ঈদে মীলাদুন্নবী ﷺ এ হাসবে মুসলমান, কাঁদবেইহুদী-শয়তান | ইসলামী বিশ্বকোষ ও আল-হাদিস

[ঈদে মীলাদুন্নবীতে হাসবে মুসলমান, কাঁদবে ইহুদী-শয়তান] 
প্রশ্নঃ রাসূল (ﷺ) একই দিনে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং একই দিনে ইন্তেকাল করেছেন। তাহলে এই দিনে খুুশি উদযাপন করবো কেন? 
উত্তরঃ আল্লাহর নিয়ামতের শোকর আদায় করা এবং তজ্জন্য খুশি পালন করা আল্লাহরই হুকুম। যেমন মহান আল্লাহ তাআলা বলেন, যদি তোমরা নিয়ামতের শোকর না করো তাহলে অবশ্যই (জেনে রাখো) আমার আযাব বড়ই কঠিন। (আল-কুরআন) 
◾ চিন্তা ও শোক তখনই আসবে যখন আমাদের থেকে কোন কিছু, কোন নিয়ামত নিঃশেষ হয়ে যাবে। আর রাসূল দ. তো আমাদের মাঝে এখনও মওজুদ রয়েছেন। কেননা তিনি তো স্বশরীরে রওজা মোবারকে জীবিত, হায়াতুন্নবী। এটা যে অস্বিকার করবে সে কুরআন অস্বিকারকারী। 
◾রাসূল  (ﷺ). এরশাদ করেছেন, আমার জাহেরী হায়াত ও আমার ইন্তেকাল উভয়টিই তোমাদের জন্য মঙ্গলজনক। (আশশেফা- পৃ- ১ঃ১৯) 
◾বিখ্যাত তাফসীর গ্রন্থ তাফসীরে জাললাইন এর প্রণেতা ইমাম জালালুদ্দিন সূয়ূতি রহ. বলেন, শরিয়ত সন্তান লাভের পর আনন্দ, খুশি প্রকাশ করার উদ্দেশ্যে আক্বিকার ব্যবস্থা করেছে। পক্ষান্তরে মৃত্যুর সময় কোন প্রাণি জবেহ করতে বলেন নি যে, খুশি/শোক করতে। এমনকি শোক-মাতম ইত্যাদি থেকেও নিষেধ করা হয়েছে। 
অতএব, উম্মতের জন্য হুজুর পাক দ. এর বেলাদত ও ওফাত উভয়টিই রহমত। 
বিশ্বের সকল মুসলিম রাষ্ট্রসহ পবিত্র মক্কা মুয়াজ্জামায় ঈদে মীলাদুন্নবী (ﷺ). পালিত হয়। ( সূত্রঃ মক্কা মুকাররমা থেকে প্রকাশিত আল-কেবলা পত্রিকা, তরিকতে লাহোর- মার্চ/১৯১৭) 
[বি.দ্রঃ ঈদে মীলাদুন্নবীতে সকল প্রকার শরীয়তবিরোধী, গর্হিত কাজ, কুসংস্কার প্রভৃতি কার্যকলাপ নিষিদ্ধ। কেবলমাত্র শরিয়ত সমর্থিত মীলাদুন্নবী (ﷺ) পালন করা মুস্তাহাব এবং আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূল (ﷺ) এর সন্তুষ্টি লাভের অন্যতম মাধ্যম] 

প্রশ্নঃ মীলাদুন্নবী (ﷺ). এর আলোচনা কি পবিত্র কুরআনে আছে? 
উত্তরঃ আল ক্বোরআনে মীলাদুন্নবী (ﷺ) 
============================= 
আল্লাহ্ তা’আলার প্রিয় নবী-রাসূলগণ 
আলায়হিমুস্ সালাম, সাহাবায়ে কেরাম, আহলে বাইতে রাসূল ও আউলিয়ায়ে কেরামের শুভ জন্ম দিন এবং ওফাত দিনকে কেন্দ্র করে মাহফিল করা, নানা পুণ্য ও কল্যাণকর কাজের মাধ্যমে তাঁদের অবদানকে স্মরণ করা নিঃসন্দেহে একটি প্রশংসনীয় ও শরীয়ত সম্মত কাজ। 
কেননা এসব অনুষ্ঠানের মাধ্যমে 
মানুষ তাঁদের জীবন, কর্ম ও অনুপম আদর্শ 
সম্পর্কে অবগত হতে পারে এবং নিজের 
জীবনেও তাঁদের আদর্শ বাস্তবায়নে আগ্রহী ও 
উৎসাহিত হয়ে উঠে। 
আল্লাহতায়ালা স্বীয় হাবীবে মুকাররাম(ﷺ) এর বেলাদতের যিকির মোবারক শপথসহকারে 
বর্ণনা করেছেন, ইরশাদ হয়েছে: 
ﻻ ﺃُﻗْﺴِﻢُ ﺑِﻬَﺬَﺍ ﺍﻟْﺒَﻠَﺪِ { ১ } ﻭَﺃَﻧْﺖَ ﺣِﻞٌّ ﺑِﻬَﺬَﺍ 
{ ﺍﻟْﺒَﻠَﺪِ ২ } ﻭَﻭَﺍﻟِﺪٍ ﻭَﻣَﺎ ﻭَﻟَﺪَ { ৩ { 
‘আমি এই শহরের (মক্কা) শপথ করছি, (হে 
হাবীব!) এ জন্য যে এই শহরে আপনি তশরীফ 
আনয়ন করেছেন। (হে হাবীব!) আপনার পিতার 
[আদম আলাইহিস সালাম অথবা ইব্রাহীম 
আলাইহিস সালামের] শপথ এবং (তাদের) 
শপথ, যারা জন্মগ্রহণ করেছে।’ (সূরা বালাদ: 
আয়াত ১-৩)। 
মহান আল্লাহ পাক আলমে আরওয়াহতে 
সমস্ত নবী-রসূল (আলাইহিমুস সালাম)কে 
