জীবরাঈল আঃ রসুলে পাকﷺএর শিক্ষক নই | ইসলামী বিশ্বকোষ ও আল-হাদিস

জীবরাঈল (আঃ) রসুলে পাক (ﷺ) এর শিক্ষক নয় 


ফুলতলীর পীর সাহেব ‘খুতবাতুল ইয়াকুবিয়া’ ২য় সংস্করণ ৫৭ পৃষ্ঠায় রবিউল আউয়াল চাঁদের চতুর্থ খুতবায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মু’জিযা প্রসঙ্গে ﻋﻠﻤﻪ ﺷﺪﻳﺪ ﺍﻟﻘﻮﻯ (আল্লামাহু শাদিদুল কুওয়া) আয়াতে কারীমার ভাবার্থকে বিকৃত করে যা লিখেছেন তা নিম্নরূপ-
‘তাকে (নবীকে) সুঠামদেহী শক্তিশালী (জিব্রাঈল) তা (কোরআন) শিক্ষা দিয়েছেন।’
তার এ বক্তব্য সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হল যে, হযরত জিব্রাঈল আলাইহিস সালাম আল্লাহর হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উস্তাদ বা শিক্ষক এবং আল্লাহর হাবীব হচ্ছেন জিব্রাঈল আলাইহিস সালামের ছাত্র। (নাউজুবিল্লাহ) 
এ আক্বিদা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আক্বিদার সম্পূর্ণ পরিপন্থি। এ প্রসঙ্গে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের মু’তাবর বা নির্ভরযোগ্য আক্বাঈদের কিতাব ﺷﺮﺡ ﺍﻟﻌﻘﺎﺋﺪ ﺍﻟﻨﺴﻔﻴﺔ (শরহে আক্বাঈদে নাসাফী) নামক কিতাবে মানুষের রাসূল উত্তম না ফেরেশতাদের রাসূল উত্তম শীর্ষক আলোচনায় ইলমে কালাম বা আকাঈদ শাস্ত্রের সুমহান পণ্ডিত আল্লামা সায়াদ উদ্দিস মাসউদ বিন উমর তাফতাজানী রাদিয়াল্লাহু আনহু (ওফাত ৭৯১ হিজরি) উল্লেখ করেন-
ﻭﺫﻫﺐ ﺍﻟﻤﻌﺘﺰﻟﺔ ﻭﺍﻟﻔﻼﺳﻔﺔ ﻭﺑﻌﺾ ﺍﻻﺷﺎﻋﺮﺓ ﺍﻟﻰ ﺗﻔﻀﻴﻞ ﺍﻟﻤﻼﺋﻜﺔ ﻭﺗﻤﺴﻜﻮﺍ ﺑﻮﺟﻮﻩ … ﺍﻟﺜﺎﻧﻰ ﺍﻥ ﺍﻻﻧﺒﻴﺎﺀ
ﻣﻊ ﻛﻮﻧﻬﻢ ﺍﻓﻀﻞ ﺍﻟﺒﺸﺮ ﻳﺘﻌﻠﻤﻮﻥ ﻭﻳﺴﺘﻔﻴﺪﻭﻥ ﻣﻨﻬﻢ ﺑﺪﻟﻴﻞ ﻗﻮﻟﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻋﻠﻤﻪ ﺷﺪﻳﺪ ﺍﻟﻘﻮﻯ … ﻭﻻ ﺷﻚ ﺍﻥ
ﺍﻟﻤﻌﻠﻢ ﺍﻓﻀﻞ ﻣﻦ ﺍﻟﻤﺘﻌﻠﻢ .
ﺍﻟﺠﻮﺍﺏ : ﺍﻥ ﺍﻟﺘﻌﻠﻴﻢ ﻣﻦ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻭﺍﻟﻤﻼﺋﻜﺔ ﺍﻧﻤﺎ ﻫﻰ ﺍﻟﻤﺒﻠﻐﻮﻥ .
ভাবার্থ- বাতিল দলসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মু’তাজিলী এবং দার্শনিক ও আশায়েরা নামধারী কোন কোন ব্যক্তি এই অভিমত পোষণ করেন যে, মানুষের চেয়ে ফেরেশতাগণ উত্তম। তারা এ দাবির স্বপক্ষে কয়েকটি দলিলও পেশ করেছেন। এর মধ্যে তাদের দ্বিতীয় দলিল হচ্ছে- নবীগণ মানুষের মধ্যে আফজল বা উত্তম হওয়া সত্বেও তারা ফেরেশতাদের নিকট হতে শিক্ষালাভ করেন এবং এতে উপকৃতও হয়ে থাকেন। মু’তাজিলী ও দার্শনিক
তাদের এ দাবি প্রমাণ করতে গিয়ে ﻋﻠﻤﻪ ﺷﺪﻳﺪ ﺍﻟﻘﻮﻯ (আল্লামাহু শাদিদুল কুওয়া) এ আয়াতে কারীমার বিকৃত অর্থ করে হযরত জিব্রাঈল আলাইহিস সালামকে রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উস্তাদ বা শিক্ষক বানাতে চায় এবং তারা যুক্তি পেশ করে বলে-
 ﻻ ﺷﻚ ﺍﻥ ﺍﻟﻤﻌﻠﻢ ﺍﻓﻀﻞ ﻣﻦ ﺍﻟﻤﺘﻌﻠﻢ
নিঃসন্দেহে শিক্ষক ছাত্র থেকে উত্তম। জিব্রাঈল
আলাইহিস সালামকে শিক্ষক ও আল্লাহর হাবীবকে ছাত্র
বানানোর পায়তারা করে নবী থেকে জিব্রাঈলকে উত্তম
ঘোষণা দিয়ে নবীর সুমহান মর্যাদাকে ক্ষুন্ন করেছে।
মু’তাজিলী ও দার্শনিকদের উপরোক্ত দলিলগুলি যে ভ্রান্ত
এবং আয়াতে কারীমার যে অপব্যাখ্যা করা হয়েছে এর খণ্ডন করতে গিয়ে আল্লামা তাফতাজানী এই কিতাবে উল্লেখ করেন-
ﺍﻟﺠﻮﺍﺏ : ﺍﻥ ﺍﻟﺘﻌﻠﻴﻢ ﻣﻦ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻭﺍﻟﻤﻼﺋﻜﺔ ﺍﻧﻤﺎ ﻫﻰ ﺍﻟﻤﺒﻠﻐﻮﻥ . ‏( ﺷﺮﺡ ﺍﻟﻌﻘﺎﺋﺪ ﺍﻟﻨﺴﻔﻴﺔ )
অর্থাৎ ‘মু’তাজিলী ও দার্শনিকদের উক্তি ভ্রান্ত।
আয়াতে কারীমার সঠিক ভাবার্থ ও ইসলামী সঠিক
