আব্দুল ওহাব নজদি ও ওহাবী সম্পর্কে দেওবন্দিরা যা লিখেছেনঃ | ইসলামী বিশ্বকোষ ও আল-হাদিস

১.

রশীদ আহমদ গাঙ্গুহী যাকে দেওবন্দিরা উপাধি দিয়েছে গাউছে ছমদানী কুতুবুল আ’লম ইমাম রব্বানী ফখরুল মুহাদ্দিসীন যুবদাতুল ফুকাহা ইত্যাদি।তিনি বলেছেন… “মুহাম্মদ বিন আবদুল ওয়াহহাব নজদীর অনুসারীদের ওহাবী বলে।তার আকিদা ভাল ছিল আর তার মাযহাব ছিল হাম্বলী।অবশ্য তার মেজাযে কঠোরতা ছিল।কিন্তু সে আর তার অনুসারীরা ভাল।কিন্তু হাঁ,যে সীমালঙ্গন করেছে তার মধ্যে ফাসাদ চলে এসেছে আর আকিদা সবার একই।আমলের মধ্যে হানাফী মালেকী হাম্বলী পার্থক্য মাত্র”

★ তথ্যসূত্র:ফাতাওয়া রশীদিয়া 266 পৃষ্ঠা মাকতাবা মাহমুদিয়্যাহ সাহারানপুর ইউপি।

২.

কিন্তু মক্কা মাদীনার সম্মানিত আলেমরা যখন মুহাম্মদ বিন আবদুল ওয়াহহাব সমপর্কে দেওবন্দিদের আকিদা কী জানতে চেয়েছেন তার জবাবে সকল দেওবন্দিদের পক্ষ থেকে খলীল আহমদ সাহারানপুরী বলেছেন… আমরা দেওবন্দিরা মুহাম্মদ বিন আবদুল ওয়াহহাব নজদী সমপর্কে সেই মনোভাব ও আকিদা পোষণ করি,যা রদ্দুল মুহতার শীর্ষক গ্রন্থাকার আল্লামা শামী রহ.ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন,খারেজীদের শিংওয়ালা এক দল যারা হযরত আলী রা.কে ভ্রান্ত বাতিল বলে তাঁর ওপর কুফরীর ফতওয়া জারী করে তাঁর ওপর চড়াও হয়েছিল।তাঁকে (হযরত আলী রা.)কে হত্যা করা ওয়াজিব ফতওয়া দিয়েছিল।তাঁরই সাথে তারা হযরত আলী রা.এর প্রাণ ধন সম্পদ ধ্বংস করে দেয়া হালাল মনে করে,মহিলা আটক ও বন্দি করা বৈধ ফতওয়া দিয়েছিল এবং সমগ্র মুসলমান জাতিকে (তাদের অনুসারী ছাড়া) ধর্মত্যাগী হিসেবে আখ্যা দিয়েছিল। তারা বলেছিল তাদের ওপর এ ফতওয়া জারীর কারণ হল তারা কুরান ছেড়ে তাবীল এর আশ্রয় নিয়েছে।
আল্লামা শামী রহ.ঐ কিতাবের হাশিয়ায় উল্লেখ করেছেন খারেজীদের মত আমাদের এ যুগে নজদ এলাকা থেকে মুহাম্মদ বিন আবদুল ওয়াহহাব হারামাইন শরীফাইনে চড়াও হয়েছে এবং ঐ খারেজী আকিদা পোষণ করে তাদের মতই সমগ্র মুসলমান (সুন্নী যারা) জাতিকে হত্যা করা বৈধ মনে করছে।আমরা মনে করি ঐ ওহাবীরা সে যুগের খারেজীদেরই উত্তরসূরী।ওরা মুসলমান নয়। তারা হাম্বলী মাযহাবের অনুসারী দাবি করলেও তারা মনে করে মুহাম্মদ বিন আবদুল ওয়াহহাব নজদী ও তার অনুসারীগণ কেবল মুসলমান আর অন্যরা সকলেই মুশরিক।এই মনোভাব ও মতবাদের ওপর ভিত্তি করেই তারা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের অনুসারী মুসলমান ও তাদের উলামায়ে কেরামকে হত্যা করা বৈধ দাবি করে বসে।
অতঃপর আল্লাহই তাদের শিং ভেঙ্গে দিয়েছেন…এখানেই আল্লামা শামীর বক্তব্য শেষ।এরপর দেওবন্দিরা একটু পরে সর্বশেষ সিদ্ধান্তে বলেন,আমরা ও আমাদের সকল মাশায়েখ এ নীতিতেই বিশ্বাস করে তা অনুকরণ করে থাকেন। আশা করব আমাদের প্রতি ওহাবী সংশ্লিষ্টতার গন্ধ ও আপনাদের সংশয়ের অবসান হবে ইনশাআল্লাহ।এটাই ছিল মক্কা মাদীনার আলেমদের প্রতি দেওবন্দিদের জবাব।

★ তথ্যসূত্র:আল মুহান্নাদ আলাল মুফান্নাদ আরবী বাংলা 39 ও 40 পৃষ্ঠা আল হাবীব ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ।

র্যালোচনাঃ

১.যদি রশীদ আহমদ গাঙ্গুহীর বক্তব্য মেনে নেয় তাহলে বাকী সকল দেওবন্দিদেরকে মিথ্যুক বাটপার কাযযাব ধোঁকাবাজ বলতে হবে।

২.যদি সকল দেওবন্দিদের পক্ষে খলীল আহমদ সাহারানপুরীর বক্তব্য মেনে নেয় তাহলে বড় বড় উপাধি দিয়েছে যাকে সেই রশীদ আহমদ গাঙ্গুহীকে মিথ্যুক ধোঁকাবাজ বাটপার মেনে নিতে হবে!তবে তারা কোনটাই করে না। কারণ তারা বিশ্ব বেহায়া বিশ্ব বাটপার বিশ্ব ধোঁকাবাজ বিশ্ব কাযযাব এটাই দেওবন্দিদের চরিতের বৈশিষ্ট্য।