নিয়ে ঈদে মীলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি 
ওয়াসাল্লাম উদযাপন করেছেন, তথা আগমন 
শরীফের মহান খুশির খোশ খবরী জানিয়ে দেন 
এবং তাঁর প্রতি ঈমান আনয়ন ও খিদমত ফরয 
করে তার ওয়াদা নেন। এ সম্পর্কে মহান 
আল্লাহ পাক কুরআন শরীফে ইরশাদ করেন- 
ﻭَﺇِﺫْ ﺃَﺧَﺬَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻣِﻴﺜَﺎﻕَ ﺍﻟﻨَّﺒِﻴِّﻴﻦَ ﻟَﻤَﺎ ﺁﺗَﻴْﺘُﻜُﻢْ 
ﻣِﻦْ ﻛِﺘَﺎﺏٍ ﻭَﺣِﻜْﻤَﺔٍ ﺛُﻢَّ ﺟَﺎﺀَﻛُﻢْ ﺭَﺳُﻮﻝٌ 
ﻣُﺼَﺪِّﻕٌ ﻟِﻤَﺎ ﻣَﻌَﻜُﻢْ ﻟَﺘُﺆْﻣِﻨُﻦَّ ﺑِﻪِ ﻭَﻟَﺘَﻨْﺼُﺮُﻧَّﻪُ ۚ 
ﻗَﺎﻝَ ﺃَﺃَﻗْﺮَﺭْﺗُﻢْ ﻭَﺃَﺧَﺬْﺗُﻢْ ﻋَﻠَﻰٰ ﺫَٰﻟِﻜُﻢْ ﺇِﺻْﺮِﻱ ۖ 
ﻗَﺎﻟُﻮﺍ ﺃَﻗْﺮَﺭْﻧَﺎ ۚ ﻗَﺎﻝَ ﻓَﺎﺷْﻬَﺪُﻭﺍ ﻭَﺃَﻧَﺎ ﻣَﻌَﻜُﻢْ 
ﻣِﻦَ ﺍﻟﺸَّﺎﻫِﺪِﻳﻦَ ‏(ﺁﻝ ﻋﻤﺮﺍﻥ ৮১-৮২) 
“(হে আমার হাবীব আপনি স্মরণ করুন সেই 
সময়ের কথা) যখন আল্লাহ (আলমে 
আরওয়াহতে) নবীগনের কাছ থেকে অঙ্গীকার 
গ্রহন করলেন যে, আমি যা কিছু তোমাদের 
দান করেছি কিতাব ও জ্ঞান এবং অতঃপর 
তোমাদের নিকট কোন রসূল আসেন 
তোমাদের কিতাবকে সত্য প্রতিপাদনের জন্য, 
তখন সে রসূলের প্রতি ঈমান আনবে এবং তাঁর 
সাহায্য করবে। তিনি বললেন, ‘তোমারা কি 
অঙ্গীকার করছো এবং এই শর্তে আমার 
ওয়াদা গ্রহণ করে নিয়েছ? তাঁরা বললেন, 
‘আমরা অঙ্গীকার করেছি’। তিনি বললেন, 
তাহলে এবার সাক্ষী থাক। আর আমিও 
তোমাদের সাথে সাক্ষী রইলাম। অতঃপর যে 
লোক এই ওয়াদা থেকে ফিরে দাঁড়াবে, সেই 
হবে নাফরমান। (সূরা আলে ইমরান- ৮১, ৮২) 
পবিত্র ক্বোরআনে প্রায় অর্ধশতাধিক বার 
নির্দেশ এসেছে আল্লাহর প্রিয় জনদের স্মরণ 
করার বিষয়ে, যেমন আল্লাহ তা’আলা এরশাদ 
করেন- ﻭَﺍﺫْﻛُﺮْ ﻓِﻲ ﺍﻟْﻜِﺘَﺎﺏِ ﺇِﺑْﺮَﺍﻫِﻴﻢَ ﺇِﻧَّﻪُ 
ﻛَﺎﻥَ ﺻِﺪِّﻳﻘًﺎ ﻧَّﺒِﻴًّﺎ ‏(ﻣﺮﻳﻢ -৪১ (হে হাবীব! 
স্মরণ করুন কিতাবে হযরত ইবরাহীমকে)। 
[মারয়াম: ৪১] 
ﻭَﺍﺫْﻛُﺮْ ﻓِﻲ ﺍﻟْﻜِﺘَﺎﺏِ ﻣُﻮﺳَﻰ ﺇِﻧَّﻪُ ﻛَﺎﻥَ 
ﻣُﺨْﻠَﺼًﺎ ﻭَﻛَﺎﻥَ ﺭَﺳُﻮﻻ ﻧَّﺒِﻴًّﺎ ‏(ﻣﺮﻳﻢ -৫১) (হে 
হাবীব! স্মরণ করুন কিতাবে হযরত মুসাকে)। 
[মারয়াম-৫১] 
এ নির্দেশটি শুধু আল্লাহ্ তা’আলার নবী- 
রাসূলদের মাঝে সীমাবদ্ধ নয় বরং আউলিয়ায়ে 
কেরামের ক্ষেত্রেও একই নির্দেশ দেয়া হয়েছে। 
যেমন আল্লাহ্ তা’আলা এরশাদ করেন 
-ْﺮُﻛْﺫﺍَﻭ 
ﻓِﻲ ﺍﻟْﻜِﺘَﺎﺏِ ﻣَﺮْﻳَﻢَ ﺇِﺫِ ﺍﻧﺘَﺒَﺬَﺕْ ﻣِﻦْ ﺃَﻫْﻠِﻬَﺎ 
ﻣَﻜَﺎﻧًﺎ ﺷَﺮْﻗِﻴًّﺎ ‏(ﻣﺮﻳﻢ -১৬) 
(হে হাবীব আপনি কিতাবে হযরত মারয়ামকে স্মরণ করুন)। 
[মারয়াম:১৬] 
এ আয়াতে হযরত মরিয়াম আলায়হিস্ সালামকে 
স্মরণ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একথা 
কারও অজানা নেই যে, হযরত মরিয়াম 
আলায়হিস্ সালাম নবী ছিলেন না, বরং তিনি 
আল্লাহর একজন ওলী ছিলেন। 
অনুরূপভাবে আল্লাহ্ তা’আলা ক্বোরআন 
করিমে তার প্রিয় নবীকে নির্দেশ দিয়েছেন 
তিনি যেন তাঁর উম্মতদেরকে আল্লাহ্ 
তা’আলার পক্ষ থেকে নেয়ামত অবতরণের 
দিনগুলোকে স্মরণ করিয়ে দেন। আল্লাহ্ পাক 
এরশাদ করেন- 
ﻭَﻟَﻘَﺪْ ﺃَﺭْﺳَﻠْﻨَﺎ ﻣُﻮﺳَﻰٰ ﺑِﺂﻳَﺎﺗِﻨَﺎ ﺃَﻥْ ﺃَﺧْﺮِﺝْ 
ﻗَﻮْﻣَﻚَ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻈُّﻠُﻤَﺎﺕِ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﻨُّﻮﺭِ ﻭَﺫَﻛِّﺮْﻫُﻢ 
ﺑِﺄَﻳَّﺎﻡِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ۚ ﺇِﻥَّ ﻓِﻲ ﺫَٰﻟِﻚَ ﻟَﺂﻳَﺎﺕٍ ﻟِّﻜُﻞِّ ﺻَﺒَّﺎﺭٍ 
ﺷَﻜُﻮﺭٍ ‏(ﺍﺑﺮﺍﻫﻴﻢ -০৫) 