আক্বিদা হলো নিশ্চয় এখানে কোরআন শিক্ষা দেওয়া হয়েছে আল্লাহর পক্ষ থেকে। আর ফেরেশতাগণ শুধু পৌঁছিয়ে দিয়েছেন।’ ইহাই আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের বিশুদ্ধ অভিমত। আল্লাহর হাবীবকে ছাত্র এবং জিব্রাঈল আলাইহিস সালামকে শিক্ষক খুতবায় লিপিবদ্ধ করা এবং মুসল্লিয়ানদেরকে ইমাম সাহেবানগণ
পড়িয়ে শুনানো যে কত বড় মারাত্মক অপরাধ তা ঈমানদার মুসলমানগণ নিরপেক্ষভাবে চিন্তা করলেই সঠিক মাসআলা বুঝতে সক্ষম হবেন।
প্রকাশ থাকে যে, জিব্রাঈল আলাইহিস সালাম আল্লাহর
হাবীবকে কোরআন শিক্ষা দিয়েছেন বলে দাবি করা বিদআতী, মু’তাজিলী ও ভ্রান্ত দার্শনিক সম্প্রদায়ের আক্বিদা, সুন্নি আক্বিদা নয়।
উল্লেখ্য যে, হযরত জিব্রাঈল আলাইহিস সালাম নিজেই
উক্তি করেছেন ﻛﻴﻒ ﻋﻠﻤﺖ ﻣﺎﻟﻢ ﺍﻋﻠﻢ (ইয়া রাসূলাল্লাহ
আমি যা জানি না আপনি তা কেমন করে জানলেন?) এ
প্রসঙ্গে আল্লামা শায়খ ইসমাঈল হাক্বী রাদিয়াল্লাহু আনহু
(ওফাত ১১৩৭ হিজরি) তদীয় ‘তাফসিরে রুহুল বয়ান’ নামক কিতাবের পঞ্চম জিলদের ৩১৩ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেন-
ﻣﺎ ﺭﻭﻯ ﻓﻰ ﺍﻻﺧﺒﺎﺭ ﺍﻥ ﺟﺒﺮﻳﻞ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻧﺰﻝ ﺑﻘﻮﻟﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ‏( ﻛﻬﻴﻌﺺ ‏) ﻓﻠﻤﺎ ﻗﺎﻝ ﻛﺎﻑ ﻗﺎﻝ ﺍﻟﻨﺒﻰ ﻋﻠﻴﻪ
ﺍﻟﺴﻼﻡ ‏( ﻋﻠﻤﺖ ‏) ﻓﻘﺎﻝ ﻫﺎ ﻓﻘﺎﻝ ‏( ﻋﻠﻤﺖ ‏) ﻓﻘﺎﻝ ﻳﺎ ﻓﻘﺎﻝ ‏( ﻋﻠﻤﺖ ‏) ﻓﻘﺎﻝ ﻋﻴﻦ ﻓﻘﺎﻝ ‏( ﻋﻠﻤﺖ ‏) ﻓﻘﺎﻝ ﺻﺎﺩ
ﻓﻘﺎﻝ ‏( ﻋﻠﻤﺖ ‏) ﻓﻘﺎﻝ ﺟﺒﺮﻳﻞ ﻛﻴﻒ ﻋﻠﻤﺖ ﻣﺎﻟﻢ ﺍﻋﻠﻢ .
অর্থাৎ ‘বিশিষ্ট তাফসিরকারক আল্লামা ইসমাইল হাক্বী রাদিয়াল্লাহু আনহু ﻛﻬﻴﻌﺺ (কাফ, হা, ইয়া, আইন, ছোয়াদ) এর শানে নুযুল প্রসঙ্গে একখানা সহীহ হাদীস
বর্ণনা করেছেন যে, হযরত জিব্রাঈল আলাইহিস সালাম
আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে ওহী নিয়ে আল্লাহর হাবীবের
দরবারে এসে যখন বললেন- ﻛﺎﻑ (কাফ) তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন- ﻋﻠﻤﺖ (আলিমতু)
আমি বুঝে গেছি। যখন তিনি বললেন ﻫﺎ (হা) আল্লাহর হাবীব বললেন- ﻋﻠﻤﺖ আমি বুঝে গেছি। যখন তিনি বললেন- ﻳﺎ (ইয়া) আল্লাহর হাবীব বললেন ﻋﻠﻤﺖ আমি বুঝে ফেলেছি। যখন তিনি বললেন ﻋﻴﻦ (আইন) হাবীবে খোদা বললেন ﻋﻠﻤﺖ আমি বুঝেছি। যখন তিনি বললেন- ﺻﺎﺩ (ছোয়াদ) তখন মাহবুবে খোদা বললেন ﻋﻠﻤﺖ আমি বুঝেছি। অতঃপর জিব্রাঈল আলাইহিস সালাম আরজি পেশ করলেন ﻛﻴﻒ
ﻋﻠﻤﺖ ﻣﺎﻟﻢ ﺍﻋﻠﻢ ইয়া রাসূলাল্লাহ আপনি কেমন করে এ
হরূফে মুকাত্তায়াত এর অর্থ বুঝে ফেললেন যা আমি জিব্রাঈল আমিন এর অর্থ সম্মন্ধে অবগত নই। অর্থাৎ
আমি ওহী নিয়ে আসলাম অথচ আমি এ হরূফে মুকাত্তায়াতের অর্থ জানি না আপনি পূর্ব থেকেই জানেন? (সুবহানাল্লাহ)
উপরোল্লেখিত হাদিসভিত্তিক তাফসিরের আলোকে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হল যে, হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আল্লাহপাক কোন মাধ্যম ছাড়াই কোরআন শিক্ষা দিয়েছেন। হযরত জিব্রাঈল আলাইহিস সালাম শুধুমাত্র আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে আল্লাহর হাবীবের দরবারে ওহী পৌঁছিয়ে দিয়েছেন। দেখুন পূর্বেই আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আক্বাঈদের গ্রহণযোগ্য কিতাব শরহে আক্বাইদে নাসাফীর এবারত উল্লেখ করা হয়েছে-
ﺍﻥ ﺍﻟﺘﻌﻠﻴﻢ ﻣﻦ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻭﺍﻟﻤﻼﺋﻜﺔ ﺍﻧﻤﺎ ﻫﻰ ﺍﻟﻤﺒﻠﻐﻮﻥ .
