দরসে হাদিস: ঈমানের সত্তর শাখা, ঈমানের স্বাদ, ঈমানের মূল ও ঈমানের অটলতা | ইসলামী বিশ্বকোষ ও আল-হাদিস

হাদীস শরীফের মধূর বাণীঃ ঈমানের সত্তর শাখা।

হযরত আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত- রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ঈমানের শাখা সত্তরটিরও কিছু বেশি। এর সর্বোত্তম শাখা হচ্ছে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্” এ কথার সাক্ষ্য দেয়া, আর এর সর্বনিম্ন শাখা হচ্ছে-রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু অপসারণ করা। আর লজ্জা ঈমানের বিশিষ্ট একটি শাখা।

(সহীহ মুসলিম, ১/ কিতাবুল ঈমান, হাদিস:৬০) সহীহুল বুখারী ৯, মুসলিম ৩৫, তিরমিযী ২৬১৪, নাসায়ী ৫০০৪, ৫০০৫, ৫০০৬, আবূ দাউদ ৪৬৭৬, ইবনু মাজাহ ৫৭, আহমাদ ৯০৯৭, ৯৪১৭, ৯৪৫৫, ১০১৩৪)

হাদীস শরীফের মধূর বাণীঃ ঈমানের স্বাদ।

💖 أَعُوذُ بِاللهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ 💖
হযরত আনাস ইবনে মালেক রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিতঃ-

হুজুর নাবীয়ে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ তিনটি গুণ যার মধ্যে থাকে, সে ঈমানের স্বাদ পায়। ১। আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল তার কাছে অন্য সব কিছুর থেকে প্রিয় হওয়া; ২। কাউকে খালিস ভাবে আল্লাহ্‌র কারণেই মুহব্বত করা; ৩। কুফ্‌রীতে ফিরে যাওয়াকে আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়ার মত অপছন্দ করা।

সহীহ বুখারী শরীফঃ কিতাবুল ঈমাণ, হাদীস নং ১৬..

Narrated by Hazrat Anas (Rd):

The Prophet (ﷺ) said, "Whoever possesses the following three qualities will have the sweetness (delight) of faith:

1. The one to whom Allah and His Apostle becomes dearer than anything else.

2. Who loves a person and he loves him only for Allah's sake.

3. Who hates to revert to Atheism (disbelief) as he hates to be thrown into the fire."

#বিঃদ্রঃ অত্র হাদীস শরীফটির পঠনসহ পূর্ণ ব্যাখ্যা হাদীসের ওস্তাদ থেকে শুনতে ইচ্ছুকরা কমেন্টে অথবা পেইজের মেসেজ ইনবক্সে নিজ নিজ হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর দিন।

হাদীস শরীফের মধুর বাণীঃ ঈমানের মূল- মুহাব্বতে রাসুল ﷺ

হযরত আনাস রাযিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। হুজুর নাবীয়ে আকরাম ﷺ ইরশাদ করেছেনঃ কোনো বান্দা (রাবী আবদুল ওয়ারিসের বর্ণনায় কোনো ব্যক্তি) ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ আমি (নাবীয়ে করীম ﷺ) তার নিকট তার পরিবার-পরিজন, ধন-সম্পদ ও অন্যান্য লোকদের চাইতে অধিকতর প্রিয় না হব।'

★সহীহ_মুসলিম_শরীফঃ ১ম খন্ড, কিতাবুল ঈমাণ, বাবে ওজুবে মুহাব্বাতে রাসুলুল্লাহ ﷺ- আকছারু মিনাল আহলি ওয়াল ওয়ালিদ ওয়াল ওয়ালাদি ওয়ান নাসি আজমাঈন... হাদীস নং ৪৪,
★মুসনাদ_ই_আহমদ_ইবনে_হান্বল ৫ম খন্ড, ১৬২ পৃষ্ঠা, হাদিস নং ২১৪৮,
★মুসনাদ_ই_আবু_ইয়ালা ৭ম খন্ড, ৬ষ্ঠ পৃষ্ঠা, হাদীস নং ৩৮৯৫,
★বায়হাক্বী_ফি_শুআবুল_ঈমান ২য় খন্ড, ১২৯ পৃষ্ঠা, হাদীস নং ১৩৭৫

সুতরাং বুঝা গেলো, হুজুর নাবীয়ে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম -কে স্ত্রী, পুত্র, পরিবার পরিজন ও পিতামাতা তথা সকলের চাইতে অধিক ভালোবাসা ওয়াজিব এবং যে ব্যক্তি এরূপ ভালোবাসবে না তার ঈমান নেই বলা হয়েছে।

হাদীস শরীফের মধূর বাণীঃ ঈমানের অটলতা।

💖 أَعُوذُ بِاللهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ 💖

হযরত সুফিয়ান ইবনে আবদুল্লাহ সাকাফি রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু হতে বর্ণিতঃ-

তিনি বলেন, একদা আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামার নিকটে আবেদন করলাম হে আল্লাহর রাসুল! আমাকে ইসলাম সম্পর্কে এমন একটি কথা বলে দিন, যা আপনার পরে অন্য কাউকে জিজ্ঞেসা করব না। অন্য বর্ণনায় আছে, আপনি ব্যাতীত আর কাউকে আমি জিজ্ঞেস করব না। অতঃপর রাসূলে কারীম ﷺ ইরশাদ করলেন- তুমি এ কথা বলো আমি আল্লাহর ওপর ইমান এনেছি অতঃপর এর ওপর অটুট থাকো। -হাদিসটি ইমাম মুসলিম (র) তাঁর জামে সহীহতে বর্ণনা করেছেন।

