আলা হযরতের বিরুদ্ধবাদীদের জবাব | ইসলামী বিশ্বকোষ ও আল-হাদিস

আ’লা হযরত আজিমুল বরকত চতুর্দশ শতাব্দীর মুজাদ্দিদ ইমাম
আহমদ রেজা খাঁ ফাজেলে বেরেলভী (রহঃ) কখনোই বৃটিশের
দালাল ও পেট পূজারী ছিলেন না । এ
ব্যাপারে ইতিহাসে যথেষ্ট প্রমাণাদি বিদ্যামান।
ইতিহাসের পাতা থেকে আপনাদের সমীপে প্রমাণ্য দলীল
পেশ করছি।
ওহাবী, সালাফী, জামাতা,রাজারবাগী গংদের মাথার
তাজ, গুরু সৈয়দ অাহমদ বেরেলী অার চতুর্দশ শতাব্দীর
মুজাদ্দিদ ইমামে অাহলে সুন্নাত অালা হযরত রহমাতুল্লাহ
অালাইহ মাঝে পার্থক্য!!!
১) মুহাম্মদ আলী বলেন-
“ বৃটিশরা কখনোই ইমাম আহমদ রেযা খাঁনকে দাওয়াত
করেননি। যেমনিভাবে তারা দাওয়াত করেছিলেন
মোলভী সৈয়দ আহমদ বেরেলভীকে”।
(মখযানে আহমদী, মুফীদেআম, আগ্রা কর্তৃক প্রকাশিত,
পৃঃ নং- ৬৭)
(২) হোসাইন আহমদ মাদানী বলেন-
“বৃটিশরা কখনোই ইমাম আহমদ রেযা খাঁনকে সাহায্য
করেননি। যেমনিভাবে তারা সাহায্য করেছিলেন
মোলভী সৈয়দ আহমদ বেরেলভীকে”। ( নখশে হায়াত,
দিল্লী ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত পৃঃ নং- ১২ বা ১৩)
(৩) বৃটিশরা হেজাযের রাজা আব্দুল আজীজ
ইবনে সউদকে যেভাবে “সিতারায়ে হিন্দ” উপাধী দান
করেছিলেন, সেভাবে তারা কখনোও ইমাম আহমদ
রেজা খানকে কোন পদক বা উপাধি দান করেননি।
(১৯১৬ইং সালে বৃটিশ সরকার “সিতারায়ে হিন্দ”
উপাধিটি রাজা ইবনে সউদকে দান করেন। বৃটিশ সরকার
উপসাগরীয় প্রতিনিধি স্যার পারসি কক্স তাকে (সউদ)
কুয়েতে এ পদকটি পরিয়ে দেন। “সারগুযাশত-এ-হেজায” গ্রন্তের
মধ্যে এর ছবি ছাপানো হয়েছে। ১৮ পৃষ্ঠার উল্টো পৃষ্ঠায়
দেখুন।:l
৪) মওলভী নাযির হোসাইনের মতো ইমাম আহমদ
রেযাখানকে বৃটিশ কমিশনার কোন সনদ দেননি। এই মর্মে-
“মওলভী নাযির হুসাইন দিল্লীর একজন প্রখ্যাত আলেন
যিনি সংক্টময় মুহুর্তগুলোতে বৃটিশের প্রতি অনুগত ছিলেন”।
(দিল্লীর কমিশনারের চিঠি, তাঃ-১০/০৮/১৮৮৩ইং,
তথ্যসুত্রঃ ফযল হুসেইন-বিহারীকৃত আল হায়াত বা’দাল
মামাত করাচী ১৯৫৯ইং পৃঃ-১৪০)
(৫) মুহাম্মদ ইকরাম ও সোলায়মান নদভী বলেন-
“নদওয়াতুল ওলামার মতো ইমাম আহমদ রেযা খান কোন বৃটিশ
কর্তা ব্যক্তি দ্বারা তাঁর মাদরাসা দারুল উলুম
মানযারে ইসলামের ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন করান নি”।
(শিবলী নামা, পৃঃ নং- ২৪৫, হায়াতে শিবলী পৃঃ নং- ৪৮২)
তারা উভয়ে বলেন-
“নদওয়াতুল ওলামার মতো মানযারে ইসলাম মাদরাসার
জন্যে কোন দানও মঞ্জুর করা হয়নি”। (শিবলী নামা, পৃঃ নং-
১৭৮, হায়াতে শিবলী পৃঃ নং- ৬৩১-৬৩২)
(৬) দারুল দেওবন্দের মতো ইমাম আহমদ রেযা খান (রহঃ)