(হে হাবীব! আপনি আপনার উম্মতদেরকে 
আল্লাহর দিনগুলো সম্পর্কে উপদেশ দিন। 
[ইবরাহীম-০৫] 
এ আয়াতে আল্লাহ্ তা’আলার দিনগুলোকে 
মানে ওই সব দিনকে বুঝায় যে দিনগুলোতে 
আল্লাহ্ তা’আলা তার বিশেষ কোন বান্দা বা 
বিশেষ কোন যাতকে কোন খাস বা বিশেষ 
নেয়ামত দ্বারা ধন্য করেছেন। আর এ 
দিনগুলো হলো শুভ জন্ম দিন, বিজয়ের দিন 
ইত্যাদি। 
জন্মদিবস ও ওফাত দিবসকে আল্ 
ক্বোরআনের বিশেষ সম্মান: 
——————————————————— 
আল্লাহ্ তা’আলা তাঁর প্রিয়জনদের শুভজন্ম 
এবং তাঁদের বেচাল বা ওফাত দিবসকে 
ক্বোরআনুল করিমে বিশেষভাবে সম্মানিত 
করেছেন এবং এ দিনগুলোকে বিশেষ শান্তি ও 
সালামের দিন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। 
বরং আল্লাহ্ তা’আলার পক্ষ থেকে এ 
দিনগুলোতে বিশেষ সালাম প্রেরণ করা 
হয়েছে। হযরত ইয়াহ্য়া আলায়হিস্ সালাম এর 
শুভজন্ম ও বেচাল শরীফ সম্পর্কে আল্লাহ্ 
তা’আলা এরশাদ করেন: ﻭَﺳَﻼﻡٌ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻳَﻮْﻡَ 
ﻭُﻟِﺪَ ﻭَﻳَﻮْﻡَ ﻳَﻤُﻮﺕُ ﻭَﻳَﻮْﻡَ ﻳُﺒْﻌَﺚُ ﺣَﻴًّﺎ 
‏( )৫১- ﻣﺮﻳﻢ ‘‘এবং তাঁর প্রতি সালাম বা 
শান্তি যেদিন তিনি (হযরত ইয়াহ্য়া আলাহিস্ 
সালাম) জন্ম গ্রহণ করেছেন। যেদিন তিনি 
ওফাত পাবেন এবং যেদিন তিনি পুনর্জীবিত 
হবেন।[সূরা মারয়াম:১৫] 
হযরত ইসা আলায়হিস্ সালামের ভাষায় 
আল্লাহ্ তা’আলা এরশাদ করেছেন, হযরত 
ইসা আলায়হিস্ সালাম তাঁর মাতৃক্রোড়ে এ 
ঘোষণা দিলেন যে, 
ﻭَﺍﻟﺴَّﻼﻡُ ﻋَﻠَﻲَّ ﻳَﻮْﻡَ 
ﻭُﻟِﺪﺕُّ ﻭَﻳَﻮْﻡَ ﺃَﻣُﻮﺕُ ﻭَﻳَﻮْﻡَ ﺃُﺑْﻌَﺚُ ﺣَﻴًّﺎ 
‏(‘‘)৩৩- ﻣﺮﻳﻢ 
আমার প্রতি সালাম ও 
শান্তি যেদিন আমি জন্ম গ্রহণ করেছি, যেদিন 
আমি ওফাত পাবো এবং যেদিন আমি 
পুনর্জীবিত হবো। [মারয়াম:৩৩] 
এ আয়াতদ্বয় দ্বারা প্রমাণিত হলো জন্ম ও 
ওফাতের দিনকে উপলক্ষ করে দুরূদ, সালাম, 
দোয়া, মুনাজাত ও নেয়ায-তাবাররুকাতের 
ব্যবস্থা করা নিঃসন্দেহে একটি অত্যন্ত 
বরকত ও ফযিলত মন্ডিত কাজ। যদি এতে 
শরিয়ত বিবর্জিত কোন কাজ সংঘটিত না 
হয়। 
আল্লাহ্ তা’আলার প্রিয়জনদের স্মরণের 
নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ্ তা’আলা আরও এরশাদ 
করেন- 
ﻟَﻘَﺪْ ﻛَﺎﻥَ ﻓِﻲ ﻗَﺼَﺼِﻬِﻢْ ﻋِﺒْﺮَﺓٌ ﻟِّﺄُﻭﻟِﻲ 
ﺍﻟْﺄَﻟْﺒَﺎﺏِ ۗ ﻣَﺎ ﻛَﺎﻥَ ﺣَﺪِﻳﺜًﺎ ﻳُﻔْﺘَﺮَﻯٰ ﻭَﻟَٰﻜِﻦ 
ﺗَﺼْﺪِﻳﻖَ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﺑَﻴْﻦَ ﻳَﺪَﻳْﻪِ ﻭَﺗَﻔْﺼِﻴﻞَ ﻛُﻞِّ 
ﺷَﻲْﺀٍ ﻭَﻫُﺪًﻯ ﻭَﺭَﺣْﻤَﺔً ﻟِّﻘَﻮْﻡٍ ﻳُﺆْﻣِﻨُﻮﻥَ 
‏( )১১১- ﻳﻮﺳﻒ 
(নিশ্চয় তাদের ঘটনাসমূহে রয়েছে জ্ঞানীদের 
জন্য শিক্ষা ও উপদেশ)। [ইউসুফ:১১১] 
ﻭَﺫَﻛِّﺮْ ﻓَﺈِﻥَّ ﺍﻟﺬِّﻛْﺮَﻯٰ ﺗَﻨﻔَﻊُ ﺍﻟْﻤُﺆْﻣِﻨِﻴﻦَ 
‏(ﺍﻟﺬﺍﺭﻳﺎﺕ -৫৫) 
(আপনি তাদেরকে স্মরণ করিয়ে 
দিন, কেননা স্মরণের মধ্যে রয়েছে মুমিনগণের 
জন্য অনেক উপকার। [যারিয়াত:৫৫] 
মহান আল্লাহ্ তাঁর রাসূল (ﷺ)কে উদ্দেশ করে 
বলেন- 
ﻭَﻛُﻠًّﺎ ﻧَﻘُﺺُّ ﻋَﻠَﻴْﻚَ ﻣِﻦْ ﺃَﻧْﺒَﺎﺀِ ﺍﻟﺮُّﺳُﻞِ 
ﻣَﺎ ﻧُﺜَﺒِّﺖُ ﺑِﻪِ ﻓُﺆَﺍﺩَﻙَ ۚ ﻭَﺟَﺎﺀَﻙَ ﻓِﻲ ﻫَٰﺬِﻩِ 
ﺍﻟْﺤَﻖُّ ﻭَﻣَﻮْﻋِﻈَﺔٌ ﻭَﺫِﻛْﺮَﻯٰ ﻟِﻠْﻤُﺆْﻣِﻨِﻴﻦَ 
‏( )০২১- ﻫﻮﺩ 
(আমি আপনার নিকট পূর্ববর্তী 
রাসূলগণের যা ঘটনা বর্ণনা করেছি তা আমি 
আপনার হৃদয়কে সুদৃঢ় ও মজবুত করার জন্য। 
[হুদ: ১২০] 

প্রশ্নঃ মীলাদুন্নবী (ﷺ). এর আলোচনা কি 
পবিত্র কুরআনে আছে?? 