কোরআন শিক্ষা দেয়া হয়েছে আল্লাহ তায়ালার পক্ষ
থেকে এবং ফেরেশতাগণের শুধুমাত্র পৌঁছিয়ে দেয়ার দায়িত্ব।

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আক্বিদা

মানুষের রাসূলগণ ফেরেশতার রাসূলগণ হতে আফজল বা উত্তম আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের মু’তাবর বা গ্রহণযোগ্য ‘শরহে আকাইদে নসফী’ নামক কিতাবে এ বিষয়ে দলিলভিত্তিক সবিস্তার আলোচনা করা হয়েছে,
তা নিম্নরূপ-
ﻭﺭﺳﻞ ﺍﻟﺒﺸﺮ ﺍﻓﻀﻞ ﻣﻦ ﺭﺳﻞ ﺍﻟﻤﻼﺋﻜﺔ ﻭﺭﺳﻞ ﺍﻟﻤﻼﺋﻜﺔ ﺍﻓﻀﻞ ﻣﻦ ﻋﺎﻣﺔ ﺍﻟﺒﺸﺮ ﻭﻋﺎﻣﺔ ﺍﻟﺒﺸﺮ ﻣﻦ ﻋﺎﻣﺔ
ﺍﻟﻤﻼﺋﻜﺔ … ﻭﺍﻣﺎ ﺗﻔﻀﻴﻞ ﺭﺳﻞ ﺍﻟﺒﺸﺮ ﻋﻠﻰ ﺭﺳﻞ ﺍﻟﻤﻼﺋﻜﺔ ﻭﻋﺎﻣﺔ ﺍﻟﺒﺸﺮ ﻋﻠﻰ ﻋﺎﻣﺔ ﺍﻟﻤﻼﺋﻜﺔ ﻓﺒﻮﺟﻮﻩ …
ﺍﻟﺜﺎﻧﻰ ﺍﻥ ﻛﻞ ﻭﺍﺣﺪ ﻣﻦ ﺍﻫﻞ ﺍﻟﻠﺴﺎﻥ ﻳﻔﻬﻢ ﻣﻦ ﻗﻮﻟﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻭﻋﻠﻢ ﺍﺩﻡ ﺍﻻﺳﻤﺎﺀ ﻛﻠﻬﺎ ﺍﻻﻳﺔ ﺍﻥ ﺍﻟﻘﺼﺪ ﻣﻨﻪ
ﺍﻟﻰ ﺗﻔﻀﻴﻞ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻤﻼﺋﻜﺔ ﻭﺑﻴﺎﻥ ﺯﻳﺎﺩﺓ ﻋﻠﻤﻪ ﻭﺍﺳﺘﺤﻘﺎﻗﻪ ﺍﻟﺘﻌﻈﻴﻢ ﻭﺍﻟﺘﻜﺮﻳﻢ –
অর্থাৎ ‘মানুষের রাসূলগণ ফেরেশতার রাসূলগণ হতে উত্তম অপরদিকে সাধারণ মানুষ হতে ফেরেশতার রাসূলগণ উত্তম এবং সাধারণ মানুষ সাধারণ ফেরেশতা হতে উত্তম। উল্লেখ্য যে, মানুষের রাসূল ফেরেশতার রাসূল হতে যে উত্তম এবং সাধারণ মানুষ সাধারণ ফেরেশতা হতে উত্তম হওয়া বিভিন্ন দলিল আদিল্লাহ দ্বারা প্রমাণিত।

ফেরেশতার রাসূল হতে মানুষের রাসূল যে উত্তম তার 

দ্বিতীয় দলিল হচ্ছে- প্রত্যেক ভাষাবিদ আল্লাহ তায়ালার কালাম ﻋﻠﻢ
ﺍﺩﻡ ﺍﻻﺳﻤﺎﺀ ﻛﻠﻬﺎ ﺍﻻﻳﺔ (আল্লাহ তায়ালা আদম আলাইহিস
সালামকে সকল বস্তুর নাম শিখিয়ে দিয়েছেন) এই কালাম দ্বারা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, তার উদ্দেশ্য ছিল হযরত আদম আলাইহিস সালামকে ফেরেশতাদের উপর শ্রেষ্টত্ব দান করা এবং হযরত আদম আলাইহিস সালামের ইলিম বা জ্ঞান যে ফেরেশতাদের চাইতে অধিক এ প্রমাণ করা এবং এ কারণেই তিনি সিজদা ও সম্মানের উপযুক্ত হয়েছেন সাব্যস্ত করা।’
উপরোল্লেখিত দলিলের ভিত্তিতে আল্লাহ তায়ালা হযরত
আদম আলাইহিস সালামকে সকল বস্তুর নাম
শিখিয়ে দিয়েছেন, এর দ্বারা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হল, হযরত আদম আলাইহিস সালামের উস্তাদ বা শিক্ষক হচ্ছেন স্বয়ং আল্লাহ রাব্বুল আলামীন হযরত জিব্রাঈল আলাইহিস সালাম নন এবং এর দ্বারা তাও প্রমাণিত হল হযরত জিব্রাঈল আলাইহিস সালামসহ সমস্ত ফেরেশতাগণের চেয়ে হযরত আদম আলাইহিস সালামের ইলিম অধিক। সূরা আন নজমের ৫নং আয়াত ﻋﻠﻤﻪ ﺷﺪﻳﺪ ﺍﻟﻘﻮﻯ (আল্লামাহু শাদিদুল কুওয়া) এর সঠিক অনুবাদ ও তাফসির নিম্নরূপ-
আলা হযরত আল্লামা শাহ আহমদ রেজা খাঁন
বেরলভী রাদিয়াল্লাহু আনহু তদীয় ‘কানযুল ঈমান
ফি তরজমাতিল কোরআন’ তরজমা করেছেন এরুপ-
ﺍﻧﮭﯿﮟ ﺳﮑﮭﺎ ﯾﺎﺳﺨﺖ ﻗﻮﺗﻮﮞ ﻭﺍﻟﮯ ﻃﺎﻗﺘﻮﺭﻧﮯ
তরজমা: ‘তাঁকে শিক্ষা দিয়েছেন প্রবল শক্তিসমূহের
অধিকারী।’

অর্থাৎ প্রবল শক্তিসমূহের অধিকারী যাকে কোরআনের
ভাষায় বলা হয়েছে ﺷﺪﻳﺪ ﺍﻟﻘﻮﻯ (শাদিদুল কুওয়া)
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে শিক্ষা দিয়েছেন।
‘শাদিদুল কুওয়া’ দ্বারা মুরাদ আল্লাহ তায়ালা না জিব্রাঈল
আমীন, এ নিয়ে মুফাসসিরীনে কেরাম বিভিন্ন মতপোষন
করেছেন। একদল মুফাসসিরীনে কেরাম ﺷﺪﻳﺪ ﺍﻟﻘﻮﻯ (শাদিদুল কুওয়া) দ্বারা আল্লাহ তায়ালা মুরাদ নিয়েছেন।