* সহীহ মুসলিম শরীফ ১ম খন্ড, ৬৫ পৃঃ, কিতাবুল ঈমাণ, বাবে জামেউ আওসাফে ইসলাম এর মধ্যে ৩৮ নং হাদীস শরীফ উল্লেখ করা হয়েছে।
.
হাদিসের ব্যাখ্যা : হাদিসে অল্প কথায় সমুদ্রতুল্য ভাব নিহিত। কেননা, দুটি শব্দ "আমানতু বিল্লাহী" এখানে আমানতু থেকে ইমান আর ছুম্মা ইশতাকিম , এখানে ইশতাকিম থেকে ইশতিকামাত শব্দ অর্থাৎ "ঈমান ও ইশতিকামাত।" দ্বারা মুমিনের পুরো জীবন ও কর্ম উদ্দেশ্য। শব্দ দুটির অর্থ ঈমান আর অটল থাকা। এতে ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় ভাব বিদ্যমান। ইতিবাচক তথা পালনীয় বিধান বাস্তাবায়ন ও নেতিবাচক তথা বর্জনীয় বিধান পরিহার করাই ইশতিকামাত এর উদ্দেশ্য। মোটকথা রাসূলে কারীম ﷺ চেয়েছেন ঈমানের স্বীকৃতি দিয়ে এ পথে অটল থাকলেই সাফল্য অবশ্যম্ভাবী।

হাদীস শরীফের মধুর বাণীঃ ঈমানের মূল- হুব্বে রাসুল ﷺ

💖 أَعُوذُ بِاللهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ 💖

عن أنس بن مالك (رضي الله تعالى عنه) أنه قال قال رسول الله (صلى الله عليه وسلم) لا يؤمن احدكم حتى اكون أحب إليه من والده وولده والناس أجمعين-

#উচ্চারণঃ আন আনাস ইবনে মালিক (রদি আল্লাহু তায়ালা আনহু) আন্নাহু ক্বালা, ক্বালা রাসূলুল্লাহি (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম): লা ইউ্ মিনু আহাদুকুম হাত্তা আকুনা আহাব্বা ইলাইহি মিওঁ ওয়ালিদিহি,ওয়া ওয়ালাদিহি ওয়ান্নাসি আজমাঈন।

#অর্থঃ
হযরত আনাস ইবনে মালেক রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিতঃ-

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মু’মিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার কাছে তার পিতা-মাতা, সন্তান ও সব মানুষের চেয়ে অধিক প্রিয় হই।

বিঃদ্রঃ- ইমাম বুখারী রহ অন্য হাদীসের রাবী হিসেবে হযরত আবু হুরায়রা রাদিআল্লাহু তায়ালা আনহুর নাম উল্লেখ করে বলেন, এখানে হুজুর নবীয়ে আকরাম ﷺ সংযোজন করেছেন- "যে স্বত্বার মহান কুদরতের হাতে আমার জান, তাঁর শপথ করে বলছি- তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মু’মিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার কাছে তার পিতা-মাতা, সন্তান ও সব মানুষের চেয়ে অধিক প্রিয় হই।"

* ইমাম বুখারী রহ তাঁর কৃত জামে সহীহ-তে ১ম খন্ড, কিতাবুল ঈমাণ, এর বাবে হুব্বু রাসুলিল্লাহ ﷺ ইলাল ঈমানে ১৪ ও ১৫ নং হাদীস শরীফ হিসেবে উৎকীর্ণ করেছেন।
* ইমাম মুসলিম রাঃ তাঁর জামে সহীহ -তে ১ম খন্ড কিতাবুল ঈমান, বাবে ওজুবে মুহাব্বাতে রাসুল ﷺ-তে ৪৪ নং হিসেবে অত্র হাদীস লিপিবদ্ধ করেন।

এই হাদীসটির ব্যাখ্যায় অনেকেই আল কুরআনের এই আয়াতে করীমা দ্রষ্টব্য করেছেনঃ
النبي أولي بالمؤمنين من أنفسهم-
#উচ্চারণ:আন্নাবিয়্যু আওলা বিল মু'মিনীনা মিন আনফুসিহিম।
#অর্থ: (মহান আল্লাহ বলেন) নিশ্চয়ই রসূলে কারীম (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হলেন মুমিনদের নিকট তাঁদের জানের চেয়েও অধিক প্রিয়।(সূরা আল আহযাব, আয়াত:০৬)।

অতএব, প্রমাণিত হলো,
#উপরোক্ত আয়াতে কারীমা ও হাদীস শরীফের আলোকে বুঝা যায়, রসূলে কারীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) কে পরিপূর্ণ ভালোবাসার নাম-ই হলো ঈমান। অর্থাৎ ঈমানের পরিপূর্ণতা ও পরিপক্কতা নির্ভর করে রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ভালোবাসার গভীরতার উপর।

কৃতঃ আল মিনহাজ উস সাবীহ, শাইখুল ইসলাম ডক্টর আল্লামা মুহাম্মদ তাহির উল ক্বাদরী (মাঃজিঃআঃ)