শিয়াদের কিছু যুক্তির খন্ডন | ইসলামী বিশ্বকোষ ও আল-হাদিস

মিথ্যা দিয়ে মিথ্যার মোকাবিলা কি সম্ভব?
- ডঃ আব্দুল বাতেন মিয়াজী
===========

এ ব্যাপারে অনেকবার লিখতে গিয়েও থেমে গেছি। ব্যাপারটি খুবই স্পর্শকাতর। পুরো ব্যাপার না বুঝলে সামান্য জেনেই অনেকে যে কাউকে শিয়া, কাফের, মুরতাদ কিংবা দালাল উপাধি দিচ্ছে আজকাল। সেটা যে কত বড় ভুল, তা তারা কেউ চিন্তা করে দেখেন না। শিয়ারা মিথ্যাচার করে এবং প্রথম তিন খলীফা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমকে অসম্মান করে, মা আয়েশা সিদ্দিকা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহাকে অসম্মান করে যার চরিত্রকে আল্লাহ্‌ পাক পবিত্র কুরআনের ডিক্রীর মাধ্যমে উচ্চ আসনে সমাসীন করেছেন, আমীর মুয়াবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে গালিগালাজ করে। এগুলো ছাড়াও প্রচুর মিথ্যাচারের মাধ্যমে এরা অনেক সাহাবা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমকে অমান্য করে থাকে। আহলে বায়েতকে ভালোবাসার নামে অন্যদের ছোট করে। ফলে তারা নিঃসন্দেহে ভ্রান্তির মধ্যে রয়েছে। তাদেরকে মোকাবিলা করতে গিয়ে আমাদের সুন্নিরাও ইদানিং আহলে বায়েতকে ছোট করে এবং মুয়াবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে অনেক বেশি বড় করার উদ্দেশ্যে প্রচুর মিথ্যাচারে ভর্তি দলীল দিচ্ছে। কেউ মুয়াবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর বিরুদ্ধে কিছুই বললেই তাকে শিয়া, কাফের, মুরতাদ কিংবা দালাল বলে আখ্যায়িত করছে। এতে ক্ষতি হচ্ছে আমাদেরই। বাতিলেরা আমাদের বিরুদ্ধে বিনা যুদ্ধে জয়লাভ করে যাচ্ছে। শিয়ারা আহলে বায়েতকে ভালোবাসে, তাই অন্য কেউ আহলে বায়েতকে ভালোবাসলেই যদি শিয়া হয়ে যায়, তাহলে শিয়ারা নামাজ পড়ে, আমরাও কি তাহলে নামাজ পড়া ছেড়ে দেবো?

সাহাবীদের অসম্মান করা বা গালি দেয়া
======
রাসূল ﷺ এর হাদিসঃ
আবূ সাঈদ খুদরী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ ও আবদুর রহমান ইবনু ‘আওফ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর মাঝে (অপ্রীতিকর) একটা কিছু ঘটেছিল। তখন খালিদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) তাকে গাল-মন্দ করেন। তখন রসূলুল্লাহ ﷺ বললেনঃ তোমরা আমার সহাবীদেরকে গাল-মন্দ করবে না। কারণ, তোমাদের কেউ যদি উহুদ পর্বতের সমতুল্য স্বর্ণ খরচ করে তবুও তাদের এক মুদ অথবা অর্ধ মুদের ন্যায় হবে না।
[বুখারি ও মুসলিমঃ ৬২৫৬, তিরমিজিঃ ৩৮৬১]

আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসুল ﷺ সাহাবাদের মধ্যে কার কি মান তা সুন্দর ও পরিষ্কারভাবে নির্ণয় করে দিয়ে গেছেন। আহলে বায়েত, যাদের মর্যাদা তুলনাহীন এবং যাদের প্রতি ভালোবাসা ঈমানের অঙ্গ। প্রথম তিন খলীফা, যাদের সম্মান বিশেষ কারণে অতুলনীয়। কে বেশি সম্মানের, ইমাম আলী না আবু বকর - এ ধরণের প্রশ্ন তোলা বোকামি ছাড়া আর কিছুই নয়। উনারা প্রত্যেকেই নিজ নিজ রাসুলপ্রেম এবং স্বকীয়তায় সমুজ্জ্বল। আশআরায় মুবাশশারা, বদরী সাহাবা (রাদ্বিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুম) যাদের পূর্বের এবং পরের সমস্ত গোনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে (কুরআন এবং হাদিস দ্বারা প্রমাণিত), মুহাজির ও আনসার সাহাবাগণ (রাদ্বিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুম) যাদের উপর আল্লাহ্‌ রাজি এবং তাঁরাও আল্লাহর উপর রাজি। হাসান, হুসাইন, ফাতেমা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম আশআরায় মুবাশশারার মধ্যে নেই, কিন্তু উনারা সবাই বেহেশতের সর্দার এবং আমাদের নেতা বা সাইয়্যেদ।

এতটুকুই যথেষ্ট যে মুয়াবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু আল্লাহ্‌র রাসূল ﷺ -এর একজন সাহাবী। রাসূলﷺ এর সহীহ হাদিস অনুসারে কোন সাহাবাকে গালি দেয়া হারাম, চাই তিনি মুয়াবিয়া হোন বা অন্য কোন সাহাবী। তবে ঈমানের শর্ত হলো আহলে বায়েতের প্রতি ভালোবাসা। রাসূল ﷺ কে ভালোবাসা যেমন ফরজ, আহলে বায়েতের প্রতি ভালোবাসাও তেমনি ফরজ। আহলে বায়েতের শানে অসংখ্য হাদিস বর্ণিত হয়েছে। তাদের প্রতি কেবল ভালোবাসা হলেই চলবে না, বরং আহলে বায়েতের প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারীর ঠিকানা জাহান্নামে। মুসতাদরাকে হাকীমের একটি হাদিস এরূপঃ

“হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, কোনো ব্যক্তি যদি সম্মানিত রুকন এবং সম্মানিত মাক্বামের মধ্যবর্তী স্থানে আবাস বানায়। অতঃপর নামায পড়ে এবং রোযা রাখে, কিন্তু এই অবস্থায় তার মৃত্যু হয় যে, সে আহলে বায়েতের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে। তাহলে সে অবশ্যই জাহান্নামে প্রবেশ করবে।” নাঊযুবিল্লাহ!’ (মুস্তাদরাকে হাকীমঃ ৪৭৬৬, যাখাইরুল উক্ববা লি-মুহিব্বে ত্ববারী ১/১৮, হাদিসের মান সহীহ)

শিয়াদের মিথ্যাচারের জবাবে এবং মুয়াবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে গালিগালাজের কারণে বেশ কয়েকদিন ধরে লক্ষ্য করছি অনেকেই আহলে বায়েতকে ছোট করে পোষ্ট দিচ্ছেন। সাথে সাথে মুয়াবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর নামে এমন এমন কথা ও শান প্রচার করছেন যা তিনি নন। ইমাম সুয়ুতী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি সহ অনেক মুহাদ্দিস বলেছেন, মুয়াবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর শানে কোন সহীহ হাদিস নেই। এর জবাবে এখন আমাদের মাঝে অনেকেই হযরত আলী কারামুল্লাহু ওয়াজহু রাদ্বিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু ওয়া আলাইহিস সালাম এর শানে হাদিসকে জাল প্রমাণের ব্যর্থ চেষ্টা করছেন। আমি আগেই বলেছি, আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসূল যার যার শান ও মান নির্ধারণ করে দিয়েছেন। কাজেই একজনের উপরে অন্যজনের স্থান দেবার কোন অবকাশ নেই। যেসব ব্যাপারে মিথ্যার আশ্রয় নেয়া হয় এবং অতিরঞ্জিত করা হয় সেগুলো আমাদের নিজেদের স্বার্থেই পরিষ্কার করে মিথ্যা থেকে আমাদের সরে আসতে হবে। নাহলে আমরা খুব সহজেই বাতিলদের রোষানলে পড়ার পাশাপাশি শিয়াদের আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবো। হযরত আমীর মুয়াবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর শানকে বড় করতে গিয়ে এমন সব মিথ্যার আশ্রয় নেয়া হয় যা বিশ্বাস করলে ঈমান থাকবে না। পাশাপাশি আহলে বায়েত, বিশেষ করে ইমাম আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর নামে মিথ্যা অপবাদ দেয়া হয়। আমি সেগুলো থেকে মাত্র অল্প কয়েকটি এখানে পর্যায়ক্রমে আলোচনা করছি।

