায়খ আবদুর রাজ্জাক হতে সাবধান | ইসলামী বিশ্বকোষ ও আল-হাদিস

হে আবদুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ তুমি আলিম নাকি জালিম?
— তাহমিদ আতিফ রায়হান

                     بسم اللّه الرّحمن الرّحيم
               الصّلوة والسّلام عليك يارسول اللّه

আজ ফেসবুকে বাংলাদেশের আহলে হাদীস ফিরকার অন্যতম শায়খ  আবদুর রাজ্জাক বিন ইউসুফের একটা ভিডিও ভাইরাল হয়েছে দেখলাম। বরাবরের মত এই বক্তব্যেও তার গাজাখোরী কথা আমাকে রাগান্বিত করেছে।একজন আলিম দাবীদার শায়খ কিভাবে এভাবে এতগুলো মিথ্যাচার করতে পারে? আমি তাকে সামনে পেয়ে এটা জিজ্ঞেস করতাম ওহে শায়খ দাবীদার তুই কোন মাদ্রাসা থেকে কুরআন হাদীসের শিক্ষা নিয়েছিস? বস্তুত তুই একটা মূর্খ জাহিল বদ আর কাজ্জাব। কুরআন হাদীস সম্পর্কে তোর কোন জ্ঞানই নাই। আমাদের মত আ'ম পাবলিক (জেনারেল শিক্ষিত যুবক, নর-নারী) দেরকে আর কত গোমরাহ আর পথভ্রষ্ট করবি তোর গাজাখোরী ওয়াজ দিয়ে। আল্লাহর ভয় নাই তোর মিথ্যুক??? 😡😡😡

কিছুদিন আগেও তার গাজাখোরী ওয়াজের কারনে ২ কোটি টাকার মানহানীর মামলা খাওয়া এই আবদুর রাজ্জাক তার দূর্গন্ধময় কথা দ্বারা এবারো প্রিয় রাসুলে পাক আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম এর শান মুবারকে মানহানী করে চলেছে। এবার যেন তার বেয়াদবীর মাত্রা আরো ছাড়িয়ে গেছে। আমি এই কাজ্জাবের (কাট্টা মিথ্যুক) কথায় একের পর এক বিস্মিত হচ্ছি।তার গাজাখোরী ওয়াজ শুনে ইমাম বায়হাকীর (রহ.) রচিত শুয়াবুল ইমানের ঐ হাদীস শরীফের কথা বারবার মনে পড়ছে,

প্রিয় রাসূল ﷺ বলেছেন,   ''আমি অচিরেই লোকদের উপর এমন একটি সময় আসার আশংকা করছি যখন কেবলমাত্র নাম ছাড়া ইসলামের আর কিছুই থাকবে না এবং কুরআনের লিখিত রূপটি ছাড়া তার বাস্তবায়ন থাকবে না। মসজিদগুলো চাকচিক্যে ভরপুর হলেও হিদায়াত থেকে বঞ্চিত হবে। ঐ সময়কার আলেমরা হবে আসমানের নিচে বিচরণকারী সর্ব নিকৃষ্ট জীব। তাদের থেকেই বিভিন্ন ফিৎনা ছড়াবে এবং তারা নিজেরাও সেই ফিৎনায় আবর্তিত হবে।'' (শুয়াবুল ইমান)

এই আবদুর রাজ্জাক ওরফে জালিম কাজ্জাবকে দেখলেই বুঝা যায় রাসূলে পাক আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম ১৪ শ বছর আগে ভবিষ্যতবানী এই সকল খবিশদেরকে উদ্দেশ্য করেই বলেছিলেন।

পেট্রো ডলারের লোভে ইমান বিকিয়ে দেয়া এসব খবিশ হারামজাদারা ইহুদী খ্রীষ্টানদের এজেন্ডা বাস্তবায়ের জন্য কাজ করছে বহু আগে থেকেই। রাসুলে পাক আলাইহিস সালাম এর যুগ থেকেই মুনাফিক চক্রের কার্যক্রম চলে আসছিল। যারা ইসলামের লেবাস পরিধান করে ইসলামের ভিতর ফিতনা ফ্যাসাদ সৃষ্টি করে মুসলমানদের মধ্যে অনৈক্যের বীজ বপন করে দিয়েছিল। এসব কাজ্জাবরাও তাদের পূর্বসূরীদের মত ইহুদী খ্রীষ্টানদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে মুসলমান সেজে মুনাফিকী করছে।

পাঠক আসুন এই কাজ্জাবের বক্তব্যের কিছু অংশ তুলে ধরি....