কখনোই কোন অমুসলিম নেতাকে তাঁর মাদরাসার একাডেমীক
কিংবা ধর্মীয় সভায় সভাপতিত্ব করার জন্যে দাওয়াত করেন
নি। তিনি মজলিসে ওলামাকে হেয় প্রতিপন্ন করেন নি, কোন
অমুসলিমকে সভাপতি বানিয়ে।
(দৈনিক জংগ, ১৬/০৩/১৯৮০ইং পৃঃ নং ১২ কলাম নং-৮।
প্রাগুক্ত,২১/০৩/১৯৮০ইং পৃঃ নং ১২, কলাম নং-৮। প্রাগুক্ত,২৩/
০৩/১৯৮০ইং পৃঃ নং ২, কলাম নং-৬। প্রাগুক্ত,২০/
০৩/১৯৮০ইং পৃঃ নং ১, কলাম নং-৩। প্রাগুক্ত,২২/
০৩/১৯৮০ইং পৃঃ নং ১, কলাম নং-৫ এবং ৬। প্রাগুক্ত,৩/০৩/
১৯৮০ইং পৃঃ নং ৪, কলাম নং-৭ও৮।)
(৭) ইমাম আহমদ রেযা খানের জনৈক সমসামিয়ক ব্যক্তিত্ব
এবং ঘটনা প্রবাহের একজন প্রত্যক্ষ দর্শী সৈয়দ আলতাফ
আলী বেরেলভী, যিনি পাকিস্তান এভুকশনাল কনফারেন্স
করাচী এর সেক্রেটারী জেনারেল ছিলেন; তিনি বলেন-
“রাজনৈতিকভাবে বলতে গেলে হযরত মাওলানা আহমদ
রেযা খান বাস্তবিকই একজন স্বাধীনতা প্রেমিক ছিলেন।
তাঁর হৃদয়ের অন্তঃস্থল থেকে তিনি বৃটিশ ও তাদের
শাসনকে ঘৃণা করতেন। তিনি কিংবা তাঁর দুই পুত্র
মাওলানা হামদ রেযা খাঁন ও মোস্তফা রেযা খাঁন কখনোই
শামসুল উলামা (উলামাদের সুর্য) জাতীয় খেতাব অর্জনের
চিন্তাও করেননি। ভারতের শাসকবর্গ,
সরকারী কর্মকর্তা কিংবা প্রাদেশিক অমাত্যবর্গের সাথেও
তাদের কোন সম্পর্ক ছিলনা”।
(প্রাগুক্ত দৈনিক করাচী ২৫শে জানুয়ারী ১৯৭৯,পৃষ্ঠা-৬, কলাম
৪ এবং ৫)
(৮) বৃটিশ সরকার ছাড়াও ইমাম আহমদ রেযা খান বৃটিশ
রাজা বাদশাহদের চাছন্দ করলেন না। সৈয়দ আলতাফ
আলী বেরেলভী এ সম্পর্কে লিখেন-“সৈয়দ আলহাজ্ব আইয়ুব
আলী রেযভীর ভাষ্যানুযায়ী ইমাম আহমদ
রেযা খাঁ এমনভাবে চিঠির শামে ডাক টিকেট সংযুক্ত করতেন
যার দরুণ রাণী ভিক্টোরিয়া, এডওয়ার্ড-৮ এবং জর্জ-৫ এর
মাথা নিচের দিকে থাকতো”।
(দৈনিক জং, করাচী, তাং ২৫/১/১৯৭৯ইং, পৃষ্ঠা-৬,কলম-৫)
গুরুত্বপুর্ণ তথ্যবলীর প্রেক্ষিতে প্রমাণিত হয় যে, আলা হযরত
(রহঃ) ছিলেন ইসলামী জগতের একজন জ্ঞানী গুণী ব্যাক্তিত্ব
ও প্রতিভাধর আলেম। ইতিহাস স্বাক্ষী রয়েছে যে,
তিনি কখনো বৃটিশ বা ইংরেজ বেনীয়াদের পক্ষে ছিলেন
না। বরং তিনি মনে-প্রাণে তাদের ঘৃণা করতেন।
আমি পূর্বেই বিভিন্ন বরণ্য দলীল দ্বারা তা প্রমাণ
করেছি এবার বৃটিশ বা ইংরেজ বেনীয়াদের
সম্পর্কে আলা হযরত ইমাম আহমদ রেযা খাঁ (রহঃ) এর
দ্ব্যর্থহীন মন্তব্য শুনুন-
(৯) “ইংরেজ রীতি ও ফ্যাশন থেকে এবং নাস্তিক ও মুক্ত
চিন্তা থেকে মুক্তি প্রাপ্তি আত্নিক প্রশান্তির কারণ।
আল্লাহ আমাদের হেদায়ত দিন। কিন্তু এগুলো অর্জনের জন্য
শুধু মাত্র সাহায্য প্রত্যাখান কিংবা সংশ্লিষ্ঠতা নাচক
