বেলায়ত ও অলীর বর্ণনা | ইসলামী বিশ্বকোষ ও আল-হাদিস

বেলায়ত ও অলীর বর্ণনা
✍ কৃতঃ আল্লামা আজিজুল হক আল কাদেরী (رحمة الله) মুনিয়াতুল মুছলেমীন [১ম খন্ড]

❏ মাসয়ালা: (২৫৮)
অলীগণ তার বেলায়তের কাজের বিপরীত কাজের কারণে নিজ সে স্থান থেকে বরখাস্ত হতে পারে। নবীগণ তাদের দায়িত্ব থেকে বরখাস্ত হতে পারে না।

➠ইমাম আবুল কাশেম কুশাইরী বলেন, অলীর দু’টি অর্থ একটি فعيل অর্থ مفعول  তথা অলী ঐ ব্যক্তিকে বলা হয়, যে আল্লাহ তায়ালাকে নিজের সকল কাজে মুতওয়াল্লী বানায়। যেমন মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, وهو يتولى الصالحين  অর্থ, তিনি নেককারদের জিম্মাদার। কেননা; নিজকে জিম্মাদার বানানো ধ্বংসের পথে নিয়ে যাওয়া। দ্বিতীয়ত: এটি মুবালেগার শব্দ। অর্থাৎ, অলী বলা হয়, যে নিজে আল্লাহর ইবাদতে নিজকে লিপ্ত রাখে। তাই যার ভেতরে এই দু’টি গুণ পাওয়া যাবে সে অলী।

❏ মাসয়ালা: (২৫৯)
(وِلايت) বেলায়ত ও (وَلايت) বলায়েতের মাঝে কি পার্থক্য?
উভয়ের মাঝে পার্থক্য রয়েছে। (وِلايت) বেলায়ত বলা হয় মুরীদকে আল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছেয়ে দেওয়া এবং তাসাউফের আদব ও পদ্ধতির শিক্ষা দেবে। যা আল্লাহ ও তাঁর বান্দাহদের মাধ্যম এবং যে ব্যক্তি আল্লাহ এবং মুরীদের মাঝে মাধ্যম হবে তাকে (وَلايت) বলায়েত বলা হয়। যখন কোন শেখ দুনিয়া থেকে চলে যায় তখন সে তার (وَلايت) বলায়েত নিয়ে যায়। কিন্তু সে (وِلايت) বেলায়ত কাউকে দিয়ে যায়। তাই (وِلايت) বেলায়ত ও (وَلايت) বলায়েত দু’টি একজন পীরে কামেলের অর্জিত হয়। যদি দুনিয়াতে সে কাউকে যদি দিয়েও না যায় তখন আল্লাহ নিজইে তা কাউকে দিয়ে দেন। কিন্তু (وَلايت) বলায়েত তার সাথে থাকে। তাই যে কোন পীর ও তার মুরীদের মাঝে কিছু না কিছু পার্থক্য থাকে।  

➠হযরত নেযামুদ্দীন আউলিয়া নিজের এক মুরীদকে কোন বুযুর্গের নিকট পাঠালেন, গত রাতে আবু সায়ীদ আবুল খায়ের মৃত্যু লাভ করেছে তখন তিনি তার (وَلايت) বলায়েত কাকে দান করেছেন? 
সে বুযুর্গ উত্তরে বলেন আমি জানিনা অত:পর সে বুযুর্গের ইলহাম হল সে তার বেলায়ত শমসুল আরেফীনকে দিয়েছেন সে রাতে মানুষ শমসুল আরেফীনের দরবারে গেলেন শমসুল আরেফীন তাদেরকে বললেন, আল্লাহর নিকট অনেক শমসুল আরেফীন আছে, সেই নিয়ামত কাকে দিয়েছেন তা অজানা ।

❏ মাসয়ালা: (২৬০)
এ দুনিয়াতে কিছু আউলিয়াদের কি মুশাহেদার নিয়ামত অর্জিত হয়েছে? হযরত নেযামুদ্দীন আউলিয়া উত্তর দিলেন হ্যাঁ।
তার দৃষ্টান্ত কোন ব্যক্তি ঘুম থেকে উঠেছে তখন সে তার প্রিয়কে তার নিকট পায় এবং সে যখন এই দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়ে চলে যায় তখন মনে হয় সে স্বপ্নের ঘুম ভেঙ্গেছে এবং সে তার প্রিয়ের তালাশে ছিল তাকে পেয়েছে। তখন তাদের অনেক খুশি হয়। হাদিসে এসেছে যে ব্যক্তি যে বস্তুর মধ্যে  ডুবে যায় সে যখন মরে যায় তখন তাকে তার সেই আশা দেওয়া হয়।  