আবদুর রাজ্জাকের দাবী হল—
১)  হুযুর পাক  এর রওজায়ে পাক যিয়ারত করতে গিয়ে দোয়া করা গুনাহে কবীরা (বড় গুনাহ)
২) মদীনার লোকেরা হজ্জ করার জন্য মক্কায় যায় সুতরাং, মদীনায় যাবেন কেন? 😡
৩) মদীনায় কোন কাজ নেই, একদিনও যাবে না মদীনায়। (অর্থাৎ, রাসুলের রওজা যিয়ারত নিছকই মূল্যহীন কাজ)
৪) রওজাতুল মিন রিয়াজুল জান্নাহ তে নামায পড়া বিদআত।

তার বক্তব্য মোটামুটি এমনই। ভিডিও দিয়েছি আপনাদের বিশ্বাস না হলে ভিডিওটি দেখতে পারেন। এখন আমি একটা একটা করে তার খন্ডন করবো ইনশা আল্লাহ....

তার দাবী খন্ডন করার পূর্বে আমি প্রথমে আল্লাহ তা'য়ালা তার প্রিয় হাবীব, রাসূলে আরাবী, ছরকারে দো'জাহান, নুরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ﷺ এর কি মর্যাদা দিয়েছেন তার সংক্ষিপ্ত আলোচনা করবো।

আল্লাহ পবিত্র কুরআনে তাঁর প্রিয় হাবীবের শানে দুরূদ ও সালাম প্রেরণ করেন। সূরা আহযাবে আল্লাহ তা'য়ালা বলেন—

ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻭَﻣَﻠَﺎﺋِﻜَﺘَﻪُ ﻳُﺼَﻠُّﻮﻥَ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﻳَﺎ ﺃَﻳُّﻬَﺎ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺁﻣَﻨُﻮﺍ ﺻَﻠُّﻮﺍ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠِّﻤُﻮﺍ ﺗَﺴْﻠِﻴﻤًﺎ
আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি রহমত প্রেরণ করেন। হে মুমিনগণ! তোমরা নবীর জন্যে রহমতের তরে দোয়া কর এবং তাঁর প্রতি সালাম প্রেরণ কর। [ সুরা আহযাব ৩৩:৫৬ ]

তাহলে এবার চিন্তা করুন যে মহান সত্ত্বার প্রতি স্বয়ং আল্লাহ ও তাঁর ফিরিশতারা দুরূদ পড়েন তার মর্যাদা কত বেশি হতে পারে। কাজ্জাব আবদুর রাজ্জাকদের মত দালাল মুনাফিকরা তা বুঝতে অক্ষম।

আল্লাহ তা'য়ালা আরো বলেন,

ﻭَﻣَﺎ ﺃَﺭْﺳَﻠْﻨَﺎﻙَ ﺇِﻟَّﺎ ﺭَﺣْﻤَﺔً ﻟِّﻠْﻌَﺎﻟَﻤِﻴﻦَ
অর্থাৎ, আমি আপনাকে সমগ্র জগত ও জগতবাসীর জন্যে রহমত ও অনুকম্পা হিসেবে প্রেরণ করেছি।
(সূরাঃ আম্বিয়া, আয়াত- ১০৭)

আল্লাহ তাঁর প্রিয় রাসুলকে আমাদের জন্য রহমত এবং দয়া হিসেবে প্রেরণ করেছেন। আর কাজ্জাব আবদুর রাজ্জাক তা বুঝতে অক্ষম।

আল্লাহ তা'য়ালা আরো বলেন-

ﻭَﺭَﻓَﻌْﻨَﺎ ﻟَﻚَ ﺫِﻛْﺮَﻙَ
আমি আপনার আলোচনাকে (মর্যাদা) সুউচ্চ করেছি।
(সূরাঃ ইনশিরাহ, আয়াত- ৪)

স্বয়ং আল্লাহ পাক যে নবীর আলোচনা করাকে সুউচ্চ মর্যাদা দিয়েছেন, ঐ কাজ্জাব আবদুর রাজ্জাকের গাজাখোরী কথায় কি আসে যায়?