➖➖➖➖ 
উত্তরঃ সাইয়্যিদুল আইয়াদ শরীফ বা 
সর্বশ্রেষ্ঠ ঈদ পবিত্র ঈদে 
মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া 
সাল্লাম বিষয়ে একটু তাত্ত্বিক 
বিশ্লেষন 
মহান আল্লাহ পাক বলেন, “হে আমার 
হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া 
সাল্লাম ! আপনি বলে দিন, আল্লাহ পাক 
উনার অনুগ্রহ ও রহমত পাওয়ার কারনে 
খুশি প্রকাশ করো। এই খুশি প্রকাশ 
করা হচ্ছে সব কিছুর চাইতে 
উত্তম।” (পবিত্র সূরা ইউনূছ আলাইহিস 
সালাম : আয়াত শরীফ ৫৮) 
আমরা মু’মিন মুসলমান, নবীজীর 
আশেকগন এই আয়াত শরীফে “অনুগ্রহ ও 
রহমত’ বলতে হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু 
আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বুঝে থাকি। 
বাতিল ফির্কা তখন দলীল দেয় অনেক 
মুফাসসিরতো এই আয়াতে “অনুগ্রহ ও 
রহমত” বলতে ১) কুরআন শরীফ ২) 
ইসলাম ৩) ইলিম ৪) হেদায়েত ৫) নেক 
আমল ইত্যাদি বুঝিয়েছেন (যদিও শক্ত 
দলীল দ্বারা হুযুর পাক (ﷺ)কে বুঝানো 
হয়েছে) 
হ্যাঁ, ভালো কথা। কোন সমস্যা নাই। 
এখানে একটা বিষয় পরিষ্কার যে, যদি 
অনুগ্রহ ও রহমত এর অর্থ কুরআন শরীফ 
ধরা হয় তবে কুরআন শরীফ পাওয়ার 
কারনে খুশি প্রকাশ করতে হবে। কারন 
কুরআন শরীফ আল্লাহ পাকের নিয়ামত। 
যদি ইসলাম, ইলিম, হেদায়েত, নেক 
আমল ধরা হয় তবে অর্থ হচ্ছে এই সকল 
নিয়ামত পাওয়ার কারনে খুশি প্রকাশ 
করতে হবে। অর্থাৎ নিয়ামত পাওয়ার 
জন্য খুশি প্রকাশ করতে হবে এই 
কনসেপ্টে আপনিও একমত হলেন। 
এবার পয়েন্টে আসেন, যিনি 
রহমাতুল্লীল আ’লামীন, হাবীবুল্লাহ 
হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া 
সাল্লাম উনাকে না পেতেন তবে কি 
আপনি কুরআন শরীফ পেতেন? 
রহমাতুল্লীল আ’লামীন, হাবীবুল্লাহ 
হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া 
সাল্লাম উনাকে না পেতেন তবে কি 
ইসলাম পেতেন? ইলিম পেতেন? 
হেদায়েত পেতেন? নেক আমল পেতেন? 
এসকল নেক আমল, নেক আমল হিসাবে 
প্রকাশ হয়েছে হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক 
ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম 
উনার আগমনের ফলে। তাহলে দেখা 
যাচ্ছে, সবচাইতে বড় এবং মূল নিয়ামত 
হচ্ছেন হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক 
ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম 
তিনি। সবচাইতে বড় অনুগ্রহ হচ্ছেন 
হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু 
আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি। আর 
তিনিতো সমগ্র আলমের রহমত (সূরা 
আম্বিয়া ১০৭) 
মোটকথা হচ্ছে যদি আমরা হাবীবুল্লাহ 
হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া 
সাল্লাম উনাকে পাওয়ার কারনে খুশি 
প্রকাশ করি তাহলে এই খুশি প্রকাশের 
মাধ্যমে কুরআন শরীফ ,ইসলাম, ইলিম, 
হেদায়েত, নেক আমল সবকিছুর জন্য 
শুকরিয়া ও খুশি প্রকাশ হয়ে যায়। 
কারন হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি 
ওয়া সাল্লাম হচ্ছেন জামিউন 
নিয়ামত। সুবহানাল্লাহ। 
এখন যদি প্রশ্ন করি, হুযুর পাক 
ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম 
উনাকে পাওয়ার কারনে আপনি কি 
খুশি? 
মনে হয় না, মুসলমানদের মধ্যে এমন 
কোন গোত্র আছে সে বলবে যে খুশি নয়। 
নাউযুবিল্লাহ। অস্বীকার করার 
সুযোগই নেই। খুশি নয় বললে সে 
ঈমানদারই থাকতে পারবে না। কারন 
একমাত্র ইবলিশ ই নাখোশ ছিলো 
(বিদায়া ওয়ান নিহায়া)। 
নাউযুবিল্লাহ। 
অর্থাৎ সবাই খুশি। তাহলে এই খুশি 
প্রকাশের কথা স্বীকার করতে এত 
গড়িমসি কেন? কেন এত দ্বীধা দন্দ? 
কেন এ্ত বির্তক? 
পর্ব- ৪ 
【ঈদে মীলাদুন্নবী দ. এ হাসবে মুসলমান, 
কাঁদবে ইহুদী-শয়তান】 
যার কপালে হেদায়েত নাই, কিয়ামত পর্যন্ত 
বুঝালেও সে- ﺻﻢ ـ ﺑﻜﻢ ـ ﻋﻤﻲ 
এক ভাই প্রশ্ন করেছিলেন- পবিত্র ঈদে 
মীলাদুন্নবী দ. আমরা কি উদ্দেশ্যে পালন করি 
এবং কোন লাভে? 
ভাই, প্রথমে বলতে চাই ঈদে মীলাদুন্নবী 
দ.শুধুমাত্র আমরা পালন করি না, এটা পালিত 
হয় পবিত্র মক্কা-মদীনা সহ বিশ্বের প্রায় ৪৮ 
টি রাষ্ট্রে এবং সরকারীভাবে ৷ ছারছিনা কিংবা 
চরমুনাই, দেওবন্দি কিংবা জৈনপুরি- সব 
আক্বাবীদের মূল শায়েখগণই এটাকে একাত্নতার 
সাথে সমর্থন দিয়েছিলেন ৷ আর দিবেন না কেন? 