যেসব ব্যাপারে মিথ্যাচার করা হয়
========
১। "যে কোন একজন সাহাবীকে অনুসরণ করলেই হেদায়েত প্রাপ্ত হবে।" মূল হাদিসের এবারত হলঃ أصحابي كالنجوم بأيهم اقتديتم اهتديتم অর্থাৎ, "আমার সাহাবাগণ নক্ষত্র স্বরূপ, তাদেরকে অনুসরণ করলে তোমরা হেদায়েত প্রাপ্ত হবে।" সাহাবাগণের সমষ্টিগত অনুসরণের কথা বলা হয়েছে। সাহাবাগন ভুলের ঊর্ধ্বে ছিলেন না, তবে তাঁরা রাসূল ﷺ এর খাতিরে এবং সহবতের কারণে মাহফুজ এবং মাগফুর। তাদের ভুল হওয়া স্বাভাবিক, ফলে তাদের ভুল গুলোকে অনুসরণ করলে হেদায়েত প্রাপ্তি হবে কীভাবে? তবে সমষ্টিগতভাবে সবাই ভুল করতে পারেন না। 

২। "তোমরা মুয়াবিয়ার শাসনকে অপছন্দ করো না।" এই মিথ্যা কথাটি হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর শানে দেয়া হয়। সিফফিনের যুদ্ধ হতে ফিরে তিনি নাকি তাঁর লোকদেরকে একথা বলেছেন। আস্তাগফিরুল্লাহ। তিনি ছিলেন মুসলিম জাহানের বৈধ খলীফা এবং মুয়াবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু ছিলেন একজন প্রাদেশিক গভর্নর। খলীফার কাছে  আনুগত্যের বায়াত না নিয়ে আমীর মুয়াবিয়া উসমান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর হত্যার দাবিতে বিদ্রোহ করেছিলেন। এ কারণে মাওলা আলী তাকে আমীরের পদ থেকে বরখাস্ত করে নতুন আমীর নিয়োগ দিয়েছিলেন। যদিও সে আমীরকে মুয়াবিয়া দামেস্কে ঢুকতে দেন নি। সর্ব হযরত তালহা, জুবায়ের, মা আয়েশা সিদ্দিকা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম ভুল বুঝতে পেরে অনুতপ্ত হয়েছিলেন। কিন্তু আমীর মুয়াবিয়া কখনোই অনুতপ্ত হননি। সিফফিনের যুদ্ধে কুরআনের পাতা বর্শার মাথায় গেঁথে সমাধান চাইলেও সালিশে হট্টগোল লাগিয়ে সালিশ ভণ্ডুল করা হয়। উল্লেখ্য, এ যুদ্ধে মুয়াবিয়ার পক্ষে ৪৫ হাজার এবং আলীর পক্ষে ২৫ হাজার, মোট ৭০ হাজার মুসলমান প্রাণ হারান। কাজেই যুদ্ধ থেকে ফিরেই খলীফা আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু একথা বলেছেন বলে অপপ্রচার করে বরং আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে কেবল ছোটই করা হয় না, এই ৭০ হাজার লোকের হত্যার দায়ও তাঁর উপর চাপানো হয়। তিনি যদি মুয়াবিয়ার শাসনই মেনে নিতে বলবেন, তাহলে তিনি যুদ্ধ করলেন কেন? আর খারেজীদের দমন করার পর বিশাল বাহিনী তৈরি করে মুয়াবিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার প্রস্তুতিই বা কেন নিলেন। যে বাহিনী নিয়ে ইমাম হাসান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু রওয়ানা হলে দু'পক্ষে মধ্যে সন্ধি হয়। যে সন্ধির কথা সহীহ সনদে ইমাম মুসলিম রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেছেন। [দ্রষ্টব্যঃ সহীহ বুখারীঃ ২৫২৩]।