★★ ১ নং আপত্তি খন্ডনঃ

কাজ্জাব আবদুর রাজ্জাক প্রথম দাবী ছিল যে, রাসূলের কাছে দোয়া করা গুনাহে কবীরা। (নাউযুবিল্লাহ)। কতবড় জাহিল আর মাক্কার হলে আলিম দাবিদার শায়খ এমন কথা বলতে পারে? আমি তাকে আলিম বলবো না সে একটা জাহিল আর কাজ্জাব। আল্লাহর কিতাব আর হাদীস সম্পর্কে তার কোন জ্ঞানই নাই। যদি থাকতো তাহলে এমন গাজাখোরী কথা বলতে পারতো না সে।
এবার দেখুন আল্লাহ তা'য়ালা কি বলেন—

আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জত ইরশাদ করেন,

 ﻭَﻟَﻮْ ﺃَﻧَّﻬُﻢْ ﺇِﺫْ ﻇَﻠَﻤُﻮﺍ ﺃَﻧْﻔُﺴَﻬُﻢْ ﺟَﺎﺀُﻭﻙَ ﻓَﺎﺳْﺘَﻐْﻔَﺮُﻭﺍ ﺍﻟﻠَّﻪَ
ﻭَﺍﺳْﺘَﻐْﻔَﺮَ ﻟَﻬُﻢُ ﺍﻟﺮَّﺳُﻮﻝُ ﻟَﻮَﺟَﺪُﻭﺍ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﺗَﻮَّﺍﺑًﺎ ﺭَﺣِﻴﻤًﺎ *
“আর তারা যখন নিজের আত্মার উপর যুলুম করে আপনার (রাসূলের) দরবারে এসে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে এবং তিঁনি (রাসুল) তাদের জন্য সুপারিশ করেন। তাহলে অবশ্যই আল্লাহ তা'য়ালাকে তওবা কবুলকারী এবং অতি দয়ালু পাবে। (সূরাঃ নিসা, আয়াত- ৬৪)

ইমাম সুবকী (রহ.) তাঁর ‘শিফাউস সিকাম’ গ্রন্থে এর ব্যাখ্যায় বলেছেন, ‘যদিও আয়াতটি রাসূল ﷺ এর জীবদ্দশার সাথে সম্পর্কিত তদুপরি ওফাতের সাথে সাথে তাঁর এ মর্যাদার পরিসমাপ্তি ঘটে নি। এ কারণে বলা যায় সকলের জন্যই আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনার এ পদ্ধতির সর্বজনীনতা রয়েছে,তাই আলেমগণ উপরিউক্ত আয়াত হতে সর্বজনীনতা বুঝে থাকেন এবং রাসূলের কবরের নিকট উক্ত আয়াত পাঠ করা মুস্তাহাব। (সিফাউস সিকাম, পৃ. ৮১-৮২)

ওহে কাজ্জাব বিন ইউসুফ দেখে নাও রাসূলের শান দেখলে তোমরা ওহাবী খারেজীরা জ্বলতে থাকো। এবার আল্লাহর উপর মাতব্বরী করার সাহস দেখাও।

২ ও ৩ নং আপত্তি খন্ডনঃ
মদীনার লোকেরা হজ্জ করার জন্য মক্কায় যায়, আপনি মদীনায় যাবেন কেন???

ওহে কাজ্জাব তোমার মত জাহিল কি করে মদীনা শরীফের মর্তবা মর্যাদা বুঝবে? তুমি তো সৌদী আর ইহুদী নাছারাদের দালাল। যার কাজ হল প্রমাণিত বিষয়কে নিয়ে গাজাখোরী কথা বলে ফিতনা ছড়ানো।

★★ মদীনা শরীফের মর্যাদাঃ
প্রিয় রাসূলে পাক আলাইহি সালাতু ওয়াস সালাম মদীনা শরীফকে এত বেশি ভালোবাসতেন যে তিঁনি আল্লাহ তা'য়ালার কাছে এভাবে দোয়া করতেন—
اللّهمّ حبّب الينا المدينة كحب مكة او اشد
অর্থাৎ, আমার জন্য মদীনাকে প্রিয় করে দাও, যেমনিভাবে মক্কা মুআজ্জমা আমার প্রিয়। বরং মক্কা শরীফ থেকেও প্রিয় করে দাও।
(মিশকাত শরীফ, পৃ. ২৩৯)

আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় প্রার্থনার মধ্যে الينا শব্দ ব্যবহার করেছেন। আর স্পষ্ট যে, الينا শব্দটি বহুবচন সর্বনামের শব্দ। সুতরাং, দোয়ার উদ্দেশ্য হল, মদীনা শরীফকে আমাদের সকলের জন্য প্রিয় করে দাও।

মালেকী মাযহাবের প্রতিষ্ঠাতা ইমাম মালেক বিন আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) মদীনা শরীফের প্রতি এতই প্রেমাসক্ত ছিলেন যে, তিনি মদীনা শরীফের বাইরে যেতেন না। যার কারনে তিনি মাত্র একবার ফরয হজ্জ আদায় করেছিলেন মাত্র।