অপরদিকে অন্য একদল মুফাসসিরীনে কেরাম ‘শাদিদুল কুওয়া’ দ্বারা জিব্রাঈল আমীনকে মুরাদ নিয়েছেন।

যারা ‘শাদিদুল কুওয়া’ দ্বারা আল্লাহ মুরাদ নিয়েছেন:
তাফসিরে জালালাইন শরীফ ৪৩৭ পৃষ্ঠা ১৬
নং হাশিয়া বা পার্শ্বটীকায় উল্লেখ রয়েছে-
ﻗﻮﻟﻪ ﻋﻠﻤﻪ ﺷﺪﻳﺪ ﺍﻟﻘﻮﻯ ﺍﻟﺦ ﻗﺎﻝ ﺍﻟﺤﺴﻦ ﺍﻟﺒﺼﺮﻯ ﺭﺣﻤﻪ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﺟﻤﺎﻋﺔ ﻋﻠﻤﻪ ﺷﺪﻳﺪ ﺍﻟﻘﻮﻯ ﺍﻯ ﻋﻠﻤﻪ ﺍﻟﻠﻪ
ﻭﻫﻮ ﻭﺻﻒ ﻣﻦ ﺍﻟﻠﻪ ﻧﻔﺴﻪ ﺑﻜﻤﺎﻝ ﺍﻟﻘﺪﺭﺓ ﻭﺍﻟﻘﻮﺓ –
অর্থাৎ হযরত হাসান বসরী রাদিয়াল্লাহু আনহু ও একদল
মুফাসসিরীনে কেরাম ﺷﺪﻳﺪ ﺍﻟﻘﻮﻯ ﺫﻭﻣﺮﺓ (শাদিদুল
কুয়া জুমিররাতিন) আয়াতে কারীমার তাফসিরে বলেছেন, এ দ্বারা আল্লাহ তায়ালার কথা বুঝানো হয়েছে। তিনি স্বীয় জাতকে এ গুণ দ্বারা উল্লেখ করেছেন কেননা তিনি অসীম কুদরত ও অসীম শক্তির অধিকারী। অর্থাৎ আল্লাহ তায়ালা হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কোন মাধ্যম ছাড়াই শিক্ষা দিয়েছেন।
অনুরূপ ﺗﻔﺴﻴﺮ ﺍﻟﺤﺴﻦ ﺍﻟﺒﺼﺮﻯ (তাফসিরে হাসান বসরী) (ওফাত ১১০ হিজরি) ৫ম জিলদের ৮২ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে-
( ﻋﻠﻤﻪ ﺷﺪﻳﺪ ﺍﻟﻘﻮﻯ ‏) ﺍﻻﻳﺔ ۱۵۵۹ ﻗﺎﻝ ﺍﻟﺤﺴﻦ : ﺍﻯ : ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻗﻮﻟﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ : ‏( ﺫﻭﻣﺮﺓ ‏) ﺍﻻﻳﺔ ۱۵۶ –
ﻗﺎﻝ ﺍﻟﺤﺴﻦ : ‏( ﺫﻭﻣﺮﺓ ‏) ﺫﻭﻗﻮﺓ ﻣﻦ ﺻﻔﺎﺕ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ –
অর্থ ‘ ﻋﻠﻤﻪ ﺷﺪﻳﺪ ﺍﻟﻘﻮﻯ (আল্লামাহু শাদিদুল কুয়া) এ আয়াতের মর্মে ইমাম হাসান বসরী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন- এ
দ্বারা মুরাদ আল্লাহ তায়ালা এবং তিনি আরও বলেন ﺫﻭﻣﺮﺓ
(প্রবল শক্তিশালী) দ্বারা আল্লাহর সিফাত বা গুণ
বুঝানো হয়েছে। হাসান বসরী এবং তাফসিরের আলোকে আয়াতে কারীমার ভাবার্থ হল এই- আল্লাহ তায়ালা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কোন মাধ্যম ছাড়াই
শিক্ষা দিয়েছেন।
পক্ষান্তরে যারা ﺷﺪﻳﺪ ﺍﻟﻘﻮﻯ (শাদিদুল কুয়া) দ্বারা জিব্রাঈল
আমীন মুরাদ নিয়েছেন:
মুফতিয়ে বাগদাদ আল্লামা আবুল ফজল শাহাবুদ্দিন সৈয়দমাহমুদ আলুছী বাগদাদী রাদিয়াল্লাহু আনহু (ওফাত ১২৭০ হিজরি) তদীয় তাফসিরে রুহুল মায়ানী নামক কিতাবের ৯ম
জিলদের ২৭ পারা ৪৭ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন-
( ﺷﺪﻳﺪ ﺍﻟﻘﻮﻯ ‏) ﻫﻮ ﺟﺒﺮﻳﻞ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻛﻤﺎ ﻗﺎﻝ ﺍﺑﻦ ﻋﺒﺎﺱ ﻭﻗﺘﺎﺩﺓ ﻭﺍﻟﺮﺑﻴﻊ – ﻓﺎﻧﻪ ﺍﻟﻮﺍﺳﻄﺔ ﻓﻰ ﺍﺑﺪﺍﺀ
ﺍﻟﺨﻮﺍﺭﻕ –
অর্থাৎ ‘ইবনে আব্বাস, কাতাদা ও রাবী রেদওয়ানুল্লাহী আলাইহিমুস সালাম আজমাঈন মুফাসসিরগণ ﺷﺪﻳﺪ ﺍﻟﻘﻮﻯ (শাদিদুল কুয়া) আয়াতে কারীমার তাফসিরে বলেছেন, এর দ্বারা হযরত জিব্রাঈল আমীনের কথা বুঝানো হয়েছে। কেননা অলৌকিকতা প্রকাশের ক্ষেত্রে হযরত জিব্রাঈল আলাইহিস সালামের মধ্যস্থতা রয়েছে।’

মুদ্দাকথা হল হযরত জিব্রাঈল আলাইহিস সালামের
মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর কোরআন নাজিল করেছেন
অথবা আল্লাহ তায়ালা হযরত জিব্রাঈল আমীনের
মাধ্যমে তাঁর হাবিবের ক্বলব মোবারকে ইলহাম
পৌছিয়ে দিয়েছেন। এখানে ﺗﻌﻠﻴﻢ (তা’লিম) ﺗﺒﻠﻴﻎ (তাবলীগ)
তথা পৌঁছানো অর্থে প্রযোজ্য। অথবা এ অর্থও