যেটা পবিত্র কুরআন-হাদিসে, সুন্নাতে সাহাবায়, 
সলফে সালেহীনগণের আমল, সেই আমলকে কে 
না সমর্থন দিবে? (অসংখ্য তথ্যসূত্র ও দলীল 
আমার টাইমলাইনে দিয়েছি পর্বাকারে) 
এখন বর্তমানের কিছু আলেম এটাকে অপছন্দ 
কিংবা অস্বিকার করছে ৷ সেই সাথে কিছু 
সাধারণ লজিক্যাল থিউরির যাতাকলে বিভ্রান্ত 
করছে অনেককেই ৷ আমরা উনাদের সাথে 
সমাধানের উদ্দেশ্যে অনেক জায়গাতেই 
স্থানীয়,আঞ্চলিক ও জাতীয় পর্যায়ে বহস 
করেছি ও বিজয়ী হয়েছি আলহামদুলিল্লাহ ৷ 
(কেউ প্রমাণ চাইলে দিতে পারি) 
অতএব, ভাই! আমরা এটাকে ফরজ বলি না বা 
যারা করে না তাদের গালি দেই না ৷ কিন্তু এত 
সুন্দর একটি সুন্নাত/মুস্তাহাব আমলকে যারা 
অপছন্দ/অস্বিকার করে, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের 
জবাব থাকবে চিরদিন ৷ আর এটা করি আল্লাহর 
নির্দেশে (সূরা ইউনুস-৫৮), রাসূল দ. ও 
সাহাবাগণের তরীকা অনুযায়ীই ৷ আমাদের 
উদ্দেশ্য ও লাভ- আল্লাহ এবং আল্লাহর 
রাসূলের সন্তুষ্টি অর্জন ৷ 
আর মীলাদ নাই একমাত্র আল্লাহর ৷তিনি কারো 
কাছ থেকে জন্ম নেন নি কিংবা কেউ তাকে জন্ম 
দেয় নি ৷ তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই ৷ সুতরাং যে 
বলবে মীলাদুন্নবী নাই অথবা নবীরও মীলাদ নাই 
তাহলে সে স্পষ্ট মুশরিক৷ এটা তো কমন সেন্স৷ আল্লাহ বুঝার তওফিক দিন... আমিন৷ 
পর্ব- ৫ 
【ঈদে মীলাদুন্নবী দ. এ হাসবে মুসলমান, 
কাঁদবে ইহুদী-শয়তান】 
সাহাবায়ে কিরাম 
রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনারা কি 
রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম 
উনার মিলাদ(বিলাদত/জন্মদিন) পালন করেছেন?? 
★ উত্তরঃ উনারা মূলত সবসময়ই করতেন৷ 
যেমনঃ আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু 
তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, একদা তিনি 
উনার গৃহে সাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু 
তায়ালা আনহুমদের নিয়ে হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু 
আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্মবৃত্যান্ত(ত 
াওয়াল্লুদ শরীফ) আলোচনা করছিলেন। 
শ্রবনকারীরাও তা শুনে অত্যান্ত খুশী প্রকাশ 
করছিলেন। ঠিক ওই সময় নবী করীম ছল্লাল্লাহু 
আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেখানে উপস্থিত হয়ে 
জিজ্ঞেস করলেন আপনারা এখানে কি করছেন? 
সাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম 
বললেন আপনার মিলাদ শরীফ এর আলোচনা 
করছি, তখন নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি 
ওয়া সাল্লাম বললেন তোমাদের জন্য আমার 
শাফায়াত ওয়াজিব হয়ে গেছে"। এই হাদিস 
শরীফটি বিভিন্ন হাদিস শরীফ এর গ্রন্থে 
এসেছে। যেমনঃ মাওলুদুল কবীর, আত তানভীর 
ফী মাওলিদিল বাশীর ওয়ান নাযার, হকিকতে 
মোহাম্মদী (মিলাদ শরীফ অধ্যায়), দুররুল 
মুনাজ্জাম, ইশবাউল কালাম। 
পর্ব- ৬ 
【ঈদে মীলাদুন্নবী দ. এ হাসবে মুসলমান, 
কাঁদবে ইহুদী-শয়তান】 
প্রশ্নঃ সাহাবাগণ বা খোলাফায়ে রাশেদিনগণ কি মীলাদুন্নবী দ. পালন করেছেন?? 
★ উত্তরঃ হযরত খুলাফায়ে রাশেদীন আলাইহিমুস সালাম 
কর্তৃক ঈদে মীলাদুন নবী পালন 
পবিত্র মক্কা শরীফের অন্যতম প্রখ্যাত 
মুহাদ্দিস আল্লামা শিহাব উদ্দিন আহমদ ইবনে 
হাজার আল হায়তামী আশ-শাফিঈ রহমতুল্লাহি 
আলাইহি (জন্ম- ৮৯৯ হিজরী, ইন্তিকাল- ৯৭৪ 
হিজরী) উনার সুবিখ্যাত “আন নি’মাতুল কুবরা 
‘আলাল আলাম” কিতাবের মধ্যে নিম্নোক্ত 
হাদীছ শরীফগুলো বর্ণনা করেনঃ- 
১। সর্বশ্রেষ্ঠ সাহাবী ও ইসলামের প্রথম 
খলীফা হযরত আবু বকর ছিদ্দীক্ব রদ্বিয়াল্লাহু 
তা‘য়ালা আনহু বলেন- 
ﻣَﻦْ ﺍَﻧْﻔَﻖَ ﺩِﺭْﻫَﻤًﺎ ﻋَﻠَﻰ ﻗِﺮﺃ ﺓَ ﻣَﻮْ ﻟِﺪِ ﺍﻟﻨَّﺒﻰِّ 
ﺻﻠَﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻛَﺎﻥَ ﺭَﻓِﻴْﻘِﻰ ﻓﻰِ 
:থ্রঅ 
ﺍﻟﺠَﻨّﺔِ “যে ব্যক্তি মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু 
আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষ্যে এক দিরহাম 
খরচ করবে সে জান্নাতে আমার সঙ্গী হবে”। 
(আন-নি’মাতুল কুবরা আলাল আলাম, পৃষ্ঠা 
নং-৭) 
২। দ্বিতীয় খলীফা হযরত উমর ফারুক 
রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু বলেন – 
ﻣَﻦْ ﻋَﻈَّﻢَ ﻣَﻮْﻟِﺪَ ﺍﻟﻨَّﺒِﻰِّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ 
ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻓَﻘَﺪْ ﺍَﺣﻴَﺎ ﺍﻻﺳْﻼَﻡ 
অর্থ: “যে ব্যক্তি মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু 
আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সম্মান করলো, সে 
অবশ্যই ইসলামকে জীবিত করলো”। 
(আন-নি’মাতুল কুবরা আলাল আলাম, পৃষ্ঠা 
নং-৭) 
৩। তৃতীয় খলীফা হযরত উসমান যুন নূরাইন 
রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন – 
ﻣَﻦْ ﺍَﻧْﻔَﻖَ ﺩِﺭْﻫَﻤًﺎ ﻋَﻠَﻰ ﻗﺮﺃﺓ ﻣَﻮْﻟِﺪِ ﺍﻟﻨَّﺒِﻰِّ 
ﺻَﻠّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢْ ﻓَﻜَﺎ ﻧَّﻤَﺎ ﺷﻬِﻴﺪ 
ﻏَﺰﻭَﺓ ﺑَﺪَﺭ ﻭﺣُﻨَﻴْﻦ 
অর্থ: “যে ব্যক্তি মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু 
আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করার জন্য এক 