★★ মদীনাবাসীদের সম্মানঃ
আমাদের প্রিয় রাসুল ﷺ মদীনা শরীফকে অত্যধিক ভালোবাসতেন। তাই তিঁনি মদীনা শরীফের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করেছিলেন। এজন্য আমাদের মুসলমানদের জন্য আবশ্যক হল, আমরা যেন মদীনা শরীফ এবং মদীনাবাসীকে ভালোবাসি। যারা মদীনা শরীফ নিয়ে খারাপ ইচ্ছা করে তাদের জন্য রাসুলুল্লাহ ﷺ বদদোয়া করেছেন।

প্রিয় রাসুল ﷺ দোয়া করেন—
اللّهم من ارادني واهل بلدي بسوء فعجل هلاكه —
হে প্রভু! যে ব্যক্তি আমার এবং আমার শহরে খারাপ ইচ্ছা (ধারনা) পোষণ করবে তাদেরকে তড়িৎ ধ্বংস করে দাও।
(জাযবুল কুলুব ও জাওয়াহিরুল বিহার, পৃ. ১৪)

ঐ গর্দভ হারামী কাজ্জাব কোন দিন হাদীসের কিতাব ঘেটে দেখেছো? দেখ তোমার জন্য কেমন শাস্তি অপেক্ষা করছে....

বুখারী শরীফ এবং মুসলিম শরীফের বরাতে মিশকাত শরীফে হাদীসটি এসেছে....

ان سعد رضي اللّه عنه قال قال رسول اللّه صلّى اللّه عليه وسلّم لا يكيد أهل المدينة أحدٌ إلّ انما ع ينما ع الملح في المء (متفق عليه).
অর্থাৎ, হযরত সা'দ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন,  “আহলে মদীনার সাথে কেউ দুশমনী করিও না, যদি করো গলে যাবে যেমন লবন পানির সাথে মিশে যায়।
(বুখারী, মুসলিম, মিশকাত, পৃ. ২৪০)

পন্ডিত শায়খ কাজ্জাব বিন ইউসুফ দেখ রাসূল ﷺ এর ফয়সালা। কার সাথে দুশমনী করছো? আল্লাহর গযবে পতিত হয়ে মরবে। সাবধান।


★★ প্রিয় রাসূল কি মরে মাটির সাথে মিশে গেছেন?

শয়তানের সহচর যাদের আকীদা হল রাসুল মরে মাটির সাথে মিশে গেছে (নাউযুবিল্লাহ) তাদেরকে সাবধান করছি চির জাহান্নামী হতে না চাইলে তওবা করে আকীদা শুদ্ধ করো। কারন যত নবী রাসূল আছেন তারা কেউই মৃত নন, সবাই আপন রওজাতে স্বশরীরে জীবিত এবং রিযিক পেয়ে থাকেন।যেমন হাদীস শরীফে এসেছে...

3425 – ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﺃَﺑُﻮ ﺍﻟْﺠَﻬْﻢِ ﺍﻟْﺄَﺯْﺭَﻕُ ﺑْﻦُ ﻋَﻠِﻲٍّ، ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﻳَﺤْﻴَﻰ ﺑْﻦُ ﺃَﺑِﻲ ﺑُﻜَﻴْﺮٍ، ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﺍﻟْﻤُﺴْﺘَﻠِﻢُ ﺑْﻦُ ﺳَﻌِﻴﺪٍ، ﻋَﻦِ ﺍﻟْﺤَﺠَّﺎﺝِ، ﻋَﻦْ ﺛَﺎﺑِﺖٍ ﺍﻟْﺒُﻨَﺎﻧِﻲِّ، ﻋَﻦْ ﺃَﻧَﺲِ ﺑْﻦِ ﻣَﺎﻟِﻚٍ، ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ : ‏« ﺍﻟْﺄَﻧْﺒِﻴَﺎﺀُ ﺃَﺣْﻴَﺎﺀٌ ﻓِﻲ ﻗُﺒُﻮﺭِﻫِﻢْ ﻳُﺼَﻠُّﻮﻥَ
[ ﺣﻜﻢ ﺣﺴﻴﻦ ﺳﻠﻴﻢ ﺃﺳﺪ ‏] : ﺇﺳﻨﺎﺩﻩ ﺻﺤﻴﺢ

হযরত আনাস বিন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেছেন-   “নবীগণ তাদের কবরে জীবিত। তারা সেখানে নামায পড়েন।
(মুসনাদে আবী ইয়ালা, হাদীস নং-৩৪২৫}