হতে পারে জিব্রাঈল আলাইহিস সালাম আল্লাহর পক্ষ
থেকে তাঁর হাবিবকে কোরআন জানিয়ে দিয়েছেন।
আয়াতে কারীমায় বর্ণিত ( আল্লামা) শব্দের অর্থ জিব্রাঈল আমীন শিক্ষা দিয়েছেন এরূপ অর্থ করা সঠিক নয়।
‘তানভীরুল মিকবাস মিন তাফসিরে ইবনে আব্বাস’ নামক কিতাবের ৪৪৬ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে ( ﻋﻠﻤﻪ ‏) ﺍﻯ ﺍﻋﻠﻤﻪ ﺟﺒﺮﻳﻞ অর্থাৎ ‘হযরত জিব্রাঈল আলাইহিস সালাম আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর হাবিবকে কোরআন জানিয়ে দিয়েছেন। এখানে শিক্ষা দেওয়ার কথা উল্লেখ
করা হয়নি বরং জানিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
প্রখ্যাত মুফাসসিরে কোরআন আল্লামা শায়খ ইসমাইল
হাক্বী রাদিয়াল্লাহু আনহু (ওফাত ১১৩৭ হিজরি) তদীয়
‘তাফসিরে রুহুল বয়ান’ নামক কিতাবের নবম জিলদের ২১৪ পৃষ্ঠায় উক্ত আয়াতে কারীমা ﻋﻠﻤﻪ ﺷﺪﻳﺪ ﺍﻟﻘﻮﻯ (আল্লামাহু শাদিদুল কুয়া) এর তাফসিরে উল্লেখ করেছেন-
( ﻋﻠﻤﻪ ‏) ﺍﻯ ﺍﻟﻘﺮﺍﻥ ﺍﻟﺮﺳﻮﻝ ﺍﻯ ﻧﺰﻝ ﺑﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﻗﺮﺍﻩ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺑﻴﻨﻪ ﻟﻪ ﻫﺬﺍ ﻋﻠﻰ ﺍﻥ ﻳﻜﻮﻥ ﺍﻟﻮﺣﻰ ﺑﻤﻌﻨﻰ
ﺍﻟﻜﺘﺎﺏ ﻭﺍﻥ ﻛﺎﻥ ﺑﻤﻌﻨﻰ ﺍﻻﻟﻬﺎﻡ ﻓﺘﻌﻠﻴﻤﻪ ﺑﺘﺒﻠﻴﻐﻪ ﺍﻟﻰ ﻗﻠﺒﻪ ﻓﻴﻜﻮﻥ ﻛﻘﻮﻟﻪ ﻧﺰﻝ ﺑﻪ ﺍﻟﺮﻭﺡ ﺍﻻﻣﻴﻦ ﻋﻠﻰ ﻗﻠﺒﻚ
‏(ﺷﺪﻳﺪ ﺍﻟﻘﻮﻯ ‏) ﻣﻦ ﺍﺿﺎﻓﺔ ﺍﻟﺼﻔﺔ ﺍﻟﻰ ﻓﺎﻋﻠﻬﺎ ﻣﺜﻞ ﺣﺴﻦ ﺍﻟﻮﺟﻪ ﻭﺍﻟﻤﻮﺻﻮﻑ ﻣﺤﺬﻭﻑ ﺍﻯ ﻣﻠﻚ ﺷﺪﻳﺪ ﻗﻮﺍﻩ
ﻭﻫﻮ ﺟﺒﺮﻳﻞ ﻓﺎﻧﻪ ﺍﻟﻮﺍﺳﻄﺔ ﻓﻰ ﺍﺑﺪﺍﺀ ﺍﻟﺨﻮﺍﻕ –

ভাবার্থ: ‘হযরত জিব্রাঈল আলাইহিস সালাম রাসূলেপাক
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর কোরআন নাজিল করেছেন, এবং ইহা তেলাওয়াত করেছেন তদুপরি তাঁর জন্য ইহা বর্ণনাও করেছেন। যদি ওহী দ্বারা মুরাদ কিতাব হয়ে থাকে। আর যদি ওহী দ্বারা ইলহাম মুরাদ হয়, তাহলে ﺗﻌﻠﻴﻢ (তালীম) শব্দটি ﺗﺒﻠﻴﻎ (তাবলীগ) বা পৌঁছিয়ে দেওয়ার অর্থে প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ জিব্রাঈল আলাইহিস সালাম রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ক্বলব মোবারকে ইলহাম পৌঁছিয়ে দিয়েছেন। যেমন আল্লাহ তায়ালার বাণী-
ﻧﺰﻝ ﺑﻪ ﺍﻟﺮﻭﺡ ﺍﻻﻣﻴﻦ ﻋﻠﻰ ﻗﻠﺒﻚ ইহাকে (কোরআনে কারীমকে) রুহুল আমীন (হযরত জিব্রাঈল আমীন) আপনার (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের) ক্বলব মোবারকের উপর অবতরণ করেছেন।
ﺷﺪﻳﺪ ﺍﻟﻘﻮﻯ (শাদিদুল কুয়া) দ্বারা মুরাদ হযরত জিব্রাঈল
আলাইহিস সালাম কেননা অলৌকিকতা প্রকাশের ক্ষেত্রে হযরত জিব্রাঈল আলাইহিস সালামের মধ্যস্ততা রয়েছে।’
আল্লাহ তায়ালা তাঁর হাবিবকে নিজেই শিক্ষা দিয়েছেন,
আল্লাহর বাণী- ﺧﻠﻖ ﺍﻻﻧﺴﺎﻥ ﻋﻠﻤﻪ ﺍﻟﺒﻴﺎﻥ এ আয়াতে কারীমার
ব্যাখ্যায় ﺗﻔﺴﻴﺮ ﻣﻌﺎﻟﻢ ﺍﻟﺘﻨﺰﻳﻞ নামক কিতাবের ৪র্থ জিলদের ১১৬
পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে-
ﻗﺎﻝ ﺍﺑﻦ ﻛﻴﺴﺎﻥ : ﺧﻠﻖ ﺍﻻﻧﺴﺎﻥ ﻳﻌﻨﻰ ﻣﺤﻤﺪﺍ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻋﻠﻤﻪ ﺍﻟﺒﻴﺎﻥ ﻳﻌﻨﻰ ﺑﻴﺎﻥ ﻣﺎ ﻛﺎﻥ ﻭﻣﺎ
ﻳﻜﻮﻥ ﻻﻧﻪ ﻛﺎﻥ ﻳﺒﻴﻦ ﻋﻦ ﺍﻻﻭﻟﻴﻦ ﻭﺍﻻﺧﺮﻳﻦ ﻭﻋﻦ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﺪﻳﻦ –
অর্থাৎ ‘প্রখ্যাত মুফাসসির ইবনে কায়সান বলেন- আল্লাহ
তা’য়ালা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে ﻣﺎ ﻛﺎﻥ ﻭﻣﺎ
ﻳﻜﻮﻥ যা হয়েছে এবং যা হবে এ সব ইলিম আল্লাহ