আমাদের মনে রাখতে হবে, সমস্ত ইমামগণ একমত যে, হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন সম্পূর্ণ হক্বের উপর। যেমন রাসুল ﷺ দোয়া করেছেন এই বলে, "হে আল্লাহ! আলী যেদিকে ঘুরবে হক্ব ও সত্যকেও তুমি সেদিকে ঘুরিয়ে দিও।" (তিরমিযি, ইফাবাঃ ৬ : ৩৭১৪)

৩। "মুয়াবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর গুণগান শুনতে ভালবাসতেন।" এ রেফারেন্সটি এতো বেশি দেয়া হয় যে তা দেখে অবাক হই যারা এসবে বিশ্বাস করেন, তারা কি একটি বারও ভেবে দেখেন না, মওলা আলীকে যদি মুয়াবিয়া এতই পছন্দ করবেন, তিনি তাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবেন কেন আর হযরত আলীকে সত্য জেনেও তিনি বায়াত নিলেন না কেন? বরং সহীহ হাদিস এবং ইতিহাস প্রমাণ করে অন্য কথা। মুয়াবিয়ার শাসনামলে ইমাম হাসান এবং ইমাম হুসাইন সহ আহলে বায়েতের অন্যান্য সদস্যগণ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম ওয়া আলাইহিমুস সালাম) মসজিদে নববীতে, রাসূলে পাকের রওজা মুবারকের পাশে সবার শেষে নামাজে যেতেন এবং কোন রকমে জামাত শেষ হলেই ঘরে চলে আসতেন। মুয়াবিয়া কর্তৃক নিযুক্ত গভর্নর রাসূলে পাকের মিম্বরে দাঁড়িয়ে আহলে বায়েতকে এমন ভাবে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করতেন এবং গালিগালাজ করতেন যে কোন সুস্থ মানুষ সেখানে থাকতে পারতেন না। মুসলিম খেলাফতের বেশির ভাগ স্থানেই জীবনের ভয়ে তখন হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর নাম পর্যন্ত কোন মুহাদ্দিস নিতে পারতেন না। তাবেঈ হাসান বসরী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি এ কারণে সরাসরি রাসূলে পাকের নাম নিয়ে হাদিস বর্ণনা করতেন। কেউ জানতে চাইলে উত্তর দিতেন, আমি যখন বলবো "ক্বালা রাসুলুল্লাহি" তোমরা বুঝে নেবে এখানে "আন আলী বিন আবি ত্বালিব" আছে। সেখানে খলীফা মুয়াবিয়া আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর শান ও মান শোনার জন্য পুরষ্কার ঘোষণা করতেন বলা আর আহলে বায়েতের সাথে ঠাট্টা-মশকরা করা সমান কথা। আল্লাহ্‌ পাক আমাদেরকে এমন সব মশকরা করা থেকে হেফাজত করুন। আহলে বায়েতপ্রেমী খলীফার মুলকে আহলে বায়েতকে গালি দেয় এমন ব্যক্তি থাকা কি সম্ভব? [দ্রষ্টব্যঃ মুসলিম ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬০১১, ইসলামিক সেন্টার ৬০৪৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬০০২)

