আগন্তুক ২য় পর্ব | ইসলামী বিশ্বকোষ ও আল-হাদিস

 আগন্তুক (২)

- মুহাম্মদ সিরাজুম মুনির তানভীর 

১ম পর্ব


আমরা হাদিস জানি, হয় উত্তম কথা বল নাহলে চুপ থাক; এর সাথে সকল নিষ্ফল কাজ এড়াতে বলেছেন আল্লাহর রাসূল ﷺ।

“এখন আমি মাঝে মাঝে ভাবি, মা কী কখনো এমন দু’আ করতেন যে, ওই আগন্তুক যেন চলে যায়? আমার বাবা আমাদের পরিবারকে কিছু নৈতিক নিয়ম-কানুনের ভিত্তিতে পরিচালিত করতেন। কিন্তু এই আগন্তুক সেগুলোকে সম্মান করার কোন প্রয়োজন বোধ করত না। এমনিতে আল্লাহর বিরুদ্ধে কোন আচরণ আমাদের বাড়িতে বরদাস্ত করা হতো না, আমাদের তরফ থেকে তো নয়ই, আমাদের বন্ধুদের বা বড়দের তরফ থেকেও ওই ধরণের কোন আচরণ বরদাস্ত করা হতো না। কিন্তু আমাদের অনেকদিনের অতিথি কখনো এমন চার অক্ষরের শব্দ ব্যবহার করত যাতে আমার কানে শীশা ঢালার অনুভূতি হতো এবং আমার বাবা তখন অস্বস্তিতে গজগজ করতেন। তবে আমার জানামতে এই আগন্তুককে কখনো চ্যালেঞ্জ করা হয়নি।”


চার অক্ষরের শব্দ আমি এখানে বললাম না, ইংরেজীতে যাদের জ্ঞান আছে তারা বুঝতেই পারছেন কোন অশ্লীল শব্দ এটা। “আমার বাবা কখনোই মদ স্পর্শ করেননি এবং কখনো বাড়িতে অ্যালকোহল অনুমোদন করেননি। এমনকি রান্নার জন্যও নয়।”


আগেই বলেছি এটা একটা বিদেশী লেখা, আমার কাছে এসেছে একজন শ্রীলংকান মুসলিমের তরফ থেকে। “কিন্তু ওই আগন্তুক যেন মনে করত যে, আমাদের অন্য ধারার জীবন সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা আবশ্যক। সে আমাদের প্রায়ই বিয়ার ও অন্যান্য মদজাতীয় পানীয় সাধত। সে আমাদের বোঝাত সিগারেট বেশ মজার একটা জিনিস, চুরুট বেশ পুরুষালী আর পাইপ হচ্ছে ব্যক্তিত্বের প্রকাশ। সে খোলামেলাভাবে যৌনতা নিয়ে কথা বলত। তার মতামতগুলো ছিল চাঁছাছোলা, কখনো ইঙ্গিতবহ আর প্রায়শই বিব্রতকর। কিভাবে রসিয়ে রসিয়ে মেয়েদের সাথে আলাপ জমানো যায় তাও সে আমাদের শিখিয়ে দিত। আমি এখন বুঝতে পারি, নারীপুরুষের সম্পর্কের ব্যপারে আমার মনে প্রোথিত প্রাথমিক ধারণাগুলো তার দ্বারা প্রভাবিত ছিল। এখন যখন আমি পেছনে ফিরে তাকাই, তখন আমার মনে হয় যে, এটা আমাদের জন্য আল্লাহর এক বিশেষ রহমতের ব্যপার ছিল যে ওই আগন্তুক আমাদের আরও বেশি প্রভাবিত করতে পারেনি। বারবার সে আমার বাবা-মা'র শেখানো নৈতিক মূল্যবোধের বিরোধিতা করত। তথাপি তাকে কদাচিৎ শাসন করা হতো বা চলে যেতে বলা হতো।”



অর্থাৎ, তাকে কখনোই শাসন করা হতো না বা চলে যেতে বলা হতো না। “যখন থেকে সে আমাদের পরিবারের সাথে বসবাস শুরু করেছিল, তারপর প্রায় ত্রিশ বছর পেরিয়ে গেছে। এখন অবশ্য আমার বাবার কাছে সে তার আগমনের পরের প্রথম দিককার দিনগুলোর মতো প্রিয় নয়। কিন্তু তবুও এখনো আমি যদি কখনো আমার বাবা-মায়ের শোবার ঘরে প্রবেশ করি, তবে দেখি সে এক কোণায় বসে রয়েছে – কখন কেউ তার কথা শুনবে বা তার আঁকা ছবি দেখবে বা সে তার যাদু দিয়ে শ্রোতাদর্শককে বিমোহিত করবে সে অপেক্ষায়। আপনারা হয়ত তার নাম জানতে চাইবেন, আমরা তাকে টেলিভিশন বলে ডাকি।”