দিরহাম খরচ করল, সে যেন নবীজীর সাথে বদর 
ও হুনাইন জিহাদে শরীক হলো”। 
(আন-নি’মাতুল কুবরা আলাল আলাম, পৃষ্ঠা 
নং-৮) 
৪। চুতর্থ খলীফা হযরত আলী কাররামাল্লাহু 
ওয়াজহাহূ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু বলেন- 
ﻣَﻦْ ﻋَﻈَّﻢَ ﻣَﻮْ ﻟِﺪَ ﺍﻟﻨَّﺒِﻰ ﺻَﻠّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَ 
ﺳَﻠَّﻢَ ﻭَﻛَﺎﻥَ ﺳَﺒَﺒَﺎ ﻟِﻘﺮﺃ ﺗﻪ ﻻ ﻳَﺨﺮُﺝُ ﻣِﻦَ ﺍﻟﺪُّﻧْﻴَﺎ 
ﺍِﻻ َّﺑِﺎﻻِ ﻳْﻤَﺎﻥِ ﻭَﻳَﺪْﺧُﻞُ ﺍﻟﺠَﻨَّﻪَ ﺑِﻐَﻴْﺮِ :থ্রঅ 
ﺣِﺴَﺎﺏ “যে ব্যক্তি মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু 
আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে সম্মান করবে এবং 
উদ্যোক্তা হবে সে পবিত্র ঈমানের সাথে 
মৃত্যুবরণ করবে এবং বিনা হিসাবে জান্নাতে 
প্রবেশ করবে”। 
(আন-নি’মাতুল কুবরা আলাল আলাম, পৃষ্ঠা 
নং-৮) 
বিখ্যাত মুহাদ্দীস আল্লামা ইউসুফ নাবহানী 
রহমতুল্লাহি আলাইহি অসংখ্য মুহাদ্দিসিনের 
মতে, হাদীছ শরীফগুলো সম্পূর্ণ ছহীহ এবং 
সনদ নির্ভরযোগ্য। তিনি তাঁর ‘জাওয়াহিরুল 
বিহার’ নামক গ্রন্থে ৩য় খন্ডের ৩৫০ পৃষ্ঠায় 
উল্লিখিত বর্ণনা উপস্থাপন করে বলেছেন যে, 
আমার উপরোক্ত হাদীছ শরীফসমূহের সনদ 
জানা রয়েছে।” 
অপরদিকে পবিত্র মক্কা শরীফের স্বনামধন্য 
আল্লামা ইবন হাজার হায়তামী রহমতুল্লাহি 
আলাইহি এর নির্ভরতা প্রশ্নাতীত। উনার 
“আন নি’মাতুল কুবরা আলাল আলাম” কিতাবের 
উপর বহু শরাহ (ব্যাখ্যাগ্রন্থ) লিখা হয়েছে 
অর্থাৎ উনার লিখিত কিতাবকে আলেমগণ 
নির্ভরযোগ্য হিসেবেই গণ্য করতেন এবং সেই 
সাথে রেফারেন্স হিসেবে উল্লেখ করতেন। 
তন্মধ্যে আল্লামা দাউদী রাহমতুল্লাহি 
আলাইহি ও আল্লামা সাইয়্যিদ আহমদ 
আবেদীন দামেস্কি রাহমতুল্লাহি আলাইহি 
অন্যতম। 
উপরোক্ত বর্ণনা দ্বারা প্রমাণিত হল যে, 
খুলাফায়ে রাশেদীনের যুগেও মীলাদুন নবী 
ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চালু ছিল 
এবং উনারা নিজেরাও তা পালন করতেন এবং 
অন্যকে পালনের তাগিদ দিতেন। 
পর্ব- ৭ 
(ঈদে মীলাদুন্নবী দ. এ হাসবে মুসলমান, কাঁদবে ইহুদী-শয়তান) 
বিষয়ঃ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী ﷺ এর বিরোধীতার পরিণাম। 
---------------------------------------- 
২০০৪ সালের রামাদ্বান মাসে ইন্তেকাল করা মক্কা শরীফের বিখ্যাত মুহাদ্দিস এবং আলিমে দ্বীন আওলাদে রাসূল ﷺ হজরত সায়্যিদ মুহাম্মাদ বিন আলাবি আল মালেকি (রাহ:) বলেন, "আমার দাদাহজরত সায়্যিদ আব্বাছ আলাবি আল মালেকী রাহ: একবার পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবীর ﷺ মাহফিলে অংশগ্রহনের জন্য হেবরনে গেলেন এবং সেখানে ৮০ বছর বয়সী এক খুবই বৃদ্ধ ও দুর্বল লোককে দেখতে পেলেন যিনি আশ্চর্য্যজনকভাব পুরো মওলিদ মাহফিল দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কাটিয়ে দিলেন। আমার দাদাহজরত সেই বৃদ্ধ লোককে জিজ্ঞেস করলেন এর কারন কি? বৃদ্ধ লোক বললেন, "যারা ঈদে মিলাদুন্নবীﷺ উদযাপন করতেন একসময় আমি সেসব লোকের প্রচন্ড সমালোচনা করতাম, বিশেষ করে যারা প্রিয় নবীজীর ﷺ সম্মানে দাঁড়িয়ে তাঁর প্রশসংসা করত তাদেরকে আমি কটু কথা বলতাম। 

একদিন আমি গেলাম এবং ঐ মিলাদুন্নবী ﷺ উদযাপনকারীদেরকে ব্যাঙ্গ করলাম, তাদেরকে বিদআতী ও শয়তানের দলের লোক ডাকলাম। আমি বাড়িতে এসে সে রাতে ঘুমিয়ে গেলাম এবং হুজুর রাসূলুল্লাহ ﷺ কে স্বপ্নে দেখতে পেলাম। তিনি মিলাদুন্নবী ﷺ উদযাপনের একটি জুলুসে প্রবেশ করলেন। সবাই তাঁর সম্মানে দাঁড়িয়ে গেল, কিন্তু তিনি আমার কাছে আসলেন এবং যখন আমি দাঁড়িয়ে গেলাম তিনি বললেন, "তুমি বস।" যখন আমি জাগ্রত হলাম তখন দেখতে পেলাম যে, আমি সম্পূর্ন প্যারালাইসড/পক্ষাঘাতগ্রস্থ। 

আমি দীর্ঘদিন পর্যন্ত বহু ডাক্তারের কাছে গেলাম কিন্তু কিছুতেই কোন কাজ হলো না। অত:পর যখন ফিলিস্তিনের বিখ্যাত ওলি হজরত শায়খ খলিল আল খালেদী (রাহ:) এঁর সান্নিধ্যে গেলাম তখন তিনি বললেন, "তুমি হুজুর রাসূলুল্লাহ ﷺ কে রাগান্বিত করেছ..."। তখন আমি শপথ করলাম যে, আমি আর কোনদিন মওলিদে অংশগ্রহনকারীদেরকে কটু কথা বলব না, তাদের সমালোচনা করব না। এবং দ্বিতীয়ত: আমি নিজে মওলিদ উদযাপনের পুরো সময়টা দাঁড়িয়ে থাকব।" 

ঐ বৃদ্ধ বলতে লাগলেন, যেই রাতে আমি সেই ওয়াদা করলাম সে রাতেই আমি আবারও হুজুর রাসূলুল্লাহ ﷺ কে স্বপ্নে দেখতে পেলাম। তিনি এবার মিলাদুন্নবী ﷺ উদযাপনের একটি জুলুসে প্রবেশ করলেন। সবাই তাঁর সম্মানে দাঁড়িয়ে গেল, কিন্তু তিনি আবারও আমার কাছে আসলেন এবং আমাকে বললেন, "তুমি আমার সম্মানে দাঁড়াতে পার।" আল্লাহর কসম যখন আমি জাগ্রত হলাম তখন দেখতে পেলাম যে, আমি সম্পূর্ন সুস্থ্য এবং আমি দাঁড়াতে পারি।" সুবহানাল্লাহ। আল্লাহু আকবার। 

মূল: শায়খ মুহাম্মাদ ইয়াসিন 

ছবি: মক্কা শরীফের প্রখ্যাত মুহাদ্দিস এবং আলিমে দ্বীন ও শায়খুল ইসলাম ড. তাহিরুল কাদেরী এবং শায়খ হাবিব আলি আল জিফরির মত শত শত জগদ্বিখ্যাত আলিমে দ্বীনের ওস্তাদ আওলাদে রাসূল ﷺ সুফি হজরত সায়্যিদ মুহাম্মাদ বিন আলাবি আল মালেকি (রাহ:)। 

কৃত ও অনুবাদঃ সাইয়্যেদ গোলাম কিবরিয়া আজহারী(Sayed Golam Kibrya Azhari).. 