করলেই চলবেনা, বরং সৈয়দ আহমদ খাঁ যে আগুন
জ্বালিয়ে দিয়েছেন তাকে নির্বাপন করতে হবে।
এখানে বহুলোক এর দ্বারা অক্রান্ত দেখা যাছে”।
(ইমাম আহমদ রেযাখান (রহঃ) কৃত আল মোহাজ্জাত আল
মোতামিনা ফি আয়াত আল মোমতাহিনা, লাহোর- এ-
প্রকাশিত, পৃঃ নং- ৯
১০) ইউরোপীয় পোষাক পরিচ্ছেদ পরিধান
করা কঠোরভাবে নিষিদ্ব। এ সকল লেবাছে নামাজ আদায়
করা মাকরুহে তাহরীমি যা প্রায় হারাম। যদি কেউ
ইসলামী পোষাক নামায না পড়ে,
তবে সে পাপী হবে এবং সে খোদা তায়ালার শাস্তিযোগ্যও
হবে। আল্লাহ মাফকরুন, যিনি সর্বশক্তিমান ও আত্যন্ত
ক্ষমাশীল”। (ইমাম আহমদ রেযা খাঁন লিখিত আল
আতায়া আল নব্বীয়া ফিল ফাতাওয়া আল রাযাভীয়া, তয়
খন্ড, পৃঃ নং- ৪৪২, লাইলপুরে প্রকাশিত।)
(১১) ওয়াল্লাহ! এই জাতি (বৃটিশ) কৃত অযৌক্তিক ও আবেগ
প্রাণ! এটা সত্যি দুঃখজনক যে, এই জাতি খোদাদ্রোহী হওয়ার
মত ঔদ্বত্যভাব পোষণ করছে। আর মসলমানগণ ও তাদের
আবর্জনাময় মতবাদ গ্রহণ করছেন এই বলে যে, নিশ্চয়
আমরা আল্লাহর কাছ হতে এবং নিশ্চয় তাঁর
কাছে আমরা প্রত্যাবর্তন করবো”। (ইমাম আহমদ রেযা খান
প্রণীত আল সামসাম আলা মোশাককাক ফি আয়াতে উলুম আল
আরহাম, ১৩১৫ হিজরি- ১৮৯৭ইং সালে লিখিত
এবং লাহোরে প্রকাশিত; পৃঃ নং- ১৯/২০ দ্র:)
বাতিল ফেরকার মুরুব্বীগণ আ’লা হযরত (রহঃ)
সম্পর্কে যা বলেন-
ইয়াছিন আখতার মিছবাহী কৃত ‘দেবুস্থানে রেযা’
গ্রন্থে যে সকল মনীষী আ’লা হযরতের জ্ঞান-গরিমা ও
শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে মতামত ব্যক্ত করেছেন। তাঁর
একটা বর্ণনা লিপিবদ্ব আছে। পরিসর দীর্ঘ হয়ে যাওয়ার
আশংকায় আমি তা উল্লেখ করছিনা। শুধুমাত্র বাতিল
ফেরকার মুরুব্বীগণ আলা হযরত (রহঃ) সম্পর্কে যা বলেছিলেন
তা তুলে ধরছি।
(১) দেওবন্দী ওহাবীদের হাকিমুল উম্মত ও ধর্মীয় গুরু
মৌলভী আশরাফ আলী থানবী বলেন-
অর্থঃ আমার আন্তরে আহমদ রেযা খাঁ (রহঃ) এর
প্রতি অপরিসীম শ্রদ্বা রয়েছে। তিনি আমাদের কাফির
বলেন ইশকে রাসূলের ভিত্তিতে। অন্য কোন উদ্দেশ্যে নয়।
(আলা হযরত কা ফিকহী মকাম এর বরাতে, লাহোরে মুদ্রিত
১৯৭১ইং কৃত মাওলানা আখতার শাহজাহান পূরী)
তিনি অন্যত্র বলেন-
অর্থঃ তাঁর সাথে আমাদের বিরোধীতার কারণ
বাস্তবিকপক্ষে হুব্বে রাসূল (রাসূল (দঃ) এর ভালবাসা)ই।
তিনি আমাদেরকে হুজুর (দঃ) এর
প্রতি অশালীনতা (বেয়াদবী) প্রদর্শনকারী মনে করেন।
(আশরাফুস সাওযানিহ, ১ম খন্ড, পৃঃ নং- ১২৯)
অন্যত্র আরো বলেন-
অর্থঃ আমার যদি সুযোগ হতো, তাহলে আমি মৌলভী আহমদ
রেযা খান বেরেলভী পেছনে নামাজ পড়ে নিতাম। (উসওয়া-ই-
আকাবিরঃ পৃষ্ঠা নং-১৮)