কিয়ামত দিবসে উম্মতে মুহাম্মদীর মর্যাদা | ইসলামী বিশ্বকোষ ও আল-হাদিস

কিয়ামত দিবসে উম্মতে মুহাম্মদীর মর্যাদা
✍ কৃতঃ আল্লামা আজিজুল হক আল কাদেরী (رحمة الله) মুনিয়াতুল মুছলেমীন [১ম খন্ড]

❏ মাসয়ালা: (২৫৭)
➠হযরত আবু বুরদা তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন,
عن أبي بردة، عن أبي موسى قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (إذا كان يوم القيامة يعطى كل رجل من المسلمين رجلاً من اليهود والنصارى فيقال: هذا فداؤك من النار).
অর্থ: রাসুল (ﷺ) ইরশাদ করেন, যখন কিয়ামত প্রতিষ্টিত হবে তখন প্রত্যেক মুসলমানদেরকে এক-একজন ইহুদী-খ্রিষ্টান দেওয়া হবে এবং বলা হবে এটি তোমাদের জন্য আগুনের ফিদিয়া।

➠তিনি বর্ণনা করেন, একদিন রাসূল (ﷺ) নিজ সাহাবাদেরকে বলেন, তোমরা কি রাজী তোমরা সকল উম্মতের তুলনায় জান্নাতের এক চুতুর্থাংশ হবে?
তারা বলেন, নিশ্চয়। অত:পর তিনি বলেন, তোমরা কি রাযী তোমরা জান্নাতের এক চতুর্থাংশ হবে সকলে বললেন, হ্যাঁ অত:পর তিনি বললেন, তোমরা কি রাযী জান্নাতের অর্ধেক হবে সকলে বললেন হ্যাঁ। অত:পর তিনি বললেন, তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ করো জান্নাতী একশ বিশ কাতার হবে সেখানে আমার উম্মত হবে আশি কাতার।

➠হযরত আবু বুরদা (رضي الله عنه) তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, রাসূল (ﷺ) ইরশাদ  করেন, কিয়ামতের দিন সকলকে সিজদার দিকে আহ্বান করা হবে তখন কাফিররা সিজদা দিতে পারবে না আমার উম্মত সকল উম্মতের পূর্বে দু’টি সিজদা দিবে, তখন নবী (ﷺ) ইরশাদ করেন, অত:পর আমার উম্মতকে বলা হবে তোমরা মাথা উঠাও আমি তোমাদের পরিবর্তে তোমাদের দুশমন ইহুদী ও খ্রিস্টানদেরকে তোমাদের ফিদিয়া বানালাম।
এ মর্যাদা নবী (ﷺ)-এর এবং তার খাতিরে তিনি উম্মতকে এ মর্যাদা দান করবেন, তাদের দুশমন ইহুদি খ্রিষ্টানকে দোযখের আগুনের জন্য ফিদিয়া বানাবেন। 

➠হযরত আবু বুরদা থেকে বর্ণিত, রাসুল (ﷺ) ইরশাদ করেন, আমার উম্মত দায়িত্ব প্রাপ্ত উম্মত। তাদের শাস্তি দুনিয়াতে তাদের হাতে হবে। 

➠অন্য বর্ণনায় এসেছে, তা হত্যা ও লুটপাটের মাধ্যমে হবে।

➠বায়হাকী, হাকেম, তাবরানীতে আবু মুসা থেকে বর্ণিত, আমার উম্মত রহমপ্রাপ্ত, তাদের উপর পরকালে শাস্তি হবে না; তবে তাদের শাস্তি দুনিয়াতে ভুমিকম্প, হত্যা ও বিভিন্ন প্রকার মসীবতের মাধ্যমে হবে।

➠অন্য বর্ণনায় এসেছে, আমার উম্মত রহমপ্রাপ্ত তাদের শাস্তি দুনিয়াতে তাদের হাতে হবে।

➠হযরত যিয়াদ তিনি ইয়াযিদ ইবনে হারেছ থেকে, তিনি আবু মূসা (رضي الله عنه) থেকে বর্ণনা করেন, নবী (ﷺ) ইরশাদ করেন, আমার উম্মত বিভিন্ন ধরনের তা‘আন তথা তীর মারাামরি ও তাউন দ্বারা ধ্বংস হবেন, তখন রাসূল (ﷺ)কে জিজ্ঞেস করা হল, তীর নিক্ষেপ তো বুঝি  তবে তাউন কি? তখন তিনি বলেন, তা হল জিন্নাত তোমাদের স্পর্শকরণ। এভাবে মরলে শহীদ হবে।  
এখানে তীর বলতে ইহুদী খ্রিস্টান ও মুশরিকদের তীর নিক্ষেপ। 

➠বুখারী ও মুসলিমের বর্ণনায় এসেছে, হত্যাকারী ও নিহত ব্যক্তি দু’জনই জাহান্নামী।