হযরত আবূ আইয়্যুব আল আনসারী (রাঃ) এঁর মাযার | ইসলামী বিশ্বকোষ ও আল-হাদিস

কনস্টান্টিনোপোল বিজেতার শায়খ এবং আবূ আইয়্যুব আল আনসারী রাঃ এঁর কবর মুবারক খুঁজে বের করা আধ্যত্মিক কারিগর আকশামসউদ্দিন রহঃ
----
আবূ আইয়্যুব আল আনসারি রাঃ কনস্টান্টিনোপল বিজয়ের জন্য প্রেরিত অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন। এসময় তিনি বার্ধক্যে উপনীত হলেও জিহাদের প্রতি তাঁর তীব্র আকাঙ্ক্ষা এবং রাসূলুল্লাহ ﷺ কর্তৃক ভবিষ্যদ্বাণীকৃত সেই উত্তম বাহিনীর মধ্যে শামিল হওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষার কারণে অভিযানে যান। যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়ার পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি তার সঙ্গীদের বলেন যাতে তাকে শত্রু সীমানার যত ভেতরে পারা যায় তত ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয় এবং কনস্টান্টিপোলের দেয়ালের কাছে তাকে দাফন করা হয়। তার মৃত্যুর পর মুসলিম সৈনিকরা তার ইচ্ছাপূরণ করে।

১৪৫৩ সালে কনস্টান্টিনোপল বিজয়ের পর সুলতান দ্বিতীয় মুহাম্মদ (আল ফাতিহ) এর উপদেষ্টা সুফি আলেম আকশামসউদ্দিন (মুহাম্মদ শামসউদ্দিন বিন হামজা) রহঃ আধ্যাত্মিক শক্তিবলে তাঁর কবর খুজে বের করেন এবং উসমানীয়রা তাঁর কবরের উপর মাজার নির্মাণ করে। তাঁর সম্মানে কবরের পাশে মসজিদও নির্মাণ করা হয়। এর পর থেকে স্থানটি তার নামে পরিচিতি পায়। পবিত্র স্থান হিসেবে বিবেচিত হওয়ার অনেক উসমানীয় কর্তাব্যক্তি সেখানে দাফন হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করতেন।

আকশামসউদ্দিন (মুহাম্মদ শামসউদ্দিন বিন হামজা) রহঃ ছিলেন একজন উসমানীয় আলেম, কবি, সুফি এবং সুলতান দ্বিতীয় মুহাম্মদের শিক্ষক ও উপদেষ্টা। সুলতান দ্বিতীয় মুহাম্মদকে কনস্টান্টিনোপল জয়ের জন্য তিনি উৎসাহিত করেন। তাকে কনস্টান্টিনোপলের প্রকৃত বা আধ্যাত্মিক বিজয়ী (الفاتح المعنوي-আল ফাতিহ আল মানাভী) বলে অভিহিত করা হয়। তার শিক্ষক শাইখ হাজি বাইরাম ওয়ালির সাথে নিজের রচনা সমাপ্ত করার পর তিনি শামসিয়া-বাইরামিয়া সুফি তরিকা প্রতিষ্ঠা করেন। ধর্মীয় বিষয়াদির পাশাপাশি তিনি চিকিৎসাবিজ্ঞান ও ফার্মাকোলজির জ্ঞানের জন্য খ্যাত ছিলেন।

আবূ আইয়্যুব আল আনসারী রাঃ এঁর কনস্টান্টিনোপল বিজয়ের অভিযানে অংশগ্রহণের কথা এবং জিহাদের প্রতি তাঁর তীব্র আকাঙ্ক্ষার কথা সূনানে আবূ দাউদেও বর্ণিত হয়েছে।

আবূ ইমরান আসলাম (রাঃ) বলেন, ‘আমরা মদীনা থেকে কনস্টান্টিনোপল (বর্তমান ইস্তাম্বুল) অভিমুখে বের হলাম। আমাদের সেনাপতি ছিলেন ‘আব্দুর রাহমান ইবনু খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ (রাঃ)। রোমের সৈন্যবাহিনী শহরের প্রাচীর-বেষ্টনীর বহির্ভাগ থেকে প্রতিরক্ষায় নিয়োজিত ছিলো। জনৈক মুসলিম সৈনিক শত্রুবাহিনীর উপর হামলা করে বসলো। লোকেরা বললো, হায়, থামো! লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। সে নিজেকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আবূ আইয়্যুব আল-আনসারী (রাঃ) বললেন, এ আয়াত (সূরা আল-বাকারাহঃ ১৯৫) আমাদের আনসার সম্প্রদায় সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছিলো। আল্লাহ যখন তাঁর নবী ﷺ কে সাহায্য করলেন এবং দ্বীন ইসলামকে বিজয়ী করলেন, ‘আমরা মনে মনে বললাম, এসো! এবার ‘আমরা নিজেদের ধন-সম্পদ দেখাশুনা ও ঠিকঠাকে মনোযোগ দেই। মহান আল্লাহ তখন এ আয়াত অবতীর্ণ করলেনঃ ‘‘তোমরা আল্লাহর পথে ব্যয় করো এবং নিজেদেরকে ধ্বংসের মধ্যে নিক্ষেপ করো না।’’[সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত ১৯৫]

আমাদের নিজের হাতকে ধ্বংসের মধ্যে নিক্ষেপ করা এর অর্থ হচ্ছে, ধন-সম্পদ নিয়েই ব্যস্ত থাকা, এর পরিবৃদ্ধির জন্য চেষ্টা করা এবং জিহাদ ছেড়ে দেয়া। আবূ ‘ইমরান (রাঃ) বলেন, এরপর থেকে আবূ আইয়্যুব আল-আনসারী (রাঃ) সর্বদা মহান আল্লাহর পথে জিহাদে শরীক হতেন, অবশেষে তিনি জিহাদ করতে করতে কুসতুনতুনিয়াতে (ইস্তাম্বুল) সমাহিত হন। (সূনান আবূ দাউদ ২৫১২)

কনস্টান্টিনোপল বিজয়ের ভবিষ্যদ্বাণীকৃত হাদিসে মুবারকাটা হল,

প্রিয় নবী ﷺ বলেন, 'মুসলমানরা অবশ্যই কনস্টান্টিনোপল বিজয় করবে। কতই না উত্তম হবে সে বাহিনীর আমির/সেনাপতি। কতই না উত্তম সেই বাহিনী। (মুসনাদে আহমদ ১৮৯৫৭, আল মুসতাদরাক ৮৩৪৯)