তা’য়ালা তাঁর হাবীবকে শিক্ষা দিয়েছেন কেননা তিনি (আল্লাহর হাবীব) পূর্ববর্তী ও পরবর্তী এমনকি কিয়ামতের ঘটনাবলী সবিস্তার বর্ণনা করেছেন।’
মুদ্দাকথা হলো হযরত জিব্রাঈল আলাইহিস সালাম
রাসূলে মকবুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কোরআন শিক্ষা দিয়েছেন বলে, বাংলা ভাষায় লিখে যারা প্রচার করছেন, তারা মারাত্মক ভুলের মধ্যে রয়েছেন। কারণ ইহা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আক্বিদার সম্পূর্ণ পরিপন্থি। বিদআতী মু’তাজিলী ও বাতিল দার্শনিকদের ভ্রান্ত আক্বিদা।
কিতাবুল ফেকহে আ’লা মাজাহিবিল আরবায়া’ নামক
কিতাবের ৫ম জিলদের ৪২২ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে-
ﻭﻳﻜﻔﺮ ﺍﻥ ﻋﺮﺽ ﻓﻰ ﻛﻼﻣﻪ ﺑﺴﺐ ﻧﺒﻰ ﺍﻭ ﻣﻠﻚ … ﺍﻭ ﺍﻟﺤﻖ ﺑﻨﺒﻰ ﺍﻭ ﻣﻠﻚ ﻧﻘﺼﺎ – ﻭﻟﻮ ﺑﺒﺪﻧﻪ – ﻛﻌﺮﺝ
ﻭﺷﻠﻞ – ﺍﻭﺭ ﻃﻌﻦ ﻓﻰ ﻭﻓﻮﺭ ﻋﻠﻤﻪ – ﺍﺫ ﻛﻞ ﻧﺒﻰ ﺍﻋﻠﻢ ﺍﻫﻞ ﺯﻣﺎﻧﻪ – ﻭﺳﻴﺪﻫﻢ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺍﻋﻠﻢ
ﺍﻟﺨﻠﻖ ﺍﺟﻤﻌﻴﻦ- ﺍﻭ ﻃﻌﻦ ﻓﻰ ﺍﺧﻼﻕ ﻧﺒﻰ ﺍﻭ ﻓﻰ ﺩﻳﻨﻪ – ﻭﻳﻜﻔﺮ ﺍﺫﺍ ﺫﻛﺮ ﺍﻟﻤﻼﺋﻜﺔ ﺑﺎﻻﻭﺻﺎﻑ ﺍﻟﻘﺒﻴﺤﻪ – ﺍﻭ
ﻃﻌﻦ ﻓﻰ ﻭﻓﻮﺭ ﺯﻫﺪ ﻧﺒﻰ ﻣﻦ ﺍﻻﻧﺒﻴﺎﺀ ﻋﻠﻴﻬﻢ ﺍﻟﺼﻠﻮﺓ ﻭﺍﻟﺴﻼﻡ – ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﻔﻘﻪ ﻋﻠﻰ ﻣﺬﺍﻫﺐ ﺍﻻﺭﺑﻌﺔ ﺹ
۵ / ۴۲۲
অর্থাৎ ‘যদি কারও বক্তব্যে কোন নবী অথবা কোন ফেরেশতার প্রতি গালী প্রকাশ পায় তবে সে ব্যক্তি কাফের হবে।…
নবী অথবা ফেরেশতার সাথে যদি কেহ কোন ত্রুটি সংযুক্ত করে, যদিও তা নবীর পবিত্র শরীর মোবারকের প্রতি কোন ঘৃণিত রোগের প্রতি আরোপ করে যেমন খোঁড়া ও প্রতিবন্ধী ইত্যাদি অথবা কোন সম্মানিত নবীর পূর্ণাঙ্গ ইলিমের অবজ্ঞা করে এমতাবস্থায়ও সে কাফের হবে। কেননা প্রত্যেক নবী তাঁর যুগের অধিক ইলিমের
অধিকারী হয়ে থাকেন। পক্ষান্তরে নবীদের সর্দার হযরত
মুহাম্মদ মোস্তাফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
সমগ্র সৃষ্টিজগতের মধ্যে শ্রেষ্ট জ্ঞানী। (অমান্যকারীগণ
কাফের সাব্যস্ত হয়) অথবা কোন নবীর চরিত্রের বা দ্বীনের উপর কালিমা লেপন করে। এমতাবস্থায়ও সে কাফের হবে। এমনকি যদি কোন ফেরেশতাকে মন্দ কাজের দ্বারা অভিহিত করে অথবা নবীগণের মধ্যে কোন নবীর অধিক বন্দেগীর উপর সমালোচনা করে, সেও কাফের হবে। ‘আশ শিফা বি তা’রীফে হুকুকিল মোস্তফা’ নামক কিতাবের দ্বিতীয় জিলদের ২১৪ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে-
ﻣﻦ ﺳﺐ ﺍﻟﻨﺒﻰ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺍﻭ ﻋﺎﺑﻪ ﺍﻭ ﺍﻟﺤﻖ ﺑﻪ ﻧﻘﺼﺎ ﻓﻰ ﻧﻔﺴﻪ ﺍﻭ ﻧﺴﺒﺔ ﺍﻭ ﺩﻳﻨﻪ ﺍﻭ ﺧﺼﻠﺔ ﻣﻦ
ﺧﺼﺎﻟﻪ ﺍﻭ ﻋﺮﺽ ﺑﻪ ﺍﻭ ﺷﺒﻬﻪ ﺑﺸﻰ ﻋﻠﻰ ﻃﺮﻳﻖ ﺍﻟﺴﺐ ﻟﻪ ﺍﻭ ﺍﻻ ﺯﺭﺍﺀ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻭ ﺍﻟﺘﺼﻐﻴﺮ ﻟﺸﺎﻧﻪ ﺍﻭ ﺍﻟﻐﺾ ﻣﻨﻪ
ﻭﺍﻟﻌﻴﺐ ﻟﻪ ﻓﻬﻮ ﺳﺎﺏ ﻟﻪ ﻭﺍﻟﺤﻜﻢ ﻓﻴﻪ ﺣﻜﻢ ﺍﻟﺴﺎﺏ ﻳﻘﺘﻞ ﻛﻤﺎ ﻧﺒﻴﻨﻪ –
তরজমা : ‘যে ব্যক্তি নবী করিম সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গালমন্দ করবে অথবা দোষারূপ
করবে অথবা নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
এর পবিত্র সত্ত্বায় বা বংশে বা ধর্মে, বা তাঁর মহান
চরিত্রাবলীর মধ্যে কোন চরিত্রে কোন প্রকার ত্র“টিযুক্ত
করবে অথবা তাঁর মহান শান ক্ষুন্ন করবে অথবা এমন