❏ মাসয়ালা: (২৬১)
নবীদেরকে মৃত্যুর সময় খবর দেওয়া হয় যে, তারা চাইলে দুনিয়াতে থাকবে বা তারা নিজ মাওলার নিকট চলে যাবে। সেরকম অলীদের কি ইখতিয়ার দেওয়া হবে? 
হ্যাঁ যেহেতু আল্লাহর অলীরা নবীদের খলীফা তাই আউলিয়াদের সে রকম ইখতিয়ার দেওয়া হয়। তারা এই দুনিযাতে থাকুক বা না থাকুক। 

➠শায়খ নেযামুদ্দীন আউলিয়ার যখন মৃত্যু রোগ এসেছে শায়খ রুকুনুদ্দীন মুলতানী মুলাকাতের জন্য এসেছে তখন শেখ রুকুনুদ্দীন বলেন, হে শায়খ আপনি আল্লাহর দরবারে আপনার কিছু জীবনের আবেদন করুন যাতে অসম্পূর্ণরা পরিপূর্ণতা লাভ করে। তখন সুলতানুল মাশায়েখ অশ্রু ঝরে বললেন, আমি রাসূল (ﷺ)কে স্বপ্ন দেখেছি তিনি বলেন, নেযাম আমি তোমার সাথে মুলাকাত করতে চাচ্ছি। একথা শুনামাত্র হযরত নেযামুদ্দীন ও উপস্থিত সকলে ক্রন্দন করা আরম্ভ করেছেন। এর কিছুক্ষণ পরে তিনি ইন্তেকাল করেন।
➥ সিরাতুল আউলিয়া, পৃ:৫৪৮, কারামত বা হরখে আদাতের প্রকারভেদ ও আউলিয়াদের পরিচয়, পৃ:৫৪৮।

❏ মাসয়ালা: (২৬২)
আল্লাহর অলীদের কষ্ট দেওয়া খারাপ মৃত্যু হওয়ার আশংখা রয়েছে ।  

❏ মাসয়ালা: (২৬৩)
আউলিয়াদের কারামত মৃত্যুর পরেও প্রকাশিত হয় যেমন জীবিত থাকতে হয়। তাতে চার মাযহাবের আলিমদের একমত। এটিই আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আক্বীদা।  
তাই বলা হয়, যার কারামত মৃত্যুর পরে প্রকাশ পাবে না সে সত্য নয়। কিছু মাশায়েখ বলেন, আল্লাহ অলীদের কবরে একজন ফেরেশতা ঠিক করে দেন যে চাহিদা পূরণ করে। অনেক সময় অলী নিজ কবর থেকে বের হয়ে চাহিদা পূরণ করে দেয়।

❏ মাসয়ালা: (২৬৪)
আল্লাহর অলীরা কি নিষ্পাপ?
অলীরা নিস্পাপ নন, তা নবীদের গুণ; বরং অলীরা মাহফুজ তথা সংরক্ষিত।  
➥ তানবীরুল কুলুব:২২২।

❏ মাসয়ালা: (২৬৫)
আল্লাহর অলী কাকে বলা হয়?
যে ব্যক্তি নবী (ﷺ) এর শরীয়তের অনুসরণ করে বিশুদ্ধ আক্বীদা রাখে সেই আল্লাহর অলী।  
যে ব্যক্তি আল্লাহর যাত-সিফাত জানে, পাপ বর্জন করে, ইবাদতে মশগুল থাকে, দুনিয়ার খায়েশে লিপ্ত হয় না, শরীয়তের গন্ডিতে থাকে, সে আল্লাহর অলী; যদিও তার থেকে কোন কারামত পাওয়া না যায়।
ولى  শব্দটি  فعيلএর ওযনে যার অর্থ فاعل  তথা যে ব্যক্তি আল্লাহর হুকুমকে ঠিক রাখে আল্লাহর আদেশ নিষেধের হেফাযত করে বা তার অর্থ  مفعول তথা যাকে আল্লাহ মুহাব্বাত করে তার আমলকে ঠিক রাখে।
সারকথা হল, আল্লাহর অলী বলা হয়, এমন আল্লাহ ওয়ালা ব্যক্তিকে যে ব্যক্তি তার সাধ্যমতে আল্লাহর ইবাদত করে, সাধনা করে, আল্লাহর যাত সিফাতকে সবসময় মুহাব্বাত রাখে, তার ইবাদতে সবসময় বিনয় থাকে, পাপ থেকে বিরত তাকে। দুনিয়ার বাসনা থেকে বিরত থাকে বৈধ চাহিদা থেকেও সাধ্যমতে বিরত থাকে পরকালকে প্রধান্য দেয় ।
➥ তানবীরুল কুলুব:৩২৩