৪। "হুসাইনকে মদিনার গভর্নর এবং দামেস্কের সর্বময় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করা হয়।" এ যাবত যত মিথ্যা শুনেছি, এর চেয়ে নিকৃষ্ট মিথ্যা আমি আমার জীবনে শুনিনি। আল্লামা আবু ইসহাক "নুরুল আইন ফি মসজিদিল হুসাইন" গ্রন্থে একথা লিখেছেন। সেখান থেকে নকল করেছেন মুফতি নঈমী সাহেব। তাঁর লেখা "আমীর মুয়াবিয়া রাঃ" কিতাবে এমন আরো অনেক মিথ্যায় ভরপুর। এর অনুবাদ করেছেন অধ্যাপক মুহম্মদ লুতফর রহমান। এই কিতাবের ৭১ পৃষ্ঠায় একথাগুলো সহ আরো লিখা রয়েছে যে, মুয়াবিয়া অন্তিমকালে পুত্র এজিদকে নসিয়ত করে যাচ্ছেন, আপাতত এজিদ খলিফা হবে, কিছুদিন পর হুসাইন "উপযুক্ত" হলে খেলাফত তাঁকে ফিরিয়ে দিবে। কেউ যদি মনে করে ইমাম হুসাইন রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু খেলাফতের "উপযোগী ছিলেন না", এজিদ কিছুদিন খেলাফত পরচালনা করুক, এরপর ইমাম হুসাইন উপযোগী হলে খেলাফত তাঁকে দিয়ে দেয়া হবে, তাহলে তার কি ঈমান থাকবে? যার জ্ঞান আল্লাহ্‌ প্রদত্ত, যিনি জান্নাতে যুবকদের সর্দার, যার বাবা জ্ঞানের দরোজা, তিনি তখনো "উপযুক্ত" হননি, কিছুদিন পর হবেন, এ বিশ্বাস রাখা কি কোন আক্বীদার মধ্যে পড়ে? সম্মানিত অনুবাদক এসব ব্যাপারগুলো কি নিজেই যোগ করেছেন নাকি তিনি অনুবাদ করেছেন মাত্র? আর তিনি কেবল অনুবাদ করে থাকলে একবারও ভেবে দেখেন নি এসব কথা সত্য নাকি মিথ্যা?

আর মদিনাতে ইমাম হুসাইনকে শাসক করা হয়েছিলো কবে? দামেস্কে তাঁকে সর্বময় ক্ষমতাই বা কখন দেয়া হল? এই মিথ্যা দিয়ে আমীর মুয়াবিয়াকে বড় করার কি প্রয়োজন ছিল? তিনি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একজন সাহাবী, এটাই কি যথেষ্ট নয়? শিয়ারা মিথ্যাচার করে প্রথম তিন খলীফাকে অমান্য করে, এজন্য কি আমাদের মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে শিয়াদের বলার সুযোগ করে দিবো? কাদেরিয়ার উপাধ্যক্ষ আল্লামা মুফতি আবুল কাশেম ফজলুল হক্ব সাহেব ৩০ সেপ্টেম্বর একটি স্ট্যাটাসে বলেছেন, "হযরত আমীরে মুয়াবিয়া রাঃ কে গালি দেয়াই শিয়া হওয়ার একমাত্র মানদণ্ড নয় মনে রাখতে হবে।"

গাউসে পাক রাদ্বিয়াল্লাহু খুব সুন্দর করে এই দ্বন্ধের সমাধান করেছেন এভাবে, "এ বিষয়ের ফায়সালা আল্লাহ্‌ পাকের কাছেই ছেড়ে দেই, কেননা, তিনি সবচেয়ে উত্তম ফায়সালা কারী। আমরা বরং আমাদের নিজেদের আমলের দিকে মনোযোগী হই। এ বিষয়ে চুপ থাকাই আমাদের জন্য উত্তম।"