পর্ব- ৮ 
(ঈদে মীলাদুন্নবী দ. এ হাসবে মুসলমান, কাঁদবে 
ইহুদী-শয়তান) 
প্রশ্নঃ নবীজী দ. এর নেয়ামতের শুকরিয়ায় খুশি হওয়া কুরআনে আছে বুঝলাম, মীলাদুন্নবী দ. হাদিসে আছে বুঝলাম, সাহাবাগণ করেছেন বুঝলাম৷ সবই ঠিক আছে কিন্তু ঈদে মীলাদুন্নবীতে জশনে জুলুস, র্যালি-মিছিল- এটার দলিল কি? এটা তো বিদআত! ☺ 
* উত্তরঃ সাহাবী রাঃগণের জুসনে জুলুসঃ 
-------------------------------------------- 
"মুসলিম শরীফের দ্বিতীয় খন্ডের শেষে "হাদীছুল 
হিজরত" শিরোনামের অধ্যায়ে হজরত বারা রাঃ 
থেকে বর্ণিত আছেঃ- 
হুজুর সঃ যখন মক্কা ত্যাগ করে মদীনা শরীফের 
প্রান্ত সীমায় প্রবেশ করলেন, তখন তাকে কি 
রূপে স্বাগত জানানো হয়ে ছিল তাঁর বিবরণ 
হাদীছ শরীফের ভাষায় শুনুনঃ- 
তখন মদীনার নারী-পুরুষ ঘরের ছাদসমূহের উপর 
আরোহণ করেন, ছোট ছোট ছেলে ও কৃতদাসগণ 
মদীনার অলীতে-গলীতে ছড়িয়ে পড়েন এবং সবাই 
"ইয়া মুহাম্মদ ইয়া রাসূলাল্লাহ" (সঃ) ধ্বনিতে 
আকাশ বাতাস মুখরিত করে তোলেন। 
মুসলিম শরীফের এই হাদীছে "নারায়ে রিসালতের 
" ধ্বনি 
তোলার সুস্পষ্ট প্রমাণ বিধৃত। জানা গেলো 
যে, সাহাবায়ে কেরামগণ নারায়ে রিসালতের ধ্বনি 
তুলতেন। 
এ হাদীছে হিজরতে একথাও আছে যে, সাহাবায়ে 
কেরাম "জুলুস"ও বের করে ছিলেন। 
এবং হুজুর সঃ যখনই কোন সফর থেকে মদীনা 
শরীফে ফেরে আসতেন, তখন মদীনা বাসীগণ 
তাঁকে প্রাণঢালা সম্বর্ধনা জানাতেন এবং তাঁর 
সম্মানার্থে জুলুস"বের করতেন।(মিশকাত 
বোখারী প্রভুতি হাদীছ গ্রন্থ দ্রষ্টব্য)। 
উল্লেল্য যে, আরবী জলসা" শব্দের অর্থ হল 
বৈঠক বা উপবেশন। এ শব্দটির বহুবচন হচ্ছে 
"জুলুস", যেমন "জলদাহ" শব্দের বহুবচন হচ্ছে 
"জুলুদ" অর্থ হচ্ছে বেত্রঘাত তখন দূররা 
অভিহিত হত। 
নামাজও আল্লাহ পাকের জিকিরের "জলসা"- 
একই জায়গায় বসে সম্পন্ন করা হয়। আর 
হজ্জ্ব হচ্ছে যিকিরের "জুলুস"-এক বইঠকে 
সম্পন্ন করা যায় না, বরং বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে 
ফিরে সম্পন্ন করতে হয়। 
কুরআন থেকে প্রমাণ পাওয়া যায় যে, "তাবুতে 
ছকীনা" (বনী ঈসরাঈলের অতি বরকতমন্ডিত 
"সমশাদ" বৃক্ষনির্মীত একটি বাক্স, যেখানে 
হজরত মুছা ও হারুন আঃএর লাঠি,পাগড়ী,পাদূকা 
ও কাপড় চোপড় রক্ষিত ছিল।) 
ফিরিশতাগণ "জুলুস" সহকারে নিয়ে এসেছিলেন। 
এবং হুজুর সঃএর শুভ জন্মক্ষণেও, মিরাজের 
রাতে ফিরিশতাগণ তাঁর সম্মানর্থে "জুলুস" বের 
করেছিলেন। 
সৎ ও পুতঃ মাখলুকের অনুকরণ করাও পুণ্য কাজ। 
সূতরাং, বর্তমানে "জুলুসের" যে প্রচলন আছে, 
তা ঐ পূর্বসূরীদের অনুকরণ বিধায় একটি পূণ্য 
কাজ। 
আলহামদুলিল্লাহ ! সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া 
সাল্লাম। 
------------------------------------------ 
সূত্র- জা"আল হক্ক 
মুফতী আল্লামা আহম্মদ ইয়ার খান নঈমী 
(রহঃ)। 
পর্ব- ৯ 
(ঈদে মীলাদুন্নবী দ. এ হাসবে মুসলমান, কাঁদবে 
ইহুদী-শয়তান) 
প্রশ্নঃ যারা মিলাদ-ক্বিয়াম করে না, তারা কি নূরে 
মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু 
আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রশংসা ও 
কাফিরদের নিন্দাবাদের কবিতা পাঠ করার 
সুন্নতি আমল করেন? 