কথা বলবে যা তাঁর শানে গালির সাথে সামাঞ্জস্য রাখে অথবা তাঁর প্রতি কোন ত্র“টির বুঝা চাপাইয়া দিবে অথবা তাঁর মহান শানকে খাটো করবে অথবা তাঁর থেকে অনীহা প্রকাশ করবে ও তাঁর প্রতি দোষারোপ করবে এমতাবস্থায়
সে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গালিদাতা হিসেবে গণ্য হবে এবং তার হুকুম গালিদাতার হুকুমের অন্তর্ভূক্ত হবে, এরূপ গালিদাতাকে হত্যা করতে হবে যেমন আমরা এ বিষয়ে ইতোপূর্বে বর্ণনা করেছি।’ (শিফা শরীফ ২/২১৪ পৃ:)
প্রশ্ন: মাওলানা কেরামত আলী জৈনপুরী সাহেব ও তার
লিখিত জখিরায়ে কেরামত নামক কিতাবটি সম্পর্কে আপনার সুচিন্তিত অভিমত কী? সবিস্তার জানতে চাই।
মুহাম্মদ মুদ্দত আলী, চেয়ারম্যান- ২নং পুটিজুরি ইউপি,
বাহুবল।
আলহাজ্ব মোহাম্মদ নূর মিয়া, বড় বহুলা, হবিগঞ্জ।
উত্তর: মাওলানা কেরামত আলী জৈনপুরী সাহেব ছিলেন
ভারত উপমহাদেশের ওহাবী আন্দোলনের প্রদান
মৌলভী ইসমাঈল দেহলভী সাহেবের পীর ভাই এবং সৈয়দ আহমদ বেরলভী সাহেবের অন্যতম খলিফা। জৈনপুরী সাহেব ছিলেন তাদেরই যোগ্যতম উত্তরসূরী এবং সম্পূর্ণ ওহাবী আক্বিদায় বিশ্বাসী। এ ব্যাপারে তার লিখিত ‘জখিরায়ে কেরামত’ নামক কিতাবের ৩য় খণ্ডের ১৩৭-১৩৮ পৃষ্ঠায় নিজেই বলেন-
ﺑﻌﺪ ﺍﺳﮑﮯ ﻓﻘﯿﺮ ﮐﮭﺘﺎ ﮨﮯ ﮐﮧ ﺣﻀﺮﺕ ﻣﺮﺷﺪ ﺑﺮﺣﻖ ﺳﯿﺪ ﺍﺣﻤﺪ ﻗﺪﺱ ﺳﺮﮦ ﺍﻟﻌﺰﯾﺰ ﺳﮯ ﺍﺱ ﻓﻘﯿﺮ ﻧﮯ ﺑﯿﻌﺖ
ﺍﺭﺍﺩﺕ ﮐﯽ ﮐﯿﺎ ﺍﻭﺭ ﺍﻥ ﮐﯽ ﮬﺪﺍﯾﺖ ﺳﮯ ﺍﻟﻠﮧ ﺗﻌﺎﻟﯽ ﮐﯽ ﻣﻌﺮﻓﺖ ﺳﮯ ﺍﭘﻨﯽ ﺟﮭﻞ ﺍﻭﺭ ﻧﺎﺩﺍﻧﯽ ﺛﺎﺑﺖ ﮨﻮﮔﺊ
ﺍﻭﺭ ﻣﺸﺎﮬﺪﮦ ﺳﮯ ﻧﺠﺎﺕ ﭘﺎﮐﮯ ﻣﻌﺮﻓﺖ ﺳﮯ ﺣﯿﺮﺕ ﮐﯽ ﻃﺮﻑ ﭘﮩﻨﭽﺎ ﺍﻭﺭ ﺷﺮﮎ ﺍﻭﺭ ﺑﺪﻋﺖ ﺳﮯ ﭘﺎﮎ ﮨﻮﺍ
ﺍﻭﺭ ﺑﻤﻮﺟﺐ ﻣﻀﻤﻮﻥ ﺧﻼﻓﺖ ﻧﺎﻣﻪ ﮐﮯ ﺍﻭﺭ ﺍﻧﮑﯽ ﮐﺘﺎﺏ ﺻﺮﺍﻁ ﺍﻟﻤﺴﺘﻘﯿﻢ ﮐﮯ ﻣﻀﻤﻮﻥ ﮐﮯ ﻣﻮﺍﻓﻖ ﯾﮩﺎﮞ
ﺳﮯ ﺑﻨﮕﺎﻟﮯ ﺗﮏ ﺷﺮﮎ ﻭ ﺑﺪﻋﺖ ﮐﻮ ﻣﭩﺎﯾﺎ –
অর্থাৎ ‘অতঃপর ফকির মাওলানা কেরামত
আলী জৈনপুরী বলতেছি যে, হযরত মুর্শিদে বরহক সৈয়দ আহমদ (কু:ছি) এর নিকট পীর মুরিদীর বায়আত গ্রহণ করি এবং তার হেদায়ত দ্বারা আল্লাহ তায়ালার মারিফত হাসিলের মাধ্যমে অজ্ঞতা ও নাদানী প্রকাশ হল এবং মুশাহাদার মাধ্যমে ঐ অজ্ঞতা থেকে নিষ্কৃতি লাভ করে শিরক ও বিদআত থেকে মুক্তি পেলাম।
হুজুরের দেওয়া খেলাফতনামা ও তার কিতাব ‘সিরাতে মুস্তাকিম’ এর মাজনুন বা বিষয়বস্তু অনুযায়ী জৈনপুর থেকে বাংলা পর্যন্ত শিরক ও বিদআতকে উৎখাত করলাম।’ 
জৈনপুরী সাহেবের উপরোক্ত বক্তব্যের দ্বারা এটাই প্রতীয়মান হয় যে, তিনি ‘সিরাতে মুস্তাকিম’ নামক
কিতাবের বাতিল আক্বিদায় বিশ্বাসী ছিলেন এবং এই
কিতাবের বিষয়বস্তুর তথা বাতিল আক্বিদাগুলোকে প্রচার ও প্রসারের নিমিত্তেই জৈনপুর থেকে বাংলা পর্যন্ত সংগ্রাম
করে গিয়েছিলেন। জৈনপুরী সাহেব তদীয় ‘জখিরায়ে কেরামত’ কিতাবের ১ম খণ্ডের ২০ পৃষ্ঠায় ‘সিরাতে মুস্তাকিম’ ও ‘তাকভীয়াতুল ঈমান’ কিতাব প্রসঙ্গে বলেন-
ﺻﺮﺍﻁ ﺍﻟﻤﺴﺘﻘﯿﻢ ﮐﮧ ﺍﺳﮑﮯ ﻣﺼﻨﻒ ﺣﻀﺮﺕ ﺳﯿﺪ ﺻﺎﺣﺐ ﺍﻭﺭ ﺍﺳﮑﺎ ﮐﺎﺗﺐ ﻣﻮﻻﻧﺎ ﻣﺤﻤﺪ ﺍﺳﻤﻌﯿﻞ ﻣﺤﺪﺙ
ﺩﮨﻠﻮﯼ ﮨﯿﮟ ….
ﺳﻮﺍﺱ ﻓﻘﯿﺮ ﻧﮯ ﺗﻘﻮﯾۃ ﺍﻻﯾﻤﺎﻥ ﮐﻮ ﺟﻮ ﺧﻮﺏ ﺑﻐﻮﺭ ﺩﯾﮑﮭﺎ ﺗﻮ ﺍﺳﮑﺎ ﺍﺻﻞ ﻣﻄﻠﺐ ﺳﺐ ﺍﮬﻞ ﺳﻨﺖ ﮐﮯ ﻣﺬﮬﺐ
ﮐﮯ ﻣﻮﺍﻓﻖ ﭘﺎﯾﺎ ﺍﻭﺭ ﻋﺒﺎﺭﺕ ﺍﻭﺭ ﺍﻟﻔﺎﻅ ﺑﮭﯽ ﺍﺳﮑﮯ ﺑﮩﺖ ﺍﭼﮭﮯ ﭘﺎﺋﮯ ﮔﺌﮯ ﻣﮕﺮ ﭘﮭﺮ ﺑﮭﯽ ﺍﮔﺮ ﺍﺱ ﮐﺘﺎﺏ
ﮐﯽ ﮐﻮﺉ ﻋﺒﺎﺭﺕ ﺑﮯ ﮈﮬﺐ ﭘﺎﻭﯾﮟ ﺍﻭﺭ ﺟﺎﻧﯿﮟ ﮐﮧ ﻟﻔﻆ ﮐﮯ ﻟﮑﮭﻨﮯ ﻣﯿﮟ ﻣﺼﻨﻒ ‏(ﺭﺡ ‏) ﺳﮯ ﺧﻄﺎ ﮨﻮﺉ ﺗﻮ ﺍﯾﮏ
ﺩﻭ ﺍﻟﻔﺎﻅ ﻣﯿﮟ ﺧﻄﺎ ﮨﻮﻧﯿﮑﮯ ﺳﺒﺐ ﺳﮯ ﺍﺱ ﺳﭽﯽ ﮐﺘﺎﺏ ﮐﻮ ﺟﻮ ﺷﺮﮎ ﮐﮯ ﺭﺩ ﻣﯿﮟ ﮨﮯ ﺟﮭﻮﭨﯽ ﺳﻤﺠﮫ ﮐﮯ
ﻣﺸﺮﮎ ﻧﮧ ﺑﻨﯿﮟ –
অর্থাৎ ‘সুতরাং আমি তাকভীয়াতুল ঈমান কিতাবকে খুব