★ মুহাদ্দিসীনদের ঐক্যমতে এ হাদীসটি সহীহ।

** দুই ওহাবী গুরু তথা শাওকানী এবং আলবানীর রায়ঃ

১) শায়খ নাসিরুদ্দীন আলবানী বলেন, হাদীসটি সহীহ। (সহীহুল জামে, বর্ণনা নং-২৭৯০)
তিনি আরো বলেন, হাদীসটির সনদ সহীহ। (আত-তাওয়াসসুল, বর্ণনা নং-৫৯)

২) আল্লামা শাওকানী বলেন, এ হাদীস সাবিত তথা প্রমাণিত। (নাইলুল আওতার-৩/৩০৫)

মুসলিম শরীফে আছে—

ﻋَﻦْ ﺃَﻧَﺲِ ﺑْﻦِ ﻣَﺎﻟِﻚٍ، ﺃَﻥَّ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻗَﺎﻝَ : ” ﺃَﺗَﻴْﺖُ – ﻭَﻓِﻲ ﺭِﻭَﺍﻳَﺔِ ﻫَﺪَّﺍﺏٍ : ﻣَﺮَﺭْﺕُ – ﻋَﻠَﻰ ﻣُﻮﺳَﻰ ﻟَﻴْﻠَﺔَ ﺃُﺳْﺮِﻱَ ﺑِﻲ ﻋِﻨْﺪَ ﺍﻟْﻜَﺜِﻴﺐِ ﺍﻟْﺄَﺣْﻤَﺮِ، ﻭَﻫُﻮَ ﻗَﺎﺋِﻢٌ ﻳُﺼَﻠِّﻲ ﻓِﻲ ﻗَﺒْﺮِﻩِ “
হযরত আনাস বিন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেছেন, আমি মেরাজের রাতে কাসীবে আহমার স্থান অতিক্রমকালে দেখতে পাই হযরত মুসা আলাইহিস সালাম তার কবরে নামায পড়ছেন।
{সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-২৩৭৫}

অপর হাদিস শরীফে ইরশাদ হয়েছে
ﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﺍﻟﺪﺭﺩﺍﺀ ﻗﺎﻝ ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ‏( ﺃﻛﺜﺮﻭﺍ ﺍﻟﺼﻼﺓ ﻋﻠﻲ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﺠﻤﻌﺔ . ﻓﺈﻧﻪ ﻣﺸﻬﻮﺩ ﺗﺸﻬﺪﻩ ﺍﻟﻤﻼﺋﻜﺔ . ﻭﺇﻥ ﺃﺣﺪﺍ ﻟﻦ ﻳﺼﻠﻲ ﻋﻠﻲ ﺇﻻ ﻋﺮﺿﺖ ﻋﻠﻲ ﺻﻼﺗﻪ ﺣﺘﻰ ﻳﻔﺮﻍ ﻣﻨﻬﺎ ‏) ﻗﺎﻝ ﻗﻠﺖ ﻭﺑﻌﺪ ﺍﻟﻤﻮﺕ ؟ ﻗﺎﻝ ‏( ﻭﺑﻌﺪ ﺍﻟﻤﻮﺕ . ﺇﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﺣﺮﻡ ﻋﻠﻰ ﺍﻷﺭﺽ ﺃﻥ ﺗﺄﻛﻞ ﺃﺟﺴﺎﺩ ﺍﻷﻧﺒﻴﺎﺀ ‏( ﺳﻨﻦ ﺍﺑﻦ ﻣﺎﺟﻪ، ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﺠﻨﺎﺋﺰ، ﺑﺎﺏ ﺫﻛﺮ ﻭﻓﺎﺗﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ، ﺭﻗﻢ ﺍﻟﺤﺪﻳﺚ 1637- )

হযরত আবু দারদা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেছেন- তোমরা জুমআর দিন বেশি বেশি করে দরুদ পড়। নিশ্চয় ফেরেস্তারা এর উপর স্বাক্ষ্যি থাকে। আর যখন কেউ আঁমার উপর দরুদ পড়ে তখনই তা আঁমার নিকট পেশ করা হয়। আবু দারদা (রা:) বলেন-আমি জিজ্ঞাসা করলাম-ইন্তিকালের পরেও কি তা পেশ করা হবে? উত্তরে তিঁনি বললেন-হ্যাঁ!, কেননা আল্লাহ তায়ালা জমিনের জন্য নবীদের দেহ ভক্ষণ করা হারাম করে দিয়েছেন।
*১. ইবনে মাজাহ,হা/১৬৩৬,১৬৩৭
*২. সুনানুস সাগীর লিল বায়হাকী, হা/৪৬৯
*৩. আল মুজামুল আওসাত,হা/৪৭৮০
*৪. সুনানে দারেমী,হা/১৫৭২
*৫. মুসনাদুল বাজ্জার,হা/৩৪৮৫
*৬. মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা,হা/৫৭৫৯