★ উত্তরঃ 
১) উম্মুল মুমিনীন হযরত সিদ্দীকা আলাইহাস 
সালাম উনার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, 
রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম 
হাসসান ইবেন সাবিত ররদ্বিয়াল্লাহু ততায়ালা 
আনহু উনার জন্য মসজিদে একটি মিম্বার 
স্থাপন করেছিলেন যেন তিনি রসূলাল্লাহ 
ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার 
প্রশংসার কবিতা পাঠ করেন অথবা তিনি 
বলেছেন, যেন তিনি রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু 
আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পক্ষ হতে 
কাফিরদের নিন্দাবাদের উত্তর দেন। রসূলাল্লাহ 
ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, 
নিশ্চয় আল্লাহ রূহুল কুদস [জিবরীল 
আলাইহিস সালাম] দ্বারা হাসসানকে সাহায্য 
করেন যতক্ষণ সে রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু 
আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রশংসা করবে 
কিংবা কাফিরদের নিন্দার উত্তর দেবে। 
[শামায়েলে তিরমিযি, হাদিস নং ১৮৭] 
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস 
২) জাবির ইবনে সামুরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা 
আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি 
রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম 
উনার মজলিসে শতাধিক বার বসেছি। আর তাতে 
তাঁর সাহাবীগণ কবিতা আবৃত্তি করতেন এবং 
জাহেলি যুগের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে আলোচনা 
করতেন। আর তিনি কখনো চুপ থাকতেন। আবার 
কখনো তাদের সাথে মুচকি হাসতেন। 
[সুনানে আন-নাসায়ী, হাদিস নং ১৩৫৮] 
[শামায়েলে তিরমিযি, হাদিস নং ১৮৪] 
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস 
উল্লেখ্য : মিলাদ-ক্বিয়ামের মজলিস ব্যতীত 
অন্য কোন মসলিসে এই সুন্নতি আমল করা হয় 
কি? 
এখান থেকে কিছু প্রশ্ন হলো, নূরে মুজাসসাম 
হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি 
ওয়া সাল্লাম উনি মজলিস বসাতেন। সেখানে 
কবিতা পাঠ করা হতো। নিশ্চয়ই সে মজলিসে 
দরূদ ও সালাম পাঠ করা হতো। এটাও নিশ্চিত। 
সে অন্য একটি হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। তাহলে 
মিলাদ-ক্বিয়ামকে বিদয়াত বলা গুঁটিবাজগুলা কই? 
। 
বিঃদ্রঃ সুমহান এই আমলের দলিল বুখারী, 
মুসলিমেও রয়েছে। চাইলে দলিল পেশ করা যাবে। 
পর্ব- ১০ 
(ঈদে মীলাদুন্নবী দ. এ হাসবে মুসলমান, কাঁদবে 
ইহুদী-শয়তান) 
প্রশ্নঃ ইসলামে দুই ঈদ ছাড়া আর তো কোন ঈদ নাই, তাহলে আপনারা 'সকল ঈদের সেরা ঈদ' /ঈদে মীলাদুন্নবী দ. পেলেন কোথায়? আর এর নামাজ কয় রাকাত? তাকবীর কয়টি? ☺ 
★ উত্তরঃ ঈদ মানে খুশি৷ আমাদের প্রতিটি দিনই হতে পারে খুশির দিন, ঈদের দিন, আনন্দের দিন, যদি আমরা আল্লাহ ও রাসূল দ. এর সন্তুষ্টিতে দিনগুলো অতিবাহিত করতে পারি৷ ইসলামে ঈদ 
নাকি শুধু দুটোই, ঈদুল ফিতর ও আযহা!!! 
আসলেই কি তাই? হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে 
আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ 
স্বাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ 
করেন, নিশ্চয় এ দিন (জুমুআর দিন) আল্লাহ 
তা’আলা মুসলমানদের জন্য ঈদের দিন 
হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। সুতরাং যে 
ব্যক্তি জুময়া পড়তে আসবে সে যেন গোসল 
করে ও সুগন্ধি থাকলে উহা লাগায় এবং 
তোমাদের উপর মিসওয়াক করা আবশ্যক। [ইবন 
মাজাহ পৃঃ ৭৮]। সহীহ হাদিসে জুমুয়ার 
দিনকে মুসলমানদের দুই ঈদের চাইতেও বড় ঈদের 
দিন ও সর্বোত্তম দিন ঘোষণা করা হয়েছে। 
সূত্রঃ [সহীহ মুসলিম ১৮৬১, ১৮৬২, সুনানে আবু 
দাউদ ১০৪৭, ১৫৩১, সুনানে আত তিরমিযি 
৩৩৩৯, সুনানে ইবনে মাজাহ ১০৯৮, ১০৮৪, 
১০৮৫, ১৬৩৬, সুনানে আন নাসায়ী ১৩৭৩, ১৩৭৪, 
আহমাদ ১৫৭২৯, ১৬১৬২, দারেমী ১৫৭২, ১৬১৩, 
ইবনু আবী শায়বাহ ৮৬৯৭, ইবনু খুযায়মাহ ১৭৩৩, 
ইবনু হিব্বান ৯১০, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী 
৫৫৬৪, ৫৯৯৩, মুয়াত্তা ইমাম মালিক ১৪৬, 
মিসকাত ১৩৯৮, ১৩৯৯] অনেক রেওয়াতে ৯ই 
জিলহজ্ব অর্থাৎ আরাফার দিনটিকেও ঈদের 
দিন হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। [দেখুনঃ – 
মিশকাত শরীফ পৃঃ ১২১ ও তিরমিযী শরীফ 
পৃঃ ১৩৪]। বড়পীর হযরত 
আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি 
তিনি বলেন, 
"ফেরেশতাদের ঈদ দুটি। লাইলাতুল বারাআত, 
লালাইতুল ক্বদর। মুমিনদের ঈদ দুটি। ঈদ-উল 
ফিতর, ঈদ-উল আযহা। মহান আল্লাহ তায়ালা'র 
ঈদের দিন ১২ই রবিউল আউয়াল। এই দিনে উনার 
হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম 
উনাকে তিনি যমিনে পাঠান। তাই এই দিনে 
আল্লাহ তায়ালা আসমান, যমিনসহ সমগ্র 
জাহানে ঈদ উদযাপনের ব্যবস্থা করেন।" 
[হযরত আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি 
আলাইহি] 
এরপরেও যারা বলে ইসলামে ঈদে মীলাদুন্নবী 
বলে কোন ঈদ নেই তারা আসলেই একেককটা 
ইবলিশ শয়তান। 
সুতরাং একথা বলা যে ঈদ শুধু দুটোই 
স্বল্পজ্ঞান বা মুর্খতা ছাড়া কিছুই নয়। এখন জুমআর দিনে কি ঈদের নামাজ পড়া হয়? আরাফার দিন কি ঈদের নামাজ পড়া হয়? তাহলে ঈদে মীলাদুন্নবী দ. এ নামাজ তালাশ করেন কেন ভাই? হ্যাঁ, আপনি নফল নামাজ যত খুশি ইচ্ছা পড়তে পারেন, এ ক্ষেত্রে শরিয়ত আপনাকে বাধা দিবে না৷ 
আল্লাহ বুঝার তওফিক দান করুক... আমিন৷