মনযোগের সহিত আদিঅন্ত পাঠ করেছি তার মূল উদ্দেশ্য আহলে সুন্নতের মাজহাব অনুযায়ী। উক্ত কিতাবের শব্দ ও বাক্যবলী বেশ সুন্দর পেয়েছি। তারপরও যদি উক্ত কিতাবের কোন কোন এবারত বেডং বা অসুন্দর পাওয়া যায় এবং বুঝতে পারেন শব্দ লিখতে লেখকের ভুল হয়েছে এ ধরনের দু একটি ভুলের জন্য এই সত্য কিতাব যা শিরকের খণ্ডনে লিখিত ইহাকে মিথ্যা মনে করে কেহ যেন মুশরিক না হয়। (নাউজুবিল্লাহ)
জৈনপুরী সাহেবের বক্তব্যের দ্বারা বুঝা যায় তার পীর ভাই মৌলভী ইসমাইল দেহলভী কর্তৃক লিখিত তাকভীয়াতুল ঈমান যে কিতাবে বাতিল ও কুফুরি আক্বিদায় ভরপুর সেই কিতাবকে সত্য সঠিক না মানিলে মুসলমান মুশরিক হয়ে যাবে। (নাউজুবিল্লাহ)
তিনি ‘জখিরায়ে কেরামত’ কিতাবের ১ম খণ্ডের ২৩১ পৃষ্ঠায় বলেন-
ﻇﻠﻤﺎﺕ ﺑﻌﻀﻬﺎ ﻓﻮﻕ ﺑﻌﺾ ﺍﻧﺪﮨﯿﺮﮮ ﻣﯿﮟ ﺍﯾﮏ ﭘﺮ ﺍﯾﮏ ﻭﺳﻮﺍﺱ ﻣﯿﮟ ﻓﺮﻕ ﮨﻮﺗﺎ ﮨﮯ ﮐﻮﺉ ﮐﻢ ﺑﺮﺍ ﮨﻮﺗﺎﮨﮯ
ﮐﻮﺉ ﺑﮩﺖ ﺑﺮﺍ ﻣﺜﻼ ﺯﻧﺎ ﮐﮯ ﻭﺳﻮﺍﺱ ﺳﮯ ﺍﭘﻨﮯ ﺯﻭﺟﮧ ﺳﮯ ﻣﺠﺎﻣﻌﺖ ﮐﺎ ﺧﯿﺎﻝ ﺑﮩﺘﺮ ﮨﮯ ﺍﻭﺭ ﻗﺼﺪ ﮐﺮ ﮐﮯ
ﺍﭘﻨﮯ ﭘﻴﺮﮐﺎ ﺧﯿﺎﻝ ﻧﻤﺎﺯ ﻣﯿﮟ ﮐﺮﻧﺎ ﺍﻭﺭ ﻣﺎﻧﻨﺪ ﺍﺳﮑﮯ ﺩﻭﺳﺮﮮ ﺑﺰﺭﮔﻮﮞ ﮐﺎ ﺧﯿﺎﻝ ﮐﺮﻧﺎ ﺍﻭﺭ ﺍﭘﻨﮯ ﺩﻝ ﮐﻮ ﺍﺳﯽ
ﻃﺮﻑ ﻣﺘﻮﺟﮧ ﮐﺮﻧﺎ ﮔﺎﺅﺧﺮ ﮐﯽ ﺻﻮﺭﺕ ﮐﮯ ﺧﯿﺎﻝ ﻣﯿﮟ ﻏﺮﻕ ﮨﻮﻧﮯ ﺳﮯ ﮐﮩﯿﮟ ﺯﯾﺎﺩﮦ ﺑﺮﺍﮨﮯ ﺑﻠﮑﮧ ﺍﺱ ﻣﻘﺎﻡ
ﻣﯿﮟ ﺧﻮﺩ ﺣﻀﺮﺕ ﺟﻨﺎﺏ ﺭﺳﺎﻟﺘﻤﺂﺏ ﮐﮯ ﺧﯿﺎﻝ ﮐﺎ ﮐﺎﻡ ﻧﮩﯿﮟ ﮐﯿﻮﻧﮑﮧ ﺑﺰﺭﮔﻮﮞ ﮐﺎ ﺧﯿﺎﻝ ﺗﻌﻈﯿﻢ ﺍﻭﺭ ﺑﺰﺭﮔﯽ ﮐﮯ
ﺳﺎﺗﮧ ﺁﺩﻣﯽ ﮐﮯ ﺩﻝ ﻣﯿﮟ ﭼﺒﮧ ﺟﺎﺗﺎ ﮨﮯ ﺑﺨﻼﻑ ﮔﺎﺅ ﺧﺮﮐﮯ ﺧﯿﺎﻝ ﮐﮯ ﮐﮧ ﻧﮧ ﺍﺳﻘﺪﺭ ﺩﻝ ﻣﯿﮟ ﭼﺒﮩﺘﺎﮨﮯ ﺍﻭﺭ
ﻧﮧ ﺍﺳﻘﺪﺭ ﺗﻐﻈﯿﻢ ﮨﻮﺗﯽ ﮨﮯ ﺑﻠﮑﮧ ﺍﺳﮑﻮ ﺍﭘﻨﮯ ﺧﯿﺎﻝ ﻣﯿﮟ ﺣﻘﯿﺮ ﺍﻭﺭ ﺫﻟﯿﻞ ﺟﺎﻧﺘﺎﮨﮯ ﺍﻭﺭ ﯾﮧ ﺗﻌﻈﯿﻢ ﺍﻭﺭ ﺑﺰﺭﮔﯽ
ﺍﻟﻠﮧ ﮐﮯ ﺳﻮﺍ ﺩﻭﺳﺮﮮ ﮐﯽ ﺟﻮﮨﮯ ﺳﻮ ﺟﺐ ﻧﻤﺎﺯ ﻣﯿﮟ ﺍﺱ ﮐﯽ ﻃﺮﻑ ﺩﻝ ﻣﺘﻮﺟﮧ ﮨﻮﺭﮨﺘﺎ ﮨﮯ ﺍﻭﺭ ﺍﺳﮑﻮ ﺍﭘﻨﺎ
ﻣﻘﺼﻮﺩ ﺳﻤﺠﮩﺘﺎﮨﮯ ﺗﺐ ﺷﺮﮎ ﮐﯽ ﻃﺮﻑ ﻟﯿﺠﺎﺗﺎﮨﮯ –
অর্থাৎ ‘কোন অন্ধকার কোন অন্ধকারের ওপরে। (অর্থাৎ
অন্ধকারে মধ্যেও যেমন কম বেশি পার্থক্য থাকে )
ওয়াসওয়াসাও অল্প খারাপ ও বেশি খারাপের পার্থক্য আছে।
যেমন ব্যভিচারের ওয়াসওয়াসা হতে নিজের স্ত্রীর
সাথে মিলনের ধ্যান কিছুটা ভাল। ইচ্ছা করে নামাযের
মধ্যে নিজের পীরের ধ্যান করা এবং এমনি ধরণের কোন বুজুর্গ ব্যক্তির খেয়াল করা ও নিজের অন্তরকে ঐ দিকে ধাবিত করা গরু-মহিষের ভাবার চেয়েও বেশি খারাপ। এমনকি ঐ স্থানে হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ধ্যান ও খেয়াল করাও কাজের কথা নয়। কেননা নিজের অন্তরে সম্মানের সাথে বুজুর্গানদের ধ্যান করা গরু-মহিষের চেয়েও খারাপ। তবে নামাযের মধ্যে আল্লাহ ব্যতীত অন্তরে তাজিমের সাথে যে জিনিসের স্থান
হয়েছে সেটিকে নিজের মকসুদ মনে করলে তাই শিরকের
দিকে নিয়ে যায়। (নাউজুবিল্লাহ)

অনুরূপ সিরাতে মুস্তাকিম কিতাবেরও ভাষ্য।
জখিরায়ে কেরামত ১/২৫ পৃষ্ঠায় জৈনপুরী সাহেবের
বিভ্রান্তিকর ফতওয়া-
ﺍﻭﺭ ﺍﮔﺮ ﺍﭘﻨﯽ ﻣﺮﺷﺪ ﻣﯿﮟ ﺟﺲ ﺳﮯ ﺑﯿﻌﺖ ﮐﺮﭼﮑﺎ ﮨﮯ ﻋﻘﯿﺪﮮ ﮐﺎ ﻓﺴﺎﺩ ﻧﮧ ﭘﺎﻭﮮ ﺍﮔﺮ ﭼﮧ ﻭﮦ ﻣﺮﺷﺪ ﮔﻨﺎﮦ
ﮐﺒﯿﺮﮦ ﻣﯿﮟ ﮔﺮﻓﺘﺎﺭ ﮨﻮ ﺗﻮ ﺍﺳﮑﮯ ﺑﯿﻌﺖ ﮐﮯ ﻋﻼﻗﮯ ﮐﻮ ﻧﮧ ﭼﮩﻮﮌﮮ۔
ভাবার্থ: আপনি যে মুর্শিদ বা পীরের নিকট বায়আত গ্রহণ
করেছেন (মুরিদ হয়েছেন) তার মধ্যে যদি আক্বিদা সংক্রান্ত মাসআলার মধ্যে কোন ফাসিদ আক্বিদা না থাকে, এ ধরনের পীর ও মুর্শিদ যদিও কবীরা গোনাহে লিপ্ত থাকেন, এমতাবস্থায়ও তার বায়আত এর এলাকা ছাড়বে না অর্থাৎ তাকে মুর্শিদ হিসেবে মানবে। এ কবীরা গোনাহে লিপ্ত থাকার দরণ এ মুর্শিদকে ত্যাগ করে অন্য কোন মুর্শিদের আশ্রয় নিবে না।’