আবু দাউদ শরীফে এসেছে—
নবী করীম ﷺ ইরশাদ করেছেন,
ما من أحد يسلّم عليّ إلّا ردّ اللّه عليّ روحي حتّى أردّ عليه السّلام
যে কেউ আমার প্রতি সালাম পেশ করলে আল্লাহ তা'য়ালা আমার রূহ মুবারক ফিরিয়ে দেন তখন আমি তার সালামের জওয়াব দিয়ে থাকি।

ইমাম ইবনুল হাজ্জ ও ইমাম কুসতালানী (রহঃ) বলেন:
ﻭَﻗَﺪْ ﻗَﺎﻝَ ﻋُﻠَﻤَﺎﺀُ ﻧَﺎﻟَﺎ ﻓَﺮْﻕَ ﺑَﻴْﻦَ ﻣَﻮْﺗِﻪ ﻭَﺣَﻴﻮ ﺗِﻪ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺍﻟﺴَّﻠَﺎﻡُ ﻓِﻰْ ﻣُﺸَﺎﻫِﺪَ ﺗِﻪ ﻟِﺎُﻣَّﺘِﻪِ ﻭَﻣَﻌﺮِ ﻓَﺘِﻪ ﺑِﺎَﺣْﻮَ ﺍﻟِﻬِﻢْ ﻭَﻧِﻴَّﺎ ﺗِﻬِﻢْ ﻭَﻋَﺰَﺍﺋِﻤِﻬِﻢْ ﻭَﺧَﻮَﺍﻃِﺮِ ﻫِﻢْ ﻭَﺫﻟِﻚَ ﺟَﻠِﻰٌّ ﻋِﻨْﺪَﻩُ ﻟَﺎﺧَﻔَﺎﺀَﺑِﻪ
আমাদের সু-বিখ্যাত উলামায়ে কিরাম বলেন যে, হুযুর আলাইহিস সালামের জীবন ও ওফাতের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই।তিঁনি নিজ উম্মতকে দেখেন,তাদের অবস্থা, নিয়ত, ইচ্ছা ও মনের কথা ইত্যাদি জানেন। এগুলো তাঁর কাছে সম্পূর্ণরূপে সুস্পষ্ট। কোনরূপ অস্পষ্টতা ও দুর্বোধ্যতার অবকাশ নেই এখানে।
*১. ইমাম ইবনুল হাজ্জ ﻣﺪﺧﻞ গ্রন্থে
*২. ইমাম কুসতালানী (রঃ) ﻣﻮﺍﻫﺐ (মাওয়াহিব) গ্রন্থের ২য় খণ্ডের ৩৮৭ পৃষ্ঠায় ২য় পরিচ্ছেদে।

নজদী ওহাবীদের সবচেয়ে বড় গুরু আল্লামা তকীউদ্দীন ইবনে তাইমিয়া তার 'ইকতিযাউস সিরাতুল মুস্তাকীম' গ্রন্থে লিখেছেন, প্রত্যেক মুসলমান স্বীয় কবরে অবস্থান করে তার যিয়ারতকারীদেরকে চিনেন।
(জাওয়াহিরুল বিহার, ৪র্থ খন্ড, পৃ. ৩০)

যেখানে সাধারন মানুষ কবরে জীবিত সেখানে নবীকুল সম্রাট, হুযুর পাক সাল্লাল্লাহু ﷺ মরে মাটির সাথে মিশে গেছেন এরূপ ধারনা করা তো কুফরীর সামিল। যে এরূপ ধারনা করবে তার ঈমান চলে যাবে, তার স্ত্রীর সাথে তার বিবাহ বন্ধন ছিন্ন হয়ে যাবে, এরূপ অবস্থায় সে যদি ইমান আনয়ন না করে স্ত্রীর সাথে সংসার করে যেনা করার কারনে তার যত সন্তান সন্ততি হবে সকলে জারজ হারামজাদা বলে গন্য হবে।

ইমাম আযম আবু হানিফা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)'র অন্যতম ছাত্র ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.) কিতাবুল খেরাজের মধ্যে বলেন,  যে কোন মুসলমান ব্যক্তি হুযুর ﷺ কে মন্দ বলে কিংবা মিথ্যাবাদী বলে কিংবা দোষী বলে, বা অসম্মানসূচক কথা বলে নিশ্চয়ই সে কাফির হবে এবং তার স্ত্রীর তালাক হয়ে যাবে।
(কিতাবুল খেরাজ)

ফতোয়ায়ে কাজ্বীখানে আছে,  যদি কেউ কোন বিষয়ে রাসূলে পাক ﷺ এর দোষ বর্ণনা বা সমালোচনা করে বা তাঁকে কলংকযুক্ত করে তাহলে সে কাফির হয়ে যাবে।

একই কিতাবে ইমাম আবু হাফস কবীর থেকে বর্ণিত, হুযুর পাক ﷺ এর কেশরাজি হতেও কোন একটিকে কলংকময় করলে কাফির হবে।

আল্লাহ তা'য়ালা বলেন,  যারা আল্লাহ তাঁর রাসূলকে কষ্ট দেয়, আল্লাহ তো তাদেরকে দুনিয়া ও আখিরাতে অভিশপ্ত করেন এবং তিঁনি তাদের জন্য প্রস্তুত রেখেছেন লাঞ্চনাদায়ক শাস্তি।  (সূরা আহযাব, আয়াত- ৩৩ ও ৫৭)

★★ রওজা শরীফ যিয়ারত করার ফযিলতঃ

কাজ্জাব বিন ইউসুফ বলেছে মদীনাতে কোন কাজ নাই (নাউযুবিল্লাহ)। এবার দেখি প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুবারক ফরমান কি?

পবিত্র হাদিস শরীফে ইরশাদ হয়েছে
ﻋَﻦِ ﺍﺑْﻦِ ﻋُﻤَﺮَ، ﻗَﺎﻝَ : ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﷺ : ﻣَﻦْ ﺯَﺍﺭَﻗَﺒْﺮِﻱ ﻭَﺟَﺒَﺖْ ﻟَﻪُ ﺷَﻔَﺎﻋَﺘِﻲ ‏( ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺪﺍﺭ ﻗﻄﻨﻲ ﻭ ﺍﻟﺒﻴﻬﻘﻲ )

হযরত  ইবনে ওমর (রাদ্বিয়াল্লাহু   তা’আলা আনহু) থেকে   বর্ণিত। তিনি বলেন,রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন যে ব্যক্তি আঁমার রওজ্বা যিয়ারত  করল,তার জন্য সুপারিশ করা  আঁমার উপর ওয়াজিব হয়ে  গেল।
(সুনানে দারে কুত্বনী ২/২৭৮ হাঃ  ১৯৪, বায়হাকীঃকৃত শুয়াইবুল  ইমান   ৩/৪৯০ হাঃ  ৪১৫৯-৬০)

এ হাদিসের ব্যাখ্যায় আল্লামা ইবনে হাজার মক্কী (রহ:) লিখেছেন, উপরোল্লিখিত হাদীসটিতে নবী করীম ﷺ এঁর যিয়ারত জীবদ্দশায় ও পরবর্তী জীবনে উভয়টিকেই বোঝানো হয়েছে। তদ্রুপ যিয়ারতকারী কাছের হোক কিংবা দূরের,পুরুষ হোক বা মহিলা সবাইকে বোঝানো হয়েছে
(হাশিয়া আলাল ঈজাহ, পৃ. ৪৮১)

অন্য হাদীসের মধ্যে এসেছে,
হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে ওমর রাদিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত আছে, হুযুর পাক ﷺ বলেছেন,  “যে ব্যক্তি হজ্ব করল কিন্তু আঁমার রওজা শরীফ জিয়ারত করল না সে আঁমার উপর জুলুম বা অন্যায় আচরন করল।”
(তিরমিজি শরীফ)

★★ মদীনা শরীফে মৃত্যুবরণ কারীর জন্য সুসংবাদঃ

 হজরত ইবনে ওমর (রা:) বলেন,প্রিয় নবী ( ﷺ )-বলেছেন,যে মদিনায় মৃত্যুবরণ করতে সক্ষম সে যেন সেখানেই মৃত্যুবরণ করে।কেননা,যে মদিনায় মৃত্যুবরণ করবে আঁমি তার জন্য সুপারিশ করবো।
(তিরমিজি : ৩৯১৭, আহমদ,ইবনে হিব্বান ৩১৪১)

সুতরাং, এ থেকে বুঝা গেল,  মদীনা শরীফের ফযিলত অনেক। যারা রাসূলে পাক আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম এর রওজা পাক যিয়ারত করতে যাবে তাদের জন্য তিনি সুপারিশ করবেন। যেহেতু তিঁনি আপন রওজায়ে পাকে জীবিত এবং সবকিছু প্রত্যক্ষ করছেন। এদিকে প্রমাণিত কাজ্জাব বিন আবদুর রাজ্জাক একটা গন্ড মূর্খ। কুরআন-হাদীস সম্পর্কে তার কোন জ্ঞানই নাই। সে ইহুদী নাছারাদের বানানো পেট্রো ডলার বিক্রি হওয়া ভুয়া শায়খ।

★★ ৪ নং আপত্তি খন্ডনঃ

আবদুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ সাহেব আরেকটি আপত্তি করেছেন যে, রওজাতুল মিন রিয়াজুল জান্নাহ তে নামায পড়া নাকি বিদআত। আমি বলি ওহে ভুয়া শায়খ তোমার জন্মটাই হল একটা বিদআত। তোমাকে বিদআত রোগে আক্রান্ত করেছে। তাই তোমার সবকিছুই বিদআত মনে হয়। তুমি যে ফেসবুক, ইউটিউভে ভিডিও ছেড়ে ফিতনাবাজী করছো এটা কোন রকম দাত? এটা কি বিদআত (নব আবিস্কার) নয়? প্রিয় রাসুলের যুগ, সাহাবাগনের যুগ, তাবেয়ীগনের যুগ, তাব-তাবেয়ীনদের যুগ তথা ১৪ শ বছরের ইসলামে (গত কয়েক বছর বাদ দিলে) লাখ লাখ মনিষী ওফাত বরণ করেছেন। তারা কি এভাবে ফেসবুক, ইউটিউভে ইসলাম প্রচার করেছেন????

তাহলে তোমার পদ্ধতি দাত হল নাকি বিদআত? 😡

এবার আসুন আমরা দলিলের ভিত্তিতে রওজাতুল মিন রিয়াজুল জান্নাহ'র ফযিলত বর্ণনা করবো...

রাসুলে পাক আলাইহিস সালাতু ওয়াসালাম এর রওজা শরীফের পশ্চিম দিকে রাসুল (ﷺ )-এঁর মিম্বার পর্যন্ত স্থানটুকুকে ‘রিয়াজুল জান্নাত’ বা বেহেশতের বাগিচা বলা হয়।এটি দুনিয়ায় একমাত্র জান্নাতের অংশ। স্বয়ং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটিকে জান্নাতের অংশ বলেছেন। যেমন—

নবীয়ে দো'জাহা, রাসুল আকরাম ﷺ বলেছেন : আঁমার ঘর মিম্বরের মধ্যবর্তী স্থানটি জান্নাতের একটি টুকরা (রিয়াজুল জান্নাহ) এবং আঁমার মিম্বরটি আঁমার হাউজের উপর স্থাপিত”।
(সহীহ আল-বুখারী, হাদীস-১১৩৮)

বুখারী শরীফের অপর একটি বর্ণনায় আছে,
রাসুলুল্লাহ (ﷺ ) বলেন,‘আঁমার মিম্বার ও ঘরের মাঝখানের অংশটুকু জান্নাতের বাগিচাসমূহের একটি বাগিচা।’
(সহিহ আল বুখারি, হাদীস-১১৯৫)

এখন আবদুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ তুমি কি বলবে? রাসুল বলেছেন রিয়াজুল জান্নাহ হল জান্নাতের অংশ আর তুমি বলছো সেখানে নামায পড়া বিদআত (!) তুমি কি রাসূল থেকে বেশি জানো??? জান্নাতে তুমি যেতে চাও না তাই তুমি মদীনায় যাও না, রিয়াজুল জান্নাহতেও নামায পড়ো না। অন্যরা তো আর পেট্রো ডলারে বিক্রি হয় নাই, আখিরাত ছেড়ে দুনিয়াকে বেছে নেয় নাই তাদেরকে কেন জান্নাতের দিকে চলার পথে বাঁধা সৃষ্টি করছো?

তোমাদের মত আহলে খবিশ শয়তানরা এভাবে উল্টা পাল্টা বক্তব্য দিয়ে দিনের পর দিন সাধারন মানুষকে গোমরাহ (পথভ্রষ্ট) করে চলেছো। আর ইহুদী নাছারার দল এটাই চায় যে, মুসলমানদের মধ্যে ফিতনা আর মতানৈক্য তৈরী হোক যাতে তারা এই সুযোগে মুসলমানদের জান মালের উপর আক্রমন করতে পারে। তোমাদের মত সহীহ শয়তানদের শয়তানীর জন্য হাজার হাজার মানুষ ইমানহারা হয়ে গেছে।

আল্লাহ তা'য়ালা এসব শয়তান কাজ্জাব থেকে আমাদের সবার ইমানকে হিফাযত করুন। আমিন...

(লিখাটি সর্বস্বত্ত্বের অধিকারী মুহাম্মদ তাহমিদ আতিফ রায়হান। যে কেউ কোনরূপ বিকৃতি সাধন ব্যতিত লিখাটি কপি করতে পারবেন।)